সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল মুজাদালাহ্‌ (الـمجادلـة) | অনুযোগকারিণী

মাদানী

মোট আয়াতঃ ২২

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

قَدۡ سَمِعَ اللّٰہُ قَوۡلَ الَّتِیۡ تُجَادِلُکَ فِیۡ زَوۡجِہَا وَتَشۡتَکِیۡۤ اِلَی اللّٰہِ ٭ۖ وَاللّٰہُ یَسۡمَعُ تَحَاوُرَکُمَا ؕ اِنَّ اللّٰہَ سَمِیۡعٌۢ بَصِیۡرٌ ١

কাদ ছামি‘আল্লা-হু কাওলাল্লাতী তুজা-দিলুকা ফী ঝাওজিহা-ওয়া তাশতাকীইলাল্লা-হি ওয়াল্লা-হু ইয়াছমা‘উ তাহা-উরাকুমা- ইন্নাল্লা-হা ছামী‘উম বাসীর।

(হে নবী!) আল্লাহ সেই নারীর কথা শুনেছেন, যে তার স্বামীর ব্যাপারে তোমার সাথে বাদানুবাদ করছে এবং আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছে। আল্লাহ তোমাদের কথোপকথন শুনছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন।

তাফসীরঃ

১. আয়াতের শানে নুযুলঃ হযরত খাওলা (রাযি.) একজন মহিলা সাহাবী এবং তিনি ছিলেন হযরত আওস ইবনুস সামিত (রাযি.)-এর স্ত্রী। হযরত আওস বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। একবার রাগের বশে স্ত্রীকে বলে ফেললেন, তুমি আমার জন্য আমার মায়ের পিঠের মত (অর্থাৎ আমি তোমাকে আমার জন্য আমার মায়ের পিঠের মত হারাম করলাম)। স্ত্রীকে লক্ষ করে এরূপ বলাকে জিহার বলা হয়। সেকালে এর দ্বারা স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের জন্য চিরতরে হারাম হয়ে যেত। তারপর আর তাদেরকে মিলানোর কোন উপায় থাকত না। হযরত আওস ইবনুস সামিত (রাযি.) যদিও উত্তেজিত হয়ে জিহার করে ফেলেছিলেন, কিন্তু একটু পরেই তিনি এজন্য অনুতপ্ত হন। ফলে হযরত খাওলা (রাযি.) পেরেশান হয়ে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছুটে যান এবং এ বিষয়ে তাঁর কাছে বিধান চান। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আমার কাছে কোন বিধান আসেনি। তবে সম্ভাবনা এটাই প্রকাশ করলেন যে, তিনি তার স্বামীর জন্য হারাম হয়ে গেছেন। হযরত খাওলা (রাযি.) বললেন, আমার স্বামী তো আমাকে তালাক দেয়নি। কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওই একই সম্ভাবনা প্রকাশ করলেন আর হযরত খাওলা (রাযি.)-ও প্রতিবার একই প্রতিউত্তর করলেন। তার এই বারবার একই কথা বলে যাওয়াকে কুরআন মাজীদে বাদানুবাদ শব্দে ব্যক্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে হযরত খাওলা (রাযি.) আল্লাহ তাআলার কাছেও ফরিয়াদ করলেন, হে আল্লাহ! আমি তোমার সাহায্য প্রার্থনা করি আমার এই বিপদে। আমার বাচ্চারা সব ছোট-ছোট। তারা তো ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি বারবার আকাশের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকলেন, হে আল্লাহ! আমি আমার এ বিপদের কথা তোমাকেই জানাই। তিনি এভাবে ফরিয়াদ করে যাচ্ছিলেন, এরই মধ্যে আয়াত নাযিল হয়ে গেল এবং জিহারের বিধান ও জিহার প্রত্যাহার করার নিয়ম জানিয়ে দেওয়া হল (তাফসীরে ইবনে কাসীর হতে সংক্ষেপিত)।

اَلَّذِیۡنَ یُظٰہِرُوۡنَ مِنۡکُمۡ مِّنۡ نِّسَآئِہِمۡ مَّا ہُنَّ اُمَّہٰتِہِمۡ ؕ اِنۡ اُمَّہٰتُہُمۡ اِلَّا الّٰٓیِٴۡ وَلَدۡنَہُمۡ ؕ وَاِنَّہُمۡ لَیَقُوۡلُوۡنَ مُنۡکَرًا مِّنَ الۡقَوۡلِ وَزُوۡرًا ؕ وَاِنَّ اللّٰہَ لَعَفُوٌّ غَفُوۡرٌ ٢

আল্লাযীনা ইউজা-হিরূনা মিনকুম মিনিছাইহিম মা-হুন্না উম্মাহা-তিহিম ইন উম্মাহাতুহুম ইল্লাল লাঈ ওয়ালাদনাহুম ওয়া ইন্নাহুম লাইয়াকূলূনা মুনকারাম মিনাল কাওলি ওয়াঝূরা- ওয়া ইন্নাল্লা-হা লা‘আফুওউন গাফূর।

তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীদের সাথে জিহার করে, (তাদের এ কাজ দ্বারা) তাদের সে স্ত্রীগণ তাদের মা হয়ে যায় না। তাদের মা তো তারাই যারা তাদেরকে জন্মদান করেছে। প্রকৃতপক্ষে তারা এমন কথা বলে, যা অতি মন্দ ও মিথ্যা। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি মার্জনাকারী, অতি ক্ষমাশীল।

তাফসীরঃ

২. অর্থাৎ এরূপ কথা বলা গুনাহ। তবে পরের আয়াতেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কেউ এরূপ গুনাহ করার পর তা হতে তাওবা করলে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দেন।

وَالَّذِیۡنَ یُظٰہِرُوۡنَ مِنۡ نِّسَآئِہِمۡ ثُمَّ یَعُوۡدُوۡنَ لِمَا قَالُوۡا فَتَحۡرِیۡرُ رَقَبَۃٍ مِّنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّتَمَآسَّا ؕ ذٰلِکُمۡ تُوۡعَظُوۡنَ بِہٖ ؕ وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرٌ ٣

ওয়াল্লাযীনা ইউজা-হিরূনা মিন্নিছাইহিম ছু ম্মা ইয়া‘ঊদূ না লিমা-কা-লূফাতাহরীরু রাকাবাতিম মিন কাবলি আইঁ ইয়াতামাছছা- যা-লিকুম তূ‘আজূনা বিহী ওয়াল্লাহু বিমা-তা‘মালূনা খাবীর।

যারা তাদের স্ত্রীদের সাথে জিহার করে, তারপর তারা তাদের সে কথা প্রত্যাহার করে নেয়, তাদের কর্তব্য একটি গোলাম আযাদ করা তারা (স্বামী-স্ত্রী) একে অন্যকে স্পর্শ করার আগে। এই উপদেশ তোমাদেরকে দেওয়া হচ্ছে। তোমরা যা-কিছু কর আল্লাহ সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবগত।

তাফসীরঃ

৩. এবার জিহারের বিধান জানানো হচ্ছে। জিহার করার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার অন্তরঙ্গ কার্যাবলী, যথা চুম্বন, আলিঙ্গন, সহবাস ইত্যাদি জায়েয থাকে না। হাঁ, জিহার প্রত্যাহার করে নিলে পূর্বেকার অবস্থা ফিরে আসে এবং এসব আবার জায়েয হয়ে যায়। তবে সেজন্য কাফফারা দেওয়া জরুরি। কী কাফফারা দিতে হবে? আয়াতে বলা হয়েছে, কারও পক্ষে যদি একটি গোলাম আযাদ করা সম্ভব হয়, তবে তাকে গোলাম আযাদের দ্বারা কাফফারা আদায় করতে হবে। যদি কোন ব্যক্তির পক্ষে তা সম্ভব না হয়, (যেমন আজকাল গোলামের কোন অস্তিত্বই নেই) তবে তাকে একটানা দু’মাস রোযা রাখতে হবে। আর যদি বার্ধক্য, অসুস্থতা ইত্যাদির কারণে কারও পক্ষে রোযা রাখাও সম্ভব না হয়, তবে সে ষাটজন মিসকীনকে দু’বেলা পেট ভরে খানা খাওয়াবে; এর দ্বারাও কাফফারা আদায় হয়ে যাবে। কাফফারা আদায়ের পর স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য হালাল হয়ে যায়।

فَمَنۡ لَّمۡ یَجِدۡ فَصِیَامُ شَہۡرَیۡنِ مُتَتَابِعَیۡنِ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّتَمَآسَّا ۚ فَمَنۡ لَّمۡ یَسۡتَطِعۡ فَاِطۡعَامُ سِتِّیۡنَ مِسۡکِیۡنًا ؕ ذٰلِکَ لِتُؤۡمِنُوۡا بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ ؕ وَتِلۡکَ حُدُوۡدُ اللّٰہِ ؕ وَلِلۡکٰفِرِیۡنَ عَذَابٌ اَلِیۡمٌ ٤

ফামাল্লাম ইয়াজিদ ফাসিয়া-মুশাহরাইনি মুতাতা-বি‘আইনি মিন কাবলি আইঁ ইয়াতামাছছা- ফামাল্লাম ইয়াছতাতি‘ ফাইত‘আ-মুছিত্তীনা মিছকীনা- যা-লিকা লিতু’মিনূবিল্লাহি ওয়া রাছূলিহী ওয়া তিলকা হুদূদুল্লা-হি ওয়া লিল কা-ফিরীনা ‘আযা-বুন আলীম।

যে ব্যক্তি এ সামর্থ্য রাখে না, তাকে একটানা দু’মাস রোযা রাখতে হবে তারা ( স্বামী-স্ত্রী) একে অন্যকে স্পর্শ করার আগে। যে ব্যক্তি সে ক্ষমতাও রাখে না তার কর্তব্য ষাটজন মিসকীনকে খানা খাওয়ানো। এটা এজন্য, যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আন। এটা আল্লাহর স্থিরীকৃত সীমা (বিধান)। আর কাফেরদের জন্য আছে যন্ত্রণাময় শাস্তি।

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ জিহার সম্পর্কে এই যে বিধান দেওয়া হল তা এ জন্য, যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দেওয়া বিধান মেনে নিয়ে তাদের প্রতি প্রকৃত ঈমানের পরিচয় দাও এবং জাহিলী যুগের প্রথা মেনে নিজ ঈমানকে ক্ষতিগ্রস্ত না কর। -অনুবাদক

اِنَّ الَّذِیۡنَ یُحَآدُّوۡنَ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ کُبِتُوۡا کَمَا کُبِتَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ وَقَدۡ اَنۡزَلۡنَاۤ اٰیٰتٍۭ بَیِّنٰتٍ ؕ  وَلِلۡکٰفِرِیۡنَ عَذَابٌ مُّہِیۡنٌ ۚ ٥

ইন্নাল্লাযীনা ইউহাদ্দূনাল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূকুবিতূকামা-কুবিতাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম ওয়া কাদ আনঝালনাআ-য়া-তিম বাইয়িনা-তিওঁ ওয়ালিলকা-ফিরীনা ‘আযা-বুম মুহীন।

নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধিতা করে, তারা অবশ্যই লাঞ্ছিত হবে, যেমন লাঞ্ছিত হয়েছিল তাদের পূর্ববর্তীগণ। আমি সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছি। কাফেরদের জন্য আছে লাঞ্ছনাকর শাস্তি।

یَوۡمَ یَبۡعَثُہُمُ اللّٰہُ جَمِیۡعًا فَیُنَبِّئُہُمۡ بِمَا عَمِلُوۡا ؕ  اَحۡصٰہُ اللّٰہُ وَنَسُوۡہُ ؕ  وَاللّٰہُ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ شَہِیۡدٌ ٪ ٦

ইয়াওমা ইয়াব‘আছুহুমুল্লা-হু জামী‘আন ফাইউনাব্বিউহুম বিমা-‘আমিলূ আহসা-হুল্লা-হু ওয়া নাছূহু ওয়াল্লা-হু ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন শাহীদ।

সেই দিন, যে দিন আল্লাহ তাদের সকলকে পুনর্জীবিত করবেন, তারপর তারা যা-কিছু করত সে সম্বন্ধে তাদেরকে অবহিত করবেন। আল্লাহ তা গুণে গুণে সংরক্ষণ করেছেন। আর তারা তা ভুলে গেছে। আল্লাহ সবকিছুর সাক্ষী।

তাফসীরঃ

৫. মদীনা মুনাওয়ারায় হিজরত করার পর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তথাকার ইয়াহুদীদের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চুক্তি সম্পাদন করেছিলেন। কিন্তু ইয়াহুদীদের অন্তরে মুসলিমদের প্রতি যে হিংসা-বিদ্বেষ বদ্ধমূল ছিল, সে কারণে তারা তাদের বিরুদ্ধে নানা রকম অপতৎপরতা চালাত ও তাদেরকে বিভিন্নভাবে কষ্ট দেওয়ার চেষ্টা করত। মুসলিমদেরকে উত্যক্ত করার একটা কৌশল তাদের এই ছিল যে, মুসলিমদেরকে দেখলেই তারা পরস্পরে এমনভাবে কানাকানি করত ও ইশারা দিত, যা দেখে মুসলিমদের মনে হত তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। কোন কোন মুনাফেকও এ রকম করত। এতে যেহেতু মুমিনদের কষ্ট হত, তাই তাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তারা এরূপ করেই যাচ্ছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয়।

اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ یَعۡلَمُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَمَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ مَا یَکُوۡنُ مِنۡ نَّجۡوٰی ثَلٰثَۃٍ اِلَّا ہُوَ رَابِعُہُمۡ وَلَا خَمۡسَۃٍ اِلَّا ہُوَ سَادِسُہُمۡ وَلَاۤ اَدۡنٰی مِنۡ ذٰلِکَ وَلَاۤ اَکۡثَرَ اِلَّا ہُوَ مَعَہُمۡ اَیۡنَ مَا کَانُوۡا ۚ ثُمَّ یُنَبِّئُہُمۡ بِمَا عَمِلُوۡا یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ ٧

আলাম তারা আন্নাল্লা-হা ইয়া‘লামুমা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি মাইয়াকূনুমিন নাজওয়া-ছালা-ছাতিন ইল্লা-হুওয়া রা-বি‘উহুম ওয়ালা-খামছাতিন ইল্লাহুওয়া ছা-দিছুহুম ওয়ালাআদনা-মিন যা-লিকা ওয়ালাআকছারা ইল্লা-হুওয়া মা‘আহুম আইনা মা-কা-নূ ছু ম্মা ইউনাব্বিউহুম বিমা-‘আমিলূইয়াওমাল কিয়া-মাতি ইন্নাল্লা-হা বিকুল্লি শাইয়িন ‘আলীম।

তুমি কি দেখনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা-কিছু আছে তা আল্লাহ জানেন? কখনও তিনজনের মধ্যে এমন কোন গোপন কথা হয় না, যাতে চতুর্থ জন হিসেবে তিনি উপস্থিত না থাকেন এবং কখনও পাঁচ জনের মধ্যে এমন কোনও গোপন কথা হয় না, যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি উপস্থিত না থাকেন। এমনিভাবে তারা এর কম হোক বা বেশি, তারা যেখানেই থাকুক, আল্লাহ তাদের সঙ্গে থাকেন। অতঃপর কিয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে অবহিত করবেন তারা যা-কিছু করত। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।

اَلَمۡ تَرَ اِلَی الَّذِیۡنَ نُہُوۡا عَنِ النَّجۡوٰی ثُمَّ یَعُوۡدُوۡنَ لِمَا نُہُوۡا عَنۡہُ وَیَتَنٰجَوۡنَ بِالۡاِثۡمِ وَالۡعُدۡوَانِ وَمَعۡصِیَتِ الرَّسُوۡلِ ۫ وَاِذَا جَآءُوۡکَ حَیَّوۡکَ بِمَا لَمۡ یُحَیِّکَ بِہِ اللّٰہُ ۙ وَیَقُوۡلُوۡنَ فِیۡۤ اَنۡفُسِہِمۡ لَوۡلَا یُعَذِّبُنَا اللّٰہُ بِمَا نَقُوۡلُ ؕ حَسۡبُہُمۡ جَہَنَّمُ ۚ یَصۡلَوۡنَہَا ۚ فَبِئۡسَ الۡمَصِیۡرُ ٨

আলাম তারা ইলাল্লাযীনা নুহূ‘আনিন্নাজওয়া-ছু ম্মা ইয়া‘ঊদূ না লিমা-নুহূ ‘আনহু ওয়া ইয়াতানা-জাওনা বিলইছমি ওয়াল ‘উদওয়া-নি ওয়া মা‘সিয়াতিররাছূলি ওয়া ইযাজাঊকা হাইইয়াওকা বিমা-লাম ইউহায়িকা বিহিল্লা-হু ওয়া ইয়াকূলূনা ফী আনফুছিহিম লাওলা-ইউ‘আযযি বুনাল্লা-হু বিমা-নাকূলু হাছবুহুম জাহান্নামু ইয়াসলাওনাহা- ফাবি’ছাল মাসীর।

তুমি কি দেখনি তাদেরকে, যাদেরকে কানে কানে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছিল, তারপরও তারা তাদেরকে যা করতে নিষেধ করা হয়েছিল তাই করে? তারা পরস্পরে এমন বিষয়ে কানাকানি করে, যা গুনাহ, সীমালংঘন ও রাসূলের অবাধ্যতা এবং (হে রাসূল!) তারা তোমার কাছে যখন আসে, তখন তারা তোমাকে এমন কথা দ্বারা অভিবাদন জানায়, যা দ্বারা আল্লাহ তোমাকে অভিবাদন জানাননি এবং তারা মনে মনে বলে, আমরা যা বলছি সেজন্য আল্লাহ আমাদেরকে শাস্তি দিচ্ছেন না কেন? জাহান্নামই তাদের (শাস্তি দানের) জন্য যথেষ্ট। তারা তাতেই গিয়ে পৌঁছবে এবং তা অতি নিকৃষ্ট গন্তব্যস্থল।

তাফসীরঃ

৬. উপরে বর্ণিত অপকর্মগুলো তো করতই, সেই সঙ্গে আরও বলত, আমাদের এসব কাজ অন্যায় হলে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এজন্য শাস্তি দেন না কেন? আমাদেরকে যেহেতু শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না, তার দ্বারা প্রমাণ হয়ে যায় আমরা অন্যায় কিছু করছি না; আমরা ন্যায়ের উপরই আছি।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا تَنَاجَیۡتُمۡ فَلَا تَتَنَاجَوۡا بِالۡاِثۡمِ وَالۡعُدۡوَانِ وَمَعۡصِیَتِ الرَّسُوۡلِ وَتَنَاجَوۡا بِالۡبِرِّ وَالتَّقۡوٰی ؕ وَاتَّقُوا اللّٰہَ الَّذِیۡۤ اِلَیۡہِ تُحۡشَرُوۡنَ ٩

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূইযা-তানা-জাইতুম ফালা-তাতানা-জাও বিল ইছমি ওয়াল ‘উদওয়া-নি ওয়ামা‘সিয়াতির রাছূলি ওয়া তানা-জাও বিলবিররি ওয়াত্তাকওয়া- ওয়াত্তাকুল্লা-হাল্লাযীইলাইহি তুহশারূন।

হে মুমিনগণ! তোমরা পরস্পরে যখন কানে কানে কথা বল, তখন এমন বিষয়ে কানাকানি করবে না, যাতে গুনাহ, সীমালংঘন ও রাসূলের অবাধ্যতা হয়। বরং কানাকানি করবে সৎকর্ম ও তাকওয়া সম্বন্ধে এবং আল্লাহকে ভয় কর, যার কাছে তোমাদেরকে একত্র করে নিয়ে যাওয়া হবে।
১০

اِنَّمَا النَّجۡوٰی مِنَ الشَّیۡطٰنِ لِیَحۡزُنَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَلَیۡسَ بِضَآرِّہِمۡ شَیۡئًا اِلَّا بِاِذۡنِ اللّٰہِ ؕ وَعَلَی اللّٰہِ فَلۡیَتَوَکَّلِ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ١۰

ইন্নামান্নাজওয়া-মিনাশশাইতা-নি লিয়াহঝুনাল্লাযীনা আ-মানূওয়া লাইছা বিদারিহিম শাইআন ইল্লা-বিইযনিল্লা -হি ওয়া ‘আলাল্লা-হি ফালইয়াতাওয়াক্কালিল মু’মিনূন।

এরূপ কানাকানি হয় শয়তানের প্ররোচনায়, যাতে সে মুমিনদেরকে দুঃখ দিতে পারে। কিন্তু সে আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত তাদের বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারে না। মুমিনদের উচিত কেবল আল্লাহরই উপর ভরসা করা।
১১

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا قِیۡلَ لَکُمۡ تَفَسَّحُوۡا فِی الۡمَجٰلِسِ فَافۡسَحُوۡا یَفۡسَحِ اللّٰہُ لَکُمۡ ۚ وَاِذَا قِیۡلَ انۡشُزُوۡا فَانۡشُزُوۡا یَرۡفَعِ اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مِنۡکُمۡ ۙ وَالَّذِیۡنَ اُوۡتُوا الۡعِلۡمَ دَرَجٰتٍ ؕ وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ خَبِیۡرٌ ١١

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূইযা-কীলা লাকুম তাফাছ ছাহূফিল মাজা-লিছি ফাফছাহূ ইয়াফছাহিল্লা-হু লাকুম ওয়া ইযা-কীলানশুঝূফানশুঝূইয়ারফা‘ইল্লা-হুল্লাযীনা আমানূমিনকুম ওয়াল্লাযীনা ঊতুল ‘ইলমা দারাজা-তিও ওয়াল্লা-হু বিমা- তা‘মালূনা খাবীর।

হে মুমিনগণ! তোমাদেরকে যখন বলা হয়, মজলিসে অন্যদের জন্য স্থান সংকুলান করে দাও, তখন স্থান সংকুলান করে দিও। আল্লাহ তোমাদের জন্য স্থান সংকুলান করে দেবেন এবং যখন বলা হয়, উঠে যাও, তখন উঠে যেও। তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও যাদেরকে জ্ঞান দেওয়া হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে মর্যাদায় উন্নত করবেন। তোমরা যা-কিছু কর আল্লাহ সে সম্বন্ধে পরিপূর্ণ অবগত।

তাফসীরঃ

৮. এ আয়াতের প্রেক্ষাপট নিম্নরূপ, একবার মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীর চত্বরে, যাকে ‘সুফফা’ বলা হয়ে থাকে, অবস্থান করছিলেন। তার আশপাশে বহু সাহাবীও বসা ছিলেন। এ অবস্থায় আরও কয়েকজন সাহাবী এসে উপস্থিত হলেন, যারা বদরের যুদ্ধে শরীক ছিলেন এবং তাদের উচ্চ মর্যাদার অধিকারী মনে করা হত। মজলিসে বসার জায়গা না পেয়ে তাঁরা দাঁড়িয়ে থাকলেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজলিসের লোকদেরকে বললেন, তারা যেন চাপাচাপি করে বসে আগন্তুকদেরকে বসার সুযোগ করে দেয়। তারপরও যখন তাদের বসার মত যথেষ্ট জায়গা হল না, তখন তিনি কাউকে কাউকে বললেন, তারা যেন উঠে জায়গা খালি করে দেয়। মজলিসে কিছু মুনাফেকও ছিল। তাদের কাছে বিষয়টা খারাপ লাগল। বসা লোককে উঠিয়ে অন্যকে বসতে দেওয়া হবে এটা তারা মানতে পারছিল না। বস্তুত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজের সাধারণ নিয়মও এরূপ ছিল না। সম্ভবত সে দিন মুনাফেকরা আগত সাহাবীগণকে বসতে দিতে কুণ্ঠাবোধ করছিল। আর সে কারণে তিনি তাদেরকে উঠিয়ে দিয়ে থাকবেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঐ আয়াত নাযিল হয়। এতে এক তো সাধারণ নিয়ম বলে দেওয়া হয়েছে যে, মজলিসে উপস্থিত লোকদের উচিত আগন্তুকদেরকে বসার সুযোগ করে দেওয়া। দ্বিতীয় হুকুম দেওয়া হয়েছে, মজলিস-প্রধান যদি আগন্তুকদের জন্য জায়গা খালি করার প্রয়োজন বোধ করেন, তবে আগে থেকে বসা লোকদেরকেও তিনি উঠে যাওয়ার হুকুম দিতে পারেন। আর তখন তাদের কর্তব্য হয়ে যাবে নিজেরা উঠে গিয়ে আগন্তুকদেরকে বসতে দেওয়া। তবে নতুন আগমনকারী নিজে থেকে কাউকে উঠিয়ে দেওয়ার এখতিয়ার রাখে না। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাদীসে এ রকমই শিক্ষা দিয়েছেন।
১২

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا نَاجَیۡتُمُ الرَّسُوۡلَ فَقَدِّمُوۡا بَیۡنَ یَدَیۡ نَجۡوٰىکُمۡ صَدَقَۃً ؕ ذٰلِکَ خَیۡرٌ لَّکُمۡ وَاَطۡہَرُ ؕ فَاِنۡ لَّمۡ تَجِدُوۡا فَاِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ١٢

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূইযা-না-জাইতুমুর রাছূলা ফাকাদ্দিমূবাইনা ইয়াদাই নাজওয়া-কুম সাদাকাতান যা-লিকা খাইরুল্লাকুম ওয়া আতহারু ফাইল্লাম তাজিদূ ফাইন্নাল্লা-হা গাফূরুর রাহীম।

হে মুমিনগণ! তোমরা যখন নবীর সঙ্গে নিভৃতে কোন কথা বলতে চাবে, তখন নিভৃতে কথা বলার আগে কিছু সদকা দিয়ে দেবে। এটা তোমাদের জন্য উৎকৃষ্ট ও পবিত্রতম পন্থা। তবে তোমাদের কাছে (সদকা করার মত) কিছু না থাকলে তো আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

৯. যারা নিভৃতে কথা বলার জন্য মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সময় চাইত, অনেক সময় তারা অহেতুকভাবে তাঁর থেকে বেশি সময় নিয়ে নিত। তাঁর নীতি ছিল, কেউ তাঁর সঙ্গে কথা বললে, তিনি নিজে থেকে তার কথা কেটে দিতেন না। কেউ কেউ এর থেকে অন্যায় সুযোগ গ্রহণ করত। কিছু মুনাফেকও এদের মধ্যে ছিল। তাই এ আয়াতে হুকুম দেওয়া হয়েছিল, কেউ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে নিভৃতে কথা বলতে চাইলে সে যেন তার আগে গরীবদেরকে কিছু দান-খয়রাত করে আসে। সেই সঙ্গে এটাও বলে দেওয়া হয়েছিল যে, কারও দান-খয়রাত করার সামর্থ্য না থাকলে তার কথা আলাদা। সে এই হুকুমের আওতায় পড়বে না। কী পরিমাণ সদকা করতে হবে তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। অবশ্য হযরত আলী (রাযি.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের থেকে এরূপ সময় নিলে এক দীনার সদকা করেছিলেন। এ নির্দেশের উদ্দেশ্য ছিল, যাতে কেউ অপ্রয়োজনীয় কাজে তাঁর মূল্যবান সময় নষ্ট করতে না পারে এবং যাদের সত্যিকারের প্রয়োজন থাকে, কেবল তারাই তাঁর থেকে সময় গ্রহণ করে, তবে পরবর্তীতে এ হুকুমটি রহিত করে দেওয়া হয়, যেমন সামনের টীকায় আসছে।
১৩

ءَاَشۡفَقۡتُمۡ اَنۡ تُقَدِّمُوۡا بَیۡنَ یَدَیۡ نَجۡوٰىکُمۡ صَدَقٰتٍ ؕ  فَاِذۡ لَمۡ تَفۡعَلُوۡا وَتَابَ اللّٰہُ عَلَیۡکُمۡ فَاَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَاٰتُوا الزَّکٰوۃَ وَاَطِیۡعُوا اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ ؕ  وَاللّٰہُ خَبِیۡرٌۢ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ ٪ ١٣

আ আশফাকতুম আন তুকাদ্দিমূবাইনা ইয়াদাই নাজওয়া-কুম সাদাকা-তিন ফাইযলাম তাফ‘আলূওয়া তা-বাল্লা-হু ‘আলাইকুম ফাআকীমুসসালা-তা ওয়া আ-তুঝঝাকা-তা ওয়া আতী‘উল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূ ওয়াল্লা-হু খাবীরুম বিমা-তা‘মালূন।

তোমরা নিভৃতে কথা বলার আগে সদকা করতে কি ভয় পাচ্ছ? তোমরা যখন তা করতে পারনি এবং আল্লাহ তাআলাও তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন, তখন নামায কায়েম করতে থাক, যাকাত দিতে থাক এবং আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করে যাও। ১০ তোমরা যা-কিছু কর আল্লাহ সে সম্বন্ধে পরিপূর্ণ অবগত।

তাফসীরঃ

১০. পূর্বের আয়াতে সদকা করার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, এ আয়াত তা মানসুখ (রহিত) করে দিয়েছে। কেননা যে উদ্দেশ্যে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তা পূরণ হয়ে গিয়েছিল। লোকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের থেকে সময় নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হয়ে গিয়েছিল। মুনাফেকরাও বুঝে ফেলেছিল, এরপরও তারা আগের মত দুষ্কৃতি চালাতে থাকলে তাদের মুখোশ খুলে দেওয়া হবে। কাজেই এ আয়াত জানাচ্ছে, এখন আর সদকা করা জরুরি নয়। তবে অন্যান্য দীনী কার্যাবলী, যথা নামায, যাকাত ইত্যাদি করে যেতে থাক।
১৪

اَلَمۡ تَرَ اِلَی الَّذِیۡنَ تَوَلَّوۡا قَوۡمًا غَضِبَ اللّٰہُ عَلَیۡہِمۡ ؕ مَا ہُمۡ مِّنۡکُمۡ وَلَا مِنۡہُمۡ ۙ وَیَحۡلِفُوۡنَ عَلَی الۡکَذِبِ وَہُمۡ یَعۡلَمُوۡنَ ١٤

আলাম তারা ইলাল্লাযীনা তাওয়াল্লাও কাওমান গাদিবাল্লা-হু ‘আলাইহিম মা-হুম মিনকুম ওয়ালা-মিনহুম ওয়া ইয়াহলিফূনা ‘আলাল কাযিবি ওয়া হুম ইয়া‘লামূন।

তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা আল্লাহ যে সম্প্রদায়ের প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন তাদেরকে বন্ধু বানিয়ে নিয়েছে? তারা তাদের দলেরও নয় এবং তোমাদের দলেরও নয়। ১১ তারা জেনে শুনে মিথ্যা বিষয়ের উপর কসম করে।

তাফসীরঃ

১১. ইশারা মুনাফেকদের প্রতি। তারা ইয়াহুদীদের সাথে বন্ধুত্বের গাঁটছড়া বেঁধে রেখেছিল এবং তারই ফলশ্রুতিতে সর্বদা মুমিনদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকত।
১৫

اَعَدَّ اللّٰہُ لَہُمۡ عَذَابًا شَدِیۡدًا ؕ اِنَّہُمۡ سَآءَ مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ١٥

আ‘আদ্দাল্লা-হু লাহুম ‘আযা-বান শাদীদান ইন্নাহুম ছাআ মা-কা-নূইয়া‘মালূন।

আল্লাহ তাদের জন্য কঠোর শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন। বস্তুত তারা যে কাজ করত তা অতি মন্দ।
১৬

اِتَّخَذُوۡۤا اَیۡمَانَہُمۡ جُنَّۃً فَصَدُّوۡا عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ فَلَہُمۡ عَذَابٌ مُّہِیۡنٌ ١٦

ইত্তাখাযূআইমা-নাহুম জূন্নাতান ফাসাদ্দূ‘আন ছাবীলিল্লা-হি ফালাহুম ‘আযা-বুম মুহীন।

তারা তাদের কসমসমূহকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, ১২ অতঃপর তারা অন্যদেরকে আল্লাহর পথ থেকে নিবৃত্ত করে। সুতরাং তাদের জন্য লাঞ্ছনাকর শাস্তি।

তাফসীরঃ

১২. অর্থাৎ ঢাল দ্বারা যেমন তরবারীর আঘাত প্রতিহত করা হয়, তেমনি তারা ষড়যন্ত্র চালাতে থাকা সত্ত্বেও মিথ্যা কসমের মাধ্যমে মুমিনদের কাছে নিজেদেরকে তাদের অকৃত্রিম বন্ধু ও তাদেরই দলের লোক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়াস পায় এবং এভাবে নিজেদেরকে তাদের পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ হতে রক্ষা করে।
১৭

لَنۡ تُغۡنِیَ عَنۡہُمۡ اَمۡوَالُہُمۡ وَلَاۤ اَوۡلَادُہُمۡ مِّنَ اللّٰہِ شَیۡئًا ؕ اُولٰٓئِکَ اَصۡحٰبُ النَّارِ ؕ ہُمۡ فِیۡہَا خٰلِدُوۡنَ ١٧

লান তুগনিয়া ‘আনহুম আমওয়া-লুহুম ওয়ালাআওলা-দুহুম মিনাল্লা-হি শাইআন উলাইকা আসহা-বুন্না-রি হুম ফীহা-খা-লিদূ ন।

আল্লাহর মোকাবেলায় তাদের অর্থ-সম্পদ ও তাদের সন্তান-সন্ততি তাদের কোন কাজে আসবে না। তারা হবে জাহান্নামবাসী। তারা সর্বদাই তাতে থাকবে।
১৮

یَوۡمَ یَبۡعَثُہُمُ اللّٰہُ جَمِیۡعًا فَیَحۡلِفُوۡنَ لَہٗ کَمَا یَحۡلِفُوۡنَ لَکُمۡ وَیَحۡسَبُوۡنَ اَنَّہُمۡ عَلٰی شَیۡءٍ ؕ اَلَاۤ اِنَّہُمۡ ہُمُ الۡکٰذِبُوۡنَ ١٨

ইয়াওমা ইয়াব‘আছুহুমুল্লা-হু জামী‘আন ফাইয়াহলিফূনা লাহূকামা-ইয়াহলিফূনা লাকুম ওয়া ইয়াহছাবূনা আন্নাহুম ‘আলা-শাইয়িন আলাইন্নাহুম হুমুল কা-যিবূন।

যে দিন আল্লাহ তাদেরকে পুনর্জীবিত করবেন, সে দিন তাঁর সামনেও তারা এভাবে কসম করবে, যেমন তোমাদের সামনে কসম করে। তারা মনে করবে কোন (উপকারী) জিনিস পেয়ে গেছে। ১৩ মনে রেখ, তারা সম্পূর্ণ মিথ্যাবাদী।

তাফসীরঃ

১৩. অর্থাৎ দুনিয়ায় যেমন মিথ্যা কসম দ্বারা উপকার লাভ করেছে, নিজেদেরকে কতল থেকে রক্ষা করে ফেলেছে, মনে করবে আখিরাতেও সে রকম মিথ্যা কসম করে বেঁচে যাবে, কি করে বাঁচতে পারবে, যখন আল্লাহ তাআলা আলেমুল-গায়েব। মনের গুপ্ত কুফরী তিনি ঠিকই জানেন। কিন্তু মিথ্যা বলতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ায় এই সোজা কথাটাও তাদের মাথায় আসবে না। ফলে আল্লাহ তাআলাকে মানুষের কাতারে ফেলে মনে করবে মিথ্যা কসম দ্বারা সেখানেও উপকার পেয়ে যাবে। -অনুবাদক
১৯

اِسۡتَحۡوَذَ عَلَیۡہِمُ الشَّیۡطٰنُ فَاَنۡسٰہُمۡ ذِکۡرَ اللّٰہِ ؕ اُولٰٓئِکَ حِزۡبُ الشَّیۡطٰنِ ؕ اَلَاۤ اِنَّ حِزۡبَ الشَّیۡطٰنِ ہُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ ١٩

ইছতাহওয়াযা ‘আলাইহিমুশশাইতা-নুফাআনছা-হুম যিকরাল্লা-হি উলাইকা হিঝবুশশাইতা-নি আলাইন্না হিঝবাশশাইতা-নি হুমুল খা-ছিরূন।

শয়তান তাদের উপর পুরোপুরি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে নিয়েছে। ফলে সে তাদেরকে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল করে রেখেছে। তারা শয়তানের দল। মনে রেখ, শয়তানের দলই অকৃতকার্য হয়।
২০

اِنَّ الَّذِیۡنَ یُحَآدُّوۡنَ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗۤ اُولٰٓئِکَ فِی الۡاَذَلِّیۡنَ ٢۰

ইন্নাল্লাযীনা ইউহাদ্দূনাল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূউলাইকা ফিল আযাল্লীন।

নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা হীনতম লোকদের অন্তর্ভুক্ত।
২১

کَتَبَ اللّٰہُ لَاَغۡلِبَنَّ اَنَا وَرُسُلِیۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ قَوِیٌّ عَزِیۡزٌ ٢١

কাতাবাল্লা-হু লাআগলিবান্না আনা ওয়া রুছুলী ইন্নাল্লা-হা কাবিইয়ুন ‘আঝীঝ।

আল্লাহ লিখে দিয়েছেন, আমি ও আমার রাসূলগণ অবশ্যই জয়যুক্ত হব। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি শক্তিমান, সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।
২২

لَا تَجِدُ قَوۡمًا یُّؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ یُوَآدُّوۡنَ مَنۡ حَآدَّ اللّٰہَ وَرَسُوۡلَہٗ وَلَوۡ کَانُوۡۤا اٰبَآءَہُمۡ اَوۡ اَبۡنَآءَہُمۡ اَوۡ اِخۡوَانَہُمۡ اَوۡ عَشِیۡرَتَہُمۡ ؕ  اُولٰٓئِکَ کَتَبَ فِیۡ قُلُوۡبِہِمُ الۡاِیۡمَانَ وَاَیَّدَہُمۡ بِرُوۡحٍ مِّنۡہُ ؕ  وَیُدۡخِلُہُمۡ جَنّٰتٍ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ؕ  رَضِیَ اللّٰہُ عَنۡہُمۡ وَرَضُوۡا عَنۡہُ ؕ  اُولٰٓئِکَ حِزۡبُ اللّٰہِ ؕ  اَلَاۤ اِنَّ حِزۡبَ اللّٰہِ ہُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ ٪ ٢٢

লা-তাজিদুকাওমাইঁ ইউ’মিনূনা বিল্লা-হি ওয়াল ইয়াওমিল আ-খিরি ইউওয়াদ্দূনা মান হাদ্দাল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূওয়া লাও কা-নূআ-বাআহুম আও আবনাআহুম আও ইখওয়া-নাহুম আও ‘আশীরাতাহুম উলাইকা কাতাবা ফী কুলূবিহিমুল ঈমা-না ওয়া আইয়াদাহুম বিরূহিম মিন হু ওয়া ইউদখিলুহুম জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহারু খা-লিদীনা ফীহা- রাদিআল্লা-হু ‘আনহুম ওয়ারাদূ‘আনহু উলাইকা হিঝবুল্লাহি আলাইন্না হিঝবাল্লা-হি হুমুল মুফলিহূন।

যে সব লোক আল্লাহ ও আখেরাত দিবসে ঈমান রাখে, তাদেরকে তুমি এমন পাবে না যে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাদের সাথে বন্ধুত্ব রাখছে। হোক না তারা তাদের পিতা বা তাদের পুত্র বা তাদের ভাই কিংবা তাদের স্বগোত্রীয়। ১৪ তারাই এমন, আল্লাহ যাদের অন্তরে ঈমানকে খোদাই করে দিয়েছেন এবং নিজ রূহ দ্বারা তাদের সাহায্য করেছেন। ১৫ তিনি তাদেরকে প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে, যার তলদেশে নহর প্রবাহিত থাকবে। তাতে তারা সর্বদা থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে গেছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে গেছে। তারা আল্লাহর দল। স্মরণ রেখ, আল্লাহর দলই কৃতকার্য হয়।

তাফসীরঃ

১৪. অমুসলিমদের সাথে কী রকম বন্ধুত্ব জায়েয ও কী রকম বন্ধুত্ব জায়েয নয়, তা বিস্তারিতভাবে সূরা আলে ইমরান (৩ : ২৮)-এর টীকায় লেখা হয়েছে।