সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল মুম্‌তাহিনাহ্‌ (الـمـمـتـحنة) | নারী, যাকে পরীক্ষা করা হবে

মাদানী

মোট আয়াতঃ ১৩

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَّخِذُوۡا عَدُوِّیۡ وَعَدُوَّکُمۡ اَوۡلِیَآءَ تُلۡقُوۡنَ اِلَیۡہِمۡ بِالۡمَوَدَّۃِ وَقَدۡ کَفَرُوۡا بِمَا جَآءَکُمۡ مِّنَ الۡحَقِّ ۚ یُخۡرِجُوۡنَ الرَّسُوۡلَ وَاِیَّاکُمۡ اَنۡ تُؤۡمِنُوۡا بِاللّٰہِ رَبِّکُمۡ ؕ اِنۡ کُنۡتُمۡ خَرَجۡتُمۡ جِہَادًا فِیۡ سَبِیۡلِیۡ وَابۡتِغَآءَ مَرۡضَاتِیۡ ٭ۖ تُسِرُّوۡنَ اِلَیۡہِمۡ بِالۡمَوَدَّۃِ ٭ۖ وَاَنَا اَعۡلَمُ بِمَاۤ اَخۡفَیۡتُمۡ وَمَاۤ اَعۡلَنۡتُمۡ ؕ وَمَنۡ یَّفۡعَلۡہُ مِنۡکُمۡ فَقَدۡ ضَلَّ سَوَآءَ السَّبِیۡلِ ١

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তাত্তাখিযূ‘আদুওবী ওয়া ‘আদুওওয়াকুম আওলিয়াআ তুলকূনা ইলাইহিম বিলমাওয়াদ্দাতি ওয়া কাদ কাফারূবিমা-জাআকুম মিনাল হাক্কি ইউখরিজুনার রাছূলা ওয়া ইয়্যা-কুম আন তু’মিনূবিল্লা-হি রাব্বিকুম ইন কুনতুম খারাজতুম জিহা-দান ফী ছাবীলী ওয়াব তিগাআ মারদা-তী তুছিররূনা ইলাইহিম বিলমাওয়াদ্দাতি ওয়া আনা আ‘লামুবিমাআখফাইতুম ওয়ামাআ‘লানতুম ওয়া মাইঁ ইয়াফ‘আলহু মিনকুম ফাকাদ দাল্লা ছাওয়াআছ ছাবীল।

হে মুমিনগণ! তোমরা যদি আমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে আমার পথে জিহাদের জন্য (ঘর থেকে) বের হয়ে থাক, তবে আমার শত্রু ও তোমাদের নিজেদের শত্রুকে এমন বন্ধু বানিও না যে, তাদের কাছে ভালোবাসার বার্তা পৌঁছাতে শুরু করবে, অথচ তোমাদের কাছে যে সত্য এসেছে তারা তা এমনই প্রত্যাখ্যান করেছে যে, রাসূলকে এবং তোমাদেরকেও কেবল এই কারণে (মক্কা হতে) বের করে দিচ্ছে যে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছ। তোমরা গোপনে তাদের সাথে বন্ধুত্ব কর, অথচ তোমরা যা-কিছু গোপনে কর ও যা-কিছু প্রকাশ্যে কর আমি তা ভালোভাবে জানি। তোমাদের মধ্যে কেউ এমন করলে সে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হল।

তাফসীরঃ

১. হযরত হাতিব ইবনে আবু বালতাআ (রাযি.)-এর যে ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ আয়াতসমূহ নাযিল হয়েছে, তা সূরার পরিচিতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ আয়াতে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কাফেরদেরকে অন্তরঙ্গ বন্ধু বানানো যাবে না। তাদের সাথে বন্ধুত্বের সীমারেখা কী হবে, তা বিস্তারিতভাবে সূরা আলে ইমরান (৩ : ২৮)-এর টীকায় বর্ণিত হয়েছে।

اِنۡ یَّثۡقَفُوۡکُمۡ یَکُوۡنُوۡا لَکُمۡ اَعۡدَآءً وَّیَبۡسُطُوۡۤا اِلَیۡکُمۡ اَیۡدِیَہُمۡ وَاَلۡسِنَتَہُمۡ بِالسُّوۡٓءِ وَوَدُّوۡا لَوۡ تَکۡفُرُوۡنَ ؕ ٢

ইয়ঁইয়াছকাফূকুমইয়াকূনূলাকুমআ‘দাআওঁ ওয়া ইয়াবছুতূ ইলাইকুম আইদিয়াহুম ওয়া আলছিনাতাহুম বিছছূই ওয়া ওয়াদ্দূলাও তাকফুরূন।

তোমাদেরকে বাগে পেলে তারা তোমাদের শত্রু হয়ে যাবে এবং নিজেদের হাত ও মুখ বিস্তার করে তোমাদেরকে কষ্ট দেবে। তাদের কামনা এটাই যে, তোমরা কাফের হয়ে যাও।

لَنۡ تَنۡفَعَکُمۡ اَرۡحَامُکُمۡ وَلَاۤ اَوۡلَادُکُمۡ ۚۛ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ۚۛ یَفۡصِلُ بَیۡنَکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ ٣

লান তানফা‘আকুম আরহা-মুকুম ওয়ালাআওলা-দুকুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ইয়াফসিলুবাইনাকুম ওয়াল্লা-হু বিমা-তা‘মালূনা বাসীর।

কিয়ামতের দিন তোমাদের আত্মীয়-স্বজন ও তোমাদের সন্তান-সন্ততি তোমাদের কোন কাজে আসবে না। আল্লাহই তোমাদের মধ্যে ফায়সালা করবেন। তোমরা যা-কিছু করছ আল্লাহ তা ভালোভাবে দেখছেন।

قَدۡ کَانَتۡ لَکُمۡ اُسۡوَۃٌ حَسَنَۃٌ فِیۡۤ اِبۡرٰہِیۡمَ وَالَّذِیۡنَ مَعَہٗ ۚ اِذۡ قَالُوۡا لِقَوۡمِہِمۡ اِنَّا بُرَءٰٓؤُا مِنۡکُمۡ وَمِمَّا تَعۡبُدُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ۫ کَفَرۡنَا بِکُمۡ وَبَدَا بَیۡنَنَا وَبَیۡنَکُمُ الۡعَدَاوَۃُ وَالۡبَغۡضَآءُ اَبَدًا حَتّٰی تُؤۡمِنُوۡا بِاللّٰہِ وَحۡدَہٗۤ اِلَّا قَوۡلَ اِبۡرٰہِیۡمَ لِاَبِیۡہِ لَاَسۡتَغۡفِرَنَّ لَکَ وَمَاۤ اَمۡلِکُ لَکَ مِنَ اللّٰہِ مِنۡ شَیۡءٍ ؕ رَبَّنَا عَلَیۡکَ تَوَکَّلۡنَا وَاِلَیۡکَ اَنَبۡنَا وَاِلَیۡکَ الۡمَصِیۡرُ ٤

কাদ কা-নাত লাকুম উছওয়াতুন হাছানাতুন ফীইবরা-হীমা ওয়াল্লাযীনা মা‘আহূ ইয কা-লূলিকাওমিহিম ইন্না-বুরাআউ মিনকুম ওয়া মিম্মা-তা‘বুদূ না মিন দূ নিল্লা-হি কাফারনাবিকুম ওয়া বাদা-বাইনানা-ওয়া বাইনাকুমুল ‘আদা-ওয়াতুওয়ালা বাগদা উ আবাদান হাত্তা-তু’মিনূবিল্লা-হি ওয়াহদাহূইল্লা-কাওলা ইবরা-হীমা লিআবীহি লাআছতাগফিরান্না লাকা ওয়ামাআমলিকুলাকা মিনাল্লা-হি মিন শাইয়িন রাব্বানা-‘আলাইকা তাওয়াক্কালনাওয়া ইলাইকা আনাবনা-ওয়া ইলাইকাল মাসীর।

তোমাদের জন্য ইবরাহীম ও তার সঙ্গীদের মধ্যে উত্তম আদর্শ আছে, যখন সে নিজ সম্প্রদায়কে বলেছিল, তোমাদের সঙ্গে এবং তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের উপাসনা করছ তাদের সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের (আকীদা-বিশ্বাস) অস্বীকার করি। আমাদের ও তোমাদের মধ্যে চিরকালের জন্য শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়ে গেছে, যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। তবে ইবরাহীম তার পিতাকে অবশ্য বলেছিল, আমি আল্লাহর কাছে আপনার জন্য অবশ্যই মাগফিরাতের দুআ করব, যদিও আমি আল্লাহর সামনে আপনার কোন উপকার করার এখতিয়ার রাখি না। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আপনারই উপর নির্ভর করেছি, আপনারই দিকে আমরা রুজূ হয়েছি এবং আপনারই কাছে আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে।

তাফসীরঃ

২. অর্থাৎ হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যদিও নিজ সম্প্রদায় ও জ্ঞাতী-গোষ্ঠীর সাথে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু প্রথম দিকে নিজ পিতার মাগফিরাতের জন্য দুআ করার ওয়াদাও করেছিলেন। তবে যখন তাঁর জানা হয়ে গেল তাঁর পিতা স্থায়ীভাবেই আল্লাহ তাআলার শত্রু এবং তার ভাগ্যে ঈমান নেই, তখন তিনি তার জন্য দুআ করা থেকেও ক্ষান্ত হয়ে যান। বিষয়টা সূরা তাওবায় (৯ : ১১৪) গত হয়েছে।

رَبَّنَا لَا تَجۡعَلۡنَا فِتۡنَۃً لِّلَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا وَاغۡفِرۡ لَنَا رَبَّنَا ۚ اِنَّکَ اَنۡتَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ٥

রাব্বানা-লা-তাজ‘আলনা-ফিতনাতালিলল্লাযীনা কাফারূওয়াগফিরলানা-রাব্বানা- ইন্নাকা আনতাল ‘আঝীঝুল হাকীম।

হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে কাফেরদের পরীক্ষার পাত্র বানাবেন না এবং হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই কেবল আপনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

لَقَدۡ کَانَ لَکُمۡ فِیۡہِمۡ اُسۡوَۃٌ حَسَنَۃٌ لِّمَنۡ کَانَ یَرۡجُوا اللّٰہَ وَالۡیَوۡمَ الۡاٰخِرَ ؕ  وَمَنۡ یَّتَوَلَّ فَاِنَّ اللّٰہَ ہُوَ الۡغَنِیُّ الۡحَمِیۡدُ ٪ ٦

লাকাদ কা-না লাকুম ফীহিম উছওয়াতুন হাছানাতুল লিমান কা-না ইয়ারজুল্লা-হা ওয়াল ইয়াওমাল আ-খিরা ওয়া মাইঁ ইয়াতাওয়াল্লা ফাইন্নাল্লা-হা হুওয়াল গানিইয়ুল হামীদ।

(হে মুসলিমগণ!) নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য তাদের (কর্মপন্থার) মধ্যে আছে উত্তম আদর্শ, প্রত্যেক এমন ব্যক্তির জন্য, যে আল্লাহ ও আখেরাত দিবসের আশা রাখে। আর কেউ মুখ ফিরিয়ে নিলে (সে যেন মনে রাখে), আল্লাহ সকলের থেকে অনপেক্ষ, আপনিই প্রশংসার্হ।

عَسَی اللّٰہُ اَنۡ یَّجۡعَلَ بَیۡنَکُمۡ وَبَیۡنَ الَّذِیۡنَ عَادَیۡتُمۡ مِّنۡہُمۡ مَّوَدَّۃً ؕ وَاللّٰہُ قَدِیۡرٌ ؕ وَاللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ٧

‘আছাল্লা-হু আইঁ ইয়াজ‘আলা বাইনাকুম ওয়া বাইনাল্লাযীনা ‘আ-দাইতুম মিনহুম মাওয়াদ্দাতাও ওয়াল্লা-হু কাদীরুও ওয়াল্লা-হু গাফূরুর রাহীম।

অসম্ভব নয় যে, আল্লাহ তোমাদের এবং যাদের সঙ্গে তোমাদের শত্রুতা আছে, তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

৩. অর্থাৎ মক্কা মুকাররমায় যারা এখন শত্রুতা করে যাচ্ছে, আশা করা যায় তাদের মধ্যে কিছু লোক ঈমান আনবে এবং তারা শত্রুতার বদলে বন্ধুত্ব শুরু করে দেবে। বাস্তবিকই মক্কা বিজয়ের পর এদের অনেকেই ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং দীনের সেবায় অসাধারণ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেছিল।

لَا یَنۡہٰىکُمُ اللّٰہُ عَنِ الَّذِیۡنَ لَمۡ یُقَاتِلُوۡکُمۡ فِی الدِّیۡنِ وَلَمۡ یُخۡرِجُوۡکُمۡ مِّنۡ دِیَارِکُمۡ اَنۡ تَبَرُّوۡہُمۡ وَتُقۡسِطُوۡۤا اِلَیۡہِمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یُحِبُّ الۡمُقۡسِطِیۡنَ ٨

লা-ইয়ানহা-কুমুল্লা-হু ‘আনিল্লাযীনা লাম ইউকা-তিলূকুম ফিদ্দীনি ওয়ালাম ইউখরিজুকুম মিন দিয়া-রিকুম আন তাবাররূহুম ওয়া তুকছিতূইলাইহিম ইন্নাল্লা-হা ইউহিব্বুল মুকছিতীন।

যারা দীনের ব্যাপারে তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ি থেকে বহিষ্কার করেনি, তাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে ও তাদের প্রতি ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালোবাসেন।

তাফসীরঃ

৪. অর্থাৎ যেসব অমুসলিম মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করে না এবং তাদেরকে অন্য কোনওভাবে কষ্টও দেয় না, তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করা ও ইনসাফের পরিচয় দেওয়া আল্লাহ তাআলার আদৌ অপছন্দ নয়; বরং মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের সাথেই ইনসাফ রক্ষা করা অবশ্য কর্তব্য।

اِنَّمَا یَنۡہٰىکُمُ اللّٰہُ عَنِ الَّذِیۡنَ قٰتَلُوۡکُمۡ فِی الدِّیۡنِ وَاَخۡرَجُوۡکُمۡ مِّنۡ دِیَارِکُمۡ وَظٰہَرُوۡا عَلٰۤی اِخۡرَاجِکُمۡ اَنۡ تَوَلَّوۡہُمۡ ۚ وَمَنۡ یَّتَوَلَّہُمۡ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الظّٰلِمُوۡنَ ٩

ইন্নামা-ইয়ানহা-কুমুল্লা-হু ‘আনিল্লাযীনা কা-তালূকুম ফিদদীনি ওয়া আখরাজুকুম মিন দিয়ারিকুম ওয়া জা-হারূ‘আলাইখরা-জিকুম আন তাওয়াল্লাওহুম ওয়া মাইঁ ইয়াতাওয়াল্লাহুম ফাউলাইকা হুমুজ্জা-লিমূন।

আল্লাহ তোমাদেরকে কেবল তাদের সাথেই বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছেন, যারা দীনের ব্যাপারে তোমাদের সাথে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে তোমাদের ঘর-বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এবং তোমাদেরকে বের করার কাজে একে অন্যের সহযোগিতা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে তারাই জালেম।
১০

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا جَآءَکُمُ الۡمُؤۡمِنٰتُ مُہٰجِرٰتٍ فَامۡتَحِنُوۡہُنَّ ؕ اَللّٰہُ اَعۡلَمُ بِاِیۡمَانِہِنَّ ۚ فَاِنۡ عَلِمۡتُمُوۡہُنَّ مُؤۡمِنٰتٍ فَلَا تَرۡجِعُوۡہُنَّ اِلَی الۡکُفَّارِ ؕ لَا ہُنَّ حِلٌّ لَّہُمۡ وَلَا ہُمۡ یَحِلُّوۡنَ لَہُنَّ ؕ وَاٰتُوۡہُمۡ مَّاۤ اَنۡفَقُوۡا ؕ وَلَا جُنَاحَ عَلَیۡکُمۡ اَنۡ تَنۡکِحُوۡہُنَّ اِذَاۤ اٰتَیۡتُمُوۡہُنَّ اُجُوۡرَہُنَّ ؕ وَلَا تُمۡسِکُوۡا بِعِصَمِ الۡکَوَافِرِ وَسۡـَٔلُوۡا مَاۤ اَنۡفَقۡتُمۡ وَلۡیَسۡـَٔلُوۡا مَاۤ اَنۡفَقُوۡا ؕ ذٰلِکُمۡ حُکۡمُ اللّٰہِ ؕ یَحۡکُمُ بَیۡنَکُمۡ ؕ وَاللّٰہُ عَلِیۡمٌ حَکِیۡمٌ ١۰

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূইযা-জাআকুমুল মু’মিনা-তুমুহা-জিরা-তিন ফামতাহিনূহুন্না আল্লা-হু আ‘লামুবিঈমা-নিহিন্না ফাইন ‘আলিমতুমূহুন্না মু’মিনা-তিন ফালা-তারাজি‘ঊহুন্না ইলাল কুফফা-রি লা-হুন্না হিল্লুল্লাহুম ওয়ালা-হুম ইয়াহিললূনা লাহুন্না ওয়া আ-তূহুম মাআনফাকূ ওয়ালা-জুনা-হা ‘আলাইকুম আন তানকিহূহুন্না ইযা আ-তাইতুমূহুন্না উজূরাহুন্না ওয়ালা-তুমছিকূবি‘ইসামিল কাওয়া-ফিরি ওয়াছআলূমা আনফাকতুম ওয়ালয়াছআলূমাআনাকূ যা-লিকুম হুকমুল্লা-হি ইয়াহকুমু বাইনাকুম ওয়াল্লা-হু ‘আলীমুন হাকীম।

হে মুমিনগণ! মুমিন নারীগণ হিজরত করে তোমাদের কাছে আসলে তোমরা তাদেরকে পরীক্ষা করে নিও। তাদের ঈমান সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন। অতঃপর তোমরা যদি জানতে পার তারা মুমিন, তবে তোমরা তাদেরকে কাফেরদের কাছে ফেরত পাঠিও না। তারা কাফেরদের জন্য বৈধ নয় এবং কাফেরগণও তাদের জন্য বৈধ নয়। তারা (অর্থাৎ কাফেরগণ মোহরানা বাবদ তাদের জন্য) যা ব্যয় করেছে তা তাদেরকে ফিরিয়ে দিও। আর তাদেরকে তোমাদের বিয়ে করাতে কোন গুনাহ নেই, যখন তোমরা তাদেরকে তাদের মোহরানা প্রদান করবে। তোমরা কাফের নারীদের সম্ভ্রম নিজেদের কব্জায় রেখে দিও না। তোমরা (তাদের মোহরানা বাবদ) যা ব্যয় করেছিলে তা (তাদের নতুন স্বামীদের থেকে) চেয়ে নাও এবং তারাও (তাদের ইসলাম গ্রহণকারী স্ত্রীদের উপর) যা কিছু ব্যয় করেছিল তা (তাদের নতুন মুসলিম স্বামীদের থেকে) চেয়ে নিক। এটা আল্লাহর ফায়সালা। তিনিই তোমাদের মধ্যে ফায়সালা দান করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।

তাফসীরঃ

৫. এ আয়াত দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়ে দিয়েছে, কোন মুসলিম নারী অমুসলিম পুরুষের বিবাহাধীন থাকতে পারে না। কাজেই কোন অমুসলিম ব্যক্তির স্ত্রী ইসলাম গ্রহণ করলে তার স্বামীকেও ইসলাম গ্রহণের দাওয়াত দেওয়া হবে। সে স্ত্রীর ইদ্দতের ভেতর ইসলাম গ্রহণ করলে তার বিবাহ বলবৎ থাকবে। কিন্তু সে যদি এই সময়ের মধ্যে ইসলাম গ্রহণ না করে তবে মুসলিম স্ত্রীর সাথে তার বিবাহ বাতিল হয়ে যাবে। ইদ্দতের পর সে স্ত্রী কোন মুসলিম পুরুষকে বিবাহ করতে পারবে।
১১

وَاِنۡ فَاتَکُمۡ شَیۡءٌ مِّنۡ اَزۡوَاجِکُمۡ اِلَی الۡکُفَّارِ فَعَاقَبۡتُمۡ فَاٰتُوا الَّذِیۡنَ ذَہَبَتۡ اَزۡوَاجُہُمۡ مِّثۡلَ مَاۤ اَنۡفَقُوۡا ؕ وَاتَّقُوا اللّٰہَ الَّذِیۡۤ اَنۡتُمۡ بِہٖ مُؤۡمِنُوۡنَ ١١

ওয়া ইন ফা-তাকুম শাইউম মিন আঝওয়া-জিকুম ইলাল কুফফা-রি ফা‘আ-কাবতুম ফাআতুল্লাযীনা যাহাবাতা আঝওয়া-জুহুম মিছলা মাআনফাকূ ওয়াত্তাকুল্লা-হাল্লাযী আনতুম বিহী মু’মিনূন।

তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে কেউ যদি তোমাদের হাতছাড়া হয়ে কাফেরদের কাছে চলে যায়, তারপর তোমাদের সুযোগ আসে তবে যাদের স্ত্রীগণ চলে গেছে, তাদেরকে, তারা (তাদের স্ত্রীদের জন্য) যা ব্যয় করেছিল, তার সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে দেবে। ১০ আল্লাহকে ভয় করে চলো, যার প্রতি তোমরা বিশ্বাসী।

তাফসীরঃ

৯. এটা বলা হচ্ছে সেই সকল মুসলিমকে, যারা ইসলাম গ্রহণকারিণী বিবাহিতা নারীদেরকে বিবাহ করেছে এবং তাদের প্রাক্তন স্বামীদের প্রদত্ত মোহরানা ফিরিয়ে দেওয়া তাদের অবশ্য করণীয় হয়ে গেছে। তাদেরকে বলা হচ্ছে যে, তারা মোহরানার অর্থ প্রাক্তন স্বামীদেরকে ফেরত না দিয়ে, বরং তা থেকে যে সকল মুসলিমের স্ত্রী কাফেরদের কাছে চলে গেছে, অথচ কাফেরগণ তাদের মোহরানা ফেরত দেয়নি, সেই মুসলিমদেরকে তাদের প্রদত্ত মোহরানার সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে দেবে।
১২

یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ اِذَا جَآءَکَ الۡمُؤۡمِنٰتُ یُبَایِعۡنَکَ عَلٰۤی اَنۡ لَّا یُشۡرِکۡنَ بِاللّٰہِ شَیۡئًا وَّلَا یَسۡرِقۡنَ وَلَا یَزۡنِیۡنَ وَلَا یَقۡتُلۡنَ اَوۡلَادَہُنَّ وَلَا یَاۡتِیۡنَ بِبُہۡتَانٍ یَّفۡتَرِیۡنَہٗ بَیۡنَ اَیۡدِیۡہِنَّ وَاَرۡجُلِہِنَّ وَلَا یَعۡصِیۡنَکَ فِیۡ مَعۡرُوۡفٍ فَبَایِعۡہُنَّ وَاسۡتَغۡفِرۡ لَہُنَّ اللّٰہَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ١٢

ইয়াআইয়ুহান্নাবিয়ুইযা-জাআকাল মু’মিনা-তুইউবা-ই‘নাকা ‘আলাআল্লা-ইউশরিকনা বিল্লা-হি শাইআওঁ ওয়ালা-ইয়াছরিকনা ওয়ালা-ইয়াঝনীনা ওয়ালা-ইয়াকতুলনা আওলা-দাহুন্না ওয়ালা-ইয়া’তীনা ব্বিুহতা-নিইঁ ইয়াফতারীনাহূবাইনা আইদীহিন্না ওয়া আরজুলিহিন্না ওয়ালা-ইয়া‘সীনাকা ফী মা‘রূফিন ফাবা-ই‘হুন্না ওয়াছতাগফির লাহুন্নাল্লা-হা ইন্নাল্লা-হা গাফুরুর রাহীম।

হে নবী! মুসলিম নারীগণ যখন তোমার কাছে এই মর্মে বায়আত করতে আসে যে, তারা আল্লাহর সঙ্গে কোনও জিনিসকেই শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, এমন কোন অপবাদ রটাবে না, যা তারা নিজেদের হাত-পায়ের মাঝখান থেকে রচনা করেছে ১১ এবং কোন ভালো কাজে তোমার অবাধ্যতা করবে না, তখন তুমি তাদের বায়আত গ্রহণ করো এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে মাগফিরাতের দুআ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

১১. ‘হাত-পায়ের মাঝখান থেকে অপবাদ রচনা করা’ কথাটি একটি আরবী বাগধারা। এর দু’টি ব্যাখ্যা হতে পারে। (এক) স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে কারও উপর মিথ্যা অপবাদ দেওয়া। (দুই) অন্যের ঔরসজাত সন্তানকে নিজ স্বামীর সন্তান বলে পরিচয় দেওয়া। জাহেলী যুগে কোন কোন নারী অন্যের সন্তানকে নিয়ে এসে বলত, এ আমার স্বামীর সন্তান অথবা ব্যভিচার করত এবং তাতে যে অবৈধ সন্তানের জন্ম হত, তাকে নিজ স্বামীর সন্তান বলে পরিচয় দিত। এস্থলে এই ঘৃণ্য অপরাধ থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি নেওয়া বোঝানো হয়েছে। প্রকাশ থাকে যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোন নারীর বায়আত গ্রহণ করতেন, তখন কিছুতেই তার হাত স্পর্শ করতেন না। তিনি নারীর বায়আত কেবল মৌখিকভাবেই গ্রহণ করতেন।
১৩

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَتَوَلَّوۡا قَوۡمًا غَضِبَ اللّٰہُ عَلَیۡہِمۡ قَدۡ یَئِسُوۡا مِنَ الۡاٰخِرَۃِ کَمَا یَئِسَ الۡکُفَّارُ مِنۡ اَصۡحٰبِ الۡقُبُوۡرِ ٪ ١٣

ইয়াআইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তাতওয়াল্লাও কাওমান গাদিবাল্লা-হু‘আলাইহিমকাদ ইয়াইছূমিনাল আ-খিরাতি কামা-ইয়াইছাল কুফফা-রু মিন আসহা-বিল কুবূর।

হে মুমিনগণ! আল্লাহ যাদের প্রতি ক্রুদ্ধ, তোমরা সে সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব করো না। তারা আখেরাত সম্পর্কে হতাশ হয়ে গেছে। যেমন কাফেরগণ কবরে দাফনকৃত লোকদের সম্পর্কে হতাশ। ১২

তাফসীরঃ

১২. অর্থাৎ মৃত বাপ-দাদা, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব কোন রকম সাহায্য করবে এ ব্যাপারে কাফেরগণ যেমন হতাশ, তেমনিভাবে তারা আখেরাতের জীবন সম্পর্কেও হতাশ। কোন কোন মুফাসসির আয়াতটির তরজমা করেছেন এ রকম, ‘তারা আখেরাত সম্পর্কে সে রকমই হতাশ হয়ে গেছে, যেমন হতাশ সেই সব কাফের, যারা কবরে পৌঁছে গেছে’। এ হিসেবে এর ব্যাখ্যা হল, যে সকল কাফের কবরে গিয়ে পৌঁছেছে, তারা স্বচক্ষে দেখে নিয়েছে আখেরাতের সুখণ্ডশান্তিতে তাদের কোন ভাগ নেই। ফলে তারা সে ব্যাপারে সম্পূর্ণরূপে হতাশ হয়ে গেছে, ঠিক তেমনিভাবে এই জীবিত কাফেরগণও আখেরাতের জীবন সম্পর্কে পুরোপুরি হতাশ।
সূরা আল মুম্‌তাহিনাহ্‌ | মুসলিম বাংলা