সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল মুনাফিকূন (الـمنافقون) | কপট বিশ্বাসীগণ

মাদানী

মোট আয়াতঃ ১১

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

اِذَا جَآءَکَ الۡمُنٰفِقُوۡنَ قَالُوۡا نَشۡہَدُ اِنَّکَ لَرَسُوۡلُ اللّٰہِ ۘ  وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ اِنَّکَ لَرَسُوۡلُہٗ ؕ  وَاللّٰہُ یَشۡہَدُ اِنَّ الۡمُنٰفِقِیۡنَ لَکٰذِبُوۡنَ ۚ ١

ইযা-জাআকাল মুনা-ফিকূনা কা-লূনাশহাদুইন্নাকা লারাছূলুল্লা-হ । ওয়াল্লা-হু ইয়া‘লামুইন্নাকা লারাছূলুহূ ওয়াল্লা-হু ইয়াশহাদুইন্নাল মুনা-ফিকীনা লাকা-যিবূন।

যখন মুনাফিকরা তোমার কাছে আসে তখন বলে আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি আপনি আল্লাহর রাসূল। আল্লাহ জানেন আপনি অবশ্যই তাঁর রাসূল এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন মুনাফিকরা মিথ্যাবাদী।

اِتَّخَذُوۡۤا اَیۡمَانَہُمۡ جُنَّۃً فَصَدُّوۡا عَنۡ سَبِیۡلِ اللّٰہِ ؕ اِنَّہُمۡ سَآءَ مَا کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ٢

ইত্তাখাযূ আইমা-নাহুম জুন্নাতান ফাসাদ্দূ‘আন ছাবীলিল্লা-হি ইন্নাহুম ছাআ মা-কা-নূ ইয়া‘মালূন।

তারা তাদের শপথগুলিকে ঢাল বানিয়ে নিয়েছে। অতঃপর তারা অন্যদেরকে আল্লাহর পথ থেকে নিবৃত্ত রাখে। বস্তুত তারা যা করছে তা অতি মন্দ!

তাফসীরঃ

১. ঢাল দ্বারা যেমন তরবারির আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করা হয়, তেমনি তারা নিজেদের রক্ষার জন্য শপথ করে। তারা মনে করে শপথের মাধ্যমে যদি নিজেদের মুমিন বলে বিশ্বাস করানো যায়, তবে দুনিয়ায় কাফেরদেরকে যে শোচনীয় পরিণাম ভোগ করতে হয়, তা থেকে তারা বেঁচে যাবে।

ذٰلِکَ بِاَنَّہُمۡ اٰمَنُوۡا ثُمَّ کَفَرُوۡا فَطُبِعَ عَلٰی قُلُوۡبِہِمۡ فَہُمۡ لَا یَفۡقَہُوۡنَ ٣

যা-লিকা বিআন্নাহুম আ-মানূছুম্মা কাফারূফাতুবি‘আ ‘আলা- কুলূবিহিম ফাহুম লাইয়াফকাহূন।

তা এ কারণে যে, তারা (শুরুতে বাহ্যিকভাবে) ঈমান এনেছে, তারপর আবার কুফর অবলম্বন করেছে। তাই তাদের অন্তরে মোহর করে দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা (সত্য) বোঝেই না।

وَاِذَا رَاَیۡتَہُمۡ تُعۡجِبُکَ اَجۡسَامُہُمۡ ؕ وَاِنۡ یَّقُوۡلُوۡا تَسۡمَعۡ لِقَوۡلِہِمۡ ؕ کَاَنَّہُمۡ خُشُبٌ مُّسَنَّدَۃٌ ؕ یَحۡسَبُوۡنَ کُلَّ صَیۡحَۃٍ عَلَیۡہِمۡ ؕ ہُمُ الۡعَدُوُّ فَاحۡذَرۡہُمۡ ؕ قٰتَلَہُمُ اللّٰہُ ۫ اَنّٰی یُؤۡفَکُوۡنَ ٤

ওয়া ইযা-রাআইতাহুম তু‘জিবুকা আজছা-মুহুম ওয়াইঁয় ইয়াকূলূতাছমা‘ লিকাওলিহিম কাআন্নাহুম খুশুবুমমুছান্নাদাতুইঁ ইয়াহছাবূনা কুল্লা সাইহাতিন ‘আলাইহিম হুমুল ‘আদুওউ ফাহ যারহুম কা-তালাহুমুল্লা-হু আন্না-ইউ’ফাকূন।

তুমি যখন তাদেরকে দেখ, তখন তাদের দেহাকৃতি তোমার কাছে বড় ভালো লাগে এবং তারা যখন কথা বলে তুমি তাদের কথা শুনতে থাক, তারা যেন (কোন কিছুতে) ঠেকনা দেওয়া কাঠ। তারা যে-কোন হাঁক-ডাককে নিজেদের বিরুদ্ধে মনে করে। তারাই (তোমাদের) শত্রু। তাদের ব্যাপারে সাবধান থাক। তাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করুন। তারা বিভ্রান্ত হয়ে কোন দিকে চলছে?

তাফসীরঃ

২. অর্থাৎ তাদের বাহ্যিক গড়ন-পেটন ও বেশভূষা বড়ই আকর্ষণীয়। কথা অত্যন্ত মধুর, শুধু শুনতেই মনে চায়। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তারা মুনাফেকীর কদর্যতায় আচ্ছন্ন। বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায়, আবদুল্লাহ ইবনে উবাই দৈহিক দিক থেকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় পুরুষ ছিল। তার কথাবার্তাও ছিল বেশ অলঙ্কারপূর্ণ। কিন্তু ছিল তো মুনাফেকদের সর্দার।

وَاِذَا قِیۡلَ لَہُمۡ تَعَالَوۡا یَسۡتَغۡفِرۡ لَکُمۡ رَسُوۡلُ اللّٰہِ لَوَّوۡا رُءُوۡسَہُمۡ وَرَاَیۡتَہُمۡ یَصُدُّوۡنَ وَہُمۡ مُّسۡتَکۡبِرُوۡنَ ٥

ওয়াইযা-কীলালাহুম তা‘আ-লাও ইয়াছতাগফিরলাকুমরাছূলুল্লা-হি লাওওয়াও রুঊছাহুম ওয়া রাআইতাহুম ইয়াসুদ্দূনা ওয়া হুম মুছতাকবিরূন।

যখন তাদেরকে বলা হয়, এসো আল্লাহর রাসূল তোমাদের জন্য মাগফিরাতের দুআ করবেন, তখন তারা মাথা মোচড় দেয় এবং তুমি তাদেরকে দেখবে তারা অহংকার বশে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

তাফসীরঃ

৬. لَوَّوْا رُؤُوْسَهُمْ-এর অর্থ মাথা ফিরানোও হতে পারে এবং মাথা নাড়ানোও হতে পারে। হযরত শায়খুল হিন্দ (রহ.) সম্ভবত এ কারণেই এর অর্থ করেছেন মাথা মোচড় দেওয়া। এর দ্বারা এক রকম প্রতারণার ধারণা সৃষ্টি হয় আর এটাই তাদের চরিত্রের সঠিক চিত্রাঙ্কন।

سَوَآءٌ عَلَیۡہِمۡ اَسۡتَغۡفَرۡتَ لَہُمۡ اَمۡ لَمۡ تَسۡتَغۡفِرۡ لَہُمۡ ؕ لَنۡ یَّغۡفِرَ اللّٰہُ لَہُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِی الۡقَوۡمَ الۡفٰسِقِیۡنَ ٦

ছাওয়াউন ‘আলাইহিম আছতাগফারতা লাহুম আম লাম তাছতাগফিরলাহুম লাই ইয়াগফিরাল্লা-হু লাহুম ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াহদিল কাওমাল ফা-ছিকীন।

(হে রাসূল!) তুমি তাদের জন্য মাগফিরাতের দুআ কর বা না কর উভয়ই তাদের জন্য সমান। আল্লাহ কিছুতেই তাদেরকে ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ এমন অবাধ্যদেরকে কিছুতেই হেদায়াতপ্রাপ্ত করেন না।

তাফসীরঃ

৭. অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের মুনাফেকী থেকে তাওবা করে প্রকৃত মুমিন না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদেরকে ক্ষমা করা হবে না।

ہُمُ الَّذِیۡنَ یَقُوۡلُوۡنَ لَا تُنۡفِقُوۡا عَلٰی مَنۡ عِنۡدَ رَسُوۡلِ اللّٰہِ حَتّٰی یَنۡفَضُّوۡا ؕ وَلِلّٰہِ خَزَآئِنُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَلٰکِنَّ الۡمُنٰفِقِیۡنَ لَا یَفۡقَہُوۡنَ ٧

হুমুল্লাযীনা ইয়াকূলূনা লা-তুনফিকূ‘আলা-মান ‘ইনদা রাছূলিল্লা-হি হাত্তা-ইয়ানফাদ্দূ ওয়া লিল্লা-হি খাঝাইনুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়ালা-কিন্নাল মুনা-ফিকীনা লাইয়াফকাহূন।

তারাই বলে, যারা রাসূলুল্লাহর কাছে আছে, তাদের জন্য ব্যয় করো না, যতক্ষণ না তারা নিজেরাই সরে পড়ে, অথচ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর ধন-ভাণ্ডার তো আল্লাহরই। কিন্তু মুনাফিকরা বোঝে না।

তাফসীরঃ

৮. সূরার পরিচিতিতে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর যে ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, এটা তারই অংশ। তখন আবদুল্লাহ ইবনে উবাই তার সঙ্গীদেরকে বলেছিল, মুসলিমদের পেছনে অর্থ ব্যয় বন্ধ করে দাও। তাহলে দেখবে কিছুদিন পর তাঁর (অর্থাৎ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) সাহাবীগণ তাকে ছেড়ে চলে যাবে (নাউযুবিল্লাহ)।

یَقُوۡلُوۡنَ لَئِنۡ رَّجَعۡنَاۤ اِلَی الۡمَدِیۡنَۃِ لَیُخۡرِجَنَّ الۡاَعَزُّ مِنۡہَا الۡاَذَلَّ ؕ  وَلِلّٰہِ الۡعِزَّۃُ وَلِرَسُوۡلِہٖ وَلِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَلٰکِنَّ الۡمُنٰفِقِیۡنَ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٪ ٨

ইয়াকূলূনা লাইর রাজা‘নাইলাল মাদীনাতি লাইউখরিজান্নাল আ‘আঝঝুমিনহাল আযাল্লা ওয়া লিল্লা-হিল ‘ইঝঝাতুওয়া লিরাছূলিহী ওয়া লিলমু’মিনীনা ওয়ালা-কিন্নাল মুনা-ফিকীনা লা-ইয়া‘লামূন।

তারা বলে, আমরা মদীনায় ফিরে গেলে, যারা মর্যাদাবান তারা হীনদেরকে সেখান থেকে বের করে দেবে। অথচ মর্যাদা তো কেবল আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের এবং মুমিনদেরই আছে। কিন্তু মুনাফিকরা জানে না।

তাফসীরঃ

৯. এটাই সে কথা যা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই অবশ্যই বলেছিল, কিন্তু জিজ্ঞেস করা হলে সাফ অস্বীকার করে দিয়েছিল, যেমন সূরার পরিচিতিতে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تُلۡہِکُمۡ اَمۡوَالُکُمۡ وَلَاۤ اَوۡلَادُکُمۡ عَنۡ ذِکۡرِ اللّٰہِ ۚ وَمَنۡ یَّفۡعَلۡ ذٰلِکَ فَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ ٩

ইয়া আইয়ুহাল্লাযীনা আ-মানূলা-তুলহিকুম আমওয়া-লুকুম ওয়ালাআওলা-দুকুম ‘আন যিকরিল্লা-হি ওয়া মাইঁ ইয়াফ‘আল যা-লিকা ফাউলাইকা হুমুল খা-ছিরূন।

হে মুমিনগণ! তোমাদের অর্থ-সম্পদ ও তোমাদের সন্তান-সন্ততি যেন তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে গাফেল করতে না পারে। যারা এ রকম করবে (অর্থাৎ গাফেল হবে) তারাই (ব্যবসায়) ক্ষতিগ্রস্ত।
১০

وَاَنۡفِقُوۡا مِنۡ مَّا رَزَقۡنٰکُمۡ مِّنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّاۡتِیَ اَحَدَکُمُ الۡمَوۡتُ فَیَقُوۡلَ رَبِّ لَوۡلَاۤ اَخَّرۡتَنِیۡۤ اِلٰۤی اَجَلٍ قَرِیۡبٍ ۙ فَاَصَّدَّقَ وَاَکُنۡ مِّنَ الصّٰلِحِیۡنَ ١۰

ওয়া আনফিকূমিম্মা-রাঝাকনা-কুম মিন কাবলি আইঁ ইয়া’তিয়া আহাদাকুমুল মাওতু ফাইয়াকূলা রাব্বি লাওলা আখখারতানী ইলা আজালিন কারীবিন ফাআসসাদ্দাকা ওয়া আকুম মিনাসসা-লিহীন।

আমি তোমাদেরকে যে রিযক দিয়েছি তা থেকে (আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী) ব্যয় কর, এর আগে যে, তোমাদের কারও মৃত্যু এসে যাবে আর তখন বলবে, হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে কিছু কালের জন্য সুযোগ দিলে না কেন, তাহলে আমি দান-সদকা করতাম এবং নেক লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম।
১১

وَلَنۡ یُّؤَخِّرَ اللّٰہُ نَفۡسًا اِذَا جَآءَ اَجَلُہَا ؕ  وَاللّٰہُ خَبِیۡرٌۢ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ ٪ ١١

ওয়া লাইঁ ইউআখখিরাল্লা-হু নাফছান ইযা-জাআ আজালুহা- ওয়াল্লা-হু খাবীরুম বিমা-তা‘মালূন।

যখন কারও নির্ধারিত কাল এসে যাবে তখন আল্লাহ তাকে কিছুতেই অবকাশ দিবেন না। আর তোমরা যা-কিছু কর, আল্লাহ সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবহিত।