মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৩৬৭ টি
হাদীস নং: ১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ খাতামুন নাবিয়্যীন হযরত মুহাম্মাদ (ﷺ) এর আনীত দ্বীন ও শরী‘আত বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই যে, এতে মানব জীবনের প্রতিটি শাখার ব্যাপারেই সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মা‘আরিফুল হাদীস সিরিজের পূর্ববর্তী পাঁচটি খণ্ডে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যেসব হাদীস ও বাণী পেশ করা হয়েছে, এগুলোর সম্পর্ক হয়ত আকীদা-বিশ্বাসের সাথে ছিল অথবা নৈতিকতা, প্রেরণা এবং অন্তর ও আত্মার বিভিন্ন অবস্থার সাথে অথবা তাহারাত, (তথা পাক পবিত্রতা) নামায, রোযা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদি ইবাদত এবং যিকর ও দু‘আর সাথে ছিল। এবার ঐসব হাদীসের আলোচনা শুরু করা হচ্ছে, যেগুলোর সম্পর্ক সামাজিক অধিকার ও শিষ্টাচার এবং আর্থিক আদান-প্রদানের সাথে। এগুলোর দ্বারা জানা যাবে যে, আমরা আমাদের সগোত্রীয়, বন্ধু-বান্ধব, ছোট, বড়, আপন-পর জীবন চলার পথে যাদের সাথে আমাদের পরিচয়, সহাবস্থান, লেন-দেন ইত্যাদি হয়, তাদের সাথে কি আচরণ করব এবং একজনের উপর অন্য জনের কি হক ও দাবী রয়েছে। অনুরূপভাবে লেন-দেন ক্রয়-বিক্রয়, কর্জ ও আমানত, ব্যবসা ও কৃষিকাজ, শ্রম ও হস্তশিল্প, শিল্প প্রতিষ্ঠা ও ইজারা এবং এ ধরনের অন্যান্য আর্থিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে আল্লাহ ও রাসূলের কি বিধান রয়েছে এবং এগুলোর কোন পদ্ধতিটি বৈধ আর কোটি অবৈধ।
সামাজিক আচরণ ও পারস্পরিক আদান-প্রদানের বিশেষ গুরুত্ব
এ দু'টি অধ্যায় (অর্থাৎ, আচরণ ও লেন-দেন) এ দৃষ্টিকোণ থেকে শরী‘আত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যে, এগুলোর মধ্যে আল্লাহ প্রদত্ত দিকনির্দেশনা ও প্রবৃত্তির কামনা এবং শরী‘আত বিধান ও পার্থিব স্বার্থ ও লাভের দ্বন্দ্ব ইবাদত ইত্যাদি অন্যান্য সকল অধ্যায়ের চেয়ে বেশী হয়ে থাকে। এজন্য আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্য এবং তাঁর রাসূল ও শরী‘আত অনুসরণের যেমন পরীক্ষা এসব ময়দানে হয়ে থাকে, অন্য কোন ময়দান ও ক্ষেত্রে এমনটি হয় না। আর এটাই ঐ জিনিস, যার কারণে ফিরিশতাদের উপর মানবজাতির এক ধরনের মর্যাদা অর্জিত হয়েছে। অন্যথায় একথা স্পষ্ট যে, ঈমান-ইয়াকীন ও সার্বক্ষণিক যিকর ও ইবাদত এবং আত্মার কমনীয়তা ও পবিত্রতায় মানুষ ফিরিশতাদের সমকক্ষও হতে পারে না।
সামাজিক আচার-আচরণ সম্পর্কীয় বিধান ও দিকনির্দেশনা
এই ভূমিকার পর আমরা প্রথমে সামাজিক আচরণ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ পেশ করছি। বিয়ে-শাদী, তালাক, ইদ্দত, ভরণ-পোষণ ইত্যাদির সাথে সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সামাজিক আচরণের বিধান ও দিকনির্দেশনার ধারা সন্তান জন্ম গ্রহণ থেকেই শুরু হয়ে যায়। এ জন্য আমরা ঐসব হাদীস দ্বারাই এ প্রসঙ্গের সূচনা করছি, যেগুলোর মধ্যে সন্তান জন্ম গ্রহণ সম্পর্কেই দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বলে দেওয়া হয়েছে যে, নবজাতকের ব্যাপারে পিতামাতার কি কি দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
পিতামাতার প্রাথমিক দায়িত্বসমূহ: নবজাতকের কানে আযান
সামাজিক আচরণ ও পারস্পরিক আদান-প্রদানের বিশেষ গুরুত্ব
এ দু'টি অধ্যায় (অর্থাৎ, আচরণ ও লেন-দেন) এ দৃষ্টিকোণ থেকে শরী‘আত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যে, এগুলোর মধ্যে আল্লাহ প্রদত্ত দিকনির্দেশনা ও প্রবৃত্তির কামনা এবং শরী‘আত বিধান ও পার্থিব স্বার্থ ও লাভের দ্বন্দ্ব ইবাদত ইত্যাদি অন্যান্য সকল অধ্যায়ের চেয়ে বেশী হয়ে থাকে। এজন্য আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্য এবং তাঁর রাসূল ও শরী‘আত অনুসরণের যেমন পরীক্ষা এসব ময়দানে হয়ে থাকে, অন্য কোন ময়দান ও ক্ষেত্রে এমনটি হয় না। আর এটাই ঐ জিনিস, যার কারণে ফিরিশতাদের উপর মানবজাতির এক ধরনের মর্যাদা অর্জিত হয়েছে। অন্যথায় একথা স্পষ্ট যে, ঈমান-ইয়াকীন ও সার্বক্ষণিক যিকর ও ইবাদত এবং আত্মার কমনীয়তা ও পবিত্রতায় মানুষ ফিরিশতাদের সমকক্ষও হতে পারে না।
সামাজিক আচার-আচরণ সম্পর্কীয় বিধান ও দিকনির্দেশনা
এই ভূমিকার পর আমরা প্রথমে সামাজিক আচরণ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ পেশ করছি। বিয়ে-শাদী, তালাক, ইদ্দত, ভরণ-পোষণ ইত্যাদির সাথে সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সামাজিক আচরণের বিধান ও দিকনির্দেশনার ধারা সন্তান জন্ম গ্রহণ থেকেই শুরু হয়ে যায়। এ জন্য আমরা ঐসব হাদীস দ্বারাই এ প্রসঙ্গের সূচনা করছি, যেগুলোর মধ্যে সন্তান জন্ম গ্রহণ সম্পর্কেই দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বলে দেওয়া হয়েছে যে, নবজাতকের ব্যাপারে পিতামাতার কি কি দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।
পিতামাতার প্রাথমিক দায়িত্বসমূহ: নবজাতকের কানে আযান
১. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আযাদকৃত গোলাম হযরত আবু রাফি রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে (স্বীয় নাতি) হযরত হাসান ইবনে আলীর কানে নামাযের আযানের মত আযান দিতে দেখেছি- যখন (তাঁর কন্যা) ফাতিমা তাকে প্রসব করলেন। -তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَذَّنَ فِي أُذُنِ الحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ حِينَ وَلَدَتْهُ فَاطِمَةُ بِالصَّلاَةِ. (رواه الترمذى وابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাহনীক ও বরকতের দু‘আ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পরিচয় ও সাহচর্যের ফলে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে তাঁর সাথে ভক্তির যে সম্পর্ক ছিল, এর বহিঃপ্রকাশ এটাও ছিল যে, নবজাতক সন্তানদেরকে তাঁর খেদমতে নিয়ে আসা হত, যাতে তিনি তাদের জন্য মঙ্গল ও বরকতের দু‘আ করেন, খেজুর অথবা এ জাতীয় কোন জিনিস চিবিয়ে বাচ্চার তালুতে লাগিয়ে দেন এবং নিজের মুখের লালা তার মুখে লাগিয়ে দেন- যা শিশুর মঙ্গল ও বরকতের কারণ হবে। এ কাজটিকেই 'তাহনীক' বলা হয়।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পরিচয় ও সাহচর্যের ফলে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে তাঁর সাথে ভক্তির যে সম্পর্ক ছিল, এর বহিঃপ্রকাশ এটাও ছিল যে, নবজাতক সন্তানদেরকে তাঁর খেদমতে নিয়ে আসা হত, যাতে তিনি তাদের জন্য মঙ্গল ও বরকতের দু‘আ করেন, খেজুর অথবা এ জাতীয় কোন জিনিস চিবিয়ে বাচ্চার তালুতে লাগিয়ে দেন এবং নিজের মুখের লালা তার মুখে লাগিয়ে দেন- যা শিশুর মঙ্গল ও বরকতের কারণ হবে। এ কাজটিকেই 'তাহনীক' বলা হয়।
২. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে শিশুদেরকে নিয়ে আসা হত। তিনি তাদের জন্য বরকতের দু‘আ করতেন এবং তাহনীক করতেন। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ: «أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُؤْتَى بِالصِّبْيَانِ فَيُبَرِّكُ عَلَيْهِمْ وَيُحَنِّكُهُمْ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তাহনীক ও বরকতের দু‘আ
৩. হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরকে মক্কায় গর্ভে ধারণ করেন। তারপর হিজরত করে যখন মদীনায় আসলাম, তখন কুবায় আমি তাকে প্রসব করি। আমি তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে আসলাম এবং তাকে তাঁর কোলে দিলাম। তিনি একটি খেজুর আনতে বললেন এবং এটা চিবিয়ে নিজের মুখের লালা এর মধ্যে লাগিয়ে দিলেন এবং শিশুর তালুতে রেখে দিলেন। তারপর তার জন্য বরকত ও মঙ্গলের দু‘আ করলেন। আর এ ছিল ইসলামে ভূমিষ্ঠ প্রথম সন্তান (যে হিজরতের পর একটি মুহাজির পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিল।) -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّهَا حَمَلَتْ بِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ بِمَكَّةَ، قَالَتْ: فَوَلَدْتُ بِقُبَاءٍ، ثُمَّ «أَتَيْتُ بِهِ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَضَعْتُهُ فِي حَجْرِهِ، ثُمَّ دَعَا بِتَمْرَةٍ فَمَضَغَهَا، ثُمَّ تَفَلَ فِي فِيهِ، ثُمَّ حَنَّكَهُ بِالتَّمْرَةِ، ثُمَّ دَعَا لَهُ فَبَرَّكَ عَلَيْهِ» وَكَانَ أَوَّلَ مَوْلُودٍ وُلِدَ فِي الإِسْلاَمِ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আকীকা
পৃথিবীর প্রতিটি সম্প্রদায় ও ধর্মানুসারীদের মধ্যে একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায় যে, কোন সন্তানের জন্ম গ্রহণকে আল্লাহর একটি নেয়ামত ও আনন্দের বিষয় মনে করা হয় এবং কোন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আনন্দের প্রকাশও ঘটানো হয়। এটা মানব স্বভাবের একটা চাহিদা ও দাবীও বটে। আর এর মধ্যে একটি বিরাট কল্যাণ এই রয়েছে যে, এর দ্বারা খুবই সূক্ষ্ম ও সুন্দরভাবে একথা প্রকাশ পেয়ে যায় যে, পিতা এই সন্তানকে নিজেরই সন্তান মনে করে এবং এ ব্যাপারে তার কোন সংশয়-সন্দেহ নেই। এর দ্বারা অনেক ফিতনার দরজা বন্ধ হয়ে যায়। আরবদের মধ্যে এর জন্য জাহেলী যুগেও আকীকার প্রচলন ছিল। তাদের রীতি এই ছিল যে, জন্মের কয়েক দিন পর নবজাতকের মাথার ঐ চুল, যা মাতৃগর্ভ থেকে নিয়ে সে জন্মগ্রহণ করেছে, এটা পরিষ্কার করে ফেলা হত, আর ঐ দিন আনন্দ প্রকাশের জন্য কোন পশু কুরবানী করা হত। (যা ইবরাহীমী আদর্শের একটি নিদর্শন।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নীতিগতভাবে এটাকে বাকী রেখে; বরং এর প্রতি উৎসাহ দিতে গিয়ে এ ব্যাপারে উপযোগী দিকনির্দেশনা দান করেন এবং নিজে আকীকা করে এর বাস্তব নমুনাও প্রদর্শন করেন।
পৃথিবীর প্রতিটি সম্প্রদায় ও ধর্মানুসারীদের মধ্যে একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায় যে, কোন সন্তানের জন্ম গ্রহণকে আল্লাহর একটি নেয়ামত ও আনন্দের বিষয় মনে করা হয় এবং কোন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আনন্দের প্রকাশও ঘটানো হয়। এটা মানব স্বভাবের একটা চাহিদা ও দাবীও বটে। আর এর মধ্যে একটি বিরাট কল্যাণ এই রয়েছে যে, এর দ্বারা খুবই সূক্ষ্ম ও সুন্দরভাবে একথা প্রকাশ পেয়ে যায় যে, পিতা এই সন্তানকে নিজেরই সন্তান মনে করে এবং এ ব্যাপারে তার কোন সংশয়-সন্দেহ নেই। এর দ্বারা অনেক ফিতনার দরজা বন্ধ হয়ে যায়। আরবদের মধ্যে এর জন্য জাহেলী যুগেও আকীকার প্রচলন ছিল। তাদের রীতি এই ছিল যে, জন্মের কয়েক দিন পর নবজাতকের মাথার ঐ চুল, যা মাতৃগর্ভ থেকে নিয়ে সে জন্মগ্রহণ করেছে, এটা পরিষ্কার করে ফেলা হত, আর ঐ দিন আনন্দ প্রকাশের জন্য কোন পশু কুরবানী করা হত। (যা ইবরাহীমী আদর্শের একটি নিদর্শন।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নীতিগতভাবে এটাকে বাকী রেখে; বরং এর প্রতি উৎসাহ দিতে গিয়ে এ ব্যাপারে উপযোগী দিকনির্দেশনা দান করেন এবং নিজে আকীকা করে এর বাস্তব নমুনাও প্রদর্শন করেন।
৪. হযরত বুরায়দা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহেলী যুগে যখন আমাদের কারো পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহণ করত, তখন সে একটি ছাগল যবেহ করত এবং এর রক্ত সন্তানের মাথায় মাখিয়ে দিত। তারপর যখন ইসলাম আসল, তখন থেকে আমরা (হুযুর (ﷺ)-এর শিক্ষা ও নির্দেশ মুতাবেক) সপ্তম দিনে ছাগল দ্বারা আকীকা করি এবং সন্তানের মাথা মুড়িয়ে এতে জাফরান মাখিয়ে দেই। -আবু দাউদ
এ হাদীসেরই রযীনের রেওয়ায়তে এ সংযোজনও রয়েছে যে, সপ্তম দিবসে আকীকার সাথে আমরা সন্তানের নামও রাখি।
এ হাদীসেরই রযীনের রেওয়ায়তে এ সংযোজনও রয়েছে যে, সপ্তম দিবসে আকীকার সাথে আমরা সন্তানের নামও রাখি।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي بُرَيْدَةَ قَالَ: كُنَّا فِي الْجَاهِلِيَّةِ إِذَا وُلِدَ لِأَحَدِنَا غُلَامٌ ذَبَحَ شَاةً وَلَطَخَ رَأْسَهُ بِدَمِهَا، فَلَمَّا جَاءَ اللَّهُ بِالْإِسْلَامِ كُنَّا «نَذْبَحُ شَاةً، وَنَحْلِقُ رَأْسَهُ وَنُلَطِّخُهُ بِزَعْفَرَانٍ» (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আকীকা
৫. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহেলী যুগে মানুষের রীতি এই ছিল যে, যখন তারা সন্তানের আকীকা করত, তখন আকীকার পশুর রক্ত দ্বারা এক টুকরা তুলা রঞ্জিত করত। তারপর যখন সন্তানের মাথা মুণ্ডন করত, তখন এ রক্তমাখা তুলা তার মাথায় রেখে দিত। (এভাবে তারা আকীকার রক্ত দ্বারা তার মাথা রঞ্জিত করে দিত, যা একটি জাহেলী প্রথা ছিল।) এ প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, রক্তের স্থলে তোমরা 'খালুক' লাগাও। -ইবনে হিব্বান
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانُوا فِي الْجَاهِلِيَّةِ إِذَا عَقُّوا عَنِ الصَّبِيِّ خَضَبُوا قُطْنَةً بِدَمِ العقيقة, فإذا حلقوا رأس الصي, وَضَعُوهَا عَلَى رَأْسَهُ, فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "اجعلوا مكان الدم خلوقا" (رواه ابن حبان فى صحيحه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আকীকা
৬. হযরত উম্মে কুরয রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি, পুত্র সন্তানের পক্ষ থেকে দু'টি ছাগল, আর কন্যা সন্তানের পক্ষ থেকে একটি ছাগল আকীকা করা হবে। আর আকীকার পশু নর অথবা মাদী হওয়ায় তোমাদের কোন ক্ষতি নাই। -তিরমিযী, নাসায়ী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أُمَّ كُرْزٍ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: عَنِ الغُلاَمِ شَاتَانِ، وَعَنِ الجَارِيَةِ شَاةٌ، وَلاَ يَضُرُّكُمْ ذُكْرَانًا كُنَّ أَوْ إِنَاثًا. (رواه الترمذى والنسائى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আকীকা
৭. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যার কোন সন্তান জন্ম গ্রহণ করে, আর সে তার পক্ষ থেকে আকীকার পশু যবেহ করতে চায়, সে যেন পুত্র সন্তানের পক্ষ থেকে দু'টি ছাগল, আর কন্যা সন্তানের পক্ষ থেকে একটি ছাগল যবেহ করে। আবূ দাউদ, নাসায়ী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: «مَنْ وُلِدَ لَهُ وَلَدٌ، فَأَحَبَّ أَنْ يَنْسُكَ عَنْهُ، عَنِ الْغُلَامِ شَاتَيْنِ ، فَلْيَنْسُكْ وَعَنِ الْجَارِيَةِ شَاةٌ» (رواه ابوداؤد والنسائى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আকীকা
৮. হযরত হাসান বসরী সূত্রে হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: প্রতিটি সন্তান তার আকীকার পশুর বিনিময়ে বন্ধক থাকে, যা তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিবসে যহেব করা হয় এবং তার মাথাও মুণ্ডন করা হয়, আর নামও রাখা হয়। -আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «كُلُّ غُلَامٍ رَهِينَةٌ بِعَقِيقَتِهِ تُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ سَابِعِهِ وَيُحْلَقُ وَيُسَمَّى» (رواه ابوداؤد والترمذى والنسائى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আকীকা
৯. হযরত সালমান ইবনে আমের যব্বী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি: সন্তানের সাথে আকীকা থাকে। (অর্থাৎ, আল্লাহ্ তা'আলা যাকে সন্তান দান করেন, সে যেন আকীকা করে।) অতএব, সন্তানের পক্ষ থেকে তোমরা পশু যবেহ কর এবং তার মাথার চুল পরিষ্কার করে দাও। -বুখারী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ سَلْمَانُ بْنُ عَامِرٍ الضَّبِّيُّ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَعَ الغُلاَمِ عَقِيقَةٌ، فَأَهْرِيقُوا عَنْهُ دَمًا، وَأَمِيطُوا عَنْهُ الأَذَى» (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আকীকা
১০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (স্বীয় নাতিদ্বয়) হযরত হাসান ও হুসাইনের আকীকার একটি একটি ভেড়া যবেহ করেছিলেন। -আবূ দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَقَّ عَنِ الْحَسَنِ، وَالْحُسَيْنِ كَبْشًا كَبْشًا» (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আকীকা
১১. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত হাসানের আকীকায় একটি ছাগল যবেহ করলেন এবং বললেন, হে ফাতিমা! তুমি এর মাথা মুড়িয়ে দাও এবং চুলের ওজন পরিমাণ রূপা সদাকা করে দাও। আমরা চুল ওজন করে দেখলাম যে, এটা এক দেরহাম পরিমাণ অথবা এর চেয়েও কিছু কম ছিল। -তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ: عَقَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الحَسَنِ بِشَاةٍ، وَقَالَ: يَا فَاطِمَةُ، احْلِقِي رَأْسَهُ، وَتَصَدَّقِي بِزِنَةِ شَعْرِهِ فِضَّةً، قَالَ: فَوَزَنَتْهُ فَكَانَ وَزْنُهُ دِرْهَمًا أَوْ بَعْضَ دِرْهَمٍ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সন্তানের নাম রাখা
সন্তানের ভালো নাম রাখাও তার একটি অধিকার। হাদীসে এ ব্যাপারেও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা এসেছে।
সন্তানের ভালো নাম রাখাও তার একটি অধিকার। হাদীসে এ ব্যাপারেও স্পষ্ট দিকনির্দেশনা এসেছে।
১২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: পিতার উপর সন্তানের একটি হক এইও রয়েছে যে, সে তার সুন্দর নাম রাখবে এবং উত্তম শিষ্টাচার শিক্ষা দিবে। বায়হাকী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " حَقُّ الْوَلَدِ عَلَى وَالِدِهِ أَنْ يُحْسِنَ اسْمَهُ، وَيُحْسِنَ أَدَبَهُ " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সন্তানের নাম রাখা
১৩. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মানুষ তার সন্তানকে সর্বপ্রথম যে উপহার দেয়, সেটা হচ্ছে তার নাম। অতএব, সে যেন তাকে সুন্দর নাম উপহার দেয়। -আবুশ শায়খ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عن أبي هريرة قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أول ما ينحل الرجل ولده اسمه فليحسن أسمه. (رواه أبو الشيخ)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সন্তানের নাম রাখা
১৪. হযরত আবুদ্দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে তোমাদের নাম ও তোমাদের পিতাদের নাম ধরে ডাকা হবে। (অর্থাৎ, বলা হবে অমুকের পুত্র অমুক।) অতএব, তোমরা সুন্দর নাম রাখ। -আহমাদ, আবু দাউদ
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «تُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَسْمَائِكُمْ وَأَسْمَاءِ آبَائِكُمْ، فَأَحْسِنُوا أَسْمَاءَكُمْ» (رواه احمد وابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সন্তানের নাম রাখা
১৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের নামগুলোর মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় নাম হচ্ছে আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান। -মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَحَبَّ أَسْمَائِكُمْ إِلَى اللهِ عَبْدُ اللهِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ» (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ে, দাম্পত্য জীবন এবং এতদস্পর্কিত হাদীস
বিয়ে শাদীর রীতি
রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নবুওয়ত প্রাপ্তির পূর্বে জাহিলী যুগে আরবদের মধ্যে নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সন্তান সম্বন্ধে কতক প্রথা ও রীতি চালু ছিল। সেগুলোর মধ্যে কোন কোনটি খুবই অপবিত্র ও লজ্জাকর ছিল। একটি প্রথা সঠিক ও ভদ্রজনোচিত ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে প্রথাটি সংশোধন করে সেটিকেই বহাল রাখেন। আর অন্যান্য সব প্রথা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে সেগুলোকে শক্ত গুনাহ ও অন্যায় বলে সাব্যস্ত করেন।
তিনি স্বীয় বর্ণনা ও কার্যপ্রণালী দ্বারা বিয়ের যে সাধারণ নিয়মনীতি নির্ধারণ করেছেন তা হল- পাত্রের পক্ষ থেকে পাত্রীর অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষকদের নিকট প্রস্তাব পাঠিয়ে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হবে। যদি তিনি সম্পর্ক স্থাপনকে সুবিবেচনা ও উত্তম মনে করেন তবে, কনে প্রাপ্ত বয়স্কা হওয়ার প্রেক্ষিতে তার ইচ্ছা অবগত হয়ে আর অপ্রাপ্ত বয়স্কা হওয়ার প্রেক্ষিতে অভিভাবক স্বীয় অপকট কল্যাণকামিতা অনুযায়ী সম্মতি প্রদানপূর্বক বিয়ে সম্পন্ন করবেন। আর বাহাত এ পন্থাই মৌল স্বভাব ও জ্ঞান-বুদ্ধির সম্পূর্ণ অনুকূল।
যেহেতু বিয়ের মূল দায়িত্ব বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ নারীর উপর বর্তাবে এবং এটাই হবে চিরজীবনের জন্য তার বন্ধন, এজন্য পাত্রীর মতামত গ্রহণ আবশ্যক বলে স্থির করা হয়েছে। আর তার নিজের প্রকৃত কর্তা তাকেই সাব্যস্ত করা হয়েছে। অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষকদের অধিকার নেই যে, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কারো সাথে তাকে বিয়ে দেয়। সাথে সাথে নারীর নারীত্ব মর্যাদার প্রেক্ষিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, বিষয়টি অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষকদের মাধ্যমে মীমাংসিত হবে। আর তারাই বিয়ে সম্পন্নকারী। একথা নারীর মর্যাদার পরিপন্থী যে, কারো স্ত্রী হওয়ার বিষয়ে সে নিজেই স্বয়ং সিদ্ধান্ত নেবে এবং নিজে উপস্থিত হয়ে নিজেকে কারো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করবে। এছাড়া যেহেতু কোন মেয়ের বিয়ের কতক প্রভাব তার বংশের ওপর বর্তায়, এজন্যও অভিভাবকগণ (গোত্রীয় মুরুব্বীগণ)-কে কতক ক্ষমতা দান করা হয়েছে। এটাও বাস্তব যে, সব বিষয় যদি পাত্রীর হাতে ছেড়ে দেওয়া হয় আর অভিভাবকবৃন্দ সম্পর্কহীন হয়ে পড়েন তবে এ কথার প্রবল আশংকা রয়েছে যে, মহিলাটি প্রতারিত হবে এবং কারো ফাঁদে পড়ে স্বয়ং নিজের ব্যাপারে ভুল সিদ্ধান্ত নেবে। এসব কারণের ভিত্তিতে আবশ্যক নির্ধারণ করা হয়েছে যে, (বিশেষ ব্যতিক্রমী অবস্থা ছাড়া) বিয়ে অভিভাবকগণের মাধ্যমেই অনুষ্ঠিত হবে।
বিয়ের ধারাবাহিকতায় এটাও পথনির্দেশ করা হয়েছে যে, বিয়ে করতে ইচ্ছুক এমন নারীর সাথে পূর্ব থেকেই যদি দেখা-সাক্ষাত না থেকে থাকে তবে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবার পূর্বে সম্ভব হলে এক নজর তাকে দেখে নেবে, যেন পরে কোন প্রকার কলহ সৃষ্টি না হয়। নির্ভরযোগ্য নারীদের দেখা দ্বারাই এক পর্যায়ে এ উদ্দেশ্য পূর্ণ হতে পারে।
এ নির্দেশও দেওয়া হয়েছে যে, যদি কোন নারীকে বিয়ের জন্য অন্য কোন পুরুষের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, তবে তার পক্ষ থেকে প্রস্তাব প্রত্যাহার না করা এবং আলোচনা ভেঙ্গে না দেওয়া পর্যন্ত সে নারীর জন্য প্রস্তাব দেওয়া হবে না। এর রহস্য সুস্পষ্ট।
বিয়ের ব্যাপারে এটাও জরুরী নির্ধারণ করা হয়েছে যে, তা গোপনে সম্পন্ন না হয়ে কতক লোকের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে সমাধান হবে। এটা হবে বিয়ের উপস্থিত সাক্ষী। বস্তুত বিবাহ মসজিদে সম্পন্ন করাই উত্তম বলা হয়েছে। এভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানে খুতবা পাঠ করা সুন্নাত। স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে মহর প্রদানও আবশ্যক সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এসব বিষয় ও বিয়ে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহ নিম্নে পাঠ করুন।
নারী-পুরুষের সম্পর্ক এবং এ থেকে জন্মানো সন্তান সম্পর্কে জাহিলী যুগের প্রথা ও রীতি
বিয়ে শাদীর রীতি
রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নবুওয়ত প্রাপ্তির পূর্বে জাহিলী যুগে আরবদের মধ্যে নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সন্তান সম্বন্ধে কতক প্রথা ও রীতি চালু ছিল। সেগুলোর মধ্যে কোন কোনটি খুবই অপবিত্র ও লজ্জাকর ছিল। একটি প্রথা সঠিক ও ভদ্রজনোচিত ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে প্রথাটি সংশোধন করে সেটিকেই বহাল রাখেন। আর অন্যান্য সব প্রথা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে সেগুলোকে শক্ত গুনাহ ও অন্যায় বলে সাব্যস্ত করেন।
তিনি স্বীয় বর্ণনা ও কার্যপ্রণালী দ্বারা বিয়ের যে সাধারণ নিয়মনীতি নির্ধারণ করেছেন তা হল- পাত্রের পক্ষ থেকে পাত্রীর অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষকদের নিকট প্রস্তাব পাঠিয়ে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হবে। যদি তিনি সম্পর্ক স্থাপনকে সুবিবেচনা ও উত্তম মনে করেন তবে, কনে প্রাপ্ত বয়স্কা হওয়ার প্রেক্ষিতে তার ইচ্ছা অবগত হয়ে আর অপ্রাপ্ত বয়স্কা হওয়ার প্রেক্ষিতে অভিভাবক স্বীয় অপকট কল্যাণকামিতা অনুযায়ী সম্মতি প্রদানপূর্বক বিয়ে সম্পন্ন করবেন। আর বাহাত এ পন্থাই মৌল স্বভাব ও জ্ঞান-বুদ্ধির সম্পূর্ণ অনুকূল।
যেহেতু বিয়ের মূল দায়িত্ব বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ নারীর উপর বর্তাবে এবং এটাই হবে চিরজীবনের জন্য তার বন্ধন, এজন্য পাত্রীর মতামত গ্রহণ আবশ্যক বলে স্থির করা হয়েছে। আর তার নিজের প্রকৃত কর্তা তাকেই সাব্যস্ত করা হয়েছে। অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষকদের অধিকার নেই যে, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কারো সাথে তাকে বিয়ে দেয়। সাথে সাথে নারীর নারীত্ব মর্যাদার প্রেক্ষিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, বিষয়টি অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষকদের মাধ্যমে মীমাংসিত হবে। আর তারাই বিয়ে সম্পন্নকারী। একথা নারীর মর্যাদার পরিপন্থী যে, কারো স্ত্রী হওয়ার বিষয়ে সে নিজেই স্বয়ং সিদ্ধান্ত নেবে এবং নিজে উপস্থিত হয়ে নিজেকে কারো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করবে। এছাড়া যেহেতু কোন মেয়ের বিয়ের কতক প্রভাব তার বংশের ওপর বর্তায়, এজন্যও অভিভাবকগণ (গোত্রীয় মুরুব্বীগণ)-কে কতক ক্ষমতা দান করা হয়েছে। এটাও বাস্তব যে, সব বিষয় যদি পাত্রীর হাতে ছেড়ে দেওয়া হয় আর অভিভাবকবৃন্দ সম্পর্কহীন হয়ে পড়েন তবে এ কথার প্রবল আশংকা রয়েছে যে, মহিলাটি প্রতারিত হবে এবং কারো ফাঁদে পড়ে স্বয়ং নিজের ব্যাপারে ভুল সিদ্ধান্ত নেবে। এসব কারণের ভিত্তিতে আবশ্যক নির্ধারণ করা হয়েছে যে, (বিশেষ ব্যতিক্রমী অবস্থা ছাড়া) বিয়ে অভিভাবকগণের মাধ্যমেই অনুষ্ঠিত হবে।
বিয়ের ধারাবাহিকতায় এটাও পথনির্দেশ করা হয়েছে যে, বিয়ে করতে ইচ্ছুক এমন নারীর সাথে পূর্ব থেকেই যদি দেখা-সাক্ষাত না থেকে থাকে তবে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবার পূর্বে সম্ভব হলে এক নজর তাকে দেখে নেবে, যেন পরে কোন প্রকার কলহ সৃষ্টি না হয়। নির্ভরযোগ্য নারীদের দেখা দ্বারাই এক পর্যায়ে এ উদ্দেশ্য পূর্ণ হতে পারে।
এ নির্দেশও দেওয়া হয়েছে যে, যদি কোন নারীকে বিয়ের জন্য অন্য কোন পুরুষের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, তবে তার পক্ষ থেকে প্রস্তাব প্রত্যাহার না করা এবং আলোচনা ভেঙ্গে না দেওয়া পর্যন্ত সে নারীর জন্য প্রস্তাব দেওয়া হবে না। এর রহস্য সুস্পষ্ট।
বিয়ের ব্যাপারে এটাও জরুরী নির্ধারণ করা হয়েছে যে, তা গোপনে সম্পন্ন না হয়ে কতক লোকের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে সমাধান হবে। এটা হবে বিয়ের উপস্থিত সাক্ষী। বস্তুত বিবাহ মসজিদে সম্পন্ন করাই উত্তম বলা হয়েছে। এভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানে খুতবা পাঠ করা সুন্নাত। স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে মহর প্রদানও আবশ্যক সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এসব বিষয় ও বিয়ে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহ নিম্নে পাঠ করুন।
নারী-পুরুষের সম্পর্ক এবং এ থেকে জন্মানো সন্তান সম্পর্কে জাহিলী যুগের প্রথা ও রীতি
৩২৭. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন) যে, জাহিলী যুগে বিয়ের (অর্থাৎ নারী-পুরুষের মেলা-মেশা এবং এ থেকে জন্মানো সন্তান সম্পর্কে) চারটি প্রথা চালু ছিল। তন্যধ্যে একটি প্রথা ছিল যা (নীতিগতভাবে) বর্তমান যুগেও প্রচলিত। পুরুষের পক্ষ থেকে অন্য পুরুষের নিকট তার কন্যা কিংবা তার প্রতিপালনাধীন মেয়ের জন্য বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হত। এরপর সংগত মহর নির্ধারণপূর্বক সে ঐ মেয়ের বিয়ে সেই পুরুষের সাথে দিত।
আরেকটি প্রথা এরূপ ছিল যে, কোন লোকের স্ত্রী যখন ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হত (এ সময় মহিলাদের মধ্যে গর্ভধারণের যোগ্যতা বেশি থাকে) তখন সে (কোন সুউচ্চ মর্যাদাবান ব্যক্তি সম্বন্ধে) আপন স্ত্রীকে বলে দিত যে, তুমি তাকে ডেকে এনে নিয়োগ কর (অর্থাৎ তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন কর এবং তার দ্বারা গর্ভধারণের চেষ্টা কর) আর স্বামী আপন স্ত্রী থেকে বিরত থাকত যতদিন না নিয়োগী পুরুষ দ্বারা মহিলাটির গর্ভধারণ প্রকাশ পেত। এরপর যখন গর্ভ প্রকাশ পেত তখন তার স্বামী অভিরুচি অনুযায়ী তার সাথে সঙ্গম করত। উৎকর্ষশীল সন্তান লাভের অভিলাষেই এরূপ করত। সুতরাং এ জাতীয় বিয়েকে (نکاح استبضاع) ইসতিবদা১ বিয়ে বলা হত।
আর অন্য এক (তৃতীয়) প্রথা এরূপ ছিল যে, কতক লোকের একটি 'যুথ' (বর্ণনায় 'رهط' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দশ থেকে কম সংখ্যার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে) একজন মহিলার নিকট গমন করতো এবং তাদের প্রত্যেকেই তার সাথে সঙ্গম করত (আর এসব হত পারস্পরিক সম্মতিক্রমে) এরপর যদি সেই মহিলা গর্ভবতী হত এবং সন্তান ভূমিষ্ঠ হত তখন কয়েক দিন পর মহিলাটি সে সব লোকদের তলব করাত (রীতি অনুযায়ী)। কারো উপস্থিত না হওয়ার সুযোগ ছিল না। এ কারণে সবাই উপস্থিত হত। তখন মহিলাটি বলত, যা কিছু হয়েছিল তা তোমরা অবগত আছ। আর (তারই ফল স্বরূপ) আমার এ সন্তান পয়দা হয়েছে। যাকে পসন্দ হয় এমন কারো নাম ডেকে বলত, হে অমুক! এ ছেলে তোমার। এরপর সে ছেলে তারই মনে করা হত। আর সে ব্যক্তি অস্বীকার করতে পারত না।
আর চতুর্থ প্রথা এইরূপ ছিল যে, বহু লোক এক মহিলার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করত। তার নিকট গমন করতে বাধা ছিল না। তারা দেহপসারিণী ছিল। তারা নিজেদের গৃহদ্বারে নিশান গেঁড়ে রাখত। যে কেউ চাইত তাদের নিকট গমন করত। তাদের কেউ গর্ভধারণ এবং সন্তান প্রসব করলে তার নিকট সেই লোকগুলো সমবেত হত। আর চেহারা লক্ষণবিদদের ডাকা হত। এরপর সে (স্বীয় লক্ষণ বিদ্যা দ্বারা) যার বীর্য থেকে সন্তানকে মনে করত তার ছেলে বলে স্থির করে দিত। তারই মেনে নেয়া হত এবং তারই ছেলে বলা হত। আর মহিলাটি তা অস্বীকার করতে পারত না।
[উন্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রা) জাহিলী যুগের এসব প্রথা বর্ণনা করার পর বলেন] এরপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দীনে হকসহ প্রেরিত হলেন, তখন তিনি জাহিলী যুগের সেই সব (লজ্জাজনক) প্রথা একেবারে বিলুপ্ত করে দেন। আর বর্তমানে প্রচলিত বিয়েই বাকি থাকে। (বুখারী)
টিকা ১. জাহিলী যুগে আরবের কোন কোন নিম্ন গোত্রে এই লজ্জাজনক প্রথা চালু ছিল। প্রথাটি এরূপ ছিল যে, নিম্ন শ্রেণীর কোন লোক আকাঙ্ক্ষা করত যে, তার ছেলে অশ্বারোহী বীর হবে। অথবা গঠন সৌন্দর্য ও পরিমাণে ভিন্ন রকম হবে। তখন সে অনুরূপ গুণাবলী মন্ডিত ব্যক্তি সম্পর্কে আপন স্ত্রীকে বলত যে, তার সাথে তুমি সম্পর্ক স্থাপন কর, যেন তার ধারা গর্ভধারণ করতে পার, ফলে অনুরূপ গুণাবলী নিয়ে তার দ্বারা ছেলে পয়দা হবে। আর উক্ত নিয়োগী ব্যক্তি দ্বারা গর্ভসঞ্চার না হওয়া পর্যন্ত সে তার স্ত্রী থেকে পৃথক থাকত। আরবী পরিভাষায় এটাকে “استبضاع” বলা হয়। আমি এ শব্দের তরজমা করেছি 'নিয়োগ'। হিন্দু সম্প্রদায়ে নিয়োগ প্রথা চলে আসছে এবং এটাকে বৈধ ও সঠিক বলে মনে করা হয়। হাদীসে বর্ণিত প্রথাটি প্রায় অনুরূপই ছিল। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আর্য-সমাজের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী প্রণীত 'সত্যার্থ প্রকাশ' বইটি পাঠ করা যেতে পারে।
আরেকটি প্রথা এরূপ ছিল যে, কোন লোকের স্ত্রী যখন ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হত (এ সময় মহিলাদের মধ্যে গর্ভধারণের যোগ্যতা বেশি থাকে) তখন সে (কোন সুউচ্চ মর্যাদাবান ব্যক্তি সম্বন্ধে) আপন স্ত্রীকে বলে দিত যে, তুমি তাকে ডেকে এনে নিয়োগ কর (অর্থাৎ তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন কর এবং তার দ্বারা গর্ভধারণের চেষ্টা কর) আর স্বামী আপন স্ত্রী থেকে বিরত থাকত যতদিন না নিয়োগী পুরুষ দ্বারা মহিলাটির গর্ভধারণ প্রকাশ পেত। এরপর যখন গর্ভ প্রকাশ পেত তখন তার স্বামী অভিরুচি অনুযায়ী তার সাথে সঙ্গম করত। উৎকর্ষশীল সন্তান লাভের অভিলাষেই এরূপ করত। সুতরাং এ জাতীয় বিয়েকে (نکاح استبضاع) ইসতিবদা১ বিয়ে বলা হত।
আর অন্য এক (তৃতীয়) প্রথা এরূপ ছিল যে, কতক লোকের একটি 'যুথ' (বর্ণনায় 'رهط' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দশ থেকে কম সংখ্যার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে) একজন মহিলার নিকট গমন করতো এবং তাদের প্রত্যেকেই তার সাথে সঙ্গম করত (আর এসব হত পারস্পরিক সম্মতিক্রমে) এরপর যদি সেই মহিলা গর্ভবতী হত এবং সন্তান ভূমিষ্ঠ হত তখন কয়েক দিন পর মহিলাটি সে সব লোকদের তলব করাত (রীতি অনুযায়ী)। কারো উপস্থিত না হওয়ার সুযোগ ছিল না। এ কারণে সবাই উপস্থিত হত। তখন মহিলাটি বলত, যা কিছু হয়েছিল তা তোমরা অবগত আছ। আর (তারই ফল স্বরূপ) আমার এ সন্তান পয়দা হয়েছে। যাকে পসন্দ হয় এমন কারো নাম ডেকে বলত, হে অমুক! এ ছেলে তোমার। এরপর সে ছেলে তারই মনে করা হত। আর সে ব্যক্তি অস্বীকার করতে পারত না।
আর চতুর্থ প্রথা এইরূপ ছিল যে, বহু লোক এক মহিলার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করত। তার নিকট গমন করতে বাধা ছিল না। তারা দেহপসারিণী ছিল। তারা নিজেদের গৃহদ্বারে নিশান গেঁড়ে রাখত। যে কেউ চাইত তাদের নিকট গমন করত। তাদের কেউ গর্ভধারণ এবং সন্তান প্রসব করলে তার নিকট সেই লোকগুলো সমবেত হত। আর চেহারা লক্ষণবিদদের ডাকা হত। এরপর সে (স্বীয় লক্ষণ বিদ্যা দ্বারা) যার বীর্য থেকে সন্তানকে মনে করত তার ছেলে বলে স্থির করে দিত। তারই মেনে নেয়া হত এবং তারই ছেলে বলা হত। আর মহিলাটি তা অস্বীকার করতে পারত না।
[উন্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রা) জাহিলী যুগের এসব প্রথা বর্ণনা করার পর বলেন] এরপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দীনে হকসহ প্রেরিত হলেন, তখন তিনি জাহিলী যুগের সেই সব (লজ্জাজনক) প্রথা একেবারে বিলুপ্ত করে দেন। আর বর্তমানে প্রচলিত বিয়েই বাকি থাকে। (বুখারী)
টিকা ১. জাহিলী যুগে আরবের কোন কোন নিম্ন গোত্রে এই লজ্জাজনক প্রথা চালু ছিল। প্রথাটি এরূপ ছিল যে, নিম্ন শ্রেণীর কোন লোক আকাঙ্ক্ষা করত যে, তার ছেলে অশ্বারোহী বীর হবে। অথবা গঠন সৌন্দর্য ও পরিমাণে ভিন্ন রকম হবে। তখন সে অনুরূপ গুণাবলী মন্ডিত ব্যক্তি সম্পর্কে আপন স্ত্রীকে বলত যে, তার সাথে তুমি সম্পর্ক স্থাপন কর, যেন তার ধারা গর্ভধারণ করতে পার, ফলে অনুরূপ গুণাবলী নিয়ে তার দ্বারা ছেলে পয়দা হবে। আর উক্ত নিয়োগী ব্যক্তি দ্বারা গর্ভসঞ্চার না হওয়া পর্যন্ত সে তার স্ত্রী থেকে পৃথক থাকত। আরবী পরিভাষায় এটাকে “استبضاع” বলা হয়। আমি এ শব্দের তরজমা করেছি 'নিয়োগ'। হিন্দু সম্প্রদায়ে নিয়োগ প্রথা চলে আসছে এবং এটাকে বৈধ ও সঠিক বলে মনে করা হয়। হাদীসে বর্ণিত প্রথাটি প্রায় অনুরূপই ছিল। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আর্য-সমাজের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী প্রণীত 'সত্যার্থ প্রকাশ' বইটি পাঠ করা যেতে পারে।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النِّكَاحَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ كَانَ عَلَى أَرْبَعَةِ أَنْحَاءٍ فَنِكَاحٌ مِنْهَا نِكَاحُ النَّاسِ الْيَوْمَ، يَخْطُبُ الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ وَلِيَّتَهُ أَوِ ابْنَتَهُ، فَيُصْدِقُهَا ثُمَّ يَنْكِحُهَا، وَنِكَاحٌ آخَرُ كَانَ الرَّجُلُ يَقُولُ لاِمْرَأَتِهِ إِذَا طَهُرَتْ مِنْ طَمْثِهَا أَرْسِلِي إِلَى فُلاَنٍ فَاسْتَبْضِعِي مِنْهُ. وَيَعْتَزِلُهَا زَوْجُهَا، وَلاَ يَمَسُّهَا أَبَدًا، حَتَّى يَتَبَيَّنَ حَمْلُهَا مِنْ ذَلِكَ الرَّجُلِ الَّذِي تَسْتَبْضِعُ مِنْهُ، فَإِذَا تَبَيَّنَ حَمْلُهَا أَصَابَهَا زَوْجُهَا إِذَا أَحَبَّ، وَإِنَّمَا يَفْعَلُ ذَلِكَ رَغْبَةً فِي نَجَابَةِ الْوَلَدِ، فَكَانَ هَذَا النِّكَاحُ نِكَاحَ الاِسْتِبْضَاعِ، وَنِكَاحٌ آخَرُ يَجْتَمِعُ الرَّهْطُ مَا دُونَ الْعَشَرَةِ فَيَدْخُلُونَ عَلَى الْمَرْأَةِ كُلُّهُمْ يُصِيبُهَا. فَإِذَا حَمَلَتْ وَوَضَعَتْ، وَمَرَّ عَلَيْهَا لَيَالِيَ بَعْدَ أَنْ تَضَعَ حَمْلَهَا، أَرْسَلَتْ إِلَيْهِمْ فَلَمْ يَسْتَطِعْ رَجُلٌ مِنْهُمْ أَنْ يَمْتَنِعَ حَتَّى يَجْتَمِعُوا عِنْدَهَا تَقُولُ لَهُمْ قَدْ عَرَفْتُمُ الَّذِي كَانَ مِنْ أَمْرِكُمْ، وَقَدْ وَلَدْتُ فَهُوَ ابْنُكَ يَا فُلاَنُ. تُسَمِّي مَنْ أَحَبَّتْ بِاسْمِهِ، فَيَلْحَقُ بِهِ وَلَدُهَا، وَلاَ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَمْتَنِعَ مِنْهُ الرَّجُلُ. وَالنِّكَاحُ الرَّابِعِ يَجْتَمِعُ النَّاسُ الْكَثِيرُ فَيَدْخُلُونَ عَلَى الْمَرْأَةِ لاَ تَمْتَنِعُ مِمَّنْ جَاءَهَا وَهُنَّ الْبَغَايَا كُنَّ يَنْصِبْنَ عَلَى أَبْوَابِهِنَّ رَايَاتٍ تَكُونُ عَلَمًا فَمَنْ أَرَادَهُنَّ دَخَلَ عَلَيْهِنَّ، فَإِذَا حَمَلَتْ إِحْدَاهُنَّ وَوَضَعَتْ حَمْلَهَا جُمِعُوا لَهَا وَدَعَوْا لَهُمُ الْقَافَةَ ثُمَّ أَلْحَقُوا وَلَدَهَا بِالَّذِي يَرَوْنَ فَالْتَاطَ بِهِ، وَدُعِيَ ابْنَهُ لاَ يَمْتَنِعُ مِنْ ذَلِكَ ..... فَلَمَّا بُعِثَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْحَقِّ هَدَمَ نِكَاحَ الْجَاهِلِيَّةِ كُلَّهُ، إِلاَّ نِكَاحَ النَّاسِ الْيَوْمَ. (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৮৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ حسنِ ادب اور دینی تربیت
حضرت ابن عباس رضی اللہ عنہ سے روایت ہے کہ رسول اللہ ﷺ نے فرمایا : اپنے بچوں کی زبان سے سب سے پہلے “لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ” کہلواؤ ، اور موت کے وقت ان کو اسی کلمہ “لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ” کی تلقین کرو ۔ (شعب الایمان للبیہقی)
تشریح
اللہ کے سارے پیغمبروں نے اور ان سب کے آخر میں ان کے خاتم سیدنا حضرت محمدﷺ نے اس چند روزہ دنیوی زندگی کے بارے میں یہی بتایا ہے کہ یہ دراصل آنے والی اس اخروی زندگی کی تمہید اور اس کی تیاری کے لئے ہے جو اصل اور حقیقی زندگی ہے اور جو کبھی ختم نہ ہو گی ۔ اس نقطہ نظر کا قدرتی اور لازمی تقاضا ہے کہ دنیا کے سارے مسئلوں سے زیادہ آخرت کو بنانے اور وہاں فوز و فلاح حاصل کرنے کی فکر کی جائے ، اس لئے رسول اللہ ﷺ نے ہر صاحبِ اولاد پر اس کی اولاد کا یہ حق بتایا ہے کہ وہ بالکل شروع ہی سے اس کی دینی تعلیم و تربیت کی فکر کرے ، اگر وہ اس میں کوتاہی کرے گا تو قصوروار ہو گا ۔
اس سلسلہ کی چند حدیثیں ذیل میں پڑھئے :
انسانی ذہن کی صلاحیتوں کے بارے میں جدید تجربات اور تحقیقات سے یہ بات ثابت ہو چکی ہے اور اب گویا تسلیم کر لی گئی ہے کہ پیدائش کے وقت ہی سے بچے کے ذہن میں یہ صلاحیت ہوتی ہے کہ جو آوازیں وہ کان سے سنے اور آنکھوں سے جو کچھ دیکھے اس سے اثر لے ، اور وہ اثر لیتا ہے ۔ رسول اللہ ﷺ نے پیدا ہونے کے بعد یہ بچے کے کان میں (خاص کان میں) اذان و اقامت پڑھنے کی جو ہدایت فرمائی ہے (جیسا کہ حضرت ابو رافع اور حضرت حسین بن علی کی متذکرہ بالا روایات سے معلوم ہو چکا ہے) اس سے بھی یہ صاف اشارہ ملتا ہے ۔ حضرت عبداللہ بن عباس کی اس حدیث میں ہدایت فرمائی گئی ہے کہ بچے کی زبان جب بولنے کے لئے کھلنے لگے تو سب سے پہلے اس کو کلمہ “لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ” کی تلقین کی جائے اور اسی سے زبانی تعلیم و تلقین کا افتتاح ہو ۔ آگے بھی یہ ہدایت فرمائی گئی کہ جب آدمی کا وقتِ آخر آئے تو اس وقت بھی اس کو اسی کلمہ کی تلقین کی جائے ۔ بڑا خوش نصیب ہے اللہ کا وہ بندہ جس کی زبان سے دنیا میں آنے کے بعد سب سے پہلے یہی کلمہ نکلے اور دنیا سے جاتے وقت یہی اس کا آخری کلمہ ہو ۔
اللہ تعالیٰ نصیب فرمائے ۔
تشریح
اللہ کے سارے پیغمبروں نے اور ان سب کے آخر میں ان کے خاتم سیدنا حضرت محمدﷺ نے اس چند روزہ دنیوی زندگی کے بارے میں یہی بتایا ہے کہ یہ دراصل آنے والی اس اخروی زندگی کی تمہید اور اس کی تیاری کے لئے ہے جو اصل اور حقیقی زندگی ہے اور جو کبھی ختم نہ ہو گی ۔ اس نقطہ نظر کا قدرتی اور لازمی تقاضا ہے کہ دنیا کے سارے مسئلوں سے زیادہ آخرت کو بنانے اور وہاں فوز و فلاح حاصل کرنے کی فکر کی جائے ، اس لئے رسول اللہ ﷺ نے ہر صاحبِ اولاد پر اس کی اولاد کا یہ حق بتایا ہے کہ وہ بالکل شروع ہی سے اس کی دینی تعلیم و تربیت کی فکر کرے ، اگر وہ اس میں کوتاہی کرے گا تو قصوروار ہو گا ۔
اس سلسلہ کی چند حدیثیں ذیل میں پڑھئے :
انسانی ذہن کی صلاحیتوں کے بارے میں جدید تجربات اور تحقیقات سے یہ بات ثابت ہو چکی ہے اور اب گویا تسلیم کر لی گئی ہے کہ پیدائش کے وقت ہی سے بچے کے ذہن میں یہ صلاحیت ہوتی ہے کہ جو آوازیں وہ کان سے سنے اور آنکھوں سے جو کچھ دیکھے اس سے اثر لے ، اور وہ اثر لیتا ہے ۔ رسول اللہ ﷺ نے پیدا ہونے کے بعد یہ بچے کے کان میں (خاص کان میں) اذان و اقامت پڑھنے کی جو ہدایت فرمائی ہے (جیسا کہ حضرت ابو رافع اور حضرت حسین بن علی کی متذکرہ بالا روایات سے معلوم ہو چکا ہے) اس سے بھی یہ صاف اشارہ ملتا ہے ۔ حضرت عبداللہ بن عباس کی اس حدیث میں ہدایت فرمائی گئی ہے کہ بچے کی زبان جب بولنے کے لئے کھلنے لگے تو سب سے پہلے اس کو کلمہ “لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ” کی تلقین کی جائے اور اسی سے زبانی تعلیم و تلقین کا افتتاح ہو ۔ آگے بھی یہ ہدایت فرمائی گئی کہ جب آدمی کا وقتِ آخر آئے تو اس وقت بھی اس کو اسی کلمہ کی تلقین کی جائے ۔ بڑا خوش نصیب ہے اللہ کا وہ بندہ جس کی زبان سے دنیا میں آنے کے بعد سب سے پہلے یہی کلمہ نکلے اور دنیا سے جاتے وقت یہی اس کا آخری کلمہ ہو ۔
اللہ تعالیٰ نصیب فرمائے ۔
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: افْتَحُوا عَلَى صِبْيَانِكُمْ أَوَّلَ كَلِمَةٍ بِلَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَلَقِّنُوهُمْ عِنْدَ الْمَوْتِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ. (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৮৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ حسنِ ادب اور دینی تربیت
حضرت سعید بن العاص رضی اللہ عنہ سے روایت ہے کہ رسول اللہ ﷺ نے فرمایا کہ : کسی باپ نے اپنی اولاد کو کوئی عطیہ اور تحفہ حسن ادب اور اچھی سیرت سے بہتر نہیں دیا ۔ (جامع ترمذی)
تشریح
یعنی باپ کی طرف سے اولاد کے لئے سب سے اعلیٰ اور بیش بہا تحفہ یہی ہے کہ ان کی ایسی تربیت کرے کہ وہ شائستگی اور اچھے اخلاق و سیرت کے حامل ہوں ۔
تشریح
یعنی باپ کی طرف سے اولاد کے لئے سب سے اعلیٰ اور بیش بہا تحفہ یہی ہے کہ ان کی ایسی تربیت کرے کہ وہ شائستگی اور اچھے اخلاق و سیرت کے حامل ہوں ۔
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا نَحَلَ وَالِدٌ وَلَدَهُ أَفْضَلَ مِنْ أَدَبٍ حَسَنٍ» (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৮৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ حسنِ ادب اور دینی تربیت
حضرت انس رضی اللہ عنہ سے روایت ہے کہ رسول اللہ ﷺ نے فرمایا کہ : اپنی اولاد کا اکرام کرو ، اور (اچھی تربیت کے ذریعہ) ان کو حسنِ ادب سے آراستہ کرو ۔ (سنن ابن ماجہ)
تشریح
اولاد کا اکرام یہ ہے کہ ان کو اللہ تعالیٰ کا عطیہ اور اس کی امانت سمجھ کر ان کی قدر اور ان کا لحاظ کیا جائے حسبِ استطاعت ان کی ضروریات حیات کا بندوبست کیا جائے ۔ ان کو بوجھ اور مصیبت نہ سمجھا جائے ۔
تشریح
اولاد کا اکرام یہ ہے کہ ان کو اللہ تعالیٰ کا عطیہ اور اس کی امانت سمجھ کر ان کی قدر اور ان کا لحاظ کیا جائے حسبِ استطاعت ان کی ضروریات حیات کا بندوبست کیا جائے ۔ ان کو بوجھ اور مصیبت نہ سمجھا جائے ۔
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَكْرِمُوا أَوْلَادَكُمْ وَأَحْسِنُوا أَدَبَهُمْ» (رواه ابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৮৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ حسنِ ادب اور دینی تربیت
حضرت عبداللہ بن عمرو بن العاص رضی اللہ عنہ سے روایت ہے کہ رسول اللہ ﷺ نے فرمایا : تمہارے بچے جب سات سال کے ہو جائیں تو ان کو نماز کی تاکید کرو اور جب دس سال کے ہو جائیں تو نماز مین کوتاہی کرنے پر ان کو سزا دو اور ان کے بستر بھی الگ کر دو ۔ (سنن ابی داؤد)
تشریح
عام طور سے بچے سات سال کی عمر میں سمجھدار اور باشعور ہو جاتے ہین ، اس وقت سے ان کو خدا پرستی کے راستے پر ڈالنا چاہئے ، اور اس کے لے ان سے نماز کی پابندی کرانی چاہئے ۔ دس سال کی عمر میں ان کا شعور کافی ترقی کر جاتا ہے اور بلوغ کا زمانہ قریب آ جاتا ہے ، اس وقت نماز کے بارے میں ان پر سختی کرنی چاہئے اور اگر وہ کوتاہی کریں تو مناسب طور پر ان کو سرزنش بھی کرنی چاہئے ۔ نیز اس دعمر کو پہنچ جانے پر ان کو الگ الگ سلانا چاہئے ۔ ایک ساتھ اور ایک بستر پر نہ سلانا چاہئے (دس سال سے پہلے اس کی گنجائش ہے) ۔
حدیث کا مدعا یہ ہے کہ ماں باپ پر یہ سب اولاد کے حقوق ہیں ، لڑکوں کے بھی اور لڑکیوں کے بھی اور قیامت کے دن ان سب کے بارے میں باز پرس ہو گی ۔
تشریح
عام طور سے بچے سات سال کی عمر میں سمجھدار اور باشعور ہو جاتے ہین ، اس وقت سے ان کو خدا پرستی کے راستے پر ڈالنا چاہئے ، اور اس کے لے ان سے نماز کی پابندی کرانی چاہئے ۔ دس سال کی عمر میں ان کا شعور کافی ترقی کر جاتا ہے اور بلوغ کا زمانہ قریب آ جاتا ہے ، اس وقت نماز کے بارے میں ان پر سختی کرنی چاہئے اور اگر وہ کوتاہی کریں تو مناسب طور پر ان کو سرزنش بھی کرنی چاہئے ۔ نیز اس دعمر کو پہنچ جانے پر ان کو الگ الگ سلانا چاہئے ۔ ایک ساتھ اور ایک بستر پر نہ سلانا چاہئے (دس سال سے پہلے اس کی گنجائش ہے) ۔
حدیث کا مدعا یہ ہے کہ ماں باپ پر یہ سب اولاد کے حقوق ہیں ، لڑکوں کے بھی اور لڑکیوں کے بھی اور قیامت کے دن ان سب کے بارے میں باز پرس ہو گی ۔
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ، وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا، وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرٍ وَفَرِّقُوا بَيْنَهُمْ فِي الْمَضَاجِعِ» (رواه ابوداؤد و رواه فى شرح السنة عن ابن معبد)
তাহকীক: