মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৫০৬ টি

হাদীস নং: ৩৬০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ তিন তালাক প্রদানের পরিণতি ও শরীয়তের হুকুম
৩৬০. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, রিফাআ কুরাজি-এর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খিদমতে হাযির হয়ে বলল, আমি রিফা'আর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলাম। সে আমাকে তালাক দিয়েছে। আমার তালাক সম্পূর্ণ হয়েছে। (অর্থাৎ সে আমাকে তিন তালাক দিয়েছে) এরপর আমি আবদুর রহমান ইবনে জুবাইর-এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। কিন্তু সে নপুংশক (অর্থাৎ বিবাহে যে বিশেষ উদ্দেশ্য অন্তর্নিহিত থাকে, সে এর উপযুক্ত নয়) রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি রিফা'আ-এর নিকট পুনরায় ফিরে যেতে চাও? যে বলল, জি হ্যাঁ। তিনি বললেন- না, যতক্ষণ না তুমি তার স্বাদ গ্রহণ কর এবং সে তোমার স্বাদ গ্রহণ করে। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ جَاءَتْ امْرَأَةُ رِفاعَةَ القُرَظِيِّ اِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: كُنْتُ عِنْدَ رِفَاعَةَ، فَطَلَّقَنِي، فَبَتَّ طَلاَقِي، فَتَزَوَّجْتُ بَعْدَهُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الزَّبِيرِ وَمَا مَعَهُ إِلَّا مِثْلُ هُدْبَةِ الثَّوْبِ، فَقَالَ: «أَتُرِيدِينَ أَنْ تَرْجِعِي إِلَى رِفَاعَةَ؟ قَالَتْ: نَعَمْ قَالَ لَا حَتَّى تَذُوقِي عُسَيْلَتَهُ وَيَذُوقَ عُسَيْلَتَكِ». (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৩৬১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হাসি-ঠাট্টার তালাকও তালাকই
৩৬১. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তিনটি বিষয় এরূপ যে, এগুলোতে সঠিক বলাও সঠিক আর হাসি-ঠাট্টা করে বলাও সঠিক। বিবাহ, তালাক ও রাজ’আত। (তিরমিযী, আবু দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " ثَلَاثٌ جِدُّهُنَّ جِدٌّ، وَهَزْلُهُنَّ جِدٌّ: النِّكَاحُ، وَالطَّلَاقُ، وَالرَّجْعَةُ " (رواه الترمذى وابوداؤد)
হাদীস নং: ৩৬২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অজ্ঞানের তালাক
৩৬২. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, প্রতিটি তালাকই বৈধ তবে মানসিক ভারসাম্যহীন ও অজ্ঞানের তালাক ছাড়া। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كُلُّ طَلاَقٍ جَائِزٌ، إِلاَّ طَلاَقَ الْمَعْتُوهِ الْمَغْلُوبِ عَلَى عَقْلِهِ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৩৬৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বল প্রয়োগের তালাক
৩৬৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ থেকে শুনেছি, তিনি বলতেন বলপ্রয়োগে তালাক নেই এবং বল প্রয়োগে দাস মুক্তি নেই। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا طَلَاقَ وَلَا عَتَاقَ فِي إِغْلَاقٍ» (رواه ابوداؤد وابن ماجة)
হাদীস নং: ৩৬৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইদ্দত

ইসলামী শরীয়তে তালাকপ্রাপ্তা নারীর জন্য ইদ্দতের নিয়মও নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যে স্ত্রীকে তার স্বামী তালাক দিয়ে দেয় সে এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবে যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ (যা স্বয়ং কুরআন মজীদে বর্ণনা করা হয়েছে) এই: যদি সেই নারী ঋতু বয়সের হয়ে থাকে তবে তার পূর্ণ তিন ঋতু অতিক্রান্ত হবে। আর যদি কম অথবা বেশি বয়সের কারণে ঋতু না হয় এবং গর্ভবতীও না হয় তবে তিন মাস। আর যদি গর্ভাবস্থায় থাকে তবে ইদ্দতের সময় সন্তান প্রসব পর্যন্ত- কম হোক বা বেশি।

ইদ্দতের এই প্রণালীতে বহু হিকমত ও উপযোগিতা রয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ উপযোগিতা এই যে, এর দ্বারা বৈবাহিক সম্পর্কের মর্যাদা ও পবিত্রতা প্রকাশ পায়। যদি ইদ্দতের নিয়ম না থাকে এবং নারীর এই অনুমতি থাকে যে, স্বামী তালাক দেবার পর সে তার ইচ্ছানুযায়ী তৎক্ষণাৎ দ্বিতীয় বিয়ে সংগঠিত করতে পারবে তবে অবশ্যই এটা বিয়ের মহান মর্যাদার পরিপন্থী হবে এবং বিয়ে 'শিশুদের খেলনা'য় পরিণত হবে।

দ্বিতীয় উপযোগিতা, বিশেষ করে রিজঈ তালাকের অবস্থায় ইদ্দতের এই সময়ে স্বামীর জন্য সম্ভব হবে যে, বিষয়টির ওপর সে পূর্ণভাবে চিন্তাভাবনা করে রিজ'আত করে নেবে এবং পুনরায় উভয়ে স্বামী-স্ত্রী হয়ে জীবন অতিবাহিত করতে থাকবে। আল্লাহ ও রাসূলের এ কথাই অধিক পসন্দনীয়। এজন্য রিজঈ তালাকের ইদ্দত পালনের মধ্যে নারীর জন্য উত্তম হচ্ছে সাজগোজ ও বেশবিন্যাস-এর প্রতি এরূপ লক্ষ্য রাখবে এবং তার আচরণ এরূপ সুন্দর করবে যে, স্বামীর স্বভাব পুনরায় তার প্রতি ধাবিত হবে এবং সে রিজাআত করে নেবে।

আর বাইন তালাক (মুগাল্লাজা নয়)-এর অবস্থায় যদিও রিজ'আত-এর তো সম্ভাবনা থাকে না, তবে ইদ্দতের মধ্যে নারী দ্বিতীয় বিয়ে না করার কারণে এ কথার অধিক সম্ভাবনা থাকে যে, উভয়ে পরস্পর সম্মত হয়ে পুনরায় বিয়ের মাধ্যমে নিজেদের ভেঙ্গে যাওয়া সম্পর্ক আবার সংস্থাপিত করবে।

তৃতীয় এক উপযোগিতা এটাও যে, ইদ্দতের নিয়মের কারণে নারীর গর্তে তালাকোত্তর জন্মগ্রহণকারী সন্তানের বংশধারা সম্পর্কে কারো কোন প্রকার সংশয় ও সন্দেহের অবকাশ থাকে না।

বস্তুত ইদ্দতের নিয়ম-নীতির এ ক’টি প্রকাশ্য রহস্য ও উপযোগিতা। সম্ভবত এ কারণেই অধিকাংশ সভ্য জাতিসমূহের নিয়ম-নীতিতে স্বামী-স্ত্রীর পৃথক হওয়ার অবস্থায় কোন না কোন আকৃতিতে ইদ্দতের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে কোন কোন জাতির নিয়ম-নীতিতে এই ইদ্দত বহু দীর্ঘ রাখা হয়েছে যা রেজয়ী মহিলার জন্য সাধ্যাতীত কষ্ট স্বরূপ। সামনে উল্লিখিতব্য হাদীস থেকে জানা যায় যে, ইদ্দতের নিয়ম তখন নাযিল হয়েছিল, যখন জনৈক মহিলা সাহাবী আসমা বিনতে ইয়াযীদ বিন সাকান আনসারীকে তাঁর স্বামী তালাক দিয়েছিলেন।
৩৬৪. হযরত আসমা বিনতি ইয়াযীদ বিন সাকান আল আনসারীয়া থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে তাঁর তালাক হয়েছিল। তখন তালাকপ্রাপ্তা নারী যার সম্পর্কে তালাকের ইদ্দতের বিধান নাযিল হয়। (আবু দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ يَزِيدَ بْنِ السَّكَنِ الْأَنْصَارِيَّةِ، أَنَّهَا «طُلِّقَتْ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَمْ يَكُنْ لِلْمُطَلَّقَةِ عِدَّةٌ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ الْعِدَّةِ لِلطَّلَاقِ، فَكَانَتْ أَوَّلَ مَنْ أُنْزِلَتْ فِيهَا الْعِدَّةُ لِلْمُطَلَّقَاتِ» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ৩৬৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইসলামী শরীয়তে যেভাবে তালাকপ্রাপ্তা নারীর জন্য ইদ্দতের নির্দেশ রয়েছে অনুরূপভাবে সেই বিধবা নারীর জন্যও ইদ্দতের নির্দেশ রয়েছে যার স্বামী মৃত্যুবরণ করেছে। এ ইদ্দতের নির্দেশও কুরআন মজীদে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন:
{وَالَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنْكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَاجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنْفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا } [البقرة: 234]
তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায় তাদের স্ত্রীগণ চার মাস দশ দিন প্রতীক্ষায় থাকবে। (২:২৩৪)

এই ইদ্দত সেই সব বিধবা নারীদের জন্য যারা গর্ভবতী নয়। আর যে নারী গর্ভবস্থায় আছে তার ইদ্দত অন্য আয়াতে সন্তান প্রসব পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সময় কম-বেশী যাই হোক। এই ওফাতের ইদ্দতের মধ্যে শোক পালনেরও নির্দেশ রয়েছে। অর্থাৎ বৈধব্য বরণকারী নারীর জন্য অত্যাবশ্যক করা হয়েছে যে, সে ইদ্দতের পূর্ণ সময় শোক পালন করবে। যে সব জিনিস সাজ-গোজের জন্য ব্যবহৃত হয়, ঐ সময় সে সেসব মোটেই ব্যবহার করবে না। মোদ্দা কথা, এই পূর্ণ সময় সে এমনভাবে থাকবে যেন তার আকুতি, পোশাক ও অবয়ব দ্বায়া তার বৈধব্যও প্রকাশ পায়। আর তাঁর বাহ্যিক অবস্থার প্রেক্ষিতে অন্যদেরও মনে হবে যে, স্বামীর ইন্তিকালে তার এরূপই দুঃখ ও পেরেশানী হয়েছে যেরূপ একজন ভদ্র ও পবিত্র স্ত্রীর হওয়া উচিত।

তবে এ নির্দেশ কেবল ইদ্দতকালের জন্য। ইদ্দতের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর শোকপালন শেষ হওয়া চাই। শরীয়াতে এ কথার অনুমতি নেই যে, কোন স্ত্রীলোক বিধবা হয়ে যাবার পর সব সময়ের জন্য সে শোক পালনের প্রথা গ্রহণ করবে।

স্বামী ছাড়া নিজের অন্য কোন নিকটবর্তী প্রিয়জন যে সব, পিতা, ভাই প্রমুখের ইন্তিকালে যদি নারী তার হৃদয়ের বেদনা ও অনুভূতি শোকের আকারে প্রকাশ করে তবে কেবল তিন দিন পর্যন্ত অনুমতি আছে, এর অতিরিক্ত নয়।
৩৬৫. উম্মুল মু'মিনীন হযরত উম্মে হাবীবা ও জয়নব বিনতি জাহশ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে এরূপ নারীর জন্য কোন মৃত আত্মীয়ের উপর তিন দিনের বেশি শোক প্রকাশ বৈধ নয়, তবে স্বামীর উপর চার মাস দশ দিন বৈধ। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أُمِّ حَبِيْبَةَ وَ زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لاَ يَحِلُّ لِامْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ أَنْ تُحِدَّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثِ لَيَالٍ، إِلَّا عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا» (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৬৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ওফাতের ইদ্দত ও শোক
৩৬৬. উম্মুল মু'মিনীন হযরত উম্মে সালমা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে নারীর স্বামী ইন্তেকাল করেছে সে কুসুম রংগের এবং অলংকারাদি পরবে না, খিযাব লাল ও গরুয়া রংগের কাপড় পরবে না, (মেহদী ইতাদি) ব্যবহার করবে না এবং সুরমা লাগাবে না।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْمُتَوَفَّى عَنْهَا زَوْجُهَا لَا تَلْبَسُ الْمُعَصْفَرَ مِنَ الثِّيَابِ، وَلَا الْمُمَشَّقَةَ، وَلَا الْحُلِيَّ، وَلَا تَخْتَضِبُ، وَلَا تَكْتَحِلُ» (رواه ابوداؤد والنسائى)
হাদীস নং: ৩৬৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মু'আমালাত বা লেন-দেন পর্ব

মানুষের অর্থনৈতিক প্রয়োজন

এ অধ্যায়ে রয়েছে আল্লাহ প্রদত্ত হিদায়াত ও এর মৌলিক নীতি

আল্লাহ তা'আলা মানুষকে মিলে-মিশে বসবাসের স্বভাব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ মানুষের স্বভাবগত প্রকৃতি এরূপ যে, সে তার এই জীবনে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ব্যবহারিক লেন-দেনের মুখাপেক্ষী। প্রত্যেক ব্যক্তি ও শ্রেণীর প্রয়োজনসমূহ খুবই সীমিত যে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিশ্রম করে কেবল দিন কাটাবার পয়সা উপার্জন করে, তারও প্রয়োজন রয়েছে ঐ ব্যক্তির যার থেকে সে নিজের ও সন্তানদের উদরপূর্তির জন্য খাদ্যশস্য ইত্যাদি ক্রয় করতে পারে। আর শস্য উৎপন্নকারী কৃষকের সেই শ্রমিক প্রয়োজন যার থেকে সে তার কৃষি ভূমির কাজে সাহায্য নিতে পারে। এভাবে শ্রমিক ও কৃষক উভয়ের প্রয়োজন সেই লোকের যে তাদের পোশাকের প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্য কাপড় তৈরী করে এবং এরা তার থেকে সরাসরি অথবা পরোক্ষভাবে কাপড় ক্রয় করতে পারে। আর কাপড় প্রস্তুতকারীর, সেই ব্যক্তি বা এজেন্সির প্রয়োজন যার থেকে সে সুতা কিংবা রেশম ও কাপড় তৈরীর অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্য নগদ বা বাকীতে ক্রয় করতে পারে। এরপর তাদের মধ্য থেকে যদি কারো বসবাসের জন্য দালান তৈরী করতে হয় তবে তার প্রয়োজন হবে কারো থেকে ইট, সিমেন্ট ইত্যাদি নির্মাণ সামগ্রী ক্রয় করার। আর তা তৈরীর জন্য রাজমিস্ত্রী ও শ্রমিকের প্রয়োজন। আল্লাহ না করুন এদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে তখন প্রয়োজন হবে ডাক্তার-কবিরাজের নিকট যাবার এবং ওষুধ ক্রয়ের জন্য ডিসপেন্সারীর। বস্তুত জিনিসপত্র ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবসায়িক বিনিময়, শ্রম ও শিল্প, কৃষি, কর্জ, ধার ইত্যাদি সামাজিক কার্যাবলী এ জগতে মনুষ্য জীবনের অত্যাবশ্যকীয় জিনিস। এই কার্যাবলীর মধ্যে কখনো কখনো কলহ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। এর মীমাংসার জন্য প্রয়োজন ন্যায় ইনসাফের কোন শাসন ও আইন কানুন। এসব যা বলা হল কোন দর্শন বা যুক্তিবিদ্যার তাত্ত্বিক আলোচনা নয়। সবই প্রত্যক্ষ দর্শনীয় এবং আমাদের সবার প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতা।

আল্লাহ তা'আলা নবীগণের মাধ্যমে এবং সর্বশেষে খাতিমুল আম্বিয়া সায়্যিদুল মুরসালিন হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর মাধ্যমে যে ভাবে মানুষকে এ পথ প্রদর্শন করেছেন যে, তারা নিজেদের জন্ম-মৃত্যু সম্বন্ধে, নিজেদের সৃষ্টিকর্তা মালিক ও মাবুদের সত্তা ও গুণাবলী এবং তাওহীদ ও আখিরাত ইত্যাদি সম্বন্ধে কি আকীদা বিশ্বাস পোষণ করবে এবং কিভাবে তাঁর ইবাদত করবে, কোন কোন কার্যাবলী তাদের আত্মীক ও মনুষ্য মর্যাদার জন্য ধংসাত্মক ও ক্ষতিকর যা থেকে তারা বেঁচে থাকবে এবং চারিত্রিক সামাজিক বিষয়ে তাদের রীতি কি হবে। অনুরূপভাবে তিনি ক্রয়-বিক্রয়, শিল্প ব্যবসায় এবং শ্রম ইত্যাদি সামাজিক কার্যাবলী যা বাহ্যত মানুষের নিরেট পার্থিব প্রয়োজনাদি সম্বন্ধেও সেই মূলনীতি ও পন্থাসমূহের পথপ্রদর্শন করেছেন যা মনুষ্য সম্মান ও মর্যাদার সাথে সংগতিশীল এবং যাতে রয়েছে মানুষের ইহকালীন ও পরকালীন সফলতা।

এর ফলশ্রুতিতে ইহাই হয়েছে যে, আল্লাহর এই নির্দেশ ও এ শাখা সম্বন্ধে শরীয়তের আহকামের অনুসরণ করে এ সব কাজ করা এখন দুনিয়া নয়, বরং সত্যিকার দীন ও অর্থপূর্ণ এক ইবাদত। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে এ জন্য ঐরূপ সওয়াব ও পুরস্কার এবং জান্নাতের সুউচ্চ মর্যাদার প্রতিশ্রুতি রয়েছে, যেরূপ নামায়, রোযা ও যিকর তিলাওয়াত ইত্যাদি ইবাদত ও উত্তম চরিত্রের জন্য রয়েছে। আর যেভাবে রয়েছে দিনের দাওয়াত ও আল্লাহর পথে জান-মাল কুরবানির ওপর। মনুষ্য জীবনের এ শাখা অর্থাৎ, পারস্পরিক লেন-দেন সম্বন্ধে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর মাধ্যমে যে দিক-নির্দেশনা ও নির্দেশাবলী উন্মতের নিকট পৌঁছেছে তার ভিত্তি, আমি যা বুঝেছি চারটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ১. আল্লাহর সৃষ্টির উপকার করা, ২. ন্যায় বিচার, ৩. সততা ও বিশ্বস্ততা ও ৪. নম্রতা অর্থাৎ এক দল অন্য দলের সাথে শুভাকাংখীর আচরণ করবে। বিশেষ করে দুর্বল ও অভাবগ্রস্ত-শ্রেণীকে যথাসম্ভব সুযোগ দেয়া হবে।

এ ভূমিকার পর সম্মানিত পাঠকগণ আর্থিক লেন-দেন সম্পর্কিত রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উপদেশাবলী ও শিক্ষা নিম্নে পাঠ করুন।

আল্লাহ তা'আলা তাঁর লিখক বান্দাকে, উপরোক্ত পাঠকবর্গ ও শ্রোতামন্ডলীকে উপদেশাবলী ও বাণীসমূহের যথাযথ অনুসরণ করার তাওফীক দান করুন। সর্বপ্রথম হুজুর ﷺ-এর কতিপয় বাণী লিপিবদ্ধ করা যাচ্ছে, যেগুলোতে আর্থিক লেন-দেনকে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে এবং সেগুলোর জন্য পুরস্কার ও সওয়াবের সুসংবাদ শুনান হয়েছে।

হালাল উপার্জনের চিন্তা ও চেষ্টা ফরযসমূহের অন্তর্ভুক্ত
৩৬৭. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, হালাল উপার্জনের চেষ্টা ফরযসমূহের পর ফরয। (বায়হাকীর শু‘আবুল ঈমান)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " طَلَبُ كَسْبِ الْحَلَالِ فَرِيضَةٌ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
হাদীস নং: ৩৬৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কোন কোন অবস্থায় টাকা-পয়সার প্রয়োজন ও গুরুত্ব।
৩৬৮. হযরত মিকদাম ইবনে মা'দী কারাব (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি মানুষের সামনে এমন এক সময় আসবে, যখন টাকা পয়সাই কাজে আসবে। (মুসনাদে আহমদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيْكَرَبَ، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَيَأْتِيَنَّ عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ لَا يَنْفَعُ فِيهِ إِلَّا الدِّينَارُ وَالدِّرْهَمُ» (رواه احمد)
হাদীস নং: ৩৬৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সততা ও ঈমানদারীর সাথে ব্যবসাকারীগণ আম্বিয়া, সিদ্দীকীন ও শহীদগণের সাথে হবে
৩৬৯. হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, পূর্ণ সততা ও ঈমানদারীর সাথে ব্যবসায়ীগণ নবী সিদ্দীক ও শহীদগণের সাথে হবে। (তিরমিযী, দারিমী, সুনানে দারাকুতনী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «التَّاجِرُ الصَّدُوقُ الْأَمِينُ مَعَ النَّبِيِّينَ وَالصِّدِّيقِينَ وَالشُّهَدَاءِ» (رواه الترمذى والدارمى والدار قطنى ، ورواه ابن ماجة عن ابن عمر)
হাদীস নং: ৩৭০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সতর্কতা

মা'আরিফুল হাদীসের এ ধারাবাহিকতায়ই কুরআন ও হাদীসের দলীলের ভিত্তিতে বারংবার এটা সুস্পষ্ট করা হয়েছে যে, এরূপ সুসংবাদসমূহ এ শর্তের সাথে শর্তায়িত যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সেই সব মন্দ ও ধ্বংসকারী বিষয় থেকে বেঁচে থাকবে। যা বান্দাকে আল্লাহ তাআলার রহমত থেকে বঞ্চিত করে দেয়।

হস্তশিল্প, শিল্প, কারিগরী ও শ্রমের মর্যাদা
৩৭০. হযরত মিকদাম ইবনে মা'দী কারাব (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, কেউ কখনো উত্তম খাবার খেতে পারেনি নিজের হাতের উপার্জন ছাড়া। আর অবশ্যই আল্লাহর নবী দাউদ (আ) নিজের হাতের উপার্জন খেতেন। (বুখারী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ المِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيْكَرَبَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَكَلَ أَحَدٌ طَعَامًا قَطُّ، خَيْرًا مِنْ أَنْ يَأْكُلَ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ، وَإِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلاَمُ، كَانَ يَأْكُلُ مِنْ عَمَلِ يَدِهِ» (رواه البخارى)
হাদীস নং: ৩৭১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হস্তশিল্প, শিল্প, কারিগরী ও শ্রমের মর্যাদা
৩৭১. হযরত রাফি ইবনে খাদীজ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞাসা করা হয়, কোন উপার্জন উত্তম? তিনি বললেন, মানুষের নিজের হাতের উপার্জন, আর প্রত্যেক সৎ ব্যবসা। (আহমদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّ الْكَسْبِ أَطْيَبُ؟ قَالَ: «عَمَلُ الرَّجُلِ بِيَدِهِ وَكُلُّ بَيْعٍ مَبْرُورٍ» (رواه احمد)
হাদীস নং: ৩৭২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কৃষি ও বাগ-বাগিচার বিরাট পুরস্কার
৩৭২. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে কোন মু'মিন ব্যক্তি গাছ লাগায় অথবা কৃষিজাত ফসল ফলায় এরপর এ থেকে আহার করে পাখি, মানুষ কিংবা পশু, তা হবে তার জন্য সাদকাস্বরূপ। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا مِنْ مُؤْمِنٍ يَغْرِسُ غَرْسًا، أَوْ يَزْرَعُ زَرْعًا، فَيَأْكُلُ مِنْهُ طَيْرٌ أَوْ إِنْسَانٌ أَوْ بَهِيمَةٌ، إِلَّا كَانَ لَهُ بِهِ صَدَقَةٌ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৩৭৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বৈধ মাল-সম্পদ মু'মিন বান্দার জন্য আল্লাহর নিয়ামত
৩৭৩. হযরত আমর ইবনুল আ'স (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি তোমাকে একটি সেনাদলের দায়িত্বে পাঠাতে চাই। এরপর আল্লাহ তোমাকে নিরাপদে প্রত্যাবর্তন করুন। (আর সেই যুদ্ধ যাত্রায় তোমরা বিজয়ী হও) এবং যুদ্ধলব্ধ মাল তোমার হস্তগত হয় আর আল্লাহর পক্ষ হতে মালের উত্তম অংশ তুমি লাভ কর। আমি নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! ধন-সম্পদের জন্য আমি ইসলাম গ্রহন করিনি। বরং ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। আর এজন্য যে, আপনার সাথী হব। তখন তিনি বললেন, হে আমর! উত্তম লোকের জন্য পবিত্র মাল উত্তম বস্তু (মূল্যায়নযোগ্য নি'আমাত)। (মুসনাদে আহমদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ أَبْعَثَكَ عَلَى جَيْشٍ فَيُسَلِّمَكَ اللَّهُ وَيُغْنِمَكَ، وَأَزْعبُ لَكَ مِنَ الْمَالِ رَغْبَةً صَالِحَةً» . فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا أَسْلَمْتُ مِنْ أَجْلِ الْمَالِ، وَلَكِنِّي أَسْلَمْتُ زَعْبَةً فِي الْإِسْلَامِ، وَأَنْ أَكُونَ مَعَكَ. فَقَالَ: «يَا عَمْرُو، نِعْمَ الْمَالِ الصَّالِحُ لِلرَّجُلِ الصَّالِحِ» (رواه احمد)
হাদীস নং: ৩৭৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ধন-সম্পদ বিষয়ক পবিত্রতা ও গুরুত্ব
৩৭৪. হযরত ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করেন, কিয়ামতের দিন (যখন হিসাবের জন্য আল্লাহর সমীপে উপস্থিত হবেন তখন) মানুষের পা স্বীয় স্থান হতে নড়বে না যতক্ষণ না তাকে পাঁচটি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ১. তার জীবন সম্বন্ধে কিসে ইহা অতিবাহিত হয়েছে, ২. তার যৌবন সম্বন্ধে, কিসে ইহা ব্যয় হয়েছে, ৩. তার মাল সম্বন্ধে, কোথা হতে তা উপার্জন করেছে, ৪. কোথায় ইহা ব্যয় করেছে, ৫. যা জেনেছে সে বিষয়ে সে কি আমল করেছে? (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لاَ تَزُولُ قَدَمَا ابْنِ آدَمَ يَوْمَ القِيَامَةِ حَتَّى يُسْأَلَ عَنْ خَمْسٍ، عَنْ عُمُرِهِ فِيمَا أَفْنَاهُ، وَعَنْ شَبَابِهِ فِيمَا أَبْلاَهُ، وَمَالِهِ مِنْ أَيْنَ اكْتَسَبَهُ وَفِيمَا أَنْفَقَهُ، وَمَاذَا عَمِلَ فِيمَا عَلِمَ. (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৩৭৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হারাম সম্পদের অশুভ ও মন্দ পরিণতি
৩৭৫. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, এরূপ নয় যে, কোন বান্দা (কোনরূপ অবৈধ পন্থায়) হারাম সম্পদ উপার্জন করে আর এ থেকে সাদাকা দেয় তার সাদকা কবুল হবে। আর এ থেকে ব্যয় করে যে, তাতে (আল্লাহর পক্ষ হতে) বরকত হবে। আর সে ব্যক্তি হারাম সম্পদ (মৃত্যুর পর) রেখে যাবে তা হবে তার জাহান্নামের পাথেয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা মন্দকে মন্দ দ্বারা নিশ্চিহ্ন করেন না। বরং মন্দকে নেকী দ্বারা নিশ্চিহ্ন করেন। এটাই বাস্তব যে, অপবিত্র অপবিত্রকে ধৌত করতে পারে না। (মুসনাদে আহমদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قالَ: «لا يَكْسِبُ عَبْدٌ مَالَ حَرَامٍ فَيَتَصَدَّقُ مِنْهُ فَيُقْبَلُ مِنْهُ، وَلا يُنْفِقُ مِنْهُ فَيُبَارَكُ لَهُ فِيهِ، وَلا يَتْرُكُهُ خَلْفَ ظَهْرِهِ إِلا كَانَ زَادَهُ إِلَى النَّارِ، إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَا يَمْحُو السَّيِّئَ بِالسَّيِّئِ، وَلَكِنْ يَمْحُو السَّيِّئَ بِالْحَسَنِ، إِنَّ الْخَبِيثَ لَا يَمْحُو الْخَبِيثَ».
হাদীস নং: ৩৭৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হারাম সম্পদের অশুভ ও মন্দ পরিণতি
৩৭৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আল্লাহ পবিত্র, পবিত্র ছাড়া তিনি গ্রহণ করেন না। আল্লাহ তা'আলা মু'মিনগণকে সেই নির্দেশ দিয়েছেন যে নির্দেশ দিয়েছেন রাসূলগণকে। আল্লাহ বলেন, "হে রাসূলগণ! তোমরা পাক-পবিত্র খাদ্য গ্রহণ কর এবং উত্তম কাজ কর।" আর মু'মিনগণকে বলেন, "হে মু'মিনগণ! তোমরা পাক পবিত্র খাদ্য গ্রহণ কর যা আমি তোমাদেরকে দিয়েছি।" এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ এরূপ ব্যক্তির উল্লেখ করেন যে, ঔসকু-খুসকু চুল এবং ধূলায় ধূসরিত কাপড় ও দেহে দূর-দূরান্ত হতে ভ্রমণ করে এসে আসমানের প্রতি হাত তুলে দু'আ করে, হে আল্লাহ! অথচ তার খাদ্য হারাম, তার পানীয় হারাম, তার পোশাক হারাম। আর হারাম খাদ্য গ্রহণ দ্বারা জীবিত আছে। সুতরাং তার দু'আ কিভাবে কবুল করা হবে? (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّ اللهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبًا، وَإِنَّ اللهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ، فَقَالَ: {يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنَ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا، إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ} وَقَالَ: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ} ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ، يَمُدُّ يَدَهُ إِلَى السَّمَاءِ، يَا رَبِّ، يَا رَبِّ، وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ، وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ، وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ، وَغُذِيَ بِالْحَرَامِ، فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ ؟ " (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৩৭৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হারাম সম্পদের অশুভ ও মন্দ পরিণতি
৩৭৭. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি দশ দিরহাম দিয়ে কোন কাপড় ক্রয় করল আর এতে একটা দিরহাম হারাম ছিল, তবে যতক্ষণ পর্যন্ত উক্ত কাপড় তার শরীরে থাকে তার নামায আল্লাহ তা'আলা কবুল করবেন না। (একথা বলে) হযরত ইবনে উমর স্বীয় দুই আঙ্গুল তার দু'কানে ঢুকান এবং বলেন, আমার এ দু'কান বধির হয়ে যাক যদি আমি একথা রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে শুনে না থাকি। (অর্থাৎ আমি যা বলেছি তা আমি নিজ কানে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলতে শুনেছি। (আহমদ, বায়হাকী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: «مَنِ اشْتَرَى ثَوْبًا بِعَشَرَةِ دَرَاهِمَ، وَفِيهِ دِرْهَمٌ حَرَامٌ، لَمْ يَقْبَلِ اللَّهُ لَهُ صَلَاةً مَادَامَ عَلَيْهِ» ، قَالَ: ثُمَّ أَدْخَلَ أُصْبُعَيْهِ فِي أُذُنَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «صُمَّتَا إِنْ لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَمِعْتُهُ يَقُولُهُ» (رواه احمد والبيهقى فى شعب الايمان)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৩৭৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হারাম সম্পদের অশুভ ও মন্দ পরিণতি
৩৭৮. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, সেই গোশত ও সেই দেহ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, যা হারাম মাল দ্বারা বর্ধিত হয়েছে। আর প্রত্যেক দেহ যা হারাম মাল দ্বারা বর্ধিত হয়েছে জাহান্নামই তার উপযুক্ত স্থান। (আহমদ, দারিমী, বায়হাকী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
َعَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ لَحْمٌ نَبَتَ مِنَ السُّحْتِ، كَانَتِ النَّارُ أَوْلَى بِهِ. (رواه احمد والدارمى والبيهقى فى شعب الايمان)
হাদীস নং: ৩৭৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ হারাম সম্পদের অশুভ ও মন্দ পরিণতি
৩৭৯. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, মানুষের মধ্যে এমন এক সময় আসবে যে, মানুষ চিন্তা করবে না অন্যের নিকট হতে সে কী গ্রহণ করছে, হালাল না কি হারাম? (বুখারী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: « يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ، لاَ يُبَالِي المَرْءُ بِمَا أَخَذَ مِنْهُ، مِنَ الْحَلاَلِ أَمْ مِنْ الحَرَامِ» (رواه البخارى وزاد عليه فاذ ذالك لا تجاب لهم دعوة)