মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

যাকাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৬০ টি

হাদীস নং: ২১
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুহাদ্দিসীনে কেরাম কিতাবুয যাকাতেই ঐসব হাদীসও লিপিবদ্ধ করে থাকেন, যেগুলোতে বলা হয়েছে যে, কোন্ অবস্থায় সওয়াল করা নিষেধ এবং কোন অবস্থায় এর অনুমতি রয়েছে। তাদের এ নীতির অনুসরণেই এ মা'আরিফুল হাদীসেও ঐসব হাদীস এখানে আনা হচ্ছে।
২১. হযরত হুব্‌শী ইবনে জুনাদাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: সওয়াল করা জায়েয নয় ধনী ব্যক্তির জন্য এবং সুস্থ-সবল মানুষের জন্য। তবে এমন ব্যক্তির জন্য জায়েয, যাকে অভাব ও দারিদ্র্য মাটিতে ফেলে দিয়েছে অথবা কোন অসহনীয় ঋণের বোঝা তার উপর চেপে গিয়েছে। আর যে ব্যক্তি (অভাবের তাড়নায় নয়; বরং কেবল) সম্পদ বৃদ্ধির জন্য মানুষের কাছে হাত পাতে, কিয়ামতের দিন তার এ ভিক্ষাবৃত্তি তার মুখে একটি ক্ষত হিসাবে ফুটে উঠবে এবং এ ভিক্ষালব্ধ মাল জাহান্নামের উত্তপ্ত পাথর হবে, যা সে ভক্ষণ করবে। এখন যার মন চায় সে সওয়াল কম করুক আর যার মন চায় সে বেশী করে সওয়াল করুক (এবং আখেরাতে এর ফল ভোগের জন্য প্রস্তুত থাকুক)। -তিরমিযী
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ حُبْشِيِّ بْنِ جُنَادَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لاَ تَحِلُّ لِغَنِيٍّ ، وَلاَ لِذِي مِرَّةٍ سَوِيٍّ ، إِلاَّ لِذِي فَقْرٍ مُدْقِعٍ ، أَوْ غُرْمٍ مُفْظِعٍ ، وَمَنْ سَأَلَ النَّاسَ لِيُثْرِيَ بِهِ مَالَهُ ، كَانَ خُمُوشًا فِي وَجْهِهِ يَوْمَ القِيَامَةِ ، وَرَضْفًا يَأْكُلُهُ مِنْ جَهَنَّمَ ، وَمَنْ شَاءَ فَلْيُقِلَّ ، وَمَنْ شَاءَ فَلْيُكْثِرْ
(رواه الترمذى)
হাদীস নং: ২২
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কোন্ পরিস্থিতিতে সওয়াল করা বৈধ আর কোন্ অবস্থায় নিষেধ
২২. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সম্পদ বৃদ্ধির জন্য মানুষের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে সে আসলে নিজের জন্য জাহান্নামের অঙ্গার প্রার্থনা করে। (অর্থাৎ, সে এভাবে ভিক্ষা করে যা লাভ করবে, আখেরাতে সেটা তার জন্য জাহান্নামের অঙ্গার হয়ে যাবে।) এখন সে চাইলে এটা কম করুক অথবা বেশী করে করুক। -মুসলিম
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ « مَنْ سَأَلَ النَّاسَ أَمْوَالَهُمْ تَكَثُّرًا ، فَإِنَّمَا يَسْأَلُ جَمْرًا فَلْيَسْتَقِلَّ أَوْ لِيَسْتَكْثِرْ »
(رواه مسلم)
হাদীস নং: ২৩
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কোন্ পরিস্থিতিতে সওয়াল করা বৈধ আর কোন্ অবস্থায় নিষেধ
২৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি মানুষের কাছে সওয়াল করে, অথচ তার কাছে এ পরিমাণ সম্পদ আছে, যা তাকে পরমুখাপেক্ষিতা থেকে ফিরিয়ে রাখে, কিয়ামতের দিন সে এ অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তার সওয়াল তার মুখমন্ডলে একটি ক্ষতের আকৃতি ধারণ করবে। (মুখের ক্ষত বুঝানোর জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) 'ঘুমূশ', 'খুদূশ' নাকি 'কুদূহ' শব্দ ব্যবহার করেছেন, এ ব্যাপারে রাবীর সন্দেহ রয়েছে। তবে সবগুলো শব্দই সমার্থবোধক।) জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কি পরিমাণ মাল মানুষকে অমুখাপেক্ষী রাখে? তিনি বললেন: পঞ্চাশ দেরহাম অথবা এর সমমূল্যের সোনা। -আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, দারেমী
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَنْ سَأَلَ ، وَلَهُ مَا يُغْنِيهِ ، جَاءَتْ مَسْأَلَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي وَجْهِهِ خُمُوشٌ أَوْ خُدُوشٌ ، أَوْ كُدُوحٌ » ، قِيلَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، مَا يُغْنِيهِ؟ قَالَ « خَمْسُونَ دِرْهَمًا ، أَوْ قِيمَتُهَا مِنَ الذَّهَبِ »
(رواه ابوداؤد والترمذى والنسائى وابن ماجه والدارمى)
হাদীস নং: ২৪
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সওয়ালে সর্বাবস্থায়ই অপমান রয়েছে
২৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদিন দান খয়রাত এবং সওয়াল থেকে বিরত থাকার প্রসঙ্গ আলোচনা করতে গিয়ে মিম্বরে দাঁড়িয়ে বললেন: উপরের হাত নীচের হাত থেকে উত্তম। আর উপরের হাত হচ্ছে দানের হাত এবং নীচের হাত হচ্ছে ভিক্ষার হাত। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الزکوٰۃ
عَنِ بْنِ عُمَر أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَهُوَ عَلَى المِنْبَرِ وَهُوَ يَذْكُرُ الصَّدَقَةَ وَالتَّعَفُّفَ عَنِ الْمَسْأَلَةِ اليَدُ العُلْيَا خَيْرٌ مِنَ اليَدِ السُّفْلَى ، فَاليَدُ العُلْيَا : هِيَ المُنْفِقَةُ ، وَالسُّفْلَى : هِيَ السَّائِلَةُ.
(رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ২৫
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সওয়াল করতে বাধ্য হলে আল্লাহর নেক বান্দাদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে
২৫. তাবেয়ী ইবনুল ফারাসী থেকে বর্ণিত, ফারাসী রাযি. বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি আমার প্রয়োজনে মানুষের কাছে সওয়াল করব? তিনি বললেন: (যতদূর সম্ভব) সওয়াল করতে যেয়ো না। আর যদি কোন উপায়ান্তর না থাকে, তাহলে আল্লাহর নেক বান্দাদের কাছে সওয়াল করবে। -আবু দাউদ, নাসায়ী
کتاب الزکوٰۃ
عَنِ ابْنِ الْفِرَاسِيِّ ، أَنَّ الْفِرَاسِيَّ ، قَالَ قُلْتُ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَسْأَلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « لَا ، وَإِنْ كُنْتَ سَائِلًا لَا بُدَّ ، فَاسْأَلِ الصَّالِحِينَ » (رواه ابوداؤد والنسائى)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৬
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নিজের প্রয়োজন মানুষের কাছে নয় আল্লাহর কাছে পেশ করবে
২৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তির কোন অভাব অনটন দেখা দিল আর সে এটা মানুষের সামনে পেশ করল (এবং তাদের কাছে সাহায্য চাইল,) তার এ অভাব দূর হবে না। আর যে ব্যক্তি এটা আল্লাহর সামনে পেশ করল, খুবই আশা করা যায় যে, আল্লাহ্ তা'আলা তার এ অভাব দূর করে দিবেন- হয়তো দ্রুত মৃত্যু দিয়ে (যদি তার মৃত্যুর নির্ধারিত সময় এসে গিয়ে থাকে) অথবা কিছু বিলম্বে স্বচ্ছলতা দান করে। -আবু দাউদ, তিরমিযী
کتاب الزکوٰۃ
عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَنْ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ ، فَأَنْزَلَهَا بِالنَّاسِ ، لَمْ تُسَدَّ فَاقَتُهُ ، وَمَنْ أَنْزَلَهَا بِاللَّهِ ، أَوْشَكَ اللَّهُ لَهُ ، بِالْغِنَى ، إِمَّا بِمَوْتٍ عَاجِلٍ ، أَوْ غِنًى آجِلٍ »
(رواه ابوداؤد والترمذى)
হাদীস নং: ২৭
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মানুষের কাছে সওয়াল না করার উপর জান্নাতের প্রতিশ্রুতি
২৭. হযরত সাওবান রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি আমাকে এ প্রতিশ্রুতি দিবে যে, সে মানুষের কাছে কোন কিছু সওয়াল করবে না, আমি তাকে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিব। সাওবান বললেন, আমি এ প্রতিজ্ঞা করছি। বর্ণনাকারী বলেন, এ কারণে হযরত সাওবান কারো কাছে কোন কিছু সওয়াল করতেন না। -আবূ দাউদ, নাসায়ী
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ ثَوْبَانُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَنْ يَكْفُلُ لِي أَنْ لَا يَسْأَلَ النَّاسَ شَيْئًا ، فأَتَكَفَّلُ لَهُ بِالْجَنَّةِ فَقَالَ ثَوْبَانُ : أَنَا ، فَكَانَ لَا يَسْأَلُ أَحَدًا شَيْئًا.
(رواه ابوداؤد والنسائى)
হাদীস নং: ২৮
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যদি সওয়াল ও মনের লোভ ছাড়া কোন কিছু পাওয়া যায় তাহলে এটা গ্রহণ করে নেওয়া চাই
২৮. হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) কখনো আমাকে কিছু মাল দিতে চাইতেন। আমি তখন বলতাম, আমার চেয়ে বেশী অভাবী কাউকে এটা দিয়ে দিন। তিনি বলতেন: এটা গ্রহণ করে নাও এবং নিজের মালিকানায় নিয়ে নাও। (তারপর ইচ্ছা করলে) তুমি এটা দান করে দাও। বস্তুতঃ যে মাল-সম্পদ তোমার কাছে এভাবে আসে যে, তুমি তা পাওয়ার জন্য লালায়িতও নও এবং সওয়ালকারীও নও, তা (আল্লাহর দান মনে করে) গ্রহণ করে নাও। আর যা এভাবে তোমার কাছে আসে না, তার পেছনে তোমার মনকে ধাবিত করো না। বুখারী, মুসলিম
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ : كَانَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْطِينِي العَطَاءَ ، فَأَقُولُ : أَعْطِهِ مَنْ هُوَ أَفْقَرُ إِلَيْهِ مِنِّي ، فَقَالَ : « خُذْهُ إِذَا جَاءَكَ مِنْ هَذَا المَالِ شَيْءٌ وَأَنْتَ غَيْرُ مُشْرِفٍ وَلاَ سَائِلٍ ، فَخُذْهُ وَمَا لاَ فَلاَ تُتْبِعْهُ نَفْسَكَ »
(رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ২৯
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যে পর্যন্ত পরিশ্রম করে জীবিকা উপার্জন করা যায় সে পর্যন্ত সওয়াল করতে নেই।
২৯. হযরত যুবায়র ইবনুল আউওয়াম রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, তোমাদের কেউ নিজ রশি নিয়ে পাহাড়ে চলে যাবে, তারপর নিজ পিঠে করে কাঠের বোঝা বয়ে এনে তা বাজারে বিক্রি করবে আর এভাবে আল্লাহ তা'আলা তা দ্বারা তার চেহারাকে (অন্যের মুখাপেক্ষী হওয়ার বেইজ্জতি থেকে) রক্ষা করবেন, এটা তার পক্ষে মানুষের কাছে প্রার্থনা করা অপেক্ষা উত্তম, যারা তাকে দিতেও পারে কিংবা নাও দিতে পারে। -বুখারী
کتاب الزکوٰۃ
عَنِ الزُّبَيْرِ بْنِ العَوَّامِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « لَأَنْ يَأْخُذَ أَحَدُكُمْ حَبْلَهُ ، فَيَأْتِيَ بِحُزْمَةِ الحَطَبِ عَلَى ظَهْرِهِ ، فَيَبِيعَهَا ، فَيَكُفَّ اللَّهُ بِهَا وَجْهَهُ خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَسْأَلَ النَّاسَ أَعْطَوْهُ أَوْ مَنَعُوهُ »
(رواه البخارى)
হাদীস নং: ৩০
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যে পর্যন্ত পরিশ্রম করে জীবিকা উপার্জন করা যায় সে পর্যন্ত সওয়াল করতে নেই।
৩০. হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক আনসারী ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে কিছু সাহায্য প্রার্থনা করে। তখন তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তোমার ঘরে কি কিছু নাই? সে বলেঃ হ্যাঁ, একটি কম্বল মাত্র যার অর্ধেক আমি পরিধান করি এবং বাকী অর্ধেক বিছিয়ে শয়ন করি। আর আছে একটি পেয়ালা, যাতে আমি পানি পান করি। তিনি বলেনঃ উভয় বস্তু আমার নিকট নিয়ে আস। রাবী বলেনঃ সে তা আনয়ন করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা স্বহস্তে ধারণ পূর্বক (নিলামের ডাকের মত) বলেনঃ কে এই দুটি ক্রয় করতে ইচ্ছুক? এক ব্যক্তি বলে, আমি তা এক দিরহামের বিনিময়ে গ্রহণ করতে চাই।

অতঃপর তিনি বলেনঃ এক দিরহামের অধিক কে দিবে? তিনি দুই বা তিনবার এইরূপ উচ্চারণ করেন। তখন এক ব্যক্তি বলে, আমি তা দুই দিরহামের বিনিময়ে গ্রহণ করব। তিনি সেই ব্যক্তিকে তা প্রদান করেন এবং বিনিময়ে দুইটি দিরহাম গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি তা আনসারীর হাতে তুলে দিয়ে বলেনঃ এর একটি দিরহাম দিয়ে কিছু খাদ্য ক্রয় করে তোমার পরিবার-পরিজনদের দাও; আর বাকী এক দিরহাম দিয়ে একটি কুঠার কিনে আমার নিকট আস। লোকটি কুঠার কিনে আনলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বহস্তে তাতে হাতল লাগিয়ে তার হাতে দিয়ে বলেনঃ এখন তুমি যাও এবং জঙ্গল হতে কাঠ কেটে এনে বিক্রী কর। আর আমি যেন তোমাকে পনের দিন না দেখি।

অতঃপর সে চলে গেল এবং কাঠ কেটে এনে বিক্রয় করতে থাকে। অতঃপর সে (পনের দিন পর) আসল। সে তখন প্রাপ্ত হয়েছিল দশটি দিরহাম যা দিয়ে সে কিছু কাপড় এবং কিছু খাদ্য ক্রয় করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ভিক্ষাবৃত্তির চাইতে এটা তোমার জন্য উত্তম। কেননা ভিক্ষাবৃত্তির ফলে কিয়ামতের দিন তোমার চেহারা ক্ষত-বিক্ষত হত। ভিক্ষা চাওয়া তিন শ্রেনীর ব্যক্তি ব্যতীত অন্যদের জন্য হালাল নয়ঃ (১) ধূলা-মলিন নিঃস্ব ভিক্ষুকের জন্য, (২) প্রচন্ড ঋণের চাপে জর্জরিত ব্যক্তির জন্য এবং (৩) যার উপর দিয়াত (রক্তপণ) আছে, অথচ তা পরিশোধের অক্ষমতার কারণে নিজের জীবন বিপন্ন— এ ধরনের ব্যক্তিরা যাচ্ঞা করতে পারে।
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَجُلًا مِنَ الْأَنْصَارِ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْأَلُهُ ، فَقَالَ : « أَمَا فِي بَيْتِكَ شَيْءٌ؟ » فَقَالَ : بَلَى ، حِلْسٌ نَلْبَسُ بَعْضَهُ وَنَبْسُطُ بَعْضَهُ ، وَقَعْبٌ نَشْرَبُ فِيهِ مِنَ الْمَاءِ ، قَالَ : « ائْتِنِي بِهِمَا » ، قَالَ : فَأَتَاهُ بِهِمَا ، فَأَخَذَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِهِ ، وَقَالَ : « مَنْ يَشْتَرِي هَذَيْنِ؟ » قَالَ رَجُلٌ : أَنَا ، آخُذُهُمَا بِدِرْهَمٍ ، قَالَ : « مَنْ يَزِيدُ عَلَى دِرْهَمٍ مَرَّتَيْنِ ، أَوْ ثَلَاثًا » ، قَالَ رَجُلٌ : أَنَا آخُذُهُمَا بِدِرْهَمَيْنِ فَأَعْطَاهُمَا إِيَّاهُ ، وَأَخَذَ الدِّرْهَمَيْنِ وَأَعْطَاهُمَا الْأَنْصَارِيَّ ، وَقَالَ : « اشْتَرِ بِأَحَدِهِمَا طَعَامًا فَانْبِذْهُ إِلَى أَهْلِكَ ، وَاشْتَرِ بِالْآخَرِ قَدُومًا فَأْتِنِي بِهِ ، » ، فَأَتَاهُ بِهِ ، فَشَدَّ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عُودًا بِيَدِهِ ، ثُمَّ قَالَ لَهُ : « اذْهَبْ فَاحْتَطِبْ وَبِعْ ، وَلَا أَرَيَنَّكَ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا » ، فَذَهَبَ الرَّجُلُ يَحْتَطِبُ وَيَبِيعُ ، فَجَاءَ وَقَدْ أَصَابَ عَشْرَةَ دَرَاهِمَ ، فَاشْتَرَى بِبَعْضِهَا ثَوْبًا ، وَبِبَعْضِهَا طَعَامًا ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " هَذَا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ تَجِيءَ الْمَسْأَلَةُ نُكْتَةً فِي وَجْهِكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لَا تَصْلُحُ إِلَّا لِثَلَاثَةٍ : لِذِي فَقْرٍ مُدْقِعٍ ، أَوْ لِذِي غُرْمٍ مُفْظِعٍ ، أَوْ لِذِي دَمٍ مُوجِعٍ "
(رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ৩১
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যাকাত ছাড়া অন্যান্য আর্থিক দান-খয়রাত
৩১. হযরত ফাতেমা বিনতে কায়েস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মানুষের মালের মধ্যে যাকাত ছাড়াও আরো হক রয়েছে। তারপর তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন:

لَیۡسَ الۡبِرَّ اَنۡ تُوَلُّوۡا وُجُوۡہَکُمۡ قِبَلَ الۡمَشۡرِقِ وَالۡمَغۡرِبِ وَلٰکِنَّ الۡبِرَّ مَنۡ اٰمَنَ بِاللّٰہِ وَالۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ وَالۡمَلٰٓئِکَۃِ وَالۡکِتٰبِ وَالنَّبِیّٖنَ ۚ وَاٰتَی الۡمَالَ عَلٰی حُبِّہٖ ذَوِی الۡقُرۡبٰی وَالۡیَتٰمٰی وَالۡمَسٰکِیۡنَ وَابۡنَ السَّبِیۡلِ ۙ وَالسَّآئِلِیۡنَ وَفِی الرِّقَابِ ۚ وَاَقَامَ الصَّلٰوۃَ وَاٰتَی الزَّکٰوۃَ الخ

অর্থাৎ, প্রকৃত পুণ্য (এর মাপকাঠি) এটা নয় যে, তোমরা (ইবাদতে) পশ্চিম দিকে মুখ করবে, না পূর্ব দিকে; বরং প্রকৃত পুণ্যের পথ কেবল তাদের পথ, যারা ঈমান আনে আল্লাহর প্রতি, আখেরাত দিবসের প্রতি, ফেরেশতাদের প্রতি, আল্লাহর কিতাবের প্রতি ও তাঁর নবী রাসূলদের প্রতি। আর তারা সম্পদের ভালবাসা সত্ত্বেও তা খরচ করে আত্মীয়দের উপর, ইয়াতীমদের উপর, মিসকীনদের উপর, পথিক মুসাফিরদের উপর সওয়ালকারীদের উপর এবং দাসমুক্তির কাজে। আর তারা ঠিকমত নামায আদায় করে ও যাকাত প্রদান করে। -তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, দারেমী
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ ، قَالَتْ : قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّ فِي الْمَالِ لَحَقًّا سِوَى الزَّكَاةِ ، ثُمَّ تَلاَ لَيْسَ البِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ المَشْرِقِ وَالمَغْرِبِ الآيَةَ.....
(رواه الترمذى وابن ماجه والدارمى)
হাদীস নং: ৩২
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আমীর-গরীব প্রতিটি মুসলমানের জন্য সদাকা অপরিহার্য
৩২. হযরত আবূ মূসা আশআরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: প্রতিটি মুসলমানের উপর সদাকা জরুরী। লোকেরা বলল, কারো কাছে যদি সদাকা করার মত কিছু না থাকে, তাহলে সে কি করবে? তিনি উত্তরে বললেন: পরিশ্রম করে নিজের হাতে উপার্জন করবে এবং তা দিয়ে নিজেও উপকৃত হবে এবং সদাকাও করবে। লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, এটাও যদি করতে না পারে, তাহলে কি করবে? তিনি উত্তর দিলেন: কোন বিপদগ্রস্ত ও অভাবী মানুষের কোন কাজ করে দিয়ে তার সাহায্য করবে। (এটাও এক ধরনের সদাকা।) তারা আবার প্রশ্ন করল, সে যদি এটাও করতে না পারে, তাহলে কি করবে? তিনি বললেন: তাহলে নিজের মুখ দিয়েই মানুষকে ভাল কাজের কথা বলবে। তারা আবার জিজ্ঞাসা করল, সে যদি এটাও করতে না পারে? তিনি উত্তর দিলেন: (কমপক্ষে) নিজেকে মন্দ থেকে ফিরিয়ে রাখবে। (অর্থাৎ, সে এ ব্যাপারে চেষ্টা করবে যে, তার দ্বারা যেন কারো কষ্ট না হয়।) কেননা, তার জন্য এটাও এক ধরনের সদাকা। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ صَدَقَةٌ » قَالُوا : فَإِنْ لَمْ يَجِدْ؟ قَالَ : « فَلْيَعْمَلُ بِيَدَيْهِ فَيَنْفَعُ نَفْسَهُ وَيَتَصَدَّقُ » قَالُوا : فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ؟ قَالَ : « فَيُعِينُ ذَا الحَاجَةِ المَلْهُوفَ » قَالُوا : فَإِنْ لَمْ يَفْعَلْهُ؟ قَالَ : « فَيَأْمُرُ بِالخَيْرِ » قَالُوا : فَإِنْ لَمْ يَفْعَلْ؟ قَالَ : « فَيُمْسِكُ عَنِ الشَّرِّ فَإِنَّهُ لَهُ صَدَقَةٌ »
(رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৩৩
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দান-খয়রাতের প্রতি উৎসাহদান ও এর বরকত
৩৩. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মহান আল্লাহ বলেনঃ হে আদম সন্তান! তুমি (আমার অভাবী বান্দাদের উপর) নিজের উপার্জন থেকে খরচ কর, আমি আপন ভান্ডার থেকে তোমাকে দিতে থাকব। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : أَنْفِقْ يَا ابْنَ آدَمَ أُنْفِقْ عَلَيْكَ "
(رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৩৪
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দান-খয়রাতের প্রতি উৎসাহদান ও এর বরকত
৩৪. হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেছিলেন: তুমি আল্লাহর উপর ভরসা রেখে তাঁর পথে মুক্তহস্তে খরচ করে যাও, হিসাব করতে যেয়ো না। (অর্থাৎ, এ চিন্তায় পড়ো না যে, আমার কাছে কত আছে, আর এখান থেকে আল্লাহর পথে কতটুকু খরচ করব।) তুমি যদি এভাবে হিসাব করে আল্লাহর পথে ব্যয় কর, তাহলে আল্লাহও তোমাকে হিসাব করেই দেবেন। সম্পদ আঁকড়ে ধরে ও আবদ্ধ করে রাখবে না। এমন করলে আল্লাহও তোমার সাথে এমন আচরণই করবেন। (অর্থাৎ, রহমত ও বরকতের দরজা তোমার উপর বন্ধ করে দেবেন।) যতদূর সম্ভব, মুক্তহস্ত হওয়ার চেষ্টা কর। বুখারী, মুসলিম
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَسْمَاءَ قَالَتْ : قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « أَنْفِقِي ، وَلاَ تُحْصِي ، فَيُحْصِيَ اللَّهُ عَلَيْكِ ، وَلاَ تُوعِي ، فَيُوعِيَ اللَّهُ عَلَيْكِ ارْضَخِي مَاسْتَطَعْتِ »
(رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৩৫
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দান-খয়রাতের প্রতি উৎসাহদান ও এর বরকত
৩৫. হযরত আবূ উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: হে আদম-সন্তান! আল্লাহর দেওয়া সম্পদ, যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত, এটা আল্লাহর পথে খরচ করে ফেলা তোমার জন্য উত্তম, আর এটা ধরে রাখা তোমার জন্য অমঙ্গলকর। হ্যাঁ, জীবন ধারণের প্রয়োজন পরিমাণ রেখে দেওয়াতে কোন নিন্দা নেই। আর খরচের বেলায় নিজের পোষ্যদের থেকে শুরু কর। -মুসলিম
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَبِىْ أُمَامَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنْ تَبْذُلِ الْخَيْرَ خَيْرٌ لَكَ ، وَإِنْ تُمْسِكْهُ شَرٌّ لَكَ. وَلَا تُلَامُ عَلَى الْكَفَافِ ، وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ.
(رواه مسلم)
হাদীস নং: ৩৬
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর পথে যা খরচ করে দেওয়া হয়, সেটাই কাজে আসবে
৩৬. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, লোকেরা একটি ছাগল যবেহ করল (এবং এর গোশত আল্লাহর ওয়াস্তে বন্টন করে দেওয়া হল।) এর মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে জিজ্ঞাসা করলেন: ছাগলের কি অবশিষ্ট রয়েছে? আয়েশা (রাঃ) উত্তর দিলেন, কেবল একটি রান রয়েছে, (বাকী সব শেষ।) তিনি বললেন: এ রানটি ছাড়া যা বন্টন করে দেওয়া হয়েছে, সেটাই আসলে অবশিষ্ট রয়েছে। (অর্থাৎ, আখেরাতে এর প্রতিদান পাওয়া যাবে।) -তিরমিযী
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ عَائِشَةَ ، أَنَّهُمْ ذَبَحُوا شَاةً ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَا بَقِيَ مِنْهَا؟ قَالَتْ : مَا بَقِيَ مِنْهَا إِلاَّ كَتِفُهَا قَالَ : بَقِيَ كُلُّهَا غَيْرَ كَتِفِهَا.
(رواه الترمذى)
হাদীস নং: ৩৭
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর পথে ব্যয় করার ব্যাপারে তাওয়াক্কুলধারীদের রীতি
৩৭. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমার কাছে যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনা হয়ে যায়, তাহলে আমার জন্য এটা খুবই আনন্দের বিষয় হবে যে, তিন রাত অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বেই আমি এটা আল্লাহর রাহে খরচ করে ফেলব, আর এর কিছুই আমার কাছে অবশিষ্ট থাকবে না। হ্যাঁ, এ পরিমাণ রেখে দিতে পারি, যার দ্বারা ঋণ পরিশোধ করা যায়। -বুখারী
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « لَوْ كَانَ لِي مِثْلُ أُحُدٍ ذَهَبًا ، لَسَرَّنِي أَنْ لاَ يَمُرَّ عَلَيَّ ثَلاَثُ لَيَالٍ وَعِنْدِي مِنْهُ شَيْءٌ ، إِلَّا شَيْئًا أَرْصُدُهُ لِدَيْنٍ »
(رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৩৮
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর পথে ব্যয় করার ব্যাপারে তাওয়াক্কুলধারীদের রীতি
৩৮. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম (ﷺ) এক দিন হযরত বিলালের কাছে এসে দেখলেন যে, তার কাছে খেজুরের একটি স্তূপ রয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: হে বিলাল! এটা কি? বিলাল উত্তর দিলেন, আমি ভবিষ্যতের জন্য এগুলো সঞ্চয় করে রেখেছি। (যাতে সামনে জীবিকার ব্যাপারে কিছুটা নিশ্চিন্ত থাকতে পারি।) তিনি বললেনঃ তুমি কি ভয় কর না যে, কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুনে তুমি এর উত্তাপ ও ধোঁয়া দেখবে। হে বিলাল! যা হাতে আসে সেটা নিজের জন্য এবং অন্যদের জন্য খরচ করতে থাক আর আরশের মালিকের পক্ষ থেকে দারিদ্র্যের ভয় করো না। (অর্থাৎ, এ বিশ্বাস রাখ যে, যেভাবে তিনি বর্তমানে এটা দিয়েছেন, ভবিষ্যতেও এভাবেই দিয়ে যাবেন। তাঁর ভান্ডারে কিসের কমতি আছে? তাই ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের চিন্তা করো না।) বায়হাকী
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، دَخَلَ عَلَى بِلَالٍ وَعِنْدَهُ صُبْرَةٌ مِنْ تَمْرٍ ، فَقَالَ : " مَا هَذَا يَا بِلَالُ؟ " قَالَ : تَمْرٌ ادَّخَرْتُهُ ، قَالَ : " أَمَا تَخْشَى ، أَنْ تَرَى لَهُ بُخَارٌ فِي نَارِ جَهَنَّمَ يَوْم الْقِيَامَةِ؟ أَنْفِقْ يَا بِلَالُ وَلَا تَخْشَ مِنْ ذِي الْعَرْشِ إِقْلَالًا "
(رواه البيهقى فى شعب الايمان)
হাদীস নং: ৩৯
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যে বিত্তশালী ব্যক্তি মুক্তহস্তে আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, সে খুবই ক্ষতির মুখে রয়েছে
৩৯. হযরত আবু যর গেফারী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর খেদমতে হাজির হলাম। তিনি তখন কা'বা ঘরের ছায়ায় বসা ছিলেন। তিনি আমাকে যখন দেখলেন, তখন বলে উঠলেন: কা'বার মালিকের শপথ! ওরা খুবই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। আমি আরয করলাম, আমার পিতা-মাতা আপনার উপর কুরবান। তারা কারা, যারা খুবই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে? তিনি উত্তর দিলেন: যারা বিরাট সম্পদের অধিকারী। তবে, তাদের মধ্য থেকে ঐসব লোক এর বাইরে, যারা সামনে, পেছনে, ডানে, বায়ে (অর্থাৎ, চতুর্দিকে কল্যাণ খাতে) নিজেদের অর্থ-সম্পদ মুক্তহস্তে খরচ করে যায়। কিন্তু সম্পদশালী ও পুঁজিপতিদের মধ্যে এমন লোক কমই রয়েছে। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَبِي ذَرٍّ ، قَالَ : انْتَهَيْتُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ جَالِسٌ فِي ظِلِّ الْكَعْبَةِ ، فَلَمَّا رَآنِي قَالَ : « هُمُ الْأَخْسَرُونَ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ » فَقُلْتُ : فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي ، مَنْ هُمْ؟ قَالَ : « هُمُ الْأَكْثَرُونَ أَمْوَالًا ، إِلَّا مَنْ قَالَ هَكَذَا وَهَكَذَا وَهَكَذَا مِنْ بَيْنَ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ وَعَنْ يَمِينِهِ وَعَنْ شِمَالِهِ وَقَلِيلٌ مَا هُمْ.
(رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ৪০
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সদাকা ও দান-খয়রাতের বৈশিষ্ট্য ও বরকত
৪০. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: সদাকা আল্লাহর ক্রোধকে নির্বাপিত করে এবং মন্দ-মৃত্যু রোধ করে। -তিরমিযী
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَنَسِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّ الصَّدَقَةَ لَتُطْفِئُ غَضَبَ الرَّبِّ وَتَدْفَعُ مِيتَةَ السُّوءِ.
(رواه الترمذى)