মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
যাকাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৬০ টি
হাদীস নং: ৪১
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সদাকা ও দান-খয়রাতের বৈশিষ্ট্য ও বরকত
৪১. হযরত মারসাদ ইবনে আব্দুল্লাহ্ (রহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে জনৈক সাহাবী বলেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছেন: কিয়ামতের দিন মু'মিনের উপর ছায়া হবে তার সদাকা। মুসনাদে আহমাদ
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ مَرْثَدِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ : حَدَّثَنِي بَعْضُ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : " إِنَّ ظِلَّ الْمُؤْمِنِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَدَقَتُهُ "
(رواه احمد)
(رواه احمد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪২
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দানে ধন-সম্পদ কমে না; বরং এতে বরকত আসে
৪২. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: সদাকায় মাল কমে যায় না; (বরং বৃদ্ধি পায়,) ক্ষমা দ্বারা মানুষ ছোট হয় না; বরং আল্লাহ তার সম্মান বাড়িয়ে দেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য বিনয় অবলম্বন করে, আল্লাহ্ তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করেন। -মুসলিম
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ ، وَمَا زَادَ اللهُ بِعَفْوٍ ، إِلَّا عِزًّا ، وَمَا تَوَاضَعَ أَحَدٌ لِلَّهِ إِلَّا رَفَعَهُ اللهُ »
(رواه مسلم)
(رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৩
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ দানে ধন-সম্পদ কমে না; বরং এতে বরকত আসে
৪৩. হযরত আবু উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আবু যর রাযি. আরয করলেন, হে আল্লাহর নবী! আপনি বলুন, সদাকা কি? (অর্থাৎ, আল্লাহর পক্ষ থেকে এর কি বিনিময় পাওয়া যাবে?) তিনি উত্তরে বললেন: দ্বিগুণ-বহুগুণ। (অর্থাৎ, কেউ আল্লাহর পথে যা দান করবে, বিনিময়ে এর কয়েক গুণ পাবে।) আর আল্লাহর কাছে আরো অতিরিক্ত রয়েছে। -মুসনাদে আহমাদ
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ : قَالَ أَبُوْ ذَرٍّ : يَا نَبِىَّ اللَّهِ أَرَأَيْتَ الصَّدَقَةَ مَا هِيَ؟ قَالَ : "أَضْعَافٌ مُضَاعَفَةٌ ، وَعِنْدَ اللهِ مَزِيدٌ "
(رواه احمد)
(رواه احمد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৪
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অভাবীদেরকে পানাহার ও বস্ত্র দানের প্রতিদান ও সওয়াব
৪৪. হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে কোন মুসলমান অপর কোন বস্ত্রহীন মুসলমানকে কাপড় পরিধান করাবে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে বেহেশতের সবুজ পোশাক পরাবেন। যে কোন মুসলমান কোন মুসলমানকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় আহার করাবে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে বেহেশতের ফল খাওয়াবেন। আর যে কোন মুসলমান অপর মুসলমানকে পিপাসার সময় পানি পান করাবে, আল্লাহ তা'আলা তাকে বেহেশতের মোহরযুক্ত পানীয় পান করাবেন। -আবূ দাউদ, তিরমিযী
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « أَيُّمَا مُسْلِمٍ كَسَا مُسْلِمًا ثَوْبًا عَلَى عُرْيٍ ، كَسَاهُ اللَّهُ مِنْ خُضْرِ الْجَنَّةِ ، وَأَيُّمَا مُسْلِمٍ أَطْعَمَ مُسْلِمًا عَلَى جُوعٍ ، أَطْعَمَهُ اللَّهُ مِنْ ثِمَارِ الْجَنَّةِ ، وَأَيُّمَا مُسْلِمٍ سَقَى مُسْلِمًا عَلَى ظَمَإٍ ، سَقَاهُ اللَّهُ مِنَ الرَّحِيقِ الْمَخْتُومِ »
(رواه ابوداؤد)
(رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অভাবীদেরকে পানাহার ও বস্ত্র দানের প্রতিদান ও সওয়াব
৪৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি: যে কোন মুসলমান অপর মুসলমানকে কোন কাপড় দান করবে, সে ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর হেফাযতে থাকবে, যে পর্যন্ত ঐ ব্যক্তির গায়ে এর একটি টুকরাও অবশিষ্ট থাকবে। -আহমাদ, তিরমিযী
کتاب الزکوٰۃ
عَنِ ا بْنَ عَبَّاسٍ مَا مِنْ مُسْلِمٍ كَسَا مُسْلِمًا ثَوْبًا إِلاَّ كَانَ فِي حِفْظٍ مِنَ اللهِ مَا دَامَ مِنْهُ عَلَيْهِ خِرْقَةٌ.
(رواه احمد والترمذى)
(رواه احمد والترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৬
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অভাবীদেরকে পানাহার ও বস্ত্র দানের প্রতিদান ও সওয়াব
৪৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন হিজরত করে মদীনায় আসলেন, আমি তখন তাঁকে দেখতে আসলাম। আমি যখন গভীরভাবে তাঁর চেহারার দিকে দেখলাম, তখন বুঝে নিলাম যে, এটা কোন মিথ্যাবাদীর চেহারা নয়। তারপর তিনি সর্বপ্রথম যে কথাটি বললেন, সেটা ছিল এই: লোক সকল! তোমরা সালামের ব্যাপক প্রচলন কর, (আল্লাহর অভাবী বান্দাদেরকে) খাবার দাও, আত্মীয়তার হক আদায় কর আর রাতে মানুষ যখন ঘুমে নিমগ্ন থাকে, তখন নামায পড়। এমন করলে শান্তিতে জান্নাতে যেতে পারবে। -তিরমিযী, ইবনে মাজাহ্
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ ، قَالَ : لَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ ، جِئْتُ ، فَلَمَّا تَبَيَّنْتُ وَجْهَهُ ، عَرَفْتُ أَنَّ وَجْهَهُ لَيْسَ بِوَجْهِ كَذَّابٍ ، فَكَانَ أَوَّلُ مَا قَالَ : « يَا أَيُّهَا النَّاسُ أَفْشُوا السَّلَامَ ، وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ ، وَصِلُوا الْأَرْحَامَ ، وَصَلُّوا بِاللَّيْلِ ، وَالنَّاسُ نِيَامٌ ، تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ بِسَلَامٍ »
(رواه الترمذى وابن ماجة)
(رواه الترمذى وابن ماجة)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৭
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অভুক্ত-পিপাসিত পশুদেরকে খাবার-পানি দেওয়াও সদাকা বিশেষ
৪৭. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: এক দুশ্চরিত্রা নারীকে এ আমলের কারণে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে যে, সে একটি কূপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। এমন সময় দেখল যে, একটি কুকুর জিহ্বা বের করে আছে এবং (তার অবস্থা এই যে,) সে যেন পিপাসায় মরে যাবে। সে তখন তার পায়ের চামড়ার মোজা খুলল এবং নিজের ওড়নার সাথে বেঁধে নিল। তারপর এর দ্বারা কূপ থেকে পানি উঠিয়ে তাকে পান করাল। এ আমলের কারণে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হল। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! পশুদের সেবায়ও কি আমাদের জন্য পুণ্য রয়েছে? তিনি উত্তরে বললেন: অনুভূতিশীল প্রত্যেক প্রাণীর (যার ক্ষুধা তৃষার কষ্ট অনুভব হয়) সেবাতেই প্রতিদান রয়েছে। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : غُفِرَ لِامْرَأَةٍ مُومِسَةٍ ، مَرَّتْ بِكَلْبٍ عَلَى رَأْسِ رَكِيٍّ يَلْهَثُ ، قَالَ : كَادَ يَقْتُلُهُ العَطَشُ ، فَنَزَعَتْ خُفَّهَا ، فَأَوْثَقَتْهُ بِخِمَارِهَا ، فَنَزَعَتْ لَهُ مِنَ المَاءِ ، فَغُفِرَ لَهَا بِذَلِكَ قِيْلَ إِنَّ لَنَا فِي البَهَائِمِ أَجْرًا؟ قَالَ : « نَعَمْ ، فِي كُلِّ ذَاتِ كَبِدٍ رَطْبَةٍ أَجْرٌ"
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৮
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অভুক্ত-পিপাসিত পশুদেরকে খাবার-পানি দেওয়াও সদাকা বিশেষ
৪৮. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে কোন মুসলমান কোন বৃক্ষ রোপণ করে অথবা শষ্য বপন করে, তারপর এখান থেকে যে ফল ও শষ্যদানা কোন মানুষ, পাখী অথবা কোন পশু খায়, এটা তার জন্য সদাকা হিসাবে গণ্য হবে। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَنَسٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَغْرِسُ غَرْسًا ، أَوْ يَزْرَعُ زَرْعًا ، فَيَأْكُلُ مِنْهُ إِنْسَانٌ أَوْ طَيْرٌ أَوْ بَهِيمَةٌ ، إِلَّا كَانَتْ لَهُ صَدَقَةٌ »
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৯
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর বান্দাদেরকে কষ্ট থেকে বাঁচানোর বিনিময় জান্নাত
৪৯. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল, যার উপর একটি গাছের ডাল ছিল। (যার দরুন চলাচলকারীদের কষ্ট হত।) লোকটি তখন মনে মনে বলল, আমি অবশ্যই এটা মুসলমানদের চলাচলের পথ থেকে সরিয়ে দেব, যাতে তাদের কষ্ট না হয়। (তারপর সে তাই করল।) ফলে তাকে জান্নাত দেওয়া হল। বুখারী, মুসলিম
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَرَّ رَجُلٌ بِغُصْنِ شَجَرَةٍ عَلَى ظَهْرِ طَرِيقٍ ، فَقَالَ : لَأُنَحِّيَنَّ هَذَا عَنِ طَرِيْقِ الْمُسْلِمِينَ لَا يُؤْذِيهِمْ فَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ "
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫০
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কোন্ সময়ের দান-সদাকার সওয়াব বেশী
৫০. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন্ দানের সওয়াব বেশী? তিনি বললেন: সুস্থ এবং সম্পদের চাহিদা থাকা অবস্থায় যখন তুমি দান কর, যখন তোমার দারিদ্র্যের ভয় থাকে এবং ধনী হওয়ার লোভও থাকে। তুমি এমন করো না যে, যখন রূহ কণ্ঠনালী পর্যন্ত এসে যায়, তখন বলতে থাকবে, অমুকের জন্য এতটুকু, অমুকের জন্য এতটুকু। কেননা, এখন তো এ মাল অমুকের (ওয়ারিসদের) হয়েই গিয়েছে। বুখারী, মুসলিম
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : رَجُلٌ قَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ ، أَيُّ الصَّدَقَةِ أَعْظَمُ أَجْرًا؟ قَالَ : " أَنْ تَصَدَّقَ وَأَنْتَ صَحِيحٌ شَحِيحٌ ، تَخْشَى الْفَقْرَ وَتَأْمُلُ الْغِنَى ، وَلَا تُمْهِلَ حَتَّى إِذَا بَلَغَتْ الْحُلْقُومَ قُلْتَ : لِفُلَانٍ كَذَا ، وَلِفُلَانٍ كَذَا ، أَلَا وَقَدْ كَانَ لِفُلَانٍ "
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫১
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নিজের পরিবার-পরিজনের প্রয়োজন পূরণে নিজের সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী অল্পবিস্তর অর্থ ব্যয় তো সবাই করে থাকে। কিন্তু এ অর্থ ব্যয়ে মানুষের ঐ আত্মিক আনন্দ লাভ হয় না, যা অন্যান্য অভাবী ও গরীব মিসকীনকে দান করলে হয়ে থাকে। কেননা, নিজের পরিবার-পরিজনের জন্য খরচ করাকে মানুষ সওয়াবের কাজ মনে করে না; বরং এটাকে বাধ্যতামূলক অথবা মনের চাহিদা মনে করে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলে দিয়েছেন যে, নিজের পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনের জন্যও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় এবং সওয়াবের নিয়্যতে খরচ করা চাই। এ অবস্থায় এ খাতে যা ব্যয় করা হবে, সেটা দানের মতই আখেরাতের ব্যাংকে জমা হবে; বরং অন্যদের উপর খরচ করার চাইতে এতে সওয়াব বেশী হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ শিক্ষা দ্বারা আমাদের জন্য কল্যাণ ও সৌভাগ্যের একটি বিরাট দরজা খুলে যায়। এখন আমরা যাকিছু আমাদের স্ত্রী-সন্তানদের খাওয়া পরার জন্য বৈধ সীমার মধ্যে খরচ করব, সেটা এক ধরনের দান ও সওয়াবের কাজ হবে। শর্ত কেবল একটাই যে, আমরা সওয়াব লাভের মানসিকতা ও নিয়্যত নিয়ে খরচ করব।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলে দিয়েছেন যে, নিজের পরিবার-পরিজন ও আত্মীয়-স্বজনের জন্যও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় এবং সওয়াবের নিয়্যতে খরচ করা চাই। এ অবস্থায় এ খাতে যা ব্যয় করা হবে, সেটা দানের মতই আখেরাতের ব্যাংকে জমা হবে; বরং অন্যদের উপর খরচ করার চাইতে এতে সওয়াব বেশী হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ শিক্ষা দ্বারা আমাদের জন্য কল্যাণ ও সৌভাগ্যের একটি বিরাট দরজা খুলে যায়। এখন আমরা যাকিছু আমাদের স্ত্রী-সন্তানদের খাওয়া পরার জন্য বৈধ সীমার মধ্যে খরচ করব, সেটা এক ধরনের দান ও সওয়াবের কাজ হবে। শর্ত কেবল একটাই যে, আমরা সওয়াব লাভের মানসিকতা ও নিয়্যত নিয়ে খরচ করব।
৫১. হযরত আবূ মাসউদ আনসারী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন কোন মুসলমান বান্দা নিজের পরিবার-পরিজনের উপর সওয়াবের নিয়্যতে কিছু খরচ করবে, এটা তার জন্য সদাকা ও দান হিসাবে গণ্য হবে। বুখারী, মুসলিম
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « إِذَا أَنْفَقَ المُسْلِمُ نَفَقَةً عَلَى أَهْلِهِ ، وَهُوَ يَحْتَسِبُهَا ، كَانَتْ لَهُ صَدَقَةً »
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫২
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নিজের পরিবার-পরিজনের প্রয়োজনে খরচ করাও দান বিশেষ
৫২. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন্ দানটি উত্তম? তিনি উত্তরে বললেন: ঐ দান, যা কোন গরীব মানুষ নিজের শ্রমের উপার্জন থেকে করে। আর তোমরা সর্বাগ্রে তাদের উপর খরচ কর, যাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব তোমাদের উপর। (অর্থাৎ, নিজের স্ত্রী ও সন্তানাদির উপর।)-আবু দাউদ
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، أَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : « جُهْدُ الْمُقِلِّ ، وَابْدَأْ بِمَنْ تَعُولُ »
(رواه ابوداؤد)
(رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৩
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নিজের পরিবার-পরিজনের প্রয়োজনে খরচ করাও দান বিশেষ
৫৩. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর খেদমতে এসে নিবেদন করল, আমার কাছে একটি দীনার আছে। (তাই আপনি বলুন যে, আমি এটা কোথায় খরচ করব এবং কাকে দেব?) তিনি উত্তর দিলেন: তুমি এটা নিজের প্রয়োজনে খরচ করে ফেল। সে বলল, আমার কাছে আরেকটি দীনার আছে। তিনি বললেন: এটা তোমার সন্তানদের উপর খরচ কর। সে বলল, আমার কাছে আরো একটি দীনার আছে। তিনি বললেন: এটা তোমার স্ত্রীর প্রয়োজনে খরচ করে ফেল। সে বলল, আমার কাছে আরো একটি দীনার আছে। তিনি বললেন: এটা তোমার খাদেমের উপর খরচ করে ফেল। সে বলল, আমার কাছে আরো একটি দীনার আছে। তিনি উত্তরে বললেন: তুমিই ভাল জান (যে, তোমার আত্মীয়দের মধ্যে কে এর বেশী হকদার।) আবূ দাউদ, নাসায়ী
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، عِنْدِي دِينَارٌ قَالَ : « أَنْفِقْهُ عَلَى نَفْسِكَ » . قَالَ : عِنْدِي آخَرُ ، قَالَ : « أَنْفِقْهُ عَلَى وَلَدِكَ » . قَالَ : عِنْدِي آخَرُ ، قَالَ : « أَنْفِقْهُ عَلَى أَهْلِكَ » . قَالَ : عِنْدِي آخَرُ ، قَالَ : « أَنْفِقْهُ عَلَى خَادِمِكَ » . قَالَ : عِنْدِي آخَرُ ، قَالَ : « أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ »
(رواه ابوداؤد والنسائى)
(رواه ابوداؤد والنسائى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৪
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আত্মীয়দেরকে দান করার বিশেষ ফযীলত
৫৪. হযরত সালমান ইবনে আমের রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কোন অপরিচিত মিসকীনকে কিছু দান করা কেবল সদাকাই। আর কোন আত্মীয়কে দান করার মধ্যে দু'টি দিক রয়েছে। এক দিকে এটা সদাকা, অপর দিকে আত্মীয়তার হক আদায়। -আহমাদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ্, দারেমী
کتاب الزکوٰۃ
وَعَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " الصَّدَقَةُ عَلَى الْمِسْكِينِ صَدَقَةٌ وَهِيَ عَلَى ذِي الرَّحِمِ ثِنْتَانِ: صَدَقَةٌ وَصِلَةٌ ". رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ وَابْنُ مَاجَهْ وَالدَّارِمِيُّ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৫
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আত্মীয়দেরকে দান করার বিশেষ ফযীলত
৫৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি.-এর স্ত্রী যায়নাব ছাকাফিয়্যাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হে নারী সম্প্রদায়! তোমরা সদাকা কর তোমাদের অলংকারাদি থেকে হলেও। যায়নাব বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদের কাছে ফিরে আসলাম। তাকে বললাম, আপনি একজন নিম্নবিত্তের লোক। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে সদাকা করতে হুকুম করেছেন। আপনি তাঁর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন, আমার পক্ষ থেকে আপনাকে সদাকা দেওয়া সঠিক হবে কি না? তা না হলে আমি সদাকা অন্যদেরকে দেব। আব্দুল্লাহ রাযি. বললেন, বরং তুমি গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস কর। সুতরাং আমি গেলাম। গিয়ে দেখি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দরজায় এক আনসার মহিলা উপস্থিত রয়েছে। আমার ও তার প্রয়োজন একই। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মধ্যে ছিল স্বভাবজাত বীর্যবত্তা (কাছে যেতে ভয় লাগত)। ক্ষণিকের মধ্যেই বিলাল রাযি. আমাদের কাছে বের হয়ে আসলেন। আমরা তাকে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে গিয়ে তাঁকে জানান, দরজায় দু'জন মহিলা অপেক্ষা করছে। তারা আপনার কাছে জানতে চাচ্ছে, তাদের পক্ষ থেকে তাদের স্বামীদেরকে এবং তাদের তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত ইয়াতীমদেরকে সদাকা দেওয়া সঙ্গত হবে কি না? আপনি তাঁকে আমাদের পরিচয় দেবেন না। বিলাল রাযি. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে প্রবেশ করলেন এবং এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তারা দু'জন কে? তিনি বললেন, আনসারদের এক মহিলা ও যায়নাব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সে কোন্ যায়নাব? বিলাল রাযি. বললেন, আব্দুল্লাহর স্ত্রী। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাতে তাদের দ্বিগুণ ছাওয়াব আছে। আত্মীয়তার ছাওয়াব ও দান-সদাকার ছাওয়াব। -বুখারী ও মুসলিম।
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ زَيْنَبَ ، امْرَأَةِ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « تَصَدَّقْنَ ، يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ ، وَلَوْ مِنْ حُلِيِّكُنَّ » قَالَتْ : فَرَجَعْتُ إِلَى عَبْدِ اللهِ فَقُلْتُ : إِنَّكَ رَجُلٌ خَفِيفُ ذَاتِ الْيَدِ ، وَإِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَمَرَنَا بِالصَّدَقَةِ ، فَأْتِهِ فَاسْأَلْهُ ، فَإِنْ كَانَ ذَلِكَ يَجْزِي عَنِّي وَإِلَّا صَرَفْتُهَا إِلَى غَيْرِكُمْ ، قَالَتْ : فَقَالَ لِي عَبْدُ اللهِ : بَلِ ائْتِيهِ أَنْتِ ، قَالَتْ : فَانْطَلَقْتُ ، فَإِذَا امْرَأَةٌ مِنَ الْأَنْصَارِ بِبَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَاجَتِي حَاجَتُهَا ، قَالَتْ : وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أُلْقِيَتْ عَلَيْهِ الْمَهَابَةُ ، قَالَتْ : فَخَرَجَ عَلَيْنَا بِلَالٌ فَقُلْنَا لَهُ : ائْتِ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَأَخْبِرْهُ أَنَّ امْرَأَتَيْنِ بِالْبَابِ تَسْأَلَانِكَ : أَتُجْزِئُ الصَّدَقَةُ عَنْهُمَا ، عَلَى أَزْوَاجِهِمَا ، وَعَلَى أَيْتَامٍ فِي حُجُورِهِمَا؟ وَلَا تُخْبِرْهُ مَنْ نَحْنُ ، قَالَتْ : فَدَخَلَ بِلَالٌ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهُ ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَنْ هُمَا؟ » فَقَالَ : امْرَأَةٌ مِنَ الْأَنْصَارِ وَزَيْنَبُ ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « أَيُّ الزَّيَانِبِ؟ » قَالَ : امْرَأَةُ عَبْدِ اللهِ ، فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " لَهُمَا أَجْرَانِ : أَجْرُ الْقَرَابَةِ ، وَأَجْرُ الصَّدَقَةِ "
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৬
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আত্মীয়দেরকে দান করার বিশেষ ফযীলত
৫৬. হযরত আনাস ইবনে মালিক রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনার আনসারদের মধ্যে আবু তালহা রাযি.-ই সবচেয়ে বেশী (খেজুর বাগানের) সম্পদের মালিক ছিলেন। তাঁর সম্পদের মধ্যে তাঁর কাছে সবচাইতে প্রিয় সম্পদ ছিল 'বিরে-রাহা' কূপটি। এটি মসজিদে নববীর সামনেই অবস্থিত ছিল। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সেখানে যেতেন এবং তার মিষ্টি ও উত্তম পানি পান করতেন। যখন এ আয়াত: "لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ” নাযিল হয়, অর্থাৎ "তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত নেকী ও কল্যাণ লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর পথে খরচ করবে", তখন আবু তালহা রাযি. বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। আল্লাহ্ তা'আলা বলেছেন, "তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত নেকী ও কল্যাণ লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর পথে খরচ করবে।" 'বিরে-রাহা' কূপটি আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ। তা আমি আল্লাহর রাস্তায় সদকা করে দিলাম। আমি একমাত্র আল্লাহর কাছেই এর কল্যাণ লাভের আশা করি। সুতরাং হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আল্লাহর নির্দেশ মুতাবিক যেভাবে ইচ্ছা আপনি এটিকে ব্যবহার করুন। যখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বেশ। বেশ। এতো লাভজনক সম্পদ! এতো লাভজনক সম্পদ! তোমার কথা আমি শুনেছি। অর্থাৎ তোমার উদ্দেশ্য আমি বুঝতে পেরেছি, সুতরাং আমি চাই এটিকে তুমি তোমার গরীব আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বণ্টন করে দাও। তখন আবু তালহা (রা) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমি তা-ই করবো, এরপর আবু তালহা (রা) সেটিকে তার আত্মীয়-স্বজন ও চাচাতো ভাইদের মধ্যে বণ্টন করে দেন।-বুখারী ও মুসলিম
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَنَسٍ قَالَ : كَانَ أَبُو طَلْحَةَ أَكْثَرَ الأَنْصَارِ بِالْمَدِينَةِ مَالًا مِنْ نَخْلٍ ، وَكَانَ أَحَبُّ مَالِهِ إِلَيْهِ بَيْرُحَاءَ ، وَكَانَتْ مُسْتَقْبِلَةَ المَسْجِدِ ، وَكَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْخُلُهَا وَيَشْرَبُ مِنْ مَاءٍ فِيهَا طَيِّبٍ ، قَالَ أَنَسٌ : فَلَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ : {لَنْ تَنَالُوا البِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ} قَامَ أَبُو طَلْحَةَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ : {لَنْ تَنَالُوا البِرَّ حَتَّى تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ} وَإِنَّ أَحَبَّ مَالِي إِلَيَّ بَيْرُحَاءَ ، وَإِنَّهَا صَدَقَةٌ لِلَّهِ أَرْجُو بِرَّهَا وَذُخْرَهَا عِنْدَ اللَّهِ ، فَضَعْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ حَيْثُ أَرَاكَ اللَّهُ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « بَخٍ بَخٍ ذَلِكَ مَالٌ رَابِحٌ ، وَقَدْ سَمِعْتُ مَا قُلْتَ ، وَإِنِّي أَرَى أَنْ تَجْعَلَهَا فِي الأَقْرَبِينَ » فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ : أَفْعَلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، فَقَسَمَهَا أَبُو طَلْحَةَ فِي أَقَارِبِهِ وَفِي بَنِي عَمِّهِ .
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৭
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সদাকা ও দান-খয়রাত কি? আল্লাহর বান্দাদের উপর এ নিয়্যতে ও এ আশায় অনুগ্রহ করা যে, এর বিনিময়ে আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি, রহমত ও অনুগ্রহ লাভ হবে। আর নিঃসন্দেহে এটা আল্লাহর রহমত, দয়া ও অনুগ্রহ-অনুকম্পা লাভের একটা বিশেষ মাধ্যম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একথাও বলে দিয়েছেন যে, যেভাবে একজন মানুষ নিজের পক্ষ থেকে দান-খয়রাত করে এর বিনিময় ও সওয়াব আশা করতে পারে, তেমনিভাবে কোন মৃত ব্যক্তিরপক্ষ থেকে যদি সদাকা-খয়রাত করা হয়, তাহলে আল্লাহ্ তা'আলা এর সওয়াব ও প্রতিদান ঐ মৃত ব্যক্তিকে দান করেন। অতএব, মৃত ব্যক্তিদের খেদমত এবং তাদের প্রতি সহানুভূতি ও অনুগ্রহ প্রদর্শনের একটি পদ্ধতি- তাদের জন্য দু‘আ ইস্তিগফার ছাড়া এটাও যে, তাদের পক্ষ থেকে দান-খয়রাত করা হবে অথবা অন্য কোন নেক আমল করে এর সওয়াব তাদেরকে বখশিশ করা হবে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কয়েকটি হাদীস নিম্নে পাঠ করে নিনঃ
৫৭. হযরত আয়িশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) কে বললেন, আমার জননীর আকস্মিক মৃত্যু ঘটে, আমার বিশ্বাস তিনি (মৃত্যুর পূর্বে) কথা বলতে সক্ষম হলে কিছু সাদ্কা করে যেতেন। এখন আমি তাঁর পক্ষ হতে সাদ্কা করলে তিনি এর সাওয়াব পাবেন কি? তিনি (নবী ﷺ) বললেন, হ্যাঁ (অবশ্যই পাবেন)।-বুখারী ও মুসলিম
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا : أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّ أُمِّي افْتُلِتَتْ نَفْسُهَا ، وَأَظُنُّهَا لَوْ تَكَلَّمَتْ تَصَدَّقَتْ ، فَهَلْ لَهَا أَجْرٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ عَنْهَا؟ قَالَ : « نَعَمْ »
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৮
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মৃত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে দান-সদাকা
৫৮. হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত যে, বনু সাঈদার নেতা সা‘দ ইবনে উবাদা রাযি.-এর মা মারা গেলেন। তখন তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। তারপর তিনি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মা আমার অনুপস্থিতিতে মারা গেছেন। এখন আমি যদি তার পক্ষ থেকে সাদ্কা করি, তবে তা কি তার কোন উপকারে আসবে? তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ। সা‘দ রাযি. বললেন, ‘তাহলে আপনাকে সাক্ষী করে আমি আমার মিখ্রাফের বাগানটি তাঁর উদ্দেশ্যে সাদ্কা করলাম।- বুখারী
کتاب الزکوٰۃ
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ تُوُفِّيَتْ أُمُّهُ وَهُوَ غَائِبٌ عَنْهَا ، فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أُمِّي تُوُفِّيَتْ وَأَنَا غَائِبٌ عَنْهَا ، أَيَنْفَعُهَا شَيْءٌ إِنْ تَصَدَّقْتُ بِهِ عَنْهَا؟ قَالَ : « نَعَمْ » ، قَالَ : فَإِنِّي أُشْهِدُكَ أَنَّ حَائِطِيَ المِخْرَافَ صَدَقَةٌ عَلَيْهَا.
(رواه البخارى)
(رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৫৯
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মৃত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে দান-সদাকা
৫৯. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ)এর খেদমতে এসে বলল, আমার পিতা মারা গিয়েছেন এবং কিছু মাল রেখে গিয়েছেন। তবে (সদাকা ইত্যাদির কোন) ওসিয়্যত করে যান নি। তাই আমি যদি তার পক্ষ থেকে কিছু দান-খয়রাত করি, তাহলে এটা কি তার কাফ্ফারা ও গুনাহমাফীর কারণ হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। (আল্লাহর কাছে এটা আশা করা যায়।) -তাহযীবুল আছার
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : جَاءَ رَجُلًا اِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّ أَبِي مَاتَ وَتَرَكَ مَالًا ، وَلَمْ يُوصِ ، فَهَلْ يُكَفِّرُ عَنْهُ أَنْ أَتَصَدَّقَ عَنْهُ؟ فَقَالَ : « نَعَمْ »
(رواه ابن جرير فى تهذيب الآثار)
(رواه ابن جرير فى تهذيب الآثار)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬০
যাকাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মৃত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে দান-সদাকা
৬০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত, তার দাদা আস ইবনে ওয়ায়েল জাহিলিয়্যত যুগে একশ' উট কুরবানী করার মান্নত করেছিল, (যা সে পূর্ণ করে যেতে পারে নি।) তার এক পুত্র হেশাম ইবনুল আস (তার পিতার ঐ মান্নতের হিসাবে) পঞ্চাশটি উট কুরবানী করে দিল, আর দ্বিতীয় পুত্র আমর ইবনুল আস (যিনি ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন: যদি তোমার পিতা তওহীদে বিশ্বাস স্থাপন করত আর তুমি তার পক্ষ থেকে রোযা রাখতে অথবা সদাকা করতে, তাহলে এটা তার উপকারে আসত। (কিন্তু কুফর ও শিরকের অবস্থায় মারা যাওয়ার কারণে এখন আর তোমাদের কোন নেক আমল তার কাজে আসবে না।)-মুসনাদে আহমাদ
کتاب الزکوٰۃ
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنَ عَمْرُو بْنَ الْعَاصَ أَنَّ الْعَاصَ بْنَ وَائِلٍ نَذَرَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ أَنْ يَنْحَرَ مِائَةَ بَدَنَةٍ وَأَنَّ هِشَامَ بْنَ الْعَاصِي نَحَرَ حِصَّتَهُ خَمْسِينَ بَدَنَةً وَأَنَّ عَمْرًا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ؟ فَقَالَ : « أَمَّا أَبُوكَ ، فَلَوْ كَانَ أَقَرَّ بِالتَّوْحِيدِ ، فَصُمْتَ ، وَتَصَدَّقْتَ عَنْهُ ، نَفَعَهُ ذَلِكَ »
(رواه احمد)
(رواه احمد)
তাহকীক: