রিয়াযুস সালিহীন-ইমাম নববী রহঃ
رياض الصالحين من كلام سيد المرسلين
ভূমিকা অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৬৭৯ টি
হাদীস নং: ১০১
ভূমিকা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুজাহাদা ও সাধনা-সংগ্ৰাম।
জাহান্নাম থেকে মুক্তি ও জান্নাতলাভের উদ্দেশ্যে চাই মনের বিরুদ্ধে অবিরাম সংগ্রাম
হাদীছ নং: ১০১
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, জাহান্নামকে বিভিন্ন লোভনীয় বিষয় দিয়ে বেষ্টন করে রাখা হয়েছে আর জান্নাতকে বেষ্টন করে রাখা হয়েছে কষ্টকর বিষয় দ্বারা। -বুখারী ও মুসলিম।
(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ৬৪৮৭; সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ২৮২৩; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ৭৫৩০, ৮৩৯৮; সুনানে আবূ দাউদ, হাদীছ নং ৪৭৪৪)
হাদীছ নং: ১০১
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, জাহান্নামকে বিভিন্ন লোভনীয় বিষয় দিয়ে বেষ্টন করে রাখা হয়েছে আর জান্নাতকে বেষ্টন করে রাখা হয়েছে কষ্টকর বিষয় দ্বারা। -বুখারী ও মুসলিম।
(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ৬৪৮৭; সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ২৮২৩; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ৭৫৩০, ৮৩৯৮; সুনানে আবূ দাউদ, হাদীছ নং ৪৭৪৪)
مقدمة الامام النووي
11 - باب في المجاهدة
101 - السابع: عَنْهُ: أنَّ رَسُول الله - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «حُجِبَتِ النَّارُ بالشَّهَواتِ، وَحُجِبَتِ الجَنَّةُ بِالمَكَارِهِ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ. (1)
وفي رواية لمسلم: «حُفَّتْ» بدل «حُجِبَتْ» وَهُوَ بمعناه: أي بينه وبينها هَذَا الحجاب فإذا فعله دخلها.
وفي رواية لمسلم: «حُفَّتْ» بدل «حُجِبَتْ» وَهُوَ بمعناه: أي بينه وبينها هَذَا الحجاب فإذا فعله دخلها.
হাদীস নং: ১০২
ভূমিকা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুজাহাদা ও সাধনা-সংগ্ৰাম।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের দীর্ঘ নামায
হাদীছ নং: ১০২
হযরত আবূ আব্দুল্লাহ হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান আল-আনসারী রাযি. থেকে (যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুপ্তবিষয়াবলির জ্ঞাতা উপাধিতে পরিচিত) বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনও এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে নামায পড়ি। তিনি সূরা বাকারা পড়তে শুরু করলেন। আমি মনে মনে বললাম, তিনি একশ' আয়াতের মাথায় রুকূ করবেন। কিন্তু তিনি তারপরও চলতে থাকলেন। আমি মনে মনে বললাম, তিনি এক রাক'আতে পূর্ণ সূরা বাকারাটি পড়বেন। কিন্তু তিনি চলতে থাকলেন। আমি মনে মনে বললাম, এবার তিনি রুকূ করবেন। তারপর সূরা নিসা শুরু করলেন। সেটিও পড়ে ফেললেন। তারপর সূরা আলে-ইমরান শুরু করলেন। এটিও শেষ করলেন। তিনি পড়ছিলেন ধীর ও স্পষ্টভাবে। যখন এমন কোনও আয়াতে আসতেন, যাতে তাসবীহ'র কথা আছে, তখন তাসবীহ (سبحان الله ইত্যাদি) পড়তেন। যখন প্রার্থনা সম্বলিত কোনও আয়াতে পৌঁছতেন, তখন প্রার্থনা করতেন। যখন আশ্রয় চাওয়া সম্পর্কিত কোনও আয়াতে পৌঁছতেন, তখন আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। তারপর রুকূ করলেন। রুকূতে বলতে থাকলেন- سبحان ربى العظيم (আমার মহান প্রতিপালক পবিত্র)। তাঁর রুকূ হয়েছিল কিয়ামের সমান দীর্ঘ। তারপর বললেন- سمع الله لمن حمده، ربنا لك الحمد (যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে, তিনি তার সে প্রশংসা শোনেন। হে আমাদের প্রতিপালক! সকল প্রশংসা তোমারই)। তারপর তিনি দাঁড়িয়ে থাকলেন রুকূ'র প্রায় সমপরিমাণ দীর্ঘ। তারপর সিজদা করলেন। তাতে বললেন- سبحان ربى الاعلى (আমার সমুচ্চ প্রতিপালক পবিত্র)। তাঁর সিজদা ছিল তাঁর কিয়ামের প্রায় সমপরিমাণ। -মুসলিম'
(সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ৭৭২)
হাদীছ নং: ১০২
হযরত আবূ আব্দুল্লাহ হুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান আল-আনসারী রাযি. থেকে (যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুপ্তবিষয়াবলির জ্ঞাতা উপাধিতে পরিচিত) বর্ণিত, তিনি বলেন, কোনও এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে নামায পড়ি। তিনি সূরা বাকারা পড়তে শুরু করলেন। আমি মনে মনে বললাম, তিনি একশ' আয়াতের মাথায় রুকূ করবেন। কিন্তু তিনি তারপরও চলতে থাকলেন। আমি মনে মনে বললাম, তিনি এক রাক'আতে পূর্ণ সূরা বাকারাটি পড়বেন। কিন্তু তিনি চলতে থাকলেন। আমি মনে মনে বললাম, এবার তিনি রুকূ করবেন। তারপর সূরা নিসা শুরু করলেন। সেটিও পড়ে ফেললেন। তারপর সূরা আলে-ইমরান শুরু করলেন। এটিও শেষ করলেন। তিনি পড়ছিলেন ধীর ও স্পষ্টভাবে। যখন এমন কোনও আয়াতে আসতেন, যাতে তাসবীহ'র কথা আছে, তখন তাসবীহ (سبحان الله ইত্যাদি) পড়তেন। যখন প্রার্থনা সম্বলিত কোনও আয়াতে পৌঁছতেন, তখন প্রার্থনা করতেন। যখন আশ্রয় চাওয়া সম্পর্কিত কোনও আয়াতে পৌঁছতেন, তখন আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। তারপর রুকূ করলেন। রুকূতে বলতে থাকলেন- سبحان ربى العظيم (আমার মহান প্রতিপালক পবিত্র)। তাঁর রুকূ হয়েছিল কিয়ামের সমান দীর্ঘ। তারপর বললেন- سمع الله لمن حمده، ربنا لك الحمد (যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে, তিনি তার সে প্রশংসা শোনেন। হে আমাদের প্রতিপালক! সকল প্রশংসা তোমারই)। তারপর তিনি দাঁড়িয়ে থাকলেন রুকূ'র প্রায় সমপরিমাণ দীর্ঘ। তারপর সিজদা করলেন। তাতে বললেন- سبحان ربى الاعلى (আমার সমুচ্চ প্রতিপালক পবিত্র)। তাঁর সিজদা ছিল তাঁর কিয়ামের প্রায় সমপরিমাণ। -মুসলিম'
(সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ৭৭২)
مقدمة الامام النووي
11 - باب في المجاهدة
102 - الثامن: عن أبي عبد الله حُذَيفَةَ بنِ اليمانِ رضي الله عنهما، قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ النَّبيّ - صلى الله عليه وسلم - ذَاتَ لَيلَةٍ فَافْتَتَحَ البقَرَةَ، فَقُلْتُ: يَرْكَعُ عِنْدَ المئَةِ، ثُمَّ مَضَى. فَقُلْتُ: يُصَلِّي بِهَا في ركعَة فَمَضَى، فقُلْتُ: يَرْكَعُ (1) بِهَا، ثُمَّ افْتَتَحَ النِّسَاءَ فَقَرَأَهَا، ثُمَّ افْتَتَحَ آلَ عِمْرَانَ فَقَرَأَهَا، يَقرَأُ مُتَرَسِّلًا: إِذَا مَرَّ بآية فِيهَا تَسبيحٌ سَبَّحَ، وَإذَا مَرَّ بسُؤَالٍ سَأَلَ، وَإذَا مَرَّ بتَعَوُّذٍ تَعَوَّذَ، ثُمَّ رَكَعَ، فَجَعَلَ يَقُولُ: «سُبْحَانَ رَبِّيَ العَظِيمِ» فَكَانَ رُكُوعُهُ نَحوًا مِنْ قِيَامِهِ، ثُمَّ قَالَ: «سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، رَبَّنَا لَكَ الحَمْدُ» ثُمَّ قَامَ طَويلًا قَريبًا مِمَّا رَكَعَ، ثُمَّ سَجَدَ، فَقَالَ: «سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى» فَكَانَ سُجُودُهُ قَريبًا مِنْ قِيَامِهِ. رواه مسلم. (2)
হাদীস নং: ১০৩
ভূমিকা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুজাহাদা ও সাধনা-সংগ্ৰাম।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের দীর্ঘ নামায
হাদীছ নং: ১০৩
হযরত আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ রাযি. বলেন, আমি কোনও এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে নামায পড়ছিলাম। তিনি এত দীর্ঘ কিয়াম করলেন যে, আমি একটি মন্দ কাজের ইচ্ছা করে ফেলেছিলাম। জিজ্ঞেস করা হল, আপনি কী ইচ্ছা করেছিলেন? তিনি বললেন, আমি ইচ্ছা করেছিলাম বসে পড়ব এবং তাঁকে পরিত্যাগ করব?। -বুখারী ও মুসলিম।
(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ১১৩৫; সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ৭৭৩)
হাদীছ নং: ১০৩
হযরত আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ রাযি. বলেন, আমি কোনও এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে নামায পড়ছিলাম। তিনি এত দীর্ঘ কিয়াম করলেন যে, আমি একটি মন্দ কাজের ইচ্ছা করে ফেলেছিলাম। জিজ্ঞেস করা হল, আপনি কী ইচ্ছা করেছিলেন? তিনি বললেন, আমি ইচ্ছা করেছিলাম বসে পড়ব এবং তাঁকে পরিত্যাগ করব?। -বুখারী ও মুসলিম।
(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ১১৩৫; সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ৭৭৩)
مقدمة الامام النووي
11 - باب في المجاهدة
103 - التاسع: عن ابن مسعود - رضي الله عنه - قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ النَّبيّ - صلى الله عليه وسلم - لَيلَةً، فَأَطَالَ القِيامَ حَتَّى هَمَمْتُ بأمْرِ سُوءٍ! قيل: وَمَا هَمَمْتَ بِهِ؟ قَالَ: هَمَمْتُ أَنْ أجْلِسَ وَأَدَعَهُ. مُتَّفَقٌ عَلَيهِ. (1)
হাদীস নং: ১০৪
ভূমিকা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুজাহাদা ও সাধনা-সংগ্ৰাম।
মৃতব্যক্তি সঙ্গে কী নিয়ে যায়
হাদীছ নং: ১০৪
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, তিনটি জিনিস মায়্যিতের পেছনে পেছনে যায় তার পরিবার-পরিজন, তার ধন-সম্পদ ও তার আমল। তা থেকে দুটি জিনিস ফিরে আসে, একটি তার সঙ্গে থেকে যায়। ফিরে আসে তার পরিবার-পরিজন ও ধনসম্পদ, আর থেকে যায় তার আমল। -বুখারী ও মুসলিম.
(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ৬৫১৪; সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ২৯৬০; জামে তিরমিযী, হাদীছ নং ২৩৭৯; সুনানে নাসাঈ, হাদীছ নং ১৯৩৭)
হাদীছ নং: ১০৪
হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, তিনটি জিনিস মায়্যিতের পেছনে পেছনে যায় তার পরিবার-পরিজন, তার ধন-সম্পদ ও তার আমল। তা থেকে দুটি জিনিস ফিরে আসে, একটি তার সঙ্গে থেকে যায়। ফিরে আসে তার পরিবার-পরিজন ও ধনসম্পদ, আর থেকে যায় তার আমল। -বুখারী ও মুসলিম.
(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ৬৫১৪; সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ২৯৬০; জামে তিরমিযী, হাদীছ নং ২৩৭৯; সুনানে নাসাঈ, হাদীছ নং ১৯৩৭)
مقدمة الامام النووي
11 - باب في المجاهدة
104 - العاشر: عن أنس - رضي الله عنه - عن رَسُول الله - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «يَتْبَعُ المَيتَ ثَلاَثَةٌ: أهْلُهُ وَمَالُهُ وَعَملُهُ، فَيَرجِعُ اثنَانِ وَيَبْقَى وَاحِدٌ: يَرجِعُ أهْلُهُ وَمَالُهُ، وَيَبقَى عَملُهُ». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ. (1)
হাদীস নং: ১০৫
ভূমিকা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুজাহাদা ও সাধনা-সংগ্ৰাম।
জান্নাত ও জাহান্নাম মানুষের অতি নিকটবর্তী
হাদীছ নং: ১০৫
হযরত আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, জান্নাত তোমাদের একেকজনের জুতার ফিতার চেয়েও তোমাদের বেশি নিকটবর্তী এবং জাহান্নামও অনুরূপ। -বুখারী'
(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ৬৪৮৮, বায়হাকী, হাদীছ নং ৬৫০৪; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ৩৬৬৭, ৩৯২২; বাগাবী, হাদীছ নং ৪১৭৪)
হাদীছ নং: ১০৫
হযরত আব্দুল্লাহ ইবন মাস'উদ রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, জান্নাত তোমাদের একেকজনের জুতার ফিতার চেয়েও তোমাদের বেশি নিকটবর্তী এবং জাহান্নামও অনুরূপ। -বুখারী'
(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ৬৪৮৮, বায়হাকী, হাদীছ নং ৬৫০৪; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ৩৬৬৭, ৩৯২২; বাগাবী, হাদীছ নং ৪১৭৪)
مقدمة الامام النووي
11 - باب في المجاهدة
105 - الحادي عشر: عن ابن مسعود - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ النَّبيّ - صلى الله عليه وسلم: «الجَنَّةُ أَقْرَبُ إِلَى أَحَدِكُمْ مِنْ شِرَاكِ نَعْلِهِ (1)، وَالنَّارُ مِثلُ ذلِكَ». رواه البخاري. (2)
হাদীস নং: ১০৬
ভূমিকা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুজাহাদা ও সাধনা-সংগ্ৰাম।
বেশি বেশি সিজদা করার ফযীলত
হাদীছ নং: ১০৬
হযরত আবূ ফিরাস রাবী'আ ইবন কা'ব আল আসলামী রাযি.থেকে বর্ণিত, যিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খাদেম এবং সুফাবাসী সাহাবীদের একজন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে রাত্রিযাপন করতাম। আমি তাঁর ওযুর পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস তাঁকে এনে দিতাম। একদিন তিনি আমাকে বললেন, আমার কাছে কিছু চাও। আমি বললাম, আমি জান্নাতে আপনার সঙ্গে থাকতে চাই। তিনি বললেন, এছাড়া অন্য কিছু? আমি বললাম, না, এটাই। তিনি বললেন, তবে অধিক সিজদা দ্বারা তোমার (এ আশা পূরণের) ব্যাপারে আমাকে সহযোগিতা কর। -মুসলিম'
(সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ৪৮৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ১৫৫২৬)
হাদীছ নং: ১০৬
হযরত আবূ ফিরাস রাবী'আ ইবন কা'ব আল আসলামী রাযি.থেকে বর্ণিত, যিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খাদেম এবং সুফাবাসী সাহাবীদের একজন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে রাত্রিযাপন করতাম। আমি তাঁর ওযুর পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস তাঁকে এনে দিতাম। একদিন তিনি আমাকে বললেন, আমার কাছে কিছু চাও। আমি বললাম, আমি জান্নাতে আপনার সঙ্গে থাকতে চাই। তিনি বললেন, এছাড়া অন্য কিছু? আমি বললাম, না, এটাই। তিনি বললেন, তবে অধিক সিজদা দ্বারা তোমার (এ আশা পূরণের) ব্যাপারে আমাকে সহযোগিতা কর। -মুসলিম'
(সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ৪৮৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ১৫৫২৬)
مقدمة الامام النووي
11 - باب في المجاهدة
106 - الثاني عشر: عن أبي فِراسٍ ربيعةَ بنِ كعبٍ الأسلميِّ خادِمِ رَسُول الله - صلى الله عليه وسلم - ومن أهلِ الصُّفَّةِ (1) رضي الله عنه - قَالَ: كُنْتُ أبِيتُ مَعَ رسولِ الله - صلى الله عليه وسلم - فآتِيهِ بِوَضُوئِهِ وَحَاجَتِهِ، فَقَالَ: «سَلْنِي» فقُلْتُ: اسْأَلُكَ مُرَافَقَتَكَ في الجَنَّةِ. فَقَالَ: «أَوَ غَيرَ ذلِكَ»؟ قُلْتُ: هُوَ ذَاكَ، قَالَ: «فأَعِنِّي عَلَى نَفْسِكَ بِكَثْرَةِ السُّجُودِ». رواه مسلم. (2)
হাদীস নং: ১০৭
ভূমিকা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুজাহাদা ও সাধনা-সংগ্ৰাম।
বেশি বেশি সিজদা করার ফযীলত
হাদীছ নং: ১০৭
হযরত ছাওবান রাযি. থেকে বর্ণিত, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের একজন আযাদ করা গোলাম, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তুমি বেশি বেশি সিজদা করতে থাক। কেননা তুমি আল্লাহ তা'আলার জন্য যে সিজদাই করবে, তা দ্বারাই আল্লাহ তা'আলা তোমার মর্যাদা এক স্তর উন্নত করবেন এবং তোমার থেকে একটি গুনাহ মিটিয়ে দেবেন।-মুসলিম
(সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ৪৮৮: জামে তিরমিযী, হাদীছ নং ৩৮৮, সুনানে নাসাঈ, হাদীছ নং ১১৩৯; সুনানে ইবন মাজাহ, হাদীছ নং ১৪২৩)
হাদীছ নং: ১০৭
হযরত ছাওবান রাযি. থেকে বর্ণিত, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের একজন আযাদ করা গোলাম, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তুমি বেশি বেশি সিজদা করতে থাক। কেননা তুমি আল্লাহ তা'আলার জন্য যে সিজদাই করবে, তা দ্বারাই আল্লাহ তা'আলা তোমার মর্যাদা এক স্তর উন্নত করবেন এবং তোমার থেকে একটি গুনাহ মিটিয়ে দেবেন।-মুসলিম
(সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ৪৮৮: জামে তিরমিযী, হাদীছ নং ৩৮৮, সুনানে নাসাঈ, হাদীছ নং ১১৩৯; সুনানে ইবন মাজাহ, হাদীছ নং ১৪২৩)
مقدمة الامام النووي
11 - باب في المجاهدة
107 - الثالث عشر: عن أبي عبد الله، ويقال: أَبُو عبد الرحمان ثوبان - مولى رَسُول الله - صلى الله عليه وسلم - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتُ رسولَ الله - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «عَلَيْكَ بِكَثْرَةِ السُّجُودِ؛ فَإِنَّكَ لَنْ تَسْجُدَ للهِ سَجْدَةً إلاَّ رَفَعَكَ اللهُ بِهَا دَرجَةً، وَحَطَّ عَنكَ بِهَا خَطِيئةً». رواه مسلم. (1)
হাদীস নং: ১০৮
ভূমিকা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুজাহাদা ও সাধনা-সংগ্ৰাম।
শ্রেষ্ঠ মানুষ কে?
হাদীছ নং: ১০৮
হযরত আব্দুল্লাহ ইবন বুসর আল-আসলামী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, শ্রেষ্ঠ মানুষ সে-ই, যার আয়ু দীর্ঘ হয় এবং কর্ম হয় উত্তম।-তিরমিযী
ইমাম তিরমিযী রহ. বলেন, এটি একটি হাসান স্তরের হাদীছ। (জামে তিরমিযী, হাদীছ নং ২৩২৯; সুনানে ইবন মাজাহ, হাদীছ নং ৩৯২৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ১৭৬৯৮, ২০৪১৫, ২০৪৪৩; বায়হাকী, হাদীছ নং ৬৫২৫)
হাদীছ নং: ১০৮
হযরত আব্দুল্লাহ ইবন বুসর আল-আসলামী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, শ্রেষ্ঠ মানুষ সে-ই, যার আয়ু দীর্ঘ হয় এবং কর্ম হয় উত্তম।-তিরমিযী
ইমাম তিরমিযী রহ. বলেন, এটি একটি হাসান স্তরের হাদীছ। (জামে তিরমিযী, হাদীছ নং ২৩২৯; সুনানে ইবন মাজাহ, হাদীছ নং ৩৯২৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ১৭৬৯৮, ২০৪১৫, ২০৪৪৩; বায়হাকী, হাদীছ নং ৬৫২৫)
مقدمة الامام النووي
11 - باب في المجاهدة
108 - الرابع عشر: عن أَبي صَفوان عبد الله بنِ بُسْرٍ الأسلمي - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُول الله - صلى الله عليه وسلم: «خَيرُ النَّاسِ مَنْ طَالَ عُمُرهُ، وَحَسُنَ عَمَلُهُ». رواه الترمذي، وَقالَ: «حديث حسن». (1)
«بُسْر» بضم الباء وبالسين المهملة.
«بُسْر» بضم الباء وبالسين المهملة.
হাদীস নং: ১০৯
ভূমিকা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুজাহাদা ও সাধনা-সংগ্ৰাম।
শাহাদাত ও জান্নাত লাভের জন্য সাহাবায়ে কিরামের জযবা
হাদীছ নং: ১০৯
হযরত আনাস ইবন মালিক রাযি. বলেন, আমার চাচা আনাস ইবনুন-নাযর বদরের যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন। তাই তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি মুশরিকদের সঙ্গে সর্বপ্রথম যে যুদ্ধ করলেন, তাতেই আমি অনুপস্থিত থাকলাম! এরপর যদি আল্লাহ মুশরিকদের সঙ্গে কোনও যুদ্ধে আমাকে উপস্থিত রাখেন, তবে আমি কী করি তা আল্লাহ অবশ্যই দেখিয়ে দেবেন। অতঃপর যখন উহুদের যুদ্ধের দিন আসল এবং মুসলিমগণ ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ল, তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ! এরা অর্থাৎ আমার সঙ্গীগণ যা করেছে সে ব্যাপারে আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আর ওরা অর্থাৎ মুশরিকগণ যা করেছে তার সাথে আমার কোনও সম্পর্ক না থাকার কথা আপনার কাছে প্রকাশ করছি। এই বলে তিনি সামনে অগ্রসর হন। তখন তার সামনে পড়লেন সা'দ ইবন মু'আয রাযি। তিনি তাঁকে বললেন, হে সা'দ ইবন মু'আয!
নাযরের রব্বের শপথ! জান্নাতই আমার কাম্য। আমি উহুদের পাদদেশ থেকে তার ঘ্রাণ পাচ্ছি। যুদ্ধের পর সা'দ রাযি. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে যা করেছে আমি তা করতে পারিনি।
হযরত আনাস রাযি. বলেন, আমরা তাঁর শরীরে ৮০টিরও বেশি তরবারি, বর্ণা ও তিরের আঘাত দেখতে পাই। আমরা তাঁকে নিহত অবস্থায় পাই। মুশরিকরা তাঁর লাশ এমনভাবে বিকৃত করে দিয়েছিল যে, কেউ তাঁকে চিনতে পারেনি। কেবল তাঁর বোনই তাঁর আঙ্গুলের মাথা দেখে তাঁকে শনাক্ত করতে পেরেছিলেন। হযরত আনাস রাযি. বলেন, আমাদের বিশ্বাস ছিল কিংবা (তিনি বলেন,) আমরা মনে করতাম যে, এ আয়াত
مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ
তাঁর ও তাঁর অনুরূপ ব্যক্তিদের সম্পর্কেই নাযিল হয়েছিল। -বুখারী ও মুসলিম'
(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ২৮০৫, সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ১৯০৩; জামে তিরমিযী, হাদীছ নং ৩২০০)
হাদীছ নং: ১০৯
হযরত আনাস ইবন মালিক রাযি. বলেন, আমার চাচা আনাস ইবনুন-নাযর বদরের যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন। তাই তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি মুশরিকদের সঙ্গে সর্বপ্রথম যে যুদ্ধ করলেন, তাতেই আমি অনুপস্থিত থাকলাম! এরপর যদি আল্লাহ মুশরিকদের সঙ্গে কোনও যুদ্ধে আমাকে উপস্থিত রাখেন, তবে আমি কী করি তা আল্লাহ অবশ্যই দেখিয়ে দেবেন। অতঃপর যখন উহুদের যুদ্ধের দিন আসল এবং মুসলিমগণ ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ল, তখন তিনি বললেন, হে আল্লাহ! এরা অর্থাৎ আমার সঙ্গীগণ যা করেছে সে ব্যাপারে আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আর ওরা অর্থাৎ মুশরিকগণ যা করেছে তার সাথে আমার কোনও সম্পর্ক না থাকার কথা আপনার কাছে প্রকাশ করছি। এই বলে তিনি সামনে অগ্রসর হন। তখন তার সামনে পড়লেন সা'দ ইবন মু'আয রাযি। তিনি তাঁকে বললেন, হে সা'দ ইবন মু'আয!
নাযরের রব্বের শপথ! জান্নাতই আমার কাম্য। আমি উহুদের পাদদেশ থেকে তার ঘ্রাণ পাচ্ছি। যুদ্ধের পর সা'দ রাযি. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে যা করেছে আমি তা করতে পারিনি।
হযরত আনাস রাযি. বলেন, আমরা তাঁর শরীরে ৮০টিরও বেশি তরবারি, বর্ণা ও তিরের আঘাত দেখতে পাই। আমরা তাঁকে নিহত অবস্থায় পাই। মুশরিকরা তাঁর লাশ এমনভাবে বিকৃত করে দিয়েছিল যে, কেউ তাঁকে চিনতে পারেনি। কেবল তাঁর বোনই তাঁর আঙ্গুলের মাথা দেখে তাঁকে শনাক্ত করতে পেরেছিলেন। হযরত আনাস রাযি. বলেন, আমাদের বিশ্বাস ছিল কিংবা (তিনি বলেন,) আমরা মনে করতাম যে, এ আয়াত
مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللَّهَ عَلَيْهِ
তাঁর ও তাঁর অনুরূপ ব্যক্তিদের সম্পর্কেই নাযিল হয়েছিল। -বুখারী ও মুসলিম'
(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ২৮০৫, সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ১৯০৩; জামে তিরমিযী, হাদীছ নং ৩২০০)
مقدمة الامام النووي
11 - باب في المجاهدة
109 - الخامس عشر: عن أنس - رضي الله عنه - قَالَ: غَابَ عَمِّي أَنَسُ بْنُ النَّضْرِ - رضي الله عنه - عن قِتالِ بدرٍ، فَقَالَ: يَا رسولَ الله، غِبْتُ عَنْ أوّل قِتال قَاتَلْتَ المُشْرِكِينَ، لَئِن اللهُ أشْهَدَنِي قِتَالَ المُشركِينَ لَيُرِيَنَّ اللهُ مَا أصْنَعُ. فَلَمَّا كَانَ يَومُ أُحُدٍ انْكَشَفَ المُسْلِمونَ، فَقَالَ: اللَّهُمَّ أعْتَذِرُ إلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ هؤُلاءِ - يعني: أصْحَابهُ - وأبْرَأُ إلَيْكَ مِمَّا صَنَعَ هؤُلاءِ - يَعني: المُشركِينَ - ثُمَّ تَقَدَّمَ فَاسْتَقْبَلهُ سَعدُ بْنُ مُعاذٍ، فَقَالَ: يَا سعدَ بنَ معاذٍ، الجَنَّةُ وربِّ الكعْبَةِ إنِّي أجِدُ ريحَهَا (1) منْ دُونِ أُحُدٍ. قَالَ سعدٌ: فَمَا اسْتَطَعتُ يَا رسولَ الله مَا صَنَعَ! قَالَ أنسٌ: فَوَجَدْنَا بِهِ بِضْعًا وَثَمانينَ ضَربَةً بالسَّيفِ، أَوْ طَعْنةً بِرمْحٍ، أَوْ رَمْيَةً [ص:56] بسَهْمٍ، وَوَجَدْنَاهُ قَدْ قُتِلَ وَمَثَّلَ بِهِ المُشْرِكونَ فما عَرَفهُ أَحَدٌ إلاَّ أُخْتُهُ بِبَنَانِهِ. قَالَ أنس: كُنَّا نَرَى أَوْ نَظُنُّ أن هذِهِ الآية نزلت فِيهِ وفي أشباهه: {مِنَ الْمُؤْمِنِينَ رِجَالٌ صَدَقُوا مَا عَاهَدُوا اللهَ عَلَيْهِ} [الأحزاب: 23] إِلَى آخِرها. مُتَّفَقٌ عَلَيهِ. (2)
قوله: «لَيُرِيَنَّ اللهُ» روي بضم الياء وكسر الراء: أي لَيُظْهِرَنَّ اللهُ ذلِكَ للنَّاس، وَرُويَ بفتحهما ومعناه ظاهر، والله أعلم.
قوله: «لَيُرِيَنَّ اللهُ» روي بضم الياء وكسر الراء: أي لَيُظْهِرَنَّ اللهُ ذلِكَ للنَّاس، وَرُويَ بفتحهما ومعناه ظاهر، والله أعلم.
হাদীস নং: ১১০
ভূমিকা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুজাহাদা ও সাধনা-সংগ্ৰাম।
দান-সদাকা করার প্রতি সাহাবায়ে কিরামের উৎসাহ
হাদীছ নং: ১১০
হযরত আবূ মাস'উদ আনসারী রাযি. বলেন, দান-সদাকা সম্পর্কিত আয়াত নাযিল হলে আমরা (অর্থোপার্জনের জন্য) মানুষের বোঝা বহন করতাম। এ অবস্থায় এক ব্যক্তি (নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে) এসে প্রচুর পরিমাণ দান করল। তারা (মুনাফিকরা) বলল, এ লোকটা রিয়াকার (মানুষকে দেখাচ্ছে)। আরেক ব্যক্তি এসে এক সা পরিমাণ দান করল। তারা বলল, এই ব্যক্তির এক সা' পরিমাণ দান গ্রহণ করার কোনও প্রয়োজন আল্লাহ তা'আলার নেই। এ পরিপ্রেক্ষিতে নাযিল হল-
الَّذِينَ يَلْمِزُونَ الْمُطَّوِّعِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فِي الصَّدَقَاتِ وَالَّذِينَ لَا يَجِدُونَ إِلَّا جُهْدَهُمْ فَيَسْخَرُونَ مِنْهُمْ سَخِرَ اللَّهُ مِنْهُمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ (79)
(এসব মুনাফিক তো এমন,) যারা মুমিনদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সদাকাকারীদেরকে দোষারোপ করে এবং তাদেরকেও, যারা নিজ শ্রম (লব্ধ অর্থ) ছাড়া কিছুই পায় না। এ কারণে তারা তাদেরকে উপহাস করে। আল্লাহও তাদের উপহাস করেন। আর তাদের জন্য যন্ত্রণাময় শাস্তি প্রস্তুত রয়েছে। [সূরা তাওবা, আয়াত ৭৯] -বুখারী ও মুসলিম।
এখানে হাদীছটি বুখারী রহ.-এর শব্দে উল্লেখিত হয়েছে
(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ১৪১৫; সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ১০১৮; সুনানে নাসাঈ, হাদীছ নং ২৫৩০)
হাদীছ নং: ১১০
হযরত আবূ মাস'উদ আনসারী রাযি. বলেন, দান-সদাকা সম্পর্কিত আয়াত নাযিল হলে আমরা (অর্থোপার্জনের জন্য) মানুষের বোঝা বহন করতাম। এ অবস্থায় এক ব্যক্তি (নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে) এসে প্রচুর পরিমাণ দান করল। তারা (মুনাফিকরা) বলল, এ লোকটা রিয়াকার (মানুষকে দেখাচ্ছে)। আরেক ব্যক্তি এসে এক সা পরিমাণ দান করল। তারা বলল, এই ব্যক্তির এক সা' পরিমাণ দান গ্রহণ করার কোনও প্রয়োজন আল্লাহ তা'আলার নেই। এ পরিপ্রেক্ষিতে নাযিল হল-
الَّذِينَ يَلْمِزُونَ الْمُطَّوِّعِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فِي الصَّدَقَاتِ وَالَّذِينَ لَا يَجِدُونَ إِلَّا جُهْدَهُمْ فَيَسْخَرُونَ مِنْهُمْ سَخِرَ اللَّهُ مِنْهُمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ (79)
(এসব মুনাফিক তো এমন,) যারা মুমিনদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সদাকাকারীদেরকে দোষারোপ করে এবং তাদেরকেও, যারা নিজ শ্রম (লব্ধ অর্থ) ছাড়া কিছুই পায় না। এ কারণে তারা তাদেরকে উপহাস করে। আল্লাহও তাদের উপহাস করেন। আর তাদের জন্য যন্ত্রণাময় শাস্তি প্রস্তুত রয়েছে। [সূরা তাওবা, আয়াত ৭৯] -বুখারী ও মুসলিম।
এখানে হাদীছটি বুখারী রহ.-এর শব্দে উল্লেখিত হয়েছে
(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ১৪১৫; সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ১০১৮; সুনানে নাসাঈ, হাদীছ নং ২৫৩০)
مقدمة الامام النووي
11 - باب في المجاهدة
110 - السادس عشر: عن أبي مسعود عقبة بن عمرو الأنصاري البدري - رضي الله عنه - قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ آيةُ الصَّدَقَةِ كُنَّا نُحَامِلُ عَلَى ظُهُورِنَا، فَجَاءَ رَجُلٌ فَتَصَدَّقَ بِشَيءٍ كَثيرٍ، فقالوا: مُراءٍ، وَجَاءَ رَجُلٌ آخَرُ فَتَصَدَّقَ بِصَاعٍ، فقالُوا: إنَّ اللهَ لَغَنيٌّ عَنْ صَاعِ هَذَا! فَنَزَلَتْ: {الَّذِينَ يَلْمِزُونَ الْمُطَّوِّعِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فِي الصَّدَقَاتِ وَالَّذِينَ لا يَجِدُونَ إِلاَّ جُهْدَهُمْ} [التوبة: 79]. مُتَّفَقٌ عَلَيهِ، هذا لفظ البخاري (1).
وَ «نُحَامِلُ» بضم النون وبالحاء المهملة: أي يحمل أحدنا عَلَى ظهره بالأجرة ويتصدق بِهَا.
وَ «نُحَامِلُ» بضم النون وبالحاء المهملة: أي يحمل أحدنا عَلَى ظهره بالأجرة ويتصدق بِهَا.
হাদীস নং: ১১১
ভূমিকা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মুজাহাদা ও সাধনা-সংগ্ৰাম।
জুলুম-অত্যাচারের অবৈধতা, আল্লাহর অমুখাপেক্ষিতা এবং তাঁর দান ও দয়ার অসীমতা
হাদীছ নং: ১১১
সা'ঈদ ইবন আযীয রহ. বর্ণনা করেন রাবী'আ ইবন ইয়াযীদ রহ. থেকে, তিনি আবূ ইয়াযীদ খাওলানী রহ. থেকে, তিনি হযরত আবূ যার জুনদাব ইবন জুনাদা রাযি, থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এবং তিনি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইরশাদ করেন,
হে আমার বান্দাগণ! আমি নিজের প্রতি জুলুম হারাম করে রেখেছি এবং একে তোমাদের জন্য হারাম করেছি। কাজেই তোমরা পরস্পর জুলুম করো না।
হে আমার বান্দাগণ! আমি যাকে হিদায়াত দিয়েছি, সে ছাড়া তোমরা সকলেই পথহারা। সুতরাং তোমরা আমার কাছে হিদায়াত চাও, আমি তোমাদেরকে হিদায়াত দেব।
হে আমার বান্দাগণ! আমি যাকে খাদ্য দিয়েছি, সে ছাড়া তোমরা সকলেই ক্ষুধার্ত। সুতরাং তোমরা আমার কাছে খাদ্য চাও, আমি তোমাদেরকে খাদ্য দেব।
হে আমার বান্দাগণ! আমি যাকে বস্ত্র দিয়েছি, সে ছাড়া তোমরা সকলেই বস্ত্রহীন। সুতরাং তোমরা আমার কাছে বস্ত্র চাও, আমি তোমাদেরকে বস্ত্র দেব।
হে আমার বান্দাগণ! তোমরা দিবারাত্র ভুল করে থাক, আর আমি সমস্ত ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিই। সুতরাং তোমরা আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করব।
হে আমার বান্দাগণ! তোমরা কিছুতেই আমার ক্ষতি করতে সক্ষম নও যে, তোমরা আমার ক্ষতি করবে। এবং তোমরা আমার উপকার করারও ক্ষমতা রাখ না যে, তোমরা আমার উপকার করবে।
হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত মানুষ ও জিন্ন যদি তোমাদের মধ্যকার সর্বশ্রেষ্ঠ মুত্তাকী ব্যক্তির কলবের মত (কলববিশিষ্ট) হয়ে যায়, তবে তা আমার রাজত্বে কিছুমাত্র বৃদ্ধি করবে না।
হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত মানুষ ও জিন্ন যদি সর্বাপেক্ষা পাপিষ্ঠ ব্যক্তির কলবের মত (কলববিশিষ্ট) হয়ে যায়, তবে তা আমার রাজত্বের কিছুমাত্র হ্রাস করবে না।
হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত মানুষ ও জিন্ন যদি একটি ময়দানে দাঁড়িয়ে যায়, তারপর আমার কাছে চায় আর আমি তাদের প্রত্যেককে তার প্রার্থিত বিষয় দিয়ে দিই, তবে তা আমার ভাণ্ডারে যা আছে তা থেকে অতটুকুই কমায়, যতটুকু একটি সুঁই সাগরে ঢোকানো হলে তা তার পানি কমাতে পারে।
হে আমার বান্দাগণ! এসব তোমাদের আমল, যা আমি তোমাদের জন্য হিসাব করে রাখি। তারপর আমি তোমাদেরকে তার পুরোপুরি বদলা দেব। সুতরাং যে ব্যক্তি উত্তম বিনিময় লাভ করবে, সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে। আর যে ব্যক্তি তার বিপরীত কিছু পাবে, সে যেন কেবল তার নিজেকেই দোষারোপ করে।
সা'ঈদ ইবন আব্দুল আযীয রহ. বলেন, আবূ ইদরীস খাওলানী রহ. যখন এ হাদীছটি বর্ণনা করতেন, তখন (এর সম্মান ও মর্যাদায়) হাঁটু গেড়ে বসে পড়তেন। -মুসলিম
ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল রহ. বলেন, শামবাসীদের কাছে এরচে' বেশি মর্যাদাপূর্ণ আর কোনও হাদীছ নেই।
(সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ২৫৭৭; জামে তিরমিযী, হাদীছ নং ২৪৯৫; সুনানে ইবন মাজাহ,হাদীছ নং ৪২৫৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ২১৪০৫)
হাদীছ নং: ১১১
সা'ঈদ ইবন আযীয রহ. বর্ণনা করেন রাবী'আ ইবন ইয়াযীদ রহ. থেকে, তিনি আবূ ইয়াযীদ খাওলানী রহ. থেকে, তিনি হযরত আবূ যার জুনদাব ইবন জুনাদা রাযি, থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এবং তিনি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি ইরশাদ করেন,
হে আমার বান্দাগণ! আমি নিজের প্রতি জুলুম হারাম করে রেখেছি এবং একে তোমাদের জন্য হারাম করেছি। কাজেই তোমরা পরস্পর জুলুম করো না।
হে আমার বান্দাগণ! আমি যাকে হিদায়াত দিয়েছি, সে ছাড়া তোমরা সকলেই পথহারা। সুতরাং তোমরা আমার কাছে হিদায়াত চাও, আমি তোমাদেরকে হিদায়াত দেব।
হে আমার বান্দাগণ! আমি যাকে খাদ্য দিয়েছি, সে ছাড়া তোমরা সকলেই ক্ষুধার্ত। সুতরাং তোমরা আমার কাছে খাদ্য চাও, আমি তোমাদেরকে খাদ্য দেব।
হে আমার বান্দাগণ! আমি যাকে বস্ত্র দিয়েছি, সে ছাড়া তোমরা সকলেই বস্ত্রহীন। সুতরাং তোমরা আমার কাছে বস্ত্র চাও, আমি তোমাদেরকে বস্ত্র দেব।
হে আমার বান্দাগণ! তোমরা দিবারাত্র ভুল করে থাক, আর আমি সমস্ত ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দিই। সুতরাং তোমরা আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করব।
হে আমার বান্দাগণ! তোমরা কিছুতেই আমার ক্ষতি করতে সক্ষম নও যে, তোমরা আমার ক্ষতি করবে। এবং তোমরা আমার উপকার করারও ক্ষমতা রাখ না যে, তোমরা আমার উপকার করবে।
হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত মানুষ ও জিন্ন যদি তোমাদের মধ্যকার সর্বশ্রেষ্ঠ মুত্তাকী ব্যক্তির কলবের মত (কলববিশিষ্ট) হয়ে যায়, তবে তা আমার রাজত্বে কিছুমাত্র বৃদ্ধি করবে না।
হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত মানুষ ও জিন্ন যদি সর্বাপেক্ষা পাপিষ্ঠ ব্যক্তির কলবের মত (কলববিশিষ্ট) হয়ে যায়, তবে তা আমার রাজত্বের কিছুমাত্র হ্রাস করবে না।
হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত মানুষ ও জিন্ন যদি একটি ময়দানে দাঁড়িয়ে যায়, তারপর আমার কাছে চায় আর আমি তাদের প্রত্যেককে তার প্রার্থিত বিষয় দিয়ে দিই, তবে তা আমার ভাণ্ডারে যা আছে তা থেকে অতটুকুই কমায়, যতটুকু একটি সুঁই সাগরে ঢোকানো হলে তা তার পানি কমাতে পারে।
হে আমার বান্দাগণ! এসব তোমাদের আমল, যা আমি তোমাদের জন্য হিসাব করে রাখি। তারপর আমি তোমাদেরকে তার পুরোপুরি বদলা দেব। সুতরাং যে ব্যক্তি উত্তম বিনিময় লাভ করবে, সে যেন আল্লাহর প্রশংসা করে। আর যে ব্যক্তি তার বিপরীত কিছু পাবে, সে যেন কেবল তার নিজেকেই দোষারোপ করে।
সা'ঈদ ইবন আব্দুল আযীয রহ. বলেন, আবূ ইদরীস খাওলানী রহ. যখন এ হাদীছটি বর্ণনা করতেন, তখন (এর সম্মান ও মর্যাদায়) হাঁটু গেড়ে বসে পড়তেন। -মুসলিম
ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল রহ. বলেন, শামবাসীদের কাছে এরচে' বেশি মর্যাদাপূর্ণ আর কোনও হাদীছ নেই।
(সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ২৫৭৭; জামে তিরমিযী, হাদীছ নং ২৪৯৫; সুনানে ইবন মাজাহ,হাদীছ নং ৪২৫৭; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ২১৪০৫)
مقدمة الامام النووي
11 - باب في المجاهدة
111 - السابع عشر: عن سعيد بن عبد العزيز، عن ربيعة بن يزيد، عن أَبي إدريس الخولاني، عن أبي ذر جندب بن جُنادة - رضي الله عنه - عن النَّبيّ - صلى الله عليه وسلم - فيما يروي، عن اللهِ تَبَاركَ وتعالى، أنَّهُ قَالَ: «يَا عِبَادي، إنِّي حَرَّمْتُ الظُلْمَ عَلَى نَفْسي وَجَعَلْتُهُ بيْنَكم مُحَرَّمًا فَلا تَظَالَمُوا. يَا عِبَادي، كُلُّكُمْ ضَالّ إلاَّ مَنْ هَدَيْتُهُ فَاستَهدُوني أهْدِكُمْ. يَا عِبَادي، كُلُّكُمْ جَائِعٌ إلاَّ مَنْ أطْعَمْتُهُ فَاستَطعِمُوني أُطْعِمْكُمْ. يَا عِبَادي، كُلُّكُمْ عَارٍ إلاَّ مَنْ كَسَوْتُهُ فاسْتَكْسُونِي أكْسُكُمْ. يَا عِبَادي، إنَّكُمْ تُخْطِئُونَ باللَّيلِ وَالنَّهارِ وَأَنَا أغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا فَاسْتَغْفِرُوني أغْفِرْ لَكُمْ. يَا عِبَادي، إنَّكُمْ لَنْ تَبْلُغوا ضُرِّي فَتَضُرُّوني، وَلَنْ تَبْلُغُوا نَفعِي فَتَنْفَعُوني. يَا عِبَادي، لَوْ أنَّ أوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجنَّكُمْ كَانُوا عَلَى أتْقَى قَلْبِ رَجُلٍ وَاحِدٍ مِنْكُمْ مَا زَادَ ذلِكَ في مُلكي شيئًا. يَا عِبَادي، لَوْ أنَّ أوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجنَّكُمْ كَانُوا عَلَى أفْجَرِ قَلْبِ رَجُلٍ وَاحِدٍ مِنْكُمْ مَا نَقَصَ ذلِكَ من مُلكي شيئًا. يَا عِبَادي، لَوْ أنَّ أوَّلَكُمْ وَآخِرَكُمْ وَإِنْسَكُمْ وَجنَّكُمْ قَامُوا في صَعِيدٍ وَاحِدٍ فَسَألُوني فَأعْطَيتُ [ص:57] كُلَّ إنْسَانٍ مَسْألَتَهُ مَا نَقَصَ ذلِكَ مِمَّا عِنْدِي إلاَّ كما يَنْقصُ المِخْيَطُ (1) إِذَا أُدْخِلَ البَحْرَ. يَا عِبَادي، إِنَّمَا هِيَ أعْمَالُكُمْ أُحْصِيهَا لَكُمْ ثُمَّ أوَفِّيكُمْ إِيَّاهَا، فَمَنْ وَجَدَ خَيرًا فَلْيَحْمَدِ الله وَمَنْ وَجَدَ غَيْرَ ذلِكَ فَلا يَلُومَنَّ إلاَّ نَفْسَهُ».
قَالَ سعيد: كَانَ أَبُو إدريس إِذَا حَدَّثَ بهذا الحديث جَثا (2) عَلَى رُكبتيه. رواه مسلم. (3)
وروينا عن الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله، قَالَ: لَيْسَ لأهل الشام حديث أشرف من هَذَا الحديث (4).
قَالَ سعيد: كَانَ أَبُو إدريس إِذَا حَدَّثَ بهذا الحديث جَثا (2) عَلَى رُكبتيه. رواه مسلم. (3)
وروينا عن الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله، قَالَ: لَيْسَ لأهل الشام حديث أشرف من هَذَا الحديث (4).
হাদীস নং: ১১২
ভূমিকা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জীবনের শেষদিকে বেশি বেশি নেক কাজ করার প্রতি উৎসাহদান
বৃদ্ধলোকের বাদবাকি সময়ের গুরুত্ব
কারও যখন বার্ধক্য এসে যায়, তখন যেন তার মৃত্যুর ঘণ্টা বেজে যায়। মৃত্যু এখন সমরের ব্যাপার মাত্র। যে-কোনও সময়ই ঘটে যেতে পারে। যুবকদের তো একটা আশা থাকে- হয়তো আরও কিছুকাল বাঁচব এবং মৃত্যু আসতে আসতে হয়তো বৃদ্ধকালে পৌঁছে যাব। কিন্তু যে ব্যক্তি বৃদ্ধকালে পৌঁছে গেছে তার আর কিসের ভরসা? বৃদ্ধকালটাই তার জন্য সতর্কসংকেত যে, মৃত্যু কিন্তু খুব কাছে।
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ওহী মারফত সতর্ক করা হয়েছিল যে, মৃত্যুর আর দেরি নেই। তাঁকে একটা আলামত বলে দেওয়া হয়েছিল। সে আলামত যখন দেখা যাবে, বুঝে নিতে হবে মৃত্যু কাছে এসে গেছে। আলামতটি হল মক্কাবিজয় ও দলে দলে মানুষের ইসলামগ্রহণ। এ আলামত দেখতে পাওয়ার পর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব বেশি পরিমাণে তাসবীহ পাঠ ও ইস্তিগফারে লিপ্ত হয়ে পড়েন।
আমাদের কাছে তো আর ওহী আসার কোনও অবকাশ নেই। আমাদের মৃত্যু কাছে এসে যাওয়ার সতর্কসংকেত হচ্ছে বার্ধক্য। বার্ধক্য যার এসে গেল, সে যেন পাকা ফসল। ফসল পেকে গেলে যেমন কৃষক যে-কোনও সময় তা কেটে নিতে পারে, তেমনি মানুষ বৃদ্ধ হয়ে গেলেও যে-কোনও মুহূর্তে মালাকুল মাওত জান কবজ করে ফেলতে পারে। সুতরাং এখন কর্তব্য যতবেশি সম্ভব তাওবা-ইস্তিগফারে লিপ্ত হয়ে পড়া।
ফুযায়ল ইব্ন ইয়ায রহ. এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমার বয়স কত? সে বলেছিল, ষাট বছর। তিনি বললেন, তুমি ষাট বছর যাবৎ তোমার প্রতিপালকের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য ছুটে চলছ। অতি শীঘ্রই গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যাবে। লোকটি বলে উঠল, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি জানে সে আল্লাহর বান্দা এবং সে আল্লাহর কাছে ফিরে যাবে তার এটাও জানা উচিত যে, তাকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে এবং আল্লাহ যা প্রশ্ন করবেন তার উত্তর দিতে হবে। অতএব তার কর্তব্য সে প্রশ্নের উত্তর তৈরি করা। লোকটি জিজ্ঞেস করল, এর উপায় কী? তিনি বললেন, খুব সহজ। বলল, তা কী? তিনি বললেন, বাকি যতটুকু সময় পাওয়া যায় নেক আমলে লেগে থাক। তাহলে তোমার অতীতে যা ঘটে গেছে তা মাফ করে দেওয়া হবে। পক্ষান্তরে এখনও যদি মন্দ আমলে লেগে থাক, তবে অতীতের সাথে অবশিষ্ট দিনগুলোর গুনাহের জন্য ধরা পড়ে যাবে।
হাঁ, বন্ধুগণ! আমাদের যাদের বার্ধক্য এসে গেছে তাদের এখন কেবল একই চিন্তা হওয়া উচিত- কবরে যাওয়ার চিন্তা। বিগত দিনগুলো তো চরম অবহেলার মধ্যেই কেটেছে, বাকি সামান্য কটা দিনও যদি অবহেলায়ই কাটে, তবে সে ক্ষতির তো কোনও সীমা নেই। জীবনের দিনগুলো ব্যবসায়ের মূলধনের মত। মূলধন তো প্রায় শেষ হতে চলল। এতদিন সে মূলধন খাটিয়ে কেবল লোকসানই কুঁড়ানো হয়েছে। শেষ দিনগুলোও কি লোকসানেই যাবে? এখনও যে সময়টুকু আছে, চেষ্টা করলে বিগত লোকসানের প্রতিকার করা সম্ভব। জীবনের অবসান যে আমলের উপর হয় তা-ই ধর্তব্য হয়। এখনও যদি নিজেকে সংশোধন করে নেওয়া যায় এবং খাঁটিমনে তাওবা-ইস্তিগফার করে নেওয়া যায়, তবে শেষ মূলধনটুকু কাজে লেগে যাবে। পরকালের জন্য তা অফুরন্ত মুনাফা বয়ে আনবে। সুতরাং আর গড়িমসি নয়, এসো বন্ধু! আমরা এখনই তাওবা-ইস্তিগফারে রত হয়ে যাই এবং আর যতটুকু সময় পাওয়া যায় তা নেক আমলের মধ্যে কাটাই। হে আল্লাহ! আমরা অতি বড় গুনাহগার। আমাদের ক্ষমা করে দিন, আমাদের তাওবা কবূল করে নিন এবং জীবনের বাকি সময়টুকু নেক আমলে কাটানোর তাওফীক দিন- আমীন।
কুরআন ও হাদীছে মানুষকে বৃদ্ধকালে বেশি বেশি নেক আমলে রত হওয়ার প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ-
أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُمْ مَا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَنْ تَذَكَّرَ وَجَاءَكُمُ النَّذِيرُ
অর্থ : আমি কি তোমাদেরকে এমন দীর্ঘ আয়ু দেইনি যে, তখন কেউ সতর্ক হতে চাইলে সতর্ক হতে পারত? এবং তোমাদের কাছে সতর্ককারীও এসেছিল।সূরা ফাতির, আয়াত ৩৭
আয়াতের ব্যাখ্যা
ইমাম নববী রহ. এ আয়াতের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা পেশ করেছেন। আমরা প্রথমে সে ব্যাখ্যার বঙ্গানুবাদ করব, তারপর এ আয়াতের তাফসীরে মুফাস্সিরগণ যে আলোচনা করেছেন তার ভিত্তিতে আয়াতখানি থেকে এ সংক্ষিপ্ত পরিসরে যতটুকু সম্ভব আলো গ্রহণের চেষ্টা করব।
ইমাম নববী রহ.-এর ব্যাখ্যা
قال ابن عباس والمحققون: معناه أو لم نعمركم ستين سنة؟ ويؤيده الحديث الذي سنذكره إن شاء الله تعالى، وقيل: معناه ثماني عشرة سنة، وقيل أربعين سنة قاله الحسن والكلبي ومسروق، ونقل عن ابن عباس أيضا. ونقلوا أن أهل المدينة كانوا إذا بلغ أحدهم أربعين سنة تفرغ للعبادة، وقيل: هو البلوغ. وقوله تعالى: «وجاءكم النذير» قال ابن عباس والجمهور هو التي ، وقيل الشيب، قاله عكرمة وابن عيينة وغيرهما. والله أعلم
“হযরত ‘আব্দুল্লাহ ইব্ন 'আব্বাস রাযি. ও মুহাক্কিক 'আলেমগণের মতে এর দ্বারা ৬০ বছর বয়স বোঝানো হয়েছে। সামনে যে হাদীছ উল্লেখ করা হবে তা এর সমর্থন করে। কারও মতে, ১৮ বছর বয়স। আবার কেউ ৪০ বছর বয়সের কথাও বলেছেন। হাসান বসরী রহ., কালবী রহ. ও মাসরূক রহ.-এর মত এটাই। হযরত ‘আব্দুল্লাহ ইব্ন ‘আব্বাস রাযি. থেকেও এরূপ বর্ণিত আছে।
মদীনাবাসীদের সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তারা যখন ৪০ বছর বয়সে উপনীত হতেন তখন সব কাজকর্ম ছেড়ে দিয়ে 'ইবাদত-বন্দেগীতে লেগে যেতেন। কারও মতে, এ আয়াতে যে বয়সের কথা বলা হয়েছে তা দ্বারা বালেগ হওয়া বোঝানো উদ্দেশ্য।”
এ আয়াতে যে সতর্ককারী আসার কথা বলা হয়েছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইব্ন ‘আব্বাস রাযি. ও সংখ্যাগরিষ্ঠ ‘উলামায়ে কিরামের মতে সে সতর্ককারী হলেন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কারও মতে এ সতর্ককারী হল বার্ধক্য। ইকরিমা রহ., সুফয়ান ইব্ন 'উয়াইনা রহ. প্রমুখ-ও এরূপ বলেছেন।
আয়াতখানি থেকে আলোগ্রহণ
এ আয়াতের বক্তব্যটি মূলত জাহান্নামবাসীদের কথার উত্তর। এ আয়াতের শুরুতে আছেঃ-
وَهُمْ يَصْطَرِخُونَ فِيهَا رَبَّنَا أَخْرِجْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا غَيْرَ الَّذِي كُنَّا نَعْمَلُ
অর্থ : জাহান্নামের ভেতর তারা আর্তনাদ করে বলবে, হে আমাদের রব্বু! আমাদেরকে এর থেকে বের করুন। আমরা সৎকাজ করব। আগে যা করতাম তা করব না।সূরা ফাতির, আয়াত ৩৭
এভাবে তারা তাদের অসৎকাজের জন্য অনুতাপ ও অনুশোচনা প্রকাশ করবে এবং জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি চাইবে। আয়াতের শেষাংশে তাদের সে ফরিয়াদেরই জবাব দেওয়া হয়েছে। জবাবের সারকথা হল, এখন আর তোমাদের কোনও ওজর-আপত্তি শোনা হবে না। কেননা তোমরা যাতে অসৎকাজ ছেড়ে সৎকাজে লিপ্ত হও, সেজন্য আমি তোমাদেরকে সর্বপ্রকারে সচেতন করার চেষ্টা করেছি। তোমাদের কাছে সতর্ককারী পাঠিয়েছি, তোমাদেরকে বুদ্ধিবিবেক দিয়েছি এবং এমন একটা আয়ু দিয়েছি, যখন তোমরা সতর্ককারীর কথা শুনে এবং বুদ্ধিবিবেক কাজে লাগিয়ে সৎকাজ করতে পারতে। তখন তোমরা দুনিয়ার জীবনে ছিলে। সে জীবনই ছিল সৎকাজের সময়। আর আখিরাত হল কর্মফল ভোগের সময়। যখন সৎকাজের সুযোগ ছিল তখন তা করোনি। সুতরাং এখন অনুতাপ ও অনুশোচনায় কোনও কাজ হবে না। এখন কর্মফল হিসেবে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে থাক।
এ আয়াতে যে বয়সের কথা বলা হয়েছে, তা যে ৬০ বছরই হতে হবে এমন কোনও কথা নেই। এর দ্বারা মূলত এমন একটা জীবন বোঝানো উদ্দেশ্য, যে জীবন লাভ করলে চিন্তাভাবনা করার ও উপদেশ গ্রহণ করার সুযোগ পাওয়া যায়। তা ৬০ বছরের আগেও হতে পারে। মানুষ বালেগ হওয়ার পর থেকেই বিবেকবুদ্ধির উন্মেষ ঘটতে থাকে। যত বয়স বাড়ে ততই বুদ্ধিতে পরিপক্কতা আসে এবং অস্থিরতা ও চপলতা কমতে থাকে। যখন বয়স পূর্ণ চল্লিশে পৌছায়, তখন বুদ্ধিও পূর্ণতা পায় এবং স্বভাব-চরিত্রে ভারিক্কি ও ভারসাম্য আসে। যে-কোনও বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা ও বুঝেশুনে কাজকর্ম করার পক্ষে এ বয়সটা খুবই সহায়ক। তাই তো দেখা যায় নবীগণ এ বয়সেই নবুওয়াত লাভ করেছিলেন। আমাদের নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপরও তাঁর ৪০ বছর বয়সকালেই প্রথম ওহী নাযিল হয়েছিল। সুতরাং বলা যায় এ আয়াতের ইঙ্গিত ৪০ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বয়সকালের প্রতিই। এ উম্মতের গড়পড়তা বয়স ৬০ বছর। যদি কেউ এর বেশি কাল বাঁচে, তবে সে আরও বেশি সুযোগ পেল। তার ক্ষেত্রে এ আয়াতের বক্তব্য আরও বেশি প্রযোজ্য হবে।
সুতরাং আমাদের প্রত্যেকেরই কর্তব্য, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে 'ইবাদত-বন্দেগীর প্রতিও বেশি মনোযোগী হওয়া।
এ আয়াতে বর্ণিত সতর্ককারী কে, সে সম্পর্কে বিভিন্ন মত আছে। যেমন ইমাম নববী রহ. ইঙ্গিত করেছেন এবং অধিকাংশ ‘উলামার বরাতে বলেছেন, এ সতর্ককারী হলেন মহানবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কেউ কেউ কুরআন মাজীদের কথাও বলেছেন। প্রকৃতপক্ষে কুরআন ও মহানবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উভয়ই সতর্ককারী। কুরআনও তার বাণীসমূহের মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করে থাকে এবং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও মানুষকে আল্লাহর আযাব ও গযব সম্পর্কে সতর্ক করতেন। এর আগের উম্মতসমূহের জন্যও তাদের কাছে প্রেরিত নবীগণ এবং তাদের উপর নাযিলকৃত আসমানী গ্রন্থসমূহ ছিল সতর্ককারী।
কারও কারও মতে মানুষের আকলবুদ্ধিও সতর্ককারী। যে ব্যক্তি নিরবচ্ছিন্ন অবাধ্যতা ও পাপাচার দ্বারা নিজ বুদ্ধিবিবেক বিকৃত করে ফেলেনি, তার বুদ্ধিবিবেক এক উত্তম পরামর্শদাতা। যখনই কোনও মন্দ কাজের অবকাশ আসে, সুস্থ বিবেক তার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং তাকে সে কাজে লিপ্ত হতে বারণ করে। এজন্যই বিবেকবান লোক সাধারণত অন্যায়-অনাচার কমই করে। কাজেই বলা যায় অপরাপর সতর্ককারীর মত বুদ্ধিবিবেকও মানুষের এক সতর্ককারী।
প্রকাশ থাকে যে, এসব মতের মধ্যে কোনও বৈপরিত্য নেই। এর কোনও একটিকে সতর্ককারী মানলে আরেকটিকে যে মানা যাবে না, ব্যাপারটা এরকম নয়। কেননা আলাদা আলাদাভাবে এর প্রত্যেকেই মানুষকে সতর্ক করে থাকে। বরং এটা আল্লাহ তা'আলার এক মেহেরবানী যে, তিনি মানুষকে সতর্ক করার নানারকম ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনি মানুষকে সতর্ক করেন নবী-রাসূলের দ্বারা, তাকে সতর্ক করেন আসমানী কিতাব দ্বারা, এর পাশাপাশি সতর্ক করেন বুদ্ধিবিবেক দ্বারা, কখনও সতর্ক করেন বিপদ-আপদ দ্বারা, কখনও করেন শারীরিক বিভিন্ন পরিবর্তন বিশেষত বার্ধক্য দ্বারা। এভাবে তিনি সতর্কীকরণের বহুবিধ ব্যবস্থা নিয়েছেন, যাতে একটিতে সতর্ক না হলে আরেকটিতে হয়ে যায়। আল্লাহ চান কোনও না কোনওভাবে বান্দা নিজেকে সংশোধন করে তাঁর সন্তুষ্টি হাসিল করে ফেলুক এবং জান্নাতের অধিকারী হয়ে যাক। তা সত্ত্বেও যদি আমাদের হুঁশ না হয় এবং পাপাচারের ভেতরই জীবন ধ্বংস করি, তবে তা কত বড়ই না দুর্ভাগ্যের কথা। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে সুবুদ্ধি দিন এবং তাঁর মর্জি মোতাবেক চলার তাওফীক দান করুন, আমীন।
বৃদ্ধলোকের বাদবাকি সময়ের গুরুত্ব
কারও যখন বার্ধক্য এসে যায়, তখন যেন তার মৃত্যুর ঘণ্টা বেজে যায়। মৃত্যু এখন সমরের ব্যাপার মাত্র। যে-কোনও সময়ই ঘটে যেতে পারে। যুবকদের তো একটা আশা থাকে- হয়তো আরও কিছুকাল বাঁচব এবং মৃত্যু আসতে আসতে হয়তো বৃদ্ধকালে পৌঁছে যাব। কিন্তু যে ব্যক্তি বৃদ্ধকালে পৌঁছে গেছে তার আর কিসের ভরসা? বৃদ্ধকালটাই তার জন্য সতর্কসংকেত যে, মৃত্যু কিন্তু খুব কাছে।
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ওহী মারফত সতর্ক করা হয়েছিল যে, মৃত্যুর আর দেরি নেই। তাঁকে একটা আলামত বলে দেওয়া হয়েছিল। সে আলামত যখন দেখা যাবে, বুঝে নিতে হবে মৃত্যু কাছে এসে গেছে। আলামতটি হল মক্কাবিজয় ও দলে দলে মানুষের ইসলামগ্রহণ। এ আলামত দেখতে পাওয়ার পর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুব বেশি পরিমাণে তাসবীহ পাঠ ও ইস্তিগফারে লিপ্ত হয়ে পড়েন।
আমাদের কাছে তো আর ওহী আসার কোনও অবকাশ নেই। আমাদের মৃত্যু কাছে এসে যাওয়ার সতর্কসংকেত হচ্ছে বার্ধক্য। বার্ধক্য যার এসে গেল, সে যেন পাকা ফসল। ফসল পেকে গেলে যেমন কৃষক যে-কোনও সময় তা কেটে নিতে পারে, তেমনি মানুষ বৃদ্ধ হয়ে গেলেও যে-কোনও মুহূর্তে মালাকুল মাওত জান কবজ করে ফেলতে পারে। সুতরাং এখন কর্তব্য যতবেশি সম্ভব তাওবা-ইস্তিগফারে লিপ্ত হয়ে পড়া।
ফুযায়ল ইব্ন ইয়ায রহ. এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমার বয়স কত? সে বলেছিল, ষাট বছর। তিনি বললেন, তুমি ষাট বছর যাবৎ তোমার প্রতিপালকের সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য ছুটে চলছ। অতি শীঘ্রই গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যাবে। লোকটি বলে উঠল, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি জানে সে আল্লাহর বান্দা এবং সে আল্লাহর কাছে ফিরে যাবে তার এটাও জানা উচিত যে, তাকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে এবং আল্লাহ যা প্রশ্ন করবেন তার উত্তর দিতে হবে। অতএব তার কর্তব্য সে প্রশ্নের উত্তর তৈরি করা। লোকটি জিজ্ঞেস করল, এর উপায় কী? তিনি বললেন, খুব সহজ। বলল, তা কী? তিনি বললেন, বাকি যতটুকু সময় পাওয়া যায় নেক আমলে লেগে থাক। তাহলে তোমার অতীতে যা ঘটে গেছে তা মাফ করে দেওয়া হবে। পক্ষান্তরে এখনও যদি মন্দ আমলে লেগে থাক, তবে অতীতের সাথে অবশিষ্ট দিনগুলোর গুনাহের জন্য ধরা পড়ে যাবে।
হাঁ, বন্ধুগণ! আমাদের যাদের বার্ধক্য এসে গেছে তাদের এখন কেবল একই চিন্তা হওয়া উচিত- কবরে যাওয়ার চিন্তা। বিগত দিনগুলো তো চরম অবহেলার মধ্যেই কেটেছে, বাকি সামান্য কটা দিনও যদি অবহেলায়ই কাটে, তবে সে ক্ষতির তো কোনও সীমা নেই। জীবনের দিনগুলো ব্যবসায়ের মূলধনের মত। মূলধন তো প্রায় শেষ হতে চলল। এতদিন সে মূলধন খাটিয়ে কেবল লোকসানই কুঁড়ানো হয়েছে। শেষ দিনগুলোও কি লোকসানেই যাবে? এখনও যে সময়টুকু আছে, চেষ্টা করলে বিগত লোকসানের প্রতিকার করা সম্ভব। জীবনের অবসান যে আমলের উপর হয় তা-ই ধর্তব্য হয়। এখনও যদি নিজেকে সংশোধন করে নেওয়া যায় এবং খাঁটিমনে তাওবা-ইস্তিগফার করে নেওয়া যায়, তবে শেষ মূলধনটুকু কাজে লেগে যাবে। পরকালের জন্য তা অফুরন্ত মুনাফা বয়ে আনবে। সুতরাং আর গড়িমসি নয়, এসো বন্ধু! আমরা এখনই তাওবা-ইস্তিগফারে রত হয়ে যাই এবং আর যতটুকু সময় পাওয়া যায় তা নেক আমলের মধ্যে কাটাই। হে আল্লাহ! আমরা অতি বড় গুনাহগার। আমাদের ক্ষমা করে দিন, আমাদের তাওবা কবূল করে নিন এবং জীবনের বাকি সময়টুকু নেক আমলে কাটানোর তাওফীক দিন- আমীন।
কুরআন ও হাদীছে মানুষকে বৃদ্ধকালে বেশি বেশি নেক আমলে রত হওয়ার প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেনঃ-
أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُمْ مَا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَنْ تَذَكَّرَ وَجَاءَكُمُ النَّذِيرُ
অর্থ : আমি কি তোমাদেরকে এমন দীর্ঘ আয়ু দেইনি যে, তখন কেউ সতর্ক হতে চাইলে সতর্ক হতে পারত? এবং তোমাদের কাছে সতর্ককারীও এসেছিল।সূরা ফাতির, আয়াত ৩৭
আয়াতের ব্যাখ্যা
ইমাম নববী রহ. এ আয়াতের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা পেশ করেছেন। আমরা প্রথমে সে ব্যাখ্যার বঙ্গানুবাদ করব, তারপর এ আয়াতের তাফসীরে মুফাস্সিরগণ যে আলোচনা করেছেন তার ভিত্তিতে আয়াতখানি থেকে এ সংক্ষিপ্ত পরিসরে যতটুকু সম্ভব আলো গ্রহণের চেষ্টা করব।
ইমাম নববী রহ.-এর ব্যাখ্যা
قال ابن عباس والمحققون: معناه أو لم نعمركم ستين سنة؟ ويؤيده الحديث الذي سنذكره إن شاء الله تعالى، وقيل: معناه ثماني عشرة سنة، وقيل أربعين سنة قاله الحسن والكلبي ومسروق، ونقل عن ابن عباس أيضا. ونقلوا أن أهل المدينة كانوا إذا بلغ أحدهم أربعين سنة تفرغ للعبادة، وقيل: هو البلوغ. وقوله تعالى: «وجاءكم النذير» قال ابن عباس والجمهور هو التي ، وقيل الشيب، قاله عكرمة وابن عيينة وغيرهما. والله أعلم
“হযরত ‘আব্দুল্লাহ ইব্ন 'আব্বাস রাযি. ও মুহাক্কিক 'আলেমগণের মতে এর দ্বারা ৬০ বছর বয়স বোঝানো হয়েছে। সামনে যে হাদীছ উল্লেখ করা হবে তা এর সমর্থন করে। কারও মতে, ১৮ বছর বয়স। আবার কেউ ৪০ বছর বয়সের কথাও বলেছেন। হাসান বসরী রহ., কালবী রহ. ও মাসরূক রহ.-এর মত এটাই। হযরত ‘আব্দুল্লাহ ইব্ন ‘আব্বাস রাযি. থেকেও এরূপ বর্ণিত আছে।
মদীনাবাসীদের সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তারা যখন ৪০ বছর বয়সে উপনীত হতেন তখন সব কাজকর্ম ছেড়ে দিয়ে 'ইবাদত-বন্দেগীতে লেগে যেতেন। কারও মতে, এ আয়াতে যে বয়সের কথা বলা হয়েছে তা দ্বারা বালেগ হওয়া বোঝানো উদ্দেশ্য।”
এ আয়াতে যে সতর্ককারী আসার কথা বলা হয়েছে, হযরত আব্দুল্লাহ ইব্ন ‘আব্বাস রাযি. ও সংখ্যাগরিষ্ঠ ‘উলামায়ে কিরামের মতে সে সতর্ককারী হলেন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কারও মতে এ সতর্ককারী হল বার্ধক্য। ইকরিমা রহ., সুফয়ান ইব্ন 'উয়াইনা রহ. প্রমুখ-ও এরূপ বলেছেন।
আয়াতখানি থেকে আলোগ্রহণ
এ আয়াতের বক্তব্যটি মূলত জাহান্নামবাসীদের কথার উত্তর। এ আয়াতের শুরুতে আছেঃ-
وَهُمْ يَصْطَرِخُونَ فِيهَا رَبَّنَا أَخْرِجْنَا نَعْمَلْ صَالِحًا غَيْرَ الَّذِي كُنَّا نَعْمَلُ
অর্থ : জাহান্নামের ভেতর তারা আর্তনাদ করে বলবে, হে আমাদের রব্বু! আমাদেরকে এর থেকে বের করুন। আমরা সৎকাজ করব। আগে যা করতাম তা করব না।সূরা ফাতির, আয়াত ৩৭
এভাবে তারা তাদের অসৎকাজের জন্য অনুতাপ ও অনুশোচনা প্রকাশ করবে এবং জাহান্নাম থেকে নিষ্কৃতি চাইবে। আয়াতের শেষাংশে তাদের সে ফরিয়াদেরই জবাব দেওয়া হয়েছে। জবাবের সারকথা হল, এখন আর তোমাদের কোনও ওজর-আপত্তি শোনা হবে না। কেননা তোমরা যাতে অসৎকাজ ছেড়ে সৎকাজে লিপ্ত হও, সেজন্য আমি তোমাদেরকে সর্বপ্রকারে সচেতন করার চেষ্টা করেছি। তোমাদের কাছে সতর্ককারী পাঠিয়েছি, তোমাদেরকে বুদ্ধিবিবেক দিয়েছি এবং এমন একটা আয়ু দিয়েছি, যখন তোমরা সতর্ককারীর কথা শুনে এবং বুদ্ধিবিবেক কাজে লাগিয়ে সৎকাজ করতে পারতে। তখন তোমরা দুনিয়ার জীবনে ছিলে। সে জীবনই ছিল সৎকাজের সময়। আর আখিরাত হল কর্মফল ভোগের সময়। যখন সৎকাজের সুযোগ ছিল তখন তা করোনি। সুতরাং এখন অনুতাপ ও অনুশোচনায় কোনও কাজ হবে না। এখন কর্মফল হিসেবে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে থাক।
এ আয়াতে যে বয়সের কথা বলা হয়েছে, তা যে ৬০ বছরই হতে হবে এমন কোনও কথা নেই। এর দ্বারা মূলত এমন একটা জীবন বোঝানো উদ্দেশ্য, যে জীবন লাভ করলে চিন্তাভাবনা করার ও উপদেশ গ্রহণ করার সুযোগ পাওয়া যায়। তা ৬০ বছরের আগেও হতে পারে। মানুষ বালেগ হওয়ার পর থেকেই বিবেকবুদ্ধির উন্মেষ ঘটতে থাকে। যত বয়স বাড়ে ততই বুদ্ধিতে পরিপক্কতা আসে এবং অস্থিরতা ও চপলতা কমতে থাকে। যখন বয়স পূর্ণ চল্লিশে পৌছায়, তখন বুদ্ধিও পূর্ণতা পায় এবং স্বভাব-চরিত্রে ভারিক্কি ও ভারসাম্য আসে। যে-কোনও বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা ও বুঝেশুনে কাজকর্ম করার পক্ষে এ বয়সটা খুবই সহায়ক। তাই তো দেখা যায় নবীগণ এ বয়সেই নবুওয়াত লাভ করেছিলেন। আমাদের নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপরও তাঁর ৪০ বছর বয়সকালেই প্রথম ওহী নাযিল হয়েছিল। সুতরাং বলা যায় এ আয়াতের ইঙ্গিত ৪০ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বয়সকালের প্রতিই। এ উম্মতের গড়পড়তা বয়স ৬০ বছর। যদি কেউ এর বেশি কাল বাঁচে, তবে সে আরও বেশি সুযোগ পেল। তার ক্ষেত্রে এ আয়াতের বক্তব্য আরও বেশি প্রযোজ্য হবে।
সুতরাং আমাদের প্রত্যেকেরই কর্তব্য, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে 'ইবাদত-বন্দেগীর প্রতিও বেশি মনোযোগী হওয়া।
এ আয়াতে বর্ণিত সতর্ককারী কে, সে সম্পর্কে বিভিন্ন মত আছে। যেমন ইমাম নববী রহ. ইঙ্গিত করেছেন এবং অধিকাংশ ‘উলামার বরাতে বলেছেন, এ সতর্ককারী হলেন মহানবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কেউ কেউ কুরআন মাজীদের কথাও বলেছেন। প্রকৃতপক্ষে কুরআন ও মহানবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উভয়ই সতর্ককারী। কুরআনও তার বাণীসমূহের মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করে থাকে এবং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও মানুষকে আল্লাহর আযাব ও গযব সম্পর্কে সতর্ক করতেন। এর আগের উম্মতসমূহের জন্যও তাদের কাছে প্রেরিত নবীগণ এবং তাদের উপর নাযিলকৃত আসমানী গ্রন্থসমূহ ছিল সতর্ককারী।
কারও কারও মতে মানুষের আকলবুদ্ধিও সতর্ককারী। যে ব্যক্তি নিরবচ্ছিন্ন অবাধ্যতা ও পাপাচার দ্বারা নিজ বুদ্ধিবিবেক বিকৃত করে ফেলেনি, তার বুদ্ধিবিবেক এক উত্তম পরামর্শদাতা। যখনই কোনও মন্দ কাজের অবকাশ আসে, সুস্থ বিবেক তার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এবং তাকে সে কাজে লিপ্ত হতে বারণ করে। এজন্যই বিবেকবান লোক সাধারণত অন্যায়-অনাচার কমই করে। কাজেই বলা যায় অপরাপর সতর্ককারীর মত বুদ্ধিবিবেকও মানুষের এক সতর্ককারী।
প্রকাশ থাকে যে, এসব মতের মধ্যে কোনও বৈপরিত্য নেই। এর কোনও একটিকে সতর্ককারী মানলে আরেকটিকে যে মানা যাবে না, ব্যাপারটা এরকম নয়। কেননা আলাদা আলাদাভাবে এর প্রত্যেকেই মানুষকে সতর্ক করে থাকে। বরং এটা আল্লাহ তা'আলার এক মেহেরবানী যে, তিনি মানুষকে সতর্ক করার নানারকম ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনি মানুষকে সতর্ক করেন নবী-রাসূলের দ্বারা, তাকে সতর্ক করেন আসমানী কিতাব দ্বারা, এর পাশাপাশি সতর্ক করেন বুদ্ধিবিবেক দ্বারা, কখনও সতর্ক করেন বিপদ-আপদ দ্বারা, কখনও করেন শারীরিক বিভিন্ন পরিবর্তন বিশেষত বার্ধক্য দ্বারা। এভাবে তিনি সতর্কীকরণের বহুবিধ ব্যবস্থা নিয়েছেন, যাতে একটিতে সতর্ক না হলে আরেকটিতে হয়ে যায়। আল্লাহ চান কোনও না কোনওভাবে বান্দা নিজেকে সংশোধন করে তাঁর সন্তুষ্টি হাসিল করে ফেলুক এবং জান্নাতের অধিকারী হয়ে যাক। তা সত্ত্বেও যদি আমাদের হুঁশ না হয় এবং পাপাচারের ভেতরই জীবন ধ্বংস করি, তবে তা কত বড়ই না দুর্ভাগ্যের কথা। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে সুবুদ্ধি দিন এবং তাঁর মর্জি মোতাবেক চলার তাওফীক দান করুন, আমীন।
বৃদ্ধদের জন্য সতর্কবার্তা
হাদীছ নং: ১১২
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা ওই ব্যক্তির ওজর কবুল করেন না, যার মৃত্যু বিলম্বিত করেছেন, এমনকি সে ষাট বছর বয়সে উপনীত হয়েছে। -বুখারী।
উলামায়ে কিরাম বলেন, এর অর্থ- আল্লাহ তা'আলা যখন এতটা বয়স পর্যন্ত অবকাশ দিয়েছেন, তখন আর তার ওজর দেখানোর কোনও সুযোগ রাখেননি। বলা হয়ে থাকে, أعذر الرجل অর্থাৎ লোকটি তার অজুহাত প্রদর্শনের শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে।
(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ৬৪১৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ৭৬৯৯; মুসতাদরাক হাকিম, হাদীছ নং ৩৫৯৭)
হাদীছ নং: ১১২
হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তা'আলা ওই ব্যক্তির ওজর কবুল করেন না, যার মৃত্যু বিলম্বিত করেছেন, এমনকি সে ষাট বছর বয়সে উপনীত হয়েছে। -বুখারী।
উলামায়ে কিরাম বলেন, এর অর্থ- আল্লাহ তা'আলা যখন এতটা বয়স পর্যন্ত অবকাশ দিয়েছেন, তখন আর তার ওজর দেখানোর কোনও সুযোগ রাখেননি। বলা হয়ে থাকে, أعذر الرجل অর্থাৎ লোকটি তার অজুহাত প্রদর্শনের শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে।
(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ৬৪১৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ৭৬৯৯; মুসতাদরাক হাকিম, হাদীছ নং ৩৫৯৭)
مقدمة الامام النووي
12 - باب الحث عَلَى الازدياد من الخير في أواخر العمر
قَالَ الله تَعَالَى: {أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُمْ مَا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَنْ تَذَكَّرَ وَجَاءكُمُ النَّذِيرُ} [فاطر: 37] قَالَ ابن عباس والمُحَقِّقُونَ: معناه أَو لَمْ نُعَمِّرْكُمْ سِتِّينَ سَنَةً؟ وَيُؤَيِّدُهُ الحديث الَّذِي سنذْكُرُهُ إنْ شاء الله تَعَالَى، وقيل: معناه ثماني عَشْرَة سَنَةً، وقيل: أرْبَعينَ سَنَةً، قاله الحسن والكلبي ومسروق ونُقِلَ عن ابن عباس أيضًا. وَنَقَلُوا أنَّ أَهْلَ المدينَةِ كانوا إِذَا بَلَغَ أَحَدُهُمْ أربْعينَ سَنَةً تَفَرَّغَ للعِبادَةِ، وقيل: هُوَ البُلُوغُ. وقوله تَعَالَى: {وجَاءكُمُ النَّذِيرُ} قَالَ ابن عباس والجمهور: هُوَ النَّبيّ - صلى الله عليه وسلم - وقيل: الشَّيبُ، قاله عِكْرِمَةُ وابن عُيَيْنَة وغيرهما. والله أعلم.
قَالَ الله تَعَالَى: {أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُمْ مَا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَنْ تَذَكَّرَ وَجَاءكُمُ النَّذِيرُ} [فاطر: 37] قَالَ ابن عباس والمُحَقِّقُونَ: معناه أَو لَمْ نُعَمِّرْكُمْ سِتِّينَ سَنَةً؟ وَيُؤَيِّدُهُ الحديث الَّذِي سنذْكُرُهُ إنْ شاء الله تَعَالَى، وقيل: معناه ثماني عَشْرَة سَنَةً، وقيل: أرْبَعينَ سَنَةً، قاله الحسن والكلبي ومسروق ونُقِلَ عن ابن عباس أيضًا. وَنَقَلُوا أنَّ أَهْلَ المدينَةِ كانوا إِذَا بَلَغَ أَحَدُهُمْ أربْعينَ سَنَةً تَفَرَّغَ للعِبادَةِ، وقيل: هُوَ البُلُوغُ. وقوله تَعَالَى: {وجَاءكُمُ النَّذِيرُ} قَالَ ابن عباس والجمهور: هُوَ النَّبيّ - صلى الله عليه وسلم - وقيل: الشَّيبُ، قاله عِكْرِمَةُ وابن عُيَيْنَة وغيرهما. والله أعلم.
112 - فالأول: عن أبي هريرةَ - رضي الله عنه - عن النَّبيّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «أعْذَرَ الله إِلَى امْرِئٍ أَخَّرَ أجَلَهُ حَتَّى بَلَغَ سِتِّينَ سَنَةً». رواه البخاري. (1)
قَالَ العلماء: معناه لَمْ يَتْرُكْ لَهُ عُذرًا إِذْ أمْهَلَهُ هذِهِ المُدَّةَ. يقال: أعْذَرَ الرجُلُ إِذَا بَلَغَ الغايَةَ في العُذْرِ.
قَالَ العلماء: معناه لَمْ يَتْرُكْ لَهُ عُذرًا إِذْ أمْهَلَهُ هذِهِ المُدَّةَ. يقال: أعْذَرَ الرجُلُ إِذَا بَلَغَ الغايَةَ في العُذْرِ.
হাদীস নং: ১১৩
ভূমিকা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জীবনের শেষদিকে বেশী বেশী নেক কাজ করার প্রতি উৎসাহদান।
মৃত্যু আসন্ন বোঝা গেলে যা করণীয়
হাদীছ নং: ১১৩
হযরত আব্দুল্লাহ ইবন 'আব্বাস রাযি. বলেন, উমর রাযি. আমাকে প্রবীণ বদরী সাহাবীদের সঙ্গে তাঁর মজলিসে শামিল রাখতেন। এতে তাদের কেউ কেউ যেন মনে মনে ক্ষুব্ধ হলেন। তাই বললেন, এ যুবকটি কেন আমাদের সঙ্গে যোগদান করে, অথচ আমাদেরও তার সমবয়সী পুত্র আছে? এ কথা শুনে উমর রাযি. বললেন, এ যুবক কোথা থেকে গড়া তা তোমরা জান। (হযরত 'আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযি. বলেন,) তারপর তিনি একদিন আমাকে ডাকলেন এবং তাদের সঙ্গে মজলিসে শামিল রাখলেন। আমার ধারণা হল সেদিন তিনি আমাকে ডেকেছিলেন কেবল তাদের দেখানোর জন্য। তিনি তাদের বললেন, আল্লাহ তা'আলার বাণী- إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَ الْفَتْحُ সম্পর্কে তোমাদের অভিমত কী? তাদের কেউ বলল, এতে আমাদেরকে আদেশ করা হয়েছে- যখন আমরা আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় লাভ করি, তখন যেন আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর নিকট মাগফিরাত চাই। তাদের কেউ কেউ চুপ থাকলেন, কিছুই বললেন না। তারপর তিনি আমাকে লক্ষ করে বললেন, হে ইবন আব্বাস! তুমিও কি এমন মনে কর? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তবে তোমার মত কী? আমি বললাম, এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে তা জানিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَ الْفَتْحُ (যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে,) তখন মনে করবে এটা তোমার মৃত্যুর আলামত।তখন তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে তাসবীহ পাঠ করবে এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী। হযরত ‘উমর রাযি. বললেন, এর দ্বারা আমিও তাই বুঝেছি, যা তুমি বলছ। -বুখারী'
(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ৪৯৭০; জামে তিরমিযী, হাদীছ নং ৩৩৬২)
হাদীছ নং: ১১৩
হযরত আব্দুল্লাহ ইবন 'আব্বাস রাযি. বলেন, উমর রাযি. আমাকে প্রবীণ বদরী সাহাবীদের সঙ্গে তাঁর মজলিসে শামিল রাখতেন। এতে তাদের কেউ কেউ যেন মনে মনে ক্ষুব্ধ হলেন। তাই বললেন, এ যুবকটি কেন আমাদের সঙ্গে যোগদান করে, অথচ আমাদেরও তার সমবয়সী পুত্র আছে? এ কথা শুনে উমর রাযি. বললেন, এ যুবক কোথা থেকে গড়া তা তোমরা জান। (হযরত 'আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাযি. বলেন,) তারপর তিনি একদিন আমাকে ডাকলেন এবং তাদের সঙ্গে মজলিসে শামিল রাখলেন। আমার ধারণা হল সেদিন তিনি আমাকে ডেকেছিলেন কেবল তাদের দেখানোর জন্য। তিনি তাদের বললেন, আল্লাহ তা'আলার বাণী- إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَ الْفَتْحُ সম্পর্কে তোমাদের অভিমত কী? তাদের কেউ বলল, এতে আমাদেরকে আদেশ করা হয়েছে- যখন আমরা আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় লাভ করি, তখন যেন আল্লাহর প্রশংসা করি ও তাঁর নিকট মাগফিরাত চাই। তাদের কেউ কেউ চুপ থাকলেন, কিছুই বললেন না। তারপর তিনি আমাকে লক্ষ করে বললেন, হে ইবন আব্বাস! তুমিও কি এমন মনে কর? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তবে তোমার মত কী? আমি বললাম, এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে তা জানিয়ে দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেছেন- إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَ الْفَتْحُ (যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে,) তখন মনে করবে এটা তোমার মৃত্যুর আলামত।তখন তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে তাসবীহ পাঠ করবে এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী। হযরত ‘উমর রাযি. বললেন, এর দ্বারা আমিও তাই বুঝেছি, যা তুমি বলছ। -বুখারী'
(সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ৪৯৭০; জামে তিরমিযী, হাদীছ নং ৩৩৬২)
مقدمة الامام النووي
12 - باب الحث عَلَى الازدياد من الخير في أواخر العمر
113 - الثاني: عن ابن عباس رضي الله عنهما، قَالَ: كَانَ عمر - رضي الله عنه - يُدْخِلُنِي مَعَ أشْيَاخِ بَدرٍ فكأنَّ بَعْضَهُمْ وَجَدَ في نفسِهِ، فَقَالَ: لِمَ يَدْخُلُ هَذَا معنا ولَنَا أبْنَاءٌ مِثلُهُ؟! فَقَالَ عُمَرُ: [ص:58] إنَّهُ منْ حَيثُ عَلِمْتُمْ! فَدعانِي ذاتَ يَومٍ فَأدْخَلَنِي مَعَهُمْ فما رَأيتُ أَنَّهُ دعاني يَومَئذٍ إلاَّ لِيُرِيَهُمْ، قَالَ: مَا تقُولُون في قولِ الله: {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ}؟ [الفتح: 1] فَقَالَ بعضهم: أُمِرْنَا نَحْمَدُ اللهَ وَنَسْتَغْفِرُهُ إِذَا نَصَرنَا وَفَتحَ عَلَيْنَا، وَسَكتَ بَعْضُهُمْ فَلَمْ يَقُلْ شَيئًا. فَقَالَ لي: أَكَذلِكَ تقُول يَا ابنَ عباسٍ؟ فقلت: لا. قَالَ: فما تقول؟ قُلْتُ: هُوَ أجَلُ رَسُول الله - صلى الله عليه وسلم - أعلَمَهُ لَهُ، قَالَ: {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ} وذلك علامةُ أجَلِكَ {فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا} فَقَالَ عمر - رضي الله عنه: مَا أعلم مِنْهَا إلاَّ مَا تقول. رواه البخاري. (1)
হাদীস নং: ১১৪
ভূমিকা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জীবনের শেষদিকে বেশী বেশী নেক কাজ করার প্রতি উৎসাহদান।
মৃত্যুর আগে বেশি বেশি তাওবা-ইস্তেগফার করা
হাদীছ নং: ১১৪
উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. বলেন إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ নাযিল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে নামাযই পড়তেন তাতে অবশ্যই বলতেন-
سُبْحَانَكَ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
“হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।” -বুখারী ও মুসলিম। সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ৪৯৬৭, ৪৯৬৮; সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ২১৯, ৪৮৪
বুখারী ও মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় আছে, হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রুকু ও সিজদায় বেশি বেশি বলতেন-
سُبْحَانَكَ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ ، اللهُمَّ اغْفِرْ لِي
এর দ্বারা তিনি কুরআনের নির্দেশ অনুসরণ করতেন।
বর্ণনাটির শেষ শব্দ يتأول القرآن -এর অর্থ কুরআনের আয়াত فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ -এর ভেতর তাঁকে যে আদেশ করা হয়েছে তা পালন করতেন। এতে আদেশ করা হয়েছে- তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে তাসবীহ পাঠ কর এবং তাঁর কাছে ইস্তিগফার কর। মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যুর আগে বেশি বেশি পড়তেন-
سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ
“হে আল্লাহ! আমি আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও তাওবা করছি।”
হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই কথাগুলো কী, যা আপনাকে ইদানীং পড়তে দেখছি? তিনি বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে আমাকে একটি আলামাত দেওয়া হয়েছে, যা দেখলে আমাকে এগুলো পড়তে বলা হয়েছে। আলামতটি হল إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ - এই সূরাটি শেষ পর্যন্ত।
মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেশি বেশি পড়তেন-
سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ
“আল্লাহ পবিত্র। সমস্ত প্রশংসা তাঁর। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও তাঁর নিকট তাওবা করছি।”
হযরত ‘আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. বলেন, আমি বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনাকে দেখছি- سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ -এ কথাটি বেশি বেশি বলছেন। তিনি বললেন, আমার প্রতিপালক আমাকে অবগত করেছেন আমি শীঘ্রই আমার উম্মতের মধ্যে একটি আলামত দেখব। যখন সেটি দেখি তখন যেন বেশি বেশি বলি- سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ আমি আলামতটি দেখে ফেলেছি। তা হচ্ছে إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ সূরাটি। এতে বিজয় বলতে মক্কাবিজয় বোঝানো হয়েছে।
হাদীছ নং: ১১৪
উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. বলেন إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ নাযিল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে নামাযই পড়তেন তাতে অবশ্যই বলতেন-
سُبْحَانَكَ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي
“হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।” -বুখারী ও মুসলিম। সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ৪৯৬৭, ৪৯৬৮; সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ২১৯, ৪৮৪
বুখারী ও মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় আছে, হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রুকু ও সিজদায় বেশি বেশি বলতেন-
سُبْحَانَكَ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ ، اللهُمَّ اغْفِرْ لِي
এর দ্বারা তিনি কুরআনের নির্দেশ অনুসরণ করতেন।
বর্ণনাটির শেষ শব্দ يتأول القرآن -এর অর্থ কুরআনের আয়াত فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ -এর ভেতর তাঁকে যে আদেশ করা হয়েছে তা পালন করতেন। এতে আদেশ করা হয়েছে- তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে তাসবীহ পাঠ কর এবং তাঁর কাছে ইস্তিগফার কর। মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যুর আগে বেশি বেশি পড়তেন-
سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ
“হে আল্লাহ! আমি আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও তাওবা করছি।”
হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই কথাগুলো কী, যা আপনাকে ইদানীং পড়তে দেখছি? তিনি বললেন, আমার উম্মতের মধ্যে আমাকে একটি আলামাত দেওয়া হয়েছে, যা দেখলে আমাকে এগুলো পড়তে বলা হয়েছে। আলামতটি হল إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ - এই সূরাটি শেষ পর্যন্ত।
মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বেশি বেশি পড়তেন-
سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ
“আল্লাহ পবিত্র। সমস্ত প্রশংসা তাঁর। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও তাঁর নিকট তাওবা করছি।”
হযরত ‘আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. বলেন, আমি বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনাকে দেখছি- سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ -এ কথাটি বেশি বেশি বলছেন। তিনি বললেন, আমার প্রতিপালক আমাকে অবগত করেছেন আমি শীঘ্রই আমার উম্মতের মধ্যে একটি আলামত দেখব। যখন সেটি দেখি তখন যেন বেশি বেশি বলি- سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ আমি আলামতটি দেখে ফেলেছি। তা হচ্ছে إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ সূরাটি। এতে বিজয় বলতে মক্কাবিজয় বোঝানো হয়েছে।
مقدمة الامام النووي
12 - باب الحث عَلَى الازدياد من الخير في أواخر العمر
114 - الثالث: عن عائشة رضي الله عنها، قَالَتْ: مَا صلّى رَسُول الله - صلى الله عليه وسلم - صلاةً بَعْدَ أَنْ نَزَلتْ عَلَيهِ: {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ} إلاَّ يقول فِيهَا: «سُبحَانَكَ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لي». مُتَّفَقٌ عَلَيهِ. (1)
وفي رواية في الصحيحين عنها: كَانَ رَسُول الله - صلى الله عليه وسلم - يُكْثِرُ أَنْ يقُولَ في ركُوعِه وسُجُودهِ: «سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي»،
يَتَأوَّلُ القُرآنَ. معنى: «يَتَأَوَّلُ القُرآنَ» أي يعمل مَا أُمِرَ بِهِ في القرآن في قوله تَعَالَى: {فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ}.
وفي رواية لمسلم: كَانَ رَسُول الله - صلى الله عليه وسلم - يُكثِرُ أَنْ يَقُولَ قَبلَ أَنْ يَمُوتَ:
«سُبحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمدِكَ أسْتَغْفِرُكَ وَأتُوبُ إلَيْكَ». قَالَتْ عائشة: قُلْتُ: يَا رَسُول الله، مَا هذِهِ الكَلِماتُ الَّتي أرَاكَ أحْدَثْتَها تَقُولُهَا؟ قَالَ: «جُعِلَتْ لي عَلامَةٌ في أُمَّتِي إِذَا رَأيْتُها قُلتُها {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ} ... إِلَى آخِرِ السورة».
وفي رواية لَهُ: كَانَ رسولُ الله - صلى الله عليه وسلم - يُكثِرُ مِنْ قَولِ: «سبْحَانَ اللهِ وَبِحَمدِهِ أسْتَغفِرُ اللهَ وأتُوبُ إِلَيْهِ». قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رسولَ اللهِ، أَراكَ تُكثِرُ مِنْ قَولِ سُبحَانَ اللهِ وَبِحَمدهِ أسْتَغْفِرُ اللهَ وأتُوبُ إِلَيْه؟ فَقَالَ: «أخبَرَني رَبِّي أنِّي سَأرَى عَلامَةً في أُمَّتي فإذا رَأيْتُها أكْثَرْتُ مِنْ قَولِ: سُبْحَانَ اللهِ وبِحَمدهِ أسْتَغْفرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْه فَقَدْ رَأَيْتُهَا: {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ} فتح مكّة، {وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللهِ أَفْوَاجًا، فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا}».
وفي رواية في الصحيحين عنها: كَانَ رَسُول الله - صلى الله عليه وسلم - يُكْثِرُ أَنْ يقُولَ في ركُوعِه وسُجُودهِ: «سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي»،
يَتَأوَّلُ القُرآنَ. معنى: «يَتَأَوَّلُ القُرآنَ» أي يعمل مَا أُمِرَ بِهِ في القرآن في قوله تَعَالَى: {فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ}.
وفي رواية لمسلم: كَانَ رَسُول الله - صلى الله عليه وسلم - يُكثِرُ أَنْ يَقُولَ قَبلَ أَنْ يَمُوتَ:
«سُبحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمدِكَ أسْتَغْفِرُكَ وَأتُوبُ إلَيْكَ». قَالَتْ عائشة: قُلْتُ: يَا رَسُول الله، مَا هذِهِ الكَلِماتُ الَّتي أرَاكَ أحْدَثْتَها تَقُولُهَا؟ قَالَ: «جُعِلَتْ لي عَلامَةٌ في أُمَّتِي إِذَا رَأيْتُها قُلتُها {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ} ... إِلَى آخِرِ السورة».
وفي رواية لَهُ: كَانَ رسولُ الله - صلى الله عليه وسلم - يُكثِرُ مِنْ قَولِ: «سبْحَانَ اللهِ وَبِحَمدِهِ أسْتَغفِرُ اللهَ وأتُوبُ إِلَيْهِ». قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رسولَ اللهِ، أَراكَ تُكثِرُ مِنْ قَولِ سُبحَانَ اللهِ وَبِحَمدهِ أسْتَغْفِرُ اللهَ وأتُوبُ إِلَيْه؟ فَقَالَ: «أخبَرَني رَبِّي أنِّي سَأرَى عَلامَةً في أُمَّتي فإذا رَأيْتُها أكْثَرْتُ مِنْ قَولِ: سُبْحَانَ اللهِ وبِحَمدهِ أسْتَغْفرُ اللهَ وَأَتُوبُ إِلَيْه فَقَدْ رَأَيْتُهَا: {إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللهِ وَالْفَتْحُ} فتح مكّة، {وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللهِ أَفْوَاجًا، فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا}».
হাদীস নং: ১১৫
ভূমিকা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জীবনের শেষদিকে বেশী বেশী নেক কাজ করার প্রতি উৎসাহদান।
নবী কারীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের পূবে ওহী নাযিলের আধিক্য
হাদীছ নং: ১১৫
হযরত আনাস রাযি. বলেন, আল্লাহ 'আযযা ওয়া জাল্লা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু "আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাঁর ওফাতের আগে আগে একের পর এক (ঘন ঘন) ওহী নাযিল করেছিলেন। পরিশেষে তাঁর ওফাত হয় এমন অবস্থায়, যখন তাঁর প্রতি সর্বাপেক্ষা বেশি ওহী নাযিল হয়। -বুখারী ও মুসলিম। (সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ৪৯৮২; সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ৩)
হাদীছ নং: ১১৫
হযরত আনাস রাযি. বলেন, আল্লাহ 'আযযা ওয়া জাল্লা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু "আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি তাঁর ওফাতের আগে আগে একের পর এক (ঘন ঘন) ওহী নাযিল করেছিলেন। পরিশেষে তাঁর ওফাত হয় এমন অবস্থায়, যখন তাঁর প্রতি সর্বাপেক্ষা বেশি ওহী নাযিল হয়। -বুখারী ও মুসলিম। (সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ৪৯৮২; সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ৩)
مقدمة الامام النووي
12 - باب الحث عَلَى الازدياد من الخير في أواخر العمر
115 - الرابع: عن أنس - رضي الله عنه - قَالَ: إنَّ اللهَ - عز وجل - تَابَعَ الوَحيَ عَلَى رسولِ الله - صلى الله عليه وسلم - قَبلَ وَفَاتهِ حَتَّى تُوُفِّيَ أكْثَرَ مَا كَانَ الوَحْيَ. مُتَّفَقٌ عَلَيهِ. (1)
হাদীস নং: ১১৬
ভূমিকা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জীবনের শেষদিকে বেশী বেশী নেক কাজ করার প্রতি উৎসাহদান।
কবর থেকে কাকে কোন্ অবস্থায় ওঠানো হবে
হাদীছ নং: ১১৬
হযরত জাবির ইবন 'আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, প্রত্যেক বান্দাকে (কবর থেকে) ওঠানো হবে ওই অবস্থায়, যে অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। -মুসলিম।
(সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ২৮৭৮; সুনানে ইবন মাজাহ, হাদীছ নং ৪২২৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ১৪৫৪৩)
হাদীছ নং: ১১৬
হযরত জাবির ইবন 'আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, প্রত্যেক বান্দাকে (কবর থেকে) ওঠানো হবে ওই অবস্থায়, যে অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। -মুসলিম।
(সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ২৮৭৮; সুনানে ইবন মাজাহ, হাদীছ নং ৪২২৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ১৪৫৪৩)
مقدمة الامام النووي
12 - باب الحث عَلَى الازدياد من الخير في أواخر العمر
116 - الخامس: عن جابر - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رسول الله - صلى الله عليه وسلم: «يُبْعَثُ كُلُّ عَبْدٍ عَلَى مَا مَاتَ عَلَيهِ». رواه مسلم. (1)
হাদীস নং: ১১৭
ভূমিকা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সৎকর্মের বহুবিধ পন্থা
ইসলামে মৌলিক ও অবশ্যপালনীয় বিধানাবলি ছাড়াও ঐচ্ছিক এমন বহু কাজ আছে, যা করার দ্বারা বিপুল ছাওয়াব অর্জন করা যায়। বান্দার প্রতি আল্লাহ তা'আলা বড়ই মেহেরবান। তিনি তার জন্য ছাওয়াব অর্জনের বহুবিধ পন্থা খোলা রেখেছেন। আখিরাতে মুক্তি ও সফলতা লাভ করতে হলে বান্দার অনেক অনেক ছাওয়াব দরকার। পাপের বিপরীতে যার পুণ্য বেশি হবে, মুক্তি কেবল সেই পাবে। ইচ্ছায় অনিচ্ছায় আমাদের অনেক পাপ হয়ে যায়। এ অবস্থায় বেশি বেশি পুণ্যার্জনের পথ যদি খোলা না থাকে, তবে মুক্তি কিভাবে সম্ভব? তাই দয়াময় আল্লাহ হাজারও রকম সৎকাজের নির্দেশনা আমাদের দিয়ে দিয়েছেন। কুরআন ও হাদীছে আছে তার সুদীর্ঘ তালিকা। ছাওয়াব অর্জন করা যায় ঘরে-বাইরে সর্বাবস্থায়। ওঠাবসা ও চলাফেরাকালেও অতি সহজে পুণ্যার্জন সম্ভব। কথায় ও কাজে পুণ্যার্জনের কত বিচিত্র ব্যবস্থাই না ইসলাম আমাদের দিয়েছে!
এতসব বিচিত্র ব্যবস্থা আমাদের পক্ষে কত বড়ই না রহমত। একটি কাজ কঠিন। বোধ হলে আরেকটি কর। এ কাজের ক্ষমতা তোমার না থাকলে ওই কাজ কর। অর্থব্যয়ের সামর্থ্য না থাকলে শ্রম ব্যয় কর। কাজ করতে না চাইলে কথা বল- মুখে যিকর কর। কোনওরকম সংকীর্ণতা তোমার সামনে নেই। তুমি যেভাবে চাও সেভাবেই পুণ্যার্জনের পথ তোমার সামনে খোলা রয়েছে। তোমার চাওয়াটাই শুধু দরকার। দরকার একটুখানি ইচ্ছা। একটুখানি ইচ্ছা কর আর মুঠোয় মুঠোয় ছাওয়াব কামাই করে নাও।
মুঠোয় মুঠোয় ছাওয়াব কামাই করার উপায় সম্পর্কে পবিত্র হাদীছের সুদীর্ঘ তালিকা আছে। তা থেকে ইমাম নববী রহ. এ অধ্যায়ে কয়েকটি হাদীছ চয়ন করেছেন। তার আগে উদ্ধৃত করেছেন পুণ্যার্জনের উৎসাহদায়ী কয়েকটি আয়াত। আমরা প্রথমে আয়াতসমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দান করব। তারপর মনোযোগের সাথে হাদীছসমূহ পড়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
সৎকর্মের প্রতি উৎসাহদায়ী কয়েকটি আয়াত
এক নং আয়াত
وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيْمٌ
অর্থ : আর তোমরা কল্যাণকর যে কাজই কর না কেন, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ
অবগত।সূরা বাকারা, আয়াত ২১৫
দুই নং আয়াত
وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمهُ اللَّهُ
অর্থ : তোমরা যা-কিছু সৎকর্ম করবে আল্লাহ তা জানেন।সূরা বাকারা, আয়াত ১৯৭
ব্যাখ্যা
এ আয়াত দু'টিতে আল্লাহ তা'আলা বান্দাকে নেক কাজের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তিনি জানাচ্ছেন যে, তোমরা যা-কিছুই ভালো কাজ কর, তা আল্লাহর পথে দান-সদাকা হোক বা শারীরিক ইবাদত-বন্দেগী, সবই আল্লাহ তা'আলা জানেন। এর কোনও কিছুই বৃথা যাবে না। আখিরাতে তিনি তোমাদেরকে এর পুরোপুরি প্রতিদান দেবেন। সুতরাং তোমরা কেবল ফরয আদায় করেই ক্ষান্ত হয়ো না, যতটা সম্ভব নফল ইবাদত-বন্দেগীও করতে থাক।
আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য এ আয়াত এক উৎসাহ বাণী। এতে আল্লাহ তা'আলা আমাদের ইঙ্গিত করছেন যে, নেক কাজ নির্দিষ্ট কয়েকটি মাত্র নয়। শরী'আতসম্মত পন্থায় আল্লাহ তা'আলাকে খুশি করার জন্য যা-কিছুই করা হবে তা-ই নেক কাজ বলে গণ্য। এরকম কাজ আছে হাজারও। তুমি তার মধ্য থেকে যা-ই কর না কেন তা আল্লাহর অগোচর থাকে না। আল্লাহ তা ভালোভাবেই জানেন। কাজেই তার কোনওটি বৃথা যাবে না। তিনি তার পুরোপুরি পুরস্কার তোমাদের অবশ্যই দেবেন। কাজেই কোনও সৎকর্মকে তুচ্ছ মনে করো না। আল্লাহ তা'আলাকে রাজিখুশি করার জন্য করলে ছোট্ট একটি কাজেরও অপরিমিত প্রতিদান তুমি পেতে পার। কাজেই মনভরা আশা রেখে যখন যে সৎকর্ম করার সুযোগ হয় করতে থাক। আখিরাতে তার পূর্ণ প্রতিদান অবশ্যই পাবে।
পরোক্ষভাবে এ আয়াত দু'টিতে একটা সতর্কবাণীও আছে। বলা হয়েছে, আল্লাহ জানেন বান্দা কী নেক কাজ করছে। আল্লাহ যেমন কাজের প্রকাশ্য দিক জানেন, তেমনি জানেন গোপন অবস্থাও। সুতরাং আমল করতে হবে কেবলই আল্লাহ তা'আলাকে খুশি করার জন্য, দুনিয়াবী কোনও উদ্দেশ্যে নয়। এমনিভাবে আমল করতে হবে সুন্দরভাবে ও সুচারুরূপে। দানখয়রাতও করতে হবে নিজের পক্ষে যা সম্ভব সেই পরিমাণ, কোনওরূপে দায়সারাভাবে নয়। এবং দান করতে হবে উৎকৃষ্ট বস্তু, নিকৃষ্ট ও নিম্নমানের জিনিস নয়।
তিন নং আয়াত
فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ
অর্থ : সুতরাং কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করে থাকলে সে তা দেখতে পাবে।সূরা যিলযাল, আয়াত ৭
ব্যাখ্যা
এ আয়াতে বান্দাকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে- সে যেন সদাসর্বদা নেক কাজে যত্নবান থাকে। কেননা তার কোনও নেক কাজ বৃথা যাবে না। সে ছোট-বড় যে-কোনও নেক কাজ করবে, আখিরাতে আল্লাহ তা'আলার কাছে তার প্রতিদান অবশ্যই পাবে। তার একেকটি কাজের জন্য আল্লাহ তা'আলা নয়নপ্রীতিকর কী কী পুরস্কার নির্দিষ্ট করে রেখেছেন, বান্দা নিজ চোখে তা দেখতে পাবে। কাজেই কোনও নেক কাজকেই অবহেলা করা উচিত নয়। আখিরাতে উপকারে আসবে কেবল নেক কাজই। এর বদৌলতে সে মুক্তি পাবে এবং জান্নাতে এর ছাওয়াব ও পুরস্কারই সে ভোগ করবে। তাই তো নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে এই বলে উৎসাহ দান করেন যে-
لَا تَحْقِرَنَّ مِنَ الْمَعْرُوْفِ شَيْئًا وَلَوْ أَنْ تَلْقَى أَخَاكَ بِوَجْهِ طَلْقٍ
“কোনও নেক কাজকেই তুচ্ছ মনে করো না, এমনকি তা যদি তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করার ব্যাপারটাও হয়। সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ২৬২৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ২০৬৩৫
চার নং আয়াত
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهِ
অর্থ : কেউ কোনও সৎকর্ম করলে তা তার নিজ কল্যাণার্থেই।সূরা জাছিয়া, আয়াত ১৫
ব্যাখ্যা
অর্থাৎ বান্দার নেক কাজ দ্বারা আল্লাহ তা'আলার কোনও উপকার হয় না। তার উপকার বান্দা নিজেই পায়। আল্লাহ তা'আলার কোনও কিছুর কিছুমাত্র অভাব নেই। তিনি সবদিক থেকে পরিপূর্ণ। তিনি বান্দাকে যে 'ইবাদত-বন্দেগীর আদেশ করেছেন তার উদ্দেশ্য বান্দার কল্যাণসাধন করা। বান্দা আল্লাহ তা'আলার হুকুম পালন ও সৎকর্ম করলে তিনি খুশি হন এবং তাকে পুরস্কৃত করেন। এটা বান্দার প্রতি তাঁর দয়া ও মেহেরবানী। পক্ষান্তরে বান্দা যদি তাঁর হুকুম অমান্য করে ও নাফরমানীতে লিপ্ত হয়, তবে তিনি নাখোশ হন ও তাকে শাস্তি দান করেন। তিনি চান বান্দা নাফরমানীতে লিপ্ত হয়ে তাঁর শাস্তি ভোগ না করুক; বরং তাঁর ইবাদত-আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করুক ও পুরস্কৃত হোক। এজন্যই তিনি পাপ কাজের ক্ষেত্রে শাস্তির সতর্কবাণী শুনিয়েছেন এবং পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন নেক কাজের প্রতি উৎসাহ দান করেছেন। এ আয়াতসমূহের মাধ্যমে আমরা সে উৎসাহই লাভ করে থাকি। কুরআন মাজীদে এরকম উৎসাহদায়ী আয়াত আছে বহু। আমাদের কর্তব্য এসব আয়াত দ্বারা নেক কাজের প্রতি অনুপ্রাণিত হওয়া এবং ছোট-বড় প্রতিটি নেক কাজে পূর্ণোদ্যমে অংশগ্রহণ করা।
ইসলামে মৌলিক ও অবশ্যপালনীয় বিধানাবলি ছাড়াও ঐচ্ছিক এমন বহু কাজ আছে, যা করার দ্বারা বিপুল ছাওয়াব অর্জন করা যায়। বান্দার প্রতি আল্লাহ তা'আলা বড়ই মেহেরবান। তিনি তার জন্য ছাওয়াব অর্জনের বহুবিধ পন্থা খোলা রেখেছেন। আখিরাতে মুক্তি ও সফলতা লাভ করতে হলে বান্দার অনেক অনেক ছাওয়াব দরকার। পাপের বিপরীতে যার পুণ্য বেশি হবে, মুক্তি কেবল সেই পাবে। ইচ্ছায় অনিচ্ছায় আমাদের অনেক পাপ হয়ে যায়। এ অবস্থায় বেশি বেশি পুণ্যার্জনের পথ যদি খোলা না থাকে, তবে মুক্তি কিভাবে সম্ভব? তাই দয়াময় আল্লাহ হাজারও রকম সৎকাজের নির্দেশনা আমাদের দিয়ে দিয়েছেন। কুরআন ও হাদীছে আছে তার সুদীর্ঘ তালিকা। ছাওয়াব অর্জন করা যায় ঘরে-বাইরে সর্বাবস্থায়। ওঠাবসা ও চলাফেরাকালেও অতি সহজে পুণ্যার্জন সম্ভব। কথায় ও কাজে পুণ্যার্জনের কত বিচিত্র ব্যবস্থাই না ইসলাম আমাদের দিয়েছে!
এতসব বিচিত্র ব্যবস্থা আমাদের পক্ষে কত বড়ই না রহমত। একটি কাজ কঠিন। বোধ হলে আরেকটি কর। এ কাজের ক্ষমতা তোমার না থাকলে ওই কাজ কর। অর্থব্যয়ের সামর্থ্য না থাকলে শ্রম ব্যয় কর। কাজ করতে না চাইলে কথা বল- মুখে যিকর কর। কোনওরকম সংকীর্ণতা তোমার সামনে নেই। তুমি যেভাবে চাও সেভাবেই পুণ্যার্জনের পথ তোমার সামনে খোলা রয়েছে। তোমার চাওয়াটাই শুধু দরকার। দরকার একটুখানি ইচ্ছা। একটুখানি ইচ্ছা কর আর মুঠোয় মুঠোয় ছাওয়াব কামাই করে নাও।
মুঠোয় মুঠোয় ছাওয়াব কামাই করার উপায় সম্পর্কে পবিত্র হাদীছের সুদীর্ঘ তালিকা আছে। তা থেকে ইমাম নববী রহ. এ অধ্যায়ে কয়েকটি হাদীছ চয়ন করেছেন। তার আগে উদ্ধৃত করেছেন পুণ্যার্জনের উৎসাহদায়ী কয়েকটি আয়াত। আমরা প্রথমে আয়াতসমূহের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দান করব। তারপর মনোযোগের সাথে হাদীছসমূহ পড়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।
সৎকর্মের প্রতি উৎসাহদায়ী কয়েকটি আয়াত
এক নং আয়াত
وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيْمٌ
অর্থ : আর তোমরা কল্যাণকর যে কাজই কর না কেন, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ
অবগত।সূরা বাকারা, আয়াত ২১৫
দুই নং আয়াত
وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمهُ اللَّهُ
অর্থ : তোমরা যা-কিছু সৎকর্ম করবে আল্লাহ তা জানেন।সূরা বাকারা, আয়াত ১৯৭
ব্যাখ্যা
এ আয়াত দু'টিতে আল্লাহ তা'আলা বান্দাকে নেক কাজের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তিনি জানাচ্ছেন যে, তোমরা যা-কিছুই ভালো কাজ কর, তা আল্লাহর পথে দান-সদাকা হোক বা শারীরিক ইবাদত-বন্দেগী, সবই আল্লাহ তা'আলা জানেন। এর কোনও কিছুই বৃথা যাবে না। আখিরাতে তিনি তোমাদেরকে এর পুরোপুরি প্রতিদান দেবেন। সুতরাং তোমরা কেবল ফরয আদায় করেই ক্ষান্ত হয়ো না, যতটা সম্ভব নফল ইবাদত-বন্দেগীও করতে থাক।
আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য এ আয়াত এক উৎসাহ বাণী। এতে আল্লাহ তা'আলা আমাদের ইঙ্গিত করছেন যে, নেক কাজ নির্দিষ্ট কয়েকটি মাত্র নয়। শরী'আতসম্মত পন্থায় আল্লাহ তা'আলাকে খুশি করার জন্য যা-কিছুই করা হবে তা-ই নেক কাজ বলে গণ্য। এরকম কাজ আছে হাজারও। তুমি তার মধ্য থেকে যা-ই কর না কেন তা আল্লাহর অগোচর থাকে না। আল্লাহ তা ভালোভাবেই জানেন। কাজেই তার কোনওটি বৃথা যাবে না। তিনি তার পুরোপুরি পুরস্কার তোমাদের অবশ্যই দেবেন। কাজেই কোনও সৎকর্মকে তুচ্ছ মনে করো না। আল্লাহ তা'আলাকে রাজিখুশি করার জন্য করলে ছোট্ট একটি কাজেরও অপরিমিত প্রতিদান তুমি পেতে পার। কাজেই মনভরা আশা রেখে যখন যে সৎকর্ম করার সুযোগ হয় করতে থাক। আখিরাতে তার পূর্ণ প্রতিদান অবশ্যই পাবে।
পরোক্ষভাবে এ আয়াত দু'টিতে একটা সতর্কবাণীও আছে। বলা হয়েছে, আল্লাহ জানেন বান্দা কী নেক কাজ করছে। আল্লাহ যেমন কাজের প্রকাশ্য দিক জানেন, তেমনি জানেন গোপন অবস্থাও। সুতরাং আমল করতে হবে কেবলই আল্লাহ তা'আলাকে খুশি করার জন্য, দুনিয়াবী কোনও উদ্দেশ্যে নয়। এমনিভাবে আমল করতে হবে সুন্দরভাবে ও সুচারুরূপে। দানখয়রাতও করতে হবে নিজের পক্ষে যা সম্ভব সেই পরিমাণ, কোনওরূপে দায়সারাভাবে নয়। এবং দান করতে হবে উৎকৃষ্ট বস্তু, নিকৃষ্ট ও নিম্নমানের জিনিস নয়।
তিন নং আয়াত
فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ
অর্থ : সুতরাং কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করে থাকলে সে তা দেখতে পাবে।সূরা যিলযাল, আয়াত ৭
ব্যাখ্যা
এ আয়াতে বান্দাকে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে- সে যেন সদাসর্বদা নেক কাজে যত্নবান থাকে। কেননা তার কোনও নেক কাজ বৃথা যাবে না। সে ছোট-বড় যে-কোনও নেক কাজ করবে, আখিরাতে আল্লাহ তা'আলার কাছে তার প্রতিদান অবশ্যই পাবে। তার একেকটি কাজের জন্য আল্লাহ তা'আলা নয়নপ্রীতিকর কী কী পুরস্কার নির্দিষ্ট করে রেখেছেন, বান্দা নিজ চোখে তা দেখতে পাবে। কাজেই কোনও নেক কাজকেই অবহেলা করা উচিত নয়। আখিরাতে উপকারে আসবে কেবল নেক কাজই। এর বদৌলতে সে মুক্তি পাবে এবং জান্নাতে এর ছাওয়াব ও পুরস্কারই সে ভোগ করবে। তাই তো নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে এই বলে উৎসাহ দান করেন যে-
لَا تَحْقِرَنَّ مِنَ الْمَعْرُوْفِ شَيْئًا وَلَوْ أَنْ تَلْقَى أَخَاكَ بِوَجْهِ طَلْقٍ
“কোনও নেক কাজকেই তুচ্ছ মনে করো না, এমনকি তা যদি তোমার ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করার ব্যাপারটাও হয়। সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ২৬২৬; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ২০৬৩৫
চার নং আয়াত
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهِ
অর্থ : কেউ কোনও সৎকর্ম করলে তা তার নিজ কল্যাণার্থেই।সূরা জাছিয়া, আয়াত ১৫
ব্যাখ্যা
অর্থাৎ বান্দার নেক কাজ দ্বারা আল্লাহ তা'আলার কোনও উপকার হয় না। তার উপকার বান্দা নিজেই পায়। আল্লাহ তা'আলার কোনও কিছুর কিছুমাত্র অভাব নেই। তিনি সবদিক থেকে পরিপূর্ণ। তিনি বান্দাকে যে 'ইবাদত-বন্দেগীর আদেশ করেছেন তার উদ্দেশ্য বান্দার কল্যাণসাধন করা। বান্দা আল্লাহ তা'আলার হুকুম পালন ও সৎকর্ম করলে তিনি খুশি হন এবং তাকে পুরস্কৃত করেন। এটা বান্দার প্রতি তাঁর দয়া ও মেহেরবানী। পক্ষান্তরে বান্দা যদি তাঁর হুকুম অমান্য করে ও নাফরমানীতে লিপ্ত হয়, তবে তিনি নাখোশ হন ও তাকে শাস্তি দান করেন। তিনি চান বান্দা নাফরমানীতে লিপ্ত হয়ে তাঁর শাস্তি ভোগ না করুক; বরং তাঁর ইবাদত-আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করুক ও পুরস্কৃত হোক। এজন্যই তিনি পাপ কাজের ক্ষেত্রে শাস্তির সতর্কবাণী শুনিয়েছেন এবং পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে বিভিন্ন নেক কাজের প্রতি উৎসাহ দান করেছেন। এ আয়াতসমূহের মাধ্যমে আমরা সে উৎসাহই লাভ করে থাকি। কুরআন মাজীদে এরকম উৎসাহদায়ী আয়াত আছে বহু। আমাদের কর্তব্য এসব আয়াত দ্বারা নেক কাজের প্রতি অনুপ্রাণিত হওয়া এবং ছোট-বড় প্রতিটি নেক কাজে পূর্ণোদ্যমে অংশগ্রহণ করা।
সর্বশ্রেষ্ঠ আমল ও বিভিন্ন পর্যায়ের সৎকর্ম
হাদীছ নং: ১১৭
হযরত আবূ যার রাযি. বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন্ আমল শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন, আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর পথে জিহাদ। বললাম, কোন্ প্রকারের গোলাম (মুক্তিদান করা) উত্তম? তিনি বললেন, যে গোলাম তার মালিকের নিকট সবচে' প্রিয় ও সবচে' দামী। আমি বললাম, যদি তা করতে না পারি? তিনি বললেন, কোনও কারিগরকে (তার কাজে) সাহায্য করবে অথবা অদক্ষ ব্যক্তির কাজ করে দেবে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! বলুন তো, আমি যদি এর কোনওটি করতে না পারি? তিনি বললেন, তুমি মানুষের অনিষ্ট করা থেকে বিরত থাকবে। এটাও হবে তোমার পক্ষ হতে তোমার নিজের প্রতি একটি সদাকা। -বুখারী ও মুসলিম' সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ২৫১৮; সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ৮৪; সুনানে নাসাঈ, হাদীছ নং ৩১২৯; সুনানে ইবন মাজাহ, হাদীছ নং ২৫২৩
الصانع -প্রসিদ্ধ বর্ণনানুযায়ী এ শব্দটি এরকমই এবং এর অর্থ কারিগর।
এক বর্ণনায় আছে ضائعا - যার অর্থ দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত। অর্থাৎ তুমি দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তকে সাহায্য করবে।
الأخرق বলে এমন কর্মীকে, যে তার সংশ্লিষ্ট কাজ উত্তমরূপে করতে পারে না।
হাদীছ নং: ১১৭
হযরত আবূ যার রাযি. বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন্ আমল শ্রেষ্ঠ? তিনি বললেন, আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং তাঁর পথে জিহাদ। বললাম, কোন্ প্রকারের গোলাম (মুক্তিদান করা) উত্তম? তিনি বললেন, যে গোলাম তার মালিকের নিকট সবচে' প্রিয় ও সবচে' দামী। আমি বললাম, যদি তা করতে না পারি? তিনি বললেন, কোনও কারিগরকে (তার কাজে) সাহায্য করবে অথবা অদক্ষ ব্যক্তির কাজ করে দেবে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! বলুন তো, আমি যদি এর কোনওটি করতে না পারি? তিনি বললেন, তুমি মানুষের অনিষ্ট করা থেকে বিরত থাকবে। এটাও হবে তোমার পক্ষ হতে তোমার নিজের প্রতি একটি সদাকা। -বুখারী ও মুসলিম' সহীহ বুখারী, হাদীছ নং ২৫১৮; সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ৮৪; সুনানে নাসাঈ, হাদীছ নং ৩১২৯; সুনানে ইবন মাজাহ, হাদীছ নং ২৫২৩
الصانع -প্রসিদ্ধ বর্ণনানুযায়ী এ শব্দটি এরকমই এবং এর অর্থ কারিগর।
এক বর্ণনায় আছে ضائعا - যার অর্থ দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত। অর্থাৎ তুমি দরিদ্র ও অভাবগ্রস্তকে সাহায্য করবে।
الأخرق বলে এমন কর্মীকে, যে তার সংশ্লিষ্ট কাজ উত্তমরূপে করতে পারে না।
مقدمة الامام النووي
13 - باب في بيان كثرة طرق الخير
قَالَ الله تَعَالَى: {وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللهَ بِهِ عَلِيمٌ} [البقرة: 215]، وَقالَ تَعَالَى: {وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ الله} [البقرة: 197]، وَقالَ تَعَالَى: {فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ} [الزلزلة: 7]، وَقالَ تَعَالَى: {مَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهِ} [الجاثية: 15] والآيات في الباب كثيرة.
وأما الأحاديث فكثيرة جدًا، وهي غيرُ منحصرةٍ فنذكُرُ طرفًا مِنْهَا:
قَالَ الله تَعَالَى: {وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللهَ بِهِ عَلِيمٌ} [البقرة: 215]، وَقالَ تَعَالَى: {وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ يَعْلَمْهُ الله} [البقرة: 197]، وَقالَ تَعَالَى: {فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ} [الزلزلة: 7]، وَقالَ تَعَالَى: {مَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِنَفْسِهِ} [الجاثية: 15] والآيات في الباب كثيرة.
وأما الأحاديث فكثيرة جدًا، وهي غيرُ منحصرةٍ فنذكُرُ طرفًا مِنْهَا:
117 - الأول: عن أبي ذر جُنْدبِ بنِ جُنَادَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قُلْتُ: يَا رسولَ الله، أيُّ الأعمالِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «الإِيمَانُ باللهِ وَالجِهادُ فِي سَبيلِهِ». قُلْتُ: أيُّ الرِّقَابِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «أنْفَسُهَا (1) عِنْدَ أَهلِهَا وَأَكثَرهَا ثَمَنًا». قُلْتُ: فإنْ لَمْ أفْعَلْ؟ قَالَ: «تُعِينُ صَانِعًا أَوْ تَصْنَعُ لأَخْرَقَ». قُلْتُ: يَا رَسُول الله، أرأيْتَ إنْ ضَعُفْتُ عَنْ بَعْضِ العَمَلِ؟ قَالَ: «تَكُفُّ شَرَّكَ عَنِ النَّاسِ؛ فإنَّهَا صَدَقَةٌ مِنْكَ عَلَى نَفْسِكَ». مُتَّفَقٌ عليه. (2)
«الصَّانِعُ» بالصاد المهملة هَذَا هُوَ المشهور، وروي «ضائعًا» بالمعجمة: أي ذا ضِياع مِنْ فقرٍ أَوْ عيالٍ ونحوَ ذلِكَ، «وَالأَخْرَقُ»: الَّذِي لا يُتقِنُ مَا يُحَاوِل فِعلهُ.
«الصَّانِعُ» بالصاد المهملة هَذَا هُوَ المشهور، وروي «ضائعًا» بالمعجمة: أي ذا ضِياع مِنْ فقرٍ أَوْ عيالٍ ونحوَ ذلِكَ، «وَالأَخْرَقُ»: الَّذِي لا يُتقِنُ مَا يُحَاوِل فِعلهُ.
হাদীস নং: ১১৮
ভূমিকা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সৎকর্মের বহুবিধ পন্থা।
শরীরের প্রতিটি জোড়ার সদাকা একেকটি সৎকর্ম
হাদীছ নং: ১১৮
হযরত আবু যার রাযি. থেকে আরও বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, প্রতিদিন ভোরে তোমাদের শরীরের প্রতিটি জোড়ার বিনিময়ে সদাকা আবশ্যিক হয়ে যায়। তো প্রতিটি তাসবীহ একটি সদাকা; প্রতিটি তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ বলা) একটি সদাকা; প্রতিটি তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা) একটি সদাকা: প্রতিটি তাকবীর একটি সদাকা; একবার সৎকাজের আদেশ করা একটি সদাকা; একবার অসৎকাজে নিষেধ করা একটি সদাকা আর এ সমুদয়ের পরিবর্তে চাশতের দু' রাক'আত নামায পড়াই যথেষ্ট হয়ে যায়। -মুসলিম।
(সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ৭২০; সুনানে আবূ দাউদ, হাদীছ নং ১২৮৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ২১৪৭৪; বায়হাকী, হাদীছ নং ৪৮৯৮; বাগাবী, হাদীছ নং ১০০৭)
হাদীছ নং: ১১৮
হযরত আবু যার রাযি. থেকে আরও বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, প্রতিদিন ভোরে তোমাদের শরীরের প্রতিটি জোড়ার বিনিময়ে সদাকা আবশ্যিক হয়ে যায়। তো প্রতিটি তাসবীহ একটি সদাকা; প্রতিটি তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ বলা) একটি সদাকা; প্রতিটি তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা) একটি সদাকা: প্রতিটি তাকবীর একটি সদাকা; একবার সৎকাজের আদেশ করা একটি সদাকা; একবার অসৎকাজে নিষেধ করা একটি সদাকা আর এ সমুদয়ের পরিবর্তে চাশতের দু' রাক'আত নামায পড়াই যথেষ্ট হয়ে যায়। -মুসলিম।
(সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ৭২০; সুনানে আবূ দাউদ, হাদীছ নং ১২৮৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ২১৪৭৪; বায়হাকী, হাদীছ নং ৪৮৯৮; বাগাবী, হাদীছ নং ১০০৭)
مقدمة الامام النووي
13 - باب في بيان كثرة طرق الخير
118 - الثاني: عن أبي ذر أيضًا - رضي الله عنه: أنَّ رسول الله - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «يُصْبحُ عَلَى كُلِّ سُلاَمَى مِنْ أَحَدِكُمْ صَدَقةٌ: فَكُلُّ تَسبيحَةٍ صَدَقَةٌ، وَكُلُّ تَحمِيدَةٍ صَدَقَة، وَكُلُّ تَهْلِيلَةٍ صَدَقَةٌ، وَكُلُّ تَكبيرَةٍ صَدَقَةٌ، وَأَمْرٌ بِالمَعرُوفِ صَدَقةٌ، ونَهيٌ عَنِ المُنْكَرِ صَدَقةٌ، وَيُجزِىءُ مِنْ ذلِكَ رَكْعَتَانِ يَركَعُهُما مِنَ الضُّحَى». رواه مسلم. (1) [ص:60]
«السُّلامَى» بضم السين المهملة وتخفيف اللام وفتح الميم: المفصل.
«السُّلامَى» بضم السين المهملة وتخفيف اللام وفتح الميم: المفصل.
হাদীস নং: ১১৯
ভূমিকা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সৎকর্মের বহুবিধ পন্থা।
রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো ও মসজিদ পরিষ্কার রাখার গুরুত্ব
হাদীছ নং: ১১৯
হযরত আবূ যার রাযি. থেকে আরও বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আমার সামনে আমার উম্মতের ভালো ও মন্দ আমলসমূহ পেশ করা হল। আমি তাদের ভালো কাজসমূহের মধ্যে একটি পেলাম রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে দেওয়া। আর তাদের মন্দ কাজসমূহের মধ্যে একটি পেলাম মসজিদে পড়ে থাকা কফ ইত্যাদি দাফন না করা। -মুসলিম।
(সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ৫৫৩; সুনানে ইবন মাজাহ, হাদীছ নং ৩৬৮৩; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ২১৫৮৯)
হাদীছ নং: ১১৯
হযরত আবূ যার রাযি. থেকে আরও বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আমার সামনে আমার উম্মতের ভালো ও মন্দ আমলসমূহ পেশ করা হল। আমি তাদের ভালো কাজসমূহের মধ্যে একটি পেলাম রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে দেওয়া। আর তাদের মন্দ কাজসমূহের মধ্যে একটি পেলাম মসজিদে পড়ে থাকা কফ ইত্যাদি দাফন না করা। -মুসলিম।
(সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ৫৫৩; সুনানে ইবন মাজাহ, হাদীছ নং ৩৬৮৩; মুসনাদে আহমাদ, হাদীছ নং ২১৫৮৯)
مقدمة الامام النووي
13 - باب في بيان كثرة طرق الخير
119 - الثالث: عَنْهُ، قَالَ: قَالَ النَّبيُّ - صلى الله عليه وسلم: «عُرِضَتْ عَلَيَّ أَعْمَالُ أُمَّتِي،
حَسَنُهَا وَسَيِّئُهَا فَوَجَدْتُ في مَحَاسِنِ أَعْمَالِهَا الأذَى يُمَاطُ (1) عَنِ الطَّريقِ، وَوَجَدْتُ في مَسَاوِىءِ (2) أعمَالِهَا النُّخَاعَةُ تَكُونُ في المَسْجِدِ لاَ تُدْفَنُ». رواه مسلم. (3)
حَسَنُهَا وَسَيِّئُهَا فَوَجَدْتُ في مَحَاسِنِ أَعْمَالِهَا الأذَى يُمَاطُ (1) عَنِ الطَّريقِ، وَوَجَدْتُ في مَسَاوِىءِ (2) أعمَالِهَا النُّخَاعَةُ تَكُونُ في المَسْجِدِ لاَ تُدْفَنُ». رواه مسلم. (3)
হাদীস নং: ১২০
ভূমিকা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সৎকর্মের বহুবিধ পন্থা।
গরীবের জন্য সদাকার ছাওয়াব অর্জন এবং মুবাহ কাজকে ছাওয়াবের কাজে পরিণত করার উপায়
হাদীছ নং: ১২০
হযরত আবূ যার রাযি. থেকে আরও বর্ণিত, একদল লোক বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! বিত্তশালীরা সমস্ত ছাওয়াব নিয়ে গেল। তারা নামায পড়ে, যেমন আমরা নামায পড়ি। তারা রোযা রাখে, যেমন আমরা রোযা রাখি। তদুপরি তারা তাদের উদ্বৃত্ত সম্পদ দান-সদাকা করে (যা আমরা করতে পারি না)। তিনি বললেন, আল্লাহ কি তোমাদের জন্য এমন কিছু রাখেননি, যা তোমরা সদাকা করতে পার? নিশ্চয়ই প্রতিটি তাসবীহের বিনিময়ে তোমাদের জন্য সদাকা (-এর ছাওয়াব) আছে। প্রতিটি তাকবীরের বিনিময়ে তোমাদের জন্য সদাকা (-এর ছাওয়াব) আছে। প্রতিটি তাহমীদের (আলহামদুলিল্লাহ বলার) বিনিময়ে তোমাদের জন্য সদাকা (-এর ছাওয়াব) আছে। প্রতিটি তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা)-এর বিনিময়ে তোমাদের জন্য সদাকা (-এর ছাওয়ার) আছে। একবার সৎকাজের আদেশ করার বিনিময়ে তোমাদের জন্য সদাকা (-এর ছাওয়াব) আছে। একবার অসৎকাজে নিষেধ করার বিনিময়ে তোমাদের জন্য সদাকা (-এর ছাওয়াব) আছে এবং তোমাদের একেকজনের স্ত্রী সহবাসে তোমাদের জন্য সদাকা (-এর ছাওয়াব) আছে। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের কেউ তার যৌনচাহিদা পূরণ করলে তাতেও ছাওয়াব হবে? তিনি বললেন, আচ্ছা বল তো, যদি তা হারাম উপায়ে চরিতার্থ করত তবে তার গুনাহ হত কি না? তদ্রূপ যদি সে তা হালাল পন্থায় চরিতার্থ করে, তবে তার ছাওয়াব হবে বৈ কি।-মুসলিম'
(সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ১০০৬)
হাদীছ নং: ১২০
হযরত আবূ যার রাযি. থেকে আরও বর্ণিত, একদল লোক বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! বিত্তশালীরা সমস্ত ছাওয়াব নিয়ে গেল। তারা নামায পড়ে, যেমন আমরা নামায পড়ি। তারা রোযা রাখে, যেমন আমরা রোযা রাখি। তদুপরি তারা তাদের উদ্বৃত্ত সম্পদ দান-সদাকা করে (যা আমরা করতে পারি না)। তিনি বললেন, আল্লাহ কি তোমাদের জন্য এমন কিছু রাখেননি, যা তোমরা সদাকা করতে পার? নিশ্চয়ই প্রতিটি তাসবীহের বিনিময়ে তোমাদের জন্য সদাকা (-এর ছাওয়াব) আছে। প্রতিটি তাকবীরের বিনিময়ে তোমাদের জন্য সদাকা (-এর ছাওয়াব) আছে। প্রতিটি তাহমীদের (আলহামদুলিল্লাহ বলার) বিনিময়ে তোমাদের জন্য সদাকা (-এর ছাওয়াব) আছে। প্রতিটি তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা)-এর বিনিময়ে তোমাদের জন্য সদাকা (-এর ছাওয়ার) আছে। একবার সৎকাজের আদেশ করার বিনিময়ে তোমাদের জন্য সদাকা (-এর ছাওয়াব) আছে। একবার অসৎকাজে নিষেধ করার বিনিময়ে তোমাদের জন্য সদাকা (-এর ছাওয়াব) আছে এবং তোমাদের একেকজনের স্ত্রী সহবাসে তোমাদের জন্য সদাকা (-এর ছাওয়াব) আছে। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের কেউ তার যৌনচাহিদা পূরণ করলে তাতেও ছাওয়াব হবে? তিনি বললেন, আচ্ছা বল তো, যদি তা হারাম উপায়ে চরিতার্থ করত তবে তার গুনাহ হত কি না? তদ্রূপ যদি সে তা হালাল পন্থায় চরিতার্থ করে, তবে তার ছাওয়াব হবে বৈ কি।-মুসলিম'
(সহীহ মুসলিম, হাদীছ নং ১০০৬)
مقدمة الامام النووي
13 - باب في بيان كثرة طرق الخير
120 - الرابع: عَنْهُ: أنَّ ناسًا قالوا: يَا رَسُولَ الله، ذَهَبَ أهلُ الدُّثُور بالأُجُورِ، يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي، وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ، وَيَتَصَدَّقُونَ بِفُضُولِ أَمْوَالِهِمْ، قَالَ: «أَوَلَيسَ قَدْ جَعَلَ اللهُ لَكُمْ مَا تَصَدَّقُونَ بِهِ: إنَّ بِكُلِّ تَسْبِيحَةٍ صَدَقةً، وَكُلِّ تَكبيرَةٍ صَدَقَةً، وَكُلِّ تَحمِيدَةٍ صَدَقَةً، وَكُلِّ تَهْلِيلَةٍ صَدَقَةً، وَأمْرٌ بالمَعْرُوفِ صَدَقَةٌ، وَنَهْيٌ عَنِ المُنْكَرِ صَدَقَةٌ، وفي بُضْعِ (1) أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ» قالوا: يَا رسولَ اللهِ، أيَأتِي أَحَدُنَا شَهْوَتَهُ وَيَكُونُ لَهُ فِيهَا أَجْرٌ؟ قَالَ: «أَرَأَيتُمْ لَوْ وَضَعَهَا في حَرامٍ أَكَانَ عَلَيهِ وِزرٌ؟ فكذَلِكَ إِذَا وَضَعَهَا في الحَلالِ كَانَ لَهُ أَجْرٌ». رواه مسلم. (2)
«الدُّثُورُ» بالثاء المثلثة: الأموال وَاحِدُهَا: دثْر.
«الدُّثُورُ» بالثاء المثلثة: الأموال وَاحِدُهَا: دثْر.