আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
৩. অধ্যায়ঃ ইলেম
হাদীস নং: ১৫২
অধ্যায়ঃ ইলেম
হাদীস শোনা, এর প্রচার-প্রসার ও অনুলিখনের প্রতি উৎসাহ দান এবং রাসূলুল্লাহ (সা) এর উপর মিথ্যা আরোপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন।
১৫২. হযরত যায়দ ইবন সাবিত (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্-(সা) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার একটি কথা শুনে তা অন্যের কাছে পৌঁছিয়ে দেয়, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে হাস্যোজ্জ্বল ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করুন। কেননা ফিকহ-এর এমন অনেক বাহক আছে যারা এমন লোকের কাছে তা প্রচার করে যারা তাদের চাইতে অধিকতর ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন। কোন কোন ক্ষেত্রে এমনও হয় যে, আইন ও ফিকহের বাহক নিজে ফকীহ বা ব্যুৎপত্তিসম্পন্ন নয় (উক্ত বিষয়ের শিক্ষার্থী বরং অধিকতর সমঝদার)। তিনটি বিষয়ে কোন মুসলমানের অন্তর যেন খিয়ানতের প্রশ্রয় না দেয়। তা হলোঃ (১) খাঁটি অন্তরে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমল করা, (২) শাসকবর্গকে সদুপদেশ দেওয়া এবং (৩) আবশ্যিকভাবে মুসলমানদের জামাআতের সাথে থাকা, কেননা দাওয়াত তাদের অনুসারীদের পরিবেষ্টন করে রাখে। যার অভীষ্ট হচ্ছে দুনিয়া লাত, আল্লাহ তা'আলা তার সব ব্যাপার স্যাপারকে গোলমেলে করে দেন এবং দারিদ্র্যকেই তার ভাগ্যলিপি করে দেন। অথচ সে (আল্লাহ কর্তৃক) নির্ধারিত হিস্সা ব্যতীত দুনিয়ার কিছুই লাভ করে না। আর যার উদ্দিষ্ট হয় আখিরাত, আল্লাহ তা'আলা তার কর্মকাণ্ড সুবিন্যস্ত করে দেন। তার অন্তর প্রাচুর্যে ভরে দেন এবং দুনিয়া তার কাছে অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে ধরা দেয়।
(ইব্ন হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে এবং বায়হাকী অগ্র-পশ্চাত করে হাদীসটি বর্ণনা করেন। বায়হাকী (র) তার রিওয়ায়াতের প্রথম অংশে لَيْسَ بفقيه উল্লেখ করেছেন। আবু দাউদ ও তিরমিযী বির্ণনা করেছেন। তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। নাসাঈ ও ইবন মাজাহ উভয়ে অতিরিক্ত শব্দে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(ইব্ন হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে এবং বায়হাকী অগ্র-পশ্চাত করে হাদীসটি বর্ণনা করেন। বায়হাকী (র) তার রিওয়ায়াতের প্রথম অংশে لَيْسَ بفقيه উল্লেখ করেছেন। আবু দাউদ ও তিরমিযী বির্ণনা করেছেন। তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। নাসাঈ ও ইবন মাজাহ উভয়ে অতিরিক্ত শব্দে এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الْعلم
التَّرْغِيب فِي سَماع الحَدِيث وتبليغه ونسخه والترهيب من الْكَذِب على رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم
152 - وَعَن زيد بن ثَابت قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول نضر الله امْرأ سمع منا حَدِيثا فَبَلغهُ غَيره فَرب حَامِل فقه إِلَى من هُوَ أفقه مِنْهُ وَرب حَامِل فقه لَيْسَ بفقيه ثَلَاث لَا يغل عَلَيْهِنَّ قلب مُسلم إخلاص الْعَمَل لله ومناصحة وُلَاة الْأَمر وَلُزُوم الْجَمَاعَة فَإِن دعوتهم تحيط من وَرَاءَهُمْ وَمن كَانَت الدُّنْيَا نِيَّته فرق الله عَلَيْهِ أمره وَجعل فقره بَين عَيْنَيْهِ وَلم يَأْته من الدُّنْيَا إِلَّا مَا كتب لَهُ وَمن كَانَت الْآخِرَة نِيَّته جمع الله أمره وَجعل غناهُ فِي قلبه وأتته الدُّنْيَا وَهِي راغمة
رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْبَيْهَقِيّ بِتَقْدِيم وَتَأْخِير وروى صَدره إِلَى قَوْله لَيْسَ بفقيه
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَحسنه وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه بِزِيَادَة عَلَيْهِمَا
رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْبَيْهَقِيّ بِتَقْدِيم وَتَأْخِير وروى صَدره إِلَى قَوْله لَيْسَ بفقيه
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَحسنه وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه بِزِيَادَة عَلَيْهِمَا
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহ তাআলা আখিরাত লাভের প্রার্থীদের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ প্রদর্শন করেন। সম্পদের প্রাচুর্যের চেয়ে অন্তরের প্রশান্তি সুমহান। আল্লাহ আখিরাত অন্বেষণকারীদের অন্তরে প্রাচুর্য বা প্রশান্তি দান করার কারণে তারা নিজেদের প্রয়োজন পূরণ করার জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী হন না। তারা অন্যের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন না। আল্লাহ তাদের যা দান করেন তারা তাতে সন্তুষ্ট থাকেন। ফলে কোনরূপ দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন তাদের হতে হয় না। আখিরাতের চিন্তায় যারা দিনরাত মশগুল, তাদের পার্থিব সমস্যা কোনদিন অমীমাংসিত থাকে না। আল্লাহ তা'আলা দয়া পরবশ হয়ে তাঁর প্রিয় বান্দাদের অবস্থা সংশোধন করেন, সমস্যার সমাধান করে দেন এবং তাদের যে সব বিষয় বিক্ষিপ্ত ও অগোছালো ছিল এবং সম্ভবত নিজে তারা যেগুলো গোছাতে পারত না, সেগুলো সুন্দর ও সঠিকভাবে গুছিয়ে দেন। আল্লাহর এ ধরনের বান্দারা কখনো দুনিয়ার উপায়-উপকরণ থেকে বঞ্চিত থাকেন না। কোন না-কোনভাবে আল্লাহ তাদের হিসসা পূরণ করে দেন। আখিরাতের জন্য যারা চেষ্টা করেন, আল্লাহ তাদের আখিরাতের অনন্ত জীবনকে সমুজ্জ্বল করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে দুনিয়ার জীবনেও তাদেরকে শান্তি ও সম্মান দান করেন। বস্তুত, এ ধরনের মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে কামিয়াব।
দুনিয়া প্রার্থীগণ সর্বদা ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। আখিরাতের সুখ-শান্তির পরিবর্তে তারা দুনিয়ার আরাম-আয়েশ হাসিলের জন্য দিনরাত ব্যাকুল থাকে। ফলে তাদের আখিরাত চিরদিনের জন্য বিনষ্ট হয়ে যায় এবং যে দুনিয়ার জন্য আখিরাত বিসর্জন দেয়, সে দুনিয়া ততটুকু পায় যতটুকু আল্লাহ তাদের জন্য লিখে রেখেছেন। দুনিয়া ও আখিরাতের একমাত্র মালিক-মুখতার আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। দুনিয়া ও আসমানের সবকিছু তাঁর ব্যবস্থাধীন। দুনিয়ার তামাম মাখলুকের রোযগার ও কিসমতের বিলি-বণ্টন তাঁর হুকুমে হয়ে থাকে। তিনি মানুষের জন্য যা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন সে তাই লাভ করবে। শত চেষ্টা করেও মানুষ তার ভাগ্যের নির্ধারিত জিনিস থেকে একবিন্দু বেশি লাভ করতে পারবে না। দুনিয়াপ্রার্থীরা এ সত্য উপলব্ধি না করার কারণে দুনিয়ার প্রভাব-প্রতিপত্তি হাসিলের জন্য সর্বদা নিজেকে ব্যস্ত রাখে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হুকুম মোতাবিক পার্থিব প্রয়োজন পূরণ না করার কারণে তাদের অন্তরে কোনরূপ তৃপ্তির সৃষ্টি হয় না। এ ধরনের দুনিয়াপ্রার্থীদের প্রয়োজন বহুমুখী। এক প্রয়োজন পূরণ না হতেই নতুন প্রয়োজন সৃষ্টি হয়। সম্পদের এক পাহাড় লাভ করার পর দ্বিতীয় পাহাড় লাভ করার চিন্তা-ভাবনায় ব্যাকুল থাকে। সম্পদ ও প্রাচুর্যের মধ্যে থাকলেও এ ধরনের মানুষকে আরও সম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তি হাসিলের জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হয়। বলা বাহুল্য, আল্লাহ এ ধরনের বান্দাদের উপর অসন্তুষ্ট থাকার কারণে তাদের দুনিয়ার জীবন কখনো সুখ-শান্তিপূর্ণ হয় না। তারা দুনিয়ার জীবনে বিভিন্ন বিড়ম্বনা ও অশান্তির শিকার হয়। শুধু তাই নয়, অশান্তির অনলভরা আখিরাতের অনন্ত জীবন তাদের জন্য অধীর প্রতীক্ষায় রয়েছে।
দুনিয়া প্রার্থীগণ সর্বদা ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। আখিরাতের সুখ-শান্তির পরিবর্তে তারা দুনিয়ার আরাম-আয়েশ হাসিলের জন্য দিনরাত ব্যাকুল থাকে। ফলে তাদের আখিরাত চিরদিনের জন্য বিনষ্ট হয়ে যায় এবং যে দুনিয়ার জন্য আখিরাত বিসর্জন দেয়, সে দুনিয়া ততটুকু পায় যতটুকু আল্লাহ তাদের জন্য লিখে রেখেছেন। দুনিয়া ও আখিরাতের একমাত্র মালিক-মুখতার আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। দুনিয়া ও আসমানের সবকিছু তাঁর ব্যবস্থাধীন। দুনিয়ার তামাম মাখলুকের রোযগার ও কিসমতের বিলি-বণ্টন তাঁর হুকুমে হয়ে থাকে। তিনি মানুষের জন্য যা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন সে তাই লাভ করবে। শত চেষ্টা করেও মানুষ তার ভাগ্যের নির্ধারিত জিনিস থেকে একবিন্দু বেশি লাভ করতে পারবে না। দুনিয়াপ্রার্থীরা এ সত্য উপলব্ধি না করার কারণে দুনিয়ার প্রভাব-প্রতিপত্তি হাসিলের জন্য সর্বদা নিজেকে ব্যস্ত রাখে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হুকুম মোতাবিক পার্থিব প্রয়োজন পূরণ না করার কারণে তাদের অন্তরে কোনরূপ তৃপ্তির সৃষ্টি হয় না। এ ধরনের দুনিয়াপ্রার্থীদের প্রয়োজন বহুমুখী। এক প্রয়োজন পূরণ না হতেই নতুন প্রয়োজন সৃষ্টি হয়। সম্পদের এক পাহাড় লাভ করার পর দ্বিতীয় পাহাড় লাভ করার চিন্তা-ভাবনায় ব্যাকুল থাকে। সম্পদ ও প্রাচুর্যের মধ্যে থাকলেও এ ধরনের মানুষকে আরও সম্পদ ও প্রভাব-প্রতিপত্তি হাসিলের জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী হতে হয়। বলা বাহুল্য, আল্লাহ এ ধরনের বান্দাদের উপর অসন্তুষ্ট থাকার কারণে তাদের দুনিয়ার জীবন কখনো সুখ-শান্তিপূর্ণ হয় না। তারা দুনিয়ার জীবনে বিভিন্ন বিড়ম্বনা ও অশান্তির শিকার হয়। শুধু তাই নয়, অশান্তির অনলভরা আখিরাতের অনন্ত জীবন তাদের জন্য অধীর প্রতীক্ষায় রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: