আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার

হাদীস নং: ৪৫৫৭
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
বিষধর জন্তু হত্যা করা এবং সাপ ও অন্যান্য বিষধর জন্তু হত্যা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৫৫৭. আবূ দাউদের অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন: হযরত আবু লুবাবা (রা) থেকে উক্ত হাদীস শোনার পর ইবন উমার (রা) তাঁর বাড়ীতে একটি সাপ দেখতে পান। তখন তিনি তা বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কাজেই তাকে বাকী নামক স্থানের দিকে বের করে দেওয়া হয়। নাফি' (র) বলেন: পুনরায় আমি ঐ সাপটিকে তার ঘরে দেখতে পেয়েছি।
الطفيتان সাপের পিঠের দু'টো কালো ডোরা দাগ। আবূ উমা নামেরী (র) বলেন, لفيتين পিঠে সাদা সাদা দু'টি রেখা বিশিষ্ট সাপ।
والابتر গোখরা সাপ। কারো কারো মতে, লেজকাটা এক জাতীয় সাপ। কারো কারো মতে নীল বর্ণের লেজকাটা সাপ, গর্ভবতী নারী যার দিকে দৃষ্টি করলে গর্ভপাত হয়ে যায়। নাযর ইব্‌ন সুমায়ল (রা) অনুরূপ বলেছেন।
يلتمسان البصر এমন দুই প্রকার সাপ, আল্লাহ্ তাদের মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন যে, তারা কারো দিকে তাকালে চোখের জ্যোতি নষ্ট হয়ে যায়।
হাফেয মুনযিরী (র) বলেনঃ একদল মুহাদ্দিস মাঠে, বাড়ী ঘরে, শহরে, জঙ্গলে যত প্রকার সাপ আছে, যাবতীয় সাপ মেরে ফেলার ব্যাপারে অতিমত দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তাঁর প্রকার, বংশ বা স্থানের কোন পার্থক্য করেননি। মুহাদ্দিসগণ পেছনে বর্ণিত হযরত ইবন মাসউদ, আবু হুরায়রা, ইব্‌ন আব্বাস (রা) প্রমুখ সাহাবাদের বর্ণিত হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করেন। অপর একদল মুহাদ্দিসের অভিমত এরূপ, তারা বলেনঃ শহরে অথবা গ্রামে বসবাসকারী সাপ ব্যতীত, অন্যান্য যাবতীয় সাপ মেরে ফেলার অভিমত দিয়েছেন। তারা আবু লুবাবা, হযরত যায়িদ ইবন খাত্তাব (রা) প্রমুখ সাহাবাদের হাদীস দলীল হিসেবে গ্রহণ করেন। অপর একদল মুহাদ্দিসের অভিমত এরূপঃ শহর অথবা গ্রামের বাড়ীতে বসবাসকারী সাপ বেরিয়ে যাওয়ার শপথ দেওয়ার পর দেখা গেলে মেরে ফেলার কথা বলেছেন। এতদ্ব্যতীত ঘরের বাইরে যত সাপ রয়েছে তা মেরে ফেলার সাধারণ অনুমতি দিয়েছেন। ইমাম মালিক (র) এর মতে, মসজিদে সাপ পাওয়া গেলে মেরে ফেলতে হবে। উল্লেখিত মুহাদ্দিসগণ নবী (ﷺ)-এর এই নিম্নোক্ত হাদীস খানা দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন।
"এই সকল ঘরে কিছু সংখ্যক সাপ বসবাস করে। তোমরা ওদের দেখতে পেলে তিনদিন পর্যন্ত তাদের বেরিয়ে যাওয়ার জন্য' চাপ সৃষ্টি করবে। এরপর যদি চলে যায় ভাল কথা, অন্যথায় মেরে ফেলবে। চাপ প্রয়োগের ব্যাপারে একদল মুহাদ্দিসের মতে হযরত আবু লুবাবা (রা)-এর হাদীস, যা পেছনে বর্ণিত হয়েছে, তার উপর আমল করা যেতে পারে। ইমাম মালিক (র) বলেনঃ "আমি তোমাকে আল্লাহ্ ও কিয়ামতের দোহাই দিয়ে বলছি, তুমি আমাদের সামনে প্রকাশ পেয়ো না এবং আমাদের কষ্ট দিও না," এটুকু বলাই যথেষ্ট। অন্যান্যগণ বলেছেন: "তুমি আমাদের কাছে এসে বিপদে পড়বে, আমরা তোমাকে তাড়া করতে বাধ্য হলে তুমি আমাদেরকে তিরষ্কার করতে পারবে না।" একদল মুহাদ্দিসের মতে, শুধুমাত্র মদীনায় বসবাসকারী সাপের প্রতি চাপ প্রয়োগের প্রতি অভিমত দিয়েছেন। তারা পেছনে বর্ণিত হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) -এর হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করেন। হাদীসটি এরূপঃ "ইদানীং মদীনার একদল জ্বিন ইসলাম গ্রহণ করেছে। শহর ও ঘর ব্যতীত পৃথিবীর যে কোন অংশের সাপ ভীতি প্রদর্শনের পূর্বেই মারা যেতে পারে। তা জ্বিন সাপ কিনা তা বিচার করা মুসলমানদের প্রয়োজন নেই"।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঁচ প্রকার দুষ্ট প্রাণী হারাম শরীফের ভেতর সর্বত্র মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। ঐ পাঁচটির মধ্যে একটি হলো সাপ। অন্য একদল মুহাদ্দিসের অভিমত হচ্ছে এরূপ যে, লেজকাটা ও সাদা ডোরা বিশিষ্ট সাপ চাপ প্রয়োগ ব্যতীত মদীনায় হোক কি অন্যত্র, মেরে ফেলা হবে। উপরোক্ত মুহাদ্দিসগণ আবূ লুবাবা (রা) কর্তৃক বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদীস দলীল রূপে পেশ করেন: "তিনি (রাসূলুল্লাহ্ ﷺ) ঘরে বসবাসকারী ছোট সাপ মেরে ফেলতে নিষেধ করেছে। তবে কেবলমাত্র লেজকাটা ও সাদা ডোরা বিশিষ্ট'সাপ ব্যতীত।" উপরোক্ত প্রত্যেক দলেরই অভিমত সমূহ সূদৃঢ় ও স্পষ্ট দলীল দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ।
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي قتل الوزغ وَمَا جَاءَ فِي قتل الْحَيَّات وَغَيرهَا مِمَّا يذكر
4557- وَفِي رِوَايَة لأبي دَاوُد قَالَ إِن ابْن عمر وجد بعد مَا حَدثهُ أَبُو لبَابَة حَيَّة فِي دَاره فَأمر بهَا فأخرجت إِلَى البقيع
قَالَ نَافِع ثمَّ رَأَيْتهَا بعد فِي بَيته
الطفيتان بِضَم الطَّاء الْمُهْملَة وَإِسْكَان الْفَاء هما الخطان الأسودان فِي ظهر الْحَيَّة وأصل الطفية خوصَة الْمقل شبه الخطين على ظهر الْحَيَّة بخوصتي الْمقل وَقَالَ أَبُو عمر النمري يُقَال إِن الطفيتين جنس يكون على ظَهره خطان أبيضان
والأبتر هُوَ الأفعى وَقيل جنس أَبتر كَأَنَّهُ مَقْطُوع الذَّنب وَقيل هُوَ صنف من الْحَيَّات أَزْرَق مَقْطُوع الذَّنب إِذا نظرت إِلَيْهِ الْحَامِل أَلْقَت
قَالَه النَّضر بن شُمَيْل
وَقَوله يلتمسان الْبَصَر مَعْنَاهُ يطمسانه بِمُجَرَّد نظرهما إِلَيْهِ بخاصية جعلهَا الله فيهمَا
قَالَ الْحَافِظ قد ذهب طَائِفَة من أهل الْعلم إِلَى قتل الْحَيَّات أجمع فِي الصحارى والبيوت بِالْمَدِينَةِ وَغير الْمَدِينَة وَلم يستثنوا فِي ذَلِك نوعا وَلَا جِنْسا وَلَا موضعا وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِك بِأَحَادِيث جَاءَت عَامَّة كَحَدِيث ابْن مَسْعُود الْمُتَقَدّم وَأبي هُرَيْرَة وَابْن عَبَّاس وَقَالَت طَائِفَة تقتل الْحَيَّات أجمع إِلَّا سواكن الْبيُوت بِالْمَدِينَةِ وَغَيرهَا فَإِنَّهُنَّ لَا يقتلن لما جَاءَ فِي حَدِيث أبي لبَابَة وَزيد بن الْخطاب من النَّهْي عَن قتلهن بعد الْأَمر بقتل جَمِيع الْحَيَّات وَقَالَت طَائِفَة تنذر سواكن الْبيُوت فِي الْمَدِينَة وَغَيرهَا فَإِن بدين بعد الْإِنْذَار قتلن وَمَا وجد مِنْهُنَّ فِي غير الْبيُوت يقتل من غير إنذار وَقَالَ مَالك يقتل مَا وجد مِنْهَا فِي الْمَسَاجِد وَاسْتدلَّ هَؤُلَاءِ بقوله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن لهَذِهِ الْبيُوت عوامر فَإِذا رَأَيْتُمْ مِنْهَا شَيْئا فحرجوا عَلَيْهَا ثَلَاثًا فَإِن ذهب وَإِلَّا فَاقْتُلُوهُ
وَاخْتَارَ بَعضهم أَن يَقُول لَهَا مَا ورد فِي حَدِيث أبي ليلى الْمُتَقَدّم وَقَالَ مَالك يَكْفِيهِ أَن يَقُول أحرج عَلَيْك بِاللَّه وَالْيَوْم الآخر أَن لَا تبدو لنا وَلَا تؤذينا وَقَالَ غَيره يَقُول لَهَا أَنْت فِي حرج إِن عدت إِلَيْنَا فَلَا تلومينا أَن نضيق عَلَيْك بالطرد والتتبع وَقَالَت طَائِفَة لَا تنذر إِلَّا حيات الْمَدِينَة فَقَط لما جَاءَ فِي حَدِيث أبي سعيد الْمُتَقَدّم من إِسْلَام طَائِفَة من الْجِنّ بِالْمَدِينَةِ وَأما حيات غير الْمَدِينَة فِي جَمِيع الأَرْض والبيوت فَتقْتل من غير إنذار لأَنا لَا نتحقق وجود مُسلمين من الْجِنّ ثمَّ وَلقَوْله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم خمس من الفواسق تقتل فِي الْحل وَالْحرم وَذكر مِنْهُنَّ الْحَيَّة
وَقَالَت طَائِفَة يقتل الأبتر وَذُو الطفيتين من غير إنذار سَوَاء كن بِالْمَدِينَةِ وَغَيرهَا لحَدِيث أبي لبَابَة سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم نهى عَن قتل الْجنان الَّتِي تكون فِي الْبيُوت إِلَّا الأبتر وَذَا الطفيتين
وَلكُل من هَذِه الْأَقْوَال وَجه قوي وَدَلِيل ظَاهر وَالله أعلم
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান