মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

বিবাহ অধ্যায়

হাদীস নং: ৮৯
বিবাহ অধ্যায়
মোহরানা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদসমূহ

পরিচ্ছেদ: অল্প বা বেশি মোহরানায় বিয়ে করা জায়েয, তবে তাতে মধ্যপন্থা অবলম্বন মুস্তাহাব।
৮৯। উরওয়া ইবন জুবাইর (র) উম্মু হাবীবা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি উবাইদুল্লাহ ইবন জাহাশের স্ত্রী ছিলেন। তিনি হিজরত করে নাজ্জাশীর কাছে আসেন। অতঃপর মারা যান। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উম্মু হাবীবা (রা)-কে তাঁর হাবশায় অবস্থানকালীন বিয়ে করেন। নাজ্জাশী (র) তাঁকে তাঁর কাছে বিয়ে দেন। আর তাঁকে চার হাজার দিরহাম মোহরানা দেন। অতঃপর তাঁর পক্ষ থেকে তাঁকে যৌতুক দেন। আর তাঁকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে শুরাহবীল ইবন হাসানা (রা)-এর সাথে পাঠান। তাঁর সকল 'সামান পত্র নাজ্জাশী (রা)-এর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর জন্য কোন কিছু পাঠাননি, নবী (ﷺ)-এর অপর স্ত্রীগণের মোহরানা ছিল চারশত দিরহাম।
(আবু দাউদ, নাসাঈ, বায়হাকী, দারা কুতনী। আহমদ ইবন্ আবদুর রহমান আল বান্না বলেছেন, হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।)
كتاب النكاح
أبواب الصداق

باب جواز التزويج على القليل والكثير واستحباب القصد فيه
عن عروة بن الزبير (4) عن أم حبيبة أنها كانت تحت عبيد الله بن جحش وكان أتى التجاشي (5) فمات وأن رسول الله صلى الله عليه وسلم تزوج أم حبيبة وإنها بأرض الحبشة زوجها إياه النجاشي وأمهرها أربعة آلاف (6) ثم جهزها من عنده وبعث بها إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم مع شر حبيل ابن حسنة وجهازها كله من عند النجاشي ولم يرسل إليها رسول الله صلى الله عليه وسلم بشيء وكان مهور أزواج النبي صلى الله عليه وسلم أربعمائة درهم

হাদীসের ব্যাখ্যা:

উম্মে হাবীবা (রা) আবু সুফয়ানের কন্যা ছিলেন। মক্কা বিজয় পর্যন্ত আবু সুফয়ান মক্কার কাফিরদের নেতা ও হুজুর ﷺ-এর প্রচন্ড শত্রু ছিলেন। এরপর অষ্টম হিজরী সনে মক্কা বিজয়কালে তাঁর ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য হয়। তবে তাঁর কন্যা বহু পূর্বে ইসলামের দাওয়াতের প্রাথমিক যুগেই ইসলাম কবুল করেছিলেন। তাঁর স্বামী উবাইদুল্লাহ ইব্‌ন জাহ্শও ইসলাম কবুল করেছিলেন। এরপর মক্কায় যখন ইসলাম গ্রহণকারীদেরকে সীমাহীন যন্ত্রণা দেয়া হচ্ছিল তখন হুজুর ﷺ-এর অনুমতি ও ইঙ্গিতক্রমে অন্যান্য অনেক মুসলমানের সাথে উম্মে হাবীবা ও তাঁর স্বামী হিজরত করেন। আল্লাহর অপার মহিমা, কিছুদিন পর স্বামী উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহশ ইসলাম ত্যাগ করে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন, যা ছিল সাধারণ আবিসিনিয়াবাসীদের ধর্ম এবং তিনি মদ ইত্যাদি অধিক পরিমাণে পান করতে থাকেন। এরপর এ অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে উম্মে হাবীবা দৃঢ়তার সাথে সর্বদা ইসলামে অবিচল থাকেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন উবায়দুল্লাহ বিন জাহশের মৃত্যুর সংবাদ অবগত হলেন, তখন মান-মর্যাদা রক্ষা, তার মনোরঞ্জন ইত্যাদি নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করে তাঁকে স্বীয় বিবাহ বন্ধনে নিতে চাইলেন এবং আবিসিনিয়ার বাদশাহর নিকট দূত পাঠালেন যে, আমার পক্ষ থেকে উম্মে হাবীবাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়া হোক। নাজ্জাশী তাঁর আবরাহা নাম্মী দাসীর মাধ্যমে উম্মে হাবীবাকে প্রস্তাব দেন। তিনি খুবই সানন্দ ও কৃতজ্ঞতার সাথে এ প্রস্তাব গ্রহণ করেন।

মুহাজির মুসলমানগণের মধ্যে তাঁর নিকটতম স্নেহভাজন খালিদ ইবনে সাঈদ ইবনে আল-আসীকে স্বীয় উকীল নিযুক্ত করেন। নাজাশী আবিসিনিয়াতেই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন করেন এবং রাসূলুল্লাহ্ -এর পক্ষ থেকে তিনি নগদ মহরও আদায় করেন। বিভিন্ন বর্ণনায় মহরের পরিমাণ চার হাজার দিরহাম বলা হয়েছে, তবে হাকেমের 'মুসতাদরাক' ইত্যাদির বর্ণনায় চার হাজার দীনার উল্লেখ করা হয়েছে। আর হাদীস লিপিবদ্ধকারী ও বর্ণনাকারীগণ এটাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। বস্তুত পবিত্র স্ত্রীগণের মধ্যে উম্মে হাবীবা (রা)-এর মহর অন্যান্য উন্মুল মু'মিনীন এর তুলনায় অনেক বেশি ছিল। তবে এটা হুজুর নয় বরং নাজ্জাশী নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন এক বাদশাহ আর এটাই ছিল তাঁর শান আর মানের উপযুক্ত। যেমন হাদীসে রয়েছে, তিনি স্বয়ং আদায়ও করেন। বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, এ ঘটনা হিজরী ষষ্ঠ অথবা সপ্তম সালের ছিল।

নাজ্জাশী আবিসিনিয়ার বাদশাদের উপাধি ছিল। নাজ্জাশীর আসল নাম ছিল আসহামা। মুহাজিরগণের মাধ্যমে তিনি ইসলাম ও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা সম্বন্ধে অবগত হয়েছিলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। অষ্টম অথবা নবম হিজরী সনে তাঁর ইন্তিকাল হয়। ওহীর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ ﷺ ইহা অবগত হন। তিনি সাহাবা কিরামকে এ সংবাদ দান করেন এবং মদীনা শরীফে তাঁর গায়েবানা জানাযার নামায আদায় করেন। (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট রাখুন)।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান