মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

প্রশংসা ও ভর্ৎসনা সম্পর্কে অধ্যায়

হাদীস নং:
প্রশংসা ও ভর্ৎসনা সম্পর্কে অধ্যায়
অধ্যায় প্রশংসা ও ভর্ৎসনা সম্পর্কে

পরিচ্ছেদ: কি ধরনের প্রশংসা জায়েয
৫. আবূ যার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! কোন ব্যক্তি কেবল আল্লাহ্ সন্তুষ্টি লাভের আশায় আমল করে আর লোকজন তার সেই কাজের জন্য প্রশংসা করে;(এটা কি তার কোন গুনাহ হবে? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সেটা তো ঈমানদার ব্যক্তির জন্য আগাম সুসংবাদ।
كتاب المدح والذم
كتاب المدح والذم

باب ما يجوز من المدح
عن عبد الله بن الصامت عن أبي الذر (3) أنه قال يا رسول الله الرجل يعمل العمل فيحمده الناس عليه ويثنون عليه به فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم تلك عاجل بشرى المؤمن

হাদীসের ব্যাখ্যা:

সাহাবায়ে কিরাম নবী করীম ﷺ-এর অমূল্য উপদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন। তাঁরা রিয়ার ব্যাপারে খুব সতর্ক ও শঙ্কিত ছিলেন। নেক ব্যক্তির নেক আমলের প্রশংসা সম্পর্কে কোন কোন সাহাবার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছিল। হয়ত তারা ধারণা করেছিলেন, এরূপ প্রশংসা করাও আল্লাহর নিকট অপসন্দনীয় এবং রিয়ার সমতুল্য।

যেরূপ আল্লাহ রিয়াকারীকে দুনিয়া ও আখিরাতে অপমানিত করেন, সেরূপ তিনি বিশুদ্ধ নিয়্যতসহকারে সৎকর্ম সম্পাদনকারীকেও দুনিয়া ও আখিরাতে অজস্র কল্যাণ দান করেন। যে বান্দা একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য নেক আমল করেন, আল্লাহ তার নেক আমলকে পসন্দ করেন, তাকে মহব্বত করেন। আসমানবাসী ও দুনিয়াবাসীর কাছে তাঁর মাহবুব বান্দার নাম প্রচার করার জন্য জিবরাঈল (আ)-কে আদেশ করেন এবং জিবরাঈল (আ) তা করেন। এভাবে আল্লাহর নেক বান্দার কাজ আসমান ও দুনিয়ায় প্রচারিত ও প্রশংসিত হয়। আল্লাহর নেক বান্দা মানুষের প্রশংসার আকাঙ্ক্ষী নন, তিনি মানুষের প্রশংসা অপসন্দ করেন এবং তিনি একমাত্র আল্লাহর মহব্বত, ভালবাসা ও সন্তুষ্টি চান, কিন্তু আল্লাহ মানুষের মনে তাঁর মাহবুব বান্দার মহব্বত সৃষ্টি করে দেন। এটা মু'মিন বান্দার খালেস সৎকর্মের নগদ প্রতিফল। আখিরাতের যিন্দেগীতে তাকে যা দান করা হবে, তা আরো বিরাট ও মহান।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান