মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৪৩
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ : বানু ফাযারাহ গোত্রের প্রতি আবূ বকর সিদ্দীক (রা)-এর অভিযান
৩৪৩. ইয়াস ইবন সালামাহ ইব্‌ন আকওয়া থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন যে, আমরা আবু বকর ইবন আবূ কুহাফা (রা)-এর নেতৃত্ব অভিযানে বের হলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে আমাদের সেনাপতি বানিয়েছিলেন। তিনি আরো বলেন যে, আমরা ফাযারাহ গোত্রের বিরুদ্ধে অভিযানে বের হয়েছিলাম। আমরা যখন একটি জলাধারের কাছাকাছি পৌছি, তখন হযরত আবূ বকর (রা)-এর নির্দেশে সেখানে আমরা রাত্রিকালীন বিশ্রাম গ্রহণ করি। আমরা যখন ফজরের নামায আদায় করলাম তখন তিনি আমাদের আক্রমণ করার নির্দেশ দিলেন। জলাধারের আশেপাশে আমরা যাদেরকে পেয়েছি তাদেরকে হত্যা করেছি। সালামাহ বলেন, এরপর আমি দেখতে পেলাম যে, নারী ও শিশুসহ বহু লোক পাহাড়ের দিকে দৌড়াচ্ছে। আমি দ্রুত তাদের দিকে এগিয়ে গেলাম। ওরা আমার আগে পাহাড়ে লুকিয়ে যায় কিনা সে আশংকা আমার ছিল। আমি ওদেরকে লক্ষ্য করে একটি তীর নিক্ষেপ করলাম। সেটি ওদের মাঝে আর পাহাড়ের মাঝে গিয়ে পড়ল। এরপর আমি ওদেরকে তাড়িয়ে জলাধারের পাশে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা) এর নিকট নিয়ে এলাম। ওদের মধ্যে চামড়ায় ঢাকা এক অনিন্দ্যসুন্দর মহিলা ছিল। তার সাথে ছিল এক কন্যা সন্তান। হযরত আবূ বকর (রা) ওই মেয়েটিকে আমার ভাগে দিয়ে দিলেন। আমি মদীনায় এসে পৌঁছলাম কিন্তু তার পর্দা উঠাইনি। আমি রাত কাটিয়েছি তবুও পর্দা উঠাইনি। অতঃপর বাজারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে আমার দেখা হয়। তিনি বললেন হে সালামাহ, ওই মহিলাটি আমাকে দান করে দাও। তুমি তো অভিজাত বংশের লোক। আমি বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! আল্লাহর কসম ওকে আমার পছন্দ হয়েছিল কিন্তু আমি তার পর্দা উঠাইনি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চুপ থাকলেন। আমাকে ছেড়ে গেলেন। আগামীকাল আবার রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে আমার দেখা হয়। তিনি বললেন হে সালামাহ, ওই মহিলাটি আমাকে দান করে দাও। তুমি তো অভিজাত বংশের লোক। আমি বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ)! আল্লাহর কসম ওকে আমার পছন্দ হয়েছিল কিন্তু আমি তার পর্দা উঠাইনি। এটি আপনারই। আপনাকে দিয়ে দিলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওই মহিলাকে মক্কায় পাঠিয়ে দেন। তখন মক্কাবাসীদের হাতে কতক মুসলমান বন্দী অবস্থায় ছিল। ওই মহিলার বিনিময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ওদেরকে মুক্ত করে আনেন।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في سرية أبى بكر الصديق رضى الله عنه الى بنى فزارة
عن اياس بن سلمة بن الأكوع (7) قال حدثنى أبى قال خرجنا مع أبى بكر بن أبى قحافة أمره رسول الله صلى الله عليه وسلم علينا قال غزونا فزارة (8) فلما دنونا من الماء أمرنا أبو بكر فعرّسنا (9) قال فلما صلينا الصبح أمرنا أبو بكر فشننا الغارة (10) فقتلنا على الماء من قتلنا: قال سلمة ثم نظرت إلى عنق (1) من الناس فيه الذرية والنساء نحو الجبل وأنا أعدو في آثارهم فخشيت أن يسبقونى الى الجبل فرميت بسهم فوقع بينهم وبين الجبل، قال فجئت بهم أسوقهم الى أبى بكر رضى الله عنه حتى أتيته إلى الماء وفيهم امرأة من فزارة عليها قِشْع من أدّم (2) ومعها ابنة لها من أحسن العرب قال فنفلنى أبو بكر ابنتها قال فما كشفت لها ثوباً (3) حتى قدمت المدينة ثم بت فلم أكشف لها ثوباً قال فلقني رسول الله صلى الله عليه وسلم في السوق فقال لي يا سلمة هب لي المرأة، قال فقلت يا رسول الله والله لقد أعجبتني وما كشفت لها ثوباً فسكت رسول الله صلى الله عليه وسلم وتركنى حتى إذا كان في الغد لقيني رسول الله صلى الله عليه وسلم في السوق فقال يا سلمة هب لى المرأة لله أبوك (4) قال قلت يا رسول الله والله أعجبتنى وما كشفت لها ثوباً، وهى لك يا رسول الله، قال فبعث بها رسول الله صلى الله عليه وسلم الى اهل مكة وفي أيديهم أسارى من المسلمين ففداهم رسول الله صلى الله عليه وسلم بتلك المرأة
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান