মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৪৪
সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ ইব্‌ন আব্দুল্লাহ (ﷺ)-এর জীবনচরিত অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: কাদীদে অবস্থানকারী বানু মাল্লুহ গোত্রের উদ্দেশ্যে গালিব ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা)-এর অভিযান
৩৪৪. জুনদুব ইব্‌ন মাকীছ জুহানী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লায়ছ গোত্রের গালিব ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ কালবী কে কাদীদে অবস্থানকারী বানু মাল্লুহ গোত্রের উদ্দেশ্যে যুদ্ধ অভিযানে প্রেরণ করেন। তিনি ওদের উপর অতর্কিত হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। গালিব বের হল। আমি ওই কাফেলার অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। যেতে যেতে কুদায়দ পর্যন্ত পৌছার পর হারিস ইবন মালিকের সাক্ষাত পাই। সে হল আল বারসা লায়ছী এর পুত্র। আমরা তাকে পাকড়াও করি। সে বলল, আমি তো ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে এসেছি। গালিব ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ বললেন, ইসলাম গ্রহণের জন্যে এলেও একদিন একরাতের বন্দীদশা তোমার কোন ক্ষতি করবে না। আর যদি অন্য উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে আমরা তোমাকে প্রকৃত বন্দীরূপেই গ্রহণ করলাম। বস্তুত তাকে বেঁধে ফেলা হল। আমাদের সাথে থাকা একজন কৃষ্ণাঙ্গকে তার পাহারায় নিয়োজিত করা হল। তাকে বলা হল যে, আমরা ফিরে না আসা পর্যন্ত তুমি তার পাহারায় থাকবে। সে যদি ব্যতিক্রম কিছু করতে চায় তবে তার মাথা কেটে ফেলবে। আমরা এগিয়ে গেলাম। কাদীদ প্রান্তরে গিয়ে পৌছালাম। আসরের সময়ের পর সূর্যান্তলগ্নে আমরা সেখানে অবতরণ করি। আমার সাথীগণ আমাকে একটি উঁচু টিলাতে পাঠায়। আমি টিলার মাথায় গিয়ে উঠি যাতে স্থানীয় লোকদের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করতে পারি। আমি সেখানে শুয়ে পড়ি। তখন মাগরিবের সময়। ইতিমধ্যে স্থানীয়দের এক ব্যক্তি ঘর থেকে বের হয়। সে আমাকে টিলার উপর শুয়ে থাকতে দেখে। সে তার স্ত্রীকে বলল, আমি টিলার উপরে একটি দেহ দেখতে পাচ্ছি যা দিনের শুরুতে দেখিনি, তুমি তোমার পণ্যসামগ্রী পরীক্ষা করে দেখ না জানি কুকুর তার কিছু নিয়ে গিয়েছে। স্ত্রী তার পণ্যসামগ্রী পরীক্ষা করে বলল আমি তো কিছুই হারাইনি। আমার সব কিছু ঠিকঠাক আছে। সে বলল তাহলে আমার ধনুকটি এবং দুটো তীর দাও। স্ত্রী তা দিল। সে আমাকে লক্ষ্য করে একটি তীর নিক্ষেপ করল, সেটি আমার পাঁজরে গিয়ে পড়ল। আমি সেটি খুলে রেখে দিলাম কিন্তু একটুও নড়াচড়া করিনি। সে দ্বিতীয় তীরটি ছুঁড়ল। সেটি আমার কাঁধের শেষ ভাগে বিঁধল। আমি সেটি খুলে রাখলাম। একটুও নড়াচড়া করিনি। সে তার স্ত্রীকে বলল, আমার দুটো তীর তাকে আঘাত করেছে, এটি যদি কোন প্রাণী হতো তাহলে অবশ্যই নড়াচড়া করত। ভোরে গিয়ে তুমি তীর দুটো খুঁজে আনবে। একটি কুকুরের জন্যে যেন আমার দুটো তীর নষ্ট না হয়। আমরা রাতটা তাদেরকে অবকাশ দিয়েছিলাম। তারা বিশ্রাম গ্রহণ করেছিল। দুধ দোহন করেছিল। পশুপালকে গোয়ালে রেখেছিল এবং নিজেরা শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছিল। মধ্যরাতের কিছুটা অতিবাহিত হবার পর আমরা তাদের উপর আক্রমণ করি। ওদের যাদেরকে সম্ভব আমরা হত্যা করি এবং তাদের পশুপাল করায়ত্ত করে ফিরতি যাত্রা শুরু করি। ইতিমধ্যে ওদের ক্ষতিগ্রস্ত লোকেরা আত্মরক্ষার জন্যে চেঁচামেচি ও আহাজারি শুরু করে। আমরা দ্রুত ফিরে আসি এবং বন্দী হারিছ ইব্‌ন বারসা ও পাহারাদারের নিকট উপস্থিত হই। ওকে সাথে নিয়ে আমরা আবার যাত্রা শুরু করি। ইতিমধ্যে ওদের উদ্ধারকারী ও সাহায্যপ্রার্থী দল আমাদের কাছাকাছি এসে পৌঁছে যে, আমাদের আর বাঁচার উপায় ছিল না। আমাদের মাঝে আর তাদের মাঝে মাত্র একটি পার্বত্যভূমির ব্যবধান ছিল। তৎক্ষণাৎ একটি প্লাবন নেমে এল। এটি আমাদের ও তাদের মাঝে প্রাচীর হয়ে উঠল। এটি মহান আল্লাহ্ তাঁর ইচ্ছায় পাঠিয়েছিলেন। ইতিপূর্বে আমরা সেখানে কোন মেঘও দেখিনি বৃষ্টিও দেখিনি। এত স্রোতস্বিনী প্লাবন যে, কারো সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছিল না। আমরা দেখতে পেলাম, ওরা ঠিক দাঁড়িয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। কেউই এগিয়ে আসতে পারছিল না। আমরা দ্রুত গনীমত গুছিয়ে যাত্রা করলাম এবং সে স্থান ছেড়ে এলাম। ওরা আমাদের হাতে থাকা ধনসম্পদ নিয়ে যেতে সক্ষম হয়নি।
كتاب سيرة أول النبيين وخاتم المرسلين نبينا محمد بن عبد الله صلى الله عليه وسلم
باب ما جاء في سرية غالب بن عبد الله رضى الله عنه لبنى الملوح بالكديد
عن جندب بن مكيث (6) الجهنى قال بعث رسول الله صلى الله عليه وسلم غالب بن عبد الله الكلبى كلب ليث (7) إلى بنى ملوح بالكديد (8) وأمره أن يغير عليهم فخرج فكنت في سريته فمضينا حتى اذا كنا بقديد (9) لقينا بها الحرث بن مالك وهو ابن البرصاء الليثى فأخذناه فقال انما جئت لأسلم، فقال غالب بن عبد الله ان كنت انما جئت مسلماً فان يضرك رباط يوم وليلة، وان كنت على غير ذلك استوثقنا منك قال فأوثقه رباطاً ثم خلف عليه رجلاً أسود كان معنا فقال امكث معه حتى تمر عليك، فان نازعك فاجتز رأسه، قال ثم مضينا حتى أتينا بطن الكديد فنزلنا عشيشية بعد العصر، فبعنثنى أصحابى فى ربيئة (1) فعمدت الى تل يطعلنى على الحاضر فانبطحت عليه وذلك المغرب، فخرج رجل منهم فنظر فرآنى منبطحاً على التل فقال لامرأته والله انى لأرى على هذا التل سواداً ما رأيته أول النهار، فانظرى لا تكون الكلاب اجتزت بعض أوعيتك، قال فنظرت فقالت لا والله ما أفقد شيئاً، قال فناولينى قوسى وسهمين من كنانتى، قال فناولته فرمانى بسهم فوضعه في جنبى قال فنزعته فوضعته ولم أتحرك، ثم رمانى بآخر فوضعه في راس منكبى فنزعته فوضعته ولم أتحرك، فقال لامرأته والله لقد خالطه سهماى ولو كان دابة لتحرك، فاذا أصبحت فابتغى سهمىّ فخذيهما لا تمضغهما على الكلاب، قال وأمهلناهم حتى راحت رائحتهم حتى اذا اجتلبوا (2) وعطّنوا أو سكنوا (3) وذهبت عتمة من الليل (4) شننا عليهم الغارة (5) فقتلنا من قتلنا منهم واستقنا النعم فتوجهنا قافلين (6) وخرج صريح القوم الى قومهم مغوِّثاً (7) وخرجنا سراعاً حتى نمر بالحارث بن البرصاء وصاحبه فانطلقنا به معنا وأتانا صريخ الناس فجاءنا ما لا قبل لنا به حتى اذا لم يكن بيننا وبينهم إلا بطن الوادى أقبل سيل حال بيننا وبينهم بعثه الله تعالى من حيث شاء، ما رأينا قبل ذلك مطراً ولا حالاً، فجاء بما لا يقدر أحد أن يقوم عليه، فلقد رأيناهم وقوفاً ينظرون الينا ما يقدر أحد منهم أن يتقدم ونحن نحوزها (8) سراعاً حتى أسندناها في المشلل (9) ثم حدرناها عنا (10) فاعجزنا القوم بما في أيدينا.
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান