মা'আরিফুল হাদীস

হজ্ব অধ্যায়

হাদীস নং: ১৯৯
হজ্ব অধ্যায়
মুহাদ্দেসীনে কেরামের রীতি এই যে, তারা কিতাবুল হজ্বেই হারামাইন শরীফাইনের ফযীলত সম্পর্কীয় হাদীসগুলোও এনে থাকেন। এ নীতির অনুসরণেই এখানে হারামে মক্কা ও হারামে মদীনার ফযীলত সম্পর্কীয় হাদীসগুলো উল্লেখ হচ্ছে।

খানায়ে কা'বাকে আল্লাহ তা'আলা আপন ঘর সাব্যস্ত করেছেন। আর এ ঘরটি যেহেতু মক্কা শহরে অবস্থিত, এজন্য এ শহরটাকেও আল্লাহ্ তা'আলা নিরাপদ শহর নামে অভিহিত করেছেন। বিষয়টি যেন এমন, যেভাবে দুনিয়ার সমস্ত ঘরের মধ্যে আল্লাহর সাথে কা'বা ঘরের বিশেষ সম্বন্ধ রয়েছে, তেমনিভাবে পৃথিবীর সকল শহরের মধ্যে মক্কা শহরের সাথে আল্লাহর সম্বন্ধের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। তারপর এ সম্বন্ধের কারণেই এর প্রতিটি দিকে কয়েক মাইল পর্যন্ত নির্দিষ্ট এলাকাকে 'হারাম' (অর্থাৎ, অবশ্য সম্মানাই) সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং এর বিশেষ আদব ও বিধি-বিধান নির্ধারণ করা হয়েছে। এ আদব ও সম্মানের কারণেই এখানে এমন অনেক কর্মকান্ডই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, পৃথিবীর অন্য কোন স্থানে যেগুলো নিষিদ্ধ নয়। যেমন, এ সীমানার মধ্যে কারো জন্য কোন প্রাণী শিকার করার অনুমতি নেই, যুদ্ধ ও লড়াইয়ের অনুমতি নেই, বৃক্ষ কাটা- এমনকি কোন বৃক্ষের পাতা ছেঁড়ারও অনুমতি নেই। এ সম্মানিত এলাকার মধ্যে এসব জিনিসকে আদব ও সম্মানের পরিপন্থী পাপাচারী সুলভ অপরাধ সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এ হারাম এলাকার সীমানা প্রথমে হযরত ইবরাহীম (আঃ) নির্ধারণ করেছিলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের যুগে এরই নবায়ন করেছেন। আর বর্তমানে ঐসব সীমানা সবার কাছেই সুপরিচিত। হারাম সীমানার এ সম্পূর্ণ এলাকাটি যেন আল্লাহর সম্মানিত শহরের (মক্কার) বিরাট প্রাঙ্গন। আর এর আদব ও সম্মানও তেমনিভাবে ওয়াজিব, যেমনিভাবে আল্লাহর পবিত্র শহর মক্কার আদব ও সম্মান ওয়াজিব। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কয়েকটি হাদীস নিয়ে পাঠ করে নিনঃ
১৯৯. আইয়াশ ইবনে আবী রবী'আ মাখযুমী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আমার উম্মত যে পর্যন্ত মক্কার এ সম্মান পূর্ণভাবে বজায় রাখবে, সে পর্যন্ত তারা কল্যাণের উপর থাকবে। আর যখন তারা এটা বিনষ্ট করে দিবে, তখন ধ্বংস হয়ে যাবে। ইবনে মাজাহ
کتاب الحج
عَنْ عَيَّاشِ بْنِ أَبِي رَبِيعَةَ الْمَخْزُومِيِّ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « لَا تَزَالُ هَذِهِ الْأُمَّةُ بِخَيْرٍ ، مَا عَظَّمُوا هَذِهِ الْحُرْمَةَ ، حَقَّ تَعْظِيمِهَا ، فَإِذَا ضَيَّعُوا ذَلِكَ ، هَلَكُوا » (رواه ابن ماجه)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

বায়তুল্লাহ শরীফ, মক্কা মুকাররমা ও সম্পূর্ণ হারাম এলাকার মর্যাদা ও সম্মান রক্ষা করা যেন আল্লাহর সাথে বন্দেগীর সঠিক সম্পর্ক ও খাঁটি বিশ্বস্ততার লক্ষণ ও নিদর্শন। যে পর্যন্ত এ জিনিসটি উম্মতের মধ্যে সামগ্রিকভাবে বিদ্যমান থাকবে, আল্লাহ্ তা'আলা এ উম্মতের হেফাযত করবেন এবং তারা দুনিয়াতে শান্তি ও সম্মানের সাথে থাকবে। আর যখন উম্মতের এ আচরণ সামগ্রিকভাবে বদলে যাবে এবং খানায়ে কা'বা ও পবিত্র হারামের সম্মান ও মর্যাদার ব্যাপারে তাদের মধ্যে ত্রুটি এসে যাবে, তখন উম্মত আল্লাহ্ তা'আলার সাহায্য ও হেফাযতের অধিকার হারিয়ে ফেলবে। এর ফলে ধ্বংস ও অনিষ্ট তাদের উপর চেপে বসবে।

আমাদের এ যুগে সফরের বিভিন্ন সুবিধার কারণে এবং আরো অন্যান্য কিছু সুযোগের কারণে যদিও হজ্ব পালনকারীদের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে; কিন্তু সেখানে সারা পৃথিবী থেকে যেসব মুসলমান আগমন করে, তাদের কর্মধারা বলে যে, বায়তুল্লাহ্ ও পবিত্র হরমের আদব ও সম্মানের দিক দিয়ে উম্মতের মধ্যে সামগ্রিক বিবেচনায় বিরাট ত্রুটি এসে গিয়েছে। আর নিঃসন্দেহে এটাও ঐসব কারণসমূহের মধ্যে অন্যতম, যেগুলোর কারণে উম্মত পূর্ব থেকে পশ্চিম পর্যন্ত সারা পৃথিবীতে আল্লাহর বিশেষ সাহায্য থেকে বঞ্চিত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান