মা'আরিফুল হাদীস

আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়

হাদীস নং: ৪৯
আযকার এবং দাওয়াত অধ্যায়
সূরা কাহফ
৪৯. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, নবী করীম ﷺ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জুমুআর দিন সূরা কাহফ পাঠ করবে, পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত তার জন্য একটি নূর আলোকোজ্জ্বল হয়ে থাকবে। বায়হাকী
کتاب الاذکار والدعوات
عَنْ أَبِيْ سَعِيْدٍ أَنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَرَأَ سُوْرَةَ الَْكَهْفِ فِىْ يَوْمَ الجُمُعَةِ أَضَاءَ لَهُ النُّوْرُ مَا بَيْنَ الْجُمْعَتَيْنِ. (رواه البيهقى فى الدعوات الكبير)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, সূরা কাহফের জুমুআর দিনের সাথে বিশেষ সম্বন্ধ রয়েছে, যে কারণে এ দিন এ সূরা তেলাওয়াত করতে রাসূলুল্লাহ ﷺ বিশেষভাবে উৎসাহ দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, জুমুআর দিন সূরা কাহফ পাঠ করলে অন্তরে একটি বিশেষ নূর সৃষ্টি হবে, যার দীপ্তি ও বরকত পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। এ হাদীসটি হাকেমও তাঁর 'মুস্তাদরাক' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাদীসটির সনদ বিশুদ্ধ, তবে ইমাম বুখারী ও মুসলিম তাদের গ্রন্থে এটা উল্লেখ করেননি।

অন্য এক হাদীসে (যা ইমাম মুসলিমও রেওয়ায়ত করেছেন।) সূরা কাহফের প্রথম দশটি আয়াত সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি এগুলো মুখস্থ করবে ও পাঠ করবে, সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকবে। এর ব্যাখ্যায় হাদীস ব্যাখ্যাতাগণ লিখেছেন যে, সূরা কাহফের শুরুর দিকে যে ভূমিকামূলক বিষয়বস্তু রয়েছে এবং এরই সাথে আসহাবে কাহফের যে ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে, এতে প্রতিটি দাজ্জালী ফেতনার পূর্ণ প্রতিরোধ রয়েছে। তাই যে অন্তর এসব বাস্তবতা ও বিষয়বস্তুর বিশ্বাস অর্জন করে নিবে, যেগুলো সূরা কাহফের প্রাথমিক আয়াতগুলোতে বর্ণনা করা হয়েছে, সে অন্তর কখনো কোন দাজ্জালী ফেতনার দ্বারা প্রভাবান্বিত হবে না। অনুরূপভাবে আল্লাহর যেসব বান্দা এ আয়াতসমূহের এসব গুণাগুণ ও বরকতের প্রতি বিশ্বাস রেখে এগুলো আপন মন-মস্তিষ্কে বসিয়ে নিবে এবং এগুলো তেলাওয়াত করবে, আল্লাহ তা'আলা তাদেরকেও দাজ্জালী ফেতনা থেকে হেফাযত করবেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান