মা'আরিফুল হাদীস

কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৮
কল্যাণের দিকে আহ্বান: সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ অধ্যায়
কোন অবস্থায় সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ কাজের নিষেধের দায়িত্ব রহিত হয়
৩৮. হযরত আবূ সা'লাবা খুশানী (রা) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর বাণী یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا عَلَیۡکُمۡ اَنۡفُسَکُمۡ ۚ لَا یَضُرُّکُمۡ مَّنۡ ضَلَّ اِذَا اہۡتَدَیۡتُمۡ সম্পর্কে (এক ব্যক্তির জিজ্ঞাসার উত্তরে) তিনি বললেন, আমি এই আয়াত সম্পর্কে সেই সত্তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যিনি (এর অর্থ ও দাবি এবং আল্লাহর হুকুম সম্বন্ধে) সর্বাধিক জ্ঞাত ছিলেন (অর্থাৎ) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বললেন, (এ আয়াত সম্পর্কে ভুল বুঝ না) বরং তুমি 'আমর বিল মা'রূফ ওয়া নাহী আনিল মুনকার' সর্বদা করতে থাক। এমনকি যখন (সেই সময় এসে যায় যে) তুমি দেখবে, কৃপণতা ও ধন সঞ্চয়ের আবেগের আনুগত্য করা হচ্ছে, (আর আল্লাহ্ ও রাসূলের হুকুমের মুকাবিলায়) নিজের আত্মার প্রবৃত্তির আনুগত্য করা হচ্ছে, আর (আখিরাত ভুলে) কেবল দুনিয়াই উদ্দেশ্য করা হয়েছে, আর প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজ নিজ মতে চলে ও অহংকারের রোগী হয়ে যায় (যখন সাধারণ মানুষের অবস্থা এই হয়ে যাবে) তখন কেবল নিজের সত্তার কথাই চিন্তা কর। সাধারণ মানুষকে ছেড়ে দাও (তাদের ব্যাপার আল্লাহর নিকট সমর্পণ করে দাও) কেননা, তোমাদের পর এরূপ সময়ও আসবে যে, ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে দীনের ওপর স্থির থাকা (ও শরী'আতের ওপর চলা) এমন (কঠিন ও ধৈর্যের ব্যাপার) হবে যেমন হাতের মধ্যে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ লওয়া। সেই দিনগুলোতে তোমাদের ন্যায় শরী'আতের ওপর আমলকারী পঞ্চাশ ব্যক্তির আমলের সমান পুরস্কার ও সাওয়াব তারা পাবে। (জামি' তিরমিযী)
دعوت الی الخیر امربالمعروف نہی عن المنکر
عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيَّ فِي قوله تعالى {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَيْكُمْ أَنْفُسَكُمْ لاَ يَضُرُّكُمْ مَنْ ضَلَّ إِذَا اهْتَدَيْتُمْ} قَالَ أَمَا وَاللَّهِ سَأَلْتَ عَنْهَا خَبِيرًا سَأَلْتُ عَنْهَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: بَلِ ائْتَمِرُوا بِالْمَعْرُوفِ وَتَنَاهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ حَتَّى إِذَا رَأَيْتَ شُحًّا مُطَاعًا وَهَوًى مُتَّبَعًا وَدُنْيَا مُؤْثَرَةً وَإِعْجَابَ كُلِّ ذِي رَأْيٍ بِرَأْيِهِ فَعَلَيْكَ بِخَاصَّةِ نَفْسِكَ وَدَعِ الْعَوَامَّ فَإِنَّ مِنْ وَرَائِكُمْ أَيَّامًا الصَّبْرُ فِيهِنَّ مِثْلُ الْقَبْضِ عَلَى الْجَمْرِ لِلْعَامِلِ فِيهِنَّ مِثْلُ أَجْرِ خَمْسِينَ رَجُلاً يَعْمَلُونَ مِثْلَ عَمَلِكُمْ. (رواه الترمذى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত আবু সা'আলাবা খুশানী (রা) কে আবূ উমাইয়া শা'বানী নামক এক তাবিঈ সূরা মায়িদার সেই ১০৫নং আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি এই উত্তর দেন যে, আমি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই আয়াত সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। (কেননা, এর প্রকাশ্য শব্দাবলিতে এ সন্দেহ জাগ্রত হতে পারে যে, যদি আমরা স্বয়ং আল্লাহ্ ও রাসূলের হিদায়াত অনুযায়ী চলি তবে অন্য লোকদের দীনের চিন্তা এবং 'আমর বিল মা'আরূফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকার' আমাদের জিম্মায় নয়) তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে উত্তর দিয়েছিলেন তা হাদীসে উল্লিখিত হয়েছে।

মোট কথা, নিজের দীনের চিন্তার সাথে আল্লাহর অন্যান্য বান্দাদের দীনের চিন্তা এবং এ ধারাবাহিকতায় আমর বিল মা'আরূফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকারও দীনী দায়িত্ব এবং আল্লাহর অভিপ্রায়। তাই সর্বদা তা করতে থাক। হ্যাঁ, যখন উম্মতের অবস্থা এই দাঁড়াবে যে, বখিলী ও কৃপণতা স্বভাবে পরিণত হয়ে দাঁড়াবে, সম্পদের পূজা হতে থাকবে এবং আল্লাহ্ ও রাসূলের আহকামের স্থলে কেবল আত্ম প্রবৃত্তির আনুগত্য হতে থাকবে এবং আখিরাতকে ভুলে দুনিয়াকেই উদ্দেশ্য বানিয়ে নেবে, আত্মগর্ব ও স্বেচ্ছাধীন চলার মহামারি ব্যাপক হবে, এই মন্দ পরিবেশে যেহেতু আমর বিল মা'আরূফ ওয়ান নাহি আনিল মুনকারের প্রভাব ও ফায়দা এবং জনগণের সংশোধনের আশা থাকে না তখন জনগণের চিন্তা ছেড়ে দিয়ে কেবল নিজের সংশোধন ও গুনাহ্ থেকে হিফাযতের চিন্তা করাই উচিত। শেষে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, এমন যুগ আসবে যখন দীনে স্থির থাকা, আল্লাহ্ ও রাসূলের আহকামের ওপর চলা, হাতে আগুন লওয়ার মত কষ্টদায়ক ও ধৈর্য পরীক্ষার বিষয় হবে। প্রকাশ থাকে যে, এরূপ অবস্থায় নিজের দীনের ওপর স্থির থাকাই বিরাট জিহাদ হবে। আর অন্যদের সংশোধনের চিন্তাও এ ধারাবাহিকতায় আমর বিল মা'আরূফ ওয়া নাহি আনিল মুনকারের দায়িত্ব বাকি থাকবে না।

এরূপ প্রতিকূল পরিবেশ ও কঠিন অবস্থায় আল্লাহ্ ও রাসূলের নির্দেশাবলির ওপর ধৈর্য ও দৃঢ়তার সাথে আমলকারীদের সম্বন্ধে তিনি বলেন, তারা তোমাদের ন্যায় পঞ্চাশ আমলকারীর সমান পুরস্কার ও সাওয়াব পাবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান