মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

১০- যাবতীয় দোয়া-যিক্‌র

হাদীস নং: ২৩৪০
- যাবতীয় দোয়া-যিক্‌র
২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ক্ষমা ও তাওবাহ্
২৩৪০। হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলিয়াছেনঃ সে বাস্তবে পুনঃ পুনঃ অপরাধ করে নাই যে ক্ষমা চাহিয়াছে, যদিও সে দৈনিক সত্তর বার উহা করিয়া থাকে। —তিরমিযী ও আবু দাউদ
كتاب الدعوات
وَعَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا أَصَرَّ مَنِ اسْتَغْفَرَ وَإِنْ عَادَ فِي الْيَوْمِ سَبْعِينَ مَرَّةً» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. ‘ক্ষমা চাহিয়াছে' – অর্থাৎ, ক্ষমা চাহিয়াছে এবং ভবিষ্যতে না করার সংকল্প করিয়াছে, যদিও পরে সে ভুলিয়া গিয়াছে এবং শয়তানের উস্কানিতে উহাতে পতিত হইয়াছে।

২. গুনাহর পুনরাবৃত্তি অর্থাৎ নির্দ্বিধায় নির্বিকারে গুনাহ করে যাওয়া এবং এর উপর অবিচল থাকা অত্যন্ত দুর্ভাগ্য এবং মন্দ পরিণতির লক্ষণ। এমন অভ্যস্ত পাপী বা দাগী অপরাধী যেন আল্লাহর রহমতের যোগ্যই নয়। এ হাদীসে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হলো যে, বান্দা যদি গুনাহর পর ইস্তিগফার অর্থাৎ ক্ষমা প্রার্থনা করে তাহলে বার বার তার গুনাহ করা সত্ত্বেও সে গুনাহের পুনরাবৃত্তিকারী বলে গণ্য হবে না। তবে মনে রাখতে হবে যে, ইস্তিগফার শুধু মুখ বা রসনা থেকে উচ্চারিত শব্দের নাম নয়, বরং তা অন্তরের একটি তলব- যবান বা বাসনা যার ভাষ্যকার মাত্র। ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা যদি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে হয়, তা হলে সত্তর বার গুনাহ করা সত্ত্বেও নিঃসন্দেহে বান্দা আল্লাহর রহমতের যোগ্য এবং এমতাবস্থায় তাকে গুনাহ্ পুনরাবৃত্তিকারী দাগী অপরাধী বলা যাবে না।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান