মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)
২৩- পোষাক-পরিচ্ছদের বর্ণনা
হাদীস নং: ৪৪৬৬
- পোষাক-পরিচ্ছদের বর্ণনা
৩. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - চুল আঁচড়ানো
৪৪৬৬। হযরত আয়েশা (রাঃ) হইতে বর্ণিত, একদা (আবু সুফিয়ানের স্ত্রী) হিন্দা বিনতে উতবা বলিলেন, হে আল্লাহর নবী! আপনি আমাকে বায়আত করাইয়া নিন। তখন তিনি বলিলেনঃ আমি ততক্ষণ পর্যন্ত তোমাকে বায়আত করাইব না, যতক্ষণ না তুমি তোমার হাতলীদ্বয় পরিবর্তন করিয়া লইবে। কেননা, তোমার হাতের তালুদ্বয়কে দেখিতে যেন হিংস্র জন্তুর থাবার ন্যায় দেখাইতেছে। —আবু দাউদ
كتاب اللباس
وَعَن عائشةَ أَنَّ هِنْدًا بِنْتَ عُتْبَةَ قَالَتْ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ بَايِعْنِي فَقَالَ: «لَا أُبَايِعُكِ حَتَّى تُغَيِّرِي كَفَّيْكِ فَكَأَنَّهُمَا كَفَّا سَبُعٍ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এই হিন্দা বিনতে উতবা আবু সুফিয়ানের স্ত্রী ছিলেন। মক্কা বিজয়ের দিন তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সে দিনই কুরায়শের অন্যান্য মহিলাদের সাথে প্রথমে বায়‘আত হন। হযরত আয়েশা রাযি. এর এ হাদীসে হিন্দার পক্ষ থেকে যে বায়‘আতের অনুরোধের উল্লেখ করা হয়েছে, বাহ্যত এটা পরবর্তীতে কোন সময় তিনি করে ছিলেন এবং এ সময়ই হুযুর (ﷺ) তাকে হাতে মেহেদী লাগানোর এ নির্দেশ দিয়েছিলেন। অন্য কোন কোন রেওয়ায়তে আরো কিছু মহিলার উল্লেখ রয়েছে, যাদেরকে হুযুর (ﷺ) মেহেদী ব্যবহারের অনুরূপ তাকীদ দিয়েছিলেন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ নির্দেশ ও শিক্ষা থেকে ইসলামী শরী‘আত এ দৃষ্টিভঙ্গি জানা গেল যে, মহিলাদের বৈধ সীমা পর্যন্ত সাজ-সজ্জার উপকরণ গ্রহণ করা উচিত। একথা স্পষ্ট যে, এসব জিনিস তাদের ও তাদের স্বামীদের মধ্যে ভালোবাসা ও আন্তরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির কারণ হবে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ নির্দেশ ও শিক্ষা থেকে ইসলামী শরী‘আত এ দৃষ্টিভঙ্গি জানা গেল যে, মহিলাদের বৈধ সীমা পর্যন্ত সাজ-সজ্জার উপকরণ গ্রহণ করা উচিত। একথা স্পষ্ট যে, এসব জিনিস তাদের ও তাদের স্বামীদের মধ্যে ভালোবাসা ও আন্তরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির কারণ হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)