মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত শরীফ)

২৭- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়

হাদীস নং: ৫২০১
- নম্রতা ও যুহদের অধ্যায়
তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৫২০১। হযরত উকবা ইবনে আমের (রাঃ) নবী (ﷺ) হইতে বর্ণনা করেন, তিনি বলিয়াছেনঃ যখন তুমি দেখিবে কোন বান্দার গুনাহ্ ও নাফরমানী সত্ত্বেও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ্ তাহাকে দুনিয়ার প্রিয় বস্তু দান করিতেছেন, তখন বুঝিয়া লও যে, প্রকৃতপক্ষে ইহা অবকাশমাত্র। অতঃপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) (দৃষ্টান্তস্বরূপ) এই আয়াতটি তেলাওয়াত করিলেনঃ “যখন তাহারা (কাফেরগণ) যে সকল উপদেশ তাহাদিগকে দেওয়া হইয়াছিল উহা ভুলিয়া গেল, তখন আমি তাহাদের জন্য প্রত্যেক বস্তুর দ্বার উন্মুক্ত করিয়া দেই, অবশেষে যখন তাহারা প্রাপ্ত জিনিসে অত্যধিক আনন্দিত হইয়া পড়ে এমতাবস্থায় আমি তাহাদিগকে হঠাৎ পাকড়াও করি এবং তাহারা হতাশ হইয়া পড়ে।” –আহমদ
كتاب الرقاق
وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا رَأَيْتَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُعْطِي الْعَبْدَ مِنَ الدُّنْيَا عَلَى مَعَاصِيهِ مَا يُحِبُّ فَإِنَّمَا هُوَ اسْتِدْرَاجٌ» ثُمَّ تَلَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (فَلَمَّا نسوا ماذكروا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هم مبلسون) رَوَاهُ أَحْمد

হাদীসের ব্যাখ্যা:

১. মূল শব্দ استدراج ‘এস্তেদরাজ' অর্থ অবকাশ বা প্রশ্রয় দেওয়া। অর্থাৎ, অন্যায় কাজে লিপ্ত থাকা সত্ত্বেও শাস্তি না দিয়া অগ্রসর হওয়ার সুযোগ দেওয়া, অবশেষে যখন নাফরমানী চরম সীমায় পৌঁছে তখন আযাব ও গযবে নিপতিত হয়। কাজেই বুঝিতে হইবে, নাফরমানীতে লিপ্ত থাকা সত্ত্বেও বাহ্যিক সুখ দেখা গেলেও পরিণামে রহিয়াছে চরম দুঃখ ও লাঞ্ছনা। ইহাকেই বলা হয় এস্তেদরাজ (অবকাশ)।

২. পাপী ব্যক্তি ও কওমকে অনেক সময় অঢেল ধন-দৌলত দান করা হয়। এজন্যে অনেকে অনেক ধরনের চিন্তা করেন। কেউ মনে করেন তারা যোগ্য, তাই তাদের উপর রহমতের বারি বর্ষিত হয়েছে। আবার কেউ মনে করেন তারা যা করছে তা দূষণীয় নয়। আবার কেউ কেউ দারুণ শঙ্কা ও দ্বন্দ্বে ভোগেন এবং প্রশ্ন করেন, আল্লাহ কেন পাপী ও যালিম ব্যক্তি বা কওমকে ধন-দৌলত, প্রাচুর্য ও প্রভাব-প্রতিপত্তি দান করেন?

অনেক ক্ষেত্রে পাপী ও আল্লাহদ্রোহীদেরকে ধ্বংস করার জন্য ধন-দৌলত দান করা হয়। ধন-দৌলত লাভের পর তারা আরও বেশি আল্লাহদ্রোহিতা শুরু করে। তাদের পাপের খাতা সম্পূর্ণ ভরে যায়। ধন-দৌলত ও প্রাচুর্য লাভ করার পর তারা আরাম-আয়েশের মধ্যে নিজেদেরকে নিমজ্জিত রাখে ও অর্থের দ্বারা মানুষ সমাজের ধ্বংস করে। এভাবে আর্থিক দিক দিয়ে অগ্রসর করে দেয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য হল তাদেরকে শাস্তি প্রদান করা। শাস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে সম্মুখে অগ্রসর করাকে আলোচ্য হাদীসে 'ইস্তেদরাজ' বলা হয়েছে।

স্তরে স্তরে বা পর্যায়ক্রমে কোন কাজ করাকে ইস্তেদরাজ বলা হয়। দীনের পরিভাষায় পাপী ব্যক্তি বা কওমকে কঠিন শাস্তি প্রদানের জন্য যে অবকাশ দেয়া হয়, বা আরো পাপ করার যে সুযোগ দেয়া হয়, তাকে ইস্তেদরাজ বলে। কুরআন শরীফে উল্লিখিত مَهِّلْهُمْ قَلِيلًا “তাদেরকে সামান্য অবকাশ দান কর” একই পটভূমিতে ব্যবহার করা হয়েছে।
২. ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান