শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ

৬. হজ্বের অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৯৯২
আন্তর্জাতিক নং: ৩৯৯৪
হজ্বের অধ্যায়
কুরবানীর রাতে ফজর শুরুর পূর্বে জামরা আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করা
৩৯৯২-৯৪। ইউনুস (রাহঃ)..... জাবির ইব্ন আব্দুল্লাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা:) কুরবানীর দিন জামরা আকাবায় চাশতের সময় কংকর নিক্ষেপ করেছেন। অন্য দিনগুলোতে মধ্যাহ্নের পর কংকর নিক্ষেপ (রমী) করেছেন।

আহমদ ইব্ন দাউদ (রাহঃ)..... জাবির (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী (সা:) থেকে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন।

মুহাম্মাদ ইব্ন খুযায়মা (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী (সা:) থেকে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন।
বস্তুত এতে মুসলমানগণ জ্ঞাত হয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা:) যে সময় কংকর নিক্ষেপ করেছেন সেটাই তাঁদের সময়। আমরা গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করার প্রয়াস পাব যে, তিনি দুর্বল লোকদেরকে এর পূর্বে কংকর নিক্ষেপ করার অনুমতি দিয়েছেন কি-না ? আমরা লক্ষ্য করেছি যে, যখন তিনি (সা:) বানূ হাশিম-এর দুর্বল লোকদেরকে মিনার দিকে আগে পাঠিয়ে দেন তখন তাদের দিকে অগ্রসর হয়ে নির্দেশ দিলেন, সূর্যোদয়ের পরেই কংকর নিক্ষেপ করবে। এতে আমরা জ্ঞাত হলাম যে, তিনি দুর্বল লোকদেরকে শক্তিশালীদের থেকে আগে কংকর নিক্ষেপের অনুমতি দেন নি এবং তাদের সকলের জন্য কংকর নিক্ষেপ করার সময় একটি-ই। আর সেটা সূর্যোদয়ের পরে। বস্তুুত রিওয়ায়াতসমূহের নীতি অনুযায়ী এই অনুচ্ছেদের এটাই সঠিক বিশ্লেষণ্ আর ‍যুক্তির নিরিখে এর বিশ্লেষন হলো নিম্নরুপঃ
আমরা লক্ষ্য করছি যে, তারা (ফকীহ্গণ) এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন যে, যে ব্যক্তি দ্বিতীয় দিনের কংকর ইয়াওমুন্ নাহর (১০ই যিলহজ্জ)-এর পরে ফজর শুরু হওয়ার পূর্বে রাতে কংকর নিক্ষেপ করে এটা তার জন্য যথেষ্ট হবে না, যতক্ষণ না সে দিনে নিক্ষেপ করবে। তাই যুক্তির দাবি হল যে, কুরবানীর দিনে কংকর নিক্ষেপ করার বিধানও অনুরূপ হবে যে, সেটা সেই দিনেই নিক্ষেপ করা জায়েয হবে। যদিও এ ব্যাপারে দিনের কিছু অংশ অপর কিছু অংশ অপেক্ষা উত্তম। যেমনিভাবে দ্বিতীয় দিনের কিছু অংশের কংকর নিক্ষেপ করা অপর কিছু অংশ অপেক্ষা উত্তম। এটা ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ), ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ) ও ইমাম মুহাম্মাদ (রাহঃ)-এর অভিমত।
আমি আব্দুল্লাহ ইব্ন সুওয়াইদ (রাহঃ)-এর কলমে লিখিত তাঁর পাণ্ডূলিপিতে পেয়েছি যে, তিনি আসরাম (রাহঃ) থেকে রিওয়ায়াত করেন। আব্দুল্লাহ ইব্ন সুওয়াইদ (রাহঃ) বলেন, আবু বাকর আসরাম (রাহঃ)-এর অনুমতি প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রদান করেছেন, যে কি-না তাঁর পাণ্ডূলিপি থেকে উদ্ধৃত করবে। আব্দুল্লাহ ইব্ন সুওয়াইদ (রাহঃ) তাঁর সূত্রে আমাদেরকেও এর অনুমতি প্রদান করেছেন। আসরাম (রাহঃ) বলেন, ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আহমদ ইব্ন হাম্বল (রাহঃ) আমাকে বলেছেন, আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন আবু মুআবিয়া (রাহঃ)।
كتاب مناسك الحج
94- 3992 - حَدَّثَنَا يُونُسُ , قَالَ: ثنا ابْنُ وَهْبٍ , قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ جُرَيْجٍ , عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ , عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ يَوْمَ النَّحْرِ ضُحًى , وَمَا سِوَاهَا بَعْدَ الزَّوَالِ "

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ دَاوُدَ , قَالَ: ثنا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ , قَالَ: ثنا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ , عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ , عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ , عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , مِثْلَهُ

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خُزَيْمَةَ , قَالَ: ثنا حَجَّاجٌ , قَالَ: ثنا حَمَّادٌ , قَالَ: أنا ابْنُ جُرَيْجٍ , عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ , عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , مِثْلَهُ فَعَلِمَ الْمُسْلِمُونَ بِذَلِكَ أَنَّ الْوَقْتَ الَّذِي رَمَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهِ الْجِمَارَ , هُوَ وَقْتُهَا. فَأَرَدْنَا أَنْ نَنْظُرَ , هَلْ رَخَّصَ لِلضَّعَفَةِ فِي الرَّمْيِ قَبْلَ ذَلِكَ أَمْ لَا؟ فَوَجَدْنَاهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ تَقَدَّمَ إِلَى ضَعَفَةِ بَنِي هَاشِمٍ , حِينَ قَدَّمَهُمْ إِلَى «مِنًى» أَنْ لَا تَرْمُوا الْجَمْرَةَ إِلَّا بَعْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ. فَعَلِمْنَا بِذَلِكَ أَنَّ الضَّعَفَةَ لَمْ يُرَخِّصْ لَهُمْ فِي ذَلِكَ , أَنْ يَتَقَدَّمُوا عَلَى غَيْرِ الضَّعَفَةِ , وَأَنَّ وَقْتَ رَمْيِهِمْ جَمِيعًا , وَقْتٌ وَاحِدٌ , وَهُوَ بَعْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ. فَهَذَا هُوَ وَجْهُ هَذَا الْبَابِ , مِنْ طَرِيقِ الْآثَارِ. وَأَمَّا مِنْ طَرِيقِ النَّظَرِ , فَإِنَّا قَدْ رَأَيْنَاهُمْ أَجْمَعُوا أَنَّ رَمْيَ جَمْرَةِ الْعَقَبَةِ لِلْيَوْمِ الثَّانِي بَعْدَ يَوْمِ النَّحْرِ فِي اللَّيْلِ قَبْلَ طُلُوعِ الْفَجْرِ , أَنَّ ذَلِكَ لَا يَجْزِيهِ حَتَّى يَكُونَ رَمْيُهُ لَهَا فِي يَوْمِهَا. فَالنَّظَرُ عَلَى ذَلِكَ أَنْ يَكُونَ كَذَلِكَ هِيَ فِي يَوْمِ النَّحْرِ , لَا يَجُوزُ أَنْ تُرْمَى إِلَّا فِي يَوْمِهَا , وَإِنْ كَانَ بَعْضُ يَوْمِهَا فِي ذَلِكَ أَفْضَلَ مِنْ بَعْضِ الْيَوْمِ الثَّانِي الرَّمْيُ فِيهِ أَفْضَلُ مِنَ الرَّمْيِ فِي بَعْضِهِ , وَهَذَا قَوْلُ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ , وَمُحَمَّدٍ رَحِمَهُمُ اللهُ تَعَالَى. [ص:221] وَقَدْ وَجَدْتُ فِي كِتَابِ عَبْدِ اللهِ بْنِ سُوَيْدٍ بِخَطِّهِ عَنِ الْأَثْرَمِ , مِمَّا ذَكَرَ لَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ سُوَيْدٍ أَنَّ الْأَثْرَمَ أَجَازَهُ لِمَنْ كَتَبَهُ مِنْ خَطِّهِ ذَلِكَ , وَأَجَازَهُ لَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ سُوَيْدٍ عَنِ الْأَثْرَمِ , يَعْنِي أَبَا بَكْرٍ قَالَ: قَالَ لِي أَبُو عَبْدِ اللهِ , يَعْنِي أَحْمَدَ بْنَ حَنْبَلٍ رَحِمَهُ اللهُ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এটাই সুন্নত যে, ১০ই যিলহজ্ব জামরায়ে আকাবায় পাথর নিক্ষেপের কাজ দুপুরের আগেই করে নেবে, আর পরবর্তী দিনগুলোতে সূর্য হেলে যাওয়ার পর।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)
ত্বহাবী শরীফ - হাদীস নং ৩৯৯২ | মুসলিম বাংলা