শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১২. জিহাদের বিধানাবলী সম্পর্কিত
হাদীস নং: ৫৪৫৯
জিহাদের বিধানাবলী সম্পর্কিত
২০. অধ্যায়ঃ রাসূলুল্লাহ্ ﷺ কর্তৃক মক্কা বলপূর্বক বিজয় করার প্রমাণ
৫৪৫৯। ফাহাদ ইবনে সুলায়মান (রাহঃ) ..... মাসলামা ইবনে নুআইম (রাহঃ) তৎ পিতা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট ছিলাম, যখন তার কাছে মুসায়লামার দূত তার পত্র বহন করে নিয়ে আসে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ দুই দূতকে বলছিলেন, তােমরাও কি সেই কথা বলছ, যা সে (মুসায়লামা) বলে? তারা বল, জ্বী হ্যাঁ! অনন্তর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, যদি দূতদেরকে হত্যা না করার নিয়ম না হত তবে আমি তােমাদের দু'জনের গর্দান উড়িয়ে দিতাম।
ঐ কথার সপক্ষে দলীল হলাে যে, বানূ বকর এবং খােযা'আর মাঝে লড়াই হওয়া এবং কুরায়শ কর্তৃক তাদের সাহায্য করার কারণে মক্কাবাসীদের থেকে সন্ধি বাতিল হয়ে গেছে। আবু সুফইয়ান কর্তৃক চুক্তির নবায়ন করা এবং সন্ধির দৃঢ়তা তলব করা যখন মক্কাবাসীরা তার কাছে এটা দাবি করেছিলাে। যদি সন্ধি খতম না হয়ে যেত তবে তাদের এটার প্রয়ােজন ছিলাে না এবং যখন আবু বকর (রাযিঃ), উমার ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ), আলী (রাযিঃ) ও রাসূল (ﷺ) এর কন্যা ফাতিমা (রাযিঃ)-কে আবু সুফইয়ান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যা সওয়াল করার সওয়াল করেছে তাহলে তারা জিজ্ঞাসা করতেন যে, তােমার এরং মক্কাবাসীদের এর প্রয়ােজনীয়তা কি, তারা তাে সকলে সন্ধি এবং নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে। এখন আর তাদের এছাড়া অন্য কোন সন্ধির প্রয়ােজন নেই। অতঃপর এই আমর ইবনে সালিম কবীলা খােযা’আর একজন, যিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে ওই (কবিতা গুচ্ছের উপর ভিত্তি) অঙ্গীকার শুনাচ্ছেন যা আমরা ইকরামা (রাহঃ) ও যুহরী (রাহঃ)-এর রিওয়ায়াতে উল্লেখ করেছি এবং তিনি এ ব্যাপারে তার কাছে সাহায্য চেয়েছেন। ওই সমস্ত কবিতা গুচ্ছের অধীনে তিনি তাকে বলছেনঃ
অবশ্যই কুরায়শরা তােমার সঙ্গে কৃত চুক্তির বিরােধিতা করছে।
তারা তােমার সঙ্গে কৃত মজবুত ও সুদৃঢ় অঙ্গীকার ভেঙ্গে দিয়েছে।
আর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার এ কথা অস্বীকার করেন নাই। অতঃপর আমর ইবনে সালিম তাকে ওই কথা স্পষ্ট করে বিবৃত করেন, যার কারণে তার সঙ্গে কুরায়শদের কৃত অঙ্গীকার ভেঙ্গে গিয়েছে। তিনি বলছেনঃ
তারা রাতের শেষ প্রহরে (অন্ধকারে) ‘ওয়াতীর' জায়গায় আমাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করেছে। এবং তারা আমাদেরকে রুকু-সিজদারত অবস্থায় হত্যা করেছে। তিনি এ বিষয়ে কুরায়শদের ব্যতীত বানূ নাফাসা প্রমুখ কাউকে উল্লেখ করেন নাই। অতঃপর হাসসান ইবনে সাবিত (রাযিঃ) তার ঐ কবিতায় এর উল্লেখ করেছেন, যা আমরা তার সূত্রে ইকরামা (রাহঃ)-এর রিওয়ায়াতে নকল করেছি। এর বিষয়বস্তু সেটাই, যা আমর ইবনে সালিম ঐ কবিতায় বিকৃত করেছেন যা তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সম্মুখে আবৃত্তি করেছেন।
বস্তুত এতে প্রমাণিত হয় যে, বানূ কা'ব-এর লোকদের যে দুর্ভোগ পােহাতে হয়েছে, তা কুরায়শ কর্তৃক ঐ চুক্তিভঙ্গের কারণে পােহাতে হয়েছে, যা তারা মক্কা উপত্যকায় সম্পাদন করেছিলাে। তুমি কি লক্ষ্য করছনা যে, তিনি (আমর ইবনে সালিম) বলছেনঃ
বানূ কা'ব-এর কিছু লােক যাদের গর্দান কর্তিত হয়েছে, মক্কা উপত্যকায় আমার নিকট এসেছে এবং সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। অতঃপর তিনি কয়েদীদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন যা আমরা উল্লেখ করেছি। তাদের মধ্যে কুরায়শ এবং তাদের কিছু লােক ছিলাে। তিনি বলেনঃ
আফসােস, আমি জানতে পারতাম, (কতই ভাল হত) যে, আমার সাহায্যের উদ্যামতা, বদলা নেয়ার অনুভূতি সুহায়ল ইবনে আমর (যদি) পেত। আর এই সুহায়ল ইবনে আমর সেই সমস্ত লােকদের অন্যতম, যাদের সঙ্গে রাসূলুল্লাহু (ﷺ) সন্ধি করেছিলেন।
থাকল এ বিষয় যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের পর মাল বণ্টন করেন নাই, এবং কাউকে গােলামও বানান নাই এবং ভূমিকে গনীমতও সাব্যস্ত করেন নাই। সুতরাং তিনি সেই সমস্ত লােকদেরকে কিভাবে গােলাম বানাবেন যাদের উপর তাদের জান-মালের বিষয়ে ইহসান করেছিলেন।
নবী (ﷺ) কর্তৃক তাতে হস্তক্ষেপ না করার ব্যাপারে আলিমগণ মতবিরােধ করেছেন। কতিপয়ের মতে তিনি ওটা (মক্কা) কে বলপূর্বক বিজয় করেছেন। তারা বলেন, তিনি তাদের উপর ইহুসান করে ওটাকে ওভাবে ছেড়ে দিয়েছেন। যেমন তাদের জান ও অপরাপর মালসমূহের ব্যাপারে ইহসান করেছেন। এই মতামত পােষণকারীদের মধ্যে ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ) অন্যতম। কেননা তার মাযহাব হলাে যে, মক্কার ভূমিতে মালিকানা জারী হবে, যেভাবে অপরাপর সমগ্র ভূমিতে মালিকানা জারি হয়। পক্ষান্তরে অপরাপর কতক আলিম বলেন যে, মক্কার ভূমি সেই সমস্ত ভুমিসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়, যার উপর গনীমত প্রবর্তিত হয়। কেননা তাদের মতে মক্কার ভূমিতে মালিকানা জারি হতে পারে না, বা কেউ মালিক হতে পারে না। এই মতের অনুসারীদের মধ্যে ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) ও ইমাম সুফইয়ান সওরী (রাহঃ) অন্যতম।
বস্তুত আমরা এই অনুচ্ছেদে (বিষয়ে) ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) ও ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ) তাদের দুজনের মাযহাবের উপর তাদের রিওয়ায়াতকৃত রিওয়ায়াতসমূহকে ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ে নকল করেছি। আহকাম বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত বিভিন্ন রিওয়ায়াতের বিষয়বস্তু ও মর্ম স্পষ্টরূপে বর্ণনা করেছি। এখানে সেগুলাে পুনঃ বর্ণনা করার প্রয়ােজন নেই।
অতঃপর আলােচনা সেই বিষয়কে সাব্যস্ত করার দিকে ফিরে গেছে যে, মক্কা মুকাররমা বলপূর্বক বিজিত হয়েছে। যদি তােমরা এটা বল যে, যুহরী (রাহঃ) ও ইকরামা (রাহঃ)-এর যে দুই রিওয়ায়াত আমরা উল্লেখ করেছি তা 'মুনকাতি' বা বিচ্ছিন্ন (সনদসূত্রে বর্ণিত)।
তােমাদেরকে (উত্তরে) বলা হবে যে, ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে, যা আমাদের বর্ণনাকৃত বিষয়ের সপক্ষে প্রমাণ বহন করেঃ
ঐ কথার সপক্ষে দলীল হলাে যে, বানূ বকর এবং খােযা'আর মাঝে লড়াই হওয়া এবং কুরায়শ কর্তৃক তাদের সাহায্য করার কারণে মক্কাবাসীদের থেকে সন্ধি বাতিল হয়ে গেছে। আবু সুফইয়ান কর্তৃক চুক্তির নবায়ন করা এবং সন্ধির দৃঢ়তা তলব করা যখন মক্কাবাসীরা তার কাছে এটা দাবি করেছিলাে। যদি সন্ধি খতম না হয়ে যেত তবে তাদের এটার প্রয়ােজন ছিলাে না এবং যখন আবু বকর (রাযিঃ), উমার ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ), আলী (রাযিঃ) ও রাসূল (ﷺ) এর কন্যা ফাতিমা (রাযিঃ)-কে আবু সুফইয়ান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যা সওয়াল করার সওয়াল করেছে তাহলে তারা জিজ্ঞাসা করতেন যে, তােমার এরং মক্কাবাসীদের এর প্রয়ােজনীয়তা কি, তারা তাে সকলে সন্ধি এবং নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে। এখন আর তাদের এছাড়া অন্য কোন সন্ধির প্রয়ােজন নেই। অতঃপর এই আমর ইবনে সালিম কবীলা খােযা’আর একজন, যিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে ওই (কবিতা গুচ্ছের উপর ভিত্তি) অঙ্গীকার শুনাচ্ছেন যা আমরা ইকরামা (রাহঃ) ও যুহরী (রাহঃ)-এর রিওয়ায়াতে উল্লেখ করেছি এবং তিনি এ ব্যাপারে তার কাছে সাহায্য চেয়েছেন। ওই সমস্ত কবিতা গুচ্ছের অধীনে তিনি তাকে বলছেনঃ
অবশ্যই কুরায়শরা তােমার সঙ্গে কৃত চুক্তির বিরােধিতা করছে।
তারা তােমার সঙ্গে কৃত মজবুত ও সুদৃঢ় অঙ্গীকার ভেঙ্গে দিয়েছে।
আর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার এ কথা অস্বীকার করেন নাই। অতঃপর আমর ইবনে সালিম তাকে ওই কথা স্পষ্ট করে বিবৃত করেন, যার কারণে তার সঙ্গে কুরায়শদের কৃত অঙ্গীকার ভেঙ্গে গিয়েছে। তিনি বলছেনঃ
তারা রাতের শেষ প্রহরে (অন্ধকারে) ‘ওয়াতীর' জায়গায় আমাদের বিরুদ্ধে আক্রমণ করেছে। এবং তারা আমাদেরকে রুকু-সিজদারত অবস্থায় হত্যা করেছে। তিনি এ বিষয়ে কুরায়শদের ব্যতীত বানূ নাফাসা প্রমুখ কাউকে উল্লেখ করেন নাই। অতঃপর হাসসান ইবনে সাবিত (রাযিঃ) তার ঐ কবিতায় এর উল্লেখ করেছেন, যা আমরা তার সূত্রে ইকরামা (রাহঃ)-এর রিওয়ায়াতে নকল করেছি। এর বিষয়বস্তু সেটাই, যা আমর ইবনে সালিম ঐ কবিতায় বিকৃত করেছেন যা তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সম্মুখে আবৃত্তি করেছেন।
বস্তুত এতে প্রমাণিত হয় যে, বানূ কা'ব-এর লোকদের যে দুর্ভোগ পােহাতে হয়েছে, তা কুরায়শ কর্তৃক ঐ চুক্তিভঙ্গের কারণে পােহাতে হয়েছে, যা তারা মক্কা উপত্যকায় সম্পাদন করেছিলাে। তুমি কি লক্ষ্য করছনা যে, তিনি (আমর ইবনে সালিম) বলছেনঃ
বানূ কা'ব-এর কিছু লােক যাদের গর্দান কর্তিত হয়েছে, মক্কা উপত্যকায় আমার নিকট এসেছে এবং সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। অতঃপর তিনি কয়েদীদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন যা আমরা উল্লেখ করেছি। তাদের মধ্যে কুরায়শ এবং তাদের কিছু লােক ছিলাে। তিনি বলেনঃ
আফসােস, আমি জানতে পারতাম, (কতই ভাল হত) যে, আমার সাহায্যের উদ্যামতা, বদলা নেয়ার অনুভূতি সুহায়ল ইবনে আমর (যদি) পেত। আর এই সুহায়ল ইবনে আমর সেই সমস্ত লােকদের অন্যতম, যাদের সঙ্গে রাসূলুল্লাহু (ﷺ) সন্ধি করেছিলেন।
থাকল এ বিষয় যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মক্কা বিজয়ের পর মাল বণ্টন করেন নাই, এবং কাউকে গােলামও বানান নাই এবং ভূমিকে গনীমতও সাব্যস্ত করেন নাই। সুতরাং তিনি সেই সমস্ত লােকদেরকে কিভাবে গােলাম বানাবেন যাদের উপর তাদের জান-মালের বিষয়ে ইহসান করেছিলেন।
নবী (ﷺ) কর্তৃক তাতে হস্তক্ষেপ না করার ব্যাপারে আলিমগণ মতবিরােধ করেছেন। কতিপয়ের মতে তিনি ওটা (মক্কা) কে বলপূর্বক বিজয় করেছেন। তারা বলেন, তিনি তাদের উপর ইহুসান করে ওটাকে ওভাবে ছেড়ে দিয়েছেন। যেমন তাদের জান ও অপরাপর মালসমূহের ব্যাপারে ইহসান করেছেন। এই মতামত পােষণকারীদের মধ্যে ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ) অন্যতম। কেননা তার মাযহাব হলাে যে, মক্কার ভূমিতে মালিকানা জারী হবে, যেভাবে অপরাপর সমগ্র ভূমিতে মালিকানা জারি হয়। পক্ষান্তরে অপরাপর কতক আলিম বলেন যে, মক্কার ভূমি সেই সমস্ত ভুমিসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়, যার উপর গনীমত প্রবর্তিত হয়। কেননা তাদের মতে মক্কার ভূমিতে মালিকানা জারি হতে পারে না, বা কেউ মালিক হতে পারে না। এই মতের অনুসারীদের মধ্যে ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) ও ইমাম সুফইয়ান সওরী (রাহঃ) অন্যতম।
বস্তুত আমরা এই অনুচ্ছেদে (বিষয়ে) ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) ও ইমাম আবু ইউসুফ (রাহঃ) তাদের দুজনের মাযহাবের উপর তাদের রিওয়ায়াতকৃত রিওয়ায়াতসমূহকে ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ে নকল করেছি। আহকাম বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত বিভিন্ন রিওয়ায়াতের বিষয়বস্তু ও মর্ম স্পষ্টরূপে বর্ণনা করেছি। এখানে সেগুলাে পুনঃ বর্ণনা করার প্রয়ােজন নেই।
অতঃপর আলােচনা সেই বিষয়কে সাব্যস্ত করার দিকে ফিরে গেছে যে, মক্কা মুকাররমা বলপূর্বক বিজিত হয়েছে। যদি তােমরা এটা বল যে, যুহরী (রাহঃ) ও ইকরামা (রাহঃ)-এর যে দুই রিওয়ায়াত আমরা উল্লেখ করেছি তা 'মুনকাতি' বা বিচ্ছিন্ন (সনদসূত্রে বর্ণিত)।
তােমাদেরকে (উত্তরে) বলা হবে যে, ইবন আব্বাস (রাযিঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে, যা আমাদের বর্ণনাকৃত বিষয়ের সপক্ষে প্রমাণ বহন করেঃ
كتاب السير
5459 - حَدَّثَنَا فَهْدُ بْنُ سُلَيْمَانَ , قَالَ: ثنا أَبُو كُرَيْبٍ , قَالَ: ثنا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ , عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ , قَالَ: حَدَّثَنِي سَعْدُ بْنُ طَارِقٍ , عَنْ سَلَمَةَ بْنِ نُعَيْمٍ , عَنْ أَبِيهِ , قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ جَاءَهُ رَسُولُ مُسَيْلِمَةَ بِكِتَابِهِ , وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَهُمَا: وَأَنْتُمَا تَقُولَانِ مِثْلَ مَا يَقُولُ؟ فَقَالَا: نَعَمْ , فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَمَا لَوْلَا أَنَّ الرُّسُلَ لَا تُقْتَلُ , لَضَرَبْتُ أَعْنَاقَكُمَا» وَالدَّلِيلُ عَلَى خُرُوجِ أَهْلِ مَكَّةَ مِنَ الصُّلْحِ , بِمَا كَانَ بَيْنَ بَنِي بَكْرٍ وَبَيْنَ خُزَاعَةَ , وَبِمَا كَانَ مِنْ مَعُونَةِ قُرَيْشٍ لِبَنِي بَكْرٍ فِي ذَلِكَ , طَلَبُ أَبِي سُفْيَانَ تَجْدِيدَ الْحِلْفِ , وَتَوْكِيدَ الصُّلْحِ عِنْدَ سُؤَالِ أَهْلِ مَكَّةَ إِيَّاهُ ذَلِكَ , وَلَوْ كَانَ الصُّلْحُ لَمْ يَنْتَقِضْ , إِذًا لَمَا كَانَ بِهِمْ إِلَى ذَلِكَ حَاجَةٌ , وَلَكَانَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ , وَعُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ , وَعَلِيٌّ , وَفَاطِمَةُ بِنْتُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , لَمَا سَأَلَهُمْ أَبُو سُفْيَانَ مَا سَأَلَهُمْ مِنْ ذَلِكَ يَقُولُونَ: مَا حَاجَتُكَ وَحَاجَةُ أَهْلِ مَكَّةَ إِلَى ذَلِكَ؟ إِنَّهُمْ جَمِيعًا فِي صُلْحٍ وَفِي أَمَانٍ , لَا تَحْتَاجُونَ مَعَهُمَا إِلَى غَيْرِهِمَا , ثُمَّ هَذَا عَمْرُو بْنُ سَالِمٍ , وَاحِدُ خُزَاعَةَ , يُنَاشِدُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَا قَدْ ذَكَرْنَا مِنْ مُنَاشَدَتِهِ إِيَّاهُ , فِي حَدِيثِ عِكْرِمَةَ , وَالزُّهْرِيِّ , وَسَأَلَهُ فِي ذَلِكَ النَّصْرَ وَيَقُولُ فِيمَا يُنَاشِدُهُ مِنْ ذَلِكَ:
[البحر الرجز]
إِنَّ قُرَيْشًا أَخْلَفُوكَ الْمَوْعِدَا
وَنَقَضُوا مِيثَاقَكَ الْمُؤَكَّدَا وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُنْكِرُ ذَلِكَ عَلَيْهِ [ص:319] ثُمَّ كَشَفَ لَهُ عَمْرُو بْنُ سَالِمٍ الْمَعْنَى الَّذِي بِهِ كَانَ نَقْضُ قُرَيْشٍ , مَا كَانُوا عَاهَدُوهُ عَلَيْهِ , وَوَافَقُوهُ بِأَنْ قَالَ:
وَهُمْ أَتَوْنَا بِالْوَتِيرِ هُجَّدَا ... فَقَتَلُونَا رُكَّعًا وَسُجَّدَا
وَلَمْ يَذْكُرْ فِي ذَلِكَ أَحَدًا غَيْرَ قُرَيْشٍ , مِنْ بَنِي نُفَاثَةَ , وَلَا مِنْ غَيْرِهِمْ , ثُمَّ أَنْشَدَ حَسَّانُ بْنُ ثَابِتٍ فِي الشِّعْرِ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ عَنْهُ , فِي حَدِيثِ عِكْرِمَةَ , الْمَعْنَى الَّذِي ذَكَرَهُ عَمْرُو بْنُ سَالِمٍ فِي الشِّعْرِ الَّذِي نَاشَدَ بِهِ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , فَفِي ذَلِكَ دَلِيلٌ أَنَّ رِجَالَ بَنِي كَعْبٍ , أَصَابَهُمْ مِنْ نَقْضِ قُرَيْشٍ الَّذِي بِهِ خَرَجُوا مِنْ عَهْدِهِمْ بِبَطْنِ مَكَّةَ , أَلَا تَرَاهُ يَقُولُ:
[البحر الطويل]
أَتَانِي وَلَمْ أَشْهَدْ بِبَطْحَاءِ مَكَّةَ ... رِجَالَ بَنِي كَعْبٍ تُحَزُّ رِقَابُهَا
ثُمَّ ذَكَرَ مَا بَيَّنَّاهُ لِمَنْ كَانَ سَبَبًا مِنْ ذَلِكَ قُرَيْشٌ وَرِجَالُهَا فَقَالَ:
فَيَا لَيْتَ شِعْرِي هَلْ لَنَا لِزُمْرَةٍ ... سُهَيْلُ بْنُ عَمْرٍو حَوْلُهَا وَعِقَابُهَا
وَسُهَيْلُ بْنُ عَمْرٍو , هُوَ كَانَ أَحَدَ مَنْ عَاقَدَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصُّلْحَ , فَأَمَّا مَا ذُكِرَ لَكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا افْتَتَحَهَا , لَمْ يَقْسِمْ مَالًا , وَلَمْ يَسْتَعْبِدْ أَحَدًا , وَلَمْ يَغْنَمْ أَرْضًا , فَكَيْفَ يَسْتَعْبِدُ مَنْ قَدْ مَنَّ عَلَيْهِ فِي دَمِهِ وَمَالِهِ , فَأَمَّا أَرْضُ مَكَّةَ , فَإِنَّ النَّاسَ قَدِ اخْتَلَفُوا فِي تَرْكِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ التَّعَرُّضَ لَهَا , فَمَنْ يَذْهَبُ إِلَى أَنَّهُ افْتَتَحَهَا عَنْوَةً فَقَالَ: تَرَكَهَا مِنَّةً عَلَيْهِمْ , كَمِنَّتِهِ عَلَيْهِمْ فِي دِمَائِهِمْ , وَفِي سَائِرِ أَمْوَالِهِمْ , وَمِمَّنْ ذَهَبَ إِلَى ذَلِكَ أَبُو يُوسُفَ , لِأَنَّهُ كَانَ يَذْهَبُ إِلَى أَنَّ أَرْضَ مَكَّةَ , تَجْرِي عَلَيْهَا الْأَمْلَاكُ , كَمَا تَجْرِي عَلَى سَائِرِ الْأَرْضِينَ , وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَمْ تَكُنْ أَرْضُ مَكَّةَ مِمَّا وَقَعَتْ عَلَيْهِ الْغَنَائِمُ , لِأَنَّ أَرْضَ مَكَّةَ عِنْدَهُمْ , لَا تَجْرِي عَلَيْهَا الْأَمْلَاكُ , وَمِمَّنْ ذَهَبَ إِلَى ذَلِكَ أَبُو حَنِيفَةَ , وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ رَحِمَهُمَا اللهُ , وَقَدْ ذَكَرْنَا فِي هَذَا الْبَابِ الْآثَارَ الَّتِي رَوَاهَا كُلُّ فَرِيقٍ , مِمَّنْ ذَهَبَ إِلَى مَا ذَهَبَ إِلَيْهِ أَبُو حَنِيفَةُ , وَأَبُو يُوسُفَ رَحِمَهُمَا اللهُ , فِي كِتَابِ الْبُيُوعِ , مِنْ شَرْحِ مَعَانِي الْآثَارِ الْمُخْتَلِفَةِ الْمَرْوِيَّةِ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْأَحْكَامِ فَأَغْنَانَا ذَلِكَ عَنْ إِعَادَتِهِ هَاهُنَا , ثُمَّ رَجَعَ الْكَلَامُ إِلَى مَا يُثْبِتُ أَنَّ مَكَّةَ فُتِحَتْ عَنْوَةً , فَإِنْ قُلْتُمْ إِنَّ حَدِيثَيِ الزُّهْرِيِّ وَعِكْرِمَةَ اللَّذَيْنِ ذَكَرْنَا , مُنْقَطِعَانِ , قِيلَ لَكُمْ وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا حَدِيثٌ يَدُلُّ عَلَى مَا رَوَيْنَاهُ
[البحر الرجز]
إِنَّ قُرَيْشًا أَخْلَفُوكَ الْمَوْعِدَا
وَنَقَضُوا مِيثَاقَكَ الْمُؤَكَّدَا وَرَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُنْكِرُ ذَلِكَ عَلَيْهِ [ص:319] ثُمَّ كَشَفَ لَهُ عَمْرُو بْنُ سَالِمٍ الْمَعْنَى الَّذِي بِهِ كَانَ نَقْضُ قُرَيْشٍ , مَا كَانُوا عَاهَدُوهُ عَلَيْهِ , وَوَافَقُوهُ بِأَنْ قَالَ:
وَهُمْ أَتَوْنَا بِالْوَتِيرِ هُجَّدَا ... فَقَتَلُونَا رُكَّعًا وَسُجَّدَا
وَلَمْ يَذْكُرْ فِي ذَلِكَ أَحَدًا غَيْرَ قُرَيْشٍ , مِنْ بَنِي نُفَاثَةَ , وَلَا مِنْ غَيْرِهِمْ , ثُمَّ أَنْشَدَ حَسَّانُ بْنُ ثَابِتٍ فِي الشِّعْرِ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ عَنْهُ , فِي حَدِيثِ عِكْرِمَةَ , الْمَعْنَى الَّذِي ذَكَرَهُ عَمْرُو بْنُ سَالِمٍ فِي الشِّعْرِ الَّذِي نَاشَدَ بِهِ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , فَفِي ذَلِكَ دَلِيلٌ أَنَّ رِجَالَ بَنِي كَعْبٍ , أَصَابَهُمْ مِنْ نَقْضِ قُرَيْشٍ الَّذِي بِهِ خَرَجُوا مِنْ عَهْدِهِمْ بِبَطْنِ مَكَّةَ , أَلَا تَرَاهُ يَقُولُ:
[البحر الطويل]
أَتَانِي وَلَمْ أَشْهَدْ بِبَطْحَاءِ مَكَّةَ ... رِجَالَ بَنِي كَعْبٍ تُحَزُّ رِقَابُهَا
ثُمَّ ذَكَرَ مَا بَيَّنَّاهُ لِمَنْ كَانَ سَبَبًا مِنْ ذَلِكَ قُرَيْشٌ وَرِجَالُهَا فَقَالَ:
فَيَا لَيْتَ شِعْرِي هَلْ لَنَا لِزُمْرَةٍ ... سُهَيْلُ بْنُ عَمْرٍو حَوْلُهَا وَعِقَابُهَا
وَسُهَيْلُ بْنُ عَمْرٍو , هُوَ كَانَ أَحَدَ مَنْ عَاقَدَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصُّلْحَ , فَأَمَّا مَا ذُكِرَ لَكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا افْتَتَحَهَا , لَمْ يَقْسِمْ مَالًا , وَلَمْ يَسْتَعْبِدْ أَحَدًا , وَلَمْ يَغْنَمْ أَرْضًا , فَكَيْفَ يَسْتَعْبِدُ مَنْ قَدْ مَنَّ عَلَيْهِ فِي دَمِهِ وَمَالِهِ , فَأَمَّا أَرْضُ مَكَّةَ , فَإِنَّ النَّاسَ قَدِ اخْتَلَفُوا فِي تَرْكِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ التَّعَرُّضَ لَهَا , فَمَنْ يَذْهَبُ إِلَى أَنَّهُ افْتَتَحَهَا عَنْوَةً فَقَالَ: تَرَكَهَا مِنَّةً عَلَيْهِمْ , كَمِنَّتِهِ عَلَيْهِمْ فِي دِمَائِهِمْ , وَفِي سَائِرِ أَمْوَالِهِمْ , وَمِمَّنْ ذَهَبَ إِلَى ذَلِكَ أَبُو يُوسُفَ , لِأَنَّهُ كَانَ يَذْهَبُ إِلَى أَنَّ أَرْضَ مَكَّةَ , تَجْرِي عَلَيْهَا الْأَمْلَاكُ , كَمَا تَجْرِي عَلَى سَائِرِ الْأَرْضِينَ , وَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَمْ تَكُنْ أَرْضُ مَكَّةَ مِمَّا وَقَعَتْ عَلَيْهِ الْغَنَائِمُ , لِأَنَّ أَرْضَ مَكَّةَ عِنْدَهُمْ , لَا تَجْرِي عَلَيْهَا الْأَمْلَاكُ , وَمِمَّنْ ذَهَبَ إِلَى ذَلِكَ أَبُو حَنِيفَةَ , وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ رَحِمَهُمَا اللهُ , وَقَدْ ذَكَرْنَا فِي هَذَا الْبَابِ الْآثَارَ الَّتِي رَوَاهَا كُلُّ فَرِيقٍ , مِمَّنْ ذَهَبَ إِلَى مَا ذَهَبَ إِلَيْهِ أَبُو حَنِيفَةُ , وَأَبُو يُوسُفَ رَحِمَهُمَا اللهُ , فِي كِتَابِ الْبُيُوعِ , مِنْ شَرْحِ مَعَانِي الْآثَارِ الْمُخْتَلِفَةِ الْمَرْوِيَّةِ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْأَحْكَامِ فَأَغْنَانَا ذَلِكَ عَنْ إِعَادَتِهِ هَاهُنَا , ثُمَّ رَجَعَ الْكَلَامُ إِلَى مَا يُثْبِتُ أَنَّ مَكَّةَ فُتِحَتْ عَنْوَةً , فَإِنْ قُلْتُمْ إِنَّ حَدِيثَيِ الزُّهْرِيِّ وَعِكْرِمَةَ اللَّذَيْنِ ذَكَرْنَا , مُنْقَطِعَانِ , قِيلَ لَكُمْ وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا حَدِيثٌ يَدُلُّ عَلَى مَا رَوَيْنَاهُ