শরহু মাআ’নিল আছার- ইমাম ত্বহাবী রহঃ
১২. জিহাদের বিধানাবলী সম্পর্কিত
হাদীস নং: ৫৪৬০
জিহাদের বিধানাবলী সম্পর্কিত
২০. অধ্যায়ঃ রাসূলুল্লাহ্ ﷺ কর্তৃক মক্কা বলপূর্বক বিজয় করার প্রমাণ
৫৪৬০। ফাহাদ ইবনে সুলায়মান ইবনে ইয়াহইয়া (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাহে রামাযানের এগার তারিখে সফরের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। সাহাবগণ তাঁর সঙ্গে সিয়াম পালন করেন। যখন তিনি ‘কুদাইদ’ নামক জায়গায় পৌছান তখন সিয়াম ভঙ্গ করে ফেলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্মুখে চলে গেলেন। অবশেষে দশ হাজার মুসলমান (সাহাবা) নিয়ে মারু্যযাহরান জায়গায় অবতরণ করেন। যখন তিনি মারু্যযাহরানে অবতরণ করেন, এ কথা কবীলা সুলায়ম ও কবীলা মুযায়না শুনল এবং কুরায়শের উপর তার (আগমনের) সংবাদাদি বন্ধ হয়ে গিয়েছিলাে। সুতরাং তাদের কাছে তার আগমনের খবর পৌঁছায়নি। না তারা অবহিত ছিলাে যে, তিনি কি করতে যাচ্ছেন। ঐ রাতে আবু সুফইয়ান ইবনে হারব, হাকীম ইবনে হিযাম ও বুদায়ল ইবনে ওয়ারাকা এটা প্রত্যক্ষ করার জন্য বের হলাে যে, তারা তার কোন সংবাদ পায় কিনা কিংবা তার ব্যাপারে তারা কিছু শুনে কিনা।
যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মারু্যযাহরানে অবতরণ করেন, তখন আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাযিঃ) বললেন, কুরায়শের জন্য মন্দ প্রভাত, যদি তারা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট এসে নিরাপত্তা প্রার্থনা না করে এবং তিনি মক্কায় বলপূর্বক প্রবেশ করেন তবে কুরায়শের জন্য হবে সমগ্র জীবনের ধ্বংস। বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাদা খচ্চরের উপর বসে বেরিয়ে গেলাম এবং পীল বৃক্ষের (ঝাড়ে) প্রবেশ করলাম, যেন কাঠুরে, দুধওয়ালা ও শ্রমিকদের সাথে মিলিত হয়ে তাদেরকে বলব যে, তারা কুরায়শদেরকে গিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সেখানে আগমনের সংবাদ দেয় এবং বলে যে, তারা যেন তাঁর কাছে বেরিয়ে আসে। বলেন, আমি আমার উদ্দেশ্যের অনুসন্ধানে ছিলাম যে, হঠাৎ আবু সুফইয়ান ও বুদায়লের কথা শুনলাম, তারা উভয়ে প্রত্যাবর্তন করছিলাে। আবু সুফইয়ান বলছিলাে, আজ রাতের ন্যায় আমি কখনাে (এত) আগুন দেখিনি, না এরূপ বাহিনী দেখেছি। বুদায়ল বলল, আল্লাহর কসম! এরা কবীলা খােযা'আ; যারা যুদ্ধের জন্য সমবেত হয়েছে। আবু সুফইয়ান বলল, আল্লাহর কসম, কবীলা খােযা'আ তাে নিতান্তই দুর্বল, তাদের এরূপ আগুন কোথায়! (আব্বাস রা বলেন) আমি আবু সুফইয়ানের আওয়াজ চিনে ফেলি, আমি বললাম, হে আবু হানযালা! বলেন, সেও আমার আওয়াজ চিনে ফেলে এবং বলল, আবুল ফযল নাকি? বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ! আমিই। সে বলল, তােমার কি হয়েছে, আমার মাতা-পিতা তােমার উপর উৎসর্গ হােক। বলেন, আমি বললাম, তােমার জন্য ধ্বংস, আল্লাহর কসম! ইনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবা কিরাম। কুরায়শের প্রভাতের উপর আফসােস! আল্লাহর কসম, যদি রাসূলুল্লাহু (ﷺ) বলপূর্বক মক্কাতে প্রবেশ করেন এবং এর পূর্বে যদি তারা এসে তাঁর নিকট নিরাপত্তা প্রার্থনা না করে তবে কুরায়শের জন্য চিরস্থায়ী ধ্বংস। সে বলল, তাহলে এর উপায় কি, আমার মাতা-পিতা তােমার উপর উৎসর্গ হােক। বলেন, আমি বললাম, আল্লাহর কসম, কোন
উপায় নেই। তবে তুমি আমার এই সওয়ারীর পিছনে আরােহণ কর, আমি তােমাকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর দরবারে নিয়ে যাব। আল্লাহ্ কসম! যদি তিনি তােমার উপর কাবু পেয়ে যান তবে তােমার গর্দান উড়িয়ে দেবেন। বলেন, সে খচ্চরের পিঠে আরােহণ করলাে, আর তার দুই সাথী ফিরে চলে গেলাে। আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমি যখন মুসলমানদের কোন এক আগুনের (অর্থাৎ ছাউনি) কাছ দিয়ে যেতাম, তারা জিজ্ঞাসা করত, এ কে? যখন তারা লক্ষ্য করত তাে বলত, ইনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর চাচা, যিনি তার খচ্চরের উপর সওয়ার। অবশেষে আমি উমার ইবন খাত্তাব (রাযিঃ) -এর আগুনের (ছাউনি) কাছ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ কে? এবং আমার দিকে উঠে এলেন।
যখন আবু সুফইয়ানকে সওয়ারীর উপরে আমার পিছনে দেখলেন তখন তাকে চিনে ফেললেন এবং বললেন, আবু সুফইয়ান? আল্লাহর দুশমন, ঐ আল্লাহর জন্য প্রশংসা, যিনি তােকে আমার নিয়ন্ত্রণে দিয়েছেন। আর দ্রুত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকে বেরিয়ে গেলেন। আমিও খচ্চরকে আঘাত করলাম (দ্রুত) দৌড়ালাম। আমি তার আগে চলে গেলাম, যেমনিভাবে মন্থর গতিসম্পন্ন সওয়ারী মন্থর গতিসম্পন্ন মানুষের থেকে আগে চলে যায়। অতঃপর আমি খচ্চর থেকে দ্রুত নেমে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দরবারে উপস্থিত হলাম। উমার (রাযিঃ) ও এলেন এবং প্রবেশ করে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (ﷺ) এ হলাে আবু সুফইয়ান। আল্লাহ্ তা'আলা কোন চুক্তি ও অঙ্গীকার ব্যতীত তার উপর নিয়ন্ত্রণ দিয়েছেন। আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিব। (আব্বাস রা) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (ﷺ) আমি তাকে আশ্রয় দিয়েছি। বলেন, এর পর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে বসে গেলাম এবং তাঁর মাথা ধরে বললাম, আল্লাহর কসম, আপনার সঙ্গে আমি ব্যতীত কেউ গােপন কথা (পরামর্শ) বলবেনা। বলেন, যখন উমার (রাযিঃ) তার ব্যাপারে অধিক বলতে লাগলেন, আমি বললাম, হে উমার! থামুন, যদি বানূ আদী ইবনে কা'ব থেকে কোন ব্যক্তি হত তবে আপনি এ কথা বলতেন না। কিন্তু আপনি জানেন যে, এ বানূ আব্দ মানাফ থেকে এক ব্যক্তি। তিনি বললেন, হে আব্বাস! থামুন আল্লাহর কসম, যেদিন আপনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন আপনার ইসলাম গ্রহণ করাটা আমার কাছে (আমার পিতা) খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণ অপেক্ষা অধিক পসন্দনীয় ছিলাে। (অর্থাৎ যদি সে ইসলাম গ্রহণ করতাে তবে আমার এতটুকু আনন্দ হত না, যতটুকু আনন্দ আপনার ইসলাম গ্রহণে হয়েছে)। আর এটা এই জন্য যে, আমি অবহিত যে, আপনার ইসলাম গ্রহণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অধিক পসন্দনীয়। অনন্তর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে তার নিবাসে নিয়ে যাও। সকালে আমার কাছে নিয়ে এস।
বলেন, যখন সকাল হলাে তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর দরবারে উপস্থিত হলাম। তিনি তাকে দেখে বললেন, হে আবু সুফইয়ান। তােমার জন্য আফসােস, তােমার জন্য কি এখনাে সেই সময় আসেনি, যাতে তুমি সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত কোন মা'বুদ নেই? সে বলল, আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য উৎসর্গ হােক, আপনি কতইনা ধৈর্যশীল, মহান ও আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী। আল্লাহর কসম! আমার হৃদয়ে একথা এসেছে যে, যদি আল্লাহর সঙ্গে অন্য কেউ (মা'বুদ) হত তবে এখন পর্যন্ত কিছু একটা উপকার দিত। তিনি বললেন, হে আবু সুফইয়ান! তােমার জন্য আক্ষেপ। তােমার জন্য কি এখনাে সময় আসেনি যে তুমি এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আমি আল্লাহু তা'আলার রাসূল? সে বলল, আমার মাতা-পিতা আপনার উপর উৎসর্গ, আপনি কতইনা ধৈর্যশীল, মহান ও আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী। আল্লাহর কসম! এই একটি মাত্র বিষয়, যে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আমার হৃদয়ে খটকা বা সন্দেহ বিরাজমান। আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, তােমার জন্য ধ্বংস, তােমার গর্দান উড়িয়ে দেয়ার পূর্বে ইসলাম গ্রহণ কর এবং এ কথার সাক্ষ্য প্রদান কর যে, আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত কোন মা'বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল। বলেন, অনন্তর সে সত্য সাক্ষ্য প্রদান করল এবং ইসলাম গ্রহণ করল। আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! (ﷺ) আবু সুফইয়ান ফখর বা সুখ্যাতিকে পসন্দ করে। তাঁর জন্য কিছু একটা সম্মানের বস্তু নির্ধারণ করুন। তিনি বললেন, হ্যাঁ, যে ব্যক্তি আবু সুফইয়ানের গৃহে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ। যে ব্যক্তি নিজের দরােজা বন্ধ করে দিবে (বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেনা) সে নিরাপদ। অতঃপর আমি যখন ফিরে চললাম, তিনি বললেন, হে আব্বাস! তাকে উপত্যকার কোন সংকীর্ণ গিরিপথে সৈন্য বাহিনী অতিক্রম করার জায়গায় দাড় করে দাও। এবং সেখান দিয়ে আল্লাহর বাহিনী অতিক্রম করবে, তিনি তা প্রত্যক্ষ করবেন।
বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে যে জায়গার নির্দেশ দিয়েছেন আমি তাঁকে সেই জায়গায় দাঁড় করালাম। বলেন, সেখান দিয়ে বিভিন্ন কবীলা নিজ নিজ ঝাণ্ডা নিয়ে অতিক্রম করছিলাে। যখন তাঁর কাছ দিয়ে একটি কবীলা অতিক্রম করত তাে জিজ্ঞাসা করতেনঃ এটা কোন কবীলা (-এর বাহিনী)? আমি বললাম, কবীলা বানূ সুলায়মা। বলেন, আবু সুফইয়ান (রাযিঃ) বললেন, বানূ সুলায়ম দিয়ে আমার কাজ কি? এরপর আরেকটি কবীলা অতিক্রম করল। জিজ্ঞাসা করলেন, এরা কোন কবীলার (বাহিনী)? আমি বললাম, কবীলা মুযায়না। বললেন, মুযায়নার সাথে আমার কি সম্পর্ক। এমনিভাবে অপরাপর কবীলাগুলাে অতিক্রম করে গেল। যে কবীলাই অতিক্রম করত তিনি আমাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন এবং আমি তাকে সে ব্যাপারে বলে দিতাম; তিনি বলতেন, অমুক কবীলা দিয়ে আমার কি হবে।
অবশেষে (সর্বশেষ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সবুজ রংা বাহিনীতে অতিক্রম করেন। তাতে মুহাজির ও আনসার উভয়ে ছিলেন। তাদের থেকে প্রত্যেক লােহাতে নড়াচড়াকারী দেখাচ্ছিলাে। (অর্থাৎ পূর্ণরূপে অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত) আবু সুফইয়ান (রাযিঃ) বললেন, সুবহানাল্লাহ্! হে আব্বাস! এরা কারা? আমি বললাম, ইনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এবং তার সঙ্গে মুহাজির ও আনসার (সাহাবা কিরাম রা)। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! এদের সঙ্গে কারাে মুকাবিলা করার শক্তি নেই। হে আবু ফযল! আল্লাহর কসম, তােমার ভ্রাতুস্পুত্র তাে শত্রুদের উপর বাদশাহ হয়ে গেছে। বলেন, আমি বললাম, হে আবু সুফইয়ান! তােমার জন্য ধ্বংস। এটা নবুওয়াত (বাদশাহী নয়)। আবু সুফইয়ান (রাযিঃ) বললেন, হ্যাঁ! বলেন, আমি বললাম, তােমার কাওমের শরণাপন্ন হও, তাদের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যাও। অবশেষে তিনি যখন তাদের কাছে গেলেন, তখন উঁচু আওয়াজে চিৎকার করে বললেন, হে কুরায়শের দল! এই সে মুহাম্মাদ (ﷺ) এই রূপ বাহিনী নিয়ে এসেছেন, যাদের প্রতিরােধ বা মুকাবিলা করতে তােমরা সক্ষম নও। যে ব্যক্তি আবু সুফইয়ান (রা-এর) গৃহে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ। তখন হিন্দ বিনতে উতবা ইবন রবী'আ তাঁর উদ্দেশ্যে দাঁড়াল এবং খুঁটি ধরে বলতে লাগল, কতশক্ত চর্বি সম্পন্ন (বীর) নিহত হয়েছে, এটা তাে নিতান্তই মন্দ বাহিনী। আবু সুফইয়ান (রাযিঃ) বললেন, তােমার জন্য ধ্বংস! তােমাদের পক্ষ থেকে এটা যেন তােমাদেরকে ধোকায় না ফেলে। তােমাদের কাছে ঐ বাহিনী এসে গেছে, যার মােকাবিলা করার কারাে শক্তি নেই। যে ব্যক্তি আবু সুফইয়ানের গৃহে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ। তারা বলল, আল্লাহ্ তােমাকে ধ্বংস করুক। তােমার গৃহ দ্বারা কি-ই আর লাভ হবে। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি নিজের দরজা বন্ধ করবে সেও নিরাপদ।
বস্তুত এই হাদীসের সনদ মুত্তাসিল (অবিচ্ছিন্ন) ও সহীহ্। এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মক্কা মুকাররমা বলপূর্বক বিজিত হয়েছে এবং সন্ধি সূত্রে বিজিত হয়নি। আর এটা সাব্যস্ত হয় যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও কুরায়শের মাঝে যে সন্ধি স্থাপিত ছিলাে তা তাঁর মক্কা আগমনের পূর্বে খতম হয়ে গিয়েছিলাে।
সে ব্যক্তি কি আব্বাস (রাযিঃ)-এর এই বক্তব্যের প্রতি লক্ষ্য করছেনা যে, “কুরায়শের প্রভাতের উপর আফসােস” - যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট তারা এসে নিরাপত্তা প্রার্থনা করার পূর্বে তিনি মক্কাতে বলপূর্বক প্রবেশ করেন তবে কুরায়শের জন্য চিরস্থায়ী ধ্বংস নেমে আসবে।
তবে তােমাদের কি ধারণা যে, আব্বাস (রাযিঃ) নিজের সর্বোত্তম অভিমত ও বুদ্ধি সত্ত্বেও এই ধারণা করতেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিরাপত্তা এবং সন্ধি সত্ত্বেও কুরায়শকে শায়েস্তা করবেন। এটা অসম্ভব ব্যাপার যা আদৌ হতে পারেনা এবং কোন বুদ্ধিমান ও দ্বীনদারের জন্য জায়িয নেই যে, সে তার ব্যাপারে এরূপ ধারণা পােষণ করবে। অতঃপর এই আব্বাস (রাযিঃ) আবু সুফইয়ান (রাযিঃ)-কে এভাবে সম্বােধন করেছেন, বলেছেন, আল্লাহর কসম! যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তােমাকে বাগে পেয়ে যান তবে তােমাকে হত্যা করে ফেলবেন। আল্লাহর কসম! যদি তিনি বলপূর্বক মক্কাতে প্রবেশ করেন তাহলে কুরায়শের জন্য ধ্বংস। এবং আবু সুফইয়ান তার বক্তব্যের প্রতিবাদ করে নাই। আর তাকে এটা বলেন নাই যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর মক্কাতে প্রবেশ করার ব্যাপারে আমার ও কুরায়শের ভয় কিসের। আমাদের তাে তাঁর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা অর্জিত আছে। তিনি তাে মক্কায় প্রবেশ করে বানূ ‘নাফাসা’ থেকে কবীলা খােযা'আর বদলা নিবেন, অবশিষ্ট কুরায়শদের থেকে নয় এবং না সমস্ত মক্কাবাসীদের থেকে। যখন তাকে আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, “আল্লাহর কসম! যদি তােমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাগে পেয়ে যান তবে তিনি তােমার গর্দান উড়িয়ে দিবেন।” এর উত্তরে আবু সুফইয়ান এটা বলেননি যে, তিনি আমার গর্দান কেন উড়িয়ে দিবেন, আমার তাে তার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা অর্জিত রয়েছে। অতঃপর এই উমার ইবন খাত্তাব (রাযিঃ) আবু সুফইয়ানকে দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলছেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (ﷺ) এ হলাে আবু সুফইয়ান। আল্লাহ্ তা'আলা কোন চুক্তি এবং অঙ্গীকার ব্যতীত তাকে আপনার বাগে নিয়ে এসেছেন। আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান মেরে দেই। এতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার এ কথার প্রতিবাদ করেন নাই। কেননা তাঁর মতে আবু সুফইয়ানের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও চুক্তি অর্জিত ছিলােনা। অতঃপর আবু সুফইয়ান এ ব্যাপারে উমার (রাযিঃ) -এর সঙ্গে বিবাদ করেন নাই, না তার পক্ষ থেকে আব্বাস (রাযিঃ) প্রমাণ পেশ করেছেন। বরং আব্বাস (রাযিঃ) তাকে বলেছেন, আমি তাকে আশ্রয় প্রদান করেছি। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ), উমার (রাযিঃ) ও আব্বাস (রাযিঃ) তাদের উভয়ের কথাকে প্রত্যাখ্যান করেন নাই। এটা প্রমাণ করে যে, যদি আব্বাস (রাযিঃ)-এর পক্ষ থেকে আশ্রয় বা নিরাপত্তা অর্জিত না হত তাহলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উমার (রাযিঃ) কে আবু সুফইয়ানের হত্যার সংকল্প থেকে বিরত রাখতেন না। সুতরাং সন্ধি বিলুপ্তির এর চেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ আর কী হতে পারে?
অতঃপর আবু সুফইয়ান (রাযিঃ) যখন মক্কাতে প্রবেশ করেন তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে সম্মান তাকে দান করেছেন উচু আওয়াজে এর ঘােষণা দিয়েছেন, যে ব্যক্তি আবু সুফইয়ান (রাযিঃ)-এর গৃহে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ, যে ব্যক্তি নিজের দরজা বন্ধ করে দিবে সে নিরাপদ। বস্তুত কুরায়শরাও তখন তাকে বলেনি যে, আমাদের তােমার গৃহে প্রবেশ করার এবং আমাদের দরজা বন্ধ করার প্রয়ােজন নেই, আমাদের নিরাপত্তা অর্জিত আছে যা আমাদেরকে অন্য কোন নিরাপত্তা তলব করা থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিয়েছে। কিন্তু তারা জেনে গিয়েছিলাে যে, তারা প্রথমােক্ত নিরাপত্তা থেকে বেরিয়ে গিয়েছে এবং তাদের ও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর মাঝে স্থাপিত যে সন্ধি ছিলাে তা ভেঙ্গে গিয়েছে। যখন তাদেরকে এই শব্দাবলী দ্বারা সম্বােধন করা হয়েছে তখন তারা নিরাপত্তায় নেই। তবে তারা ঐ নিরাপত্তা অর্জন করবে যা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদেরকে (নতুনভাবে) দান করেছেন। অর্থাৎ তারা আবু সুফইয়ান (রাযিঃ)-এর গৃহে প্রবেশ করবে কিংবা নিজেদের দরজা বন্ধ করে দিবে।
এর পর উম্মুহানি বিনতে আবী তালিব (রাযিঃ) থেকে এরূপ বিষয়বস্তু বর্ণিত আছে, যা প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন মক্কাতে প্রবেশ করেছেন তখন সেটা দারুল হারব ছিলাে, দারুল আমান ছিলােনাঃ
যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মারু্যযাহরানে অবতরণ করেন, তখন আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রাযিঃ) বললেন, কুরায়শের জন্য মন্দ প্রভাত, যদি তারা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট এসে নিরাপত্তা প্রার্থনা না করে এবং তিনি মক্কায় বলপূর্বক প্রবেশ করেন তবে কুরায়শের জন্য হবে সমগ্র জীবনের ধ্বংস। বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সাদা খচ্চরের উপর বসে বেরিয়ে গেলাম এবং পীল বৃক্ষের (ঝাড়ে) প্রবেশ করলাম, যেন কাঠুরে, দুধওয়ালা ও শ্রমিকদের সাথে মিলিত হয়ে তাদেরকে বলব যে, তারা কুরায়শদেরকে গিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সেখানে আগমনের সংবাদ দেয় এবং বলে যে, তারা যেন তাঁর কাছে বেরিয়ে আসে। বলেন, আমি আমার উদ্দেশ্যের অনুসন্ধানে ছিলাম যে, হঠাৎ আবু সুফইয়ান ও বুদায়লের কথা শুনলাম, তারা উভয়ে প্রত্যাবর্তন করছিলাে। আবু সুফইয়ান বলছিলাে, আজ রাতের ন্যায় আমি কখনাে (এত) আগুন দেখিনি, না এরূপ বাহিনী দেখেছি। বুদায়ল বলল, আল্লাহর কসম! এরা কবীলা খােযা'আ; যারা যুদ্ধের জন্য সমবেত হয়েছে। আবু সুফইয়ান বলল, আল্লাহর কসম, কবীলা খােযা'আ তাে নিতান্তই দুর্বল, তাদের এরূপ আগুন কোথায়! (আব্বাস রা বলেন) আমি আবু সুফইয়ানের আওয়াজ চিনে ফেলি, আমি বললাম, হে আবু হানযালা! বলেন, সেও আমার আওয়াজ চিনে ফেলে এবং বলল, আবুল ফযল নাকি? বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ! আমিই। সে বলল, তােমার কি হয়েছে, আমার মাতা-পিতা তােমার উপর উৎসর্গ হােক। বলেন, আমি বললাম, তােমার জন্য ধ্বংস, আল্লাহর কসম! ইনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও তাঁর সাহাবা কিরাম। কুরায়শের প্রভাতের উপর আফসােস! আল্লাহর কসম, যদি রাসূলুল্লাহু (ﷺ) বলপূর্বক মক্কাতে প্রবেশ করেন এবং এর পূর্বে যদি তারা এসে তাঁর নিকট নিরাপত্তা প্রার্থনা না করে তবে কুরায়শের জন্য চিরস্থায়ী ধ্বংস। সে বলল, তাহলে এর উপায় কি, আমার মাতা-পিতা তােমার উপর উৎসর্গ হােক। বলেন, আমি বললাম, আল্লাহর কসম, কোন
উপায় নেই। তবে তুমি আমার এই সওয়ারীর পিছনে আরােহণ কর, আমি তােমাকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর দরবারে নিয়ে যাব। আল্লাহ্ কসম! যদি তিনি তােমার উপর কাবু পেয়ে যান তবে তােমার গর্দান উড়িয়ে দেবেন। বলেন, সে খচ্চরের পিঠে আরােহণ করলাে, আর তার দুই সাথী ফিরে চলে গেলাে। আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমি যখন মুসলমানদের কোন এক আগুনের (অর্থাৎ ছাউনি) কাছ দিয়ে যেতাম, তারা জিজ্ঞাসা করত, এ কে? যখন তারা লক্ষ্য করত তাে বলত, ইনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর চাচা, যিনি তার খচ্চরের উপর সওয়ার। অবশেষে আমি উমার ইবন খাত্তাব (রাযিঃ) -এর আগুনের (ছাউনি) কাছ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ কে? এবং আমার দিকে উঠে এলেন।
যখন আবু সুফইয়ানকে সওয়ারীর উপরে আমার পিছনে দেখলেন তখন তাকে চিনে ফেললেন এবং বললেন, আবু সুফইয়ান? আল্লাহর দুশমন, ঐ আল্লাহর জন্য প্রশংসা, যিনি তােকে আমার নিয়ন্ত্রণে দিয়েছেন। আর দ্রুত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকে বেরিয়ে গেলেন। আমিও খচ্চরকে আঘাত করলাম (দ্রুত) দৌড়ালাম। আমি তার আগে চলে গেলাম, যেমনিভাবে মন্থর গতিসম্পন্ন সওয়ারী মন্থর গতিসম্পন্ন মানুষের থেকে আগে চলে যায়। অতঃপর আমি খচ্চর থেকে দ্রুত নেমে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দরবারে উপস্থিত হলাম। উমার (রাযিঃ) ও এলেন এবং প্রবেশ করে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (ﷺ) এ হলাে আবু সুফইয়ান। আল্লাহ্ তা'আলা কোন চুক্তি ও অঙ্গীকার ব্যতীত তার উপর নিয়ন্ত্রণ দিয়েছেন। আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিব। (আব্বাস রা) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (ﷺ) আমি তাকে আশ্রয় দিয়েছি। বলেন, এর পর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে বসে গেলাম এবং তাঁর মাথা ধরে বললাম, আল্লাহর কসম, আপনার সঙ্গে আমি ব্যতীত কেউ গােপন কথা (পরামর্শ) বলবেনা। বলেন, যখন উমার (রাযিঃ) তার ব্যাপারে অধিক বলতে লাগলেন, আমি বললাম, হে উমার! থামুন, যদি বানূ আদী ইবনে কা'ব থেকে কোন ব্যক্তি হত তবে আপনি এ কথা বলতেন না। কিন্তু আপনি জানেন যে, এ বানূ আব্দ মানাফ থেকে এক ব্যক্তি। তিনি বললেন, হে আব্বাস! থামুন আল্লাহর কসম, যেদিন আপনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন আপনার ইসলাম গ্রহণ করাটা আমার কাছে (আমার পিতা) খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণ অপেক্ষা অধিক পসন্দনীয় ছিলাে। (অর্থাৎ যদি সে ইসলাম গ্রহণ করতাে তবে আমার এতটুকু আনন্দ হত না, যতটুকু আনন্দ আপনার ইসলাম গ্রহণে হয়েছে)। আর এটা এই জন্য যে, আমি অবহিত যে, আপনার ইসলাম গ্রহণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অধিক পসন্দনীয়। অনন্তর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে তার নিবাসে নিয়ে যাও। সকালে আমার কাছে নিয়ে এস।
বলেন, যখন সকাল হলাে তাকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর দরবারে উপস্থিত হলাম। তিনি তাকে দেখে বললেন, হে আবু সুফইয়ান। তােমার জন্য আফসােস, তােমার জন্য কি এখনাে সেই সময় আসেনি, যাতে তুমি সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত কোন মা'বুদ নেই? সে বলল, আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য উৎসর্গ হােক, আপনি কতইনা ধৈর্যশীল, মহান ও আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী। আল্লাহর কসম! আমার হৃদয়ে একথা এসেছে যে, যদি আল্লাহর সঙ্গে অন্য কেউ (মা'বুদ) হত তবে এখন পর্যন্ত কিছু একটা উপকার দিত। তিনি বললেন, হে আবু সুফইয়ান! তােমার জন্য আক্ষেপ। তােমার জন্য কি এখনাে সময় আসেনি যে তুমি এ কথার সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আমি আল্লাহু তা'আলার রাসূল? সে বলল, আমার মাতা-পিতা আপনার উপর উৎসর্গ, আপনি কতইনা ধৈর্যশীল, মহান ও আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী। আল্লাহর কসম! এই একটি মাত্র বিষয়, যে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আমার হৃদয়ে খটকা বা সন্দেহ বিরাজমান। আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, তােমার জন্য ধ্বংস, তােমার গর্দান উড়িয়ে দেয়ার পূর্বে ইসলাম গ্রহণ কর এবং এ কথার সাক্ষ্য প্রদান কর যে, আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত কোন মা'বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল। বলেন, অনন্তর সে সত্য সাক্ষ্য প্রদান করল এবং ইসলাম গ্রহণ করল। আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! (ﷺ) আবু সুফইয়ান ফখর বা সুখ্যাতিকে পসন্দ করে। তাঁর জন্য কিছু একটা সম্মানের বস্তু নির্ধারণ করুন। তিনি বললেন, হ্যাঁ, যে ব্যক্তি আবু সুফইয়ানের গৃহে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ। যে ব্যক্তি নিজের দরােজা বন্ধ করে দিবে (বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেনা) সে নিরাপদ। অতঃপর আমি যখন ফিরে চললাম, তিনি বললেন, হে আব্বাস! তাকে উপত্যকার কোন সংকীর্ণ গিরিপথে সৈন্য বাহিনী অতিক্রম করার জায়গায় দাড় করে দাও। এবং সেখান দিয়ে আল্লাহর বাহিনী অতিক্রম করবে, তিনি তা প্রত্যক্ষ করবেন।
বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে যে জায়গার নির্দেশ দিয়েছেন আমি তাঁকে সেই জায়গায় দাঁড় করালাম। বলেন, সেখান দিয়ে বিভিন্ন কবীলা নিজ নিজ ঝাণ্ডা নিয়ে অতিক্রম করছিলাে। যখন তাঁর কাছ দিয়ে একটি কবীলা অতিক্রম করত তাে জিজ্ঞাসা করতেনঃ এটা কোন কবীলা (-এর বাহিনী)? আমি বললাম, কবীলা বানূ সুলায়মা। বলেন, আবু সুফইয়ান (রাযিঃ) বললেন, বানূ সুলায়ম দিয়ে আমার কাজ কি? এরপর আরেকটি কবীলা অতিক্রম করল। জিজ্ঞাসা করলেন, এরা কোন কবীলার (বাহিনী)? আমি বললাম, কবীলা মুযায়না। বললেন, মুযায়নার সাথে আমার কি সম্পর্ক। এমনিভাবে অপরাপর কবীলাগুলাে অতিক্রম করে গেল। যে কবীলাই অতিক্রম করত তিনি আমাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন এবং আমি তাকে সে ব্যাপারে বলে দিতাম; তিনি বলতেন, অমুক কবীলা দিয়ে আমার কি হবে।
অবশেষে (সর্বশেষ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সবুজ রংা বাহিনীতে অতিক্রম করেন। তাতে মুহাজির ও আনসার উভয়ে ছিলেন। তাদের থেকে প্রত্যেক লােহাতে নড়াচড়াকারী দেখাচ্ছিলাে। (অর্থাৎ পূর্ণরূপে অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত) আবু সুফইয়ান (রাযিঃ) বললেন, সুবহানাল্লাহ্! হে আব্বাস! এরা কারা? আমি বললাম, ইনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এবং তার সঙ্গে মুহাজির ও আনসার (সাহাবা কিরাম রা)। তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! এদের সঙ্গে কারাে মুকাবিলা করার শক্তি নেই। হে আবু ফযল! আল্লাহর কসম, তােমার ভ্রাতুস্পুত্র তাে শত্রুদের উপর বাদশাহ হয়ে গেছে। বলেন, আমি বললাম, হে আবু সুফইয়ান! তােমার জন্য ধ্বংস। এটা নবুওয়াত (বাদশাহী নয়)। আবু সুফইয়ান (রাযিঃ) বললেন, হ্যাঁ! বলেন, আমি বললাম, তােমার কাওমের শরণাপন্ন হও, তাদের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যাও। অবশেষে তিনি যখন তাদের কাছে গেলেন, তখন উঁচু আওয়াজে চিৎকার করে বললেন, হে কুরায়শের দল! এই সে মুহাম্মাদ (ﷺ) এই রূপ বাহিনী নিয়ে এসেছেন, যাদের প্রতিরােধ বা মুকাবিলা করতে তােমরা সক্ষম নও। যে ব্যক্তি আবু সুফইয়ান (রা-এর) গৃহে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ। তখন হিন্দ বিনতে উতবা ইবন রবী'আ তাঁর উদ্দেশ্যে দাঁড়াল এবং খুঁটি ধরে বলতে লাগল, কতশক্ত চর্বি সম্পন্ন (বীর) নিহত হয়েছে, এটা তাে নিতান্তই মন্দ বাহিনী। আবু সুফইয়ান (রাযিঃ) বললেন, তােমার জন্য ধ্বংস! তােমাদের পক্ষ থেকে এটা যেন তােমাদেরকে ধোকায় না ফেলে। তােমাদের কাছে ঐ বাহিনী এসে গেছে, যার মােকাবিলা করার কারাে শক্তি নেই। যে ব্যক্তি আবু সুফইয়ানের গৃহে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ। তারা বলল, আল্লাহ্ তােমাকে ধ্বংস করুক। তােমার গৃহ দ্বারা কি-ই আর লাভ হবে। তিনি বললেন, যে ব্যক্তি নিজের দরজা বন্ধ করবে সেও নিরাপদ।
বস্তুত এই হাদীসের সনদ মুত্তাসিল (অবিচ্ছিন্ন) ও সহীহ্। এ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মক্কা মুকাররমা বলপূর্বক বিজিত হয়েছে এবং সন্ধি সূত্রে বিজিত হয়নি। আর এটা সাব্যস্ত হয় যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও কুরায়শের মাঝে যে সন্ধি স্থাপিত ছিলাে তা তাঁর মক্কা আগমনের পূর্বে খতম হয়ে গিয়েছিলাে।
সে ব্যক্তি কি আব্বাস (রাযিঃ)-এর এই বক্তব্যের প্রতি লক্ষ্য করছেনা যে, “কুরায়শের প্রভাতের উপর আফসােস” - যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট তারা এসে নিরাপত্তা প্রার্থনা করার পূর্বে তিনি মক্কাতে বলপূর্বক প্রবেশ করেন তবে কুরায়শের জন্য চিরস্থায়ী ধ্বংস নেমে আসবে।
তবে তােমাদের কি ধারণা যে, আব্বাস (রাযিঃ) নিজের সর্বোত্তম অভিমত ও বুদ্ধি সত্ত্বেও এই ধারণা করতেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিরাপত্তা এবং সন্ধি সত্ত্বেও কুরায়শকে শায়েস্তা করবেন। এটা অসম্ভব ব্যাপার যা আদৌ হতে পারেনা এবং কোন বুদ্ধিমান ও দ্বীনদারের জন্য জায়িয নেই যে, সে তার ব্যাপারে এরূপ ধারণা পােষণ করবে। অতঃপর এই আব্বাস (রাযিঃ) আবু সুফইয়ান (রাযিঃ)-কে এভাবে সম্বােধন করেছেন, বলেছেন, আল্লাহর কসম! যদি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তােমাকে বাগে পেয়ে যান তবে তােমাকে হত্যা করে ফেলবেন। আল্লাহর কসম! যদি তিনি বলপূর্বক মক্কাতে প্রবেশ করেন তাহলে কুরায়শের জন্য ধ্বংস। এবং আবু সুফইয়ান তার বক্তব্যের প্রতিবাদ করে নাই। আর তাকে এটা বলেন নাই যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর মক্কাতে প্রবেশ করার ব্যাপারে আমার ও কুরায়শের ভয় কিসের। আমাদের তাে তাঁর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা অর্জিত আছে। তিনি তাে মক্কায় প্রবেশ করে বানূ ‘নাফাসা’ থেকে কবীলা খােযা'আর বদলা নিবেন, অবশিষ্ট কুরায়শদের থেকে নয় এবং না সমস্ত মক্কাবাসীদের থেকে। যখন তাকে আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, “আল্লাহর কসম! যদি তােমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাগে পেয়ে যান তবে তিনি তােমার গর্দান উড়িয়ে দিবেন।” এর উত্তরে আবু সুফইয়ান এটা বলেননি যে, তিনি আমার গর্দান কেন উড়িয়ে দিবেন, আমার তাে তার পক্ষ থেকে নিরাপত্তা অর্জিত রয়েছে। অতঃপর এই উমার ইবন খাত্তাব (রাযিঃ) আবু সুফইয়ানকে দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলছেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! (ﷺ) এ হলাে আবু সুফইয়ান। আল্লাহ্ তা'আলা কোন চুক্তি এবং অঙ্গীকার ব্যতীত তাকে আপনার বাগে নিয়ে এসেছেন। আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান মেরে দেই। এতে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তার এ কথার প্রতিবাদ করেন নাই। কেননা তাঁর মতে আবু সুফইয়ানের জন্য রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও চুক্তি অর্জিত ছিলােনা। অতঃপর আবু সুফইয়ান এ ব্যাপারে উমার (রাযিঃ) -এর সঙ্গে বিবাদ করেন নাই, না তার পক্ষ থেকে আব্বাস (রাযিঃ) প্রমাণ পেশ করেছেন। বরং আব্বাস (রাযিঃ) তাকে বলেছেন, আমি তাকে আশ্রয় প্রদান করেছি। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ), উমার (রাযিঃ) ও আব্বাস (রাযিঃ) তাদের উভয়ের কথাকে প্রত্যাখ্যান করেন নাই। এটা প্রমাণ করে যে, যদি আব্বাস (রাযিঃ)-এর পক্ষ থেকে আশ্রয় বা নিরাপত্তা অর্জিত না হত তাহলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) উমার (রাযিঃ) কে আবু সুফইয়ানের হত্যার সংকল্প থেকে বিরত রাখতেন না। সুতরাং সন্ধি বিলুপ্তির এর চেয়ে স্পষ্ট প্রমাণ আর কী হতে পারে?
অতঃপর আবু সুফইয়ান (রাযিঃ) যখন মক্কাতে প্রবেশ করেন তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে সম্মান তাকে দান করেছেন উচু আওয়াজে এর ঘােষণা দিয়েছেন, যে ব্যক্তি আবু সুফইয়ান (রাযিঃ)-এর গৃহে প্রবেশ করবে সে নিরাপদ, যে ব্যক্তি নিজের দরজা বন্ধ করে দিবে সে নিরাপদ। বস্তুত কুরায়শরাও তখন তাকে বলেনি যে, আমাদের তােমার গৃহে প্রবেশ করার এবং আমাদের দরজা বন্ধ করার প্রয়ােজন নেই, আমাদের নিরাপত্তা অর্জিত আছে যা আমাদেরকে অন্য কোন নিরাপত্তা তলব করা থেকে অমুখাপেক্ষী করে দিয়েছে। কিন্তু তারা জেনে গিয়েছিলাে যে, তারা প্রথমােক্ত নিরাপত্তা থেকে বেরিয়ে গিয়েছে এবং তাদের ও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর মাঝে স্থাপিত যে সন্ধি ছিলাে তা ভেঙ্গে গিয়েছে। যখন তাদেরকে এই শব্দাবলী দ্বারা সম্বােধন করা হয়েছে তখন তারা নিরাপত্তায় নেই। তবে তারা ঐ নিরাপত্তা অর্জন করবে যা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাদেরকে (নতুনভাবে) দান করেছেন। অর্থাৎ তারা আবু সুফইয়ান (রাযিঃ)-এর গৃহে প্রবেশ করবে কিংবা নিজেদের দরজা বন্ধ করে দিবে।
এর পর উম্মুহানি বিনতে আবী তালিব (রাযিঃ) থেকে এরূপ বিষয়বস্তু বর্ণিত আছে, যা প্রমাণ করে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) যখন মক্কাতে প্রবেশ করেছেন তখন সেটা দারুল হারব ছিলাে, দারুল আমান ছিলােনাঃ
كتاب السير
5460 - حَدَّثَنَا فَهْدُ بْنُ سُلَيْمَانَ بْنِ يَحْيَى , قَالَ: ثنا يُوسُفُ بْنُ بُهْلُولٍ , قَالَ: ثنا عَبْدُ اللهِ بْنُ إِدْرِيسَ , قَالَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ , قَالَ: قَالَ الزُّهْرِيُّ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ , عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا [ص:320] أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَضَى لِسَفْرَةٍ وَخَرَجَ لِعَشْرٍ مَضَيْنَ مِنْ رَمَضَانَ , فَصَامَ وَصَامَ النَّاسُ مَعَهُ حَتَّى إِذَا كَانَ بِالْكَدِيدِ أَفْطَرَ ثُمَّ مَضَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , حَتَّى نَزَلَ مَرَّ الظَّهْرَانِ فِي عَشَرَةِ آلَافٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ , فَسَمِعَتْ سُلَيْمٌ وَمُزَيْنَةُ , فَلَمَّا نَزَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ الظَّهْرَانِ , وَقَدْ عَمِيَتِ الْأَخْبَارُ عَلَى قُرَيْشٍ , فَلَا يَأْتِيهِمْ خَبَرُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا يَدْرُونَ مَا هُوَ فَاعِلٌ , وَخَرَجَ فِي تِلْكَ اللَّيْلَةِ أَبُو سُفْيَانَ بْنُ حَرْبٍ , وَحَكِيمُ بْنُ حِزَامٍ وَبُدَيْلُ بْنُ وَرْقَاءَ , يَنْظُرُونَ هَلْ يَجِدُونَ خَيْرًا , أَوْ يَسْمَعُونَهُ , فَلَمَّا نَزَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ الظَّهْرَانِ , قَالَ الْعَبَّاسُ بْنُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قُلْتُ: وَاصَبَاحَ قُرَيْشٍ , لَئِنْ دَخَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَّةَ عَنْوَةً قَبْلَ أَنْ يَأْتُوهُ فَيَسْتَأْمِنُوهُ , إِنَّهُ لَهَلَاكُ قُرَيْشٍ إِلَى آخِرِ الدَّهْرِ , قَالَ: فَجَلَسْتُ عَلَى بَغْلَةِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْبَيْضَاءِ , فَخَرَجْتُ عَلَيْهَا حَتَّى دَخَلْتُ الْأَرَاكَ , فَلَقِيَ بَعْضَ الْحَطَّابَةِ , أَوْ صَاحِبَ لَبَنٍ , أَوْ ذَا حَاجَةٍ يَأْتِيهِمْ , يُخْبِرُهُمْ بِمَكَانِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيَخْرُجُوا إِلَيْهِ , قَالَ: فَإِنِّي لَأُشِيرُ عَلَيْهِ , وَأَلْتَمِسُ مَا خَرَجْتُ لَهُ , إِذْ سَمِعْتُ كَلَامَ أَبِي سُفْيَانَ وَبُدَيْلٍ , وَهُمَا يَتَرَاجَعَانِ , وَأَبُو سُفْيَانَ يَقُولُ: مَا رَأَيْتُ كَاللَّيْلَةِ نِيرَانًا قَطُّ وَلَا عَسْكَرًا , قَالَ بُدَيْلٌ: هَذِهِ , وَاللهِ خُزَاعَةُ حَمَشَتْهَا الْحَرْبُ , فَقَالَ أَبُو سُفْيَانَ: خُزَاعَةُ وَاللهِ , أَذَلُّ مِنْ أَنْ يَكُونَ هَذِهِ نِيرَانَهُمْ , فَعَرَفْتُ صَوْتَ أَبِي سُفْيَانَ , فَقُلْتُ: يَا أَبَا حَنْظَلَةَ , قَالَ: فَعَرَفَ صَوْتِي فَقَالَ: أَبُو الْفَضْلِ؟ قَالَ: قُلْتُ: نَعَمْ قَالَ: مَا لَكَ فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي؟ قَالَ قُلْتُ: وَيْلَكَ , هَذَا , وَاللهِ رَسُولُ اللهِ فِي النَّاسِ , وَاصَبَاحَ قُرَيْشٍ وَاللهِ لَئِنْ دَخَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَّةَ عَنْوَةً قَبْلَ أَنْ يَأْتُوهُ فَيَسْتَأْمِنُوهُ , إِنَّهُ لَهَلَاكُ قُرَيْشٍ إِلَى آخِرِ الدَّهْرِ , قَالَ: فَمَا الْحِيلَةُ , فِدَاكَ أَبِي وَأُمِّي؟ قَالَ قُلْتُ: لَا وَاللهِ إِلَّا أَنْ تَرْكَبَ فِي عَجُزِ هَذِهِ الدَّابَّةِ فَآتِيَ بِكَ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِنَّهُ وَاللهِ لَئِنْ ظَفِرَ بِكَ , لِيَضْرِبَنَّ عُنُقَكَ , قَالَ: فَرَكِبَ فِي عَجُزِ الْبَغْلَةِ , وَرَجَعَ صَاحِبَاهُ , قَالَ: وَكُلَّمَا مَرَرْتُ بِنَارٍ مِنْ نِيرَانِ الْمُسْلِمِينَ قَالُوا: مَنْ هَذَا؟ فَإِذَا نَظَرُوا , قَالُوا: عَمُّ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى بَغْلَتِهِ حَتَّى مَرَرْتُ بِنَارِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فَقَالَ: مَنْ هَذَا؟ وَقَامَ إِلَيَّ , فَلَمَّا رَآهُ عَلَى عَجُزِ الدَّابَّةِ , عَرَفَهُ وَقَالَ: أَبُو سُفْيَانَ عَدُوُّ اللهِ؟ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَمْكَنَ مِنْكَ , وَخَرَجَ يَشْتَدُّ نَحْوَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَكَضْتُ الْبَغْلَةَ فَسَبَقْتُهُ , كَمَا تَسْبِقُ الدَّابَّةُ الْبَطِيئَةُ الرَّجُلَ الْبَطِيءَ , ثُمَّ اقْتَحَمْتُ عَنِ الْبَغْلَةِ وَدَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , وَجَاءَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فَدَخَلَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ , هَذَا أَبُو سُفْيَانَ , قَدْ أَمْكَنَ اللهُ مِنْهُ بِلَا عَقْدٍ وَلَا عَهْدٍ , فَدَعْنِي فَأَضْرِبُ عُنُقَهُ , قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي قَدْ أَجَرْتُهُ , [ص:321] قَالَ: ثُمَّ جَلَسْتُ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , فَأَخَذْتُ بِرَأْسِهِ فَقُلْتُ: وَاللهِ لَا يُنَاجِيهِ رَجُلٌ دُونِي , قَالَ: فَلَمَّا أَكْثَرَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِي شَأْنِهِ , فَقُلْتُ: مَهْلًا يَا عُمَرُ وَاللهِ لَوْ كَانَ رَجُلًا مِنْ بَنِي عَدِيِّ بْنِ كَعْبٍ مَا قُلْتَ هَذَا , وَلَكِنْ قَدْ عَرَفْتَ أَنَّهُ رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ , قَالَ فَقَالَ: مَهْلًا يَا عَبَّاسُ لَإِسْلَامُكَ يَوْمَ أَسْلَمْتَ , كَانَ أَحَبَّ إِلَيَّ مِنْ إِسْلَامِ الْخَطَّابِ وَمَا لِي إِلَّا أَنِّي قَدْ عَرَفْتُ أَنَّ إِسْلَامَكَ كَانَ أَحَبَّ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ إِسْلَامِ الْخَطَّابِ , فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " اذْهَبْ بِهِ إِلَى رَحْلِكَ فَإِذَا أَصْبَحْتَ فَأْتِنَا بِهِ , قَالَ: فَلَمَّا أَصْبَحْتُ غَدَوْتُ بِهِ إِلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , فَلَمَّا رَآهُ قَالَ وَيْحَكَ يَا أَبَا سُفْيَانَ , أَلَمْ يَأْنِ لَكَ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ؟ , قَالَ: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي فَمَا أَحْلَمَكَ وَأَكْرَمَكَ وَأَوْصَلَكَ , أَمَا وَاللهِ لَقَدْ كَادَ يَقَعُ فِي نَفْسِي أَنْ لَوْ كَانَ مَعَ اللهِ غَيْرُهُ لَقَدْ أَغْنَى شَيْئًا بَعْدُ , وَقَالَ: وَيْلَكَ يَا أَبَا سُفْيَانَ أَلَمْ يَأْنِ لَكَ أَنْ تَشْهَدَ أَنِّي رَسُولُ اللهِ؟ , قَالَ: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي مَا أَحْلَمَكَ وَأَكْرَمَكَ وَأَوْصَلَكَ أَمَّا وَاللهِ هَذِهِ فَإِنَّ فِي النَّفْسِ مِنْهَا حَتَّى الْآنَ شَيْئًا , قَالَ الْعَبَّاسُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: قُلْتُ: وَيْلَكَ أَسْلِمْ وَاشْهَدْ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ قَبْلَ أَنْ يُضْرَبَ عُنُقُكَ , قَالَ: فَشَهِدَ شَهَادَةَ الْحَقِّ وَأَسْلَمَ , قَالَ الْعَبَّاسُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ أَبَا سُفْيَانَ رَجُلٌ يُحِبُّ هَذَا الْفَخْرَ فَاجْعَلْ لَهُ شَيْئًا , قَالَ: «نَعَمْ مَنْ دَخَلَ دَارَ أَبِي سُفْيَانَ فَهُوَ آمِنٌ وَمَنْ أَغْلَقَ عَلَيْهِ بَابَهُ فَهُوَ آمِنٌ» , فَلَمَّا ذَهَبْتُ لِأَنْصَرِفَ قَالَ يَا عَبَّاسُ احْبِسْهُ بِمَضِيقِ الْوَادِي عِنْدَ حَطِيمِ الْجُنْدِ حَتَّى يَمُرَّ بِهِ جُنُودُ اللهِ فَيَرَاهَا , قَالَ: فَحَبَسْتُهُ حَيْثُ أَمَرَنِي رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: وَمَرَّتْ بِهِ الْقَبَائِلُ عَلَى رَايَاتِهَا بِهَا فَكُلَّمَا مَرَّتْ قَبِيلَةٌ قَالَ: مَنْ هَذِهِ؟ قُلْتُ: بَنُو سُلَيْمٍ قَالَ: يَقُولُ: مَا لِي وَلِبَنِي سُلَيْمٍ ثُمَّ تَمُرُّ بِهِ قَبِيلَةٌ فَيَقُولُ: مَنْ هَذِهِ فَأَقُولُ: مُزَيْنَةُ فَقَالَ: مَا لِي وَلِمُزَيْنَةَ , حَتَّى نَفِدَتِ الْقَبَائِلُ لَا تَمُرُّ بِهِ قَبِيلَةٌ إِلَّا سَأَلَنِي عَنْهَا فَأُخْبِرُهُ إِلَّا قَالَ: مَا لِي وَلِبَنِي فُلَانٍ , حَتَّى مَرَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْخَضْرَاءِ كَتِيبَةٍ فِيهَا الْمُهَاجِرُونَ , وَالْأَنْصَارُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ لَا يُرَى مِنْهُمْ إِلَّا الْحَدَقُ فِي الْحَدِيدِ , فَقَالَ: سُبْحَانَ اللهِ مَنْ هَؤُلَاءِ يَا عَبَّاسُ؟ قُلْتُ: هَذَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمُهَاجِرِينَ , وَالْأَنْصَارِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ , فَقَالَ: مَا لِأَحَدٍ بِهَؤُلَاءِ قِبَلٌ وَاللهِ يَا أَبَا الْفَضْلِ لَقَدْ أَصْبَحَ مُلْكُ ابْنِ أَخِيكَ الْغَدَاةَ عَظِيمًا , [ص:322] قَالَ: قُلْتُ: وَيْلَكَ يَا أَبَا سُفْيَانَ إِنَّهَا النُّبُوَّةُ قَالَ: فَنَعَمْ , قَالَ: قُلْتُ الْتَجِئْ إِلَى قَوْمِكَ اخْرُجْ إِلَيْهِمْ , حَتَّى إِذَا جَاءَهُمْ صَرَخَ بِأَعْلَى صَوْتِهِ: يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ هَذَا مُحَمَّدٌ قَدْ جَاءَكُمْ فِيمَا لَا قِبَلَ لَكُمْ بِهِ فَمَنْ دَخَلَ دَارَ أَبِي سُفْيَانَ فَهُوَ آمِنٌ , فَقَامَتْ إِلَيْهِ هِنْدُ بِنْتُ عُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ فَأَخَذَتْ شَارِبَهُ فَقَالَتِ: اقْتُلُوا الْحَمِيتَ الدَّسِمَ فَبِئْسَ طَلِيعَةُ قَوْمٍ , قَالَ: وَيْلَكُمْ لَا تَغُرَّنَّكُمْ هَذِهِ مِنْ أَنْفُسِكُمْ وَإِنَّهُ قَدْ جَاءَ مَا لَا قِبَلَ لَكُمْ بِهِ مَنْ دَخَلَ دَارِ أَبِي سُفْيَانَ فَهُوَ آمِنٌ , قَالُوا: قَاتَلَكَ اللهُ وَمَا يُغْنِي غَنَاءَ دَارِكَ قَالَ: وَمَنْ أَغْلَقَ عَلَيْهِ بَابَهُ فَهُوَ آمِنٌ فَهَذَا حَدِيثٌ مُتَّصِلُ الْإِسْنَادِ صَحِيحٌ مَا فِيهِ مَعْنًى يَدُلُّ عَلَى فَتْحِ مَكَّةَ عَنْوَةً وَيَنْفِي أَنْ يَكُونَ صُلْحًا وَيُثْبِتُ أَنَّ الْهُدْنَةَ الَّتِي كَانَتْ تَقَدَّمَتْ بَيْنَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَيْنَ قُرَيْشٍ قَدْ كَانَتِ انْقَطَعَتْ وَذَهَبَتْ قَبْلَ وُرُودِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَّةَ , أَلَا يَرَى إِلَى قَوْلِ الْعَبَّاسِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: وَاصَبَاحَ قُرَيْشٍ وَاللهِ لَئِنْ دَخَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَّةَ عَنْوَةً قَبْلَ أَنْ يَأْتُوهُ فَيَسْتَأْمِنُوهُ إِنَّهُ لَهَلَاكُ قُرَيْشٍ إِلَى آخِرِ الدَّهْرِ , أَفَتَرَى الْعَبَّاسَ , عَلَى فَضْلِ رَأْيِهِ وَعَقْلِهِ يَتَوَهَّمُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَعَرَّضُ قُرَيْشًا وَهُمْ مِنْهُ فِي أَمَانٍ وَصُلْحٍ وَهُدْنَةٍ؟ هَذَا مِنَ الْمُحَالِ الَّذِي لَا يَجُوزُ كَوْنُهُ وَلَا يَنْبَغِي لِذِي لُبٍّ أَوْ لِذِي عَقْلٍ أَوْ لِذِي دِينٍ أَنْ يَتَوَهَّمَ ذَلِكَ عَلَيْهِ , ثُمَّ هَذَا الْعَبَّاسُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَدْ خَاطَبَ أَبَا سُفْيَانَ بِذَلِكَ فَقَالَ: وَاللهِ لَئِنْ ظَفِرَ بِكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيَقْتُلَنَّكَ وَاللهِ إِنَّهُ لَهَلَاكُ قُرَيْشٍ إِنْ دَخَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَّةَ عَنْوَةً , فَلَا يَدْفَعُ أَبُو سُفْيَانَ قَوْلَهُ وَلَا يَقُولُ لَهُ: وَمَا خَوْفِي وَخَوْفِ قُرَيْشٍ مِنْ دُخُولِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَّةَ وَنَحْنُ فِي أَمَانٍ مِنْهُ؟ , إِنَّمَا يَقْصِدُ بِدُخُولِهِ أَنْ يَنْتَصِفَ خُزَاعَةَ مِنْ بَنِي نُفَاثَةَ دُونَ قُرَيْشٍ وَسَائِرِ أَهْلِ مَكَّةَ , وَلَمْ يَقُلْ لَهُ أَبُو سُفْيَانَ: وَلِمَ يَضْرِبُ عُنُقِي؟ , إِذْ قَالَ لَهُ الْعَبَّاسُ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهُ: وَاللهِ لَئِنْ ظَفِرَ بِكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيَضْرِبَنَّ عُنُقَكَ , وَأَنَا فِي أَمَانٍ مِنْهُ , ثُمَّ هَذَا عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَقُولُ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , لَمَّا رَأَى أَبَا سُفْيَانَ , يَا رَسُولَ اللهِ هَذَا أَبُو سُفْيَانَ قَدْ أَمْكَنَ اللهُ مِنْهُ بِلَا عَهْدٍ وَلَا عَقْدٍ فَدَعْنِي أَضْرِبْ عُنُقَهُ , وَلَمْ يُنْكِرْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَلِكَ عَلَيْهِ إِذْ كَانَ أَبُو سُفْيَانَ , عِنْدَهُ , لَيْسَ فِي أَمَانِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَا فِي صُلْحٍ مِنْهُ , ثُمَّ لَمْ يُحَاجَّ أَبُو سُفْيَانَ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ بِذَلِكَ وَلَا حَاجَّهُ عَنْهُ الْعَبَّاسُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ بَلْ قَالَ لَهُ الْعَبَّاسُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: إِنِّي قَدْ أَجَرْتُهُ , [ص:323] فَلَمْ يُنْكِرْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى عُمَرَ وَلَا عَلَى الْعَبَّاسِ مَا كَانَ مِنْهُمَا مِنَ الْقَوْلِ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ عَنْهُمَا , فَدَلَّ ذَلِكَ أَنَّهُ لَوْلَا جِوَارُ الْعَبَّاسِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ إِذًا لَمَا مَنَعَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ فِيمَا أَرَادَ مِنْ قَتْلِ أَبِي سُفْيَانَ , فَأَيُّ خُرُوجٍ مِنَ الصُّلْحِ مُنْعَدِمٍ؟ وَأَيُّ نَقْضٍ لَهُ يَكُونُ أَبْيَنَ مِنْ هَذَا؟ ثُمَّ أَبُو سُفْيَانَ لَمَّا دَخَلَ مَكَّةَ بَعْدَ ذَلِكَ نَادَى بِأَعْلَى صَوْتِهِ بِمَا جَعَلَهُ لَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ دَخَلَ دَارَ أَبِي سُفْيَانَ فَهُوَ آمِنٌ وَمَنْ أَغْلَقَ بَابَهُ فَهُوَ آمِنٌ , وَلَمْ يَقُلْ لَهُ قُرَيْشٌ وَمَا حَاجَتُنَا إِلَى دُخُولِنَا دَارَكَ وَإِلَى إِغْلَاقِنَا أَبْوَابِنَا وَنَحْنُ فِي أَمَانٍ قَدْ أَغْنَانَا عَنْ طَلَبِ الْأَمَانِ بِغَيْرِهِ , وَلَكِنَّهُمْ عَرَفُوا خُرُوجَهُمْ مِنَ الْأَمَانِ الْأَوَّلِ وَانْتِقَاضَ الصُّلْحِ الَّذِي كَانَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَّهُمْ عِنْدَمَا خُوطِبُوا بِمَا خُوطِبُوا بِهِ مِنْ هَذَا الْكَلَامِ غَيْرُ آمَنِينَ إِلَّا أَنْ يَفْعَلُوا مَا جَعَلَهُمْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهِ آمَنِينَ أَنْ يَفْعَلُوهُ مِنْ دُخُولِهِمْ دَارَ أَبِي سُفْيَانَ أَوْ مِنْ إِغْلَاقِهِمْ أَبْوَابَهُمْ , ثُمَّ قَدْ رُوِيَ عَنْ أُمِّ هَانِئٍ بِنْتِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا مَا يَدُلُّ عَلَى أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ مَكَّةَ وَهِيَ دَارُ حَرْبٍ لَا دَارَ أَمَانٍ