আপনার জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর

সকল মাসায়েল একত্রে দেখুন

২৬১
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,

আমি একজন মুসলমান। আমি আমার জীবনের যে কোনো ধরনের হারাম উপার্জন থেকে বাঁচানোর জন্য বদ্ধ পরিকর। আমি একটি গার্মেন্টস কোম্পানীতে চাকরি করি। আমি শরীয়াহভিত্তিক একটি সমিতির সদস্য। আমাদের সমিতির অর্থ দিয়ে সদস্যদের বাড়ি করার জন্য একটি জায়গা ক্রয় করা হয়েছে। এই জমি ডেভলপ কোম্পানীকে দেয়া হবে নাকি নিজেরা বাড়ি করবে এ নিয়ে একেক সময় একেক সিদ্ধান্ত হচ্ছে। তাই আমার অংশের টাকার উপর প্রতি বছর যাকাত দিয়ে আসছি। এখন আমার প্রশ্ন হল, এই যাকাত প্রদান ঠিক আছে কি না?

দ্বিতীয় বিষয় হল, চাকরির অনিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু অর্থ দিয়ে অন্য কোনো ক্ষেত্রে বিনিয়োগের চেষ্টা করি। কিন্তু টাকার স্বল্পতার জন্য এবং শরয়ী বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা না হওয়ায় জমির উপর বিনিয়োগ করি। দুইজন মুফতী সাহেবের সাথে কথা বলে যে পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে তার ধরন নি¤েœ উল্লেখ করলাম :

১ম ধরন : ৫০,০০০/- টাকা দিয়ে এক ব্যক্তির নিকট থেকে মৌখিকভাবে ২০ শতক জায়গা ক্রয় করলাম এবং পরবর্তীতে অন্য এক মজলিসে বসে ঐ ব্যক্তির সাথে ওয়াদা করলাম যে, যখন জমি বিক্রি করব তখন আপনার কাছেই বিক্রি করব। অর্থাৎ সে যখন আমাকে টাকা ফেরত দেবে তখন নতুন করে জমির দাম ধরে তার কাছে আবার বিক্রি করে দিব। (এখানে উল্লেখ্য যে, ২০ শতক জমির প্রকৃত মূল্য অনেক বেশি)

২য় ধরন : জমির মালিককে অগ্রিম ৫০,০০০/- টাকা দিব এবং সেখান থেকে প্রতি বছর ২ ফসলের জন্য জমির ভাড়া বাবদ ৮০০ টাকা করে কর্তন হতে থাকবে। অর্থাৎ সে যদি ১ বছর পর টাকা পরিশোধ করে তাহলে (৫০,০০০-৮০০) = ৪৯,২০০/- টাকা পরিশোধ করবে। কিন্তু আমি তাকে প্রতি বছর ৮০০ টাকা দিতে থাকব, যে পর্যন্ত সে আমাকে ৫০,০০০/- টাকা ফেরত না দেবে। (এখানে উল্লেখ্য যে, জমির প্রকৃত ভাড়া আরও বেশি, কিন্তু আমাকে কম টাকায় বন্ধক দিত তাহলে জমি ফেরত নেয়ার সময় তাকে পুরো ৫০,০০০/- টাকাই পরিশোধ করতে হতো তাই সে আমাকে কম টাকায় ভাড়া দিয়েছে)

কেউ কেউ এভাবে জায়েয নয় বলে জানিয়েছে। তাই মনের সংশয় দূর করার জন্য দয়া করে উক্ত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত জানালে উপকৃত হব, অথবা অন্য কোনো সঠিক পদ্ধতি থাকলে জানালে উপকৃত হব।

question and answer iconউত্তর দিয়েছেন: মাসিক আলকাউসার
৮ অক্টোবর, ২০২০
৬০২
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,

সিক আলকাউসারের সফর সংখ্যা ১৪৩৯ (নভেম্বর-২০১৭) ৪২২৩ নং প্রশ্নের উত্তর থেকে জেনেছি যে, ব্যাংকে চাকরি উপার্জিত টাকা হারাম। ছেলে ব্যাংকে চাকরি করে। তাই তার উপার্জন দ্বারা মা-বাবা হজ্ব করতে পারবেন না। এই উত্তর থেকে আমার মনে সংশয় এসেছে যে-

১. বিভিন্ন বিধর্মী বিদেশী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানী করে থাকে। তারা সুদকে হারাম মনে করে না। ব্যাংক থেকে সুদী লোন নিয়ে থাকে এবং ব্যাংক থেকে সুদ দেওয়া হলে তাও গ্রহণ করে। আমি উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসাবে বাংলাদেশে তাদের অফিসে কাজ পরিচালনা করে থাকি। এক্ষেত্রে আমার কাজ পোষাকশিল্প নিয়েই। প্রস্তুত করা থেকে নিয়ে শিপমেন্ট পর্যন্ত সকল কাজের  পরিচালনা আমার দায়িত্বে। তো এ বাবদ তারা যে বিনিময় প্রদান করে থাকে তা গ্রহণ করা হালাল না হারাম?

২. আমার এক দ্বীনী ভাইয়েরও প্রশ্ন হল, উপরোক্ত কোম্পানী ও এধরনের প্রতিষ্ঠানের আমদানীকৃত পণ্য সে এদেশ থেকে বিদেশে পরিবহন করে থাকে। এ বাবদ তাদের থেকে প্রাপ্ত টাকা হালাল না হারাম। তার পরিবহন সংক্রান্ত কার্যাদিও বৈধ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তার পরিবহন খরচ পরিশোধ করছে তো উক্ত ইহুদী-খ্রিস্টানদের কোম্পানী, যারা সুদী লোন নেয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে সুদ গ্রহণও করে। এ কারণে আমাদের বেতন ও পারিশ্রমিক অবৈধ গণ্য হবে কি না?

দয়া করে মাসআলা দু’টির সমাধান কুরআন-হাদীসের আলোকে জানালে উপকৃত হব।

question and answer iconউত্তর দিয়েছেন: মাসিক আলকাউসার
১৯ অক্টোবর, ২০২০
৫৪২
আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,

আমার বাবা রাষ্ট্রীয় একটি জীবন বীমা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। বাবার ইন্তেকালের পর আমরা তার থেকে একটি বাড়ি ও উক্ত বীমা প্রতিষ্ঠান থেকে পেনশনের টাকা মীরাস হিসাবে পাই। তারা আমাদেরকে পেনশনের ৫০% একত্রে দেয়। আর বাকী ৫০% প্রতি মাসে সাড়ে আঠার হাজার টাকা করে দেয়। আমাদের বাড়িটি নির্মাণে মোট ৭০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। তার মধ্যে ৫০ লাখ জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন বাবদ প্রাপ্ত টাকা। আর বাকি টাকার বেশির ভাগই বৈধভাবে উপার্জিত। বর্তমানে আমরা বাড়ি ভাড়া আর মাসিক পেনশনের টাকা দিয়ে চলি। এ ছাড়া আমাদের আর কোনো আয় নেই। তবে আমাদের পরিবারে দুজন সদস্য কর্মক্ষম।

জানতে চাই, বাবার ওয়ারিসদের জন্য এ বাড়ীতে থাকা ও তার ভাড়া এবং পেনশনের টাকা গ্রহণ করা কি জায়েয হবে? নাজায়েয হলে করণীয় কী? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

question and answer iconউত্তর দিয়েছেন: মাসিক আলকাউসার
১৩ অক্টোবর, ২০২০