প্রশ্নঃ ১২৩৫৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,
শায়েখ, কেমন আছেন? আমার প্রশ্ন হলো: মর্টগেজ বা বন্ধক রাখার ব্যাপারে ইসলাম কী বলে? অনেক সময় দেখা যায়, অনেকে বিভিন্ন সম্পত্তি বন্ধক রাখে বা মর্টগেজ করে। এই বিষয়ে ইসলামের দৃষ্টিতে বিশেষ করে কুরআন-সুন্নাহ এর দৃষ্টিতে কেমন?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আপনার উত্তরটি নিচে সংযোজন করা হল, আপনি যে বিষয়ে জানতে চাচ্ছেন তা প্রথমত আমাদের অ্যাপে সার্চ দিয়ে দেখুন!
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শাইখ আবু সাঈদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, মোহাম্মাদপুর।
রেফারেন্স উত্তর :
প্রশ্নঃ ১২২২৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ইসলামে জমি বন্ধক জায়েজ আছে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
১. বন্ধক রাখা হয় ঋণ আদায়ের নিশ্চয়তাস্বরূপ। এতে ঋণদাতা নিশ্চিত থাকেন যে ঋণগ্রহিতা যদি কোনো কারণে তার ঋণ পরিশোধ না করে তাহলে প্রয়োজনে ঋণদাতা বন্ধকীবস্তু থেকে নিজের পাওনা উসুল করে নিতে পারবেন।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বন্ধক সম্পর্কে নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করেন,
وَاِنۡ کُنۡتُمۡ عَلٰی سَفَرٍ وَّلَمۡ تَجِدُوۡا کَاتِبًا فَرِہٰنٌ مَّقۡبُوۡضَۃٌ ؕ فَاِنۡ اَمِنَ بَعۡضُکُمۡ بَعۡضًا فَلۡیُؤَدِّ الَّذِی اؤۡتُمِنَ اَمَانَتَہٗ وَلۡیَتَّقِ اللّٰہَ رَبَّہٗ ؕ وَلَا تَکۡتُمُوا الشَّہَادَۃَ ؕ وَمَنۡ یَّکۡتُمۡہَا فَاِنَّہٗۤ اٰثِمٌ قَلۡبُہٗ ؕ وَاللّٰہُ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ عَلِیۡمٌ
আর তোমরা যদি প্রবাসে থাক এবং কোন লেখক না পাও তবে বন্ধকী বন্তু হস্তগত রাখা উচিত। যদি একে অন্যকে বিশ্বাস করে, তবে যাকে বিশ্বাস করা হয়, তার উচিত অন্যের প্রাপ্য পরিশোধ করা এবং স্বীয় পালনকর্তা আল্লাহকে ভয় কর! তোমরা সাক্ষ্য গোপন করো না। যে কেউ তা গোপন করবে, তার অন্তর পাপপূর্ণ হবে। তোমরা যা করা, আল্লাহ সে সম্পর্কে খুব জ্ঞাত। (সুরাতুল বাকারা, আয়াত : ২৮৩)
কুরআনে সুদকে কঠোরভাবে হারাম করে দান-সদাকাহ করার প্রতি মুসলিমদের উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। ফলে সমাজে বসবাসকারীদের মাঝে ঋণ গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিবেই। কেননা সব মানুষ দান-সদাকাহ করার সক্ষমতা রাখে না। তাছাড়া সবাই দান-সদাকাহ নিতে পছন্দও করে না। সুতরাং প্রয়োজন পুরণের অন্যতম উপায় হলো, ঋণের আদান-প্রাদান।
সাথে সাথে ঋণ দেওয়াও অনেক বড় ফযীলতের কাজ বলে হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, ‘‘কিয়ামতের দিন একজন লোককে আল্লাহ তা‘আলার সামনে আনা হবে। তাকে আল্লাহ তা‘আলা জিজ্ঞাসা করবেন: বল, তুমি আমার জন্য কী পুণ্য করেছ? সে বলবে: হে আল্লাহ! আমি এমন একটি অণু পরিমাণও পুণ্যের কাজ করতে পারিনি যার প্রতিদান আমি আপনার নিকট চাইতে পারি।
আল্লাহ তা‘আলা তাকে পুনরায় এটাই জিজ্ঞাসা করবেন এবং সে একই উত্তর দেবে। আল্লাহ তা‘আলা আবার জিজ্ঞাসা করবেন তখন সে বলবে: হে আল্লাহ! একটি সামান্য কথা মনে পড়েছে। আপনি দয়া করে আমাকে কিছু সম্পদ দান করেছিলেন। আমি ব্যবসায়ী ছিলাম। লোক আমার নিকট হতে কর্জ নিয়ে যেতো। আমি যখন দেখতাম যে, এ লোকটি দরিদ্র এবং পরিশোধ করতে পারছে না তখন তাকে কিছু সময় অবকাশ দিতাম। ধনীদের ওপরও পীড়াপীড়ি করতাম না। অত্যন্ত দরিদ্র ব্যক্তিদের ক্ষমা করে দিতাম। তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তাহলে আমি তোমার পথ সহজ করবো না কেন? আমি তো সর্বাপেক্ষা বেশি সহজকারী। যাও আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। তুমি জান্নাতে চলে যাও। (সহীহ বুখারী হা: ২০৭৭)
২. বন্ধককৃত বস্তু বন্ধকগ্রহীতার কাছে আমানত। বন্ধকি জমি থেকে বন্ধকগ্রহীতার কোনো ফায়দা হাসিল করা নাজায়েজ ও হারাম। এমনকি বন্ধকদাতা এর অনুমতি দিলেও পারবে না। কারণ বন্ধকি জমি থেকে বন্ধকগ্রহীতা কোনো ধরনের ফায়দা উপভোগ করা সুদের অন্তর্ভুক্ত, যা হারাম। (বাদায়েউস সানায়ে : ৬/১৪৬)
মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক-এর এক বর্ণনায় এসেছে, ইবনে সীরীন রাহ. বলেন, এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর নিকট এসে বললেন, এক লোক আমার নিকট একটি ঘোড়া বন্ধক রেখেছে, অতঃপর আমি তাতে আরোহণ করেছি। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বললেন-
مَا أَصَبْتَ مِنْ ظَهْرِهَا فَهُوَ رِبًا.
তুমি উক্ত ঘোড়ার উপর যে পরিমাণ আরোহণ করেছ তা সুদ হয়েছে। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ১৫০৭১)
পূর্বেও বলা হয়েছে যে, বন্ধক রাখতে হবে ঋণের সিকিউরিটিসরূপ। বন্ধকি বস্তু/জমি/বাড়ি থেকে লাভবান হওয়ার জন্য নয়।
কাজেই ঋণের বিনিময়ে জমি বন্ধক রাখার পর ঋণদাতার জন্য উক্ত জমি থেকে উপকৃত হওয়া জয়েয নেই।
الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) (5/ 166)
وفي الأشباه كل قرض جر نفعا حرام فكره للمرتهن سكنى المرهونة بإذن الراهن.
আমাদের সমাজে আরেকটি ভুল প্রথা আছে সেটা হলো, এভাবে জমি বন্ধক রেখে টাকা খাওয়ার পর টাকা ফেরত দেওয়ার সময় বন্ধকদাতা জমির মালিককে এক দুই হাজার টাকা ফিরিয়ে দেয়। এবং তারা এটাকে এতো দিনের জমিনের ভাড়া বুঝাতে চায়। আসলে এটাও এক ধরণের প্রতারণা! কেননা যা কিছু ফিরিয়ে দেওয়া হয় তা কখনোই জমিনের স্বাভাবিক ভাড়ার সমতুল্য নয়। কাজেই কিছু কম নিলেও সেটা জায়েজ হবে না।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন