চিল্লার জামাতে মুসাফির না মুকিম?
প্রশ্নঃ ১৩৬৯৯৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, তাবলীগের সফরে বের হয়েছি (৪০ দিন)। এখন আমীর সাহেব নামাজকে কসর করে পড়াচ্ছেন মুসাফিরের হুকুমে, অথচ আমরা ওই এলাকায় তিন দিন তিন দিন করে অসংখ্য মসজিদে অবস্থান করছি। এখন আমার প্রশ্ন হল আমরা কি আমাদের নামাজ কি কসর করা ঠিক হবে নাকিম? এখন কসর করব নাকি পুর্ন পড়বো জানতে চাই।
৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
মাওনা ইউনিয়ন
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
যদি কোন ব্যক্তি ৪৮ মাইল (৭৭.২৩২ কিলোমিটার) রাস্তা অতিক্রম করে কোন স্থানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নিজ এলাকার লোকালয় থেকে বের হয়, তাহলে ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় তাকে মুসাফির বলে। শরঈ বিধান মোতাবেক তখন তাকে মুসাফিরের নামাজ আদায় করতে হবে। সেক্ষেত্রে তার সফরের ক্লান্তি থাকুক বা না থাকুক। নামাজের সুন্দর ব্যবস্থা থাকুক বা না থাকুক উভয় ক্ষেত্রেই বিধান অপরিবর্তিত থাকবে।
ইসলামে মুসাফিরের নামাজ:
মুসাফির ব্যক্তি পথিমধ্যে চার রাকাআত বিশিষ্ট ফরজ নাম (অর্থাৎ জোহর,আসর ও ঈশার ফরজ নামাজ)-কে দুই রাকআত পড়বে। একে কছরের নামাজ বলে। তবে যদি জামাতের সাথে (মুক্তাদি হিসেবে) নামাজ আদায় করে তাহলে ইমামের অনুসরণে পূর্ণ নামাজ আদায় করতে হবে। আর ইমামতি করলে কসরের ইমামতি-ই করবে এবং নামাজের শুরুতে বলে দিবে যে, আমি মুসাফির। তিন রাকআত বা দুই রাকাআত বিশিষ্ট ফরজ নামাজ, ওয়াজিব নামাজ এমনিভাবে সুন্নাত নামাজ পূর্ণ পড়তে হবে।
এটা হলো পথিমধ্যে থাকাকালীন সময়ের নামাজের বিধান। আর গন্তব্যে পৌঁছার পর যদি সেখানে ১৫ দিন বা তদুর্ধকাল থাকার নিয়ত হয় তাহলে কসর হবে না- নামাজ পূর্ণ পড়তে হবে। আর যদি ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত থাকে তাহলে কসর হবে।
গন্তব্যস্থলে পৌঁছে একটি গ্রাম বা একটি শহরের বিভিন্ন মসজিদে লাগাতার ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত করলে ঐ গ্রাম বা শহরে সে মুকীম হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু এক গ্রাম বা এক শহর না হয়ে পুরো জেলা বা উপজেলায় কিংবা এক ইউনিয়নের একাধিক গ্রামে ১৫ দিন বা তার বেশি অবস্থানের নিয়ত করলে সে মুকীম হবে না; বরং মুসাফিরই থাকবে।
তদ্রুপ শহর ও শহরতলী মিলে ১৫ দিন বা তার বেশি অবস্থানের নিয়ত করলেও মুসাফির থাকবে।
তেমনি এক গ্রাম বা এক শহরের বিভিন্ন মসজিদে ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করলে ঐ গ্রাম বা শহরেও সে মুসাফির গণ্য হবে।
কোনো এক মসজিদে ১৫ দিনের বেশি অবস্থান না করলে সর্বদা মুসাফির থাকবে- এমন বক্তব্য সঠিক নয়।
প্রিয় দ্বিনী ভাই!
আপনার প্রশ্নের ধরণ দেখে মনে হচ্ছে আপনারা সকলেই সেখানে মুসাফির। কেননা সাধারণত চিল্লার জামাতগুলো গ্রামাঞ্চলে হলে এক/একাধিক ইউনিয়ন মিলে পাঠানো হয়। সেই হিসেবে সেখানে আপনার কসরই করবেন।
যদি আপনাদের জামাতের আমির সাহেব আলেম হয়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয়ই তার মাসয়ালা জানা থাকার কথা। তাই তার কাছে সরাসরি জেনে নিন। আর যদি তিনি নন আলেম হয়ে থাকেন তাহলে স্থানীয় কোনো আলেমের কাছে নিজেদের অবস্থান বর্ণনা করে মাসয়ালা জিজ্ঞেস করতে পারেন।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১