অমুসলিমকে হত্যা করার বিধান
প্রশ্নঃ ১৩৮২৪৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কোনো মুসলিম অন্য মুসলিম কে যদি বিনা কারনে হত্যা করে, তাহলে হত্যাকারী ব্যাক্তি কি মুসলিম থাকে তার কি ইমান থাকে? একটু দয়া করে জানাবেন
২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ঢাকা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
মুমিন হত্যার ভয়াবহতা
হ্যাঁ, হত্যাকারী ব্যক্তি মুসলিম থাকে। শিরক বা কুফর ছাড়া অন্য কোনো কবিরা গুনাহ (যেমন: হত্যা, চুরি বা ব্যভিচার) করলে কোনো ব্যক্তি ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় না। তবে শর্ত হলো, সেই ব্যক্তি যদি এই অন্যায় হত্যাকে হালাল বা বৈধ মনে না করে। আর যদি সে অন্যায় হত্যাকে শরিয়তে হালাল বা জায়েজ মনে করে বিশ্বাস রাখে, তবে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে কাফির হয়ে যাবে। কিন্তু রাগের বশবর্তী হয়ে, শত্রুতার কারণে বা দুনিয়াবি স্বার্থে হত্যা করলে সে চরম সীমালঙ্ঘনকারী বা ফাসিক হিসেবে গণ্য হবে, তবে কাফির হবে না।
তবে ইচ্ছাকৃত হত্যার শাস্তি এবং পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। এর কারণে হত্যাকারী তাওবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
রাসূল সা. এক হাদিসে বলেন,
حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ الْفَضْلِ الْحَرَّانِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ دِهْقَانَ، قَالَ كُنَّا فِي غَزْوَةِ الْقُسْطَنْطِينِيَّةِ بِذُلُقْيَةَ فَأَقْبَلَ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ فِلَسْطِينَ - مِنْ أَشْرَافِهِمْ وَخِيَارِهِمْ يَعْرِفُونَ ذَلِكَ لَهُ يُقَالُ لَهُ هَانِئُ بْنُ كُلْثُومِ بْنِ شَرِيكٍ الْكِنَانِيُّ - فَسَلَّمَ عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي زَكَرِيَّا وَكَانَ يَعْرِفُ لَهُ حَقَّهُ قَالَ لَنَا خَالِدٌ فَحَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زَكَرِيَّا قَالَ سَمِعْتُ أُمَّ الدَّرْدَاءِ تَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " كُلُّ ذَنْبٍ عَسَى اللَّهُ أَنْ يَغْفِرَهُ إِلاَّ مَنْ مَاتَ مُشْرِكًا أَوْ مُؤْمِنٌ قَتَلَ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا " . فَقَالَ هَانِئُ بْنُ كُلْثُومٍ سَمِعْتُ مَحْمُودَ بْنَ الرَّبِيعِ يُحَدِّثُ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّهُ سَمِعَهُ يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " مَنْ قَتَلَ مُؤْمِنًا فَاعْتَبَطَ بِقَتْلِهِ لَمْ يَقْبَلِ اللَّهُ مِنْهُ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً " . قَالَ لَنَا خَالِدٌ ثُمَّ حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي زَكَرِيَّا عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ يَزَالُ الْمُؤْمِنُ مُعْنِقًا صَالِحًا مَا لَمْ يُصِبْ دَمًا حَرَامًا فَإِذَا أَصَابَ دَمًا حَرَامًا بَلَّحَ "
পরিচ্ছেদঃ ৬. মু’মিন ব্যক্তিকে হত্যা করা জঘন্য অপরাধ।
মুআম্মাল ইবনে ফযল (রাহঃ) .... খালিদ ইবনে দিহকান (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমরা যখন কুসতুনতুনিয়ার যুদ্ধে ‘যালকা’ নামক স্থানে ছিলাম, তখন ফিলিস্তিনের একজন গণ্য-মান্য ব্যক্তি, যাকে সকলে চিনতো এবং তার নাম ছিল ‘হানি ইবনে কুলছূম ইবনে শারীক কিনানী। তিন এসে আব্দুল্লাহ ইবনে আবু যাকারিয়া (রাযিঃ)-কে সালাম করেন, যার মর্যাদা সম্পর্কে তিনি অবহিত ছিলেন। রাবী বলেনঃ খালিদ (রাহঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে যাকারিয়া (রাহঃ) আমাকে বলেছেনঃ আমি উম্মে দারদা (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছি, যিনি আবু দারদা (রাযিঃ)-কে বলতে শোনেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেনঃ মহান আল্লাহ মুশরিক অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি এবং যে মু’মিন অন্য মু’মিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করে, এরা ব্যতীত অন্য সকলের গুনাহ মাফ করবেন।
এরপর হানী ইবনে কুলছূম (রাহঃ) বলেনঃ আমি মাহমুদ ইবনে রাবী’ (রাহঃ)-কে উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি, যিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন মু’মিনকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে এবং তাকে হত্যা করে খুশী হবে, তার কোন ফরয এবং নফল ইবাত আল্লাহ কবুল করবেন না
রাবী বলেনঃ এরপর খালিদ আমাদের বলেন, ইবনে আবু যাকারিয়া (রাহঃ) আবু দারদা (রাযিঃ) সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ যতক্ষণ কোন মু’মিন অকারণে কাউকে হত্যা করে না, ততক্ষণ সে নিশ্চিত ও নেককার থাকে। কিন্তু যখন সে কাউকে হত্যা করে, তখন সে নির্ভীক ও জ্ঞান শূন্য হয়ে যায়। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নংঃ ৪২২১
কিয়ামতের দিন হত্যাকারীর ভয়াবহ পরিণতির কথা হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত অপর একটি হাদিসে উঠে এসেছে। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الزَّعْفَرَانِيُّ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنَا وَرْقَاءُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَجِيءُ الْمَقْتُولُ بِالْقَاتِلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ نَاصِيَتُهُ وَرَأْسُهُ بِيَدِهِ وَأَوْدَاجُهُ تَشْخُبُ دَمًا يَقُولُ يَا رَبِّ هَذَا قَتَلَنِي حَتَّى يُدْنِيَهُ مِنَ الْعَرْشِ " . قَالَ فَذَكَرُوا لاِبْنِ عَبَّاسٍ التَّوْبَةَ فَتَلاَ هَذِهِ الآيَةََ: (وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا ) قَالَ وَمَا نُسِخَتْ هَذِهِ الآيَةُ وَلاَ بُدِّلَتْ وَأَنَّى لَهُ التَّوْبَةُ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَقَدْ رَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ نَحْوَهُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ .
হাসান ইবনে মুহাম্মাদ যাআফরানী (রাহঃ) ...... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন নিহত ব্যক্তি তার হত্যাকারীকে কপালের চুল ও মাথায় ধরে নিয়ে আসবে। তার গলার কাটা রগসমূহ থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে থাকবে। সে বলবে, হে আমার রব! এ আমাকে হত্যা করেছে। এমনকি সে তাকে আল্লাহ্ আল্লাহর আরশের কাছে নিয়ে যাবে।
রাবী বলেনঃ ইবনে আব্বাসের নিকট হত্যাকারীর তওবা প্রসঙ্গে আলোচনা করলে তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ
وَمَنْ يَقْتُلْ مُؤْمِنًا مُتَعَمِّدًا
কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মু’মিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম ...... (৪ঃ ৯৩ )।
এই আয়াতটি মানসূখও হয়নি বা তার বিধনও পরিবর্তিত হয়নি। সুতরাং তার আর তাওবা কোথায়?
জামে' তিরমিযী, হাদীস নংঃ ৩০২৯
সাধারণত একজন মানুষের জন্য পাপ থেকে মুক্তির সর্বশেষ উপায় হলো অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করা। মুমিন বান্দা যত বড়ই অন্যায় করুক না কেন, খাঁটি তওবার মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমা লাভের আশা থাকে। কিন্তু ইচ্ছাকৃত হত্যার অপরাধ এতটাই জঘন্য যে, এর ফলে হত্যাকারী আল্লাহ প্রদত্ত এই পরম নিয়ামত অর্থাৎ 'তওবা' করার তওফিক থেকেও বঞ্চিত হওয়ার চরম আশঙ্কায় পড়ে যায়। এত কঠিন হুশিয়ারি ও শাস্তির কথা জানার পর কোনো মুমিনের পক্ষে কি কল্পনা করা সম্ভব যে সে অপর কোনো মুমিন-মুসলিমকে হত্যা করবে?
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী মুহাম্মাদ রাশেদুল ইসলাম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা ৷
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, মদিনা মুনাওয়ারা ৷
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১