রোজার নিয়ত কখন ও কিভাবে করবে
প্রশ্নঃ ১৩৮৫৫০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, রোজার নিয়ত করা জরুরী কিনা?
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ঢাকা ১২২৯
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
*রোজা সহিহ হওয়ার জন্য নিয়ত সংক্রান্ত মাসআলা*
প্রিয় দ্বীনি ভাই, রোজা রমজানের হোক কিংবা অন্য কোন রোজা হোক—রোজা সহিহ হওয়ার জন্য নিয়ত করা জরুরি।
তবে 'নিয়ত' মূলত অন্তরের ইচ্ছা ও সংকল্পের নাম; সুতরাং অন্তরে এতটুকু নিয়ত করে নেওয়া যথেষ্ট যে, 'আজ আমি রোজা রাখবো' অথবা রাতেই এই সংকল্প করে নেওয়া যে, 'কাল আমি রোজা রাখবো'।
নিয়তের শব্দগুলো মুখ উচ্চারণ করা আবশ্যক নয়। হ্যাঁ, মুখ দিয়ে নিয়ত প্রকাশ করা উত্তম; তবে নিয়তের জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট শব্দ বা বাক্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত নয়।
তদুপরি, সেহরির জন্য জাগ্রত হওয়া এবং সেহরি খাওয়া নিয়তের স্থলাভিষিক্ত অর্থাৎ সেহরি খাওয়াই নিয়ত হিসেবে গণ্য, যদিও মুখে কিছু বলা না হয়।
*রোজার নিয়ত কিভাবে করবে*
১. যদি কেউ রমজান, নজরে মুআইয়্যান (নির্দিষ্ট মান্নাত) কিংবা নফল রোজার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ত ছাড়া কেবল সাধারণ রোজার নিয়ত করে—অর্থাৎ কেবল এই নিয়ত করল যে 'আজ আমি রোজা রাখবো', অথবা এই সবগুলোর ক্ষেত্রে কেবল নফল রোজার নিয়ত করে, তবে সেটাও জায়েজ হবে। অর্থাৎ, সেই দিনটি রমজান হলে তা রমজানের রোজা হিসেবেই গণ্য হবে এবং নির্দিষ্ট মান্নাতের হলে তা মান্নাতের রোজা হিসেবেই গণ্য হবে।
২. উপরোক্ত তিন ধরনের রোজা ব্যতীত অন্য সকল রোজার ক্ষেত্রে (যেমন, সকল ধরণের কাজা ও কাফফারার রোজা, অনির্দিষ্ট মান্নতের রোজাসহ অন্যান্য সকল রোজার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ত করা আবশ্যক।
*রোজার নিয়ত কতক্ষণ পর্যন্ত করা যায়*
১. রমজানের রোজা, নির্দিষ্ট মান্নতের ও নফল রোজার নিয়ত রাতের বেলা থেকেই করে নেওয়া মুস্তাহাব। আর যদি রাতে নিয়ত করতে না পারে বা ভুলে যায়, তবে 'নিসফে নাহারে শরয়ী' (শরয়ী দ্বিপ্রহর) হওয়ার আগ পর্যন্ত রোজার নিয়ত করা যেতে পারে। 'নিসফে নাহারে শরয়ী' বলতে বোঝায়—সুবহে সাদিক উদয় হওয়া থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়টিকে দুই ভাগে ভাগ করে, তার মধ্যবর্তী সময় কে 'নিসফে নাহারে শরয়ী' বলা হয়। এই সকল রোজার জন্য উক্ত সময়ের আগেই নিয়ত করা জরুরি।
২. উপরোক্ত তিন ধরনের রোজা ব্যতীত অন্য সকল রোজার ক্ষেত্রে (যেমন, সকল ধরণের কাজা, কাফফারার রোজা, অনির্দিষ্ট মান্নতের রোজাসহ অন্যান্য সকল রোজার নিয়ত সুবহে সাদিকের আগেই করা আবশ্যক। তদুপরি, যদি রাতেই নিয়ত করে নেয়, তবে সেই নিয়তও গ্রহণযোগ্য। সুবহে সাদিকের পরে এই রোজার নিয়ত গ্রহণযোগ্য নয়। অতএব, এই অবস্থায় যদি রোজা রাখা হয়, তবে তা নফল রোজা হিসেবে গণ্য হবে।
শরঈ দলিলঃ
''وشرط صحة الأداء النية... و النية معرفته بقلبه أن يصوم، كذا في الخلاصة و محيط السرخسي... و السنة أن يتلفظ بها، كذا في النهر الفائق... ثم عندنا لابد من النية لكل يوم في رمضان، كذا في فتاوي قاضيخان، والتسحر في رمضان نية''.
(فتاوی ہندیہ,١/ ١٩٥، ط: رشيدية)
الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) (2/ 377):
"(فيصح) أداء (صوم رمضان والنذر المعين والنفل بنية من الليل) فلاتصح قبل الغروب ولا عنده (إلى الضحوة الكبرى لا) بعدها".
الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) (2/ 377):
"(قوله: إلى الضحوة الكبرى) المراد بها نصف النهار الشرعي والنهار الشرعي من استطارة الضوء في أفق المشرق إلى غروب الشمس" …
ویصح أداء صوم رمضان والنذر المعین والنفل … وبمطلق النیۃ أي نیۃ الصوم … وبنیۃ نفل لعدم المزاحم۔‘‘ (درمختار: ۲/۳۷۷)
الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) (2/ 403)
'' (أو أصبح غير ناو للصوم فأكل عمداً) ولو بعد النية قبل الزوال لشبهة خلاف الشافعي: ومفاده أن الصوم بمطلق النية كذلك۔۔۔۔ (قضى) ۔۔۔ (فقط)''
(فتاوی شامی, کتاب الصوم، 2 ؍ 380، ط : سعید)
"في الدر : (والشرط للباقي) من الصيام قران النية للفجر ولو حكما وهو (تبييت النية) للضرورة (وتعيينها) لعدم تعين الوقت.
و في الرد : (قوله: والشرط للباقي من الصيام) أي من أنواعه أي الباقي منها بعد الثلاثة المتقدمة في المتن وهو قضاء رمضان والنذر المطلق، وقضاء النذر المعين والنفل بعد إفساده والكفارات السبع وما ألحق بها من جزاء الصيد والحلق والمتعة نهر."
مراقي الفلاح شرح نور الإيضاح (1 / 239):
"وأما القسم الثاني: و هو ما يشترط له تعيين النية و تبييتها، فهو قضاء رمضان و قضاء ما أفسده من نفل و صوم الكفارات بأنواعها و النذر المطلق، كقوله: إن شفى الله مريضي فعلي صوم يوم، فحصل الشفاء."
(الھندیۃ:۱/۱۹۷)
وإذا نوی الصوم للقضاء بعد طلوع الفجر حتی لا تصح نیتہ عن القضاء، یصیر شارعا في التطوع، فإن أفطر یلزمہ القضاء کذا في الذخیرۃ۔‘‘
(الشامیۃ:۲/۳۸۰)
’’ فلو نوی تلک الصیامات نہاراً کان تطوعا، وإتمامہ مستحب، ولا قضاء بإفطارہ۔‘‘
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
আব্দুল কাইয়ুম
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১