যাদেরকে যাকাত দেওয়া যাবে, এবং দেওয়া যাবে না!
প্রশ্নঃ ১৩৮৫৯৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, কোন শ্রেণীর ব্যক্তিদের যাকাত দেওয়া যাবে! এবং কাদেরকে যাকাত দেওয়া যাবে না?
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
লোহাগড়া
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
১. যাদেরকে যাকাত দেওয়া যাবে:
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে যাকাত বণ্টনের জন্য ৮টি খাত নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। এই ৮ শ্রেণির লোক ছাড়া অন্য কাউকে যাকাত দিলে তা আদায় হবে না।
إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَاِبْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِنْ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
‘যাকাত তো কেবল ফকির, মিসকিন, যাকাত আদায়কারী কর্মচারী, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা প্রয়োজন (নওমুসলিম), দাস মুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে (জিহাদে বা দ্বীনি ইলম অর্জনে) এবং মুসাফিরদের জন্য। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’ (সূরা আত-তাওবা, আয়াত: ৬০)
শ্রেণিগুলো হলো:
১. ফকির: যার কিছু সম্পদ আছে কিন্তু তা নেসাব (সাড়ে ৫২ তোলা রুপার মূল্য) পরিমাণ নয়।
২. মিসকিন: যার কাছে কিছুই নেই, অত্যন্ত নিঃস্ব।
৩.আমিল: আমিল হলো সেই ব্যক্তি যাকে ইসলামী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যাকাত ও উশর আদায়ের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছে। তাকেও যাকাত দেওয়া যেতে পারে। (তবে বর্তমানে ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা না থাকায় এর প্রচলন নেই)।
৪. মুয়াল্লাফাতুল কুলুব: এরা হলো সেই সব লোক যাদের অন্তর জয় করার জন্য (ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করতে) যাকাত দেওয়া হতো। কিন্তু ইসলামের প্রসারের পর এর প্রয়োজনীয়তা অবশিষ্ট নেই অথবা এটি রহিত হয়ে গেছে।
৫. দাস মুক্তি: বর্তমানে এই প্রথা নেই।
৬. ঋণগ্রস্ত: যার ওপর ঋণের বোঝা আছে এবং ঋণ পরিশোধ করার মতো পর্যাপ্ত সম্পদ নেই।
৭. আল্লাহর পথে: দ্বীনের প্রচার ও প্রসারে নিয়োজিত ব্যক্তি বা দ্বীনি শিক্ষারত গরিব শিক্ষার্থী।
৮. মুসাফির: মুসাফিরের কাছে যদি সফরের অবস্থায় টাকা শেষ হয়ে যায়, তবে তাকেও যাকাতের টাকা দেওয়া যাবে; যদিও তার নিজ দেশে সম্পদ বিদ্যমান থাকে। এছাড়া দ্বীনী ইলম অর্জনকারী ছাত্রকেও যাকাত দেওয়া যাবে, কারণ এটিও আল্লাহর পথের অন্তর্ভুক্ত।
২. যাদেরকে যাকাত দেওয়া যাবে না:
যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু ধর্মীয় ও রক্তগত বিধি-নিষেধ রয়েছে। নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের যাকাত দেওয়া বৈধ নয়:
১. যাকাতের নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক: যার কাছে যাকাত ফরজ হওয়ার মতো সম্পদ আছে, তাকে যাকাত দেওয়া যাবে না।
২. নিজের বাবা-মা ও ঊর্ধ্বতন বংশধর: বাবা, মা, দাদা, দাদি, নানা, নানি, তাদেরকে যাকাত দেওয়া যাবে না। কারণ তাদের ভরণপোষণ করা সন্তানের ওপর ওয়াজিব।
৩. নিজের সন্তান ও নিম্নতর বংশধর: ছেলে, মেয়ে, নাতি, নাতনি—তাদেরকে যাকাত দেওয়া যাবে না।
৪. স্ত্রীকে: স্বামী তার স্ত্রীকে যাকাত দিতে পারবে না।
৫. সৈয়দ বংশ বা রাসূল (সা.)-এর পরিবার: বনু হাশেম বা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বংশধরদের জন্য যাকাত গ্রহণ করা হারাম।
৬. অমুসলিম: যাকাত কেবল মুসলিমদের হক। তবে সাধারণ দান বা সদকা অমুসলিমদের দেওয়া যায়।
৭. মসজিদ বা অবকাঠামো নির্মাণে: যাকাত সরাসরি মানুষকে মালিক বানিয়ে দিতে হয়। তাই মসজিদ, মাদ্রাসা বা রাস্তা নির্মাণের কাজে যাকাতের টাকা খরচ করা যাবে না। (তবে মাদ্রাসার গরিব শিক্ষার্থীদের খাবারের জন্য দেওয়া যাবে)।
"باب المصرف أي: مصرف الزكاة والعشر، وأما خمس المعدن فمصرفه كالغنائم (هو فقير، وهو من له أدنى شيء) أي: دون نصاب أو قدر نصاب غير نام مستغرق في الحاجة.، (ومسكين من لا شيء له) على المذهب؛ لقوله تعالى {أو مسكينا ذا متربة} [البلد: 16]- وآية السفينة للترحم، (وعامل) يعم الساعي والعاشر (فيعطى) ولو غنيا لا هاشميا ؛ لأنه فرغ نفسه لهذا العمل ، فيحتاج إلى الكفاية ، والغنى لا يمنع من تناولها عند الحاجة كابن السبيل بحر عن البدائع، ..... (بقدر عمله)ما يكفيه وأعوانه بالوسط لكن لا يزاد على نصف ما يقبضه. (ومكاتب) لغير هاشمي، ولو عجز حل لمولاه ولو غنيا كفقير استغنى وابن سبيل وصل لماله.وسكت عن المؤلفة قلوبهم لسقوطهم إما بزوال العلة أو نسخ بقوله - صلى الله عليه وسلم - لمعاذ في آخر الأمر «خذها من أغنيائهم وردها في فقرائهم» (ومديون لا يملك نصابا فاضلا عن دينه) وفي الظهيرية: الدفع للمديون أولى منه للفقير. (وفي سبيل الله وهو منقطع الغزاة)، وقيل: الحاج، وقيل: طلبة العلم، وفسره في البدائع بجميع القرب وثمرة الاختلاف في نحو الأوقاف، (وابن السبيل وهو) كل (من له ماله لا معه)ومنه ما لو كان ماله مؤجلا أو على غائب أو معسر أو جاحد ولو له بينة في الأصح. (يصرف) المزكى (إلى كلهم أو إلى بعضهم) ".
(الدر المختار مع رد المحتار: كتاب الزكاة، باب مصرف الزكاة 2/ 339، 340، 341، 342، 343، 344)، ط. سعيد)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১