রোজা অবস্থায় সাপোজিটর/ডুস ব্যবহারে ফলে রোযা ভেঙ্গে যায়
প্রশ্নঃ ১৩৮৬৫০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, রোজা অবস্থায় সাপোজিটর/ ডুস ব্যবহার করা যাবে কিনা?
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
ফেনী
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই!
পায়ুপথ (মলদ্বার) দিয়ে কোনো বস্তু যদি ভিতরে প্রবেশ করে ‘‘হুকনাহ” (অর্থাৎ এনিমা দেওয়ার নির্দিষ্ট গভীর স্থান) অতিক্রম করে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যায়। চিকিৎসকদের গবেষণা অনুযায়ী, মলদ্বারের বাইরের অংশ থেকে “হুকনাহ”-এর দূরত্ব প্রায় পাঁচ ইঞ্চি।
অতএব, যদি শুকনো বা তরল কোনো ওষুধ পায়ুপথ দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করানো হয় এবং তা যদি উক্ত গভীর স্থানে পৌঁছে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। কারণ ঐ ওষুধ বা মলম “হুকনাহ” পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
আর যদি পায়ুপথ দিয়ে কোনো যন্ত্র প্রবেশ করানো হয় এবং সেটি ভেজা থাকে বা তাতে মলম ইত্যাদি লাগানো থাকে, তাহলে তা যদি প্রায় তিন ইঞ্চির বেশি ভিতরে প্রবেশ করে, রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। তবে যদি তিন ইঞ্চির কম থাকে এবং ভেজা অংশ “হুকনাহ” পর্যন্ত পৌঁছানোর প্রবল ধারণা না থাকে, তাহলে রোজা নষ্ট হবে না।
এছাড়া, যদি কোনো যন্ত্র সম্পূর্ণ শুকনো অবস্থায় ভিতরে প্রবেশ করানো হয়, তাতে কোনো প্রকার ভেজাভাব বা মলম না থাকে, এবং তার এক প্রান্ত বাইরে থাকে, তাহলে যতই ভিতরে প্রবেশ করুক না কেন, রোজা ভাঙবে না।
(কিতাবুন নওয়াজিল, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২২৪)
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু সাপোজিটর/ ডুস ব্যবহারের ফলে তা গভীর স্থানে পৌঁছে যায়, তাই রোজা অবস্থায় তা ব্যবহারের ফলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। পরবর্তীতে উক্ত রোযা কাযা করতে হবে। কাফফারা লাগবে না।
ولو بالغ في الاستنجاء حتی بلغ موضع الحقنۃ فسد۔ (شامي ۳؍۳۶۹ زکریا)
ولو أدخل إصبعہ في إستہٖ والمرأۃ في فرجہا لا یفسد، إلا إذا کانت مبتلۃ بالماء أو الدہن فحینئذٍ یفسد لوصول الماء أو الدہن۔ (الفتاویٰ الہندیۃ ۱؍۲۰۴)
وہو أن ما دخل في الجوف إن غاب فیہ فسد وہو المراد بالاستقرار، وإن لم یغب؛ بل بقي طرف منہ في الخارج أو کان متصلاً بشيء في الخارج لا یفسد لعدم استقرارہٖ، ولو مبتلاً فسد لبقاء شيء من البلۃ في الداخل۔ (شامي ۳؍۳۶۹ زکریا)فقط
الدر المختار مع رد المحتار :
"ولو بالغ في الاستنجاء حتى بلغ موضع الحقنة فسد وهذا قلما يكون ولو كان فيورث داء عظيما.
قوله: حتى بلغ موضع الحقنة) هي دواء يجعل في خريطة من أدم يقال لها المحقنة مغرب ثم في بعض النسخ المحقنة بالميم وهي أولى قال في الفتح: والحد الذي يتعلق بالوصول إليه الفساد قدر المحقنة اهـ. أي قدر ما يصل إليه رأس المحقنة التي هي آلة الاحتقان وعلى الأول فالمراد الموضع الذي ينصب منه الدواء إلى الأمعاء."
(كتاب الصوم، ج:2، ص:397، ط:سعيد)
لسان العرب:
"والحقنة: دواء يحقن به المريض المحتقن، واحتقن المريض بالحقنة؛ ومنه الحديث: أنه كره الحقنة؛ هي أن يعطى المريض الدواء من أسفله وهي معروفة عند الأطباء."
(لسان العرب، ج:13، ص:126، ط:دار صادر)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মুফতী, ফাতাওয়া বিভাগ, মুসলিম বাংলা
লেখক ও গবেষক, হাদীস বিভাগ, মুসলিম বাংলা
খতীব, রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদ, ফেনী
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১