সদকাতুল ফিতিরের পরিমাণ
প্রশ্নঃ ১৪২৬৫৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ২০২৬ কলকাতা ওয়েস্ট বেঙ্গল মাথার পিস ফিতরা কত করে
৫ মার্চ, ২০২৬
ওয়েস্ট বেঙ্গল ৭৪৩৫০২
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সদকায়ে ফিতর আদায়ের ক্ষেত্রে চার ধরনের খাদ্যদ্রব্য (গম, যব, খেজুর, কিশমিশ) — এদের যেকোনো একটি বা তার বাজারমূল্য প্রদান করা আবশ্যক। বিস্তারিত নিম্নরূপঃ
১. গম:
অর্ধ সা‘ (নিসফে সা‘) অর্থাৎ প্রায় পৌনে দুই কেজি। তবে সতর্কতার জন্য ২ কেজি বা এর বাজারমূল্য দেওয়া উত্তম।
২. যব:
এক সা‘ অর্থাৎ প্রায় ৩.৫ কেজি অথবা এর বাজারমূল্য।
৩. খেজুর:
এক সা‘ অর্থাৎ প্রায় ৩.৫ কেজি অথবা এর বাজারমূল্য।
৪. কিশমিশ:
এক সা‘ অর্থাৎ প্রায় ৩.৫ কেজি অথবা এর বাজারমূল্য।
অতএব, উল্লিখিত চার প্রকার খাদ্যদ্রব্যের যেকোনো একটি দ্বারা সদকায়ে ফিতর আদায় করতে চাইলে তার বাজারমূল্য জেনে সে অনুযায়ী হিসাব করে দিতে হবে।
আর প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতরের নির্ধারিত পরিমাণ রমজানের শুরুতে নির্ধারণ করা হয়, যা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়।
*প্রয়োজনীয় কিছু কথা*
* সম্মানিত দ্বীনি ভাই ও বোনেরা, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের ওপর রমজানের রোজা ফরজ করেছেন এবং এই রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করতে এবং গরিব-মিসকিনের মুখে হাসি ফোটাতে ওয়াজিব করেছেন 'সদকাতুল ফিতর'।
আজকের দিনে আমরা অনেকেই সবচেয়ে কম দামি পণ্য অর্থাৎ 'গম বা আটার' হিসাব অনুযায়ী ফিতরা আদায় করি। কিন্তু আমাদের একটু ভেবে দেখা দরকার—আল্লাহ তায়ালা কি আমাদের কেবল সর্বনিম্ন টুকু দেওয়ার সামর্থ্য দিয়েছেন?
ফিতরার একটি বড় উদ্দেশ্য হলো—ঈদের দিন যেন কোনো গরিব মানুষকে মানুষের দুয়ারে হাত পাততে না হয়। আমি যদি ৩-৪ কেজি আটার দাম (১০০-১৫০ টাকা) ফিতরা দেই, তবে একজন অভাবী মানুষ তা দিয়ে হয়তো একবেলার চাল কিনতে পারবে। কিন্তু আমি যদি যার যার সাধ্যানুযায়ী কিসমিস বা পনিরের হিসেবে (১,৫০০-২,০০০ টাকা) ফিতরা দেই, তবে সেই পরিবারটি ঈদের দিন পেট ভরে ভালো খাবার খেতে পারবে, নতুন কাপড় কিনতে পারবে।
* আমরা নিজেদের খাবারের ক্ষেত্রে সেরাটা বেছে নিই, কিন্তু ইবাদত বা দানের ক্ষেত্রে অনেক সময় সর্বনিম্ন সীমা (আটা বা গমের হিসাব) খোঁজার চেষ্টা করি। অথচ ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে 'ইহসান' বা সর্বোত্তম পন্থায় কাজ করা। তাই আমরা যার যার সামর্থ্যানুযায়ী ফিতরা দিবো ইনশাল্লাহ।
তাই আসুন, যাদের আল্লাহ তায়ালা সামর্থ্য দিয়েছেন এবং অঢেল সম্পদ দিয়েছেন, তারা সর্বনিম্ন সীমার (আটা) ওপর পড়ে না থেকে কিসমিস, খেজুর বা পনিরের উচ্চমূল্য অনুযায়ী ফিতরা আদায় করি। যাতে গরিব মানুষও ঈদকে ঈদের মত আনন্দের সাথে উৎযাপন করতে পারে। মনে রাখবেন, আপনি আল্লাহর রাস্তায় যা খরচ করছেন, তা হারাবে না; বরং তা বহুগুণ হয়ে আপনার আমলনামায় জমা হবে।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের দানকে কবুল করুন এবং আমাদের উত্তম বদলা দান করুন। আমীন।
নির্দেশনা
১. সদকায়ে ফিতর টাকা দিয়েও আদায় করা যাবে।
২. সদকায়ে ফিতর ঈদের জামাতের পূর্বে আদায় করুন।
৩. সদকায়ে ফিতর প্রত্যেকে নিজ বাজার দর হিসেবেও আদায় করতে পারবে।
৪. সামর্থ্য থাকলে সদকায়ে ফিতর এখানে উল্লেখিত খাদ্য দ্রব্যের মধ্যে বেশি মূল্যের খাদ্য হিসেবে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া উত্তম।
"عن عياض بن عبد الله بن سعد بن أبي سرح العامري : أنه سمع أبا سعيد الخدري رضي الله عنه يقول:"كنا نخرج زكاة الفطر، صاعا من طعام، أو صاعا من شعير، أو صاعا من تمر، أو صاعا من أقط،أو صاعا من زبيب."
(صحیح البخاري، کتاب الصوم،باب صدقة الفطر صاع من طعام،ج:2،ص:131،ط: دارالفكر)
"عن ابن عباس قال:ذكرفي صدقةالفطرقال:صاعامن برأوصاعامن تمرأوصاعامن شعيرأوصاعامن سلت."
(سننِ نسائی، كتاب الزكاة،باب مكيلةصدقة الفطر،ج:5،ص:51،ط: المكتبة النجارية بالقاهره)
"وانما تجب صدقة الفطر من اربعة اشیاء من الحنطة و الشعیر والتمر و الزبیب."
(فتاوی ہندیہ، باب صدقة الفطر، ج:1، ص:191، ط: مکتبة حقانیة)
"وھی نصف صاع من بر او صاع من شعیر او تمر."
(فتاوی ہندیہ، باب صدقة الفطر، ج:1، ص:191، ط: مکتبة حقانیة)
"ودفع القیمة أي الدراھم أفضل من دفع العین علی المذھب المفتی به،لأن العلة فی أفضلیة القيمة کونھا أعون علی دفع حاجة الفقیر."
(باب صدقة الفطر،ج:2،ص:366،ط: سعید)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
আব্দুল কাইয়ুম
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১