কোন ওয়ারিশের সম্মতি ব্যতীত সম্পত্তি বণ্টনে কম বেশি করলে তা সমন্বয় করতে হবে
প্রশ্নঃ ১৪৯১০৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, এক লোকের দুই ছেলে দুই মেয়ে, স্ত্রী আছেন, উনি মৃত। ওনার একটা জমি ছিল যেখানে জমি থাকা অবস্থায় দুই ছেলে ও এক মেয়ে, স্ত্রী সহ দুইবার করে ঐ জমির কিছু অংশ বিক্রি করেছেন,ওনার বড় মেয়ে দুইবার বিক্রি করার সময় একবারো সই করে নি, কোন টাকাও নেয় নি। একটা কোম্পানি ঐ জায়গায় ফ্ল্যাট করে ওনাদের মোট তিনটা ফ্ল্যাট দিছে। তার মাঝে দুই ছেলে দুইটা ফ্ল্যাট নিছে আর বাকি ওনার দুই মেয়ে আর স্ত্রী কে ভাগাভাগি করে দিছে,তো আমি জানতে চাচ্ছি এতে কি বড় মেয়েটাকে তার বাবার সম্পত্তির পুরোপুরি ভাগ থেকে বঞ্চিত করা হয় নি?? ভাগ টা তাহলে কেমন হওয়া উচিত ছিল ইসলাম মতে?? জমি থাকা অবস্থায় যেহেতু ওনার স্ত্রী দুইবারই বিক্রি করছেন তাহলে স্ত্রী হিসেবে কি উনি আর কিছু পাওয়ার উপযুক্ত??
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রশ্নোক্ত সমস্যার সমাধানের জন্য প্রথমে উত্তরাধিকার হিসেবে প্রত্যেক ওয়ারিশের প্রাপ্য অংশ নির্ধারণ করলে বোঝা যাবে, কে বেশি নিয়ে ভোগ করেছে আর কাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাই প্রথমে আমরা উত্তরাধিকার বণ্টন করছি।
শুরুতে মৌলিক কিছু কথা মনে রাখতে হবে, প্রশ্নোক্ত মরহুম মৃত্যুকালে নিজ মালিকানায় যা কিছু স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, নগদ অর্থ, সোনা-রূপা, কাপড়-চোপড় ও গৃহসামগ্রী ইত্যাদি রেখে গেছেন, সবই তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে। উক্ত সম্পদ থেকে প্রথমে তার কোন ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করতে হবে। এরপর ওয়ারিশ ব্যতীত অন্য কারো জন্য কোন বৈধ অসিয়ত কিংবা নামায রোযা ইত্যাদির কাফফারা আদায়ের অসিয়ত করে থাকলে তার বাকী সম্পদের এক তৃতীয়াংশ থেকে তা আদায় করতে হবে।
সর্বশেষ প্রশ্নে বর্ণিত ওয়ারিশগণ ব্যতীত মরহুমের অন্য কোনো ওয়ারিশ না থাকলে তার অবশিষ্ট সমুদয় সম্পত্তি ইসলামী বিধান অনুযায়ী নিম্ন লিখিত হারে ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টিত হবে।
ক্রমিক ওয়ারিশ শতকরা হারে প্রাপ্য অংশ
১ স্ত্রী ১২.৫%
২ ছেলে ২৯.১৬৬৬%
৩ ছেলে ২৯.১৬৬৬%
৪ মেয়ে ১৪.৫৮৩৩%
৫ মেয়ে ১৪.৫৮৩৩%
উপরোক্ত শতকরা হারের চেয়ে কারও কম বেশি করার কোন সুযোগ নেই। কম বেশি হয়ে থাকলে তা অবশ্যই সমন্বয় করতে হবে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে জমি বিক্রি করা টাকা, অবশিষ্ট জমি এবং ফ্ল্যাট যদি প্রত্যেক ওয়ারিশের প্রাপ্য হার অনুযায়ী বণ্টন করা না হয় তাহলে তা অন্যায় ও গুনাহের কাজ বলে বিবেচিত হবে। সেক্ষেত্রে যারা বেশি নিয়েছে তারা অবিলম্বে অতিরিক্ত অংশ হকদারদেরকে ফেরত দিয়ে দিবে। যেমন বড় মেয়েকে আগে কিছু না দিয়ে থাকলে এখন অবশ্যই তার প্রাপ্য অংশ পুরাপুরি বুঝিয়ে দিতে হবে। আর যারা প্রাপ্য অংশ পরিমাণ আগেই নিয়েছে তারা আর কিছু পাবে না।
আর ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে মূল্য ধরে বণ্টন করতে হবে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে অন্য সম্পদের বিনিময়ে সমন্বয় করতে হবে।
মোটকথা :
১. যারা বেশি নিয়েছে তারা অতিরিক্ত অংশ ফেরত দিবে। সেইসাথে অন্যায় ভোগের কারণে হকদারদের নিকট ক্ষমা চেয়ে নিবে।
২. যারা কম নিয়েছে তারা বাকি অংশ ফেরত পাবে।
৩. যারা প্রাপ্য অংশ পরিমাণই নিয়েছে তারা এখন আর কিছুই পাবে না।
৪. আর যারা কিছুই পায়নি তারা পূর্ণ প্রাপ্য অংশ পাবে। যেমন, বড় মেয়ে যদি আগে কিছুই না পেয়ে থাকে, তাহলে সে এখন তার পূর্ণ প্রাপ্য অংশ (১৪.৫৮৩৩%) পাবে।
-সূরা নিসা, আয়াত নং ১১-১২; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২০৯৮
النصوص الشرعية
** قوله تعالى : ﴿يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ ﴾...(النساء: 11)
﴿وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُنَّ وَلَدٌ فَإِنْ كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَكُمْ وَلَدٌ فَإِنْ كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُمْ مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُوصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ ﴾ (النساء: 12)
** «سنن الترمذي» (رقم الحديث- 2098)
عن ابن عباس، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «ألحقوا الفرائض بأهلها فما بقي فهو لأولى رجل ذكر»
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন