তাওবাকারীকে পূর্বের গুনাহের কারণে কটুক্তি করা অন্যায়
প্রশ্নঃ ১৪৯২১৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, , আমি আগে বদদ্বীন ছিলাম কিন্তু এখন দিন মেনে চলার চেষ্টা করি, আগে আম্মার সাথে অনেক খারাপ আচরণ করেছি আবার পায়ে বারবার মাফ চেয়েছি আম্মা মাফ করে দিয়েছেন। কিন্তু, এখন আম্মা সে আগের কথা তুলে ধরেন এবং বদ দোয়া করেন। আমার করনীয় কি আমি কি আল্লাহর কাছে মাপ পাব?
১৭ এপ্রিল, ২০২৬
মধুপুর
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আপনি বাস্তবেই যদি আল্লাহর নিকট খাঁটি দিলে তাওবা করে থাকেন তাহলে আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দিবেন ইনশাআল্লাহ। তবে কোন বান্দার হক নষ্ট করে থাকলে আল্লাহর নিকট তাওবা করার পাশাপাশি ঐ ব্যক্তির হক তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে। আর যদি এমন বিষয় হয় যা ফিরিয়ে দেওয়ার মতো নয় তাহলে তার নিকটও ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। এমনিভাবে মায়ের সাথে কোন অন্যায় আচরণের কারণে আল্লাহর নিকট তাওবা করার সাথে মায়ের নিকটও যদি ক্ষমা চান এবং তিনিও ক্ষমা করে দেন, তাহলে এক্ষেত্রেও আল্লাহ তায়ালা মাফ করে দিবেন ইনশাআল্লাহ।
প্রকৃত অর্থে তাওবাকারীর প্রশংসা ও ফযীলতের কথা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন। কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে-
﴿إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا (70) وَمَنْ تَابَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَإِنَّهُ يَتُوبُ إِلَى اللَّهِ مَتَابًا (71) ﴾
(গুনাহগারের শাস্তির বিবরণ দেওয়ার পর বলেন) তবে কেউ তাওবা করলে, ঈমান আনলে এবং সৎকর্ম করলে, আল্লাহ এরূপ লোকদের পাপরাশিকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
এবং যে ব্যক্তি তাওবা করে ও সৎকর্ম করে, সে মূলত আল্লাহর দিকে যথাযথভাবে ফিরে আসে। -সূরা ফুরকান, আয়াত নং ৭০-৭১
অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
﴿إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُولَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ شَيْئًا﴾
অবশ্য যারা তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র জুলুম করা হবে না। -সূরা মারইয়াম, আয়াত নং ৬০
প্রকৃত তাওবা সাফল্যের চাবি
আল্লাহ বলেন-
﴿وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ﴾
পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তওবা (প্রত্যাবর্তন) কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। -(সূরা নূর, আয়াত : ৩১)
তাই কোন ব্যক্তি তাওবা করে থাকলে, যথাযথভাবে তাওবাকৃত গুনাহ থেকে বেঁচে থাকলে তাকে পূর্বের ভুল বা গুনাহের কথা উল্লেখ করে খোটা দেওয়া বা কটুক্তি করা কোনভাবেই উচিত নয়। কেননা খাঁটি তাওবাকারী ব্যক্তি কেমন যেন গুনাহমুক্ত ব্যক্তির মতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
التَّائِبُ مِنْ الذَّنْبِ كَمَنْ لَا ذَنْبَ لَهُ.
গুনাহ থেকে তাওবাকারী ব্যক্তি গুনাহমুক্ত ব্যক্তির মতো। -সূনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ৪২২৫
আরেক হাদীসে হযরত আনাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
كُلُّ ابْنِ آدَمَ خَطَّاءٌ وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ.
প্রত্যেক মানুষই গুনাহগার। তবে গুনাহগারদের মধ্যে উত্তম হলো তাওবাকারীগণ। -সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৪৯৯
তাছাড়া তাওবাকারী তো বটেই, যে কোন মানুষের দোষ গোপন করার অনেক ফযীলত রয়েছে। আবার কারও ব্যক্তিগত দোষ প্রকাশের ব্যাপারে সতর্কও করা হয়েছে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
مَنْ سَتَرَ عَوْرَةَ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ، سَتَرَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَمَنْ كَشَفَ عَوْرَةَ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ، كَشَفَ اللَّهُ عَوْرَتَهُ حَتَّى يَفْضَحَهُ بِهَا فِي بَيْتِهِ.
যে ব্যক্তি তার কোন মুসলিম ভাইয়ের দোষ গোপন করবে, আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন তার দোষ গোপন করবেন। আর যে ব্যক্তি তার কোন মুসলিম ভাইয়ের দোষ প্রকাশ করে, আল্লাহ তায়ালা তার দোষও উন্মোচন করে দিবেন, এবং এর দ্বারা নিজ ঘরে তাকে অপদস্থ করবেন। -সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ২৫৪৬
তিরমিযী শরীফের আরেক হাদীসেও এমনই ফযীলত তুলে ধরা হয়েছে। -সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২০৩২
মোটকথা আপনি যদি আসলেই তাওবা করে সঠিক পথে ফিরে আসেন এবং মাকে কোন কষ্ট দিয়ে থাকলে তার কাছেও ক্ষমা চেয়ে থাকেন এবং তিনিও আপনাকে মাফ করে দিয়ে থাকেন, তাহলে আপনার পূর্বের কোন ভুলের কথা উল্লেখ করে কটু কথা বলা অন্যায়। এক্ষেত্রে আপনি অবশ্যই আপনার মায়ের জন্য অনেক বেশি দোয়া করবেন। সেইসাথে উল্লিখিত আয়াত ও হাদীস দ্বারা বোঝাতে থাকবেন। কোনভাবেই তার সাথে কোন প্রকার বেয়াদবি করা যাবে না। সর্বোচ্চ সম্মান বজায় রেখে মায়ের সাথে উত্তম আচরণ করতে হবে।
** «سنن الترمذي» رقم 2032
-عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: «صَعِدَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمِنْبَرَ فَنَادَى بِصَوْتٍ رَفِيعٍ فَقَالَ: يَا مَعْشَرَ مَنْ أَسْلَمَ بِلِسَانِهِ وَلَمْ يُفْضِ الْإِيمَانُ إِلَى قَلْبِهِ» لَا تُؤْذُوا الْمُسْلِمِينَ وَلَا تُعَيِّرُوهُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا عَوْرَاتِهِمْ؛ فَإِنَّهُ مَنْ تَتَبَّعَ عَوْرَةَ أَخِيهِ الْمُسْلِمِ تَتَبَّعَ اللهُ عَوْرَتَهُ، وَمَنْ تَتَبَّعَ اللهُ عَوْرَتَهُ يَفْضَحْهُ وَلَوْ فِي جَوْفِ رَحْلِهِ. قَالَ: وَنَظَرَ ابْنُ عُمَرَ يَوْمًا إِلَى الْبَيْتِ أَوْ إِلَى الْكَعْبَةِ فَقَالَ: مَا أَعْظَمَكِ وَأَعْظَمَ حُرْمَتَكِ وَالْمُؤْمِنُ أَعْظَمُ حُرْمَةً عِنْدَ اللهِ مِنْكِ.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুহাম্মাদ আশরাফুল আলম
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১