মা অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও সন্তানের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয় না
প্রশ্নঃ ১৫৩৬৭৮. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, জনাব. সবিনয় নিবেদন এই যে মোস্তফা কামাল মৃত্যকালে দুই স্ত্রী তিন ছেলে তিন মেয়ে ওয়ারিশ রেখে যান .এরা কোন প্রকার আপত্তি ছাড়া মোস্তফা কামালের ওয়ারিশ। মোস্তফা কামালের বাবা সাবাজউদ্দিন মারা যান 1968 সালে. মারা যাওয়ার সময় এক স্ত্রী এক ছেলে দুই মেয়ে রেখে মারা যান. আইন অনুযায়ী সবাই সম্পত্তি পান ।সাবাজ উদ্দিন মারা যাওয়ার পরে উনার স্ত্রী অযুফা খাতুন আবার বিয়ে বসেন. সেই সংসারে ছেলে মেয়ে আছে. মোস্তফা কামাল মারা যাওয়ার সময় উনার মা ওজুফা খাতুন জীবিত। এখন মা যেহেতু জীবিত উনি কি ওনার ছেলে মোস্তফা কামালের ওয়ারিশ পাবেন?। নাকি বিয়ে হওয়ার কারণে ওয়ারিশ বাতিল হবে? আর যদি যদি ওয়ারিশ হয় তাহলে কে কতটুকু অংশ পাবে?। উল্লেখ্য যে মুস্তাফা কামালের দুই স্ত্রী তিন ছেলে তিন মেয়ে এবং মা।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রথমে মৌলিক কিছু কথা
১. মা সন্তানের এমন ওয়ারিশ যিনি কখনও সন্তানের উত্তরাধিকার সম্পদ থেকে বঞ্চিত হন না। তিনি অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও অবশ্যই তিনি সন্তানের ওয়ারিশ হিসেবে বহাল থাকেন।
২. কোন ব্যক্তি মারা গেলে তিনি মৃত্যুকালে নিজ মালিকানায় যা কিছু স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, নগদ অর্থ, স্বর্ণ-রৌপ্য, কাপড়-চোপড় ও গৃহসামগ্রী ইত্যাদি রেখে যান, সবই তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়। উক্ত সম্পদ থেকে প্রথমে প্রয়োজনে তার কাফন দাফনের ব্যয় বহন করতে হয়। এরপর তার কোন ঋণ থাকলে তা উক্ত সম্পদ থেকে পরিশোধ করতে হয়। আর ওয়ারিশ ব্যতীত অন্য কারো জন্য কোন বৈধ অসিয়ত কিংবা নামাজ রোজা ইত্যাদির কাফফারা আদায়ের অসিয়ত করে থাকলে তার বাকী সম্পদের এক তৃতীয়াংশ থেকে তা আদায় করতে হয়।
এরপর অবশিষ্ট সমুদয় সম্পত্তি মৃত ব্যক্তির শরিয়া কর্তৃক নির্ধারিত ওয়ারিশদের মাঝে যথা নিয়মে বণ্টন করা আবশ্যক।
সুতরাং মরহুম মোস্তফা কামালের সমুদয় সম্পদও উপরোক্ত বিবরণ মোতাবেক পর্যায়ক্রমে তার ওয়ারিশদের মাঝে বণ্টিত হবে। প্রশ্নে বর্ণিত ওয়ারিশগণ ব্যতীত মরহুম মোস্তফা কামালের অন্য কোনো ওয়ারিশ না থাকলে তার অবশিষ্ট সমুদয় সম্পত্তি ইসলামী বিধান অনুযায়ী নিম্ন লিখিত হারে বণ্টিত হবে।
প্রশ্নে স্ম্পদের বিবরণ না থাকায় ওয়ারিশদের প্রাপ্য অংশের বণ্টন শতকরা হারে দেখানো হলো-
মরহুম মোস্তফা কামাল, বণ্টন পদ্ধতি শতকরা হারে
ক্রমিক ওয়ারিশ শতকরা হারে প্রাপ্য অংশ
১ মা (অযুফা খাতুন) ১৬.৬৬৬৬%
২ স্ত্রী ৬.২৫%
৩ স্ত্রী ৬.২৫%
৪ ছেলে ১৫.৭৪০৭%
৫ ছেলে ১৫.৭৪০৭%
৬ ছেলে ১৫.৭৪০৭%
৭ মেয়ে ৭.৮৭০৩%
৮ মেয়ে ৭.৮৭০৩%
৯ মেয়ে ৭.৮৭০৩%
উল্লেখ্য, মৌলিক কথা ১-এর আলোকে মোস্তফা কামালের মা অবশ্যই ওয়ারিশ হবেন। তিনি অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কারণে সন্তানের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন না। তার প্রাপ্য অংশ উপরে উল্লেখ করা হয়েছে।
-সূরা নিসা, আয়াত নং ১১; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৩৫৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৬১৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২১৭৯১; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৫৬৫; সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২১২০
الأدلة القرآنية
** قوله تعالى : ﴿يُوصِيكُمُ ٱللَّهُ فِيٓ أَوۡلَٰدِكُمۡۖ لِلذَّكَرِ مِثۡلُ حَظِّ ٱلۡأُنثَيَيۡنِۚ فَإِن كُنَّ نِسَآءٗ فَوۡقَ ٱثۡنَتَيۡنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَۖ وَإِن كَانَتۡ وَٰحِدَةٗ فَلَهَا ٱلنِّصۡفُۚ وَلِأَبَوَيۡهِ لِكُلِّ وَٰحِدٖ مِّنۡهُمَا ٱلسُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُۥ وَلَدٞۚ فَإِن لَّمۡ يَكُن لَّهُۥ وَلَدٞ وَوَرِثَهُۥٓ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ ٱلثُّلُثُۚ فَإِن كَانَ لَهُۥٓ إِخۡوَةٞ فَلِأُمِّهِ ٱلسُّدُسُۚ مِنۢ بَعۡدِ وَصِيَّةٖ يُوصِي بِهَآ أَوۡ دَيۡنٍۗ ءَابَآؤُكُمۡ وَأَبۡنَآؤُكُمۡ لَا تَدۡرُونَ أَيُّهُمۡ أَقۡرَبُ لَكُمۡ نَفۡعٗاۚ فَرِيضَةٗ مِّنَ ٱللَّهِۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمٗا ١١﴾ [النساء: 11]
الأدلة الحديثية
** عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا- قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم [أَلْحِقُوا الْفَرَائِضَ بِأَهْلِهَا، فَمَا بَقِيَ فَهُوَ لِأَوْلَى رَجُلٍ ذَكَرٍ] مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ؛
** عَنْ أَبِي أُمَامَةَ الْبَاهِلِيِّ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صَلّى الله عَلَيْهِ وَسَلّم- يَقُولُ: [إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَعْطَى كُلَّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ ، فَلَا وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ]
التخريج: رواه أحمد (21791)، وأبو داود ( 2870 ـ 3565 )، والترمذي (2120)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন