কুরবানির সাত ভাগের এক ভাগ কি রাসূল (সা.) এর নামে দেওয়া ও তার গোস্তের হুকুম
প্রশ্নঃ ১৫৫৩৫৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, রাসূল (সা.) এর নামে কি কোরবানির সাত নামের এক দেওয়া যায়
২৮ মে, ২০২৬
সিলেট
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় প্রশ্নকারী ভাই, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পক্ষ থেকে কুরবানি করা শুধু জায়েজই নয়, বরং উত্তম। এই বিষয়ে শুধু নিজের নিয়ত করাই যথেষ্ট। কসাইকে জানানোর কোনো প্রয়োজন নেই। তাকে না জানিয়েও কুরবানি করা যেতে পারে।
* নবী কারীম ﷺ বা মৃত স্বজনের নামে শরিকানা কুরবানির পদ্ধতিঃ
একাধিক ব্যক্তি মিলে যদি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে কিংবা নিজেদের মা-বাবার মাগফিরাতের জন্য কুরবানির একটি অংশ (১ ভাগ) নির্দিষ্ট করতে চান, তবে নির্ভরযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য মতানুযায়ী কুরবানি সহীহ হহয়ে যাবে তবে শর্ত হলো:
অংশীদারদের মধ্যে সবাই প্রথমে তাঁদের নিজ নিজ অংশের টাকা যেকোনো একজন ব্যক্তির কাছে 'হেবা' (উপহার বা গিফট) করে দেবেন। এর ফলে শরিয়তের দৃষ্টিতে ওই টাকা এবং কুরবানির ওই নির্দিষ্ট অংশটির পূর্ণ মালিকানা সেই একজন ব্যক্তির হয়ে যাবে। কারণ কুরবানির ১ অংশে একাধিক শরীক হওয়া যায় না। সে টাকার মালিকানা পাওয়ার পর নিজের পক্ষ থেকে মহানবী ﷺ কিংবা নিজেদের মৃত আত্মীয়-স্বজনদের ঈসালে সওয়াবের নিয়তে এই নফল কুরবানির নিয়ত করবেন।
* ফলে সওয়াব যেভাবে বণ্টিত হবেঃ
এর ফলে যিনি টাকার মালিক হয়ে কুরবানি করছেন তিনিও সওয়াব পাবেন এবং ইনশাআল্লাহ বাকি অংশীদারগণও যাঁরা নিজেদের অংশের টাকা উপহার হিসেবে দিয়ে দিয়েছেন, তাঁরাও পূর্ণ সওয়াবের অধিকারী হবেন। যাঁর বা যাঁদের উদ্দেশ্যে সওয়াব ঈসালে সওয়াব করা হলো, তাঁরাও কবরে বসে এই কুরবানির উপহার ও পূর্ণ সওয়াব লাভ করবেন।
* রসূলুল্লাহ ﷺ-এর পক্ষ থেকে করা কুরবানির গোশত
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নামে করা কুরবানির সমস্ত গোশত সদকা (দান) করে দেওয়া জরুরি নয়। কেউ চাইলে এর সমস্ত গোশত সদকা করে দিতে পারে, আবার চাইলে সব গোশত নিজের কাছেও রেখে দিতে পারে।"
"আর যদি চায়, তবে তা তিন ভাগ করে—এক ভাগ সদকা করবে, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে বণ্টন করবে এবং এক ভাগ নিজের জন্য রেখে দেবে; এর সবটাই জায়েজ (বৈধ)
(إعلاء السنن: ج-١٧، ص-٢٧٢-٢٧٣)
قال أحمد: حدثنا أسود بن عامر أنبأنا شريك عن أبي الحسناء عن الحكم عن خنش عن علي قال: أمرني رسول الله صلى الله عليه وسلم أن أضحي عنه فأنا أضحي عنه
(الدر المختار: ج-٦، ص-٣٢٨)
(وإن يذبح بيده أن علم ذلك وإلا) يعلمه (شهدها) بنفسه ويأمر غيره بالذبح كي لا يجعلها ميتة.
وفي الشامية تحت (قوله شهدها بنفسه) لما روى الكرخي بإسناده إلى عمران بن الحصين قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: قومي يا فاطمة فاشهدي أضحيتك فإنه ليغفر لك بأول قطرة من دمها كل ذنب عملته وقولي: إن صلاتي ونسكي ومحياي ومماتي لله رب العالمين لا شريك له
(الهندية: كتاب الأضحية / باب بيان محل إقامة الواجب - ٣٧٠)
ويستحب أن يأكل من أضحيته ويطعم منها غيره والأفضل أن يتصدق
(بدائع الصنائع: کتاب الاضحیہ، ط: سعید - ٥/٧٠)
'' وأما قدره فلا يجوز الشاة والمعز إلا عن واحد وإن كانت عظيمةً سمينةً تساوي شاتين مما يجوز أن يضحى بهما؛ لأن القياس في الإبل والبقر أن لا يجوز فيهما الاشتراك؛ لأن القربة في هذا الباب إراقة الدم وأنها لا تحتمل التجزئة؛ لأنها ذبح واحد، وإنما عرفنا جواز ذلك بالخبر، فبقي الأمر في الغنم على أصل القياس.
فإن قيل: أليس أنه روي أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ضحى بكبشين أملحين أحدهما عن نفسه والآخر عمن لايذبح من أمته، فكيف ضحى بشاة واحدة عن أمته عليه الصلاة والسلام؟
(فالجواب): أنه عليه الصلاة والسلام إنما فعل ذلك لأجل الثواب؛ وهو أنه جعل ثواب تضحيته بشاة واحدة لأمته لا للإجزاء وسقوط التعبد عنهم، ولا يجوز بعير واحد ولا بقرة واحدة عن أكثر من سبعة، ويجوز ذلك عن سبعة أو أقل من ذلك، وهذا قول عامة العلماء''.
( رد المحتار: كتاب الاضحية،٦ / ۳۲٦، ط: دار الفكر)
مَنْ ضَحَّى عَنْ الْمَيِّتِ يَصْنَعُ كَمَا يَصْنَعُ فِي أُضْحِيَّةِ نَفْسِهِ مِنْ التَّصَدُّقِ وَالْأَكْلِ وَالْأَجْرُ لِلْمَيِّتِ وَالْمِلْكُ لِلذَّابِحِ. قَالَ الصَّدْرُ: وَالْمُخْتَارُ أَنَّهُ إنْ بِأَمْرِ الْمَيِّتِ لَا يَأْكُلْ مِنْهَا وَإِلَّا يَأْكُلُ بَزَّازِيَّةٌ، وَسَيَذْكُرُهُ فِي النَّظْمِ
( فتاوی شامی : كتاب الأضحية، ۶ / ۳۳۵، ط: دار الفكر)
(قَوْلُهُ وَعَنْ مَيِّتٍ) أَيْ لَوْ ضَحَّى عَنْ مَيِّتٍ وَارِثُهُ بِأَمْرِهِ أَلْزَمَهُ بِالتَّصَدُّقِ بِهَا وَعَدَمِ الْأَكْلِ مِنْهَا، وَإِنْ تَبَرَّعَ بِهَا عَنْهُ لَهُ الْأَكْلُ لِأَنَّهُ يَقَعُ عَلَى مِلْكِ الذَّابِحِ وَالثَّوَابُ لِلْمَيِّتِ، وَلِهَذَا لَوْ كَانَ عَلَى الذَّابِحِ وَاحِدَةٌ سَقَطَتْ عَنْهُ أُضْحِيَّتُهُ كَمَا فِي الْأَجْنَاسِ. قَالَ الشُّرُنْبُلَالِيُّ: لَكِنْ فِي سُقُوطِ الْأُضْحِيَّةَ عَنْهُ تَأَمُّلٌ اهـ. أَقُولُ: صَرَّحَ فِي فَتْحِ الْقَدِيرِ فِي الْحَجِّ عَنْ الْغَيْرِ بِلَا أَمْرٍ أَنَّهُ يَقَعُ عَنْ الْفَاعِلِ فَيَسْقُطُ بِهِ الْفَرْضُ عَنْهُ وَلِلْآخَرِ الثَّوَابُ فَرَاجِعْهُ
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
আব্দুল কাইয়ুম
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১