পর্দার বিধান রক্ষা করা নারী পুরুষ উভয়েরই দায়িত্ব
প্রশ্নঃ ১৫৪১৭৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি আব্দুর রহিম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের একজন ছাত্র। আমি যেই বিষয়টা জানতে চাই,
১. কোন গায়রে মাহরাম মেয়ে/মহিলা যদি শুধু চোখ খোলা রেখে বাকি সব ঢেকে রাখে, তাহলে আমি কি তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারবো?
২. সেইম তবে এইক্ষেত্রে যদি, সেই মেয়ে/মহিলা শুধু ফেইস খোলা রাখে তাহলে হুকুম কি ?
৩. যদি সে ফেইস, চুল খোলা রাখে, মানে একেবারেই সাধারণ পোষাক, তাহলে ? আমার এই বিষয়গুলো জানা অতি জরূরি,,, আল্লাহ আপনার এবং আমার সমস্ত নেক আমল কবুল করুন, আমিন। আমার জন্য দোয়া চাই, ওস্তায,, আমি যেন পরিপূর্ণ দ্বীন মেনে চলতে পারি।
২৫ মে, ২০২৬
ঢাকা ১২০৫
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
পর্দার দায়িত্ব নারী পুরুষ উভয়েরই। নারীর দায়িত্ব যেমন পর্দাবৃত হয়ে ঘর থেকে বের হওয়া। পুরুষের দায়িত্ব বেপর্দা নারীর দিকে দৃষ্টিপাত না করা বরং দৃষ্টি অবনত রাখা।
এ সম্পর্কে কুরআনুল কারীমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-
﴿قُل لِّلۡمُؤۡمِنِينَ يَغُضُّواْ مِنۡ أَبۡصَٰرِهِمۡ وَيَحۡفَظُواْ فُرُوجَهُمۡۚ ذَٰلِكَ أَزۡكَىٰ لَهُمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرُۢ بِمَا يَصۡنَعُونَ ٣٠ وَقُل لِّلۡمُؤۡمِنَٰتِ يَغۡضُضۡنَ مِنۡ أَبۡصَٰرِهِنَّ وَيَحۡفَظۡنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبۡدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنۡهَاۖ وَلۡيَضۡرِبۡنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّۖ ﴾
মুমিন পুরুষদের বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য শুদ্ধতর। তারা যা-কিছু করে আল্লাহ সে সম্পর্কে পরিপূর্ণ অবগত।
এবং মুমিন নারীদের বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে এবং নিজেদের ভূষণ অন্যদের কাছে প্রকাশ না করে, যা আপনিই প্রকাশ পায় তা ছাড়া এবং তারা যেন তাদের ওড়নার আঁচল নিজ বক্ষদেশে নামিয়ে দেয়...। -সূরা নূর, আয়াত নং ৩০-৩১
উপরোক্ত আয়াতের আলোকে বোঝা যায়, পুরুষদের দায়িত্ব সর্বদা দৃষ্টিকে অবনত রাখা। বেপর্দা থেকে দৃষ্টিকে সংযত রাখা।
অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন-
﴿وَإِذَا سَأَلۡتُمُوهُنَّ مَتَٰعٗا فَسۡـَٔلُوهُنَّ مِن وَرَآءِ حِجَابٖۚ ذَٰلِكُمۡ أَطۡهَرُ لِقُلُوبِكُمۡ وَقُلُوبِهِنَّۚ﴾
তোমরা তাদের (বেগানা নারীদের) কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ। -সূরা আহযাব, আয়াতন নং ৫৩
হাদীসের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আলী রা.কে সম্বোধন করে বলেন-
يَا عَلِيُّ لَا تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ فَإِنَّ لَكَ الأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الآخِرَةُ
হে আলী! তুমি দৃষ্টির পর দৃষ্টি ফেলো না। কেননা প্রথম দৃষ্টি পড়ে গেলে তা ক্ষমাযোগ্য। কিন্তু দ্বিতীয়বার দৃষ্টিপাত করার কোন অধিকার তোমার নেই। -সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ২৭৭৭; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২১৪৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ২২৯৭৪
আরেক হাদীসের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাস্তা হকের মধ্যে দৃষ্টি অবনত রাখার কথা বলেছেন। হাদীসে এসেছে-
«فاعطُوا الطريقَ حَقَّه"، قالوا: وما حق الطَريقِ يا رسولَ الله -ِ؟ قال: "غضُّ البصَرِ، وكَفُّ الأذى، وردُّ السَّلامِ، والأمرُ بالمعرُوفِ، والنَهيُ عن المُنكر»
তোমরা রাস্তার হক আদায় করো। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! রাস্তার হক কি কি? তিনি বললেন, দৃষ্টি অবনত রাখা, কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া, সালামের জবাব দেওয়া, সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজে বাধা প্রদান করা। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৮১৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১১৩০৯
অপর এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا كَانَ ثَالِثَهُمَا الشَّيْطَانُ
কোন পুরুষ যখন কোন স্ত্রীলোকের সঙ্গে নির্জনে সাক্ষাত করে, তখন এদের সঙ্গে অবশ্যই তৃতীয় জন থাকে শয়তান। -সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং ১১৭১; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১১৪, ১৫৬৯৬
উপরোক্ত আয়াত ও হাদীস থেকে বোঝা যায়, পুরুষের পর্দার দায়িত্ব পুরুষের আর নারীর পর্দার দায়িত্ব নারীর। প্রত্যেকে প্রত্যেকের দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকবে। বেগানা নারীরা কে কতটুকু কীভাবে পর্দা করল বা না করল তা দেখার দায়িত্ব বেগানা পুরুষের নয়। কে পূর্ণ পর্দা করল, আর কে অর্ধের পর্দা করল আর কে কোন পর্দাই করল না- একজন পুরুষের জন্য তা বিবেচনা করার চেয়ে বড় দায়িত্ব, আমি নিজেকে কতটুকু বেপর্দা থেকে রক্ষা করতে পারলাম। আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের সুন্নাহ মোতাবেক নিজের দৃষ্টি কতটুকু সংযত করতে পারলাম তা নিশ্চিত করা।
সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে প্রথমত একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোন বেগানা নারীর সাথে কথা বলা বা সাক্ষাত করা যাবে না। দ্বিতীয়ত কারও ক্ষেত্রে কোন অবস্থায়ই কুদৃষ্টিতে তাকানো জায়েয নেই; বরং জরুরি প্রয়োজনে কথা বলার সময়ও দৃষ্টি অবনত রাখতে হবে। নিজের চারিত্রিক পবিত্রতা হেফাজত করতে হবে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুহাম্মাদ আশরাফুল আলম
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১