করযে হাসানা পরিশোধের ক্ষেত্রে কিছু বেশি দেওয়া উত্তম
প্রশ্নঃ ১৫৬৪২৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। সম্মানিত মুফতি সাহেব, কিছু সময় আগে আমি আমার বাবার কাছ থেকে £12,630 ধার নিয়েছিলাম। টাকা চাওয়ার সময় আমিই বাবাকে বলেছিলাম যে আমি মূল টাকার সাথে কিছু অতিরিক্ত অর্থও ফেরত দিতে চাই, কিন্তু এটি সম্পূর্ণ আমার নিজের ইচ্ছা ছিল; আমার বাবা কখনোই অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেননি। বরং শুরু থেকেই তিনি আমাকে বলেছেন যে অতিরিক্ত কিছু দেওয়ার প্রয়োজন নেই এবং শুধু মূল টাকা ফেরত দিলেই হবে। আমাদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো লিখিত বা মৌখিক চুক্তি ছিল না যে আমাকে অবশ্যই অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে। তবে হিসাব-নিকাশ সঠিকভাবে রাখার সুবিধার্থে আমি নিজের জন্য একটি নোট লিখে রেখেছি, যেখানে আমি মোট £13,630 (মূল £12,630-এর সাথে অতিরিক্ত £1,000) পরিশোধ করার ইচ্ছা এবং মাসে কত করে দেব তা উল্লেখ করেছি, এবং সেই নোটটি বাবাকেও পাঠিয়েছি। বর্তমানে আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী মাসিক কিস্তিতে ছোট ছোট অঙ্কে টাকা পরিশোধ করছি। যদি কোনো মাসে আমি টাকা দিতে না পারি বা কোনো কিস্তি বাদ দিতে চাই, তাহলে এ নিয়ে বাবার কোনো অভিযোগ নেই; তিনি আমাকে কোনো চাপ দেন না এবং কখন, কীভাবে বা কত পরিমাণে পরিশোধ করব তা আমার সুবিধা ও সামর্থ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। আমার উদ্দেশ্য সুদ দেওয়া বা নেওয়া নয়; বরং বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা, সম্মান এবং আর্থিকভাবে তাঁকে কিছুটা সহযোগিতা করা। এই পরিস্থিতিতে, যেহেতু অতিরিক্ত £1,000 দেওয়ার প্রস্তাব সম্পূর্ণ আমার পক্ষ থেকে এসেছে, বাবার পক্ষ থেকে নয়, এবং এ বিষয়ে কোনো বাধ্যতামূলক চুক্তি বা শর্তও ছিল না, তাহলে শরিয়তের দৃষ্টিতে £12,630-এর পরিবর্তে £13,630 ফেরত দেওয়া কি বৈধ হাদিয়া বা সদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে, নাকি কোনোভাবে রিবা (সুদ)-এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে? অনুগ্রহ করে কুরআন, সুন্নাহ ও ফিকহের আলোকে দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ঋণ বা করযে হাসানা পরিশোধ করার সময় কিছু বাড়িয়ে দেওয়া উত্তম ও প্রশংসনীয় কাজ, যদি বেশি দেওয়া-নেওয়ার কোন প্রকার শর্ত বা প্রচলন না থাকে।
হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: كَانَ لِرَجُلٍ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم سِنٌّ مِنَ الْإِبِلِ، فَجَاءَهُ يَتَقَاضَاهُ، فَقَالَ: (أَعْطُوهُ). فَطَلَبُوا سِنَّهُ فَلَمْ يَجِدُوا لَهُ إِلَّا سِنًّا فَوْقَهَا، فَقَالَ: (أَعْطُوهُ). فَقَالَ: أَوْفَيْتَنِي أَوْفَى اللَّهُ بِكَ. قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: (إِنَّ خِيَارَكُمْ أَحْسَنُكُمْ قَضَاءً).
নবী (ﷺ) এর নিকট কোন এক ব্যক্তির একটি বিশেষ বয়সের উট পাওনা ছিলো। সে পাওনার জন্য আসলে তিনি সাহাবীদেরকে বললেন, তার পাওনা দিয়ে দাও। তারা সে উটের সমবয়সী উট অনেক খোঁজাখুঁজি করলেন। কিন্তু তা পেলেন না। বরং তার থেকে বেশী বয়সের উট পেলেন। তখন নবী (ﷺ) বললেন, তাই দিয়ে দাও। তখন লোকটি বলল, আপনি আমার প্রাপ্য পুরোপুরি আদায় করেছেন, আল্লাহ আপনাকেও পুরোপুরি প্রতিদান দিন। নবী (ﷺ) বললেন, যে ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে সেই তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি। -সহীহ বুখারী, হাদীস নং ২১৮২
উক্ত হাদীস থেকে বোঝা যায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাওনাদারকে তার প্রাপ্য উটের চেয়ে অধিক বয়সী উট দিয়েছেন। যা নিশ্চয়ই পাওনা উটের চেয়ে বড় হবে।
এছাড়া অপর এক হাদীসে এসেছে-
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ، قَالَ مِسْعَرٌ: أُرَاهُ قَالَ: ضُحًى، فَقَالَ: (صَلِّ رَكْعَتَيْنِ). وَكَانَ لِي عَلَيْهِ دَيْنٌ، فَقَضَانِي وَزَادَنِي.
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর কাছে আসলাম। তিনি তখন মসজিদে ছিলেন। তখন মিসআর (রাহঃ) বলেনঃ আমার মনে পড়ে রাবী মুহারিব (রাহঃ) চাশতের সময়ের কথা বলেছেন। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি দু’রাকআত নামায আদায় কর। জাবির (রাযিঃ) বলেনঃ নবী (ﷺ) এর কাছে আমার কিছু পাওনা ছিল। তিনি তা দিয়ে দিলেন এবং কিছু বেশীও দিলেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৩২
এ হাদীস থেকেও স্পষ্ট যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাওনাদারকে পাওনার চেয়ে বাড়িয়ে দিয়েছেন।
সুতরাং আপনার প্রশ্নোক্ত বিবরণ মোতাবেক যদি ঋণের বিনিময়ে বেশি দেওয়ার কোন শর্ত না থাকে বা প্রচলন না থাকে, তাহলে আপনার বাবাকে করযে হাসানার চেয়ে কিছু বাড়িয়ে দেওয়া জায়েয আছে। বরং তা উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ বলে গণ্য হবে, যা প্রশংসনীয়। যেমনটি আমরা উপরে হাদীসের আলোকে উল্লেখ করেছি।
من المستندات الشرعية
** الفتاوى العالمكيرية = الفتاوى الهندية : (3/202)
قال محمد - رحمه الله تعالى - في كتاب الصرف إن أبا حنيفة - رحمه الله تعالى - كان يكره كل قرض جر منفعة قال الكرخي هذا إذا كانت المنفعة مشروطة في العقد بأن أقرض غلة ليرد عليه صحاحا أو ما أشبه ذلك فإن لم تكن المنفعة مشروطة في العقد فأعطاه المستقرض أجود مما عليه فلا بأس به.
** المبسوط للسرخسي: (14/35)
ولهذا قلنا: إن المنفعة إذا كانت مشروطة في الإقراض فهو قرض جر منفعة وإن لم تكن مشروطة فلا بأس به حتى لو رد المستقرض أجود مما قبضه فإن كان ذلك عن شرط لم يحل؛ لأنه منفعة القرض وإن لم يكن ذلك عن شرط فلا بأس به؛ لأنه أحسن في قضاء الدين وهو مندوب إليه.
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতি, ফতোয়া বিভাগ, জামিয়া দারুল উলুম আল ইসলামিয়া, পল্লবী, ঢাকা
খতিব, দারুল খুলদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, মুন্সিবাগ, নারায়ণগঞ্জ
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন