এতিম কেন দাদার সম্পত্তি পায় না?
প্রশ্নঃ ১৫৮৭১২. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি ইলমে ফারায়েজ পড়ে জেনেছি দাদার আগে পিতা মারা গেলে ইসলাম অনুযায়ী নাতী সম্পত্তি পায় না, ছোট সন্তানকে রেখে রব তাদের পিতাকে দুনিয়া থেকে নিয়ে গেলেন এখানে বান্দার কোন সিদ্ধান্ত নেই, এখানে ইসলামের আইন অনুযায়ী সম্পত্তি না পাওয়ার কী হেকমত রয়েছে এটাই আমার জানার বিষয়।
২৪ জুন, ২০২৬
ঢাকা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সম্মানিত প্রশ্নকারী!
দুটি বিষয় লক্ষ করুন।
এক. ইসলামের দৃষ্টিতে মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদকে “মিরাস, বাংলায় উত্তরাধিকার” বলে। মিরাসসূত্রে যারা সম্পদ পায় তাদের “ওয়ারিস বা উত্তরাধিকার বলে। যেই নিয়মের মাধ্যমে এই বন্টন করা হয় তাকে বলে “ফারায়েয”।
ফারায়েযের শর্তসমূহের মধ্যে অন্ততম শর্ত হলো, মৌরুস (যার থেকে সম্পত্তি পাবে) -এর ইন্তেকালের সময় ওয়ারিস জীবিত থাকা।
দুই. শরীয়তে ইসলামীতে মিরাস বা উত্তরাধিকারের ভিত্তি রাখা হয়েছে আত্মীয়তার সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বা শক্তির ওপর। আত্মীয়তার সম্পর্কের ওপর ভিত্তি হওয়ার কারণে, মৃতের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে বেশি নিকটবর্তী হবে, উত্তরাধিকারের অধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে সে-ই অগ্রাধিকার পাবে। আর তার উপস্থিতিতে অন্যান্য দূরবর্তী আত্মীয়রা (উত্তরাধিকার থেকে) বঞ্চিত বলে গণ্য হবে। এটাই মিরাসের ভিত্তি। এই ভিত্তির ওপর নির্ভর করেই শরীয়ত পিতার অবর্তমানে নাতিকে দাদার সম্পত্তি থেকে সরাসরি কোনো অংশ দেয় না।
মিরাসের দীর্ঘ আয়াত নাযিল করার পর আল্লাহ তায়ালা আয়াতের শেষাংশে উল্লেখ করেন,
اٰبَآؤُکُمۡ وَاَبۡنَآؤُکُمۡ لَا تَدۡرُوۡنَ اَیُّہُمۡ اَقۡرَبُ لَکُمۡ نَفۡعًا ؕ فَرِیۡضَۃً مِّنَ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلِیۡمًا حَکِیۡمًا
তোমরা আসলে জান না, তোমাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে উপকার সাধনের দিক থেকে তোমাদের নিকটতর। (এসব) আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত অংশ। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
এই অংশের ব্যাখ্যায় মুফাসসিরগণ উল্লেখ করেন,
“কেউ ভাবতে পারত ‘অমুক ওয়ারিশকে আরও বেশি দেয়া হলে ভাল হত’, কিংবা ‘অমুককে আরও কম দেওয়া উচিত ছিল’, তাই আল্লাহ তাআলা এই বলে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, প্রকৃত মঙ্গল সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান তোমাদের নেই। আল্লাহ তাআলা যার যে অংশ স্থির করে দিয়েছেন, সেটাই যথার্থ।”
দাদার জীবদ্দশায় বাবার ইন্তেকাল হলে সেখানে সন্তানেরা মিরাস না পাওয়ার কারণ হলো, সন্তানেরা মিরাস পাবে তাদের বাবা থেকে, তাদের বাবা মিরাস পাবে তার বাবা (সন্তানদের) দাদা থেকে। যখন দাদার জীবদ্দশায় বাবার ইন্তেকাল হয়ে গেছে; তখন তিনি ওয়ারিস না হয়েই ইন্তেকাল করেছেন। কেননা তিনি ওয়ারিস হবেন তার পিতার ইন্তেকালের পর। একারণেই নাতি নাতনিরা দাদা থেকে মিরাস পায় না।
صحیح بخاری :
"عن ابن عباس رضي اللّٰه عنهما قال: قال رسول اللّٰه صلی اللّٰه علیه وسلم: ألحقوا الفرائض بأهلها فما بقي فهو لأولی رجل ذکر."
(باب ميراث الولد من أبيه وأمه، (8/ 150،ط:دار طوق النجاة)
تکملہ فتح الملھم :
"وقد ذکر الإمام أبوبکر جصاص الرازي رحمه اللّٰه في أحکام القرآن، والعلامة العیني في عمدة القاري: الإجماع علی أن الحفید لایرث مع الابن."
(تکملة فتح الملهم،2 /20،دار إحياء التراث العربي)
تکملہ فتح الملھم :
"ولو کان مدار الإرث علی الیتم والفقر والحاجة لما ورث أحد من الأقرباء والأغنیاء، وذهب المیراث کله إلی الیتامیٰ والمساکین … وأن معیار الإرث لیس هو القرابة المحضة ولا الیُتم والمسکنة، وإنما هو الأقربیة إلی المیت."
(تکملة فتح الملهم 2 /19،دار إحياء الترا العربي)
الفقه الإسلامي وأدلته :
"الإرث لغة: بقاء شخص بعد موت آخر بحيث يأخذ الباقي ما يخلفه الميت. وفقهاً: ما خلفه الميت من الأموال والحقوق التي يستحقها بموته الوارث الشرعي."
(الفصل الاول، تعریف علم المیراث 10/ 7697 ط:دار الفکر)
বিকল্প পদ্ধতি:
পিতার অবর্তমানে শরীয়ত নাতিকে সরাসরি মিরাস দেয়নি এর অর্থ এই নয় যে, তার জন্য পাওয়ার কোনো রাস্তাই রাখেনি। বরং তার জন্য ওয়াসিয়তের রাস্তা খুলে রেখেছেন। কাজেই কোনো দাদা যদি চায় যে, ছেলে না থাকলেও তার নাতি-নাতনিরা তার সম্পদ থেকে কিয়দাংশ পাক; তাহলে তিনি হয়তো জীবদ্দশায়ই তাদের কিছু সম্পদ দিয়ে যেতে পারেন অথবা একতৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে তাদের জন্য অসিয়ত করে যেতে পারেন।
ক্ষেত্র বিশেষ দেখা যাবে ছেলের ভায়া হয়ে নাতি-নাতনিরা যেই সম্পত্তি পেত দাদার ওয়াসিয়তের ফলে সেই পরিমাণ কিংবা তারচেয়েও বেশী সম্পদ তারা পেয়ে যাবে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১