মুসলিম সেনাসদস্যের জানাজা ও দাফনে সামরিক প্রটোকল পালনের শরয়ী বিধান
প্রশ্নঃ ১৬৮৪৪৪. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, একটা নিয়ম প্রচলিত আছে সেটা হচ্ছে সেনাবাহিনী কোন সদস্য যদি মারা যায় তারা তাদের একটা নিয়ম আছে জানাযা থেকে কবর পর্যন্ত! এখন আমার প্রশ্নটা হচ্ছে সেনা সদস্য মারা গেলে তারা যে এই নিয়মকানুন বা প্রসেসিং গুলো করে এগুলো কি জায়েজ? এটা নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাচ্ছি হযরত।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
হাটহাজারী
৩৩ বার পড়া হয়েছে
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
সেনাবাহিনী বা সশস্ত্র বাহিনীর কোনো সদস্য মৃত্যুবরণ করলে রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম বা প্রটোকল রয়েছে। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়টির কিছু অংশ পুরোপুরি বৈধ হলেও কিছু অংশ স্পষ্টতই শরিয়ত ও সুন্নাহর পরিপন্থী।
একজন মুসলিম সেনা সদস্যের ক্ষেত্রে অন্যান্য মুসলিমের মতো, মৌলিক ৪টি ফরজ কাজ, গোসল দেওয়া, কাফন পরানো, জানাজার নামাজ আদায় করা এবং কিবলামুখী করে কবরে দাফন করা। আলহামদুলিল্লাহ, মুসলিম দেশগুলোতে সেনাবাহিনীর নিজস্ব ইমামদের মাধ্যমে এই কাজগুলো সম্পন্ন করা হয়।
একজন মুসলিম সেনা সদস্যের ক্ষেত্রে অন্যান্য মুসলিমের মতো, মৌলিক ৪টি ফরজ কাজ, গোসল দেওয়া, কাফন পরানো, জানাজার নামাজ আদায় করা এবং কিবলামুখী করে কবরে দাফন করা। আলহামদুলিল্লাহ, মুসলিম দেশগুলোতে সেনাবাহিনীর নিজস্ব ইমামদের মাধ্যমে এই কাজগুলো সম্পন্ন করা হয়।
তবে জানাজা থেকে কবর পর্যন্ত সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আমাদের অনুসন্ধান মোতাবেক অতিরিক্ত যেসব আনুষ্ঠানিকতা বা প্রটোকল পালন করা হয়, সেগুলোকে হচ্ছে,
ক. বাদ্যযন্ত্রের করুণ সুর বাজানো
সামরিক জানাজায় বিউগল বাজিয়ে যে করুণ সুর সৃষ্টি করা হয়, এটি খ্রিস্টান ও পশ্চিমা সামরিক সংস্কৃতির অনুকরণ। ইসলামে এটি কঠোরভাবে হারাম।
রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন,
صَوْتَانِ مَلْعُونَانِ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ: مِزْمَارٌ عِنْدَ نِعْمَةٍ، وَرَنَّةٌ عِنْدَ مُصِيبَةٍ
হাদীসের লিংক:https://muslimbangla.com/hadith/1621221
জানাজা ও কবরস্থান হলো মানুষের আখেরাত স্মরণ, কান্না ও মাগফিরাত চাওয়ার জায়গা; সেখানে বাদ্যযন্ত্র বা বিউগল বাজানো কবরের পরিবেশ ও শরিয়তের চরম অবমাননা।
খ. এক মিনিট নীরবতা পালন
মৃতের প্রতি সম্মান জানাতে বা শোক প্রকাশে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা একটি অমুসলিম সংস্কৃতি, যা ইসলাম সমর্থন করে না।
জানাজা ও কবরস্থান হলো মানুষের আখেরাত স্মরণ, কান্না ও মাগফিরাত চাওয়ার জায়গা; সেখানে বাদ্যযন্ত্র বা বিউগল বাজানো কবরের পরিবেশ ও শরিয়তের চরম অবমাননা।
খ. এক মিনিট নীরবতা পালন
মৃতের প্রতি সম্মান জানাতে বা শোক প্রকাশে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা একটি অমুসলিম সংস্কৃতি, যা ইসলাম সমর্থন করে না।
সুন্নাহ হচ্ছে, মৃত ব্যক্তির জন্য দরকার মাগফিরাত ও দোয়া। কোনো মুসলিম মারা গেলে রাসুল ﷺ সাহাবিদের দাঁড়িয়ে দোয়া করতে বলেছেন, তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং সে যেন অবিচল থাকে সেই দোয়া করো, কারণ এখনই তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে। (সুনানে আবু দাউদ: ৩২২১)
হাদীসের লিংক:https://muslimbangla.com/hadith/17554
মুখে কোনো দোয়া না করে মূর্তির মতো চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলে মৃতের কোনো ফায়দা হয় না। অতএব, নীরবতা পালনের জায়গায় জোরে বা মনে মনে তাঁর জন্য মাগফিরাতের দোয়া করা উচিত।
গ. পুষ্পস্তবক বা ফুল দেওয়া
কফিনের ওপর দামি দামি ফুলের মালা দেওয়া বা কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা শরিয়তে অর্থহীন ও অপচয়। ফুলে মৃতের কোনো সওয়াব হয় না, কয়েক ঘণ্টা পর তা পচে মাটিতে মিশে যায়।
এর চেয়ে ওই ফুলের টাকা কোনো গরিবকে সদকা করে দিলে মৃত সেনা সদস্য কবরে সরাসরি সওয়াব পেতেন।
ঘ. কফিনে জাতীয় পতাকা জড়ানো
কাঠের বাক্সে বা খাটিয়ায় লাশ বহন করার সময় তা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা শরিয়তের দৃষ্টিতে পর্দার জন্য উত্তম।
দেশের জন্য আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে কফিনের কাঠের ওপর সাময়িকভাবে জাতীয় পতাকা জড়ানো শরিয়তে কোনো শিরক বা কুফর নয়; এটি একটি রাষ্ট্রীয় সম্মান।
ঙ. তোপধ্বনি বা আকাশে ফাঁকা গুলি ছোঁড়া
মৃত সেনা সদস্যের সম্মানে শূন্যে ফাঁকা গুলি ছোঁড়াকে অনেক আলেম সামরিক বাহিনীর প্রথাগত সালামি হিসেবে দেখেছেন, যা সরাসরি হারাম নয়। তবে এতে যদি প্রচুর অপচয় হয় বা জানাজার মতো গম্ভীর পরিবেশে অপ্রয়োজনীয় আওয়াজ সৃষ্টি হয়, তবে তা পরিহার করাই উত্তম।
চ. অতিরিক্ত ধীরগতির পদযাত্রা
কফিন বহনের সময় সামরিক কায়দায় অতিরিক্ত ধীরে ধীরে পা ফেলে চলা সুন্নাতের বিপরীত। কারণ রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমরা জানাজা নিয়ে দ্রুত চলো। (সহিহ বুখারি: ১৩১৫)
হাদীসের লিংক:https://muslimbangla.com/hadith/1236
গ. পুষ্পস্তবক বা ফুল দেওয়া
কফিনের ওপর দামি দামি ফুলের মালা দেওয়া বা কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা শরিয়তে অর্থহীন ও অপচয়। ফুলে মৃতের কোনো সওয়াব হয় না, কয়েক ঘণ্টা পর তা পচে মাটিতে মিশে যায়।
এর চেয়ে ওই ফুলের টাকা কোনো গরিবকে সদকা করে দিলে মৃত সেনা সদস্য কবরে সরাসরি সওয়াব পেতেন।
ঘ. কফিনে জাতীয় পতাকা জড়ানো
কাঠের বাক্সে বা খাটিয়ায় লাশ বহন করার সময় তা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা শরিয়তের দৃষ্টিতে পর্দার জন্য উত্তম।
দেশের জন্য আত্মত্যাগের প্রতীক হিসেবে কফিনের কাঠের ওপর সাময়িকভাবে জাতীয় পতাকা জড়ানো শরিয়তে কোনো শিরক বা কুফর নয়; এটি একটি রাষ্ট্রীয় সম্মান।
ঙ. তোপধ্বনি বা আকাশে ফাঁকা গুলি ছোঁড়া
মৃত সেনা সদস্যের সম্মানে শূন্যে ফাঁকা গুলি ছোঁড়াকে অনেক আলেম সামরিক বাহিনীর প্রথাগত সালামি হিসেবে দেখেছেন, যা সরাসরি হারাম নয়। তবে এতে যদি প্রচুর অপচয় হয় বা জানাজার মতো গম্ভীর পরিবেশে অপ্রয়োজনীয় আওয়াজ সৃষ্টি হয়, তবে তা পরিহার করাই উত্তম।
চ. অতিরিক্ত ধীরগতির পদযাত্রা
কফিন বহনের সময় সামরিক কায়দায় অতিরিক্ত ধীরে ধীরে পা ফেলে চলা সুন্নাতের বিপরীত। কারণ রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমরা জানাজা নিয়ে দ্রুত চলো। (সহিহ বুখারি: ১৩১৫)
হাদীসের লিংক:https://muslimbangla.com/hadith/1236
জানাজাকে বিলম্ব না করে স্বাভাবিক দ্রুততায় কবরে নিয়ে যাওয়াই সুন্নাত।
সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীলদের উচিত নিজেদের ধর্মীয় স্বকীয়তা বজায় রাখা। বিউগল বাজানো এবং নীরবতা পালনের মতো পশ্চিমা প্রথাগুলো বাদ দিয়ে,
সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীলদের উচিত নিজেদের ধর্মীয় স্বকীয়তা বজায় রাখা। বিউগল বাজানো এবং নীরবতা পালনের মতো পশ্চিমা প্রথাগুলো বাদ দিয়ে,
১. জানাজার পর কফিন বহনের সময় সেনাসদস্যরা মুখে জিকির ও মনে মনে মাগফিরাতের দোয়া করতে পারেন।
২. নীরবতার জায়গায় ১ মিনিট হাত তুলে বা দাঁড়িয়ে সব সেনাসদস্য মিলে মরহুমের জন্য রবের দরবারে ক্ষমা চাইতে পারেন (এতে মৃতের আসল উপকার হবে)।
৩. রাষ্ট্রীয় সম্মান বা সালামি বজায় রেখেও যাবতীয় অনৈসলামিক বাদ্যযন্ত্র ও অপচয় পরিহার করা সম্ভব।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১