বিয়ের আগের অপরাধের কারণে তালাক দেওয়ার বিধান
প্রশ্নঃ ১৭০৩০৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার বিবাহের আগের অণৈতিক সম্পির্কের জের ধরে আমার স্বামী আমাকে তালাক দেয়ার কথা বলছেন। আমি বিবাহের আগে তওবা করেছি এবং বিবাহের পরে কখনো কোনো হারাম সম্পর্কে জড়াই নি। এক্ষেত্রে কি স্বামী আমাকে তালাক দিতে পারবেন বা আমার এই বিষয়ে করণীয় কি? আমাদের মধ্যে প্রায়ই বিবাদ হয়৷
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
কোনো ব্যক্তি যদি বিবাহের পূর্বে কোনো গুনাহ করে থাকে এবং পরবর্তীতে খাঁটি মনে তাওবা করে ফিরে আসে, তবে আল্লাহ তাআলা তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন যে, তাওবাকারী ব্যক্তি এমন নিষ্পাপ হয়ে যায় যেন সে কোনো গুনাহই করেননি। অতএব, বিয়ের আগের তাওবাকৃত কোনো ভুলকে কেন্দ্র করে বর্তমানের সংশোধিত জীবনে কাউকে অপবাদ দেওয়া, খোটা দেওয়া বা নির্যাতন করা শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অন্যায়। ইসলামে নিজের বা অপরের অতীতের গোপন পাপ প্রকাশ করা বা তা নিয়ে অনুসন্ধান চালানো কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। কোনো মুসলমানের গোপন দোষ খোঁজা এবং তা নিয়ে লাঞ্ছিত করা মারাত্মক গুনাহের কাজ।
শরীয়তের দৃষ্টিতে তালাক দেওয়ার মূল কর্তৃত্ব পুরুষের হাতে ন্যস্ত। সুতরাং স্বামী যদি কোনো সঙ্গত শরয়ি কারণ ছাড়াও তালাক মুখে উচ্চারণ করে, তবে আইনগতভাবে তালাক পতিত হয়ে যাবে।
স্ত্রী যদি বর্তমানে অনুগত ও চরিত্রবান হন এবং অতীতের ভুলের জন্য তাওবা করে থাকেন, তবে তাঁর পূর্বের ভুলের কারণে তাঁকে তালাক দেওয়া অত্যন্ত অপছন্দনীয় ও গুনাহের শামিল। অতএব, স্বামীর উচিত অতীতের কথা ভুলে গিয়ে দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা।
স্বামীর সাথে ধৈর্য বজায় রেখে নরম ভাষায় কথা বলুন। তাঁকে স্পষ্ট ও বিনীতভাবে আশ্বস্ত করুন যে, আপনি আল্লাহর কাছে তওবা করে ফিরে এসেছেন এবং তাঁর প্রতি সম্পূর্ণ বিশ্বস্ত ও নিবেদিত। যদি বিবাদ অব্যাহত থাকে, তবে উভয়ের পরিবারের দ্বীনদার, প্রজ্ঞাবান ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে স্বামীকে শরীয়তের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি বোঝানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। নিয়মিত সালাত আদায় করে দাম্পত্য জীবনে শান্তি ও স্বামীর হৃদয়ে ভালোবাসা সৃষ্টির জন্য আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে দোয়া করুন।
قال الله تعالى: فَاِنۡ اَطَعۡنَکُمۡ فَلَا تَبۡغُوۡا عَلَیۡہِنَّ سَبِیۡلًا ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ عَلِیًّا کَبِیۡرًا- سورة النساء 34
سنن ابن ماجه ص894 ت هادي
عن أبي عبيدة بن عبد الله، عن أبيه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "التائب من الذنب، كمن لا ذنب له"»
«سنن أبي داود» 3/ 505 ت الأرنؤوط
عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "أبغض الحلال إلى الله عز وجل الطلاق
سنن الترمذي» (4/ 378
عن نافع، عن ابن عمر قال: صعد رسول الله صلى الله عليه وسلم المنبر فنادى بصوت رفيع، فقال: «يا معشر من أسلم بلسانه ولم يفض الإيمان إلى قلبه، لا تؤذوا المسلمين ولا تعيروهم ولا تتبعوا عوراتهم، فإنه من تتبع عورة أخيه المسلم تتبع الله عورته، ومن تتبع الله عورته يفضحه ولو في جوف رحله» قال: ونظر ابن عمر يوما إلى البيت أو إلى الكعبة فقال: «ما أعظمك وأعظم حرمتك، والمؤمن أعظم حرمة عند الله منك
حاشية ابن عابدين = رد المحتار - ط الحلبي» 3/ 228
وأما الطلاق فإن الأصل فيه الحظر، بمعنى أنه محظور إلا لعارض يبيحه، وهو معنى قولهم الأصل فيه الحظر والإباحة للحاجة إلى الخلاص، فإذا كان بلا سبب أصلا لم يكن فيه حاجة إلى الخلاص بل يكون حمقا وسفاهة رأي ومجرد كفران النعمة وإخلاص الإيذاء بها وبأهلها وأولادها،
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন