খাবারের সময় নির্ধারণে শরীয়তের নির্দেশনা
প্রশ্নঃ ১৭০৫১৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, সকালে, দুপুরে ও রাতের খানা কখন (কোন সময়) খাওয়া সুন্নাত?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
শরীয়তে খাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট ঘড়ির সময় আবশ্যক করে দেওয়া হয়নি, যার ব্যতিক্রম হলে গুনাহ হবে। মানুষের শারীরিক প্রকৃতি, কর্মব্যস্ততা ও স্থানীয় প্রথা অনুযায়ী সময় নির্ধারিত হয়। সকালে সূর্যোদয়ের পর বা চাশতের সময় স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার পেট পুরে খাওয়া সুন্নাত ও উত্তম, যাতে সারাদিন দ্বীনি মেহনত ও ইবাদতে ক্লান্তি না আসে। আরবের রীতিতে মূল আহার সকালে হওয়ায় দুপুরে আলাদা ভারী খাবারের প্রয়োজন হতো না; বরং দুপুরে সামান্য কায়লুলাহ বা হালকা কিছু খেয়ে নেওয়া হতো। তবে বর্তমান যুগের রুটিন অনুযায়ী দুপুরে খাওয়াও মুবাহ ও জায়েয। মাগরিবের কাছাকাছি সময়ে বা এশার নামাজের পূর্বে আগেভাগে রাতের খাবার খাওয়া সুন্নাত ও স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। গভীর রাতে অতিভোজন করে সঙ্গে সঙ্গে ঘুমানো মাকরূহ ও তন্দ্রাচ্ছন্নতার কারণ, যা শেষ রাতে তাহাজ্জুদ ও ফজরের জন্য প্রতিবন্ধক সৃষ্টি করে।
আরবে সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যময় ও উত্তম খাদ্যাভ্যাস ছিল দিনে মূলত দুই বেলা আহার গ্রহণ করা—একটি দিনের শুরুতে ‘গাদা’ বা সকালের প্রধান খাবার এবং অপরটি দিনের শেষে ‘আশা’ বা সন্ধ্যার খাবার। আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার এই সর্বোত্তম আহার পদ্ধতির রূপক টেনে জান্নাতীদের নিয়ামতের প্রাচুর্য বর্ণনা করেছেন ।-সূরা মারইয়াম, ৬২
রাসূলুল্লাহ ﷺ ও সাহাবায়ে কেরাম দিনের প্রারম্ভে বা চাশতের সময় সকালের আহার গ্রহণ করতেন। আর রাতের খাবার মাগরিবের পূর্বে বা এশার আগেভাগে খেয়ে নিতেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন:
إذا قدم العشاء، فابدءوا به قبل أن تصلوا صلاة المغرب، ولا تعجلوا عن عشائكم
অর্থ: যখন রাতের খাবার পরিবেশন করা হয়, তখন মাগরিবের নামাজের পূর্বেই তা খেয়ে নাও। খাওয়া রেখে নামাযে তাড়াহুড়া করবে না।–বুখারি, ৬৭২
মুহাদ্দিসীনে কেরাম এই হাদীসের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন যে, আরবে ‘আশা’ অর্থাৎ রাতের খাবার সূর্যাস্তের পূর্বে বা মাগরিবের ওয়াক্তেই প্রস্তুত করা হতো এবং তা এশার পূর্বেই সম্পন্ন করা হতো ।
صحيح مسلم 859
عن سهل، قال ما كنا نقيل ولا نتغدى إلا بعد الجمعة - زاد ابن حجر - في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم
فتح القدير للكمال ابن الهمام 5/ 132
قال الإسبيجابي في شرح الطحاوي: وقت الغداء من طلوع الشمس إلى وقت الزوال، ووقت العشاء من بعد الزوال إلى أن يمضي أكثر الليل، ووقت السحور من مضي أكثر الليل إلى طلوع الفجر، ثم قال: هذا في عرفهم، وأما في عرفنا: وقت العشاء من بعد صلاة العصر انتهى
بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع 3/ 69
فنقول وقت الغداء من طلوع الفجر إلى وقت الزوال لأن الغداء عبارة عن أكل الغدوة وما بعد نصف النهار لا يكون غدوة والعشاء من وقت الزوال إلى نصف الليل لأنه مأخوذ من أكل العشية وأول أوقات العشاء ما بعد الزوال وقد روي «أن النبي - صلى الله عليه وسلم - صلى صلاتي العشاء ركعتين» يريد الظهر والعصر وفي عرف ديارنا العشاء ما بعد وقت صلاة العصر وأما السحور فما بعد نصف الليل إلى طلوع الفجر لأنه مأخوذ من السحر وهو وقت السحر ولم يذكر في ظاهر الرواية مقدار الغداء والعشاء.
الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) 3/ 780
(التغدي الأكل المترادف الذي يقصد به الشبع) وكذا التعشي ولا بد أن يأكل أكثر من نصف الشبع في غداء وعشاء وسحور (في وقت خاص وهو ما بعد طلوع الفجر) وفي البحر عن الخلاصة عند طلوع الشمس قال: وينبغي اعتماده للعرف، زاد في النهر وأهل مصر يسمونه فطورا إلى ارتفاع الضحى الأكبر فيدخل وقت الغداء فيعمل بعرفهم
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন