নামাযের সূচনা ও পাঁচ ওয়াক্ত ফরয হওয়ার ইতিহাস
প্রশ্নঃ ১৭০৭৮৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, নামাজের উৎপত্তি কোন জামানায় কখন এবং কোথায় হয়েছে।
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
নামাযের বিধান শুধু উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য নয়; বরং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পূর্বে যেসব নবী-রাসূল (আ.) অতিবাহিত হয়েছেন, তাঁদের শিক্ষার মধ্যেও নামাযের উল্লেখ পাওয়া যায়। তাঁদের নামাযও রুকূ‘ ও সিজদার সমন্বয়ে ছিল। তবে তাঁদের নামাযে কী কী শর্ত, রুকন ও ওয়াজিব ছিল এবং প্রত্যেক উম্মতের ওপর কত ওয়াক্ত নামায ফরয ছিল—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না।
ইমাম তহাবী (রহ.) শরহু মাআনিল আছার গ্রন্থে একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, যাতে বিভিন্ন নবীর সঙ্গে বিভিন্ন ওয়াক্তের নামাযের সম্পর্কের কথা বর্ণিত হয়েছে। তাতে উল্লেখ রয়েছে, হযরত আদম (আ.)-এর তাওবা ফজরের সময় কবুল হলে তিনি দুই রাকাত নামায আদায় করেন; ফলে তা ফজরের নামায হিসেবে গণ্য হয়।
- হযরত ইসহাক (আ.)-এর কুরবানির ঘটনা যোহরের সময় সংঘটিত হলে তিনি চার রাকাত নামায আদায় করেন; ফলে তা যোহরের নামায হিসেবে গণ্য হয়।
- হযরত উযাইর (আ.)-কে যখন পুনরায় জীবিত করা হলো, তখন তিনি চার রাকাত নামায আদায় করেন; ফলে তা আসরের নামায হিসেবে গণ্য হয়।
- আর হযরত দাউদ (আ.)-এর কাছে মাগরিবের সময় ক্ষমার সুসংবাদ পৌঁছলে তিনি নামায আদায়ের ইচ্ছা করেন; কিন্তু তৃতীয় রাকাতের পর অনুতাপ ও কান্নার কারণে চতুর্থ রাকাত আদায় করতে সক্ষম হননি। ফলে তা মাগরিবের নামায হিসেবে গণ্য হয়।
- আর সর্বপ্রথম এশার নামায আদায়কারী ছিলেন সর্বশেষ নবী, হযরত মুহাম্মদ ﷺ।
তবে এসব বর্ণনার ভিত্তিতে নামায সর্বপ্রথম কোন নবীর যুগে শুরু হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। কারণ পূর্ববর্তী নবীগণের উম্মতের ওপর নামাযের সংখ্যা ও বিস্তারিত পদ্ধতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্যভাবে পূর্ণ বিবরণ পাওয়া যায় না। কুরআন মাজীদেও হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর দু‘আতে নামাযের উল্লেখ রয়েছে।
কুরআনুল কারীমে বর্ণিত হয়েছে,
رَبِّ اجْعَلْنِي مُقِيمَ الصَّلَاةِ وَمِنْ ذُرِّيَّتِي رَبَّنَا وَتَقَبَّلْ دُعَاءِ
“হে আমার রব! আমাকে নামায কায়েমকারী বানান এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও (নামায কায়েমকারী বানান)। হে আমাদের রব! আপনি আমার দু‘আ কবুল করুন।” (সূরা ইবরাহীম, আয়াত নং: ৪০)
আর উম্মতে মুহাম্মদীর ক্ষেত্রে ইসলামের প্রাথমিক যুগেই নামাযের বিধান ছিল। মিরাজের আগে দুই ওয়াক্ত নামায “ফজর” ও “আসর” আদায় করা হতো। অধিকাংশ আলেমের মতে, তখনও বর্তমান নামাযের অনুরূপ পদ্ধতিতে নামায আদায় করা হতো; তবে রাকাত ও ওয়াক্তের সংখ্যায় পার্থক্য ছিল।
পরবর্তীতে মিরাজের রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করা হয়। গ্রহণযোগ্য মত অনুযায়ী, এটি নবুওয়াতের দ্বাদশ বছরে, অর্থাৎ হিজরতের প্রায় এক বছর আগে রজব মাসে মক্কা মুকাররমায় সংঘটিত হয়। তবে মিরাজের সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে; ২৭ রজব তারিখটি প্রসিদ্ধ হলেও তা নির্ভরযোগ্যভাবে নির্দিষ্ট নয়।
পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয হওয়ার পর হযরত জিবরীল (আ.) রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে নামাযের সময় ও পদ্ধতি শিক্ষা দেন। এরপর নবী কারীম ﷺ সাহাবায়ে কেরামকে তা শিক্ষা দেন এবং বলেন,
صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِي أُصَلِّي
“তোমরা আমাকে যেভাবে নামায পড়তে দেখেছ, সেভাবেই নামায পড়ো।” (সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ৬৩১)
- পূর্ববর্তী নবীগণের যুগেও নামাযের বিধান থাকার প্রমান,
কুরআন মাজীদে বিভিন্ন নবী-রাসূল (আ.) ও তাঁদের উম্মতের সঙ্গে নামাযের সম্পর্কের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ হয়েছে। যেমন,
- আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা ও হযরত হারূন (আ.)-কে তাঁদের শরীয়তের বিধান দেওয়ার সময় নামায কায়েম করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَأَوْحَيْنَا إِلَىٰ مُوسَىٰ وَأَخِيهِ أَنْ تَبَوَّآ لِقَوْمِكُمَا بِمِصْرَ بُيُوتًا وَاجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قِبْلَةً وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ
“আমি মূসা ও তাঁর ভাইয়ের প্রতি ওহী করলাম যে, তোমরা তোমাদের সম্প্রদায়ের জন্য মিসরে কিছু ঘর নির্ধারণ করো, তোমাদের ঘরগুলোকে কিবলামুখী করো এবং নামায কায়েম করো। আর মুমিনদের সুসংবাদ দাও।” (সূরা ইউনুস, আয়ার নং: ৮৭)
- হযরত ঈসা (আ.)-ও তাঁর উম্মতকে নামায ও যাকাতের নির্দেশের কথা উল্লেখ করেছেন।
কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে,
وَجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنْتُ وَأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا
“আর তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন, আমি যেখানেই থাকি না কেন; এবং যতদিন জীবিত থাকব, ততদিন আমাকে নামায ও যাকাতের নির্দেশ দিয়েছেন।” (সূরা মারইয়াম, আয়ার নং: ৩১)
- হযরত যাকারিয়া (আ.)-এর ব্যাপারেও কুরআনে নামাযের উল্লেখ রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَنَادَتْهُ الْمَلَائِكَةُ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي الْمِحْرَابِ
“অতঃপর ফেরেশতারা তাঁকে ডাকলেন, তখন তিনি মিহরাবে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করছিলেন।” (সূরা আলে ইমরান, আয়ার নং: ৩৯)
- এছাড়া আল্লাহ তাআলা বহু নবী-রাসূলের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেন,
إِذَا تُتْلَىٰ عَلَيْهِمْ آيَاتُ الرَّحْمَٰنِ خَرُّوا سُجَّدًا وَبُكِيًّا
“যখন তাদের সামনে রহমানের আয়াতসমূহ পাঠ করা হতো, তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ত এবং কাঁদত।” (সূরা মারইয়াম, আয়ার নং: ৫৮)
- হযরত ইবরাহীম ও হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর সময়েও রুকূ ও সিজদার মাধ্যমে নামাযের প্রমাণ পাওয়া যায়।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَطَهِّرْ بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ
“আমার ঘরকে পবিত্র রাখো তাওয়াফকারী, ই‘তিকাফকারী এবং রুকূ‘ ও সিজদাকারীদের জন্য।” (সূরা আল-বাকারা, আয়ার নং: ১২৫)
- এমনকি হযরত মারইয়াম (আ.)-কেও নামাযের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا مَرْيَمُ اقْنُتِي لِرَبِّكِ وَاسْجُدِي وَارْكَعِي مَعَ الرَّاكِعِينَ
“হে মারইয়াম! তোমার রবের অনুগত হও, সিজদা করো এবং রুকূ‘কারীদের সঙ্গে রুকূ‘ করো।” (সূরা আলে ইমরান, আয়ার নং: ৪৩)
অতএব, এসব আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় যে নামায পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণের শরীয়তেও ছিল এবং তাঁদের উম্মতদের মধ্যেও নামাযের প্রচলন ছিল। তবে তাঁদের নামাযের রাকাত সংখ্যা, নির্দিষ্ট ওয়াক্ত, শর্ত, রুকন ও ওয়াজিবের বিস্তারিত বিবরণ আমাদের কাছে নির্ভরযোগ্যভাবে সংরক্ষিত নেই।
সারকথা: নামাযের বিধান পূর্ববর্তী নবীগণের যুগ থেকেই ছিল; তবে উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামায মিরাজের রাতে, হিজরতের প্রায় এক বছর আগে মক্কা মুকাররমায় ফরয করা হয়।
( صحیح مسلم، 746)
"عن عَائِشَةَ رضي الله عنها قالت : " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ افْتَرَضَ قِيَامَ اللَّيْلِ فِي أَوَّلِ هَذِهِ السُّورَةِ، فَقَامَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ حَوْلًا وَأَمْسَكَ اللَّهُ خَاتِمَتَهَا اثْنَيْ عَشَرَ شَهْرًا فِي السَّمَاءِ حَتَّى أَنْزَلَ اللَّهُ فِي آخِرِ هَذِهِ السُّورَةِ التَّخْفِيفَ، فَصَارَ قِيَامُ اللَّيْلِ تَطَوُّعًا بَعْدَ فَرِيضَةٍ".
(صحیح مسلم: 2375)
"عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رضي الله عنه ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: (مَرَرْتُ عَلَى مُوسَى لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي ، عِنْدَ الْكَثِيبِ الْأَحْمَرِ ، وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي قَبْرِهِ).
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ( لَقَدْ رَأَيْتُنِي فِي الْحِجْرِ وَقُرَيْشٌ تَسْأَلُنِي عَنْ مَسْرَايَ ... وَقَدْ رَأَيْتُنِي فِي جَمَاعَةٍ مِنْ الْأَنْبِيَاءِ فَإِذَا مُوسَى قَائِمٌ يُصَلِّي ، فَإِذَا رَجُلٌ ضَرْبٌ جَعْدٌ كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ ، وَإِذَا عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلَام قَائِمٌ يُصَلِّي أَقْرَبُ النَّاسِ بِهِ شَبَهًا عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ الثَّقَفِيُّ ، وَإِذَا إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلَام قَائِمٌ يُصَلِّي أَشْبَهُ النَّاسِ بِهِ صَاحِبُكُمْ - يَعْنِي نَفْسَهُ - فَحَانَتْ الصَّلَاةُ فَأَمَمْتُهُمْ ، فَلَمَّا فَرَغْتُ مِنْ الصَّلَاةِ قَالَ قَائِلٌ : يَا مُحَمَّدُ هَذَا مَالِكٌ صَاحِبُ النَّارِ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ ، فَالْتَفَتُّ إِلَيْهِ فَبَدَأَنِي بِالسَّلَامِ )".
("شرح العمدة": 4 / 148)
"وكان أول فرض الصلوات الخمس ركعتان، ثم بعد الهجرة أقرت في السفر، وزيدت في الحضر ركعتين، إلا المغرب فعلى حالها".
"فقال له: (مَاذَا يَأْمُرُكُمْ ؟ ) ( قُلْتُ : يَقُولُ : اعْبُدُوا اللَّهَ وَحْدَهُ وَلَاتُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَاتْرُكُوا مَا يَقُولُ آبَاؤُكُمْ ؛ وَيَأْمُرُنَا بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَالصِّدْقِ وَالْعَفَافِ وَالصِّلَةِ )". البخاري (7) ومسلم (1773)
("فتح الباري" ، لابن رجب (2/101).
"وهو يدل على أن النبي كان أهم ما يأمر به أمته الصلاة، كما يأمرهم بالصدق والعفاف، واشتُهر ذلك حتى شاع بين الملل المخالفين له في دينه، فإن أبا سفيان كان حين قال ذلك مشركاً، وكان هرقل نصرانياً. ولم يزل منذ بُعث يأمر بالصدق والعفاف، ولم يزل يصلي أيضاً قبل أن تفرض الصلاة." انتهى.
(فتح الباري (554/1)
"وظاهر الحديث أن ذلك الأمر بالصلاة في أول الإسلام كان على الوجوب، وإن اختلفت التفاصيل عما استقر عليه الأمر بعد الإسراء، وهو ـ أيضاً ـ ظاهر الأمر بقيام الليل في سورة المزمل، التي هي من أول ما نزل من القرآن.
"فائدة: ذهب جماعة إلى أنه لم يكن قبل الإسراء صلاة مفروضة، إلا ما وقع الأمر به من صلاة الليل من غير تحديد، وذهب الحربي إلى أن الصلاة كانت مفروضةً ركعتين بالغداة وركعتين بالعشي، وذكر الشافعي عن بعض أهل العلم أن صلاة الليل كانت مفروضةً، ثم نسخت بقوله تعالى: {فَاقْرَأُوا مَا تَيَسَّرَ مِنهَ} [المزمل:20]، فصار الفرض قيام بعض الليل، ثم نسخ ذلك بالصلوات الخمس)". انتهى.
("الموسوعة الفقهية": 27 / 52-53)
" أَصْل وُجُوبِ الصَّلاَةِ كَانَ فِي مَكَّةَ فِي أَوَّل الإْسْلاَمِ ؛ لِوُجُودِ الآْيَاتِ الْمَكِّيَّةِ الَّتِي نَزَلَتْ فِي بِدَايَةِ الرِّسَالَةِ تَحُثُّ عَلَيْهَا. وَأَمَّا الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ بِالصُّورَةِ الْمَعْهُودَةِ فَإِنَّهَا فُرِضَتْ لَيْلَةَ الإْسْرَاءِ وَالْمِعْرَاجِ". قال الإمام الشافعي رحمه الله : " سَمِعْت من أَثِقُ بِخَبَرِهِ وَعِلْمِهِ يَذْكُرُ أَنَّ اللَّهَ أَنْزَلَ فَرْضًا في الصَّلَاةِ ، ثُمَّ نَسَخَهُ بِفَرْضٍ غَيْرِهِ ، ثُمَّ نَسَخَ الثَّانِيَ بِالْفَرْضِ في الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ. قال [ الشافعي ] : كَأَنَّهُ يَعْنِي قَوْلَ اللَّهِ عز وجل: {يا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ قُمْ اللَّيْلَ إلَّا قَلِيلًا نِصْفَهُ أو اُنْقُصْ منه قَلِيلًا} الْآيَةَ ، ثُمَّ نَسَخَهَا في السُّورَةِ معه بِقَوْلِ اللَّهِ جَلَّ ثَنَاؤُهُ: {إنَّ رَبَّكَ يَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُومُ أَدْنَى من ثُلُثَيْ اللَّيْلِ وَنِصْفَهُ} إلَى قَوْلِهِ : {فَاقْرَءُوا ما تَيَسَّرَ من الْقُرْآنِ}، فَنَسَخَ قِيَامَ اللَّيْلِ أو نِصْفَهُ أو أَقَلَّ أو أَكْثَرَ بِمَا تَيَسَّرَ. وما أَشْبَهَ ما قال بِمَا قال" . انتهى". ("الأم" (1/68)
وينظر أيضاً: "الموسوعة الفقهية" (27 / 52-53). "الذخيرة" للقرافي (2 / 8)
("تفسير الطبري" (3 / 501)
"وقد قيل: إن أول ذلك الفرض: ركعتان بالغداة، وركعتان بالعشي. قال قتادة رحمه الله : " كان بدءُ الصيام أمِروا بثلاثة أيام من كل شهر، وركعتين غدوةً، وركعتين عشيةً".
وقال ابن كثير في قوله تعالى :
"{وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ الْغُرُوبِ ) ق/39: " وقد كان هذا قبل أن تفرض الصلوات الخمس ليلة الإسراء ، وهذه الآية مكية". انتهى. ("تفسير ابن كثير" (3 / 538). وينظر : "البحر الرائق" ، لابن نجيم (1 / 257).
"وأنكر جماعة من أهل العلم قول قتادة ومن وافقه على ذلك، وإن أثبتوا فرض مطلق الصلاة قبل الإسراء". ينظر : التمهيد لابن عبد البر (8/35).
("تفسير ابن كثير: تفسير ابن كثير" (7 / 164)
" لايبعد أن يكون أصل الزكاة الصدقة كان مأموراً به في ابتداء البعثة، كقوله تعالى: ( وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ ) الأنعام/ 141 ، فأما الزكاة ذات النصب والمقادير فإنما بَيَّن أمرها بالمدينة، كما أن أصل الصلاة كان واجباً قبل طلوع الشمس وقبل غروبها في ابتداء البعثة، فلما كان ليلة الإسراء قبل الهجرة بسنة ونصف، فرض الله على رسوله صلى الله عليه وسلم الصلوات الخمس، وفصل شروطها وأركانها وما يتعلق بها بعد ذلك، شيئاً فشيئاً" انتهى .
قال الحافظ ابن كثير رحمه الله:
"ثم نزل جبريل عليه السلام وعلم النبي صلى الله عليه وسلم أوقات الصلاة، فروى البخاري (522) ومسلم (611) عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ أَخَّرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا، فَدَخَلَ عَلَيْهِ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ فَأَخْبَرَهُ أَنَّ الْمُغِيرَةَ بْنَ شُعْبَةَ أَخَّرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا وَهُوَ بِالْكُوفَةِ فَدَخَلَ عَلَيْهِ أَبُو مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيُّ فَقَالَ : مَا هَذَا يَا مُغِيرَةُ؟ أَلَيْسَ قَدْ عَلِمْتَ أَنَّ جِبْرِيلَ نَزَلَ فَصَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ صَلَّى فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ قَالَ: ( بِهَذَا أُمِرْت)؟ فَقَالَ عُمَرُ لِعُرْوَةَ: انْظُرْ مَا تُحَدِّثُ يَا عُرْوَةُ؟ أَوَ إِنَّ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَام هُوَ أَقَامَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقْتَ الصَّلَاةِ؟ فَقَالَ عُرْوَةُ: كَذَلِكَ كَانَ بَشِيرُ بْنُ أَبِي مَسْعُودٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ. وروى النسائي (526) عن جَابِر بْن عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنهما قَالَ: جَاءَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَام إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ زَالَتْ الشَّمْسُ فَقَالَ: قُمْ يَا مُحَمَّدُ! فَصَلِّ الظُّهْرَ حِينَ مَالَتْ الشَّمْسُ، ثُمَّ مَكَثَ حَتَّى إِذَا كَانَ فَيْءُ الرَّجُلِ مِثْلَهُ جَاءَهُ لِلْعَصْرِ، فَقَالَ: قُمْ يَا مُحَمَّدُ فَصَلِّ الْعَصْرَ، ثُمَّ مَكَثَ حَتَّى إِذَا غَابَتْ الشَّمْسُ جَاءَهُ فَقَالَ: قُمْ فَصَلِّ الْمَغْرِبَ، فَقَامَ فَصَلَّاهَا حِينَ غَابَتْ الشَّمْسُ سَوَاءً، ثُمَّ مَكَثَ حَتَّى إِذَا ذَهَبَ الشَّفَقُ جَاءَهُ فَقَالَ: قُمْ فَصَلِّ الْعِشَاءَ، فَقَامَ فَصَلَّاهَا ... الحديث، وفيه : فَقَالَ – يعني جبريل - : ( مَا بَيْنَ هَذَيْنِ وَقْتٌ كُلُّهُ )"
(شرح معانی الآثار: تاب الصلاة ، باب الصلاة الوسطيى اي الصلوات ، جلد : 1 ، صفحه : 175 ، طبع : عالم الكتب)
"ما حدثني القاسم بن جعفر ، قال: سمعت بحر بن الحكم الكيساني يقول: سمعت أبا عبد الرحمن عبيد الله بن محمد ابن عائشة يقول: " إن آدم عليه السلام ، لما تيب عليه عند الفجر ، صلى ركعتين فصارت الصبح ، وفدي إسحاق عند الظهر فصلى إبراهيم عليه السلام أربعا ، فصارت الظهر ، وبعث عزير فقيل له : كم لبثت؟ فقال : يوما ، فرأى الشمس فقال : أو بعض يوم ، فصلى أربع ركعات فصارت العصر وقد قيل غفر لعزير عليه السلام ، وغفر لداود عليه السلام ، عند المغرب ، فقام فصلى أربع ركعات ، فجهد فجلس في الثالثة ، فصارت المغرب ثلاثا. وأول من صلى العشاء الآخرة ، نبينا محمد صلى الله عليه وسلم."
( مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيحمیں: كِتَابُ الصَّلَاةِ، بَابُ الْمَوَاقِيتِ، الْفَصْلُ الثَّانِي، رقم: ٥٨٣ ، ٢ / ٥٢١)
"وَأَخْرَجَ الطَّحَاوِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ: أَنَّ آدَمَ لَمَّا تِيبَ عَلَيْهِ عِنْدَ الْفَجْرِ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَصَارَتِ الصُّبْحَ، وَفُدِيَ إِسْحَاقُ عِنْدَ الظُّهْرِ، فَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فَصَارَتِ الظُّهْرَ، وَبُعِثَ عُزَيْرٌ فَقِيلَ لَهُ: كَمْ لَبِثْتَ؟ قَالَ: يَوْمًا فَرَأَى الشَّمْسَ فَقَالَ: أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ، فَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فَصَارَتِ الْعَصْرَ، وَغُفِرَ لِدَاوُدَ عِنْدَ الْمَغْرِبِ فَقَامَ فَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، فَجُهِدَ فِي الثَّالِثَةِ أَيْ: تَعِبَ فِيهَا عَنِ الْإِتْيَانِ بِالرَّابِعَةِ لِشِدَّةٍ مَا حَصَلَ لَهُ مِنَ الْبُكَاءِ عَلَى مَا اقْتَرَفَهُ، مِمَّا هُوَ خِلَافُ الْأَوْلَى بِهِ، فَصَارَتِ الْمَغْرِبُ ثَلَاثًا، وَأَوَّلُ مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ الْآخَرَ نَبِيُّنَا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. قَالَ ابْنُ حَجَرٍ: وَبِهَذَا وَمَا قَرَّرْتُهُ فِي (هَذَا وَقْتُ الْأَنْبِيَاءِ مِنْ قَبْلِكَ) ، يَنْدَفِعُ قَوْلُ الْبَيْضَاوِيِّ تَوْفِيقًا بَيْنَ هَذَا وَبَيْنَ خَبَرِ أَبِي دَاوُدَ وَغَيْرِهِ الْمَذْكُورِ فِي الْعِشَاءِ: أَنَّ الْعِشَاءَ كَانَتِ الرُّسُلُ تُصَلِّيهَا نَافِلَةً لَهُمْ، وَلَمْ تُكْتَبْ عَلَى أُمَمِهِمْ كَالتَّهَجُّدِ، فَإِنَّهُ وَجَبَ عَلَى نَبِيِّنَا وَلَمْ يَجِبْ عَلَيْنَا، أَوْ يُجْعَلْ هَذَا إِشَارَةً إِلَى وَقْتِ الْإِسْفَارِ، فَإِنَّهُ قَدِ اشْتَرَكَ فِيهِ جَمِيعُ الْأَنْبِيَاءِ الْمَاضِيَةِ وَالْأُمَمِ الدَّارِجَةِ اهـ. وَالْحَقُّ أَنَّ الْحَقَّ مَعَ الْقَاضِي، فَإِنَّ الْحَدِيثَ الْأَوَّلَ لَا دَلَالَةَ عَلَى نَفْيِهِ لِلْأَنْبِيَاءِ، وَإِنَّمَا وَقَعَ نَفْيُهُ عَنِ الْأُمَمِ، وَالْحَدِيثُ الثَّانِي دَالٌّ عَلَى أَنَّ نَبِيَّنَا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوَّلُ مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ مَعَ أُمَّتِهِ، فَلَا يُنَافِيهِ أَنَّ الْأَنْبِيَاءَ صَلَّوْهَا، وَغَايَتُهُ أَنَّهُ مَا ذُكِرَ فِيهِ أَوَّلُ مَنْ شَرَّعَ، وَالظَّاهِرُ أَنَّ كُلَّ نَبِيٍّ شَرَّعَ صَلَاةً تَبِعَهُ غَيْرُهُ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ، فَلَا دَلَالَةَ فِيهِ عَلَى التَّوْزِيعِ الَّذِي تَوَهَّمَهُ مَعَ أَنَّ رِوَايَةَ الطَّحَاوِيِّ لَا تُقَاوِمُ رِوَايَةَ أَبِي دَاوُدَ وَغَيْرِهِ الْمُصَرِّحِ فِي الْمَقْصُودِوَأَخْرَجَ الطَّحَاوِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَائِشَةَ: أَنَّ آدَمَ لَمَّا تِيبَ عَلَيْهِ عِنْدَ الْفَجْرِ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ فَصَارَتِ الصُّبْحَ، وَفُدِيَ إِسْحَاقُ عِنْدَ الظُّهْرِ، فَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فَصَارَتِ الظُّهْرَ، وَبُعِثَ عُزَيْرٌ فَقِيلَ لَهُ: كَمْ لَبِثْتَ؟ قَالَ: يَوْمًا فَرَأَى الشَّمْسَ فَقَالَ: أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ، فَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ فَصَارَتِ الْعَصْرَ، وَغُفِرَ لِدَاوُدَ عِنْدَ الْمَغْرِبِ فَقَامَ فَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ، فَجُهِدَ فِي الثَّالِثَةِ أَيْ: تَعِبَ فِيهَا عَنِ الْإِتْيَانِ بِالرَّابِعَةِ لِشِدَّةٍ مَا حَصَلَ لَهُ مِنَ الْبُكَاءِ عَلَى مَا اقْتَرَفَهُ، مِمَّا هُوَ خِلَافُ الْأَوْلَى بِهِ، فَصَارَتِ الْمَغْرِبُ ثَلَاثًا، وَأَوَّلُ مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ الْآخَرَ نَبِيُّنَا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. قَالَ ابْنُ حَجَرٍ: وَبِهَذَا وَمَا قَرَّرْتُهُ فِي (هَذَا وَقْتُ الْأَنْبِيَاءِ مِنْ قَبْلِكَ) ، يَنْدَفِعُ قَوْلُ الْبَيْضَاوِيِّ تَوْفِيقًا بَيْنَ هَذَا وَبَيْنَ خَبَرِ أَبِي دَاوُدَ وَغَيْرِهِ الْمَذْكُورِ فِي الْعِشَاءِ: أَنَّ الْعِشَاءَ كَانَتِ الرُّسُلُ تُصَلِّيهَا نَافِلَةً لَهُمْ، وَلَمْ تُكْتَبْ عَلَى أُمَمِهِمْ كَالتَّهَجُّدِ، فَإِنَّهُ وَجَبَ عَلَى نَبِيِّنَا وَلَمْ يَجِبْ عَلَيْنَا، أَوْ يُجْعَلْ هَذَا إِشَارَةً إِلَى وَقْتِ الْإِسْفَارِ، فَإِنَّهُ قَدِ اشْتَرَكَ فِيهِ جَمِيعُ الْأَنْبِيَاءِ الْمَاضِيَةِ وَالْأُمَمِ الدَّارِجَةِ اهـ. وَالْحَقُّ أَنَّ الْحَقَّ مَعَ الْقَاضِي، فَإِنَّ الْحَدِيثَ الْأَوَّلَ لَا دَلَالَةَ عَلَى نَفْيِهِ لِلْأَنْبِيَاءِ، وَإِنَّمَا وَقَعَ نَفْيُهُ عَنِ الْأُمَمِ، وَالْحَدِيثُ الثَّانِي دَالٌّ عَلَى أَنَّ نَبِيَّنَا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوَّلُ مَنْ صَلَّى الْعِشَاءَ مَعَ أُمَّتِهِ، فَلَا يُنَافِيهِ أَنَّ الْأَنْبِيَاءَ صَلَّوْهَا، وَغَايَتُهُ أَنَّهُ مَا ذُكِرَ فِيهِ أَوَّلُ مَنْ شَرَّعَ، وَالظَّاهِرُ أَنَّ كُلَّ نَبِيٍّ شَرَّعَ صَلَاةً تَبِعَهُ غَيْرُهُ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ، فَلَا دَلَالَةَ فِيهِ عَلَى التَّوْزِيعِ الَّذِي تَوَهَّمَهُ مَعَ أَنَّ رِوَايَةَ الطَّحَاوِيِّ لَا تُقَاوِمُ رِوَايَةَ أَبِي دَاوُدَ وَغَيْرِهِ الْمُصَرِّحِ فِي الْمَقْصُودِ".
(فتاوی شامی : کتاب الصلاۃ ،ج:1،ص:352،سعید)
"فرضت في الإسراء ليلة السبت سابع عشر رمضان قبل الهجرة بسنة ونصف، وكانت قبله صلاتين قبل طلوع الشمس وقبل غروبها شمني
(قوله: فرضت في الإسراء إلخ) نقله أيضاً الشيخ إسماعيل في الأحكام شرح درر الحكام، ثم قال: وحاصل ما ذكره الشيخ محمد البكري نفعنا الله تعالى ببركاته في الروضة الزهراء أنهم اختلفوا في أي سنة كان الإسراء بعد اتفاقهم على أنه كان بعد البعثة. فجزم جمع بأنه كان قبل الهجرة بسنة، ونقل ابن حزم الإجماع عليه، وقيل بخمس سنين، ثم اختلفوا في أي الشهور كان؟ فجزم ابن الأثير والنووي في فتاويه بأنه كان في ربيع الأول. قال النووي: ليلة سبع وعشرين، وقيل في ربيع الآخر، وقيل في رجب وجزم به النووي في الروضة تبعا للرافعي، وقيل في شوال. وجزم الحافظ عبد الغني المقدسي في سيرته بأنه ليلة السابع والعشرين من رجب، وعليه عمل أهل الأمصار. اهـ".
تفصیل کے لیے دیکھیے: التمهيد ، لابن عبد البر (8/35) ، "فتح الباري" لابن رجب (2 / 104)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা
মুহাম্মদপুর, ঢাকা
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন