আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

الترغيب والترهيب للمنذري

৯. অধ্যায়ঃ রোযা - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ২১৫ টি

হাদীস নং: ১৫৮৭
অধ্যায়ঃ রোযা
পরিচ্ছেদঃ বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি ও রবিবারের রোযার প্রতি উৎসাহ দান এবং শুধু শুক্রবার অথবা শনিবারে রোযা রাখার নিষিদ্ধতা প্রসঙ্গে
১৫৮৭. হযরত উবায়দুল্লাহ ইবন মুসলিম কুরাশী সূত্রে তাঁর পিতা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ -কে জিজ্ঞেস করেছিলাম অথবা তাঁকে সারা বছর রোযা রাখার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, সারা বছর রোযা রেখো না। কেননা তোমার পরিবার-পরিজনের তোমার উপর হক রয়েছে। রমযানে ও তৎপরবর্তী মাসে রোযা রাখ। আর প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার। এরূপ করতে পারলে তোমার সারা বছর রোযাও হয়ে গেল এবং রোযাবিহীন অবস্থায়ও কেটে গেল।
(হাদীসটি আবু দাউদ, নাসাঈ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান-গরীব।)
كتاب الصَّوْم
التَّرْغِيب فِي صَوْم الْأَرْبَعَاء وَالْخَمِيس وَالْجُمُعَة والسبت والأحد وَمَا جَاءَ فِي النَّهْي عَن تَخْصِيص الْجُمُعَة بِالصَّوْمِ أَو السبت
1587- وَعَن عبيد الله بن مُسلم الْقرشِي عَن أَبِيه قَالَ سَأَلت أَو سُئِلَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عَن صِيَام الدَّهْر فَقَالَ لَا إِن لاهلك عَلَيْك حَقًا صم رَمَضَان وَالَّذِي يَلِيهِ وكل أربعاء وخميس فَإِذن أَنْت قد صمت الدَّهْر وَأَفْطَرت

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَالتِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب
قَالَ المملي عبد الْعَظِيم رَضِي الله عَنهُ وَرُوَاته ثِقَات
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫৮৮
অধ্যায়ঃ রোযা
পরিচ্ছেদঃ বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি ও রবিবারের রোযার প্রতি উৎসাহ দান এবং শুধু শুক্রবার অথবা শনিবারে রোযা রাখার নিষিদ্ধতা প্রসঙ্গে
১৫৮৮. হযরত আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে নবী করীম ﷺ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন: তোমরা শুক্রবারের রাতকে অন্যান্য রাত থেকে ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করে রেখো না এবং শুক্রবার দিনকে অন্যান্য দিন থেকে রোযার জন্য নির্দিষ্ট করে রেখো না। তবে যদি এদিনটি তোমাদের কারো নিয়মিত রোযার মধ্যে এসে যায়।
(হাদীসটি মুসলিম ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصَّوْم
التَّرْغِيب فِي صَوْم الْأَرْبَعَاء وَالْخَمِيس وَالْجُمُعَة والسبت والأحد وَمَا جَاءَ فِي النَّهْي عَن تَخْصِيص الْجُمُعَة بِالصَّوْمِ أَو السبت
1588- عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَا تخصوا لَيْلَة الْجُمُعَة بِقِيَام من بَين اللَّيَالِي وَلَا تخصوا يَوْم الْجُمُعَة بصيام من بَين الْأَيَّام إِلَّا أَن يكون فِي صَوْم يَصُومهُ أحدكُم

رَوَاهُ مُسلم وَالنَّسَائِيّ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫৮৯
অধ্যায়ঃ রোযা
পরিচ্ছেদঃ বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি ও রবিবারের রোযার প্রতি উৎসাহ দান এবং শুধু শুক্রবার অথবা শনিবারে রোযা রাখার নিষিদ্ধতা প্রসঙ্গে
১৫৮৯. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকেই বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ -কে বলতে শুনেছি যে, তোমাদের কেউ যেন শুধু শুক্রবার দিন রোযা না রাখে। তবে কেউ যদি এর আগে-পিছেও একদিন রোযা রেখে নেয়।
(হাদীসটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। বর্ধিত শব্দসমূহ তাঁরই। মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজাহ এবং ইবন খুযায়মাও 'সহীহ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
ইবন খুযায়মার একটি বর্ণনা নিম্নরূপঃ নিশ্চয়ই শুক্রবার হল ঈদের দিন। তাই তোমরা ঈদের দিনকে রোযার দিনে পরিণত করে ফেলো না। হ্যাঁ, এর আগে পিছে যদি তোমরা রোযা রাখ, তবে অন্য কথা।)
كتاب الصَّوْم
التَّرْغِيب فِي صَوْم الْأَرْبَعَاء وَالْخَمِيس وَالْجُمُعَة والسبت والأحد وَمَا جَاءَ فِي النَّهْي عَن تَخْصِيص الْجُمُعَة بِالصَّوْمِ أَو السبت
1589- وَعنهُ رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول لَا يصومن أحدكُم يَوْم الْجُمُعَة إِلَّا أَن يَصُوم يَوْمًا قبله أَو يَوْمًا بعده

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه وَابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه
وَفِي رِوَايَة لِابْنِ خُزَيْمَة إِن يَوْم الْجُمُعَة يَوْم عيد فَلَا تجْعَلُوا يَوْم عيدكم يَوْم صِيَامكُمْ إِلَّا أَن تَصُومُوا قبله أَو بعده
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫৯০
অধ্যায়ঃ রোযা
পরিচ্ছেদঃ বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি ও রবিবারের রোযার প্রতি উৎসাহ দান এবং শুধু শুক্রবার অথবা শনিবারে রোযা রাখার নিষিদ্ধতা প্রসঙ্গে
১৫৯০. হযরত উম্মুল মু'মিনীন জুওয়াইরিয়া বিনতুল হারিস (রা) থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম ﷺ শুক্রবারে তাঁর ঘরে এসেছিলেন, যখন তিনি ছিলেন রোযাদার। তিনি বললেন, তুমি কি গতকাল রোযা রেখেছিলে ? তিনি বললেন, না। তিনি আবার বললেন, আগামীকাল কি তোমার রোযা রাখার ইচ্ছা আছে? তিনি বললেন, না। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বললেন, তা হলে রোযা ছেড়ে দাও।
(হাদীসটি বুখারী ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصَّوْم
التَّرْغِيب فِي صَوْم الْأَرْبَعَاء وَالْخَمِيس وَالْجُمُعَة والسبت والأحد وَمَا جَاءَ فِي النَّهْي عَن تَخْصِيص الْجُمُعَة بِالصَّوْمِ أَو السبت
1590- وَعَن أم الْمُؤمنِينَ جوَيْرِية بنت الْحَارِث رَضِي الله عَنْهَا أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم دخل عَلَيْهَا يَوْم الْجُمُعَة وَهِي صَائِمَة
فَقَالَ أصمت أمس
قَالَت لَا
قَالَ تريدين أَن تصومي غَدا
قَالَت لَا
قَالَ فأفطري

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَأَبُو دَاوُد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫৯১
অধ্যায়ঃ রোযা
পরিচ্ছেদঃ বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি ও রবিবারের রোযার প্রতি উৎসাহ দান এবং শুধু শুক্রবার অথবা শনিবারে রোযা রাখার নিষিদ্ধতা প্রসঙ্গে
১৫৯১. হযরত মুহাম্মদ ইবন আব্বাদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জাবির (রা)-কে তাওয়াফরত অবস্থায় জিজ্ঞেস করেছিলাম, রাসুলুল্লাহ ﷺ কি শুক্রবারের রোযা থেকে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, এই ঘরের প্রভুর শপথ।
(হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصَّوْم
التَّرْغِيب فِي صَوْم الْأَرْبَعَاء وَالْخَمِيس وَالْجُمُعَة والسبت والأحد وَمَا جَاءَ فِي النَّهْي عَن تَخْصِيص الْجُمُعَة بِالصَّوْمِ أَو السبت
1591 - وَعَن مُحَمَّد بن عباد رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَأَلت جَابِرا وَهُوَ يطوف بِالْبَيْتِ أنهى النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عَن صِيَام الْجُمُعَة قَالَ نعم وَرب هَذَا الْبَيْت

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫৯২
অধ্যায়ঃ রোযা
পরিচ্ছেদঃ বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি ও রবিবারের রোযার প্রতি উৎসাহ দান এবং শুধু শুক্রবার অথবা শনিবারে রোযা রাখার নিষিদ্ধতা প্রসঙ্গে
১৫৯২. হযরত আমির ইব্‌ন লুদায়ন আশ'আরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ -কে বলতে শুনেছি যে, শুক্রবার হল তোমাদের ঈদের দিন। তাই এ দিন তোমরা রোযা রেখো না। তবে যদি এর আগে পিছেও রোযা রেখে নাও।
(হাদীসটি বাযযার হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصَّوْم
التَّرْغِيب فِي صَوْم الْأَرْبَعَاء وَالْخَمِيس وَالْجُمُعَة والسبت والأحد وَمَا جَاءَ فِي النَّهْي عَن تَخْصِيص الْجُمُعَة بِالصَّوْمِ أَو السبت
1592- وَعَن عَامر بن لدين الْأَشْعَرِيّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول إِن يَوْم الْجُمُعَة عيدكم فَلَا تَصُومُوا إِلَّا أَن تَصُومُوا قبله أَو بعده

رَوَاهُ الْبَزَّار بِإِسْنَاد حسن
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫৯৩
অধ্যায়ঃ রোযা
পরিচ্ছেদঃ বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি ও রবিবারের রোযার প্রতি উৎসাহ দান এবং শুধু শুক্রবার অথবা শনিবারে রোযা রাখার নিষিদ্ধতা প্রসঙ্গে
১৫৯৩. হয়রত ইবন সীরীন (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত আবুদ-দারদা (রা) শুক্রবারের রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত করতেন এবং দিনে রোযা রাখতেন। একদিন সালমান (রা) তাঁর কাছে আসলেন। রাসুলুল্লাহ্ ﷺ এ দু'জনকে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ করে দিয়েছিলেন। সালমান তাঁর কাছে নিদ্রা গেলেন। এদিকে আবুদ-দারদা উঠে রাত্রি জাগরণ করতে চাইলেন। সালমান উঠে তাঁর কাছে গেলেন এবং পীড়াপীড়ি করে তাকে শুতে এবং রোযা ছেড়ে দিতে বাধ্য করলেন। আবুদ-দারদা নবী করীম-এর কাছে এসে সবকিছু বললেন। নবী করীম হয় বললেন, হে উয়াইমির। সালমান তোমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী। শুক্রবার রাতকে ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করে রেখো না এবং শুক্রবার দিনটিকেও রোযার জন্য নির্ধারিত করে রেখো না।
(হাদীসটি তাবারানী তাঁর 'কবীর'-এ উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصَّوْم
التَّرْغِيب فِي صَوْم الْأَرْبَعَاء وَالْخَمِيس وَالْجُمُعَة والسبت والأحد وَمَا جَاءَ فِي النَّهْي عَن تَخْصِيص الْجُمُعَة بِالصَّوْمِ أَو السبت
1593- وَعَن ابْن سِيرِين قَالَ كَانَ أَبُو الدَّرْدَاء رَضِي الله عَنهُ يحيي لَيْلَة الْجُمُعَة ويصوم يَوْمهَا فَأَتَاهُ سلمَان وَكَانَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم آخى بَينهمَا ونام عِنْده فَأَرَادَ أَبُو الدَّرْدَاء أَن يقوم ليلته فَقَامَ إِلَيْهِ سلمَان فَلم يَدعه حَتَّى نَام وَأفْطر فجَاء أَبُو الدَّرْدَاء إِلَى النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَأخْبرهُ فَقَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عُوَيْمِر سُلَيْمَان أعلم مِنْك لَا تخص لَيْلَة الْجُمُعَة بِصَلَاة وَلَا يَوْمهَا بصيام

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير بِإِسْنَاد جيد
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫৯৪
অধ্যায়ঃ রোযা
পরিচ্ছেদঃ বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি ও রবিবারের রোযার প্রতি উৎসাহ দান এবং শুধু শুক্রবার অথবা শনিবারে রোযা রাখার নিষিদ্ধতা প্রসঙ্গে
১৫৯৪. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন বুসর সূত্রে তাঁর ভগ্নি হযরত সাম্মা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমরা ফরয রোযা ব্যতীত শনিবার দিন কোন রোযা রাখবে না। তোমাদের কেউ যদি ঘরে আঙ্গুরের খোসা অথবা গাছের বাকল ছাড়া অন্য কিছু না পায়, তবে তাই যেন চিবিয়ে নেয়।
(হাদীসটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং হাসান বলে মন্তব্য করেছেন। নাসাঈও এটি বর্ণনা করেন। ইব্‌ন খু্যায়মাও তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। আবু দাউদ এটি বর্ণনা করে বলেছেন যে, হাদীসটি মানসূখ অর্থাৎ এর হুকুম রহিত হয়ে গিয়েছে। নাসাঈ, ইবন মাজাহ ও ইবন হিব্বান এ হাদীসটি তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন বুসর থেকে তাঁর বোনের উল্লেখ ছাড়া সরাসরি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصَّوْم
التَّرْغِيب فِي صَوْم الْأَرْبَعَاء وَالْخَمِيس وَالْجُمُعَة والسبت والأحد وَمَا جَاءَ فِي النَّهْي عَن تَخْصِيص الْجُمُعَة بِالصَّوْمِ أَو السبت
1594- وَعَن عبد الله بن بسر عَن أُخْته الصماء رَضِي الله عَنْهُم أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَا تَصُومُوا لَيْلَة السبت إِلَّا فِيمَا افْترض عَلَيْكُم فَإِن لم يجد أحدكُم إِلَّا لحاء عنبة أَو عود شَجَرَة فليمضغه

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَحسنه وَالنَّسَائِيّ وَابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه وَأَبُو دَاوُد وَقَالَ هَذَا حَدِيث مَنْسُوخ وَرَوَاهُ النَّسَائِيّ أَيْضا وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه عَن عبد الله بن بسر دون ذكر أُخْته
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫৯৫
অধ্যায়ঃ রোযা
পরিচ্ছেদঃ বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি ও রবিবারের রোযার প্রতি উৎসাহ দান এবং শুধু শুক্রবার অথবা শনিবারে রোযা রাখার নিষিদ্ধতা প্রসঙ্গে
১৫৯৫. ইব্‌ন খুযায়মা তাঁর 'সহীহ' গ্রন্থে এ হাদীসটি আবদুল্লাহ ইব্‌ন শকীক সূত্রেও তাঁর ফুফু সাম্মা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলতেনঃ রাসূলুল্লাহ ﷺ শনিবারের রোযা থেকে নিষেধ করতেন এবং বলেন, তোমাদের কেউ যদি সবুজ ডাল ছাড়া অন্য কিছু না পায়, তবে তা দিয়েই যেন রোযা ভেঙ্গে ফেলে।
(হাফিয (র) বলেনঃ এ নিষেধাজ্ঞাটি শুধুমাত্র শনিবার দিন রোযা রাখার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যেমন ইতিপূর্বে হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, "তোমরা শুধুমাত্র শুক্রবারে রোযা রাখবে না। হ্যাঁ, তবে কেউ যদি আগে পিছেও একদিন রোযা রেখে নেয়।" সুতরাং এমন হলে শনিবারের রোযাও জায়েয হবে।)
كتاب الصَّوْم
التَّرْغِيب فِي صَوْم الْأَرْبَعَاء وَالْخَمِيس وَالْجُمُعَة والسبت والأحد وَمَا جَاءَ فِي النَّهْي عَن تَخْصِيص الْجُمُعَة بِالصَّوْمِ أَو السبت
1595- وَرَوَاهُ ابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه أَيْضا عَن عبد الله بن شَقِيق عَن عمته الصماء أُخْت بسر أَنَّهَا كَانَت تَقول نهى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عَن صِيَام يَوْم السبت وَيَقُول إِن لم يجد أحدكُم إِلَّا عودا أَخْضَر فليفطر عَلَيْهِ

قَالَ الْحَافِظ وَهَذَا النَّهْي إِنَّمَا هُوَ عَن إِفْرَاده بِالصَّوْمِ لما تقدم من حَدِيث أبي هُرَيْرَة لَا يَصُوم أحدكُم يَوْم الْجُمُعَة إِلَّا أَن يَصُوم يَوْمًا قبله أَو يَوْمًا بعده فَجَاز إِذا صَوْمه
হাদীস নং: ১৫৯৬
অধ্যায়ঃ রোযা
পরিচ্ছেদঃ বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি ও রবিবারের রোযার প্রতি উৎসাহ দান এবং শুধু শুক্রবার অথবা শনিবারে রোযা রাখার নিষিদ্ধতা প্রসঙ্গে
১৫৯৬. হযরত উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ অধিকাংশ সময় শনি ও রবিবারে রোযা রাখতেন এবং তিনি বলতেন এ দিন দু'টি মুশকিদের ঈদ ও আনন্দের দিন। তাই আমি তাদের বিপরীত কর্ম করতে চাই।
(হাদীসটি ইবন খুযায়মা তার 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصَّوْم
التَّرْغِيب فِي صَوْم الْأَرْبَعَاء وَالْخَمِيس وَالْجُمُعَة والسبت والأحد وَمَا جَاءَ فِي النَّهْي عَن تَخْصِيص الْجُمُعَة بِالصَّوْمِ أَو السبت
1596- وَعَن أم سَلمَة رَضِي الله عَنْهَا أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَكثر مَا كَانَ يَصُوم من الْأَيَّام يَوْم السبت وَيَوْم الْأَحَد كَانَ يَقُول إنَّهُمَا يَوْمًا عيد للْمُشْرِكين وَأَنا أُرِيد أَن أخالفهم

رَوَاهُ ابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه وَغَيره
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫৯৭
অধ্যায়ঃ রোযা
পরিচ্ছেদঃ একদিন রোযা ও একদিন রোযা না রাখার প্রতি উৎসাহ দান; আর এটি হল দাউদ (আ)-এর রোযা
১৫৯৭. হযরত আবদুল্লাহ ইব্‌ন আমর ইবনুল আস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাকে বললেন, তুমি নাকি সারা বছর দিনে রোযা রাখ এবং গোটা রাত ধরে নামায পড়? আমি বললাম জ্বী হ্যাঁ। তিনি বললেন, তুমি যদি এমন কর তবে তোমার চক্ষু কোঠরাগত হয়ে পড়বে এবং শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। যে ব্যক্তি সারা বছর রোযা রাখে, তার রোযাই নেই। মাসে তিনদিন রোযা পালন সারা মাসের রোযার সমান। আমি বললাম আমিতো এর চেয়ে বেশি সামর্থ্য রাখি। তিনি বললেন, তাহলে দাউদ (আ)-এর মত রোযা রাখ। তিনি এক দিন রোযা রাখতেন ও একদিন ছেড়ে দিতেন এবং শত্রুর মুখোমুখি হলে কখনো পলায়ন করতেন না।
অপর বর্ণনায় এরূপ রয়েছে: যে আমি কি অবগত হইনি যে, তুমি একাধারে রোযা রাখ আর তা ছাড় না এবং সারা রাত নামায পড়? এমন করো না। কেননা তোমার চোখেরও তোমার উপর অধিকার রয়েছে। তোমার শরীরেরও হক রয়েছে এবং পরিবার-পরিজনেরও হক রয়েছে। তাই রোযাও রাখবে, বিরতিও দেবে। নামাযও পড়বে, নিদ্রাও যাবে। দশদিনে একদিন রোযা রাখ, অবশিষ্ট নয় দিনের পুণ্যও তোমার থাকবে। তিমি বললেন, আমি নিজেকে এর চাইতে বেশি সক্ষম মনে করি। তিনি বললেন, তাহলে দাউদ (আ)-এর মত রোযা রাখ। তিনি বললেন, হে আল্লাহর নবী। তিনি কিভাবে রোযা রাখতেন? রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বললেন, একদিন বিরতি দিয়ে একদিন রোযা রাখতেন এবং শত্রুর মুখোমুখি হলে পলায়ন করতেন না। অপর এক বর্ণনায় রয়েছে। নবী করীম ﷺ বলেছেন: দাউদ (আ)-এর রোযার উপর আর কোন রোযা নেই, যা ছিল বছরের অর্ধেক। তাই একদিন রোযা রাখ ও একদিন ছেড়ে দাও।
(হাদীসটি বুখারী, মুসলিম প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصَّوْم
التَّرْغِيب فِي صَوْم يَوْم وإفطار يَوْم وَهُوَ صَوْم دَاوُد عَلَيْهِ السَّلَام
1597- عَن عبد الله بن عَمْرو بن الْعَاصِ رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ لي رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِنَّك لتصوم الدَّهْر وَتقوم اللَّيْل قلت نعم
قَالَ إِنَّك إِذا فعلت ذَلِك هجمت لَهُ الْعين ونفهت لَهُ النَّفس لَا صَامَ من صَامَ الْأَبَد صَوْم ثَلَاثَة أَيَّام من الشَّهْر صَوْم الشَّهْر كُله
قلت فَإِنِّي أُطِيق أَكثر من ذَلِك قَالَ فَصم صَوْم دَاوُد عَلَيْهِ السَّلَام كَانَ يَصُوم يَوْمًا وَيفْطر يَوْمًا وَلَا يفر إِذا لَاقَى
وَفِي رِوَايَة ألم أخبر أَنَّك تَصُوم وَلَا تفطر وَتصلي اللَّيْل فَلَا تفعل فَإِن لعينك
حظا وَلِنَفْسِك حظا ولاهلك حظا فَصم وَأفْطر وصل ونم وصم من كل عشرَة أَيَّام يَوْمًا وَلَك أجر تِسْعَة
قَالَ إِنِّي أجد أقوى من ذَلِك يَا نَبِي الله قَالَ فَصم صِيَام دَاوُد عَلَيْهِ السَّلَام
قَالَ وَكَيف كَانَ يَصُوم يَا نَبِي الله قَالَ كَانَ يَصُوم يَوْمًا وَيفْطر يَوْمًا وَلَا يفر إِذا لَاقَى
وَفِي أُخْرَى قَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَا صَوْم فَوق صَوْم دَاوُد عَلَيْهِ السَّلَام شطر الدَّهْر صم يَوْمًا وَأفْطر يَوْمًا

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَغَيرهمَا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫৯৮
অধ্যায়ঃ রোযা
পরিচ্ছেদঃ একদিন রোযা ও একদিন রোযা না রাখার প্রতি উৎসাহ দান; আর এটি হল দাউদ (আ)-এর রোযা
১৫৯৮. মুসলিমে অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ্ ﷺ তাঁকে বলেছিলেন, একদিন রোযা রাখ বাকী দিনগুলোর পুণ্য তোমার জন্য থাকবে। সে বলল, আমি এর চেয়ে উত্তমটি করতে সক্ষম। তিনি তখন বললেন, তিন দিন রোযা রাখ তোমার জন্য অবশিষ্ট দিনগুলোর পুণ্য সংরক্ষিত থাকবে। সে বলল, আমি এর চেয়ে উত্তম করতে সক্ষম। তিনি বললেন তাহলে আল্লাহর নিকট উত্তম রোযা- দাউদ (আ)-এর মত রোযা রাখ। তিনি একদিন বিরতি দিয়ে একদিন রোযা রাখতেন।
كتاب الصَّوْم
التَّرْغِيب فِي صَوْم يَوْم وإفطار يَوْم وَهُوَ صَوْم دَاوُد عَلَيْهِ السَّلَام
1598- وَفِي رِوَايَة لمُسلم أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَهُ صم يَوْمًا وَلَك أجر مَا بَقِي
قَالَ أَنا أُطِيق أفضل من ذَلِك قَالَ صم ثَلَاثَة أَيَّام وَلَك أجر مَا بَقِي قَالَ إِنِّي أُطِيق أفضل من ذَلِك قَالَ صم أفضل الصّيام عِنْد الله صَوْم دَاوُد عَلَيْهِ السَّلَام كَانَ يَصُوم يَوْمًا وَيفْطر يَوْمًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫৯৯
অধ্যায়ঃ রোযা
পরিচ্ছেদঃ একদিন রোযা ও একদিন রোযা না রাখার প্রতি উৎসাহ দান; আর এটি হল দাউদ (আ)-এর রোযা
১৫৯৯. মুসলিমের অন্য একটি বর্ণনা ও আবু দাউদের বর্ণনায় এমন রয়েছে। তিনি বললেন, একদিন বিরতি দিয়ে একদিন রোযা রাখ। এটি মধ্যপন্থার রোযা, এটি দাউদ (আ)-এর রোযা। আমি বললাম, আমি তো এর চেয়ে উত্তমটি করতে সক্ষম। রাসূলুল্লাহ হয় তখন বললেন, এর চেয়ে উত্তম আর নেই।
كتاب الصَّوْم
التَّرْغِيب فِي صَوْم يَوْم وإفطار يَوْم وَهُوَ صَوْم دَاوُد عَلَيْهِ السَّلَام
1599- وَفِي رِوَايَة لمُسلم وَأبي دَاوُد قَالَ صم يَوْمًا وَأفْطر يَوْمًا وَهُوَ أعدل الصّيام وَهُوَ صِيَام دَاوُد عَلَيْهِ السَّلَام قلت إِنِّي أُطِيق أفضل من ذَلِك فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَا أفضل من ذَلِك
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬০০
অধ্যায়ঃ রোযা
পরিচ্ছেদঃ একদিন রোযা ও একদিন রোযা না রাখার প্রতি উৎসাহ দান; আর এটি হল দাউদ (আ)-এর রোযা
১৬০০. নাসাঈর এক বর্ণনায় এমন রয়েছে। তুমি আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় রোযা-দাউদ (আ)-এর রোযা রাখ। তিনি একদিন পরপর রোযা রাখতেন।
كتاب الصَّوْم
التَّرْغِيب فِي صَوْم يَوْم وإفطار يَوْم وَهُوَ صَوْم دَاوُد عَلَيْهِ السَّلَام
1600- وَفِي رِوَايَة للنسائي صم أحب الصّيام إِلَى الله عز وَجل صَوْم دَاوُد كَانَ يَصُوم يَوْمًا وَيفْطر يَوْمًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬০১
অধ্যায়ঃ রোযা
পরিচ্ছেদঃ একদিন রোযা ও একদিন রোযা না রাখার প্রতি উৎসাহ দান; আর এটি হল দাউদ (আ)-এর রোযা
১৬০১. মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় রয়েছে যে, হযরত আবদুল্লাহ্ (রা) বলেন, আমি সারা বছর রোযা রাখতাম ও প্রতি রাতে কুরআন খতম করতাম। তারপর নবী করীম ﷺ -এর কাছে এ বিষয়টির আলোচনা হল অথবা এমনিতেই তিনি আমার কাছে লোক পাঠালেন। আমি তাঁর খিদমতে হাযির হলাম। তিনি তখন বললেন, আমাকে কি অবগত করা হয়নি যে, তুমি সারা বছর রোযা রাখ ও প্রতি রাতে কুরআন খতম কর? আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী। অবশ্যই, আর আমি তো এরদ্বারা পুণ্যেরই আশা করেছি। তিনি বললেন, প্রতিমাসে তিন দিন রোযা রাখাই তোমার জন্য যথেষ্ট। আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী। আমি এর চেয়ে উত্তমটি করতে পারি। তিনি বললেন, তোমার উপর তোমার স্ত্রীর অধিকার রয়েছে, তোমার মেহমানের অধিকার রয়েছে এবং তোমার শরীরেরও হক রয়েছে। তাই দাউদ (আ)-এর মত রোযা পালন কর। কেননা তিনি মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ আবিদ ছিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী। দাউদ (আ)-এর রোযা কিরূপ ছিল? তিনি বললেন, একদিন রোযা রাখতেন ও একদিন রোযা ছেড়ে দিতেন। রাসুলুল্লাহ্ ﷺ বললেন, আর তুমি মাসে একবার কুরআন পড়বে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি এর চেয়ে উত্তমটি করতে সক্ষম। তখন তিনি বললেন, কুড়ি দিনে খতম কর। আমি বললাম, আমি এর চেয়ে উত্তমটি করতে সক্ষম। তিনি বললেন, তা হলে দশদিনে খতম কর। আমি বললাম, আমি এর চেয়ে উত্তমটি করতে সক্ষম। তখন তিনি বললেন, তাহলে সাত দিনে খতম কর এবং এর চেয়ে বেশি পড়ো না। কেননা তোমার উপর তোমার স্ত্রীর হক রয়েছে, তোমার মেহমানের হক রয়েছে এবং তোমার দেহেরও হক রয়েছে।
كتاب الصَّوْم
التَّرْغِيب فِي صَوْم يَوْم وإفطار يَوْم وَهُوَ صَوْم دَاوُد عَلَيْهِ السَّلَام
1601 - وَفِي رِوَايَة لمُسلم قَالَ كنت أَصوم الدَّهْر وأقرأ الْقُرْآن كل لَيْلَة
قَالَ فإمَّا ذكرت للنَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَإِمَّا أرسل إِلَيّ فَأَتَيْته فَقَالَ ألم أخبر أَنَّك تَصُوم الدَّهْر وتقرأ الْقُرْآن كل لَيْلَة فَقلت بلَى يَا نَبِي الله وَلم أرد بذلك إِلَّا الْخَيْر
قَالَ فَإِن بحسبك أَن تَصُوم من كل شهر ثَلَاثَة أَيَّام فَقلت يَا نَبِي الله إِنِّي أُطِيق أفضل من ذَلِك
قَالَ فَإِن لزوجك عَلَيْك حَقًا ولزورك عَلَيْك حَقًا ولجسدك عَلَيْك حَقًا قَالَ فَصم صَوْم دَاوُد نَبِي الله عَلَيْهِ
السَّلَام فَإِنَّهُ كَانَ أعبد النَّاس
قَالَ قلت يَا نَبِي الله وَمَا صَوْم دَاوُد قَالَ كَانَ يَصُوم يَوْمًا وَيفْطر يَوْمًا
قَالَ واقرإ الْقُرْآن فِي كل شهر
قَالَ قلت يَا رَسُول الله إِنِّي أُطِيق أفضل من ذَلِك قَالَ فاقرأه فِي كل عشْرين
قَالَ قلت يَا نَبِي الله إِنِّي أُطِيق أفضل من ذَلِك قَالَ فاقرأه فِي كل عشرَة
قَالَ قلت يَا نَبِي الله إِنِّي أُطِيق أفضل من ذَلِك قَالَ فاقرأه فِي كل سبع وَلَا تزد على ذَلِك فَإِن لزوجك عَلَيْك حَقًا ولزورك عَلَيْك حَقًا ولجسدك عَلَيْك حَقًا
হাদীস নং: ১৬০২
অধ্যায়ঃ রোযা
পরিচ্ছেদঃ একদিন রোযা ও একদিন রোযা না রাখার প্রতি উৎসাহ দান; আর এটি হল দাউদ (আ)-এর রোযা
১৬০২. হযরত আবদুল্লাহ্ ইব্‌ন আমর (রা) থেকেই বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বেশি প্রিয় রোযা হচ্ছে দাউদ (আ)-এর রোযা। আর আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় নামাযও হচ্ছে দাউদ (আ)-এর নামায। তিনি অর্ধরাত নিদ্রা যেতেন, এক-তৃতীয়াংশ নামায আদায় করতেন ও এক-ষষ্ঠাংশ নিদ্রা যেতেন। রোযার বেলায়ও একদিন রোযাহীন কাটাতেন ও একদিন রোযা রাখতেন।
(হাদীসটি বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصَّوْم
التَّرْغِيب فِي صَوْم يَوْم وإفطار يَوْم وَهُوَ صَوْم دَاوُد عَلَيْهِ السَّلَام
1602- وَعنهُ رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أحب الصّيام إِلَى الله صِيَام دَاوُد وَأحب الصَّلَاة إِلَى الله صَلَاة دَاوُد كَانَ ينَام نصف اللَّيْل وَيقوم ثلثه وينام سدسه وَكَانَ يفْطر يَوْمًا ويصوم يَوْمًا

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه
হাদীস নং: ১৬০৩
অধ্যায়ঃ রোযা
পরিচ্ছেদঃ স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত স্ত্রীর পক্ষে নফল রোযা রাখা প্রসঙ্গে সতর্কবাণী
১৬০৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: কোন মহিলার পক্ষে স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ছাড়া রোযা রাখা হালাল নয় এবং কোন মহিলা স্বামীর ঘরে তার অনুমতি ছাড়া কাউকে আসার অনুমতি দিতে পারবে না।
(হাদীসটি বুখারী, মুসলিম প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ বর্ণনা করেছেন। আহমদও এটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন এবং এই অতিরিক্ত কথাটিও উল্লেখ করেছেন: 'রমযান ব্যতীত'। আবু দাউদের কোন কোন বর্ণনায়ও 'রমযান ছাড়া' কথাটি উল্লেখিত হয়েছে।
كتاب الصَّوْم
ترهيب الْمَرْأَة أَن تَصُوم تَطَوّعا وَزوجهَا حَاضر إِلَّا أَن تستأذنه
1603- عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَا يحل لامْرَأَة أَن تَصُوم وَزوجهَا شَاهد إِلَّا بِإِذْنِهِ وَلَا تَأذن فِي بَيته إِلَّا بِإِذْنِهِ

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَغَيرهمَا وَرَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَاد حسن وَزَاد إِلَّا رَمَضَان
وَفِي بعض رِوَايَات أبي دَاوُد غير رَمَضَان
হাদীস নং: ১৬০৪
অধ্যায়ঃ রোযা
পরিচ্ছেদঃ স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত স্ত্রীর পক্ষে নফল রোযা রাখা প্রসঙ্গে সতর্কবাণী
১৬০৪. তিরমিযী ও ইবন মাজাহর এক বর্ণনায় এমন রয়েছে। কোন মহিলা রমযান ছাড়া অন্য কোন সময় স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত একদিনও যেন রোযা না রাখে।
(ইবন খুযায়মা এবং ইবন হিব্বানও এটি তিরমিযীর অনুরূপ তাঁদের 'সহীহ' গ্রন্থদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصَّوْم
ترهيب الْمَرْأَة أَن تَصُوم تَطَوّعا وَزوجهَا حَاضر إِلَّا أَن تستأذنه
1604- وَفِي رِوَايَة لِلتِّرْمِذِي وَابْن مَاجَه لَا تصم الْمَرْأَة وَزوجهَا شَاهد يَوْمًا من غير شهر
رَمَضَان إِلَّا بِإِذْنِهِ

وَرَوَاهُ ابْن خُزَيْمَة وَابْن حبَان فِي صَحِيحَيْهِمَا بِنَحْوِ التِّرْمِذِيّ
হাদীস নং: ১৬০৫
অধ্যায়ঃ রোযা
পরিচ্ছেদঃ স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত স্ত্রীর পক্ষে নফল রোযা রাখা প্রসঙ্গে সতর্কবাণী
১৬০৫. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকেই বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে মহিলা তার স্বামীর অনুমতি ব্যতীত (নফল) রোযা রাখল এবং স্বামী তার কাছে নিজের প্রয়োজনে আসতে চাইলে সে বিরত থাকল, আল্লাহ্ তার আমলনামায় তিনটি কবীরা গুনাহ লিখে দিবেন।
(হাদীসটি তাবারানী তাঁর আওসাত নামক গ্রন্থে বাকিয়্যা সূত্রে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি গরীব এবং এতে মুনকারজনিত দোষও রয়েছে। আল্লাহ্ ভাল জানেন।)
كتاب الصَّوْم
ترهيب الْمَرْأَة أَن تَصُوم تَطَوّعا وَزوجهَا حَاضر إِلَّا أَن تستأذنه
1605- وَعنهُ رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَيّمَا امْرَأَة صَامت بِغَيْر إِذن زَوجهَا فأرادها على شَيْء فامتنعت عَلَيْهِ كتب الله عَلَيْهَا ثَلَاثًا من الْكَبَائِر

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط من رِوَايَة بَقِيَّة وَهُوَ حَدِيث غَرِيب وَفِيه نَكَارَة وَالله أعلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬০৬
অধ্যায়ঃ রোযা
পরিচ্ছেদঃ স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত স্ত্রীর পক্ষে নফল রোযা রাখা প্রসঙ্গে সতর্কবাণী
১৬০৬. তাবারানী হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) সূত্রে একটি দীর্ঘ হাদীস রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। এর একটি অংশ এইঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকারসমূহের একটি এই যে, স্ত্রী তার অনুমতি ব্যতীত নফল রোযা রাখতে পারবে না। এরপরও সে যদি এমন করে, তবে সে শুধু ক্ষুৎ-পিপাসাই বরদাশত করবে, কিন্তু তার রোযা কবুল হবে না। পূর্ণ হাদীসটি ইনশাআল্লাহ্ বিবাহ অধ্যায়ে আসবে।
كتاب الصَّوْم
ترهيب الْمَرْأَة أَن تَصُوم تَطَوّعا وَزوجهَا حَاضر إِلَّا أَن تستأذنه
1606- وروى الطَّبَرَانِيّ حَدِيثا عَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَفِيه وَمن حق الزَّوْج على الزَّوْجَة أَن لَا تَصُوم تَطَوّعا إِلَّا بِإِذْنِهِ فَإِن فعلت جاعت وعطشت وَلَا يقبل مِنْهَا وَيَأْتِي بِتَمَامِهِ فِي النِّكَاح إِن شَاءَ الله تَعَالَى