আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
الترغيب والترهيب للمنذري
১৮. অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৮২ টি
হাদীস নং: ৩২৭৪
অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
পরিচ্ছেদঃ মানুষকে খানার দিকে আহবান করা হলে তা বিনা ওযরে প্রত্যাখ্যান করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং দাওয়াত কবুল করার নির্দেশ এবং সৎলোকের খানা গ্রহণ প্রসঙ্গে
৩২৭৪. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যাকে দাওয়াত করা হয় অথচ সে দাওয়াত গ্রহণ করে না, সে প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (ﷺ) নাফরমানী করল। আর যে ব্যক্তি বিনা দাওয়াতে খানায় অংশগ্রহণ করে, সে ঢুকে চোর হিসেবে এবং বেরিয়ে আসে ডাকাতের মত।
(আবু দাউদ বর্ণিত, তিনি দুরুসাত ইবনে যিয়াদ থেকে দুর্বল সনদে বর্ণনা করেন নি। জমহুরের মতে হাদীসটি দুর্বল। আবূ যুর'আ (রা) আবান ইবনে তারিক সূত্রের হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। তিনি বলেন: আবান অজ্ঞাত ব্যক্তি আবু যুর'আ ও অন্যান্যগণ এ অভিমত প্রকাশ করেন।)
(আবু দাউদ বর্ণিত, তিনি দুরুসাত ইবনে যিয়াদ থেকে দুর্বল সনদে বর্ণনা করেন নি। জমহুরের মতে হাদীসটি দুর্বল। আবূ যুর'আ (রা) আবান ইবনে তারিক সূত্রের হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। তিনি বলেন: আবান অজ্ঞাত ব্যক্তি আবু যুর'আ ও অন্যান্যগণ এ অভিমত প্রকাশ করেন।)
كتاب الطعام
التَّرْهِيب من أَن يدعى الْإِنْسَان إِلَى الطَّعَام فَيمْتَنع من غير عذر وَالْأَمر بإجابة الدَّاعِي وَمَا جَاءَ فِي طَعَام المتباريين
3274- وَعَن عبد الله بن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من دعِي فَلم يجب فقد عصى الله وَرَسُوله وَمن دخل على غير دَعْوَة دخل سَارِقا وَخرج مغيرا
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَلم يُضعفهُ عَن درست بن زِيَاد وَالْجُمْهُور على تَضْعِيفه ووهاه أَبُو زرْعَة عَن أبان بن طَارق وَهُوَ مَجْهُول قَالَه أَبُو زرْعَة وَغَيره
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَلم يُضعفهُ عَن درست بن زِيَاد وَالْجُمْهُور على تَضْعِيفه ووهاه أَبُو زرْعَة عَن أبان بن طَارق وَهُوَ مَجْهُول قَالَه أَبُو زرْعَة وَغَيره
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৭৫
অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
পরিচ্ছেদঃ মানুষকে খানার দিকে আহবান করা হলে তা বিনা ওযরে প্রত্যাখ্যান করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং দাওয়াত কবুল করার নির্দেশ এবং সৎলোকের খানা গ্রহণ প্রসঙ্গে
৩২৭৫. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কাউকে ওয়ালীমায় দাওয়াত করলে, সে যেন তাতে অবশ্যই উপস্থিত হয়।
(বুখারী, মুসলিম ও আবু দাউদ বর্ণিত।)
(বুখারী, মুসলিম ও আবু দাউদ বর্ণিত।)
كتاب الطعام
التَّرْهِيب من أَن يدعى الْإِنْسَان إِلَى الطَّعَام فَيمْتَنع من غير عذر وَالْأَمر بإجابة الدَّاعِي وَمَا جَاءَ فِي طَعَام المتباريين
3275- وَعَن عبد الله بن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِذا دعِي أحدكُم إِلَى الْوَلِيمَة فليأتها
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৭৬
অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
পরিচ্ছেদঃ মানুষকে খানার দিকে আহবান করা হলে তা বিনা ওযরে প্রত্যাখ্যান করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং দাওয়াত কবুল করার নির্দেশ এবং সৎলোকের খানা গ্রহণ প্রসঙ্গে
৩২৭৬. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কাউকে যখন তার ভাই দাওয়াত দেয়, তখন সে যেন তার দাওয়াতে সাড়া দেয়, বৌভাত হোক বা সে রকম (অন্য কোন) অনুষ্ঠান।
(মুসলিম ও আবু দাউদ বর্ণিত। মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছে, "যখন তোমাদেরকে বকরীর পায়া (সাধারণ খাদ্য) খাওয়ার দাওয়াত দেওয়া হয়, তখনও তোমরা তাতে সাড়া দিও"।)
(মুসলিম ও আবু দাউদ বর্ণিত। মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছে, "যখন তোমাদেরকে বকরীর পায়া (সাধারণ খাদ্য) খাওয়ার দাওয়াত দেওয়া হয়, তখনও তোমরা তাতে সাড়া দিও"।)
كتاب الطعام
التَّرْهِيب من أَن يدعى الْإِنْسَان إِلَى الطَّعَام فَيمْتَنع من غير عذر وَالْأَمر بإجابة الدَّاعِي وَمَا جَاءَ فِي طَعَام المتباريين
3276- وَعنهُ رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِذا دَعَا أحدكُم أَخَاهُ فليجب عرسا كَانَ أَو نَحوه
رَوَاهُ مُسلم وَأَبُو دَاوُد
وَفِي رِوَايَة لمُسلم إِذا دعيتم إِلَى كرَاع فأجيبوه
رَوَاهُ مُسلم وَأَبُو دَاوُد
وَفِي رِوَايَة لمُسلم إِذا دعيتم إِلَى كرَاع فأجيبوه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৭৭
অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
পরিচ্ছেদঃ মানুষকে খানার দিকে আহবান করা হলে তা বিনা ওযরে প্রত্যাখ্যান করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং দাওয়াত কবুল করার নির্দেশ এবং সৎলোকের খানা গ্রহণ প্রসঙ্গে
৩২৭৭. হযরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের কাউকে যখন খাওয়ার দাওয়াত দেওয়া হয়, তখন সে যেন তাতে সাড়া দেয়। এরপর ইচ্ছা করলে সে আহার করবে, অন্যথায় আহার করবে না।
(মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ বর্ণিত।)
(মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ বর্ণিত।)
كتاب الطعام
التَّرْهِيب من أَن يدعى الْإِنْسَان إِلَى الطَّعَام فَيمْتَنع من غير عذر وَالْأَمر بإجابة الدَّاعِي وَمَا جَاءَ فِي طَعَام المتباريين
3277- وَعَن جَابر هُوَ ابْن عبد الله رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِذا دعِي
أحدكُم إِلَى طَعَام فليجب فَإِن شَاءَ طعم وَإِن شَاءَ ترك
رَوَاهُ مُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه
أحدكُم إِلَى طَعَام فليجب فَإِن شَاءَ طعم وَإِن شَاءَ ترك
رَوَاهُ مُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৭৮
অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
পরিচ্ছেদঃ মানুষকে খানার দিকে আহবান করা হলে তা বিনা ওযরে প্রত্যাখ্যান করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং দাওয়াত কবুল করার নির্দেশ এবং সৎলোকের খানা গ্রহণ প্রসঙ্গে
৩২৭৮. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: এক মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের পাঁচটি হক রয়েছে। তা হল: ১. সালামের জওয়াব দেওয়া, ২. রোগীর কুশল জিজ্ঞেস করা, ৩. জানাযায় অংশগ্রহণ করা, ৪. দাওয়াতে সাড়া দেওয়া এবং ৫. হাঁচি দাতার হাঁচির জবাব দেওয়া।
(বুখারী, মুসলিম বর্ণিত। এই বিষয়ক হাদীস ইন্শাল্লাহ সামনে আসবে।)
(বুখারী, মুসলিম বর্ণিত। এই বিষয়ক হাদীস ইন্শাল্লাহ সামনে আসবে।)
كتاب الطعام
التَّرْهِيب من أَن يدعى الْإِنْسَان إِلَى الطَّعَام فَيمْتَنع من غير عذر وَالْأَمر بإجابة الدَّاعِي وَمَا جَاءَ فِي طَعَام المتباريين
3278- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ حق الْمُسلم على الْمُسلم خمس رد السَّلَام وعيادة الْمَرِيض وَاتِّبَاع الْجَنَائِز وَإجَابَة الدعْوَة وتشميت الْعَاطِس
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَيَأْتِي أَحَادِيث من هَذَا النَّوْع إِن شَاءَ الله تَعَالَى
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَيَأْتِي أَحَادِيث من هَذَا النَّوْع إِن شَاءَ الله تَعَالَى
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৭৯
অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
পরিচ্ছেদঃ মানুষকে খানার দিকে আহবান করা হলে তা বিনা ওযরে প্রত্যাখ্যান করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং দাওয়াত কবুল করার নির্দেশ এবং সৎলোকের খানা গ্রহণ প্রসঙ্গে
৩২৭৯. হযরত আবুশ শায়খ ইবনে হিব্বানের "তাওরীখ অধ্যায়" আবু আইউব আনসারী (রা) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: এক মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের ছয়টি অপরিহার্য হক রয়েছে। এ গুলোর মধ্য থেকে যে একটি বর্জন করবে, সে একটি অপরিহার্য হক বর্জন করবে। তা হলঃ ১. দাওয়াত গ্রহণ করা, ২. সাক্ষাৎ হলে সালাম দেওয়া, ৩. হাঁচির জবাব দেওয়া, ৪. রোগাক্রান্ত হলে কুশলাদি জিজ্ঞেস করা, ৫. এবং পরামর্শ চাওয়া হলে উত্তম পরামর্শ দেওয়া।
كتاب الطعام
التَّرْهِيب من أَن يدعى الْإِنْسَان إِلَى الطَّعَام فَيمْتَنع من غير عذر وَالْأَمر بإجابة الدَّاعِي وَمَا جَاءَ فِي طَعَام المتباريين
3279- وروى أَبُو الشَّيْخ ابْن حبَان فِي كتاب التوبيخ وَغَيره عَن أبي أَيُّوب الْأنْصَارِيّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم سِتّ خِصَال وَاجِبَة للْمُسلمِ على الْمُسلم من ترك شَيْئا مِنْهُنَّ فقد ترك حَقًا وَاجِبا يجِيبه إِذا دَعَاهُ وَإِذا لقِيه أَن يسلم عَلَيْهِ وَإِذا عطس أَن يشمته وَإِذا مرض أَن يعودهُ وَإِذا استنصحه أَن ينصح لَهُ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৮০
অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
পরিচ্ছেদঃ মানুষকে খানার দিকে আহবান করা হলে তা বিনা ওযরে প্রত্যাখ্যান করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং দাওয়াত কবুল করার নির্দেশ এবং সৎলোকের খানা গ্রহণ প্রসঙ্গে
৩২৮০. হযরত ইকরিমা (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবনে আব্বাস (রা) বলতেন, নবী (ﷺ) পারস্পরিক অহংকার করে আহার করতে নিষেধ করেছেন।
(আবু দাউদ বর্ণিত। তিনি বলেন, অধিকাংশ মুহাদ্দিস জারীর (র) থেকে নামোল্লেখ না করে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা)-এর মতে অধিকাংশ বর্ণনাকারীগণ হাদীসটি মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেছেন।)
(আবু দাউদ বর্ণিত। তিনি বলেন, অধিকাংশ মুহাদ্দিস জারীর (র) থেকে নামোল্লেখ না করে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা)-এর মতে অধিকাংশ বর্ণনাকারীগণ হাদীসটি মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الطعام
التَّرْهِيب من أَن يدعى الْإِنْسَان إِلَى الطَّعَام فَيمْتَنع من غير عذر وَالْأَمر بإجابة الدَّاعِي وَمَا جَاءَ فِي طَعَام المتباريين
3280 - وَعَن عِكْرِمَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ كَانَ ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا يَقُول إِن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم نهى عَن طَعَام المتباريين أَن يُؤْكَل
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَقَالَ أَكثر من رَوَاهُ عَن جرير لَا يذكر فِيهِ وَابْن عَبَّاس يُرِيد أَن أَكثر الروَاة أَرْسلُوهُ
قَالَ الْحَافِظ الصَّحِيح أَنه عَن عِكْرِمَة عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مُرْسل
المتباريان هما المتماريان المتباهيان
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَقَالَ أَكثر من رَوَاهُ عَن جرير لَا يذكر فِيهِ وَابْن عَبَّاس يُرِيد أَن أَكثر الروَاة أَرْسلُوهُ
قَالَ الْحَافِظ الصَّحِيح أَنه عَن عِكْرِمَة عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مُرْسل
المتباريان هما المتماريان المتباهيان
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৮১
অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
পরিচ্ছেদঃ বরকত রক্ষার উদ্দেশ্যে মসেহের পূর্বে আংগুল চেটে খাওয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা
৩২৮১. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাতের আংগুল ও খাবার প্লেট লেহন করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি (আরও) বলেছেন: তোমরা জানো না, তোমাদের খানার কোন অংশে বরকত নিহিত রয়েছে।
(মুসলিম বর্ণিত।)
(মুসলিম বর্ণিত।)
كتاب الطعام
التَّرْغِيب فِي لعق الْأَصَابِع قبل مسحها لإحراز الْبركَة
3281- عَن جَابر رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَمر بلعق الْأَصَابِع والصحفة وَقَالَ إِنَّكُم لَا تَدْرُونَ فِي أَي طَعَامكُمْ الْبركَة
رَوَاهُ مُسلم
رَوَاهُ مُسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৮২
অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
পরিচ্ছেদঃ বরকত রক্ষার উদ্দেশ্যে মসেহের পূর্বে আংগুল চেটে খাওয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা
৩২৮২. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের আহারকালে কারো এক গ্রাস খানা পড়ে গেলে, সে যেন অবশ্যই তা তুলে নেয় এবং তার ময়লা দূর করে নেয়। তারপর তা আহার করে। আর তা যেন সে শয়তানের জন্য রেখে না দেয়। আঙ্গুলসমূহ লেহনের পূর্বে সে যেন রূমাল দ্বারা হাত মুছে না ফেলে। কেননা, সে জানে না, খানার কোন অংশে বরকত নিহিত রয়েছে।
(মুসলিম বর্ণিত।)
(মুসলিম বর্ণিত।)
كتاب الطعام
التَّرْغِيب فِي لعق الْأَصَابِع قبل مسحها لإحراز الْبركَة
3282- وَعنهُ رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِذا وَقعت لقْمَة أحدكُم فليأخذها
فليمط مَا كَانَ بهَا من أَذَى وليأكلها وَلَا يَدعهَا للشَّيْطَان وَلَا يمسح يَده بالمنديل حَتَّى يلعق أَصَابِعه فَإِنَّهُ لَا يدْرِي فِي أَي طَعَامه الْبركَة
رَوَاهُ مُسلم
فليمط مَا كَانَ بهَا من أَذَى وليأكلها وَلَا يَدعهَا للشَّيْطَان وَلَا يمسح يَده بالمنديل حَتَّى يلعق أَصَابِعه فَإِنَّهُ لَا يدْرِي فِي أَي طَعَامه الْبركَة
رَوَاهُ مُسلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৮৩
অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
পরিচ্ছেদঃ বরকত রক্ষার উদ্দেশ্যে মসেহের পূর্বে আংগুল চেটে খাওয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা
৩২৮৩. হযরত জাবির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: শয়তান তোমাদের প্রত্যেক কাজ সম্পন্ন করার সময়ই উপস্থিত হয়, এমন কি আহারের সময়ও। কাজেই তোমাদের কারো এক গ্রাস খানা পড়ে গেলে, সে যেন অবশ্যই তা তুলে নেয় এবং তার ময়লা দূর করে নেয়, তারপর সে যেন তা আহার করে। আর তা যেন সে শয়তানের জন্য ছেড়ে না দেয়। খানা শেষে আংগুল লেহন করে নেওয়া উচিত। কেননা, সে জানে না, খানার কোন অংশে বরকত নিহিত রয়েছে।
(মুসলিম, ইবনে হিব্বানের সহীহ্ গ্রন্থে বর্ণিত। তবে তিনি (ইবনে হিব্বান) তাঁর বর্ণনায় বলেন যে, তিনি (নবী-ﷺ) বলেছেন: শয়তান মানুষের সকল কাজের সময় ওঁৎপেতে থাকে। এ বর্ণনায় তিনি يرصد الناس অথবা ، يرصد الانسان বলেছেন। খাবার স্থানে অথবা আহারের সময় উপস্থিত হয়। পাত্রটি লেহন না করে উঠিয়ে রাখবে না অথবা তিনি يَلْعقها এর স্থলে يُلْعقها বলেছেন। কেননা, খানার শেষ অংশে বরকত রয়েছে।)
(মুসলিম, ইবনে হিব্বানের সহীহ্ গ্রন্থে বর্ণিত। তবে তিনি (ইবনে হিব্বান) তাঁর বর্ণনায় বলেন যে, তিনি (নবী-ﷺ) বলেছেন: শয়তান মানুষের সকল কাজের সময় ওঁৎপেতে থাকে। এ বর্ণনায় তিনি يرصد الناس অথবা ، يرصد الانسان বলেছেন। খাবার স্থানে অথবা আহারের সময় উপস্থিত হয়। পাত্রটি লেহন না করে উঠিয়ে রাখবে না অথবা তিনি يَلْعقها এর স্থলে يُلْعقها বলেছেন। কেননা, খানার শেষ অংশে বরকত রয়েছে।)
كتاب الطعام
التَّرْغِيب فِي لعق الْأَصَابِع قبل مسحها لإحراز الْبركَة
3283- وَعنهُ رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن الشَّيْطَان ليحضر أحدكُم عِنْد كل شَيْء من شَأْنه حَتَّى يحضرهُ عِنْد طَعَامه فَإِذا سَقَطت لقْمَة أحدكُم فليأخذها فليمط مَا كَانَ بهَا من أَذَى ثمَّ ليأكلها وَلَا يَدعهَا للشَّيْطَان فَإِذا فرغ فليلعق أَصَابِعه فَإِنَّهُ لَا يدْرِي فِي أَي طَعَامه الْبركَة
رَوَاهُ مُسلم وَابْن حبَان فِي صَحِيحه
وَقَالَ فَإِن الشَّيْطَان يرصد النَّاس أَو الْإِنْسَان على كل شَيْء حَتَّى عِنْد مطعمه أَو طَعَامه وَلَا يرفع الصحفة حَتَّى يلعقها أَو يلعقها فَإِن آخر الطَّعَام الْبركَة
رَوَاهُ مُسلم وَابْن حبَان فِي صَحِيحه
وَقَالَ فَإِن الشَّيْطَان يرصد النَّاس أَو الْإِنْسَان على كل شَيْء حَتَّى عِنْد مطعمه أَو طَعَامه وَلَا يرفع الصحفة حَتَّى يلعقها أَو يلعقها فَإِن آخر الطَّعَام الْبركَة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৮৪
অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
পরিচ্ছেদঃ বরকত রক্ষার উদ্দেশ্যে মসেহের পূর্বে আংগুল চেটে খাওয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা
৩২৮৪. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন আহার করে, তখন তার হাতের আংগুলসমূহ লেহন করে নেওয়া উচিত। কেননা, সে জানে না, খানার কোন অংশে বরকত রয়েছে।
(মুসলিম ও তিরমিযী বর্ণিত।)
(মুসলিম ও তিরমিযী বর্ণিত।)
كتاب الطعام
التَّرْغِيب فِي لعق الْأَصَابِع قبل مسحها لإحراز الْبركَة
3284- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِذا أكل أحدكُم فليلعق أَصَابِعه فَإِنَّهُ لَا يدْرِي فِي أيتهن الْبركَة
رَوَاهُ مُسلم وَالتِّرْمِذِيّ
رَوَاهُ مُسلم وَالتِّرْمِذِيّ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৮৫
অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
পরিচ্ছেদঃ বরকত রক্ষার উদ্দেশ্যে মসেহের পূর্বে আংগুল চেটে খাওয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা
৩২৮৫. হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন আহার করে তখন সে তার আঙ্গুলসমূহ লেহন করার পূর্বে মুছে না ফেলে। তিনি বলেছেন: يَلْعقها অথবা يُلْعقها
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণিত।)
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণিত।)
كتاب الطعام
التَّرْغِيب فِي لعق الْأَصَابِع قبل مسحها لإحراز الْبركَة
3285- وَعَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِذا أكل أحدكُم طَعَاما فَلَا يمسح أَصَابِعه حَتَّى يلعقها أَو يلعقها
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৮৬
অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
পরিচ্ছেদঃ আহার শেষে আল্লাহর প্রশংসা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৩২৮৬. হযরত মু'আয ইবনে আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি আহার করে বলে:
الْحَمْدُ للهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي، وَلاَ قُوَّةٍ
"সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার জন্য যিনি আমাকে এই খানা খাওয়ালেন এবং বিনা কষ্টে তা আমার রিযক হিসেবে বরাদ্দ করলেন" তার পূর্বকৃত গুনাহ ক্ষমা করা হবে।
(আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিযী বর্ণিত, ইমাম তিরমিযী (র) বলেনঃ হাদীসটি হাসান-গরীব।
[হাফিয মুনযিরী (র) বলেন: প্রত্যেকে আবদুর রহীম আবু মারহুম সূত্রে সাহল ইবনে মু'আয (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তাঁদের ব্যাপারে সামনে আলোচনা আসবে।)
الْحَمْدُ للهِ الَّذِي أَطْعَمَنِي هَذَا وَرَزَقَنِيهِ مِنْ غَيْرِ حَوْلٍ مِنِّي، وَلاَ قُوَّةٍ
"সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার জন্য যিনি আমাকে এই খানা খাওয়ালেন এবং বিনা কষ্টে তা আমার রিযক হিসেবে বরাদ্দ করলেন" তার পূর্বকৃত গুনাহ ক্ষমা করা হবে।
(আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিযী বর্ণিত, ইমাম তিরমিযী (র) বলেনঃ হাদীসটি হাসান-গরীব।
[হাফিয মুনযিরী (র) বলেন: প্রত্যেকে আবদুর রহীম আবু মারহুম সূত্রে সাহল ইবনে মু'আয (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তাঁদের ব্যাপারে সামনে আলোচনা আসবে।)
كتاب الطعام
التَّرْغِيب فِي حمد الله تَعَالَى بعد الْأكل
3286 - عَن معَاذ بن أنس رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ من أكل طَعَاما ثمَّ قَالَ الْحَمد لله الَّذِي أَطْعمنِي هَذَا الطَّعَام ورزقنيه من غير حول مني وَلَا قُوَّة غفر لَهُ مَا تقدم من ذَنبه
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه وَالتِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب
قَالَ الْحَافِظ رَوَوْهُ كلهم من طَرِيق عبد الرَّحِيم أبي مَرْحُوم عَن سهل بن معَاذ وَيَأْتِي الْكَلَام عَلَيْهِمَا
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه وَالتِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب
قَالَ الْحَافِظ رَوَوْهُ كلهم من طَرِيق عبد الرَّحِيم أبي مَرْحُوم عَن سهل بن معَاذ وَيَأْتِي الْكَلَام عَلَيْهِمَا
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৮৭
অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
পরিচ্ছেদঃ আহার শেষে আল্লাহর প্রশংসা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৩২৮৭. হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন। যে বান্দা আহারকালে আল্লাহর প্রশংসা করে এবং প্রশংসা করে পান করার সময়, আল্লাহ্ তার প্রতি সন্তুষ্ট।
(মুসলিম, নাসাঈ এবং তিরমিযী হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন।
الأكلة এক গ্রাস খাওয়া।)
(মুসলিম, নাসাঈ এবং তিরমিযী হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন।
الأكلة এক গ্রাস খাওয়া।)
كتاب الطعام
التَّرْغِيب فِي حمد الله تَعَالَى بعد الْأكل
3287- وَعَن أنس بن مَالك رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن الله ليرضى عَن العَبْد أَن يَأْكُل الْأكلَة فيحمده عَلَيْهَا وَيشْرب الشربة فيحمده عَلَيْهَا
رَوَاهُ مُسلم وَالنَّسَائِيّ وَالتِّرْمِذِيّ وَحسنه
الْأكلَة بِفَتْح الْهمزَة الْمرة الْوَاحِدَة من الْأكل وَقيل بِضَم الْهمزَة وَهِي اللُّقْمَة
رَوَاهُ مُسلم وَالنَّسَائِيّ وَالتِّرْمِذِيّ وَحسنه
الْأكلَة بِفَتْح الْهمزَة الْمرة الْوَاحِدَة من الْأكل وَقيل بِضَم الْهمزَة وَهِي اللُّقْمَة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৮৮
অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
পরিচ্ছেদঃ আহার শেষে আল্লাহর প্রশংসা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৩২৮৮. হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আবু বকর (রা) যুহরের সময় মসজিদের দিকে যান। তখন উমার (রা) বলেন, হে আবু বকর! এ মুহূর্তে কিসে আপনাকে বের করল? তিনি বলেন: একমাত্র তীব্র ক্ষুধাই আমাকে বের (হতে বাধ্য) করেছে। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! এছাড়া আমাকেও অন্য কিছুতে বের করেনি। (রাবী বলেন,) তাঁরা উভয়ে যখন এ অবস্থায় ছিলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বেরিয়ে আসেন এবং বলেন: এ সময়ে তোমাদের কিসে বের (হতে বাধ্য) করল। তারা বলল: আল্লাহর শপথ! কেবলমাত্র তীব্র ক্ষুধা-ই আমাদের (ঘর থেকে) বের করেছে। তিনি বলেন, আমিও, যাঁর হাতে আমার জীবন, তাঁর শপথ! আমাকেও এছাড়া অন্য কিছুতে বের করেনি, যে কারণে তোমরা দাঁড়িয়েছ। তাঁরা সকলে বের হলেন, এমন কি সবাই আবু আইউব আনসারী (রা)-এর বাড়ীতে গেলেন। আবু আইউব (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য একদা খানা অথবা (রাবী বলেন,) দুধ রাখেন, কিন্তু সেদিন তিনি পৌঁছতে বিলম্ব করেন। এরপর তিনি আর আসেন নি। পরে তিনি তার পরিবারবর্গকে তা আহার করান এবং খেজুর বাগানে কাজে চলে যান। তাঁরা যখন তাঁর ঘরের দরজায় পৌঁছেন, তখন তার স্ত্রী বেরিয়ে আসেন এবং বলেন, মুবারকবাদ হে আল্লাহর নবী (ﷺ) ও তাঁর সাথীদের! নবী (ﷺ) তাঁকে বলেন: আবু আইউব কোথায়? আবু আইউব (রা) নবী (ﷺ) কণ্ঠস্বর শুনতে পান, আর তখন তিনি তাঁর খেজুর বাগানে কাজ করছিলেন। তিনি তখন দ্রুত চলে আসেন এবং বলেন, মুবারকবাদ হে আল্লাহর নবী (ﷺ) ও তাঁর সাথীদের। তিনি বললেন: ইয়া নবী আল্লাহ্! অমুক সময় না আপনার আসার কথা ছিল? নবী (ﷺ) বললেন: তুমি যথার্থই বলেছ, তিনি (রাবী) বলেন, তিনি (আবু আইউব) চলে গেলেন এবং শুকনা, কাঁচা ও আধাপাকা খেজুরের কাঁদি (ছড়া) কেটে নিয়ে আসেন। নবী (ﷺ) বলেন: এর দ্বারা তোমার উদ্দেশ্য কি? তুমি কি এ খেজুর আমাদের জন্য নিয়ে এসেছ? তিনি বলেন: হাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আমার ইচ্ছা, আপনি শুকনা, তাজা ও আধা পাকা খেজুর খাবেন এবং আমি আপনার জন্য একটি পশু যবাই করব। তিনি বলেন: যবাই যদি করই, তাহলে বকরীর বাচ্ছা যবাই করো না। তখন তিনি একটি তেড়া অথবা (রাবীর সন্দেহ) উটের বাচ্ছা ধরেন এবং তা যবাই করেন। তিনি তার স্ত্রীকে বলেন, আমাদের জন্য আটার খামির বানাও এবং রুটি তৈরী কর, আর তুমি তো বেশ ভাল রুটি তৈরী করতে পার। সে উটের গোশতের অর্ধেক রান্না করল এবং অপর অর্ধেক ভূনা করল। খানা তৈরী হয়ে গেলে যখন তা নবী (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীদের সামনে পরিবেশন করা হল, তখন নবী (ﷺ) গোশতের টুকরা একটি রুটির উপর রাখেন এবং বলেনঃ হে আবু আইউব! তুমি এটি ফাতিমার কাছে পৌঁছে দাও। কেননা, সে এরূপ খাদ্য দীর্ঘদিন খেতে পায়নি। তখন আবূ আইউব (রা) ফাতিমা (রা)-এর নিকট চলে যান। যখন তাঁরা তৃপ্তি সহকারে আহার করলেন। তখন নবী (ﷺ) বললেন: রুটি, গোশত, পাকা খেজুর, শুকনা খেজুর ও কাঁচা খেজুর এই বলে তাঁর চোখ বয়ে অশ্রু নির্গত হল। তিনি বললেন, যাঁর হাতে আমার জীবন, তাঁর শপথ! এসব নি'আমত সম্পর্কে কিয়ামতের দিন তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে। একথা তাঁর সাহাবীদের নিকট খুব কঠিন মনে হল। বরং যখন তোমাদের সামনে এ জাতীয় খাদ্য উপস্থিত হয় এবং তোমরা সেদিকে হাত বাড়াও, তখন তোমরা 'বিসমিল্লাহ্' বলবে। এরপর তোমরা তৃপ্তি সহকারে আহার করে বলবে-
الحمد لله الذي أشبعنا وأنعم علينا با فضل ......
"যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের তৃপ্তি সহকারে আহার করালেন এবং উত্তম খাদ্য দান করলেন। নিশ্চয় এই (খানা) তার (দু'আ) বিনিময়। অবশেষে যখন তিনি (নবী (ﷺ) দাঁড়ালেন, তখন তিনি আইউব (রা)-কে বলেনঃ তুমি আগামী দিন এসো। কোন ব্যক্তি যদি তাঁর প্রতি দয়া দেখাত, তিনি তার প্রতিদান দেওয়া পসন্দ করতেন। তিনি (রাবী) বলেন, আবু আইউব (রা) উক্ত বাক্যটি শুনেননি। উমার (রা) বলেন, হে আবু আইউব! নবী (ﷺ) আগামী দিন তাঁর বাড়ীতে দাওয়াত দিয়েছেন। তিনি নবী (ﷺ)-এর বাড়ী গেলে নবী (ﷺ) তাঁকে একটি চাকর দেন। তিনি বলেন, হে আবু আইউব! আমি তোমাকে তার সাথে সদাচরণের উপদেশ নিচ্ছি। কেননা, সে যতদিন আমার কাছে ছিল, ততদিন আমি তাকে ভালো হিসেবেই দেখেছি। এরপর যখন আবু আইউব (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গোলামটি নিয়ে যান, তখন তিনি মনে মনে চিন্তা করেন যে, আমি তাকে মুক্ত করার চেয়ে সদাচরণ করার মত আর কিছু পাই না। পরে তিনি তাকে মুক্ত করে দেন।
(তাবারানী, ইবনে হিব্বানের সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে আবদুল্লাহ ইবনে কায়সান থেকে, তিনি ইকরিনা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন।
- حاق الجوع তীব্র ক্ষুধা)
الحمد لله الذي أشبعنا وأنعم علينا با فضل ......
"যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের তৃপ্তি সহকারে আহার করালেন এবং উত্তম খাদ্য দান করলেন। নিশ্চয় এই (খানা) তার (দু'আ) বিনিময়। অবশেষে যখন তিনি (নবী (ﷺ) দাঁড়ালেন, তখন তিনি আইউব (রা)-কে বলেনঃ তুমি আগামী দিন এসো। কোন ব্যক্তি যদি তাঁর প্রতি দয়া দেখাত, তিনি তার প্রতিদান দেওয়া পসন্দ করতেন। তিনি (রাবী) বলেন, আবু আইউব (রা) উক্ত বাক্যটি শুনেননি। উমার (রা) বলেন, হে আবু আইউব! নবী (ﷺ) আগামী দিন তাঁর বাড়ীতে দাওয়াত দিয়েছেন। তিনি নবী (ﷺ)-এর বাড়ী গেলে নবী (ﷺ) তাঁকে একটি চাকর দেন। তিনি বলেন, হে আবু আইউব! আমি তোমাকে তার সাথে সদাচরণের উপদেশ নিচ্ছি। কেননা, সে যতদিন আমার কাছে ছিল, ততদিন আমি তাকে ভালো হিসেবেই দেখেছি। এরপর যখন আবু আইউব (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গোলামটি নিয়ে যান, তখন তিনি মনে মনে চিন্তা করেন যে, আমি তাকে মুক্ত করার চেয়ে সদাচরণ করার মত আর কিছু পাই না। পরে তিনি তাকে মুক্ত করে দেন।
(তাবারানী, ইবনে হিব্বানের সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে আবদুল্লাহ ইবনে কায়সান থেকে, তিনি ইকরিনা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন।
- حاق الجوع তীব্র ক্ষুধা)
كتاب الطعام
التَّرْغِيب فِي حمد الله تَعَالَى بعد الْأكل
3288- وَعَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ خرج أَبُو بكر بالهاجرة إِلَى الْمَسْجِد فَسمع عمر فَقَالَ يَا أَبَا بكر مَا أخرجك هَذِه السَّاعَة قَالَ مَا أخرجني إِلَّا مَا أجد من حاق الْجُوع
قَالَ وَأَنا وَالله مَا أخرجني غَيره فَبَيْنَمَا هما كَذَلِك إِذْ خرج عَلَيْهِمَا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ مَا أخرجكما هَذِه السَّاعَة قَالَا وَالله مَا أخرجنَا إِلَّا مَا نجده فِي بطوننا من حاق الْجُوع قَالَ وَأَنا وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ مَا أخرجني غَيره فقوما فَانْطَلقُوا حَتَّى أَتَوا بَاب أبي أَيُّوب الْأنْصَارِيّ وَكَانَ أَبُو أَيُّوب يدّخر لرَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم طَعَاما كَانَ أَو لَبَنًا فَأَبْطَأَ عَلَيْهِ يَوْمئِذٍ فَلم يَأْتِ لحينه فأطعمه لأَهله وَانْطَلق إِلَى نخله يعْمل فِيهِ فَلَمَّا انْتَهوا إِلَى الْبَاب خرجت امْرَأَته فَقَالَت مرْحَبًا بِنَبِي الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وبمن مَعَه
قَالَ لَهَا نَبِي الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَيْن أَبُو أَيُّوب فَسَمعهُ وَهُوَ يعْمل فِي نخل لَهُ فجَاء يشْتَد فَقَالَ مرْحَبًا بِنَبِي الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وبمن مَعَه يَا نَبِي الله لَيْسَ بالحين الَّذِي كنت تَجِيء فِيهِ فَقَالَ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم صدقت
قَالَ فَانْطَلق فَقطع عذقا من النّخل فِيهِ من كل من التَّمْر وَالرّطب والبسر فَقَالَ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مَا أردْت إِلَى هَذَا أَلا جنيت لنا من تمره قَالَ يَا رَسُول الله أَحْبَبْت أَن تَأْكُل من تمره ورطبه وبسره ولأذبحن لَك مَعَ هَذَا قَالَ إِن ذبحت فَلَا تذبحن ذَات در فَأخذ عنَاقًا أَو جديا فذبحه وَقَالَ لامْرَأَته اخبزي واعجني لنا وَأَنت أعلم بالخبز فَأخذ نصف الجدي فطبخه وشوى نصفه فَلَمَّا أدْرك الطَّعَام وَوضع بَين يَدي النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَأَصْحَابه أَخذ من الجدي فَجعله فِي رغيف وَقَالَ يَا أَبَا أَيُّوب أبلغ بِهَذَا فَاطِمَة فَإِنَّهَا لم تصب مثل هَذَا مُنْذُ أَيَّام
فَذهب أَبُو أَيُّوب إِلَى فَاطِمَة فَلَمَّا أكلُوا وشبعوا قَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم خبز وَلحم وتمر وَبسر
وَرطب ودمعت عَيناهُ وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ إِن هَذَا هُوَ النَّعيم الَّذِي تسْأَلُون عَنهُ يَوْم الْقِيَامَة فَكبر ذَلِك على أَصْحَابه فَقَالَ بل إِذا أصبْتُم مثل هَذَا فضربتم بِأَيْدِيكُمْ فَقولُوا بِسم الله فَإِذا شبعتم فَقولُوا الْحَمد لله الَّذِي أشبعنا وأنعم علينا فأفضل فَإِن هَذَا كفاف بِهَذَا فَلَمَّا نَهَضَ قَالَ لأبي أَيُّوب ائتنا غَدا وَكَانَ لَا يَأْتِي أحد إِلَيْهِ مَعْرُوفا إِلَّا أحب أَن يجازيه
قَالَ وَإِن أَبَا أَيُّوب لم يسمع ذَلِك فَقَالَ عمر رَضِي الله عَنهُ إِن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَأْمُرك أَن تَأتيه غَدا فَأَتَاهُ من الْغَد فَأعْطَاهُ وليدته فَقَالَ يَا أَبَا أَيُّوب اسْتَوْصِ بهَا خيرا فَإنَّا لم نر إِلَّا خيرا مَا دَامَت عندنَا فَلَمَّا جَاءَ بهَا أَبُو أَيُّوب من عِنْد رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَا أجد لوَصِيَّة رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم خيرا لَهُ من أَن أعْتقهَا فَأعْتقهَا
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَابْن حبَان فِي صَحِيحه كِلَاهُمَا من رِوَايَة عبد الله بن كيسَان عَن عِكْرِمَة عَن ابْن عَبَّاس
حاق الْجُوع بحاء مُهْملَة وقاف مُشَدّدَة هُوَ شدته وكلبه
قَالَ وَأَنا وَالله مَا أخرجني غَيره فَبَيْنَمَا هما كَذَلِك إِذْ خرج عَلَيْهِمَا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ مَا أخرجكما هَذِه السَّاعَة قَالَا وَالله مَا أخرجنَا إِلَّا مَا نجده فِي بطوننا من حاق الْجُوع قَالَ وَأَنا وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ مَا أخرجني غَيره فقوما فَانْطَلقُوا حَتَّى أَتَوا بَاب أبي أَيُّوب الْأنْصَارِيّ وَكَانَ أَبُو أَيُّوب يدّخر لرَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم طَعَاما كَانَ أَو لَبَنًا فَأَبْطَأَ عَلَيْهِ يَوْمئِذٍ فَلم يَأْتِ لحينه فأطعمه لأَهله وَانْطَلق إِلَى نخله يعْمل فِيهِ فَلَمَّا انْتَهوا إِلَى الْبَاب خرجت امْرَأَته فَقَالَت مرْحَبًا بِنَبِي الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وبمن مَعَه
قَالَ لَهَا نَبِي الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَيْن أَبُو أَيُّوب فَسَمعهُ وَهُوَ يعْمل فِي نخل لَهُ فجَاء يشْتَد فَقَالَ مرْحَبًا بِنَبِي الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وبمن مَعَه يَا نَبِي الله لَيْسَ بالحين الَّذِي كنت تَجِيء فِيهِ فَقَالَ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم صدقت
قَالَ فَانْطَلق فَقطع عذقا من النّخل فِيهِ من كل من التَّمْر وَالرّطب والبسر فَقَالَ صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مَا أردْت إِلَى هَذَا أَلا جنيت لنا من تمره قَالَ يَا رَسُول الله أَحْبَبْت أَن تَأْكُل من تمره ورطبه وبسره ولأذبحن لَك مَعَ هَذَا قَالَ إِن ذبحت فَلَا تذبحن ذَات در فَأخذ عنَاقًا أَو جديا فذبحه وَقَالَ لامْرَأَته اخبزي واعجني لنا وَأَنت أعلم بالخبز فَأخذ نصف الجدي فطبخه وشوى نصفه فَلَمَّا أدْرك الطَّعَام وَوضع بَين يَدي النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَأَصْحَابه أَخذ من الجدي فَجعله فِي رغيف وَقَالَ يَا أَبَا أَيُّوب أبلغ بِهَذَا فَاطِمَة فَإِنَّهَا لم تصب مثل هَذَا مُنْذُ أَيَّام
فَذهب أَبُو أَيُّوب إِلَى فَاطِمَة فَلَمَّا أكلُوا وشبعوا قَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم خبز وَلحم وتمر وَبسر
وَرطب ودمعت عَيناهُ وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ إِن هَذَا هُوَ النَّعيم الَّذِي تسْأَلُون عَنهُ يَوْم الْقِيَامَة فَكبر ذَلِك على أَصْحَابه فَقَالَ بل إِذا أصبْتُم مثل هَذَا فضربتم بِأَيْدِيكُمْ فَقولُوا بِسم الله فَإِذا شبعتم فَقولُوا الْحَمد لله الَّذِي أشبعنا وأنعم علينا فأفضل فَإِن هَذَا كفاف بِهَذَا فَلَمَّا نَهَضَ قَالَ لأبي أَيُّوب ائتنا غَدا وَكَانَ لَا يَأْتِي أحد إِلَيْهِ مَعْرُوفا إِلَّا أحب أَن يجازيه
قَالَ وَإِن أَبَا أَيُّوب لم يسمع ذَلِك فَقَالَ عمر رَضِي الله عَنهُ إِن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَأْمُرك أَن تَأتيه غَدا فَأَتَاهُ من الْغَد فَأعْطَاهُ وليدته فَقَالَ يَا أَبَا أَيُّوب اسْتَوْصِ بهَا خيرا فَإنَّا لم نر إِلَّا خيرا مَا دَامَت عندنَا فَلَمَّا جَاءَ بهَا أَبُو أَيُّوب من عِنْد رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَا أجد لوَصِيَّة رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم خيرا لَهُ من أَن أعْتقهَا فَأعْتقهَا
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَابْن حبَان فِي صَحِيحه كِلَاهُمَا من رِوَايَة عبد الله بن كيسَان عَن عِكْرِمَة عَن ابْن عَبَّاس
حاق الْجُوع بحاء مُهْملَة وقاف مُشَدّدَة هُوَ شدته وكلبه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৮৯
অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
পরিচ্ছেদঃ আহার শেষে আল্লাহর প্রশংসা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৩২৮৯. হযরত হাম্মাদ ইবনে আবু সুলায়মান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আবু বুরদা (রা)-এর সাথে রাতে আহার করলাম। তিনি (আবু বুরদা) বলেন, আবু আবদুল্লাহ ইবনে কায়স (রা) আমার কাছে যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তা কি আমি তোমার নিকট বর্ণনা করব না। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি তৃপ্তি সহকারে পানাহার করে নিম্নোক্ত দু'আ "যিনি আমাকে আহার করিয়েছেন, তৃপ্তি দান করেছেন, পান করিয়েছেন, এবং প্রশান্তি দিয়েছেন", পাঠ করবে সে গুনাহ থেকে এভাবে মুক্ত হবে যেমন যে দিন তাঁর মা তাকে প্রসব করেছে।
(আবু ই'আলা বর্ণিত।
[হাফিয মুনযিরী (রা) বলেন]। এই অনুচ্ছেদে নবী (ﷺ)-এর অনেক হাদীস রয়েছে, কিন্তু তা আমার গ্রন্থের শর্ত মুতাবিক না হওয়ায় আমি তা উল্লেখ করিনি।)
(আবু ই'আলা বর্ণিত।
[হাফিয মুনযিরী (রা) বলেন]। এই অনুচ্ছেদে নবী (ﷺ)-এর অনেক হাদীস রয়েছে, কিন্তু তা আমার গ্রন্থের শর্ত মুতাবিক না হওয়ায় আমি তা উল্লেখ করিনি।)
كتاب الطعام
التَّرْغِيب فِي حمد الله تَعَالَى بعد الْأكل
3289- وَرُوِيَ عَن حَمَّاد بن أبي سُلَيْمَان قَالَ تعشيت مَعَ أبي بردة رَضِي الله عَنهُ فَقَالَ أَلا أحَدثك مَا حَدثنِي بِهِ أَبُو عبد الله بن قيس رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من أكل فشبع وَشرب فَروِيَ
فَقَالَ الْحَمد لله الَّذِي أَطْعمنِي وأشبعني وسقاني وأرواني خرج من ذنُوبه كَيَوْم وَلدته أمه
رَوَاهُ أَبُو يعلى
قَالَ الْحَافِظ وَفِي الْبَاب أَحَادِيث كَثِيرَة مَشْهُورَة من قَول النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَيست من شَرط كتَابنَا لم نذكرها
فَقَالَ الْحَمد لله الَّذِي أَطْعمنِي وأشبعني وسقاني وأرواني خرج من ذنُوبه كَيَوْم وَلدته أمه
رَوَاهُ أَبُو يعلى
قَالَ الْحَافِظ وَفِي الْبَاب أَحَادِيث كَثِيرَة مَشْهُورَة من قَول النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَيست من شَرط كتَابنَا لم نذكرها
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৯০
অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
পরিচ্ছেদঃ আহারের পূর্বে ও পরে হাত ধোয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং হাতে খানার ঘ্রাণ না ধুয়ে ঘুমিয়ে পাড়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩২৯০. হযরত সালমান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তাওরাতে পড়েছি: আহারের পরে (হাত) ধোয়ার মধ্যে রয়েছে খানার বরকত। এ বিষয়টি আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট আলোচনা করি এবং আমি তাওরাতে যা পড়েছি সে বিষয়ে অবহিত করি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: আহারের পূর্বে ও পরে (হাত) ধোয়ার মধ্যে রয়েছে খানার বরকত।
(আবু দাউদ, তিরমিযী বর্ণিত। ইমাম তিরমিযী (র) বলেন, এই হাদীসটি কায়স ইবনে রাবীর সূত্র ব্যতীত জানা যায় না। হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে কায়স একজন দুর্বল রাবী।
[হাফিয মুনযিরী (র) বলেন): কায়স ইবনে রাবী একজন বিশ্বস্ত রাবী। তবে তাঁর স্মৃতিশক্তি ত্রুটিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বর্ণনার সূত্র হাসান পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। সুফিয়ান সাওরী (র) আহারের পূর্বে উযূ করা অপসন্দ করতেন। ইমাম বায়হাকী (র) বলেন, অনুরূপ মালিক ইবনে আনাস (রা)ও অপসন্দ করতেন। অনুরূপ ইমাম শাফিঈ (র)-এর মাযহারের ইমামগণ তা বর্জন করা পসন্দ করতেন এবং তারা এই হাদীস প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেন। অর্থাৎ ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন: আমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট ছিলাম। তিনি প্রকৃতির কাজ সেরে ফিরে আসেন। এরপর তাঁর নিকট খানা পরিবেশন করা হয়। তাঁকে বলা হয়, আপনি কি উযূ করবেন না? তিনি বললেন: আমি তো সালাত আদায় করব না যে উযূ করব?
মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তাঁরা দু'জনে বলেনঃ আমি যখন সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়াই, তখনই কেবল উযু করে নেয়ার জন্য আদিষ্ট হয়েছি।)
(আবু দাউদ, তিরমিযী বর্ণিত। ইমাম তিরমিযী (র) বলেন, এই হাদীসটি কায়স ইবনে রাবীর সূত্র ব্যতীত জানা যায় না। হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে কায়স একজন দুর্বল রাবী।
[হাফিয মুনযিরী (র) বলেন): কায়স ইবনে রাবী একজন বিশ্বস্ত রাবী। তবে তাঁর স্মৃতিশক্তি ত্রুটিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বর্ণনার সূত্র হাসান পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। সুফিয়ান সাওরী (র) আহারের পূর্বে উযূ করা অপসন্দ করতেন। ইমাম বায়হাকী (র) বলেন, অনুরূপ মালিক ইবনে আনাস (রা)ও অপসন্দ করতেন। অনুরূপ ইমাম শাফিঈ (র)-এর মাযহারের ইমামগণ তা বর্জন করা পসন্দ করতেন এবং তারা এই হাদীস প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেন। অর্থাৎ ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন: আমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট ছিলাম। তিনি প্রকৃতির কাজ সেরে ফিরে আসেন। এরপর তাঁর নিকট খানা পরিবেশন করা হয়। তাঁকে বলা হয়, আপনি কি উযূ করবেন না? তিনি বললেন: আমি তো সালাত আদায় করব না যে উযূ করব?
মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তাঁরা দু'জনে বলেনঃ আমি যখন সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়াই, তখনই কেবল উযু করে নেয়ার জন্য আদিষ্ট হয়েছি।)
كتاب الطعام
التَّرْغِيب فِي غسل الْيَد قبل الطَّعَام إِن صَحَّ الْخَبَر وَبعده والترهيب أَن ينَام وَفِي يَده ريح الطَّعَام لَا يغسلهَا
3290- عَن سلمَان رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَرَأت فِي التَّوْرَاة إِن بركَة الطَّعَام الْوضُوء بعده فَذكرت ذَلِك للنَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وأخبرته بِمَا قَرَأت فِي التَّوْرَاة
فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بركَة الطَّعَام الْوضُوء قبله وَالْوُضُوء بعده
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَقَالَ لَا يعرف هَذَا الحَدِيث إِلَّا من حَدِيث قيس بن الرّبيع وَقيس يضعف فِي الحَدِيث
انْتهى
قَالَ الْحَافِظ قيس بن الرّبيع صَدُوق وَفِيه كَلَام لسوء حفظه لَا يخرج الْإِسْنَاد عَن حد الْحسن وَقد كَانَ سُفْيَان يكره الْوضُوء قبل الطَّعَام
قَالَ الْبَيْهَقِيّ وَكَذَلِكَ مَالك بن أنس كرهه وَكَذَلِكَ صاحبنا الشَّافِعِي اسْتحبَّ تَركه وَاحْتج بِالْحَدِيثِ يَعْنِي حَدِيث ابْن عَبَّاس قَالَ كُنَّا عِنْد النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَأتى الْخَلَاء ثمَّ إِنَّه رَجَعَ فَأتي بِالطَّعَامِ فَقيل أَلا تتوضأ قَالَ لم أصل فأتوضأ
رَوَاهُ مُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ بِنَحْوِهِ إِلَّا أَنَّهُمَا قَالَا فَقَالَ إِنَّمَا أمرت بِالْوضُوءِ إِذا قُمْت إِلَى الصَّلَاة
فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بركَة الطَّعَام الْوضُوء قبله وَالْوُضُوء بعده
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَقَالَ لَا يعرف هَذَا الحَدِيث إِلَّا من حَدِيث قيس بن الرّبيع وَقيس يضعف فِي الحَدِيث
انْتهى
قَالَ الْحَافِظ قيس بن الرّبيع صَدُوق وَفِيه كَلَام لسوء حفظه لَا يخرج الْإِسْنَاد عَن حد الْحسن وَقد كَانَ سُفْيَان يكره الْوضُوء قبل الطَّعَام
قَالَ الْبَيْهَقِيّ وَكَذَلِكَ مَالك بن أنس كرهه وَكَذَلِكَ صاحبنا الشَّافِعِي اسْتحبَّ تَركه وَاحْتج بِالْحَدِيثِ يَعْنِي حَدِيث ابْن عَبَّاس قَالَ كُنَّا عِنْد النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَأتى الْخَلَاء ثمَّ إِنَّه رَجَعَ فَأتي بِالطَّعَامِ فَقيل أَلا تتوضأ قَالَ لم أصل فأتوضأ
رَوَاهُ مُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ بِنَحْوِهِ إِلَّا أَنَّهُمَا قَالَا فَقَالَ إِنَّمَا أمرت بِالْوضُوءِ إِذا قُمْت إِلَى الصَّلَاة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৯১
অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
পরিচ্ছেদঃ আহারের পূর্বে ও পরে হাত ধোয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং হাতে খানার ঘ্রাণ না ধুয়ে ঘুমিয়ে পাড়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩২৯১. হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি চায় যে, আল্লাহ তার ঘরে পর্যাপ্ত কল্যাণ দান করুন, সে যেন খানা উপস্থিত হলে এবং আহার করে উঠার সময় হাত ধুয়ে নেয়।
(ইবনে মাজাহ, বায়হাকী বর্ণিত।
المراد بالوضوء غسل اليدين উযূর অর্থ দুই হাত ধোয়া।)
(ইবনে মাজাহ, বায়হাকী বর্ণিত।
المراد بالوضوء غسل اليدين উযূর অর্থ দুই হাত ধোয়া।)
كتاب الطعام
التَّرْغِيب فِي غسل الْيَد قبل الطَّعَام إِن صَحَّ الْخَبَر وَبعده والترهيب أَن ينَام وَفِي يَده ريح الطَّعَام لَا يغسلهَا
3291- وَرُوِيَ عَن أنس بن مَالك رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول من أحب أَن يكثر الله خير بَيته فَليَتَوَضَّأ إِذا حضر غذاؤه وَإِذا رفع
رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَالْبَيْهَقِيّ وَالْمرَاد بِالْوضُوءِ غسل الْيَدَيْنِ
رَوَاهُ ابْن مَاجَه وَالْبَيْهَقِيّ وَالْمرَاد بِالْوضُوءِ غسل الْيَدَيْنِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৯২
অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
পরিচ্ছেদঃ আহারের পূর্বে ও পরে হাত ধোয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং হাতে খানার ঘ্রাণ না ধুয়ে ঘুমিয়ে পাড়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩২৯২. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি গোশতের ঘ্রাণ অথবা ঝোল হাতে লাগান অবস্থায় তা না ধুয়ে শুয়ে পড়ে এবং এজন্য তার উপর কোন বিপদ আসে, তবে সে যেন কেবল নিজকেই তিরস্কার করে।
(আবু দাউদ, তিরমিযী বর্ণিত। ইমাম তিরমিযী (র)-এর মতে হাদীসটি হাসান। ইবনে মাজা, ইবনে হিব্বানের সহীহ গ্রন্থ এবং ইবনে মাজাহ শরীফে ফাতিমা (রা) থেকে তদনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
الغمر - গোশতের ঘ্রাণ এবং তার ঝোল।)
(আবু দাউদ, তিরমিযী বর্ণিত। ইমাম তিরমিযী (র)-এর মতে হাদীসটি হাসান। ইবনে মাজা, ইবনে হিব্বানের সহীহ গ্রন্থ এবং ইবনে মাজাহ শরীফে ফাতিমা (রা) থেকে তদনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
الغمر - গোশতের ঘ্রাণ এবং তার ঝোল।)
كتاب الطعام
التَّرْغِيب فِي غسل الْيَد قبل الطَّعَام إِن صَحَّ الْخَبَر وَبعده والترهيب أَن ينَام وَفِي يَده ريح الطَّعَام لَا يغسلهَا
3292- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من نَام وَفِي يَده غمر وَلم يغسلهُ فَأَصَابَهُ شَيْء فَلَا يَلُومن إِلَّا نَفسه
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَحسنه وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه أَيْضا عَن فَاطِمَة رَضِي الله عَنْهَا بِنَحْوِهِ
الْغمر بِفَتْح الْغَيْن الْمُعْجَمَة وَالْمِيم بعدهمَا رَاء هُوَ ريح اللَّحْم وزهومته
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَحسنه وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه أَيْضا عَن فَاطِمَة رَضِي الله عَنْهَا بِنَحْوِهِ
الْغمر بِفَتْح الْغَيْن الْمُعْجَمَة وَالْمِيم بعدهمَا رَاء هُوَ ريح اللَّحْم وزهومته
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৯৩
অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
পরিচ্ছেদঃ আহারের পূর্বে ও পরে হাত ধোয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং হাতে খানার ঘ্রাণ না ধুয়ে ঘুমিয়ে পাড়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩২৯৩. হযরত হুরায়রা (রা) থেকে বণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয়ই শয়তান অধিক লেহন করে কাজেই তাকে তোমরা নিজেদের ব্যাপারে ভয় কর যে ব্যক্তি হাতে গোশতের ঘ্রাণ অথবা ঝোল থাকা অবস্থায় রাত কাটায় এবং এজন্য তার উপর কোন বিপদ পতিত হয়, সে যেন' কেবল নিজকেই তিরস্কার করে।
(তিরমিযী ও হাকিম বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে ইয়াকুব ইবনে ওয়ালীদ মাদানী থেকে, তিনি ইবনে আবু যিব থেকে, তিনি মাকবুরী থেকে বর্ণনা করেন। ইমাম তিরমিযী (র) বলেন: এদিক থেকে হাদীসটি গরীব। সুহায়ল ইবনে আবু সালিহ (র) থেকে তিনি তাঁর পিতা সূত্রে তিনি আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। ইমাম হাকিম (র) বলেন, হাদীসটির সনদ সূত্র সহীহ।
[হাফিয মুনযিরী (র) বলেনঃ ইয়াকুব ইবনে ওয়ালীদ আযদী, ইনি একজন চরম মিথ্যুক ও অপবাদ দুষ্ট ব্যক্তি। তার বর্ণনা প্রমাণ হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু এতদসত্ত্বেও তার থেকে ইমাম বায়হাকী ও বাগাভী হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয় ব্যতীত অন্যান্যগণ যুহায়র ইবনে মু'আবিয়া থেকে, তিনি সুহায়ল ইবনে আবু সালিহ হতে, তিনি আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। ইমাম তিরমিযী (র) এদিকে ইঙ্গিত করেছেন। ইমাম বাগভী (র) শারহে সুন্নাহ গ্রন্থে বর্ণনা করেন, হাদীসটি হাসান। সুহায়ল ইবনে আবু গালিব যদিও সমালোচিত ব্যক্তি, তবে যেহেতু ইমাম মুসলিম (র) তাঁর সহীহ গ্রন্থে প্রমাণ স্বরূপ তার বর্ণনা গ্রহণ করেছেন, অনুরূপ ইমাম বুখারী (র) মুতাব'আত গ্রহণ করেন। কাজেই, তাঁর বর্ণনা গ্রহণযোগ্য। সালমী (র) বলেন: একদা আমি ইমাম দারু কুতনীকে জিজ্ঞেস করি যে, ইমাম বুখারী (র) তাঁর সহীহ গ্রন্থে সুহায়লের বর্ণনা কেন ছেড়ে দিলেন? তিনি বলেন: আমি সুহায়লকে দোষী হিসেবে মনে করি না। মোদ্দাকথা, এ বিষয়ে বর্ণনা দীর্ঘ তবে তার থেকে শু'বা ও মালিক (র) হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং জমহুর মুহাদ্দিস তাঁর বর্ণনা বিশ্বস্ত বলেছেন। তাঁর হাদীসটি হাসান।)
(তিরমিযী ও হাকিম বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে ইয়াকুব ইবনে ওয়ালীদ মাদানী থেকে, তিনি ইবনে আবু যিব থেকে, তিনি মাকবুরী থেকে বর্ণনা করেন। ইমাম তিরমিযী (র) বলেন: এদিক থেকে হাদীসটি গরীব। সুহায়ল ইবনে আবু সালিহ (র) থেকে তিনি তাঁর পিতা সূত্রে তিনি আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। ইমাম হাকিম (র) বলেন, হাদীসটির সনদ সূত্র সহীহ।
[হাফিয মুনযিরী (র) বলেনঃ ইয়াকুব ইবনে ওয়ালীদ আযদী, ইনি একজন চরম মিথ্যুক ও অপবাদ দুষ্ট ব্যক্তি। তার বর্ণনা প্রমাণ হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু এতদসত্ত্বেও তার থেকে ইমাম বায়হাকী ও বাগাভী হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয় ব্যতীত অন্যান্যগণ যুহায়র ইবনে মু'আবিয়া থেকে, তিনি সুহায়ল ইবনে আবু সালিহ হতে, তিনি আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। ইমাম তিরমিযী (র) এদিকে ইঙ্গিত করেছেন। ইমাম বাগভী (র) শারহে সুন্নাহ গ্রন্থে বর্ণনা করেন, হাদীসটি হাসান। সুহায়ল ইবনে আবু গালিব যদিও সমালোচিত ব্যক্তি, তবে যেহেতু ইমাম মুসলিম (র) তাঁর সহীহ গ্রন্থে প্রমাণ স্বরূপ তার বর্ণনা গ্রহণ করেছেন, অনুরূপ ইমাম বুখারী (র) মুতাব'আত গ্রহণ করেন। কাজেই, তাঁর বর্ণনা গ্রহণযোগ্য। সালমী (র) বলেন: একদা আমি ইমাম দারু কুতনীকে জিজ্ঞেস করি যে, ইমাম বুখারী (র) তাঁর সহীহ গ্রন্থে সুহায়লের বর্ণনা কেন ছেড়ে দিলেন? তিনি বলেন: আমি সুহায়লকে দোষী হিসেবে মনে করি না। মোদ্দাকথা, এ বিষয়ে বর্ণনা দীর্ঘ তবে তার থেকে শু'বা ও মালিক (র) হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং জমহুর মুহাদ্দিস তাঁর বর্ণনা বিশ্বস্ত বলেছেন। তাঁর হাদীসটি হাসান।)
كتاب الطعام
التَّرْغِيب فِي غسل الْيَد قبل الطَّعَام إِن صَحَّ الْخَبَر وَبعده والترهيب أَن ينَام وَفِي يَده ريح الطَّعَام لَا يغسلهَا
3293- وَعنهُ رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن الشَّيْطَان حساس لحاس فَاحْذَرُوهُ على أَنفسكُم من بَات وَفِي يَده ريح غمر فَأَصَابَهُ شَيْء فَلَا يَلُومن إِلَّا نَفسه
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالْحَاكِم كِلَاهُمَا عَن يَعْقُوب بن الْوَلِيد الْمدنِي عَن ابْن أبي ذِئْب عَن المَقْبُري عَنهُ وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث غَرِيب من هَذَا الْوَجْه وَقد رُوِيَ من حَدِيث سُهَيْل بن أبي صَالح عَن أَبِيه عَن أبي هُرَيْرَة انْتهى وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح الْإِسْنَاد
قَالَ الْحَافِظ يَعْقُوب بن الْوَلِيد الْأَزْدِيّ هَذَا كَذَّاب واتهم لَا يحْتَج بِهِ لَكِن رَوَاهُ
الْبَيْهَقِيّ وَالْبَغوِيّ وَغَيرهمَا من حَدِيث زُهَيْر بن مُعَاوِيَة عَن سُهَيْل بن أبي صَالح عَن أبي هُرَيْرَة كَمَا أَشَارَ إِلَيْهِ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ الْبَغَوِيّ فِي شرح السّنة حَدِيث حسن
وَهُوَ كَمَا قَالَ رَحمَه الله فَإِن سُهَيْل بن أبي صَالح وَإِن كَانَ تكلم فِيهِ فقد روى لَهُ مُسلم فِي الصَّحِيح احتجاجا واستشهادا وروى لَهُ البُخَارِيّ مَقْرُونا وَقَالَ السّلمِيّ سَأَلت الدَّارَقُطْنِيّ لم ترك البُخَارِيّ سهيلا فِي الصَّحِيح فَقَالَ لَا أعرف لَهُ فِيهِ عذرا وَبِالْجُمْلَةِ فَالْكَلَام فِيهِ طَوِيل وَقد روى عَنهُ شُعْبَة وَمَالك وَوَثَّقَهُ الْجُمْهُور وَهُوَ حَدِيث حسن وَالله أعلم
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالْحَاكِم كِلَاهُمَا عَن يَعْقُوب بن الْوَلِيد الْمدنِي عَن ابْن أبي ذِئْب عَن المَقْبُري عَنهُ وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث غَرِيب من هَذَا الْوَجْه وَقد رُوِيَ من حَدِيث سُهَيْل بن أبي صَالح عَن أَبِيه عَن أبي هُرَيْرَة انْتهى وَقَالَ الْحَاكِم صَحِيح الْإِسْنَاد
قَالَ الْحَافِظ يَعْقُوب بن الْوَلِيد الْأَزْدِيّ هَذَا كَذَّاب واتهم لَا يحْتَج بِهِ لَكِن رَوَاهُ
الْبَيْهَقِيّ وَالْبَغوِيّ وَغَيرهمَا من حَدِيث زُهَيْر بن مُعَاوِيَة عَن سُهَيْل بن أبي صَالح عَن أبي هُرَيْرَة كَمَا أَشَارَ إِلَيْهِ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ الْبَغَوِيّ فِي شرح السّنة حَدِيث حسن
وَهُوَ كَمَا قَالَ رَحمَه الله فَإِن سُهَيْل بن أبي صَالح وَإِن كَانَ تكلم فِيهِ فقد روى لَهُ مُسلم فِي الصَّحِيح احتجاجا واستشهادا وروى لَهُ البُخَارِيّ مَقْرُونا وَقَالَ السّلمِيّ سَأَلت الدَّارَقُطْنِيّ لم ترك البُخَارِيّ سهيلا فِي الصَّحِيح فَقَالَ لَا أعرف لَهُ فِيهِ عذرا وَبِالْجُمْلَةِ فَالْكَلَام فِيهِ طَوِيل وَقد روى عَنهُ شُعْبَة وَمَالك وَوَثَّقَهُ الْجُمْهُور وَهُوَ حَدِيث حسن وَالله أعلم
তাহকীক: