আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

الترغيب والترهيب للمنذري

২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৭৫৪ টি

হাদীস নং: ৪৩৯২
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৯২. মালিক (র) থেকে বর্ণিত। তার কাছে এই মর্মে সংবাদ পৌঁছেছে যে, ঈসা ইবন মারয়াম (আ) বলতেন: "তোমরা আল্লাহর যিকর ব্যতীত অধিক বাক্যালাপ করবে না। কেননা, এতে তোমাদের অন্তর কঠিন হয়ে যায়। আর কঠিন অন্তরের লোক আল্লাহর রহমত থেকে দূরে থাকে, যা তোমরা জান না। তোমরা নিজেদেরকে প্রভু মনে করে অন্যের অপরাধের দিকে (শ্যেন দৃষ্টিতে) তাকাবে না। হাঁ, নিজেদের গুনাহের দিকে তাকাবে এবং মনে করবে যে, তোমরাও দাস। কেননা, মানুষ রোগ-ব্যাধি দ্বারা পরীক্ষিত হয় এবং সুস্থতাও লাভ করে। কাজেই বিপদ এদের প্রতি দয়া করবে এবং বিপদমুক্ত হলে আল্লাহর শোকর আদায় করবে"।
(মুয়াত্তা বর্ণিত।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4392- وَعَن مَالك رَضِي الله عَنهُ بلغه أَن عِيسَى ابْن مَرْيَم عَلَيْهِ السَّلَام كَانَ يَقُول لَا تكثروا الْكَلَام بِغَيْر ذكر الله فتقسو قُلُوبكُمْ فَإِن الْقلب القاسي بعيد من الله وَلَكِن لَا تعلمُونَ وَلَا تنظروا فِي ذنُوب النَّاس كأنكم أَرْبَاب وانظروا فِي ذنوبكم كأنكم عبيد فَإِنَّمَا النَّاس مبتلى ومعافى فارحموا أهل الْبلَاء واحمدوا الله على الْعَافِيَة

ذكره فِي الْمُوَطَّأ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৩৯৩
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৯৩. নবী (ﷺ)-এর সহধর্মিনী উম্মু হাবীবা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন: বনী আদমের সকল বাক্যালাপ তার স্বপক্ষে নয়, কেবলমাত্র আমর বিল-মারূফ এবং নাহী আনিল মুনকার ব্যতীত, অথবা আল্লাহর যিকর ব্যতীত।
(তিরমিযী, ইবন মাজা, ইব্‌ন আবুদ দুনিয়া বর্ণিত। ইমাম তিরমিযী (র) বলেন: হাদীসটি গরীব। কেননা, মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে খুনায়স ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে হাদীসটি আমার জানা নেই।
(হাফিয মুনযিরী (র) বলেন: তাঁর বর্ণনাকারীগণ বিশস্ত। মুহাম্মদ ইবন ইয়াযীদ সমালোচনা মুক্ত এবং তিনি একজন যোগ্য মুহাদ্দিস, যার বর্ণনা সামনে আসবে।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4393- وَعَن أم حَبِيبَة زوج النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ كل كَلَام ابْن آدم عَلَيْهِ لَا لَهُ إِلَّا أَمر بِمَعْرُوف أَو نهي عَن مُنكر أَو ذكر الله

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه وَابْن أبي الدُّنْيَا وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث غَرِيب لَا نعرفه إِلَّا من حَدِيث مُحَمَّد بن يزِيد بن خُنَيْس
قَالَ الْحَافِظ رُوَاته ثِقَات وَفِي مُحَمَّد بن يزِيد كَلَام قريب لَا يقْدَح وَهُوَ شيخ صَالح
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৩৯৪
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৯৪. হযরত মুগীরা ইবন শু'বা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ্ তোমাদের তিনটি বিষয় অপসন্দ করেন। তা হলঃ ১. নিরর্থক কথাবার্তা বলা, ২. সম্পদ ধ্বংস করা এবং ৩. অধিক যাতনা করা।
(বুখারী, মুসলিম নিজ শব্দে ও আবু দাউদ বর্ণিত। আবু ই'আলা ও ইবন হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4394- وَعَن الْمُغيرَة بن شُعْبَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول إِن الله كره لكم ثَلَاثًا قيل وَقَالَ وإضاعة المَال وَكَثْرَة السُّؤَال

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَاللَّفْظ لَهُ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَرَوَاهُ أَبُو يعلى وَابْن حبَان فِي صَحِيحه من حَدِيث أبي هُرَيْرَة بِنَحْوِهِ
হাদীস নং: ৪৩৯৫
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৯৫. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: মানুষের বেশীর ভাগ গুনাহের কারণ হচ্ছে অনর্থক কথাবলা।
(আবু শায়খ সাওয়াব গ্রন্থে বর্ণনা করেন।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4395- وَرُوِيَ عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَكثر النَّاس ذنوبا أَكْثَرهم كلَاما فِيمَا لَا يعنيه

رَوَاهُ أَبُو الشَّيْخ فِي الثَّوَاب
হাদীস নং: ৪৩৯৬
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৯৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: ইসলামে ব্যক্তির শোভা হচ্ছে নিরর্থক কথাবার্তা বর্জন করা।
(তিরমিযী (র) বর্ণিত তিনি বলেন: হাদীসটি গরীব।
[হাফিয মুনযিরী (র) বলেন): কুররা ইবন হায়বীল ব্যতীত অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত। তবে তার সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের দ্বিমত রয়েছে। ইব্‌ন আবদুল বার নামেরী বলেন: ইনি যুহরী (র) সূত্রে বিশ্বস্ততার দিক থেকে সমালোচনা মুক্ত। এ দিক থেকে তাঁর সনদ হাসান পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। তবে একদল মুহাদ্দিসের মতে, আলী ইবন হুসায়না (র) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে' মুরসাল বর্ণনায় হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে, তাই সঠিক। উপরোক্ত অভিমত দিয়েছেন ইমাম আহমাদ, ইব্‌ন মুঈন, ইমাম বুখারী ও অন্যান্যগণ। অনুরূপ মালিক (র) যুহরী (র) থেকে, তিনি আলী ইবন হুসায়ন থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী (র) কুতায়বা থেকে, তিনি মালিক থেকে বর্ণনা করেন- এবং বলেনঃ আবু সালামা হযরত আবু হুরায়রা (রা) সূত্রের বর্ণনার তুলনায় এই বর্ণনাটি আমার কাছে অধিক সহীহ। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4396- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من حسن إِسْلَام الْمَرْء تَركه مَا لَا يعنيه

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث غَرِيب
قَالَ الْحَافِظ رُوَاته ثِقَات إِلَّا قُرَّة بن حَيْوِيل فَفِيهِ خلاف وَقَالَ ابْن عبد الْبر النمري هُوَ مَحْفُوظ عَن الزُّهْرِيّ بِهَذَا الْإِسْنَاد من رِوَايَة الثِّقَات انْتهى فعلى هَذَا يكون إِسْنَاده حسنا لَكِن قَالَ جمَاعَة من الْأَئِمَّة الصَّوَاب أَنه عَن عَليّ بن حُسَيْن عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مُرْسل كَذَا قَالَ أَحْمد وَابْن معِين وَالْبُخَارِيّ وَغَيرهم وَهَكَذَا رَوَاهُ مَالك عَن الزُّهْرِيّ عَن عَليّ بن حُسَيْن وَرَوَاهُ التِّرْمِذِيّ أَيْضا عَن قُتَيْبَة عَن مَالك بِهِ
وَقَالَ وَهَذَا عندنَا أصح من حَدِيث أبي سَلمَة عَن أبي هُرَيْرَة وَالله أعلم
হাদীস নং: ৪৩৯৭
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৯৭. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি ইন্তিকাল করলে অন্য এক ব্যক্তি বলল: লোকটি জান্নাতী, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তা শুনে (তাকে) বলেনঃ তুমি কি জান, হয়ত সে নিরর্থক কথা বলেছে অথবা কমে যাবে না এমন বস্তু দানের ব্যাপারে কৃপণতা করেছে।
(তিরমিযী (র) বর্ণিত, তিনি বলেন: হাদীসটি হাসান গরীব। হাফিয মুনযিরী (র) বলেন, তার বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4397- وَعَن أنس رَضِي الله عَنهُ قَالَ توفّي رجل فَقَالَ رجل آخر وَرَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يسمع أبشر بِالْجنَّةِ فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَو لَا تَدْرِي فَلَعَلَّهُ تكلم فِيمَا لَا يعنيه أَو بخل بِمَا لَا ينقصهُ

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب
قَالَ الْحَافِظ رُوَاته ثِقَات
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৩৯৮
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৯৮. হযরত ইব্‌ন আবুদ দুনিয়া ও আবু ই'আলা (রা) হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন। এক ব্যক্তি উহুদের দিন শাহাদত লাভ করেন। তাকে ক্ষুধার তীব্রতায় পেটে পাথর বাধা অবস্থায় পাওয়া গেল। তার মা তার চেহারার ধূলাবালি মুছতে মুছতে বললঃ হে প্রিয় বৎস! তোমার জন্য জান্নাত সহজ হয়ে গেল। অথবা নবী (ﷺ) বলেনঃ তুমি কী ভাবে জানতে পারলে? হয়ত বা সে নিরর্থক কথাবার্তা বলেছে অথবা সে এমন দান থেকে বিরত থেকেছে, যা তার ক্ষতির কারণ ছিল না।
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4398- وروى ابْن أبي الدُّنْيَا وَأَبُو يعلى عَن أنس أَيْضا رَضِي الله عَنهُ قَالَ اسْتشْهد رجل منا يَوْم أحد فَوجدَ على بَطْنه صَخْرَة مربوطة من الْجُوع فمسحت أمه التُّرَاب عَن وَجهه وَقَالَت هَنِيئًا لَك يَا بني الْجنَّة فَقَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مَا يدْريك لَعَلَّه كَانَ يتَكَلَّم فِيمَا لَا يعنيه وَيمْنَع مَا لَا يضرّهُ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৩৯৯
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৩৯৯. আবু ই'আলা ও-বায়হাকী (র) হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে শহীদরূপে নিহত হন। তখন এক ক্রন্দসী তার বিরহে কাঁদল এবং বলল: হায় শহীদ! বর্ণনাকারী বলল, তখন নবী (ﷺ) বলেনঃ সে যে শহীদ, তা তুমি কীভাবে বুঝলে? সম্ভবত সে নিরর্থক কথাবার্তা বলেছে। তার ক্ষতি হবে না, এমন দান থেকেও সে বিরত থেকেছে।
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4399- وروى أَبُو يعلى أَيْضا وَالْبَيْهَقِيّ عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قتل رجل على عهد رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم شَهِيدا فَبَكَتْ عَلَيْهِ باكية فَقَالَت واشهيداه قَالَ فَقَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مَا يدْريك أَنه شَهِيد لَعَلَّه كَانَ يتَكَلَّم فِيمَا لَا يعنيه أَو يبخل بِمَا لَا ينقصهُ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৪০০
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ কল্যাণকর কথাবার্তা ব্যতীত নীরবতা অবলম্বন করার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং অধিক বাক্যালাপের প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪৪০০. হযরত আবু সালামা ইব্‌ন হযরত আবদুর রহমান (রা) থেকে বর্ণিত। একবার এক মহিলা কয়েকজন মহিলাসহ হযরত আয়েশা (রা)-এর কাছে অবস্থান করেন। তখন তাদের মধ্যকার এক মহিলা বলল: আল্লাহর শপথ অবশ্যই আমি জান্নাতী। কেননা, আমি মুসলমান হয়েছি অথচ (ইসলাম গ্রহণের পর) আমি চুরি করিনি এবং ব্যভিচারে লিপ্ত হইনি। এরপর স্বপ্নে এক ব্যক্তি তাকে বলল: তুমিই কি সেই শপথকারিনী, যে জান্নাতী হওয়ার কথা বলছে। তা কেমন করে হয়, অথচ তুমি তোমার অপ্রয়োজনীয় বস্তু দান করতে কৃপণতা কর এবং নিরর্থক কথাবার্তা বল। এর পর সকাল হলে ঐ মহিলা হযরত আয়েশা (রা) এর কাছে এসে স্বপ্নের বৃত্তান্ত অবহিত করল। হযরত আয়েশা (রা) বলেনঃ তুমি ঐ সকল মহিলাদের একত্র কর, যারা গতকাল তোমার কথা শুনেছে। সকলে আসার পর ঐ মহিলা স্বপ্নে যাবতীয় বিষয় অবহিত করল।
(বায়হাকী বর্ণিত)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي الصمت إِلَّا عَن خير والترهيب من كَثْرَة الْكَلَام
4400- وَعَن أبي سَلمَة بن عبد الرَّحْمَن أَن امْرَأَة كَانَت عِنْد عَائِشَة وَمَعَهَا نسْوَة فَقَالَت امْرَأَة مِنْهُنَّ وَالله لأدخلن الْجنَّة فقد أسلمت وَمَا سرقت وَمَا زَنَيْت فَأتيت فِي الْمَنَام فَقيل لَهَا أَنْت المتألية لتدخلن الْجنَّة كَيفَ وَأَنت تبخلين بِمَ لَا يُغْنِيك وتتكلمين فِيمَا لَا يَعْنِيك فَلَمَّا أَصبَحت الْمَرْأَة دخلت على عَائِشَة فَأَخْبَرتهَا بِمَا رَأَتْ وَقَالَت اجمعي النسْوَة اللَّاتِي كن عنْدك حِين قلت مَا قلت فَأرْسلت إلَيْهِنَّ عَائِشَة رَضِي الله عَنْهَا فجئن فحدثتهن الْمَرْأَة بِمَا رَأَتْ فِي الْمَنَام

رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৪০১
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ হিংসা-বিদ্বেষ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং অন্তর পাপমুক্ত রাখার কযীলত
৪৪০১. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা কারো প্রতি মন্দ ধারণা শোষণ করবে না। কেননা, অযথা ধারণা কখনো বড় ধরনের মিথ্যা হয়ে থাকে। তোমরা মানুষের ছিদ্রান্বেষণ করোনা, পরস্পরের ত্রুটি খুঁজতে যেওনা, পরস্পরকে অবজ্ঞা করোনা, পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ করো না এবং পরস্পর পৃষ্ঠপ্রদর্শন করোনা। আল্লাহর বান্দারা ভাই ভাই হয়ে থাক, যেভাবে তোমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এক মুসলমান আর এক মুসলমানের ভাই। সে তার প্রতি যুলুম করতে পারে না। তাকে লাঞ্ছিত করতে পারে না এবং অবজ্ঞাও করতে পারে না। তাকওয়া ও আল্লাহ্ ভীতি এখানে (একথা) তিনবার বললেন। এই বলে তিনি তার বুকের দিকে ইশারা করেন। কোন ব্যক্তির খারাপ হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে অবজ্ঞা অথবা ঘৃণা করবে। প্রত্যেক মুসলমানের জন্য প্রত্যেক মুসলমানের রক্ত মান-মর্যাদা ও ধন সম্পন হরণ করা হারাম।
(মালিক, বুখারী ও মুসলিম বর্ণিত। তাঁর বর্ণনাসমূহ পূর্ণাঙ্গ, আবু দাউদ এবং তিরমিযী থেকেও বর্ণিত।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْحَسَد وَفضل سَلامَة الصَّدْر
4401- عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إيَّاكُمْ وَالظَّن فَإِن الظَّن أكذب الحَدِيث وَلَا تحسسوا وَلَا تجسسوا وَلَا تنافسوا وَلَا تَحَاسَدُوا وَلَا تباغضوا وَلَا تدابروا وَكُونُوا عباد الله إخْوَانًا كَمَا أَمركُم
الْمُسلم أَخُو الْمُسلم لَا يَظْلمه وَلَا يَخْذُلهُ وَلَا يحقره
التَّقْوَى هَهُنَا التَّقْوَى هَهُنَا التَّقْوَى هَهُنَا
وَأَشَارَ إِلَى صَدره بِحَسب امرىء من الشَّرّ أَن يحقر أَخَاهُ الْمُسلم
كل الْمُسلم على الْمُسلم حرَام دَمه وَعرضه وَمَاله

رَوَاهُ مَالك وَالْبُخَارِيّ وَمُسلم وَاللَّفْظ لَهُ وَهُوَ أهم الرِّوَايَات وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ
হাদীস নং: ৪৪০২
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ হিংসা-বিদ্বেষ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং অন্তর পাপমুক্ত রাখার কযীলত
৪৪০২. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ কোন মু'মিন বান্দার উদরে দু'টি বস্তু একত্র হতে পারে না। তা হলঃ ১. জিহাদের পথের ধুলা এবং ২. জাহান্নামের তাপ। কোন ব্যক্তির মধ্যে দু'টি বস্তু একত্র হতে পারে না। তা হলঃ ১. ঈমান ও ২. হিংসা।
(ইবন হিব্বানের সহীহ্ গ্রন্থে বর্ণিত। তিনি বায়হাকী (র)-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেন।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْحَسَد وَفضل سَلامَة الصَّدْر
4402- وَعنهُ رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَا يجْتَمع فِي جَوف عبد مُؤمن غُبَار فِي سَبِيل الله وفيح جَهَنَّم وَلَا يجْتَمع فِي جَوف عبد الْإِيمَان والحسد

رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه وَمن طَرِيقه الْبَيْهَقِيّ
হাদীস নং: ৪৪০৩
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ হিংসা-বিদ্বেষ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং অন্তর পাপমুক্ত রাখার কযীলত
৪৪০৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা হিংসা-বিদ্বেষ থেকে বেঁচে থাক। কেননা, হিংসা নেকী গ্রাস করে, যেমন আগুন কাঠ পুড়িয়ে দেয় অথবা তিনি বলেছেন: শুকনা ঘাস কঠা পুড়িয়ে দেয়।
(আবূ দাউদ, বায়হাকী বর্ণিত। ইবন মাজা, বায়হাকী ও অন্যান্যগণ হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: হিংসা নেকী গ্রাস করে, যেমনিভাবে আগুন লাকড়ী জ্বালিয়ে দেয়। সাদাকা গুনাহ মোচন করে, যেরূপ পানি আগুন নিভিয়ে দেয়। সালাত (কিয়ামতের দিন) মু'মিনের জন্য জ্যোতি স্বরূপ হবে। সিয়াম জাহান্নাম থেকে (রক্ষা পাওয়ার ক্ষেত্রে) ঢাল স্বরূপ- হবে।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْحَسَد وَفضل سَلامَة الصَّدْر
4403- وَعنهُ رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إيَّاكُمْ والحسد فَإِن الْحَسَد يَأْكُل الْحَسَنَات كَمَا تَأْكُل النَّار الْحَطب أَو قَالَ العشب

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالْبَيْهَقِيّ وَرَوَاهُ ابْن مَاجَه وَالْبَيْهَقِيّ أَيْضا وَغَيرهمَا من حَدِيث أنس أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ الْحَسَد يَأْكُل الْحَسَنَات كَمَا تَأْكُل النَّار الْحَطب وَالصَّدَََقَة تطفىء الْخَطِيئَة كَمَا يطفىء المَاء النَّار وَالصَّلَاة نور الْمُؤمن وَالصِّيَام جنَّة من النَّار
হাদীস নং: ৪৪০৪
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ হিংসা-বিদ্বেষ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং অন্তর পাপমুক্ত রাখার কযীলত
৪৪০৪. হযরত যামুরা ইবন সালাবা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন। মানুষ যতক্ষণে পরস্পরে হিংসা-বিদ্বেষে জড়িয়ে পড়বে না, ততক্ষণ তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ।
(তাবারাণী (র) বর্ণিত তাঁর বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْحَسَد وَفضل سَلامَة الصَّدْر
4404- وَعَن ضَمرَة بن ثَعْلَبَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَا يزَال النَّاس بِخَير مَا لم يتحاسدوا

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَرُوَاته ثِقَات
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৪০৫
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ হিংসা-বিদ্বেষ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং অন্তর পাপমুক্ত রাখার কযীলত
৪৪০৫. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন বুসব (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন: হিংসুক, চোগলখোর, গণক-এরা আমার দলভুক্ত নয় এবং আমিও তাদের দলভুক্ত নই। পরে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিম্ন বর্ণিত আয়াত পাঠ করেন:
وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا
"যারা মু'মিন পুরুষ ও নারীকে বিনা আপরাধে কষ্ট দেয়, তারা একটা অতিবড় মিথ্যা দোষ ও সুস্পষ্ট অপরাধের বোঝা নিজেদের ঘাড়ে চাপিয়ে নেয়"। (সূরা আহযাবঃ ৫৮)।
(তাবারাণী (র) বর্ণিত। باب إجلاء العلماء তে নবী (ﷺ) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, আমি আমার উম্মাতের উপর তিনটি বিষয়ে আশংকিত। তন্মধ্যে একটি হচ্ছে এইঃ ১. তারা দুনিয়াতে সম্পদের আধিক্যতার কারণে পরস্পর হিংসায় জড়িয়ে পড়বে।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْحَسَد وَفضل سَلامَة الصَّدْر
4405- وَرُوِيَ عَن عبد الله بن بسر رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَيْسَ مني ذُو حسد وَلَا نميمة وَلَا كهَانَة وَلَا أَنا مِنْهُ ثمَّ تَلا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَالَّذين يُؤْذونَ الْمُؤمنِينَ وَالْمُؤْمِنَات بِغَيْر مَا اكتسبوا فقد احتملوا بهتانا وإثما مُبينًا الْأَحْزَاب 85

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَتقدم فِي بَاب أجلاء الْعلمَاء حَدِيثه أَيْضا عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَا أَخَاف على أمتِي إِلَّا ثَلَاث خلال أَن يكثر لَهُم من الدُّنْيَا فيتحاسدون
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৪০৬
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ হিংসা-বিদ্বেষ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং অন্তর পাপমুক্ত রাখার কযীলত
৪৪০৬. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবন কা'ব (রা) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন। দু'টি ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘকে যদি একপাল বকরীর মধ্যে ছেড়ে দেয়া হয়, তারা যতনা হিংস্র ও ধ্বংসকারী, ইসলাম ধর্মে তার চেয়ে অধিক ধ্বংসকারী হল সম্পদের প্রতি লোভ এবং অপরটি হিংসা। হিংসা-বিদ্বেষ নেকী এমনভাবে গ্রাস করে যেমনিভাবে আগুন কাঠ পুড়িয়ে দেয়।
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْحَسَد وَفضل سَلامَة الصَّدْر
4406- وَعَن عبد الله بن كَعْب عَن أَبِيه رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ مَا ذئبان جائعان أرسلا فِي زريبة غنم بأفسد لَهَا من الْحِرْص على المَال والحسد فِي دين الْمُسلم وَإِن الْحَسَد ليَأْكُل الْحَسَنَات كَمَا تَأْكُل النَّار الْحَطب
হাদীস নং: ৪৪০৭
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ হিংসা-বিদ্বেষ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং অন্তর পাপমুক্ত রাখার কযীলত
৪৪০৭. অন্য বর্ণনায় আছে, তোমরা হিংসা-বিদ্বেষ থেকে বেঁচে থাক। কেননা, তা নেকী এমনভাবে গ্রাস করে, যেমনিভাবে আগুন শুকনা ঘাসকে (কাঠ) জ্বালিয়ে দেয়।
(রাযীন বর্ণিত। উক্ত শব্দমালা দ্বারা হাদীসের নীতি মালার উপর আমি হাদীসটি পাইনি। তবে ইমাম তিরমিযী (র) হাদীসের প্রথমাংশ বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি বিশুদ্ধ এবং তার বর্ণনায় حسد শব্দটি উল্লেখ নেই।
বরং তিনি حسد শব্দের হলে شرف (অভিজাত) শব্দ বলেছেন। হাদীসের বাকী অংশ আবু দাউদ (র) আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে বর্ণনা করেন।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْحَسَد وَفضل سَلامَة الصَّدْر
4407- وَفِي رِوَايَة إيَّاكُمْ والحسد فَإِنَّهُ يَأْكُل الْحَسَنَات كَمَا تَأْكُل النَّار العشب

ذكره رزين وَلم أره فِي شَيْء من أُصُوله بِهَذَا اللَّفْظ إِنَّمَا روى التِّرْمِذِيّ صَدره وَصَححهُ وَلم يذكر الْحَسَد بل قَالَ على المَال والشرف وَبَقِيَّة الحَدِيث تقدّمت عِنْد أبي دَاوُد من حَدِيث أبي هُرَيْرَة
হাদীস নং: ৪৪০৮
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ হিংসা-বিদ্বেষ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং অন্তর পাপমুক্ত রাখার কযীলত
৪৪০৮. হযরত যুবায়র (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের মধ্যে পূর্ববর্তী উম্মাতের কুস্বভাবগুলো ধীরেধীরে প্রবেশ করবে। এর মধ্যে একটি হল, হিংসা বিদ্বেষ। আর বিদ্বেষই ধ্বংসকারী। সাবধান! আমি ধ্বংসকারী বলতে মাথা মুণ্ডন বুঝাইনি। আমার কথার অর্থ হচ্ছে দ্বীনকে ধ্বংসকারী।
(বাযযার উত্তম সনদে, বায়হাকী ও অন্যান্যগণ বর্ণনা করেন।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْحَسَد وَفضل سَلامَة الصَّدْر
4408- وَعَن الزبير رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ دب إِلَيْكُم دَاء الْأُمَم قبلكُمْ الْحَسَد والبغضاء والبغضاء هِيَ الحالقة أما إِنِّي لَا أَقُول تحلق الشّعْر وَلَكِن تحلق الدّين

رَوَاهُ الْبَزَّار بِإِسْنَاد جيد وَالْبَيْهَقِيّ وَغَيرهمَا
হাদীস নং: ৪৪০৯
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ হিংসা-বিদ্বেষ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং অন্তর পাপমুক্ত রাখার কযীলত
৪৪০৯. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: হে আমার প্রিয় বৎস! তুমি যদি আজীবন কারো প্রতি বিদ্বেষ মুক্ত থাকতে পার, তবে তাই কর। আল-হাদীস।
(তিরমিযী বলেন: হাদীসটি হাসান-গরীব।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْحَسَد وَفضل سَلامَة الصَّدْر
4409- وَعَن أنس بن مَالك رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ لي رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَا بني إِن قدرت على أَن تصبح وتمسي لَيْسَ فِي قَلْبك غش لأحد فافعل الحَدِيث

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث حسن غَرِيب
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৪১০
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ হিংসা-বিদ্বেষ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং অন্তর পাপমুক্ত রাখার কযীলত
৪৪১০. হযরত আনাস ইবন মালিক (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন আমরা একদিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তখন তিনি বলেন: এখন তোমাদের নিকট একজন জান্নাতী লোক আসবে। হঠাৎ জনৈক আনসার এলো, যার দাঁড়ি থেকে পানি ঝরছিল। তার বাম হাতে জুতা ধরা ছিল। দ্বিতীয় দিন নবী (ﷺ) অনুরূপ বলেন। হঠাৎ প্রথম দিনের মত এক ব্যক্তি এলো এরপর তৃতীয় দিন নবী (ﷺ) পূর্বের ন্যায় বলেন, তখন হঠাৎ প্রথম ব্যক্তি পূর্বের অবস্থায় এলো। তারপর নবী (ﷺ) যখন চলে যেতে উদ্যত হন, তখন আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা) ঐ লোকটির পিছু পিছু গিয়ে বলেনঃ আমি আমার পিতার সাথে ঝগড়া করে শপথ দিয়ে বলেছি যে, আমি তিন দিন তার কাছে যাব না। আপনি যদি চান, তবে এই সময় আপনি আমাকে আশ্রয় দিন। তিনি কলেন: হাঁ! আনাস (রা) বলেন, হযরত আবদুল্লাহ্ (রা) বর্ণনা করেন যে, তিনি তাঁর সাথে তিনদিন তিনরাত যাপন করেন এবং রাতের কোন অংশে তিনি তাকে উঠতে দেখেননি। যখনই তিনি জাগ্রত হতেন, তখন শুধুমাত্র তিনি আল্লাহর যিকর ও তাসবীহ্ তাহলীল করতে করতে পার্শ্বপরিবর্তন করতেন। এভাবে ফজরের সালাত আদায় করতেন। আবদুল্লাহ্ (রা) বলেন: আমি তাকে উত্তম বাক্য ব্যতীত কিছু বলতে শুনিনি। যখন তিন দিন চলে গেল, তখন আমি তার আমল নগন্য মনে করে বললাম: হে আবদুল্লাহ্! আমার পিতার প্রতি ক্ষুদ্ধ হওয়ার কোন কারণও ছিলনা এবং বিচ্ছিন্ন হওয়ারও কোন কারণ ছিল না। তবে আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে আপনার উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের কাছে এখন একজন জান্নাতী লোক আসবে। আপনি তিনবারই আসলেন। এজন্য আমি আপনার নিকট আশ্রয় নেই, যাতে আমি আপনার আমল দেখতে পাই এবং আপনার অনুসরণ করতে পারি। আমি আপনাকে এমন কোন বিরাট ধরনের আমল করতে দেখিনি। তবে কী আমলের কারণে আপনি ঐ মর্যাদায় ভূষিত হলেন, যা রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) আপনাকে উদ্দেশ্যে করে বলেছেন? তিনি বলেনঃ তুমি যা দেখেছ, তা ব্যতীত কিছু নেই। অবশেষে যখন আমি ফিরে চললাম, তখন তিনি আমাকে ডেকে বলেন। যা তুমি দেখেছ, তা ব্যতীত আমি প্রকৃতপক্ষে এমন কোন আমল করি না, তবে আমি কোন মুসলমানের প্রতি বিদ্বেষ রাখি না এবং আল্লাহ যাকে কল্যাণ দান করেছেন তার প্রতি হিংসাও করি না। তখন আবদুল্লাহ ইব্‌ন আমর (রা) বলেন। একাজই আপনাকে এহেন মর্যাদায় পৌছিয়েছে।
(আহমাদ (র) সনদ সূত্রে বুখারী, মুসলিম ও নাসাঈর শর্তানুরূপ বর্ণনা করেন। তার বর্ণনাকারীদের বর্ণনা দলীলরূপে গ্রহণযোগ্য, কেবলমাত্র তাঁর উস্তাদ সুওয়ায়দ ইবুন নুসায়র ব্যতীত। তবে তিনিও বিশ্বস্ত। আবু ই'আলা ও বাযযার (র) অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে সা'দ নামে একজন অজ্ঞাতনামা বর্ণনাকারী রয়েছে। তার বর্ণনার শেষাংশে এরূপ রয়েছে যে, এরপর সা'দ বলেনঃ হে ভাতিজা! তুমি যা দেখেছ তা ছাড়া আমার কাছে কিছুই নেই। তবে আমি কোন মুসলমানকে হিংসা করিনা।
উক্ত বর্ণনায় ضاغنا অথবা অনুরূপ কোন শব্দ বলেছেন। নাসাঈ তাঁর বর্ণনায় বাড়িয়ে বলেছেন এবং বায়হাকী ও ইস্পাহানী বর্ণিত। তবে আবদুল্লাহ্ (রা) বলেন: ঐ আমল কি, যার কারণে আপনি এহেন মর্যাদায় পৌঁছেছেন, আপনি যার সামর্থ্য রাখেন না।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْحَسَد وَفضل سَلامَة الصَّدْر
4410- وَعَن أنس بن مَالك رَضِي الله عَنهُ قَالَ كُنَّا جُلُوسًا مَعَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَقَالَ يطلع الْآن عَلَيْكُم رجل من أهل الْجنَّة فطلع رجل من الْأَنْصَار تنظف لحيته من وضوئِهِ قد علق نَعْلَيْه بِيَدِهِ الشمَال فَلَمَّا كَانَ الْغَد قَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مثل ذَلِك فطلع ذَلِك الرجل مثل الْمرة الأولى فَلَمَّا كَانَ الْيَوْم الثَّالِث قَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مثل مقَالَته أَيْضا فطلع ذَلِك الرجل على مثل حَاله الأول فَلَمَّا قَامَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم تبعه عبد الله بن عَمْرو فَقَالَ إِنِّي لاحيت أبي فأقسمت أَنِّي لَا أَدخل عَلَيْهِ ثَلَاثًا فَإِن رَأَيْت أَن تؤويني إِلَيْك حَتَّى تمْضِي فعلت
قَالَ نعم
قَالَ أنس فَكَانَ عبد الله يحدث أَنه بَات مَعَه تِلْكَ الثَّلَاث اللَّيَالِي فَلم يره يقوم من اللَّيْل شَيْئا غير أَنه إِذا تعار تقلب على فرَاشه ذكر الله عز وَجل وَكبر حَتَّى لصَلَاة الْفجْر
قَالَ عبد الله غير أَنِّي لم أسمعهُ يَقُول إِلَّا خيرا فَلَمَّا مَضَت الثَّلَاث اللَّيَالِي وكدت أَن أحتقر عمله قلت يَا عبد الله لم يكن بيني وَبَين أبي غضب وَلَا هِجْرَة وَلَكِن سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول لَك ثَلَاث مَرَّات يطلع عَلَيْكُم الْآن رجل من أهل الْجنَّة فطلعت أَنْت الثَّلَاث المرات فَأَرَدْت أَن آوي إِلَيْك فَأنْظر مَا عَمَلك فأقتدي بك فَلم أرك عملت كَبِير عمل فَمَا الَّذِي بلغ بك مَا قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ مَا هُوَ إِلَّا مَا رَأَيْت فَلَمَّا وليت دَعَاني فَقَالَ مَا هُوَ إِلَّا مَا رَأَيْت غير أَنِّي لَا أجد فِي نَفسِي لأحد من الْمُسلمين غشا وَلَا أحسد أحدا على خير أعطَاهُ الله إِيَّاه فَقَالَ عبد الله هَذِه الَّتِي بلغت بك

رَوَاهُ أَحْمد بِإِسْنَاد على شَرط البُخَارِيّ وَمُسلم وَالنَّسَائِيّ وَرُوَاته احتجا بهم أَيْضا إِلَّا شَيْخه سُوَيْد بن نصر وَهُوَ ثِقَة وَأَبُو يعلى وَالْبَزَّار بِنَحْوِهِ وسمى الرجل الْمُبْهم سَعْدا
وَقَالَ فِي آخِره فَقَالَ سعد مَا هُوَ إِلَّا مَا رَأَيْت يَا ابْن أخي إِلَّا أَنِّي لم أَبَت ضاغنا على مُسلم
أَو كلمة نَحْوهَا
زَاد النَّسَائِيّ فِي رِوَايَة لَهُ وَالْبَيْهَقِيّ والأصبهاني فَقَالَ عبد الله هَذِه الَّتِي بلغت بك وَهِي الَّتِي لَا تطِيق
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৪১১
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ হিংসা-বিদ্বেষ করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং অন্তর পাপমুক্ত রাখার কযীলত
৪৪১১. বায়হাকী (র) হযরত সালিম ইবন আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি তার পিতা (আবদুল্লাহ্) হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: একবার আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)এর নিকট বসা ছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি (রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: এই দরজা দিয়ে এখন একজন জান্নাতী লোক আসবে। তারপর সা'দ ইবন মালিক (রা) এসে সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করেন।
বায়হাকী (র) বলেন, তিনি উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এরপর আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা) বলেন: আমি এই ব্যক্তির নিকট রাত যাপন না করা পর্যন্ত ফিরে যাব না, যাতে আমি তার আমল প্রত্যক্ষ করতে পারি। সে বলল, তিনি তার কাছে গমণের হাদীসটি বর্ণনা করেন এবং তিনি বলেনঃ সে আমাকে একটি আবা দিল। পরে আমি তার কাছে ঘুমালাম এবং নিজ চোখে তাঁর রাতের আমল প্রত্যক্ষ করলাম। যখনই তিনি জাগ্রত হতেন, তখনই সুবহানাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল-হামদুলিল্লাহ্ ইত্যাদি পাঠ করতেন। রাত যখন শেষ হয়ে এলো, তখন তিনি বিছানা ত্যাগ করেন, এর পর উযূ করে মসজিদে প্রবেশ করেন এবং দুই রাকা'আত করে বার রাক'আত সালাত আদায় করেন। এতে তিনি তিওয়ালে মুফাসসাল, (বড় সূরা যেমন, সূরা বাকারা, আলে ইমরান ইত্যাদি) কিসারে মুফাসসাল (যেমন সূরা ফীল ও সূরা কুরায়শ ইত্যাদি) পাঠ না করে, আওসাতে মুফাস্স্সাল (যেমন সূরা বুরূজ ও ইনফিতার ইত্যাদি) পাঠ করেন। তিনি প্রতি দুই রাক'আতে তাশাহহুদের পর নিম্নোক্ত তিনটি দু'আ পাঠ করেনঃ

১. «اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً، وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ»
২. اللَّهُمَّ اكْفِنَا مَا أَهَمَّنَا مِنْ أَمْرِ آخِرَتِنَا وَدُنْيَانَا
৩. اللهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ كُلِّهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّرِّ كُلِّهِ

১. "হে আল্লাহ্। আপনি আমাকে ইহ-পারলৌকিক জীবনে কল্যাণ দান করুন এবং আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।
২. হে আল্লাহ্! আপনি আমাকে ইহ-পারলৌকিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ পর্যাপ্ত সহযোগিতা করুন।
৩. হে আল্লাহ্! আপনার নিকট যাবতীয় কল্যাণ চাই এবং আপনার নিকট যাবতীয় অনিষ্ট থেকে পানাহ চাই। এই ভাবে তিনি সালাম শেষ করেন এবং বলেন,.......।
বর্ণনাকারী উক্ত হাদীসে তাঁর আমলের দৃঢ়তা এবং তিনবার রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে গমনের বিষয় উল্লেখ করেন। সে (রাযী) বলল, তিনি বলেন, আড়ি শয্যগ্রহণ করছি এই অবস্থায় যে, আমার অন্তরে কারো প্রতি বিদ্বেষ নেই।
الغمر : হিংসা।
تنطف : ফোটা ফোটা পানি পড়া।
لاحيث : বিবাদ করা,
تعار : জাগ্রত হওয়া।
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْحَسَد وَفضل سَلامَة الصَّدْر
4411- وَرَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ أَيْضا عَن سَالم بن عبد الله عَن أَبِيه قَالَ كُنَّا جُلُوسًا عِنْد رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ فَقَالَ ليطلعن عَلَيْكُم رجل من هَذَا الْبَاب من أهل الْجنَّة
فجَاء سعد بن مَالك فَدخل مِنْهُ
قَالَ الْبَيْهَقِيّ فَذكر الحَدِيث قَالَ فَقَالَ عبد الله بن عَمْرو رَضِي الله عَنْهُمَا مَا أَنا بِالَّذِي أَنْتَهِي حَتَّى أبايت هَذَا الرجل فَأنْظر عمله قَالَ
فَذكر الحَدِيث فِي دُخُوله عَلَيْهِ قَالَ فناولني عباءة فاضطجعت عَلَيْهَا قَرِيبا مِنْهُ وَجعلت أرمقه بعيني ليله كلما تعار سبح وَكبر وَهَلل وَحمد الله حَتَّى إِذا كَانَ فِي وَجه السحر قَامَ فَتَوَضَّأ ثمَّ دخل الْمَسْجِد فصلى ثِنْتَيْ عشرَة رَكْعَة باثنتي عشرَة سُورَة من الْمفصل لَيْسَ من طواله وَلَا من قصاره يَدْعُو فِي كل رَكْعَتَيْنِ بعد التَّشَهُّد بِثَلَاث دعوات يَقُول اللَّهُمَّ آتنا فِي الدُّنْيَا حَسَنَة وَفِي الْآخِرَة حَسَنَة وقنا عَذَاب النَّار
اللَّهُمَّ اكْفِنَا مَا أهمنا من أَمر آخرتنا ودنيانا
اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلك من الْخَيْر كُله وَأَعُوذ بك من الشَّرّ كُله حَتَّى إِذا فرغ قَالَ فَذكر الحَدِيث فِي استقلاله عمله وَعوده إِلَيْهِ ثَلَاثًا إِلَى أَن قَالَ فَقَالَ آخذ مضجعي وَلَيْسَ فِي قلبِي غمر على أحد
الْغمر بِكَسْر الْغَيْن الْمُعْجَمَة وَسُكُون الْمِيم هُوَ الحقد وَقَوله تنظف أَي تقطر
لاحيت بِالْحَاء الْمُهْملَة بعْدهَا يَاء مثناة تَحت أَي خَاصَمت
تعار بتَشْديد الرَّاء أَي اسْتَيْقَظَ
tahqiq

তাহকীক: