আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

الترغيب والترهيب للمنذري

২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৭৫৪ টি

হাদীস নং: ৪৫১২
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ মুসলমানকে তাচ্ছিল্য করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং তাকওয়া ব্যতীত কারো উপর কারো মর্যাদা নেই
৪৫১২. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: মুসলমান মুসলমানের ভাই; সে না তার উপর যুলুম করবে, না তাকে লজ্জা দেবেন, আর না তাকে হীনও ছোট মনে করবে। এর পর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) নিজের বুকের দিকে ইশারা করে বলেন: তাকওয়া এখানেই, তাকওয়া এখানেই, তাকওয়া এখানেই। মানুষের খারাপ হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলমান ভাইকে ঘৃণা করে, ছোট মনে করে। বস্তুত প্রত্যেক মুসলমানের রক্ত, ধন-সম্পদ ও ইযযত অপর সমস্ত মুসলমানের উপর হারাম।
(মুসলিম এবং অন্যান্যগণ বর্ণনা করেন।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من احتقار الْمُسلم وَأَنه لَا فضل لأحد على أحد إِلَّا بالتقوى
4512- عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ الْمُسلم أَخُو الْمُسلم لَا يَظْلمه وَلَا يَخْذُلهُ وَلَا يحقره التَّقْوَى هَهُنَا التَّقْوَى هَهُنَا التَّقْوَى هَهُنَا وَيُشِير إِلَى صَدره بِحَسب امرىء من الشَّرّ أَن يحقر أَخَاهُ الْمُسلم كل الْمُسلم على الْمُسلم حرَام دَمه وَعرضه وَمَاله

رَوَاهُ مُسلم وَغَيره
হাদীস নং: ৪৫১৩
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ মুসলমানকে তাচ্ছিল্য করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং তাকওয়া ব্যতীত কারো উপর কারো মর্যাদা নেই
৪৫১৩. হযরত ইবন মাসউদ (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: যার অন্তরে সামান্য পরিমাণ (পিপীলিকার মাথা সমান) অহংকার রয়েছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এক ব্যক্তি বলল: লোকে উত্তম পোশাক ও উত্তম জুতা পরিধান করা পসন্দ করে, (এটাও কি অহংকার পর্যায় পড়ে?) তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ পরম সুন্দর; তিনি সৌন্দর্য পসন্দ করেন। অহংকার সত্যকে মিটিয়ে দেয় এবং মানুষের মধ্যে তাচ্ছিল্য সৃষ্টি করে।
(মুসলিম ও তিরমিযী ও হাকিম বর্ণিত। তবে ইমাম হাকিম (র)-এর এক বর্ণনায় আছে:
ولكن الكبر من بطر الحَقِّ وَازْدَرَى النَّاسِ
"কিন্তু অহংকার সত্যকে মিটিয়ে দেয় এবং মানুষের প্রতি বেপরোয়াভাব সৃষ্টি করে।" ইমাম হাকিম (র) বলেন: তাঁর বর্ণনা দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায়।
بطر الحق - সত্য মিটিয়ে দেওয়া।
وغمط الناس - মানুষকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা। ইমাম হাকিম (র) এরূপ ব্যাখ্যা করেছেন।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من احتقار الْمُسلم وَأَنه لَا فضل لأحد على أحد إِلَّا بالتقوى
4513- وَعَن ابْن مَسْعُود رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَا يدْخل الْجنَّة من كَانَ فِي قلبه مِثْقَال ذرة من كبر
فَقَالَ رجل إِن الرجل يحب أَن يكون ثَوْبه حسنا وَنَعله حسنا فَقَالَ إِن الله تَعَالَى جميل يحب الْجمال
الْكبر بطر الْحق وغمط النَّاس

رَوَاهُ مُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَالْحَاكِم إِلَّا أَنه قَالَ
وَلَكِن الْكبر من بطر الْحق وازدرى النَّاس
وَقَالَ الْحَاكِم احتجا برواته
بطر الْحق دَفعه ورده
وغمط النَّاس بِفَتْح الْغَيْن الْمُعْجَمَة وَسُكُون الْمِيم وبالطاء الْمُهْملَة هُوَ احتقارهم وازدراؤهم كَمَا جَاءَ مُفَسرًا عِنْد الْحَاكِم
হাদীস নং: ৪৫১৪
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ মুসলমানকে তাচ্ছিল্য করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং তাকওয়া ব্যতীত কারো উপর কারো মর্যাদা নেই
৪৫১৪. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা যখন কাউকে বলতে শোন, মানুষ ধ্বংস হোক। প্রকৃতপক্ষে সে-ই তাদের মধ্যে চরম ধ্বংসপ্রাপ্ত।
(মালিক, মুসলিম ও আবূ দাউদ বর্ণিত। ইমাম আবু দাউদ (র) বলেন, আবু ইসহাক (র) বলেছেনঃ আমি اهلكهم শব্দটির 'কাফ' বর্ণে যবর এবং অন্য বর্ণনায় 'পেশ' বলতে শুনেছি। যদি 'কাফ' বর্ণের, উপর যবর হয় অথবা পেশ হয়, উভয় একার পাঠ বিশুদ্ধ। ইমাম মালিক (র) বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজকে সর্বোত্তম এবং অন্যকে তুচ্ছ মনে করে এ কথা বলে, তবে সে-ই হবে মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা ধ্বংসপ্রাপ্ত। কেননা, সে জানে না সৃষ্টির মধ্যে কে উত্তম, কে 'অধম।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من احتقار الْمُسلم وَأَنه لَا فضل لأحد على أحد إِلَّا بالتقوى
4514- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِذا سَمِعْتُمْ الرجل يَقُول هلك النَّاس فَهُوَ أهلكهم

رَوَاهُ مَالك وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد
وَقَالَ قَالَ أَبُو إِسْحَاق سمعته بِالنّصب وَالرَّفْع وَلَا أَدْرِي أَيهمَا قَالَ يَعْنِي بِنصب الْكَاف من أهلكهم أَو رَفعهَا وَفَسرهُ مَالك إِذا قَالَ ذَلِك معجبا بِنَفسِهِ مزدريا بِغَيْرِهِ فَهُوَ أَشد هَلَاكًا مِنْهُم لِأَنَّهُ لَا يدْرِي سرائر الله فِي خلقه انْتهى
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৫১৫
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ মুসলমানকে তাচ্ছিল্য করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং তাকওয়া ব্যতীত কারো উপর কারো মর্যাদা নেই
৪৫১৫. হযরত জুনদুব ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: এক ব্যক্তি বলল, আল্লাহর শপথ! আল্লাহ্ অমুককে ক্ষমা করবেন না, আল্লাহ্ বলেনঃ আমি তাকে ক্ষমা করব না -এর বিষয়ে কে শপথ করতে পারে? আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমার আমল নষ্ট করে দিলাম।
(মুসলিম বর্ণিত।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من احتقار الْمُسلم وَأَنه لَا فضل لأحد على أحد إِلَّا بالتقوى
4515- وَعَن جُنْدُب بن عبد الله رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ رجل وَالله لَا يغْفر الله لفُلَان فَقَالَ الله عز وَجل من ذَا الَّذِي يتألى عَليّ أَن لَا أَغفر لَهُ إِنِّي قد غفرت لَهُ وأحبطت عَمَلك

رَوَاهُ مُسلم
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৫১৬
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ মুসলমানকে তাচ্ছিল্য করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং তাকওয়া ব্যতীত কারো উপর কারো মর্যাদা নেই
৪৫১৬. হাসান (র) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: লোকের সাথে উপহাসকারীদের কারো কারো জন্য আন্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হবে। এর পর তাকে বলা হবে, এসো সে বিপদগ্রস্ত ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায়। তখন অন্য একটি দরজা খুলে দেওয়া হবে। আর যখন সে জান্নাতের কাছে আসবে তখন দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাকে বলা হবে: এসো, এসো। তখন সে দুশ্চিন্তা ও পেরেশানী নিয়ে আসবে। দরজার নিকটে এলে দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। এরূপ চলতে থাকবে, এমনকি অপরজনের জন্যও জান্নাতের দরজা খুলে তাকে বলা হবেঃ এসো, এসো। সে কেবল নৈরাশ্যভাব নিয়েই আসবে।
(বায়হাকী মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেন।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من احتقار الْمُسلم وَأَنه لَا فضل لأحد على أحد إِلَّا بالتقوى
4516- وَعَن الْحسن رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن الْمُسْتَهْزِئِينَ بِالنَّاسِ يفتح لأَحَدهم فِي الْآخِرَة بَاب من الْجنَّة فَيُقَال لَهُ هَلُمَّ فَيَجِيء بكربه وغمه فَإِذا جَاءَهُ أغلق دونه ثمَّ يفتح لَهُ بَاب آخر فَيُقَال لَهُ هَلُمَّ هَلُمَّ فَيَجِيء بكربه وغمه فَإِذا جَاءَهُ أغلق دونه فَمَا يزَال كَذَلِك حَتَّى إِن أحدهم ليفتح لَهُ الْبَاب من أَبْوَاب الْجنَّة فَيُقَال لَهُ هَلُمَّ فَمَا يَأْتِيهِ من الْإِيَاس

رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ مُرْسلا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৫১৭
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ মুসলমানকে তাচ্ছিল্য করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং তাকওয়া ব্যতীত কারো উপর কারো মর্যাদা নেই
৪৫১৭. হযরত উকবা ইবন আমির (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের বংশ কৌলিন্য একের উপর অপরের মর্যাদার মানদণ্ড নয়। তোমরা সকলে আদম সন্তান। রশি দ্বারা পাল্লা ভারী হয় না। দীন ব্যতীত তোমাদের একের উপর অপরের মর্যাদা নেই অথবা তিনি الا بالدين এরস্থলে عمل صالح (সৎকাজ) বলেছেন।
(আহমাদ ও বায়হাকী বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে ইব্‌ন লাহীয়া থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বায়হাকী (র) নিজ শব্দযোগে বলেন: দীন ব্যতীত তোমাদের একের উপর অপরের মর্যাদা নেই অথবা তিনি الا بالدين-এর স্থলে عمل صالح বলেছেন। কারো মধ্যকার অশ্লীলতা, বাচালতা ও কৃপণতা মর্যাদার মানদণ্ড নয়।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من احتقار الْمُسلم وَأَنه لَا فضل لأحد على أحد إِلَّا بالتقوى
4517- وَعَن عقبَة بن عَامر رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن أنسابكم هَذِه لَيست بسباب على أحد وَإِنَّمَا أَنْتُم ولد آدم طف الصَّاع لم تملؤوه لَيْسَ لأحد فضل على أحد إِلَّا بِالدّينِ أَو عمل صَالح

رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ كِلَاهُمَا من رِوَايَة ابْن لَهِيعَة وَلَفظ الْبَيْهَقِيّ قَالَ
لَيْسَ لأحد على أحد فضل إِلَّا بِالدّينِ أَو عمل صَالح
حسب الرجل أَن يكون فَاحِشا بذيا بَخِيلًا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৫১৮
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ মুসলমানকে তাচ্ছিল্য করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং তাকওয়া ব্যতীত কারো উপর কারো মর্যাদা নেই
৪৫১৮. ইমাম বায়হাকী (র)-এর অন্য বর্ণনার আছেঃ দীন অথবা তিনি বলেছেন, তাকওয়া ব্যতীত একের উপর অন্যের মর্যাদা নেই। লোকের মন্দ হওয়ার জন্য অশ্লীলতা, বাচালতা ও কৃপণতাই যথেষ্ট।
طف الصاع - একে অপরের নিকটবর্তী হওয়া।
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من احتقار الْمُسلم وَأَنه لَا فضل لأحد على أحد إِلَّا بالتقوى
4518- وَفِي رِوَايَة لَهُ لَيْسَ لأحد على أحد فضل إِلَّا بدين أَو تقوى وَكفى بِالرجلِ أَن يكون بذيا فَاحِشا بَخِيلًا
قَوْله طف الصَّاع بِالْإِضَافَة أَي قريب بَعْضكُم من بعض
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৫১৯
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ মুসলমানকে তাচ্ছিল্য করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং তাকওয়া ব্যতীত কারো উপর কারো মর্যাদা নেই
৪৫১৯. হযরত আবু যার (রা) থেকে বর্ণিত। একদা নবী (ﷺ) তাকে বলেনঃ (হে আবু যার!) লক্ষ্য কর, তাকওয়া দ্বারা সুশোভিত হওয়া ব্যতীত তোমার শ্বেতাঙ্গ কিংবা কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় কোন মর্যাদা নেই।
(আহমাদ বর্ণিত। তাঁর বর্ণনাকারীগণের বিশ্বস্ততা প্রসিদ্ধ, কেবলমাত্র বকর ইবন আবদুল্লাহ্ মুযানী ব্যতীত।
কেননা, তিনি আবূ যার (রা) থেকে এ বর্ণনাটি শোনেন নি।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من احتقار الْمُسلم وَأَنه لَا فضل لأحد على أحد إِلَّا بالتقوى
4519- وَعَن أبي ذَر رَضِي الله عَنهُ أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَهُ انْظُر فَإنَّك لست بِخَير من أَحْمَر وَلَا أسود إِلَّا أَن تفضله بتقوى

رَوَاهُ أَحْمد وَرُوَاته ثِقَات مَشْهُورُونَ إِلَّا أَن بكر بن عبد الله الْمُزنِيّ لم يسمع من أبي ذَر
হাদীস নং: ৪৫২০
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ মুসলমানকে তাচ্ছিল্য করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং তাকওয়া ব্যতীত কারো উপর কারো মর্যাদা নেই
৪৫২০. হযরত জাবির ইব্‌ন আবদুল্লাহ্ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের উদ্দেশ্যে আইয়ামে তাশরীকের মাঝামাঝি সময়ে বিদায় হজ্জের ভাষণ দেন। এ সময় তিনি বলেনঃ হে মানব মণ্ডলী! তোমাদের প্রতিপালক এক এবং তোমাদের (সকলের) পিতাও এক। সাবধান! অনারবের উপর আরবের, আরবের উপর অনারবের, কৃষ্ণাঙ্গের উপর শেতাঙ্গের এবং শ্বেতাঙ্গের উপর কৃষ্ণাঙ্গের একমাত্র তাকওয়া ব্যতীত কোন মর্যাদা নেই। আল্লাহর নিকট তোমাদের মধ্যকার অধিক তাকওয়া সম্পন্ন ব্যক্তিই সর্বাধিক সম্মানিত। দেখ, আমি কি দ্বীনের দাওয়াত (যথাযথভাবে) পৌঁছিয়াছি। সাহাবায়ে কিরাম বলেন: হাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তিনি বলেন: উপস্থিত ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে তা পৌঁছিয়ে দেবে। এরপর তিনি تحريم الدماء والاموال والاعراض অনুচ্ছেদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
(বায়হাকী বর্ণিত। তিনি বলেন: তার হাদীসের সনদসুত্রে কোন কোন বর্ণনাকারী অপরিচিত রয়েছে।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من احتقار الْمُسلم وَأَنه لَا فضل لأحد على أحد إِلَّا بالتقوى
4520- وَعَن جَابر بن عبد الله رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ خَطَبنَا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي أَوسط أَيَّام التَّشْرِيق خطْبَة الْوَدَاع فَقَالَ يَا أَيهَا النَّاس إِن ربكُم وَاحِد وَإِن أَبَاكُم وَاحِد
أَلا لَا فضل لعربي على عجمي وَلَا لعجمي على عَرَبِيّ وَلَا لأحمر على أسود وَلَا لأسود على أَحْمَر إِلَّا بالتقوى إِن أكْرمكُم عِنْد الله أَتْقَاكُم
أَلا هَل بلغت قَالُوا بلَى يَا رَسُول الله
قَالَ فليبلغ الشَّاهِد الْغَائِب
ثمَّ ذكر الحَدِيث فِي تَحْرِيم الدِّمَاء وَالْأَمْوَال والأعراض
رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ وَقَالَ فِي إِسْنَاده بعض من يجهل
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৫২১
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ মুসলমানকে তাচ্ছিল্য করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং তাকওয়া ব্যতীত কারো উপর কারো মর্যাদা নেই
৪৫২১. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ একজন আহবানকারীকে (এই বলে) ডাকার নির্দেশ দেবেন যে, সাবধান! আমি বংশ বানিয়েছিলাম এবং তোমরা বংশোদ্ভূত হয়েছ। তোমাদের মধ্যকার অধিক তাকওয়া অবলম্বীকে আমি সম্মানিত করেছি, অথচ তোমরা তা অস্বীকার করে বলেছ। অমুকের পুত্র অমুক, অমুকের পুত্র অমুক থেকে উত্তম। আজ আমি মর্যাদাবানদের মর্যাদা তুলে ধরব এবং তোমাদের বংশীয় শরাফাত ধ্বংস করে দেব। কাজেই, মুত্তাকীগণ কোথায়?
(তাবারানীর আওসাত ও সাগীর গ্রন্থ এবং বায়হাকীর মারফু ও মাওকুফ সনদে বর্ণিত। ইমাম বায়হাকী (র) বলেনঃ এই হাদীসটি মাহফুয ও মাওকুফ। পূর্বে "ইলম অধ্যায়ে" আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, " যার আমল তাকে পিছিয়ে রেখেছে, তার বংশ তাকে এগিয়ে দিতে পারে না।")
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من احتقار الْمُسلم وَأَنه لَا فضل لأحد على أحد إِلَّا بالتقوى
4521- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِذا كَانَ يَوْم الْقِيَامَة أَمر الله مناديا يُنَادي أَلا إِنِّي جعلت نسبا وجعلتم نسبا فَجعلت أكْرمكُم أَتْقَاكُم فأبيتم إِلَّا أَن تَقولُوا فلَان بن فلَان خير من فلَان بن فلَان فاليوم أرفع نسبي وأضع نسبكم أَيْن المتقون

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَالصَّغِير وَالْبَيْهَقِيّ مَرْفُوعا وموقوفا وَقَالَ الْمَحْفُوظ الْمَوْقُوف وَتقدم فِي أول كتاب الْعلم حَدِيث أبي هُرَيْرَة وَفِيه من بطأ بِهِ عمله لم يسْرع بِهِ نسبه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৫২২
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ মুসলমানকে তাচ্ছিল্য করার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং তাকওয়া ব্যতীত কারো উপর কারো মর্যাদা নেই
৪৫২২. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ তোমাদের থেকে জাহিলী যুগের অহংকার এবং পরস্পরিক গোত্রীয় বড়াই দূর করে দিয়েছেন। সকল মানুষই আদম সন্তান, আর আদম। (আ) মাটি থেকে সৃষ্টি। তাদের একদল মুত্তাকী, মু'মিন; অপর দল পাপাচারী, হতভাগ্য। অচিরেই এমন একদল লোক হবে, যারা তাদের পূর্ব পুরুষ নিয়ে অহংকার করবে। পক্ষান্তরে, তারা হবে জাহান্নামের অঙ্গার অথবা অচিরেই তারা আল্লাহর নিকট আবর্জনা দূর করার কাঠ খণ্ড থেকে নিকৃষ্ট হবে।
(আবু দাউদ, তিরমিযী (র) বর্ণিত। তিনি বলেনঃ হাদীসটি হাসান, তবে তার শব্দমালা পেছনে অতিবাহিত হয়েছে। বায়হাকী উত্তম সনদে নিজ শব্দে বর্ণনা করেন। الكبر অনুচ্ছেদে কোন কোন রাবী গরীব হওয়ার বিষয় পেছনে আলোচিত হয়েছে।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من احتقار الْمُسلم وَأَنه لَا فضل لأحد على أحد إِلَّا بالتقوى
4522- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن الله عز وَجل أذهب عَنْكُم عبِّيَّة الْجَاهِلِيَّة وَفَخْرهَا بِالْآبَاءِ النَّاس بَنو آدم وآدَم من تُرَاب مُؤمن تَقِيّ وَفَاجِر شقي
لينتهين أَقوام يفتخرون بِرِجَال إِنَّمَا هم فَحم من فَحم جَهَنَّم أَو لَيَكُونن أَهْون على الله من
الْجعلَان الَّتِي تدفع النتن بأنفها

رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَحسنه وَتقدم لَفظه وَالْبَيْهَقِيّ بِإِسْنَاد حسن أَيْضا وَاللَّفْظ لَهُ وَتقدم معنى غَرِيبه فِي الْكبر
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৫২৩
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ চলার পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো ও এই জাতীয় বিষয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৫২৩. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: ঈমানের ষাট অথবা
সত্তরাধিক শাখা রয়েছে। এর নিম্নতম শাখা হলঃ পথ হতে কষ্টদায়ক জিনিস অপসারিত করা এবং শ্রেষ্টতমটি হচ্ছে এ কথা বলা যে, আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন ইলাহ্ নেই।
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবন মাজা বর্ণিত।
اماط অপসারণ করা, দূরীভূত করা। পাথর, কাটা, হাড়, ময়লা ইত্যাদি বস্তু, যা মানুষকে কষ্ট দেয়, তা চলার পথ থেকে সরানো।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي إمَاطَة الْأَذَى عَن الطَّرِيق وَغير ذَلِك مِمَّا يذكر
4523- عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم الْإِيمَان بضع وَسِتُّونَ أَو سَبْعُونَ شُعْبَة أدناها إمَاطَة الْأَذَى عَن الطَّرِيق وأرفعها قَول لَا إِلَه إِلَّا الله

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه
أماط الشَّيْء عَن الطَّرِيق نحاه وأزاله وَالْمرَاد بالأذى كل مَا يُؤْذِي الْمَار كالحجر والشوكة والعظم والنجاسة وَنَحْو ذَلِك
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৫২৪
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ চলার পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো ও এই জাতীয় বিষয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৫২৪. হযরত আবূ যার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন: আমার উম্মাতের ভাল ও মন্দ সব আমল-আমার নিকট পেশ করা হয়। ফলে, আমি তার ভাল কাজের মধ্যে রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানোও পাই এবং তার মন্দকাজের মধ্যে তার সমতুল্য মসজিদে শ্লেষ্মাও পাই, যা সে মুছে দেয় না।
(মুসলিম ও ইব্‌ন মাজা বর্ণিত।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي إمَاطَة الْأَذَى عَن الطَّرِيق وَغير ذَلِك مِمَّا يذكر
4524- وَعَن أبي ذَر رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عرضت عَليّ أَعمال أمتِي حسنها وسيئها فَوجدت فِي محَاسِن أَعمالهَا الْأَذَى يماط عَن الطَّرِيق وَوجدت فِي مساوىء أَعمالهَا النخامة تكون فِي الْمَسْجِد لَا تدفن

رَوَاهُ مُسلم وَابْن مَاجَه
হাদীস নং: ৪৫২৫
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ চলার পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো ও এই জাতীয় বিষয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৫২৫. হযরত আবূ বারযা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি বললামঃ ইয়া নবী আল্লাহ্! আমি জানি না, আপনার পরেই আমি (দুনিয়া থেকে) বিদায় নেব, না জীবিত থাকব। কাজেই, আপনি আমাকে কিছু আমলের কথা বলুন, যার দ্বারা আল্লাহ্ আমার উপকৃত করবেন। তখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: তুমি একাজ কর, তুমি একাজ কর এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেল।
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي إمَاطَة الْأَذَى عَن الطَّرِيق وَغير ذَلِك مِمَّا يذكر
4525- وَعَن أبي بَرزَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قلت يَا نَبِي الله إِنِّي لَا أَدْرِي نَفسِي تمْضِي أَو أبقى بعْدك فزودني شَيْئا يَنْفَعنِي الله بِهِ فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم افْعَل كَذَا افْعَل كَذَا وَأمر الْأَذَى عَن الطَّرِيق
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৫২৬
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ চলার পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো ও এই জাতীয় বিষয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৫২৬. হযরত আবূ বারযা (রা) অন্য এক সূত্রে বলেন, একদা আমি বললামঃ ইয়া নাবী আল্লাহ্! আমাকে এমন বিষয়ে শিক্ষা দিন, যা দ্বারা আমি উপকৃত হব। তিনি বলেনঃ তুমি মুসলমানদের চলার পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলবে।
(মুসলিম ও ইবন মাজা বর্ণিত।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي إمَاطَة الْأَذَى عَن الطَّرِيق وَغير ذَلِك مِمَّا يذكر
4526- وَفِي رِوَايَة قَالَ أَبُو بَرزَة قلت يَا نَبِي الله عَلمنِي شَيْئا أنتفع بِهِ قَالَ اعزل الْأَذَى عَن طَرِيق الْمُسلمين

رَوَاهُ مُسلم وَابْن مَاجَه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৫২৭
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ চলার পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো ও এই জাতীয় বিষয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৫২৭. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: সূর্য উদিত হয় এমন প্রত্যেক দিন মানুষের প্রত্যেক জোড়ার জন্য রয়েছে দান খয়রাত। দুই ব্যক্তির মধ্যে সুবিচার কায়েম করা, সাদাকা (দান), কাউকে বাহন দিয়ে সহযোগিতা করা, এর পর সে তাতে আরোহন করে অথবা তার উপর মাল বহন করে এ কাজও (এক প্রকার) সাদাকা। উত্তম বাক্য সাদাকা তুল্য, সালাতের দিকে প্রত্যেক পদক্ষেপে রয়েছে দানের সাওয়াব এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়াও সাদাকা।
(বুখারী ও মুসলিম বর্ণিত।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي إمَاطَة الْأَذَى عَن الطَّرِيق وَغير ذَلِك مِمَّا يذكر
4527- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم كل سلامى من النَّاس
عَلَيْهِ صَدَقَة كل يَوْم تطلع فِيهِ الشَّمْس تعدل بَين الِاثْنَيْنِ صَدَقَة ويعين الرجل فِي دَابَّته فيحمله عَلَيْهَا أم يرفع لَهُ عَلَيْهَا مَتَاعه صَدَقَة والكلمة الطّيبَة صَدَقَة وَبِكُل خطْوَة يمشيها إِلَى الصَّلَاة صَدَقَة ويميط الْأَذَى عَن الطَّرِيق صَدَقَة

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم
হাদীস নং: ৪৫২৮
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ চলার পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো ও এই জাতীয় বিষয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৫২৮. হযরত ইব্‌ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: মানুষের প্রত্যেক অঙ্গের জন্য প্রত্যহ রয়েছে সালাত। কাওমের এক ব্যক্তি বলল: আপনি আমাদের যা অবহিত করলেন তা (মেনে চলা) অত্যন্ত কঠিন। তিনি বলেনঃ তোমার সৎকাজের নির্দেশ দান এবং অসৎ কাজ থেকে বারণ হচ্ছে সালাত তুল্য, দুঃখের বোঝা বহন করা সালাত তুল্য, রাস্তার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারিত করা সালাত তুল্য এবং সালাতের দিকে প্রতি পদক্ষেপে রয়েছে সালাত তুল্য সাওয়াব।
(ইবুন খুযায়মার সহীহ্ গ্রন্থে বর্ণিত।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي إمَاطَة الْأَذَى عَن الطَّرِيق وَغير ذَلِك مِمَّا يذكر
4528- وَعَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم على كل ميسم من الْإِنْسَان صَلَاة كل يَوْم فَقَالَ رجل من الْقَوْم هَذَا من أَشد مَا أنبأتنا بِهِ
قَالَ أَمرك بِالْمَعْرُوفِ ونهيك عَن الْمُنكر صَلَاة وحملك على الضَّعِيف صَلَاة وإنحاؤك القذر عَن الطَّرِيق صَلَاة وكل خطْوَة تخطوها إِلَى الصَّلَاة صَلَاة

رَوَاهُ ابْن خُزَيْمَة فِي صَحِيحه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৫২৯
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ চলার পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো ও এই জাতীয় বিষয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৫২৯. হযরত আবূ যার (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: সূর্য উদিত হয় এমন প্রত্যেক দিন আদম সন্তানের দান খয়রাত করা উচিত, জিজ্ঞাসা করা হলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্। আমরা কোথা থেকে দান-খয়রাত করব? তিনি বলুেন: দান খয়রাতের অনেক পথ রয়েছে। তা হলঃ সুবহানাল্লাহ্, আল-হামদুলিল্লাহ্, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বলা এবং সৎকাজের আদেশ দেওয়া, অসৎ থেকে নিষেধ করা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারিত করা, বধিরকে কথা শোনান, অন্ধকে পথ দেখান, পথ অনুসন্ধানকারীর প্রয়োজনে তাকে পথ প্রদর্শন, ফরীয়াদকারীকে বিপদে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করা, দুই হাত দ্বারা দুর্বলের বোঝা বহন করা এসব গুলোই তোমার পক্ষ থেকে সাদাকা তুল্য।
(ইব্‌ন হিব্বানের সহীহ্ গ্রন্থ এবং বায়হাকী সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। অন্য বর্ণনায় বায়হাকী (র) বাড়িয়ে বলেছেন: তোমার ভাইয়ের সামনে হাস্যোজ্জল চেহারায় মুচকি হাসা সাদাকাতুল্য এবং মানুষের চলার পথ থেকে পাথর, কাটা ও হাড় অপসারণ করাও সাদাকা তুল্য এবং পথভোলা মানুষকে পথ প্রদর্শন করা সাদাকা তুল্য।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي إمَاطَة الْأَذَى عَن الطَّرِيق وَغير ذَلِك مِمَّا يذكر
4529- وَعَن أبي ذَر رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ لَيْسَ من نفس ابْن آدم إِلَّا عَلَيْهَا صَدَقَة فِي كل يَوْم طلعت فِيهِ الشَّمْس
قيل يَا رَسُول الله من أَيْن لنا صَدَقَة نتصدق بهَا فَقَالَ إِن أَبْوَاب الْخَيْر لكثيرة التَّسْبِيح والتحميد وَالتَّكْبِير والتهليل وَالْأَمر بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْي عَن الْمُنكر وتميط الْأَذَى عَن الطَّرِيق وَتسمع الْأَصَم وتهدي الْأَعْمَى وتدل الْمُسْتَدلّ على حَاجته وتسعى بِشدَّة ساقيك مَعَ اللهفان المستغيث وَتحمل بِشدَّة ذراعيك مَعَ الضَّعِيف فَهَذَا كُله صَدَقَة مِنْك على نَفسك

رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْبَيْهَقِيّ مُخْتَصرا وَزَاد فِي رِوَايَة وتبسمك فِي وَجه أَخِيك صَدَقَة وإماطتك الْحجر والشوكة والعظم عَن طَرِيق النَّاس صَدَقَة وهديك الرجل فِي أَرض الضَّالة صَدَقَة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৫৩০
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ চলার পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো ও এই জাতীয় বিষয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৫৩০. হযরত বুরায়দা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ মানুষের (শরীরে) তিনশত ঘাটটি জোড়া রয়েছে। কাজেই, তার প্রত্যেক জোড়ার জন্য দান-খয়রাত করা কর্তব্য। সাহাবায়ে কিরাম বলেনঃ ইয়া রাসুলাল্লাহ। কে তা করার সামর্থ্য রাখে? তিনি বলেলন: মসজিদে শ্লেষ্মা দেখে মুছে ফেলা এবং রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা (ইত্যাদিতে দান তুল্য সাওয়াব রয়েছে)। তুমি যদি তার সামর্থ্য না রাখ, তবে তোমার পক্ষ থেকে দুই রাক'আত যুহার সালাত আদায় যথেষ্ট হবে।
(আহমাদ নিজ শব্দযোগে, আবু দাউদ এবং ইব্‌ন খুযায়মা ও ইবন হিব্বানের সহীহ্ গ্রন্থে বর্ণিত।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي إمَاطَة الْأَذَى عَن الطَّرِيق وَغير ذَلِك مِمَّا يذكر
4530- وَعَن بُرَيْدَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول فِي الْإِنْسَان سِتُّونَ وثلاثمائة مفصل فَعَلَيهِ أَن يتَصَدَّق عَن كل مفصل مِنْهَا صَدَقَة
قَالُوا فَمن يُطيق ذَلِك يَا رَسُول الله قَالَ النخامة فِي الْمَسْجِد تدفنها وَالشَّيْء تنحيه عَن الطَّرِيق فَإِن لم تقدر فركعتا الضُّحَى تجزي عَنْك

رَوَاهُ أَحْمد وَاللَّفْظ لَهُ وَأَبُو دَاوُد وَابْن خُزَيْمَة وَابْن حبَان فِي صَحِيحَيْهِمَا
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৫৩১
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ চলার পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো ও এই জাতীয় বিষয়ের প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৫৩১. হযরত মুস্তানীর ইবন আখদার ইবন মু'আবিয়া (রা) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মা'কিল ইব্‌ন ইয়াসারের সাথে কোন রাস্তায় পথ চলছিলাম, আমরা কষ্টদায়ক বস্তুর কাছ দিয়ে পথ চললাম, তিনি তা সরিয়ে ফেলেন অথবা তিনি بأذى فأماطه এর স্থলে نحاء عن الطريق বলেছেন, এরপর আমি অনুরূপ দেখতে পেয়ে তা তুলে নিলাম এবং তা সরিয়ে দিলাম। তখন তিনি আমার হাত ধরেন এবং বলেনঃ হে ভাতিজা! এ কাজে তোমাকে কিসে উৎসাহিত করল? আমি বললামঃ হে চাচাজান! আমি আপনাকে একটা কাজ করতে দেখেছি, কাজেই আমি তাই করলাম। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি মুসলমানের চলার পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরায়, তাকে নেকী লিখে দেওয়া হয়, আর যার নেক কাজ কবুল করা হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
(তাবারানী কাবীর গ্রন্থে, ইমাম বুখারী (র) কিতাবুল মুফরাদে এই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: মুস্তানীর ইব্‌ন আখদার ইব্‌ন মু'আবিয়া ইব্‌ন কুররার থেকে তিনি তাঁর দাদা বর্ণনা করেছেন। হাফিয আবদুল আযীয (র) বলেনঃ ইমাম বুখারী (র) বর্ণিত সনদ সূত্র বিশুদ্ধ।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي إمَاطَة الْأَذَى عَن الطَّرِيق وَغير ذَلِك مِمَّا يذكر
4531- وَعَن المستنير بن أَخْضَر بن مُعَاوِيَة عَن أَبِيه قَالَ كنت مَعَ معقل بن يسَار رَضِي الله عَنهُ فِي بعض الطرقات فمررنا بأذى فأماطه أَو نحاه عَن الطَّرِيق فَرَأَيْت مثله فَأَخَذته
فنحيته فَأخذ بيَدي وَقَالَ يَا ابْن أخي مَا حملك على مَا صنعت قلت يَا عَم رَأَيْتُك صنعت شَيْئا فصنعت مثله فَقَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول من أماط أَذَى من طَرِيق الْمُسلمين كتبت لَهُ حَسَنَة وَمن تقبلت مِنْهُ حَسَنَة دخل الْجنَّة

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْكَبِير هَكَذَا
وَرَوَاهُ البُخَارِيّ فِي كتاب الْأَدَب الْمُفْرد فَقَالَ عَن المستنير بن أَخْضَر بن مُعَاوِيَة بن قُرَّة عَن جده
قَالَ الْحَافِظ وَهُوَ الصَّوَاب
tahqiq

তাহকীক: