আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
الترغيب والترهيب للمنذري
২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৭৫৪ টি
হাদীস নং: ৪৫৫২
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ বিষধর জন্তু হত্যা করা এবং সাপ ও অন্যান্য বিষধর জন্তু হত্যা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৫৫২. আবু দাউদের এক বর্ণনায় আছে, হযরত আবু লুবাবা (রা) বলেছেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি লেজকাটা ও সাদা ডোরা সাপ ব্যতীত ঘরে বসবাসকারী সকল প্রকার সাপ মারতে নিষেধ 'করেছেন। কেননা, ঐ দুই প্রকার সাপ চোখের জ্যোতি হরণ করে এবং মহিলাদের গর্ভপাত ঘটায়।
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي قتل الوزغ وَمَا جَاءَ فِي قتل الْحَيَّات وَغَيرهَا مِمَّا يذكر
4552- وَفِي رِوَايَة لَهُ لأبي دَاوُد وَقَالَ أَبُو لبَابَة سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم نهى عَن قتل الْجنان الَّتِي تكون فِي الْبيُوت إِلَّا الأبتر وَذَا الطفيتين فَإِنَّهُمَا اللَّذَان يخطفان الْبَصَر ويتبعان مَا فِي بطُون النِّسَاء
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৫৩
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ বিষধর জন্তু হত্যা করা এবং সাপ ও অন্যান্য বিষধর জন্তু হত্যা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৫৫৩. আবু সায়িব (র) থেকে বর্ণিত। একদা তিনি আবু সাঈদ খুদরী (রা)-এর ঘরে প্রবেশ করেন এবং তাঁকে সালাতরত পান। তিনি বলেন: সালাত শেষ না করা পর্যন্ত আমি তার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। ইত্যবসরে ঘরের এক কোনে চৌকাঠের একটি শব্দ শুনতে পেলাম এবং একটি সাপ দেখতে পেলাম, আমি তা মেরে ফেলার জন্য উদ্যত হলে তিনি আমাকে বসে যাওয়ার নির্দেশ দেন, সেমতে আমি বসে যাই। সালাত শেষে তিনি বাড়ীর একটি ঘরের দিকে ইশারা করে বলেন: এই ঘরটি কি দেখতে পাচ্ছ? আমি বললামঃ জ্বি- হাঁ। তিনি বলেন: এই ঘরে এক নব বিবাহিত যুবক বাস করত। তিনি বলেন: আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর সঙ্গে খন্দকের যুদ্ধের পরিখা খননের কাজে বের হই। ঐ যুবকটি দিনের মধ্যভাগে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর নিকট বাড়ী ফেরার অনুমতি চাইত এবং সে তার পরিবারের কাছে আসত। তিনি তাকে একদিন অনুমতি দিয়ে বলেন : তুমি অস্ত্র নিয়ে যাও। কেননা, আমি তোমার ব্যাপারে কুরাইযাকে ভয় করি। তখন লোকটি অস্ত্র নিয়ে বাড়ী এসে তার স্ত্রীকে দরজায় দাঁড়ানো দেখতে পায়। তখন সে তাকে অস্ত্র নিয়ে আঘাত করার জন্য উদ্যত হলো; কেননা, তার দরজায় দাঁড়ানো তাকে ক্ষুব্ধ করেছিল। সে সময় তার স্ত্রী তাকে বলল: তুমি অস্ত্র সামলে নাও এবং কিসে আমাকে ঘর থেকে বের করেছে, ঘরে প্রবেশ করে তা দেখে নাও। লোকটি ঘরে প্রবেশ করে তার বিছানার উপর বৃত্তাকার লেজ পেচানো অবস্থায় বড় একটি সাপ দেখতে পেল। তখন সে ঘরে প্রবেশ করে সাপটিকে মেরে ফেলল। এরপর সে বের হয়ে বাড়ীর কোন স্থানে তা পুঁতে রাখল। কিছুক্ষণ পরে তার অস্থিরতা আরম্ভ হল। আর লোকটি এবং সাপ এ দু'টির মধ্যে কার মৃত্যু আগে হলো তা জানা গেল না। বর্ণনাকারী বলেন: এরপর আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে উক্ত ঘটনাটি বর্ণনা করে বললামঃ আল্লাহ্ তাকে জীবিত করুন এই মর্মে আপনি তাকে দু'আ করুন। তিনি (রাসূলুল্লাহ ﷺ ) বলেনঃ তোমরা তোমাদের সাথীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর। এরপর তিনি বলেন: মদীনায় কতিপয় জ্বিন ইসলাম গ্রহণ করেছে। তোমরা তাদের কাউকে দেখলে কমপক্ষে তিনদিন তাদের চলে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করবে। তারপর তাদের দেখলে মেরে ফেলবে। কেননা সেটি শয়তান।
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي قتل الوزغ وَمَا جَاءَ فِي قتل الْحَيَّات وَغَيرهَا مِمَّا يذكر
4553- وَعَن أبي السَّائِب أَنه دخل على أبي سعيد الْخُدْرِيّ رَضِي الله عَنهُ فِي بَيته قَالَ فَوَجَدته يُصَلِّي فَجَلَست أنتظره حَتَّى يقْضِي صلَاته فَسمِعت تحريكا فِي عراجين فِي نَاحيَة الْبَيْت فَالْتَفت فَإِذا حَيَّة فَوَثَبت لأقتلها فَأَشَارَ إِلَيّ أَن اجْلِسْ فَجَلَست فَلَمَّا انْصَرف أَشَارَ إِلَى بَيت فِي الدَّار فَقَالَ أَتَرَى هَذَا الْبَيْت فَقلت نعم قَالَ كَانَ فِيهِ فَتى منا حَدِيث عهد بعرس
قَالَ فخرجنا مَعَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِلَى الخَنْدَق فَكَانَ ذَلِك الْفَتى يسْتَأْذن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بأنصاف النَّهَار فَيرجع إِلَى أَهله فاستأذنه يَوْمًا فَقَالَ خُذ عَلَيْك سِلَاحك فَإِنِّي أخْشَى عَلَيْك قُرَيْظَة فَأخذ الرجل سلاحه ثمَّ رَجَعَ فَإِذا امْرَأَته بَين الْبَابَيْنِ قَائِمَة فَأَهوى إِلَيْهَا بِالرُّمْحِ ليطعنها بِهِ وأصابته غيرَة فَقَالَت لَهُ اكفف عَلَيْك رمحك وادخل
الْبَيْت حَتَّى تنظر مَا الَّذِي أخرجني فَدخل فَإِذا بحية عَظِيمَة منطوية على الْفراش فَأَهوى إِلَيْهَا بِالرُّمْحِ فانتظمها بِهِ ثمَّ خرج فركزه فِي الدَّار فاضطربت عَلَيْهِ فَمَا يدْرِي أَيهمَا كَانَ أسْرع موتا الْحَيَّة أم الْفَتى قَالَ فَجِئْنَا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَذكرنَا ذَلِك لَهُ وَقُلْنَا ادْع الله أَن يحييه لنا فَقَالَ اسْتَغْفرُوا لصاحبكم
ثمَّ قَالَ إِن بِالْمَدِينَةِ جنا قد أَسْلمُوا فَإِذا رَأَيْتُمْ مِنْهُم شَيْئا فآذنوه ثَلَاثَة أَيَّام فَإِن بدا لكم بعد ذَلِك فَاقْتُلُوهُ فَإِنَّمَا هُوَ شَيْطَان
قَالَ فخرجنا مَعَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِلَى الخَنْدَق فَكَانَ ذَلِك الْفَتى يسْتَأْذن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بأنصاف النَّهَار فَيرجع إِلَى أَهله فاستأذنه يَوْمًا فَقَالَ خُذ عَلَيْك سِلَاحك فَإِنِّي أخْشَى عَلَيْك قُرَيْظَة فَأخذ الرجل سلاحه ثمَّ رَجَعَ فَإِذا امْرَأَته بَين الْبَابَيْنِ قَائِمَة فَأَهوى إِلَيْهَا بِالرُّمْحِ ليطعنها بِهِ وأصابته غيرَة فَقَالَت لَهُ اكفف عَلَيْك رمحك وادخل
الْبَيْت حَتَّى تنظر مَا الَّذِي أخرجني فَدخل فَإِذا بحية عَظِيمَة منطوية على الْفراش فَأَهوى إِلَيْهَا بِالرُّمْحِ فانتظمها بِهِ ثمَّ خرج فركزه فِي الدَّار فاضطربت عَلَيْهِ فَمَا يدْرِي أَيهمَا كَانَ أسْرع موتا الْحَيَّة أم الْفَتى قَالَ فَجِئْنَا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وَذكرنَا ذَلِك لَهُ وَقُلْنَا ادْع الله أَن يحييه لنا فَقَالَ اسْتَغْفرُوا لصاحبكم
ثمَّ قَالَ إِن بِالْمَدِينَةِ جنا قد أَسْلمُوا فَإِذا رَأَيْتُمْ مِنْهُم شَيْئا فآذنوه ثَلَاثَة أَيَّام فَإِن بدا لكم بعد ذَلِك فَاقْتُلُوهُ فَإِنَّمَا هُوَ شَيْطَان
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৫৪
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ বিষধর জন্তু হত্যা করা এবং সাপ ও অন্যান্য বিষধর জন্তু হত্যা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৫৫৪. তাঁর অপর বর্ণনায় অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে তিনি তাতে বলেন: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: এই সকল ঘরে কিছু সংখ্যক সাপ বাস করে। তোমরা এদের দেখলে কমপক্ষে তিন দিন পর্যন্ত চলে যেতে চাপ সৃষ্টি করবে। যদি চলে যায় তো ভাল। নতুবা তোমরা তাকে মেরে ফেলবে। কেননা, সেটি কাফির। এরপর তিনি (রাসূলুল্লাহ্ ﷺ) বলেনঃ তোমরা তোমাদের সাথীকে দাফন করে এসো।
(মালিক, মুসলিম ও আবূ দাউদ বর্ণিত।)
(মালিক, মুসলিম ও আবূ দাউদ বর্ণিত।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي قتل الوزغ وَمَا جَاءَ فِي قتل الْحَيَّات وَغَيرهَا مِمَّا يذكر
4554- وَفِي رِوَايَة نَحوه وَقَالَ فِيهِ إِن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِن لهَذِهِ الْبيُوت عوامر فَإِذا رَأَيْتُمْ مِنْهَا شَيْئا فحرجوا عَلَيْهَا ثَلَاثًا فَإِن ذهب وَإِلَّا فَاقْتُلُوهُ فَإِنَّهُ كَافِر وَقَالَ لَهُم اذْهَبُوا فادفنوا صَاحبكُم
رَوَاهُ مَالك وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد
رَوَاهُ مَالك وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৫৫
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ বিষধর জন্তু হত্যা করা এবং সাপ ও অন্যান্য বিষধর জন্তু হত্যা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৫৫৫. হযরত ইবন উমার (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি একবার নবী (ﷺ)-কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতে শোনেন। এ পর্যায়ে তিনি বলেনঃ তোমরা সাপ মেরে ফেলবে, বিশেষত তোমরা সাদা ডোরা ও লেজকাটা সাপ মেরে ফেলবে। কেননা, এই দুই প্রকার সাপ চোখের জ্যোতি নষ্ট করে এবং গর্ভধারী নারীর গর্ভপাত ঘটায়। আবদুল্লাহ্ ইবন উমার (রা) বলেন: একদিন আমি একটি সাপ মেরে ফেলার জন্য তাড়া করি। ইতোমধ্যে আবু লুবাবা (রা) আমাকে ডেকে তা মেরে ফেলতে নিষেধ করেন। তখন আমি বললামঃ রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) সর্বপ্রকার সাপ মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি (হযরত আবু লুবাবা (রা)) বলেনঃ ঐ ঘটনার পর রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) ঘরে বসবাসকারী সাপ মেরে ফেলতে নিষেধ করেছেন।
(বুখারী, মুসলিম, মালিক, আবু দাউদ, তিরমিযী নিজশব্দে অনুরূপ শব্দমালা যোগে বর্ণনা করেন।)
(বুখারী, মুসলিম, মালিক, আবু দাউদ, তিরমিযী নিজশব্দে অনুরূপ শব্দমালা যোগে বর্ণনা করেন।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي قتل الوزغ وَمَا جَاءَ فِي قتل الْحَيَّات وَغَيرهَا مِمَّا يذكر
4555- وَعَن ابْن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا أَنه سمع النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يخْطب على الْمِنْبَر يَقُول اقْتُلُوا الْحَيَّات واقتلوا ذَا الطفيتين والأبتر فَإِنَّهُمَا يطمسان الْبَصَر ويسقطان الْحَبل
قَالَ عبد الله فَبينا أَنا أطارد حَيَّة أقتلها ناداني أَبُو لبَابَة لَا تقتلها قلت إِن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَمر بقتل الْحَيَّات قَالَ إِنَّه نهى بعد ذَلِك عَن ذَوَات الْبيُوت وَهن العوامر
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَرَوَاهُ مَالك وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ بِأَلْفَاظ مُتَقَارِبَة
قَالَ عبد الله فَبينا أَنا أطارد حَيَّة أقتلها ناداني أَبُو لبَابَة لَا تقتلها قلت إِن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَمر بقتل الْحَيَّات قَالَ إِنَّه نهى بعد ذَلِك عَن ذَوَات الْبيُوت وَهن العوامر
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَرَوَاهُ مَالك وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ بِأَلْفَاظ مُتَقَارِبَة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৫৬
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ বিষধর জন্তু হত্যা করা এবং সাপ ও অন্যান্য বিষধর জন্তু হত্যা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৫৫৬. মুসলিম (র)-এর এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে কুকুর মেরে ফেলার নির্দেশ দিতে শুনেছি। তিনি বলেন: তোমরা সর্বপ্রকার সাপ ও কুকুর মেরে ফেলবে, বিশেষত সাদা ডোরা বিশিষ্ট ও লেজকাটা সাপ মেরে ফেলবে। কেননা, এই দুই প্রকার সাপ চোখের জ্যোতি নষ্ট করে এবং গর্ভধারী নারীদের গর্ভপাত ঘটায়।
ইমাম যুহরী (র) বলেনঃ আমার মনে হয় উক্ত দুই প্রকার সাপের বিশেষ নির্দশন রয়েছে। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ।
সালিম (র) বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবন উমার (রা) বলেছেন: এরপর আমরা যে সাপ-ই দেখতাম, তা মেরে ফেলতাম। ইতোমধ্যে আমি ঘরে বসবাস কারী একটি সাপকে তাড়া করলাম। ঐ সময় যায়িদ ইব্ন খাত্তাব এবং আবু লুবাবা (রা) আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। সাপকে তাড়া করতে দেখে তারা উভয়ে আমাকে বলেনঃ হে আবদুল্লাহ্! একাজ থেকে বিরত থাক। তখন আমি বললামঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাপ মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন: তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘবে বসবাসকারী সাপ মেরে ফেলতে নিষেধ করেছেন।
ইমাম যুহরী (র) বলেনঃ আমার মনে হয় উক্ত দুই প্রকার সাপের বিশেষ নির্দশন রয়েছে। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ।
সালিম (র) বলেন, আবদুল্লাহ্ ইবন উমার (রা) বলেছেন: এরপর আমরা যে সাপ-ই দেখতাম, তা মেরে ফেলতাম। ইতোমধ্যে আমি ঘরে বসবাস কারী একটি সাপকে তাড়া করলাম। ঐ সময় যায়িদ ইব্ন খাত্তাব এবং আবু লুবাবা (রা) আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। সাপকে তাড়া করতে দেখে তারা উভয়ে আমাকে বলেনঃ হে আবদুল্লাহ্! একাজ থেকে বিরত থাক। তখন আমি বললামঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) সাপ মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন: তবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘবে বসবাসকারী সাপ মেরে ফেলতে নিষেধ করেছেন।
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي قتل الوزغ وَمَا جَاءَ فِي قتل الْحَيَّات وَغَيرهَا مِمَّا يذكر
4556- وَفِي رِوَايَة لمُسلم قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَأْمر بقتل الْكلاب يَقُول اقْتُلُوا الْحَيَّات وَالْكلاب واقتلوا ذَا الطفيتين والأبتر فَإِنَّهُمَا يلتمسان الْبَصَر ويستسقطان الحبالى
قَالَ الْأَزْهَرِي ونرى ذَلِك من سيمتهما وَالله أعلم
قَالَ سَالم قَالَ عبد الله بن عمر فَلَبثت لَا أترك حَيَّة أَرَاهَا إِلَّا قتلتها فَبَيْنَمَا أَنا أطارد حَيَّة يَوْمًا من ذَوَات الْبيُوت مر بِي زيد بن الْخطاب وَأَبُو لبَابَة وَأَنا أطاردها فَقَالَا مهلا يَا عبد الله فَقلت إِن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَمر بقتلهن قَالَ إِن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم نهى عَن ذَوَات الْبيُوت
قَالَ الْأَزْهَرِي ونرى ذَلِك من سيمتهما وَالله أعلم
قَالَ سَالم قَالَ عبد الله بن عمر فَلَبثت لَا أترك حَيَّة أَرَاهَا إِلَّا قتلتها فَبَيْنَمَا أَنا أطارد حَيَّة يَوْمًا من ذَوَات الْبيُوت مر بِي زيد بن الْخطاب وَأَبُو لبَابَة وَأَنا أطاردها فَقَالَا مهلا يَا عبد الله فَقلت إِن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَمر بقتلهن قَالَ إِن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم نهى عَن ذَوَات الْبيُوت
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৫৭
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ বিষধর জন্তু হত্যা করা এবং সাপ ও অন্যান্য বিষধর জন্তু হত্যা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৫৫৭. আবূ দাউদের অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি বলেন: হযরত আবু লুবাবা (রা) থেকে উক্ত হাদীস শোনার পর ইবন উমার (রা) তাঁর বাড়ীতে একটি সাপ দেখতে পান। তখন তিনি তা বের করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কাজেই তাকে বাকী নামক স্থানের দিকে বের করে দেওয়া হয়। নাফি' (র) বলেন: পুনরায় আমি ঐ সাপটিকে তার ঘরে দেখতে পেয়েছি।
الطفيتان সাপের পিঠের দু'টো কালো ডোরা দাগ। আবূ উমা নামেরী (র) বলেন, لفيتين পিঠে সাদা সাদা দু'টি রেখা বিশিষ্ট সাপ।
والابتر গোখরা সাপ। কারো কারো মতে, লেজকাটা এক জাতীয় সাপ। কারো কারো মতে নীল বর্ণের লেজকাটা সাপ, গর্ভবতী নারী যার দিকে দৃষ্টি করলে গর্ভপাত হয়ে যায়। নাযর ইব্ন সুমায়ল (রা) অনুরূপ বলেছেন।
يلتمسان البصر এমন দুই প্রকার সাপ, আল্লাহ্ তাদের মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন যে, তারা কারো দিকে তাকালে চোখের জ্যোতি নষ্ট হয়ে যায়।
হাফেয মুনযিরী (র) বলেনঃ একদল মুহাদ্দিস মাঠে, বাড়ী ঘরে, শহরে, জঙ্গলে যত প্রকার সাপ আছে, যাবতীয় সাপ মেরে ফেলার ব্যাপারে অতিমত দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তাঁর প্রকার, বংশ বা স্থানের কোন পার্থক্য করেননি। মুহাদ্দিসগণ পেছনে বর্ণিত হযরত ইবন মাসউদ, আবু হুরায়রা, ইব্ন আব্বাস (রা) প্রমুখ সাহাবাদের বর্ণিত হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করেন। অপর একদল মুহাদ্দিসের অভিমত এরূপ, তারা বলেনঃ শহরে অথবা গ্রামে বসবাসকারী সাপ ব্যতীত, অন্যান্য যাবতীয় সাপ মেরে ফেলার অভিমত দিয়েছেন। তারা আবু লুবাবা, হযরত যায়িদ ইবন খাত্তাব (রা) প্রমুখ সাহাবাদের হাদীস দলীল হিসেবে গ্রহণ করেন। অপর একদল মুহাদ্দিসের অভিমত এরূপঃ শহর অথবা গ্রামের বাড়ীতে বসবাসকারী সাপ বেরিয়ে যাওয়ার শপথ দেওয়ার পর দেখা গেলে মেরে ফেলার কথা বলেছেন। এতদ্ব্যতীত ঘরের বাইরে যত সাপ রয়েছে তা মেরে ফেলার সাধারণ অনুমতি দিয়েছেন। ইমাম মালিক (র) এর মতে, মসজিদে সাপ পাওয়া গেলে মেরে ফেলতে হবে। উল্লেখিত মুহাদ্দিসগণ নবী (ﷺ)-এর এই নিম্নোক্ত হাদীস খানা দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন।
"এই সকল ঘরে কিছু সংখ্যক সাপ বসবাস করে। তোমরা ওদের দেখতে পেলে তিনদিন পর্যন্ত তাদের বেরিয়ে যাওয়ার জন্য' চাপ সৃষ্টি করবে। এরপর যদি চলে যায় ভাল কথা, অন্যথায় মেরে ফেলবে। চাপ প্রয়োগের ব্যাপারে একদল মুহাদ্দিসের মতে হযরত আবু লুবাবা (রা)-এর হাদীস, যা পেছনে বর্ণিত হয়েছে, তার উপর আমল করা যেতে পারে। ইমাম মালিক (র) বলেনঃ "আমি তোমাকে আল্লাহ্ ও কিয়ামতের দোহাই দিয়ে বলছি, তুমি আমাদের সামনে প্রকাশ পেয়ো না এবং আমাদের কষ্ট দিও না," এটুকু বলাই যথেষ্ট। অন্যান্যগণ বলেছেন: "তুমি আমাদের কাছে এসে বিপদে পড়বে, আমরা তোমাকে তাড়া করতে বাধ্য হলে তুমি আমাদেরকে তিরষ্কার করতে পারবে না।" একদল মুহাদ্দিসের মতে, শুধুমাত্র মদীনায় বসবাসকারী সাপের প্রতি চাপ প্রয়োগের প্রতি অভিমত দিয়েছেন। তারা পেছনে বর্ণিত হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) -এর হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করেন। হাদীসটি এরূপঃ "ইদানীং মদীনার একদল জ্বিন ইসলাম গ্রহণ করেছে। শহর ও ঘর ব্যতীত পৃথিবীর যে কোন অংশের সাপ ভীতি প্রদর্শনের পূর্বেই মারা যেতে পারে। তা জ্বিন সাপ কিনা তা বিচার করা মুসলমানদের প্রয়োজন নেই"।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঁচ প্রকার দুষ্ট প্রাণী হারাম শরীফের ভেতর সর্বত্র মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। ঐ পাঁচটির মধ্যে একটি হলো সাপ। অন্য একদল মুহাদ্দিসের অভিমত হচ্ছে এরূপ যে, লেজকাটা ও সাদা ডোরা বিশিষ্ট সাপ চাপ প্রয়োগ ব্যতীত মদীনায় হোক কি অন্যত্র, মেরে ফেলা হবে। উপরোক্ত মুহাদ্দিসগণ আবূ লুবাবা (রা) কর্তৃক বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদীস দলীল রূপে পেশ করেন: "তিনি (রাসূলুল্লাহ্ ﷺ) ঘরে বসবাসকারী ছোট সাপ মেরে ফেলতে নিষেধ করেছে। তবে কেবলমাত্র লেজকাটা ও সাদা ডোরা বিশিষ্ট'সাপ ব্যতীত।" উপরোক্ত প্রত্যেক দলেরই অভিমত সমূহ সূদৃঢ় ও স্পষ্ট দলীল দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ।
الطفيتان সাপের পিঠের দু'টো কালো ডোরা দাগ। আবূ উমা নামেরী (র) বলেন, لفيتين পিঠে সাদা সাদা দু'টি রেখা বিশিষ্ট সাপ।
والابتر গোখরা সাপ। কারো কারো মতে, লেজকাটা এক জাতীয় সাপ। কারো কারো মতে নীল বর্ণের লেজকাটা সাপ, গর্ভবতী নারী যার দিকে দৃষ্টি করলে গর্ভপাত হয়ে যায়। নাযর ইব্ন সুমায়ল (রা) অনুরূপ বলেছেন।
يلتمسان البصر এমন দুই প্রকার সাপ, আল্লাহ্ তাদের মধ্যে এমন বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন যে, তারা কারো দিকে তাকালে চোখের জ্যোতি নষ্ট হয়ে যায়।
হাফেয মুনযিরী (র) বলেনঃ একদল মুহাদ্দিস মাঠে, বাড়ী ঘরে, শহরে, জঙ্গলে যত প্রকার সাপ আছে, যাবতীয় সাপ মেরে ফেলার ব্যাপারে অতিমত দিয়েছেন। এ ব্যাপারে তাঁর প্রকার, বংশ বা স্থানের কোন পার্থক্য করেননি। মুহাদ্দিসগণ পেছনে বর্ণিত হযরত ইবন মাসউদ, আবু হুরায়রা, ইব্ন আব্বাস (রা) প্রমুখ সাহাবাদের বর্ণিত হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করেন। অপর একদল মুহাদ্দিসের অভিমত এরূপ, তারা বলেনঃ শহরে অথবা গ্রামে বসবাসকারী সাপ ব্যতীত, অন্যান্য যাবতীয় সাপ মেরে ফেলার অভিমত দিয়েছেন। তারা আবু লুবাবা, হযরত যায়িদ ইবন খাত্তাব (রা) প্রমুখ সাহাবাদের হাদীস দলীল হিসেবে গ্রহণ করেন। অপর একদল মুহাদ্দিসের অভিমত এরূপঃ শহর অথবা গ্রামের বাড়ীতে বসবাসকারী সাপ বেরিয়ে যাওয়ার শপথ দেওয়ার পর দেখা গেলে মেরে ফেলার কথা বলেছেন। এতদ্ব্যতীত ঘরের বাইরে যত সাপ রয়েছে তা মেরে ফেলার সাধারণ অনুমতি দিয়েছেন। ইমাম মালিক (র) এর মতে, মসজিদে সাপ পাওয়া গেলে মেরে ফেলতে হবে। উল্লেখিত মুহাদ্দিসগণ নবী (ﷺ)-এর এই নিম্নোক্ত হাদীস খানা দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন।
"এই সকল ঘরে কিছু সংখ্যক সাপ বসবাস করে। তোমরা ওদের দেখতে পেলে তিনদিন পর্যন্ত তাদের বেরিয়ে যাওয়ার জন্য' চাপ সৃষ্টি করবে। এরপর যদি চলে যায় ভাল কথা, অন্যথায় মেরে ফেলবে। চাপ প্রয়োগের ব্যাপারে একদল মুহাদ্দিসের মতে হযরত আবু লুবাবা (রা)-এর হাদীস, যা পেছনে বর্ণিত হয়েছে, তার উপর আমল করা যেতে পারে। ইমাম মালিক (র) বলেনঃ "আমি তোমাকে আল্লাহ্ ও কিয়ামতের দোহাই দিয়ে বলছি, তুমি আমাদের সামনে প্রকাশ পেয়ো না এবং আমাদের কষ্ট দিও না," এটুকু বলাই যথেষ্ট। অন্যান্যগণ বলেছেন: "তুমি আমাদের কাছে এসে বিপদে পড়বে, আমরা তোমাকে তাড়া করতে বাধ্য হলে তুমি আমাদেরকে তিরষ্কার করতে পারবে না।" একদল মুহাদ্দিসের মতে, শুধুমাত্র মদীনায় বসবাসকারী সাপের প্রতি চাপ প্রয়োগের প্রতি অভিমত দিয়েছেন। তারা পেছনে বর্ণিত হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) -এর হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করেন। হাদীসটি এরূপঃ "ইদানীং মদীনার একদল জ্বিন ইসলাম গ্রহণ করেছে। শহর ও ঘর ব্যতীত পৃথিবীর যে কোন অংশের সাপ ভীতি প্রদর্শনের পূর্বেই মারা যেতে পারে। তা জ্বিন সাপ কিনা তা বিচার করা মুসলমানদের প্রয়োজন নেই"।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) পাঁচ প্রকার দুষ্ট প্রাণী হারাম শরীফের ভেতর সর্বত্র মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। ঐ পাঁচটির মধ্যে একটি হলো সাপ। অন্য একদল মুহাদ্দিসের অভিমত হচ্ছে এরূপ যে, লেজকাটা ও সাদা ডোরা বিশিষ্ট সাপ চাপ প্রয়োগ ব্যতীত মদীনায় হোক কি অন্যত্র, মেরে ফেলা হবে। উপরোক্ত মুহাদ্দিসগণ আবূ লুবাবা (রা) কর্তৃক বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদীস দলীল রূপে পেশ করেন: "তিনি (রাসূলুল্লাহ্ ﷺ) ঘরে বসবাসকারী ছোট সাপ মেরে ফেলতে নিষেধ করেছে। তবে কেবলমাত্র লেজকাটা ও সাদা ডোরা বিশিষ্ট'সাপ ব্যতীত।" উপরোক্ত প্রত্যেক দলেরই অভিমত সমূহ সূদৃঢ় ও স্পষ্ট দলীল দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ।
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي قتل الوزغ وَمَا جَاءَ فِي قتل الْحَيَّات وَغَيرهَا مِمَّا يذكر
4557- وَفِي رِوَايَة لأبي دَاوُد قَالَ إِن ابْن عمر وجد بعد مَا حَدثهُ أَبُو لبَابَة حَيَّة فِي دَاره فَأمر بهَا فأخرجت إِلَى البقيع
قَالَ نَافِع ثمَّ رَأَيْتهَا بعد فِي بَيته
الطفيتان بِضَم الطَّاء الْمُهْملَة وَإِسْكَان الْفَاء هما الخطان الأسودان فِي ظهر الْحَيَّة وأصل الطفية خوصَة الْمقل شبه الخطين على ظهر الْحَيَّة بخوصتي الْمقل وَقَالَ أَبُو عمر النمري يُقَال إِن الطفيتين جنس يكون على ظَهره خطان أبيضان
والأبتر هُوَ الأفعى وَقيل جنس أَبتر كَأَنَّهُ مَقْطُوع الذَّنب وَقيل هُوَ صنف من الْحَيَّات أَزْرَق مَقْطُوع الذَّنب إِذا نظرت إِلَيْهِ الْحَامِل أَلْقَت
قَالَه النَّضر بن شُمَيْل
وَقَوله يلتمسان الْبَصَر مَعْنَاهُ يطمسانه بِمُجَرَّد نظرهما إِلَيْهِ بخاصية جعلهَا الله فيهمَا
قَالَ الْحَافِظ قد ذهب طَائِفَة من أهل الْعلم إِلَى قتل الْحَيَّات أجمع فِي الصحارى والبيوت بِالْمَدِينَةِ وَغير الْمَدِينَة وَلم يستثنوا فِي ذَلِك نوعا وَلَا جِنْسا وَلَا موضعا وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِك بِأَحَادِيث جَاءَت عَامَّة كَحَدِيث ابْن مَسْعُود الْمُتَقَدّم وَأبي هُرَيْرَة وَابْن عَبَّاس وَقَالَت طَائِفَة تقتل الْحَيَّات أجمع إِلَّا سواكن الْبيُوت بِالْمَدِينَةِ وَغَيرهَا فَإِنَّهُنَّ لَا يقتلن لما جَاءَ فِي حَدِيث أبي لبَابَة وَزيد بن الْخطاب من النَّهْي عَن قتلهن بعد الْأَمر بقتل جَمِيع الْحَيَّات وَقَالَت طَائِفَة تنذر سواكن الْبيُوت فِي الْمَدِينَة وَغَيرهَا فَإِن بدين بعد الْإِنْذَار قتلن وَمَا وجد مِنْهُنَّ فِي غير الْبيُوت يقتل من غير إنذار وَقَالَ مَالك يقتل مَا وجد مِنْهَا فِي الْمَسَاجِد وَاسْتدلَّ هَؤُلَاءِ بقوله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن لهَذِهِ الْبيُوت عوامر فَإِذا رَأَيْتُمْ مِنْهَا شَيْئا فحرجوا عَلَيْهَا ثَلَاثًا فَإِن ذهب وَإِلَّا فَاقْتُلُوهُ
وَاخْتَارَ بَعضهم أَن يَقُول لَهَا مَا ورد فِي حَدِيث أبي ليلى الْمُتَقَدّم وَقَالَ مَالك يَكْفِيهِ أَن يَقُول أحرج عَلَيْك بِاللَّه وَالْيَوْم الآخر أَن لَا تبدو لنا وَلَا تؤذينا وَقَالَ غَيره يَقُول لَهَا أَنْت فِي حرج إِن عدت إِلَيْنَا فَلَا تلومينا أَن نضيق عَلَيْك بالطرد والتتبع وَقَالَت طَائِفَة لَا تنذر إِلَّا حيات الْمَدِينَة فَقَط لما جَاءَ فِي حَدِيث أبي سعيد الْمُتَقَدّم من إِسْلَام طَائِفَة من الْجِنّ بِالْمَدِينَةِ وَأما حيات غير الْمَدِينَة فِي جَمِيع الأَرْض والبيوت فَتقْتل من غير إنذار لأَنا لَا نتحقق وجود مُسلمين من الْجِنّ ثمَّ وَلقَوْله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم خمس من الفواسق تقتل فِي الْحل وَالْحرم وَذكر مِنْهُنَّ الْحَيَّة
وَقَالَت طَائِفَة يقتل الأبتر وَذُو الطفيتين من غير إنذار سَوَاء كن بِالْمَدِينَةِ وَغَيرهَا لحَدِيث أبي لبَابَة سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم نهى عَن قتل الْجنان الَّتِي تكون فِي الْبيُوت إِلَّا الأبتر وَذَا الطفيتين
وَلكُل من هَذِه الْأَقْوَال وَجه قوي وَدَلِيل ظَاهر وَالله أعلم
قَالَ نَافِع ثمَّ رَأَيْتهَا بعد فِي بَيته
الطفيتان بِضَم الطَّاء الْمُهْملَة وَإِسْكَان الْفَاء هما الخطان الأسودان فِي ظهر الْحَيَّة وأصل الطفية خوصَة الْمقل شبه الخطين على ظهر الْحَيَّة بخوصتي الْمقل وَقَالَ أَبُو عمر النمري يُقَال إِن الطفيتين جنس يكون على ظَهره خطان أبيضان
والأبتر هُوَ الأفعى وَقيل جنس أَبتر كَأَنَّهُ مَقْطُوع الذَّنب وَقيل هُوَ صنف من الْحَيَّات أَزْرَق مَقْطُوع الذَّنب إِذا نظرت إِلَيْهِ الْحَامِل أَلْقَت
قَالَه النَّضر بن شُمَيْل
وَقَوله يلتمسان الْبَصَر مَعْنَاهُ يطمسانه بِمُجَرَّد نظرهما إِلَيْهِ بخاصية جعلهَا الله فيهمَا
قَالَ الْحَافِظ قد ذهب طَائِفَة من أهل الْعلم إِلَى قتل الْحَيَّات أجمع فِي الصحارى والبيوت بِالْمَدِينَةِ وَغير الْمَدِينَة وَلم يستثنوا فِي ذَلِك نوعا وَلَا جِنْسا وَلَا موضعا وَاحْتَجُّوا فِي ذَلِك بِأَحَادِيث جَاءَت عَامَّة كَحَدِيث ابْن مَسْعُود الْمُتَقَدّم وَأبي هُرَيْرَة وَابْن عَبَّاس وَقَالَت طَائِفَة تقتل الْحَيَّات أجمع إِلَّا سواكن الْبيُوت بِالْمَدِينَةِ وَغَيرهَا فَإِنَّهُنَّ لَا يقتلن لما جَاءَ فِي حَدِيث أبي لبَابَة وَزيد بن الْخطاب من النَّهْي عَن قتلهن بعد الْأَمر بقتل جَمِيع الْحَيَّات وَقَالَت طَائِفَة تنذر سواكن الْبيُوت فِي الْمَدِينَة وَغَيرهَا فَإِن بدين بعد الْإِنْذَار قتلن وَمَا وجد مِنْهُنَّ فِي غير الْبيُوت يقتل من غير إنذار وَقَالَ مَالك يقتل مَا وجد مِنْهَا فِي الْمَسَاجِد وَاسْتدلَّ هَؤُلَاءِ بقوله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِن لهَذِهِ الْبيُوت عوامر فَإِذا رَأَيْتُمْ مِنْهَا شَيْئا فحرجوا عَلَيْهَا ثَلَاثًا فَإِن ذهب وَإِلَّا فَاقْتُلُوهُ
وَاخْتَارَ بَعضهم أَن يَقُول لَهَا مَا ورد فِي حَدِيث أبي ليلى الْمُتَقَدّم وَقَالَ مَالك يَكْفِيهِ أَن يَقُول أحرج عَلَيْك بِاللَّه وَالْيَوْم الآخر أَن لَا تبدو لنا وَلَا تؤذينا وَقَالَ غَيره يَقُول لَهَا أَنْت فِي حرج إِن عدت إِلَيْنَا فَلَا تلومينا أَن نضيق عَلَيْك بالطرد والتتبع وَقَالَت طَائِفَة لَا تنذر إِلَّا حيات الْمَدِينَة فَقَط لما جَاءَ فِي حَدِيث أبي سعيد الْمُتَقَدّم من إِسْلَام طَائِفَة من الْجِنّ بِالْمَدِينَةِ وَأما حيات غير الْمَدِينَة فِي جَمِيع الأَرْض والبيوت فَتقْتل من غير إنذار لأَنا لَا نتحقق وجود مُسلمين من الْجِنّ ثمَّ وَلقَوْله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم خمس من الفواسق تقتل فِي الْحل وَالْحرم وَذكر مِنْهُنَّ الْحَيَّة
وَقَالَت طَائِفَة يقتل الأبتر وَذُو الطفيتين من غير إنذار سَوَاء كن بِالْمَدِينَةِ وَغَيرهَا لحَدِيث أبي لبَابَة سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم نهى عَن قتل الْجنان الَّتِي تكون فِي الْبيُوت إِلَّا الأبتر وَذَا الطفيتين
وَلكُل من هَذِه الْأَقْوَال وَجه قوي وَدَلِيل ظَاهر وَالله أعلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৫৮
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ বিষধর জন্তু হত্যা করা এবং সাপ ও অন্যান্য বিষধর জন্তু হত্যা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৫৫৮. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) সূত্রে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত। পূর্ববর্তী উম্মাতের একজন নবীকে পিপীলিকা দংশন করেছিল। তখন তিনি পিপীলিকার দলকে জ্বালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। ফলে তাই করা হয়। তখন আল্লাহ্ তাঁর কাছে এই মর্মে ওহী প্রেরণ করেন যে, তোমাকে একটি মাত্র পিপীলিকা দংশন করেছিল, আর তুমি তাসবীহ পাঠকারী এক বিশাল উম্মাত জ্বালিয়ে মেরে ফেললে। তাঁর অন্য বর্ণনায় আছে, তুমি একটি পিপীলিকা মেরে ফেললে না কেন?
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবন মাজা বর্ণিত।)
(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবন মাজা বর্ণিত।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي قتل الوزغ وَمَا جَاءَ فِي قتل الْحَيَّات وَغَيرهَا مِمَّا يذكر
4558- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَن نملة قرصت نَبيا من الْأَنْبِيَاء فَأمر بقرية النَّمْل فأحرقت فَأوحى الله إِلَيْهِ فِي أَن قرصتك نملة فأحرقت أمة من الْأُمَم تسبح
زَاد فِي رِوَايَة فَهَلا نملة وَاحِدَة
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه
زَاد فِي رِوَايَة فَهَلا نملة وَاحِدَة
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ وَابْن مَاجَه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৫৯
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ বিষধর জন্তু হত্যা করা এবং সাপ ও অন্যান্য বিষধর জন্তু হত্যা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৫৫৯. মুসলিম ও আবু দাউদের অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি (নবী ﷺ) বলেন: পূর্ববর্তী উম্মাতের একজন নবী একদা একটি গাছের নিচে বসেন। তখন একটি পিপীলিকা তাঁকে দংশন করে। তিনি পিপীলিকার খাদ্য একত্র করার নির্দেশ দেন। এতে অসংখ্য পিপীলিকা গর্ত থেকে বেরিয়ে আসে। এরপর তিনি তাদের জ্বালিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং তা করা হয়। তখন আল্লাহ্ তাঁর কাছে এই মর্মে ওহী প্রেরণ করেন যে, তুমি কেন একটি পিপীলিকা না মেরে, পিপীলিকার দলকে জ্বালিয়ে মেরে ফেললে।
[হাফিয মুনযিরী (র) বলেন): বিভিন্ন বর্ণনা মতে উক্ত নবী (ﷺ) হলেন হযরত উযায়র (আ)। আল্লাহর বাণী: .فَهَلَّا نَمْلَةٌ وَاحِدَةٌ বাক্য দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, তাঁদের শরী'আতে জ্বালিয়ে মারার বিধান ছিল। অন্য এক বর্ণনায় আছে: একবার আল্লাহ্ তা'আলা একটি গ্রাম অথবা একটি শহর ধ্বংস করে দেন। তখন তিনি (উযায়র আ) আল্লাহর নিকট আবেদন করেন। হে আমার রব! এই গ্রামে ছোট ছেলে-মেয়ে ও বিভিন্ন প্রাণী ছিল, যাদের কোন গুনাহ ছিল না; কী অপরাধে তাদের ধ্বংস করা হল। এরপর তিনি একটি গাছের নিচে বিশ্রাম করেন। তখন উপরে উল্লিখিত ঘটনাটি সংঘটিত করে আল্লাহ্ তাঁর প্রশ্নের জবাব এভাবে দেন যে, আল্লাহ্ তাঁর সৃষ্টি জগতে তাঁর বিধান ও কৌশল এভাবে প্রয়োগ করেন। এরপর তিনি বলেন: তোমাকে মাত্র একটি পিপীলিকা দংশন করলো, অথচ তুমি কী অপরাধে পিপীলিকার দল জ্বালিয়ে মেরে ফেললে? উল্লিখিত হাদীস দ্বারা এও স্পষ্ট হয়ে যায় যে, কোন শহরে পাপের কারণে খোদায়ী শাস্তি এলে সাধারণভাবে সবার উপর তার ক্রিয়া কার্যকর হয়ে পড়ে।
[হাফিয মুনযিরী (র) বলেন): বিভিন্ন বর্ণনা মতে উক্ত নবী (ﷺ) হলেন হযরত উযায়র (আ)। আল্লাহর বাণী: .فَهَلَّا نَمْلَةٌ وَاحِدَةٌ বাক্য দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, তাঁদের শরী'আতে জ্বালিয়ে মারার বিধান ছিল। অন্য এক বর্ণনায় আছে: একবার আল্লাহ্ তা'আলা একটি গ্রাম অথবা একটি শহর ধ্বংস করে দেন। তখন তিনি (উযায়র আ) আল্লাহর নিকট আবেদন করেন। হে আমার রব! এই গ্রামে ছোট ছেলে-মেয়ে ও বিভিন্ন প্রাণী ছিল, যাদের কোন গুনাহ ছিল না; কী অপরাধে তাদের ধ্বংস করা হল। এরপর তিনি একটি গাছের নিচে বিশ্রাম করেন। তখন উপরে উল্লিখিত ঘটনাটি সংঘটিত করে আল্লাহ্ তাঁর প্রশ্নের জবাব এভাবে দেন যে, আল্লাহ্ তাঁর সৃষ্টি জগতে তাঁর বিধান ও কৌশল এভাবে প্রয়োগ করেন। এরপর তিনি বলেন: তোমাকে মাত্র একটি পিপীলিকা দংশন করলো, অথচ তুমি কী অপরাধে পিপীলিকার দল জ্বালিয়ে মেরে ফেললে? উল্লিখিত হাদীস দ্বারা এও স্পষ্ট হয়ে যায় যে, কোন শহরে পাপের কারণে খোদায়ী শাস্তি এলে সাধারণভাবে সবার উপর তার ক্রিয়া কার্যকর হয়ে পড়ে।
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي قتل الوزغ وَمَا جَاءَ فِي قتل الْحَيَّات وَغَيرهَا مِمَّا يذكر
4559- وَفِي رِوَايَة لمُسلم وَأبي دَاوُد قَالَ نزل نَبِي من الْأَنْبِيَاء تَحت شَجَرَة فلدغته نملة فَأمر بجهازه فَأخْرج من تحتهَا ثمَّ أَمر فأحرقت فَأوحى الله إِلَيْهِ هلا نملة وَاحِدَة
قَالَ الْحَافِظ قد جَاءَ من غير مَا وَجه أَن هَذَا النَّبِي هُوَ عُزَيْر عَلَيْهِ السَّلَام وَفِي قَوْله فَهَلا نملة وَاحِدَة دَلِيل على أَن التحريق كَانَ جَائِزا فِي شريعتهم وَقد جَاءَ فِي خبر أَنه بقرية أَو بِمَدِينَة أهلكها الله تَعَالَى فَقَالَ يَا رب كَانَ فيهم صبيان ودواب وَمن لم يقترف ذَنبا ثمَّ إِنَّه نزل تَحت شَجَرَة فجرت بِهِ هَذِه الْقِصَّة الَّتِي قدرهَا الله على يَدَيْهِ تَنْبِيها لَهُ على اعتراضه على بديع قدرَة الله وقضائه فِي خلقه فَقَالَ إِنَّمَا قرصتك نملة وَاحِدَة فَهَلا قتلت وَاحِدَة وَفِي الحَدِيث تَنْبِيه على أَن الْمُنكر إِذا وَقع فِي بلد لَا يُؤمن الْعقَاب الْعَام
قَالَ الْحَافِظ قد جَاءَ من غير مَا وَجه أَن هَذَا النَّبِي هُوَ عُزَيْر عَلَيْهِ السَّلَام وَفِي قَوْله فَهَلا نملة وَاحِدَة دَلِيل على أَن التحريق كَانَ جَائِزا فِي شريعتهم وَقد جَاءَ فِي خبر أَنه بقرية أَو بِمَدِينَة أهلكها الله تَعَالَى فَقَالَ يَا رب كَانَ فيهم صبيان ودواب وَمن لم يقترف ذَنبا ثمَّ إِنَّه نزل تَحت شَجَرَة فجرت بِهِ هَذِه الْقِصَّة الَّتِي قدرهَا الله على يَدَيْهِ تَنْبِيها لَهُ على اعتراضه على بديع قدرَة الله وقضائه فِي خلقه فَقَالَ إِنَّمَا قرصتك نملة وَاحِدَة فَهَلا قتلت وَاحِدَة وَفِي الحَدِيث تَنْبِيه على أَن الْمُنكر إِذا وَقع فِي بلد لَا يُؤمن الْعقَاب الْعَام
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৬০
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ বিষধর জন্তু হত্যা করা এবং সাপ ও অন্যান্য বিষধর জন্তু হত্যা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৫৬০. হযরত ইব্ন আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) চার প্রকার প্রাণী কে মেরে ফেলতে নিষেধ করেছেন। তা হলঃ ১. পিপীলিকা, ২. মধুমক্ষিকা, ৩. হুদহুদ এবং ৪. টিয়াপাখি।
(আবূ দাউদ ইবন মাজা ইবন হিব্বানের সহীহ্ গ্রন্থে উক্ত হাদ্দীসটি বর্ণনা করেন।
الصرد বড় মাথা, লম্বা ঠোঁট, অর্ধ সাদা অর্ধ কালো লম্বা পালক বিশিষ্ট পাখি।
ইমাম খাত্তাবী (র) বলেন: উল্লিখিত হাদীসে লম্বা পা বিশিষ্ট বড় বড় পিপীলিকা মেরে ফেলার নিষেধাজ্ঞা ঘোষিত হয়েছে। কেননা, এ জাতীয় পিপীলিকা কষ্ট দেয় না।
النحلة মধু মক্ষিকা মেরে না ফেলার নির্দেশ এজন্য দেওয়া হয়েছে যে, তা মানুষের উপকারে আসে।
হুদহুদ ও টিয়া মেরে ফেলা নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ এই যে, উভয়টির গোশত হারাম। শরী'আতের বিধান মতে, যে সব প্রাণীর গোশত খাওয়া হারাম অথচ তাদের দ্বারা ক্ষতির আশংকা নেই, এই সব গ্রাণী হত্যা করা শরী'আতে নিষিদ্ধ।)
(আবূ দাউদ ইবন মাজা ইবন হিব্বানের সহীহ্ গ্রন্থে উক্ত হাদ্দীসটি বর্ণনা করেন।
الصرد বড় মাথা, লম্বা ঠোঁট, অর্ধ সাদা অর্ধ কালো লম্বা পালক বিশিষ্ট পাখি।
ইমাম খাত্তাবী (র) বলেন: উল্লিখিত হাদীসে লম্বা পা বিশিষ্ট বড় বড় পিপীলিকা মেরে ফেলার নিষেধাজ্ঞা ঘোষিত হয়েছে। কেননা, এ জাতীয় পিপীলিকা কষ্ট দেয় না।
النحلة মধু মক্ষিকা মেরে না ফেলার নির্দেশ এজন্য দেওয়া হয়েছে যে, তা মানুষের উপকারে আসে।
হুদহুদ ও টিয়া মেরে ফেলা নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ এই যে, উভয়টির গোশত হারাম। শরী'আতের বিধান মতে, যে সব প্রাণীর গোশত খাওয়া হারাম অথচ তাদের দ্বারা ক্ষতির আশংকা নেই, এই সব গ্রাণী হত্যা করা শরী'আতে নিষিদ্ধ।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي قتل الوزغ وَمَا جَاءَ فِي قتل الْحَيَّات وَغَيرهَا مِمَّا يذكر
4560- وَعَن ابْن عَبَّاس رَضِي الله عَنْهُمَا أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم نهى عَن قتل أَربع من الدَّوَابّ النملة والنحلة والهدهد والصرد
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه
الصرد بِضَم الصَّاد الْمُهْملَة وَفتح الرَّاء طَائِر مَعْرُوف ضخم الرَّأْس والمنقار لَهُ ريش عَظِيم نصفه أَبيض وَنصفه أسود
قَالَ الْخطابِيّ أما نَهْيه عَن قتل النَّمْل فَإِنَّمَا أَرَادَ نوعا مِنْهُ خَاصّا وَهُوَ الْكِبَار ذَوَات الأرجل الطوَال لِأَنَّهَا قَليلَة الْأَذَى وَالضَّرَر وَأما النحلة فَلَمَّا فِيهَا من الْمَنْفَعَة وَأما الهدهد
والصرد فَإِنَّمَا نهى عَن قَتلهمَا لتَحْرِيم لحمهما وَذَلِكَ أَن الْحَيَوَان إِذا نهي عَن قَتله وَلم يكن لحُرْمَة وَلَا لضَرَر فِيهِ كَانَ ذَلِك لتَحْرِيم لَحْمه
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه وَابْن حبَان فِي صَحِيحه
الصرد بِضَم الصَّاد الْمُهْملَة وَفتح الرَّاء طَائِر مَعْرُوف ضخم الرَّأْس والمنقار لَهُ ريش عَظِيم نصفه أَبيض وَنصفه أسود
قَالَ الْخطابِيّ أما نَهْيه عَن قتل النَّمْل فَإِنَّمَا أَرَادَ نوعا مِنْهُ خَاصّا وَهُوَ الْكِبَار ذَوَات الأرجل الطوَال لِأَنَّهَا قَليلَة الْأَذَى وَالضَّرَر وَأما النحلة فَلَمَّا فِيهَا من الْمَنْفَعَة وَأما الهدهد
والصرد فَإِنَّمَا نهى عَن قَتلهمَا لتَحْرِيم لحمهما وَذَلِكَ أَن الْحَيَوَان إِذا نهي عَن قَتله وَلم يكن لحُرْمَة وَلَا لضَرَر فِيهِ كَانَ ذَلِك لتَحْرِيم لَحْمه
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৬১
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ বিষধর জন্তু হত্যা করা এবং সাপ ও অন্যান্য বিষধর জন্তু হত্যা করার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৫৬১. হযরত আবদুর রহমান ইব্ন ইবান (রা) থেকে বর্ণিত, একবার এক কবিরাজ ব্যাঙ দিয়ে ঔষধ তৈরীর ব্যাপারে নবী (ﷺ)এর নিকট মাসআলা জিজ্ঞেস করে। তখন তিনি তাকে ব্যাঙ মেরে ফেলতে নিষেধ করেন।
আবু দাউদ ও নাসাঈ বর্ণিত।
الضفدع- ব্যাঙ
আবু দাউদ ও নাসাঈ বর্ণিত।
الضفدع- ব্যাঙ
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي قتل الوزغ وَمَا جَاءَ فِي قتل الْحَيَّات وَغَيرهَا مِمَّا يذكر
4561- وَعَن عبد الرَّحْمَن بن عبان رَضِي الله عَنهُ أَن طَبِيبا سَأَلَ النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم عَن ضفدع يَجْعَلهَا فِي دَوَاء فَنَهَاهُ عَن قَتلهَا
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ
قَالَ الْحَافِظ الضفدع بِكَسْر الضَّاد وَالدَّال وَفتح الدَّال لَيْسَ بجيد وَالله أعلم
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالنَّسَائِيّ
قَالَ الْحَافِظ الضفدع بِكَسْر الضَّاد وَالدَّال وَفتح الدَّال لَيْسَ بجيد وَالله أعلم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৬২
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ প্রতিশ্রুতি পালন ও আমানত রক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, খিয়ানত, বিশ্বাসঘাতকতা, সন্ধিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যা ও তার প্রতি যুলুম করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ
৪৫৬২. হযরত আনাস ইব্ন মালিক (রা)-এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিান বলেন, তোমরা আমার নিকট থেকে ছয়টি (উপদেশ) গ্রহগ কর, আমি তোমাদের জান্নাতের দায়িত্ব গ্রহণ করব। যখন তোমরা কথা বলবে তখন মিথ্যা বলবে না, যখন প্রতিশ্রুতি দেবে, তার খেলাফ করবে না এবং যখন আমানত রাখা হয়, তাতে খিয়ানত করবে না*।'
(আবু ইয়া'লা, হাকিম ও বায়হাকী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। 'সত্যবাদিতা’ অধ্যায়ে হাদীসটি পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে।)
*এ হাদীসে কেবল তিনটি বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। অবশিষ্ট তিন এইঃ (১) তোমরা নিজেদের দৃষ্টি অবনমিত রাখবে, (২) তোমাদের হাত সংযত করবে এবং (৩) তোমাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে।
(আবু ইয়া'লা, হাকিম ও বায়হাকী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। 'সত্যবাদিতা’ অধ্যায়ে হাদীসটি পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে।)
*এ হাদীসে কেবল তিনটি বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। অবশিষ্ট তিন এইঃ (১) তোমরা নিজেদের দৃষ্টি অবনমিত রাখবে, (২) তোমাদের হাত সংযত করবে এবং (৩) তোমাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করবে।
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي إنجاز الْوَعْد وَالْأَمَانَة والترهيب من إخلافه وَمن الْخِيَانَة والغدر وَقتل الْمعَاهد أَو ظلمه
4562- وَعَن أنس بن مَالك رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ تقبلُوا لي سِتا أتقبل لكم بِالْجنَّةِ إِذا حدث أحدكُم فَلَا يكذب وَإِذا وعد فَلَا يخلف وَإِذا ائْتمن فَلَا يخن الحَدِيث
رَوَاهُ أَبُو يعلى وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ وَتقدم فِي الصدْق
رَوَاهُ أَبُو يعلى وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ وَتقدم فِي الصدْق
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৬৩
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ প্রতিশ্রুতি পালন ও আমানত রক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, খিয়ানত, বিশ্বাসঘাতকতা, সন্ধিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যা ও তার প্রতি যুলুম করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ
৪৫৬৩. হযরত উবাদা ইব্ন সামিত (রা) থেকে বর্ণিত নবী (ﷺ) বলেছেন, তোমরা আমাকে ছয়টি বিষয়ের নিশ্চয়তা প্রদান কর, আমি তোমাদেরকে জান্নাতের নিশ্চয়তা প্রদান করব। যখন তোমরা কথা বলবে, তখন সত্য কথা বলবে, যখন ওয়াদা করবে, তখন তা পূর্ণ করবে এবং যখন তোমাদের কাছে আমানত রাখা হবে, তখন তা (যথারীতি) আদায় করবে।
(আহমাদ, ইবন হিব্বান (র) তাঁর সহীহ্ গ্রন্থে, হাকিম ও বায়হাকী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসও পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে।)
টিকা: এ হাদীসেও কেবল তিনটি বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। অবশিষ্ট তিনটির জন্যে ৪৫৬৩ নং হাদীসের টীকা দ্রষ্টব্য।
(আহমাদ, ইবন হিব্বান (র) তাঁর সহীহ্ গ্রন্থে, হাকিম ও বায়হাকী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসও পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে।)
টিকা: এ হাদীসেও কেবল তিনটি বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। অবশিষ্ট তিনটির জন্যে ৪৫৬৩ নং হাদীসের টীকা দ্রষ্টব্য।
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي إنجاز الْوَعْد وَالْأَمَانَة والترهيب من إخلافه وَمن الْخِيَانَة والغدر وَقتل الْمعَاهد أَو ظلمه
4563- وَعَن عبَادَة بن الصَّامِت رَضِي الله عَنهُ أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ اضمنوا لي سِتا أضمن لكم الْجنَّة اصدقوا إِذا حدثتم وأوفوا إِذا وعدتم وأدوا إِذا ائتمنتم الحَدِيث
رَوَاهُ أَحْمد وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ وَتقدم
رَوَاهُ أَحْمد وَابْن حبَان فِي صَحِيحه وَالْحَاكِم وَالْبَيْهَقِيّ وَتقدم
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৬৪
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ প্রতিশ্রুতি পালন ও আমানত রক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, খিয়ানত, বিশ্বাসঘাতকতা, সন্ধিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যা ও তার প্রতি যুলুম করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ
৪৫৬৪. হযরত আবু হুরায়রা (রা)-এর সূত্রে রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) থেকে বর্ণিত একদা তিনি তাঁর পার্শ্বে উপবিষ্ট উম্মতদের লক্ষ্য করে বললেন, তোমরা আমার পক্ষ থেকে ছয়টি বিষয়ের দায়িত্ব নাও, আমি তোমাদের জান্নাতের দায়িত্ব নেব। আমি (আবূ হুরায়রা) বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ। সে ছয়টি বিষয় কি কি? তিনি বললেন, সালাত, যাকাত, আমানত, লজ্জাস্থান, পেট ও রসনা।
(তাবারানী 'আল-আওসাতে' গ্রহণযোগ্য সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(তাবারানী 'আল-আওসাতে' গ্রহণযোগ্য সনদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي إنجاز الْوَعْد وَالْأَمَانَة والترهيب من إخلافه وَمن الْخِيَانَة والغدر وَقتل الْمعَاهد أَو ظلمه
4564- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَنه قَالَ لمن حوله من أمته اكفلوا لي بست أكفل لكم بِالْجنَّةِ
قلت مَا هن يَا رَسُول الله قَالَ الصَّلَاة وَالزَّكَاة وَالْأَمَانَة والفرج والبطن وَاللِّسَان
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط بِإِسْنَاد لَا بَأْس بِهِ
قلت مَا هن يَا رَسُول الله قَالَ الصَّلَاة وَالزَّكَاة وَالْأَمَانَة والفرج والبطن وَاللِّسَان
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط بِإِسْنَاد لَا بَأْس بِهِ
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৬৫
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ প্রতিশ্রুতি পালন ও আমানত রক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, খিয়ানত, বিশ্বাসঘাতকতা, সন্ধিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যা ও তার প্রতি যুলুম করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ
৪৫৬৫. হযরত হুযায়ফা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাদের বলেছেন যে, প্রথমে মানুষের অন্তরমূলে আমানত স্থাপিত হয়েছে। তারপরই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। ফলে, তারা কুরআনের জ্ঞান লাভ করেছে এবং সুন্নাহর জ্ঞান লাভ করেছে। তারপর তিনি আমাদের নিকট আমানত উঠে যাওয়া প্রসঙ্গে বলেন, মানুষ নিদ্রা যাবে, তখন তাদের অন্তর থেকে আমানত তুলে দেওয়া হবে। তখন সামান্য দাগের ন্যায় তার চিহ্ন পড়ে থাকবে। আবার যখন মানুষ নিদ্রা যাবে, তখন পুনরায় তার অন্তর থেকে আমানত তুলে নেওয়া হবে। তখন ফোসকার ন্যায় তার চিহ্ন পড়ে থাকবে। যেন তুমি তোমার পায়ের উপর একটি জ্বলন্ত অঙ্গার গড়িয়ে দিয়েছ। ফলে ফোসকা পড়ে যাওয়ায় তুমি তোমার পা'খানি স্ফীত দেখতে পাও। অথচ তার ভেতরে কিছুই নেই। এ বলে তিনি একটি কংকর নিয়ে নিজ পায়ের উপর গড়িয়ে দিয়ে দেখালেন। সুতরাং মানুষ ভোরবেলায় (নিদ্রা থেকে উঠে) বেচাকেনা করবে, অথচ কেউ আমানত আদায় করতে প্রস্তুত হবে না। এমনকি বলা হবে, অমুক গোত্রে একজন বিশ্বস্ত লোক রয়েছে এবং তার সম্পর্কে বলা হবে, লোকটি কতই না চতুর, কতই না জ্ঞানী। অথচ তার অন্তরে সরষে পরিমাণ ঈমানও থাকবে না।
(মুসলিম প্রমুখ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(মুসলিম প্রমুখ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي إنجاز الْوَعْد وَالْأَمَانَة والترهيب من إخلافه وَمن الْخِيَانَة والغدر وَقتل الْمعَاهد أَو ظلمه
4565- وَعَن حُذَيْفَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ حَدثنَا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم أَن الْأَمَانَة نزلت فِي جذر قُلُوب الرِّجَال ثمَّ نزل الْقُرْآن فَعَلمُوا من الْقُرْآن وَعَلمُوا من السّنة ثمَّ حَدثنَا عَن رفع الْأَمَانَة فَقَالَ ينَام الرجل النومة فتقبض الْأَمَانَة من قلبه فيظل أَثَرهَا مثل الوكت ثمَّ ينَام الرجل فتقبض الْأَمَانَة من قلبه فيظل أَثَرهَا من أثر المجل كجمر دحرجته على رجلك فنفط فتراه منتبرا وَلَيْسَ فِيهِ شَيْء ثمَّ أَخذ حَصَاة فدحرجها على رجله فَيُصْبِح النَّاس يتبايعون لَا يكَاد أحد يُؤَدِّي الْأَمَانَة حَتَّى يُقَال إِن فِي بني فلَان رجلا أَمينا حَتَّى يُقَال للرجل مَا أظرفه مَا أعقله وَمَا فِي قلبه مِثْقَال حَبَّة من خَرْدَل من إِيمَان
رَوَاهُ مُسلم وَغَيره
رَوَاهُ مُسلم وَغَيره
হাদীস নং: ৪৫৬৬
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ প্রতিশ্রুতি পালন ও আমানত রক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, খিয়ানত, বিশ্বাসঘাতকতা, সন্ধিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যা ও তার প্রতি যুলুম করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ
৪৫৬৬. হযরত ইব্ন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর পথে শাহাদাত সকল গুনাহকে মুছে দেয় তবে, আমানত (-এ খিয়ানত) নয়। তিনি আরও বলেন, কিয়ামতের দিন বান্দাকে উপস্থিত করা হবে। যদিও সে আল্লাহর পথে শহীদ হোক না কেন। তারপর তাকে বলা হবে, তোমার আমানত আদায় কর। তখন সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক। দুনিয়া তো গত হয়ে গেছে, আমি কিভাবে আমানত আদায় করব। তখন (ফিরিশতাদেরকে সম্বোধন করে) বলা হবে, লোকটিকে হাবিয়া (জাহান্নাম)-এর নিকট নিয়ে যাও। তখন তাকে হাবিয়া (জাহান্নাম)-এর নিকট নিয়ে যাওয়া হবে এবং তার সামনে তার কাছে গচ্ছিত দ্রব্য পূর্বাকৃতিতে তুলে ধরা হবে, যেমনটি তার কাছ আমানত রাখার দিন ছিল। লোকটি তার আমানতের আকৃতি দেখে চিনতে পারবে এবং তার পেছনে ঝাঁপিয়ে পড়ে তা আয়ত্ত করে নেবে। অতঃপর তা তার কাঁধে ধারণ করবে। তারপর যখন সে ধারণা করবে যে, তার কাঁধ থেকে আমানতের ভার পড়ে গেল, তখন সে তার পিছু পিছু অনন্তকাল গড়াতে থাকবে (এভাবে সে হাবিয়ার অতল গহ্বরে পতিত হবে)। অতঃপর তিনি বলেন, সালাত একটি আমানত, উযূ একটি আমানত, বাটখারা (ওজনযন্ত্র) একটি আমানত এবং পাত্র-মাপ একটি আমানত। এভাবে তিনি আরও কিছু বিষয় একে একে গুণে গুণে দেখালেন। তন্যধ্যে সবচেয়ে কঠিন আমানত হচ্ছে, গচ্ছিত সম্পদাদি।
যাযান বলেন, আমি বারা' ইব্ন আযিব (রা)-এর কাছে গিয়ে বললাম, আপনি লক্ষ্য করছেন না, ইব্ন মাসউদ কি বলেছেন। তিনি বললেন, তাই। তিনি সত্যই বলেছেন। তুমি কি শোননি, আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আমানতের হকদারের হাতে আমানত ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিচ্ছেন।’’ (৪:৫৮)
(আহমাদ ও বায়হাকী মাওকূফরূপে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আহমাদ তনয় আবদুল্লাহ তাঁর কিতাবুয যুহদ-এ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এ হাদীস সম্পর্কে তাঁর পিতাকে জিজ্ঞেস করেছেন, উত্তরে তিনি বলেছেন হাদীসটির সনদ উৎকৃষ্ট।)
যাযান বলেন, আমি বারা' ইব্ন আযিব (রা)-এর কাছে গিয়ে বললাম, আপনি লক্ষ্য করছেন না, ইব্ন মাসউদ কি বলেছেন। তিনি বললেন, তাই। তিনি সত্যই বলেছেন। তুমি কি শোননি, আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে আমানতের হকদারের হাতে আমানত ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিচ্ছেন।’’ (৪:৫৮)
(আহমাদ ও বায়হাকী মাওকূফরূপে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। আহমাদ তনয় আবদুল্লাহ তাঁর কিতাবুয যুহদ-এ উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এ হাদীস সম্পর্কে তাঁর পিতাকে জিজ্ঞেস করেছেন, উত্তরে তিনি বলেছেন হাদীসটির সনদ উৎকৃষ্ট।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي إنجاز الْوَعْد وَالْأَمَانَة والترهيب من إخلافه وَمن الْخِيَانَة والغدر وَقتل الْمعَاهد أَو ظلمه
4566- وَعَن ابْن مَسْعُود رَضِي الله عَنهُ قَالَ الْقَتْل فِي سَبِيل الله يكفر الذُّنُوب كلهَا إِلَّا الْأَمَانَة قَالَ يُؤْتى العَبْد يَوْم الْقِيَامَة وَإِن قتل فِي سَبِيل الله فَيُقَال أد أمانتك فَيَقُول أَي رب كَيفَ وَقد ذهبت الدُّنْيَا فَيُقَال انْطَلقُوا بِهِ إِلَى الهاوية فَينْطَلق بِهِ إِلَى الهاوية وتمثل لَهُ أَمَانَته كهيئتها يَوْم دفعت إِلَيْهِ فيراها فيعرفها فَيهْوِي فِي أَثَرهَا حَتَّى يُدْرِكهَا فيحملها على مَنْكِبَيْه حَتَّى إِذا ظن أَنه خَارج قلت عَن مَنْكِبَيْه فَهُوَ يهوي فِي أَثَرهَا أَبَد الآبدين ثمَّ قَالَ الصَّلَاة أَمَانَة وَالْوُضُوء أَمَانَة وَالْوَزْن أَمَانَة والكيل أَمَانَة وَأَشْيَاء عَددهَا وَأَشد ذَلِك الودائع
قَالَ يَعْنِي زَاذَان فَأتيت الْبَراء بن عَازِب فَقلت أَلا ترى إِلَى مَا قَالَ ابْن مَسْعُود قَالَ كَذَا قَالَ صدق
أما سَمِعت الله يَقُول إِن الله يَأْمُركُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمَانَات إِلَى أَهلهَا
النِّسَاء 85 رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ مَوْقُوفا وَذكر عبد الله ابْن الإِمَام أَحْمد فِي كتاب الزّهْد أَنه سَأَلَ أَبَاهُ عَنهُ فَقَالَ إِسْنَاده جيد
قَالَ يَعْنِي زَاذَان فَأتيت الْبَراء بن عَازِب فَقلت أَلا ترى إِلَى مَا قَالَ ابْن مَسْعُود قَالَ كَذَا قَالَ صدق
أما سَمِعت الله يَقُول إِن الله يَأْمُركُمْ أَن تُؤَدُّوا الْأَمَانَات إِلَى أَهلهَا
النِّسَاء 85 رَوَاهُ أَحْمد وَالْبَيْهَقِيّ مَوْقُوفا وَذكر عبد الله ابْن الإِمَام أَحْمد فِي كتاب الزّهْد أَنه سَأَلَ أَبَاهُ عَنهُ فَقَالَ إِسْنَاده جيد
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৬৭
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ প্রতিশ্রুতি পালন ও আমানত রক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, খিয়ানত, বিশ্বাসঘাতকতা, সন্ধিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যা ও তার প্রতি যুলুম করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ
৪৫৬৭. হযরত ইব্ন উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তির আমানতদারী নেই তার (পূর্ণ) ঈমান নেই এবং যার উযূ নেই, তার সালাত নেই (অর্থাৎ তার সালাত আদায় বৈধ হবে না……। (তাবারানী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। সালাত অধ্যায়ে হাদীসটি পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي إنجاز الْوَعْد وَالْأَمَانَة والترهيب من إخلافه وَمن الْخِيَانَة والغدر وَقتل الْمعَاهد أَو ظلمه
4567- وَعَن ابْن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لَا إِيمَان لمن لَا أَمَانَة لَهُ وَلَا صَلَاة لمن لَا طهُور لَهُ الحَدِيث
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَتقدم فِي الصَّلَوَات
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ وَتقدم فِي الصَّلَوَات
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৬৮
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ প্রতিশ্রুতি পালন ও আমানত রক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, খিয়ানত, বিশ্বাসঘাতকতা, সন্ধিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যা ও তার প্রতি যুলুম করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ
৪৫৬৮. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে বসা ছিলাম। তখন শহরের উঁচু এলাকায় বসবাসকারী এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। ইসলামের সবচেয়ে কঠিন ও সবচেয়ে সহজ বিষয় সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বললেন, ইসলামের সহজতম বিষয়, এ মর্মে সাক্ষ্য দান যে, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। হে উঁচু এলাকার ভাইটি। এবং ইসলামের কঠিনতম বিষয় আমানত। যে ব্যক্তি আমানত রক্ষা করে না, তার দ্বীন, সালাত, যাকাত কিছুই নেই...............।
(বাযযার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(বাযযার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي إنجاز الْوَعْد وَالْأَمَانَة والترهيب من إخلافه وَمن الْخِيَانَة والغدر وَقتل الْمعَاهد أَو ظلمه
4568- وَرُوِيَ عَن عَليّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ كُنَّا جُلُوسًا مَعَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فطلع علينا رجل من أهل الْعَالِيَة فَقَالَ يَا رَسُول الله أَخْبرنِي بأشد شَيْء فِي هَذَا الدّين وألينه فَقَالَ ألينه شَهَادَة أَن لَا إِلَه إِلَّا الله وَأَن مُحَمَّدًا عَبده وَرَسُوله وأشده يَا أَخا الْعَالِيَة الْأَمَانَة إِنَّه لَا دين لمن لَا أَمَانَة لَهُ وَلَا صَلَاة لَهُ وَلَا زَكَاة لَهُ الحَدِيث
رَوَاهُ الْبَزَّار
رَوَاهُ الْبَزَّار
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৬৯
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ প্রতিশ্রুতি পালন ও আমানত রক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, খিয়ানত, বিশ্বাসঘাতকতা, সন্ধিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যা ও তার প্রতি যুলুম করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ
৪৫৬৯. হযরত আলী (রা)-এর সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আমার উম্মত পনেরটি কাজ করবে, তখন তাদের উপর বিপদ নেমে আসবে। জিজ্ঞেস করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ। সে বিষয়গুলো কি কি? তিনি বললেন: ১. যখন গনীমতের সম্পদ ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত হবে, ২. আমানতও গনীমতরূপে গণ্য হবে, ৩. যাকাত কর হিসেবে বিবেচিত হবে, ৪. পুরুষ তার স্ত্রীর আনুগত্য করবে, ৫. মায়ের বিরুদ্ধাচরণ করবে, ৬. বন্ধুর সাথে সদাচরণ করবে, অথচ ৭. পিতার প্রতি কঠোর আচরণ করবে, ৮. মসজিদে শোরগোল হবে, ৯. জাতির নিকৃষ্টতম ব্যক্তি তার নেতা হবে, ১০. কোন ব্যক্তিকে তার অনিষ্টের ভয়ে সমীহ করা হবে, ১১. মদ্যপান করা হবে, ১২. রেশমী বস্ত্র পরিধান করা হবে, ১৩. নর্তকীদের গ্রহণ করা হবে, ১৪, নানাবিধ বাদ্যযন্ত্রের প্রসার ঘটবে এবং পরবর্তী যুগের উম্মত পূর্ববর্তীদেরকে গালি দেবে, তখন তারা যেন অগ্নি বায়ু, ভূমিধস কিংবা অবয়ব বিকৃতির অপেক্ষা করে।
(ইমাম তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বললেন, এ হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আনসারী (রা) থেকে ফারয ইবন ফুযালা ব্যতীত অন্য কেউ রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমাদের জানা নেই।)
(ইমাম তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বললেন, এ হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ আনসারী (রা) থেকে ফারয ইবন ফুযালা ব্যতীত অন্য কেউ রিওয়ায়াত করেছেন বলে আমাদের জানা নেই।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي إنجاز الْوَعْد وَالْأَمَانَة والترهيب من إخلافه وَمن الْخِيَانَة والغدر وَقتل الْمعَاهد أَو ظلمه
4569 - وَعَن عَليّ رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ إِذا فعلت أمتِي خمس عشرَة خصْلَة فقد حل بهَا الْبلَاء
قيل وَمَا هِيَ يَا رَسُول الله قَالَ إِذا كَانَ الْمغنم دولا وَإِذا كَانَت الْأَمَانَة مغنما وَالزَّكَاة مغرما وأطاع الرجل زَوجته وعق أمه وبر صديقه وجفا أَبَاهُ وَارْتَفَعت الْأَصْوَات فِي الْمَسَاجِد وَكَانَ زعيم الْقَوْم أرذلهم وَأكْرم الرجل مَخَافَة شَره وشربت الْخمر وَلبس الْحَرِير واتخذت الْقَيْنَات وَالْمَعَازِف وَلعن آخر هَذِه الْأمة أَولهَا فليرتقبوا عِنْد ذَلِك ريحًا حَمْرَاء أَو خسفا أَو مسخا
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ لَا نعلم
أحدا روى هَذَا الحَدِيث عَن يحيى بن سعيد الْأنْصَارِيّ غير الْفرج بن فضَالة
قيل وَمَا هِيَ يَا رَسُول الله قَالَ إِذا كَانَ الْمغنم دولا وَإِذا كَانَت الْأَمَانَة مغنما وَالزَّكَاة مغرما وأطاع الرجل زَوجته وعق أمه وبر صديقه وجفا أَبَاهُ وَارْتَفَعت الْأَصْوَات فِي الْمَسَاجِد وَكَانَ زعيم الْقَوْم أرذلهم وَأكْرم الرجل مَخَافَة شَره وشربت الْخمر وَلبس الْحَرِير واتخذت الْقَيْنَات وَالْمَعَازِف وَلعن آخر هَذِه الْأمة أَولهَا فليرتقبوا عِنْد ذَلِك ريحًا حَمْرَاء أَو خسفا أَو مسخا
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ لَا نعلم
أحدا روى هَذَا الحَدِيث عَن يحيى بن سعيد الْأنْصَارِيّ غير الْفرج بن فضَالة
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৭০
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ প্রতিশ্রুতি পালন ও আমানত রক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, খিয়ানত, বিশ্বাসঘাতকতা, সন্ধিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যা ও তার প্রতি যুলুম করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ
৪৫৭০. তিরমিযীর অপর এক রিওয়ায়াতে হযরত আবূ হুরায়রা (রা)-এর থেকে বর্ণিত। যখন গনীমতের সম্পদকে ব্যক্তিগত সম্পদরূপে গ্রহণ করা হবে, আমানতকে গনীমত মনে করা হবে, যাকাতকে কর-জরিমানা হিসেবে বিবেচনা করা হবে, দুনিয়া লাভের উদ্দেশ্যে ইলম শিক্ষা করা হবে, পুরুষ তার স্ত্রীর আনুগত্য করবে, মায়ের অবাধ্যতা করবে, বন্ধুকে কাছে টানবে, পিতাকে দূরে সরিয়ে দেবে, মসজিদে শোরগোল হবে, গোত্রের পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তার সর্দার হবে, জাতির নিকৃষ্টতম ব্যক্তি তার নেতা হবে, অনিষ্টের ভয়ে মানুষকে সমীহ করা হবে, নর্তকী ও নানাবিধ বাদ্যযন্ত্রের প্রসার ঘটবে, মদ্যপান করা হবে এবং পরবর্তী যুগের উম্মাত পূর্ববর্তীদের গালমন্দ করবে। তখন তারা যেন অগ্নি বায়ু, ভূমিধস, অবয়ব বিকৃতি, প্রস্তর বর্ষণ এবং এরূপ পুরনো মালার (ঝরে পড়া দানার) ন্যায় অবিচ্ছিন্ন নিদর্শনাবলীর অপেক্ষা করে, যার সূতো কেটে দেওয়ার ফলে দানাগুলো অনবরত ঝরে পড়তে থাকে।
(তিরমিযী (র) বলেন, হাদীসটি গরীব।)
(তিরমিযী (র) বলেন, হাদীসটি গরীব।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي إنجاز الْوَعْد وَالْأَمَانَة والترهيب من إخلافه وَمن الْخِيَانَة والغدر وَقتل الْمعَاهد أَو ظلمه
4570- وَفِي رِوَايَة لِلتِّرْمِذِي من حَدِيث أبي هُرَيْرَة إِذا اتخذ الْفَيْء دولا وَالْأَمَانَة مغنما وَالزَّكَاة مغرما وَتعلم لغير دين وأطاع الرجل امْرَأَته وعق أمه وَأدنى صديقه وأقصى أَبَاهُ وَظَهَرت الْأَصْوَات فِي الْمَسَاجِد وساد الْقَبِيلَة فاسقهم وَكَانَ زعيم الْقَوْم أرذلهم وَأكْرم الرجل مَخَافَة شَره وَظَهَرت الْقَيْنَات وَالْمَعَازِف وشربت الْخُمُور وَلعن آخر هَذِه الْأمة أَولهَا فليرتقبوا عِنْد ذَلِك ريحًا حَمْرَاء وخسفا ومسخا وقذفا وآيات تتَابع كنظام بَال قطع سلكه فتتابع
قَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث غَرِيب
قَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث غَرِيب
তাহকীক:
হাদীস নং: ৪৫৭১
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
পরিচ্ছেদঃ প্রতিশ্রুতি পালন ও আমানত রক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, খিয়ানত, বিশ্বাসঘাতকতা, সন্ধিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যা ও তার প্রতি যুলুম করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ
৪৫৭১. হযরত সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, তিনটি জিনিস আরশের সাথে জড়িত। আত্মীয়তার বন্ধন বলে, হে আল্লাহ্! আমি তোমার কাছে আশ্রয়প্রার্থী। অতএব আমাকে যেন ছিন্ন না করা হয়। আমানত বলে, হে আল্লাহ। আমি তোমার আশ্রয়প্রার্থী। অতএব, আমাকে যেন খিয়ানত না করা হয়। নিয়ামত বলে, হে আল্লাহ। আমি তোমার সাহায্যপ্রার্থী। কাজেই আমি যেন অকৃতজ্ঞতার শিকার না হই।
(বাযযার (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(বাযযার (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي إنجاز الْوَعْد وَالْأَمَانَة والترهيب من إخلافه وَمن الْخِيَانَة والغدر وَقتل الْمعَاهد أَو ظلمه
4571- وَرُوِيَ عَن ثَوْبَان رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم ثَلَاث متعلقات بالعرش الرَّحِم تَقول اللَّهُمَّ إِنِّي بك فَلَا أقطع وَالْأَمَانَة تَقول اللَّهُمَّ إِنِّي بك فَلَا أخان وَالنعْمَة تَقول اللَّهُمَّ إِنِّي بك فَلَا أكفر
رَوَاهُ الْبَزَّار
رَوَاهُ الْبَزَّار
তাহকীক: