মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৫০৬ টি
হাদীস নং: ৩২১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারীদের সাথে নির্জনে সাক্ষাতের নিষিদ্ধতা
৩২১. হযরত উকবা ইবনে আমের রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা (বেগানা) নারীদের কাছে যাওয়া থেকে বেঁচে থাক (এবং এ ব্যাপারে খুবই সতর্কতা অবলম্বন কর।) এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! স্বামীর নিকটাত্মীয় (দেবর ইত্যাদি) সম্পর্কে কি বলেন? তিনি উত্তর দিলেন, দেবর তো মৃত্যু (তুল্য)। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ. فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ الْحَمْوَ قَالَ: الْحَمْوُ الْمَوْتُ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বেগানা নারীদের সাথে নির্জনে সাক্ষাতের নিষিদ্ধতা
৩২২. হযরত জাবের রাযি. সূত্রে নবী করীম (ﷺ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, তোমরা ঐসব মহিলার ঘরে যেয়ো না, যাদের স্বামী বাড়ীর বাইরে (সফর ইত্যাদি কোন কাজে) গিয়েছে। কেননা, শয়তান (অর্থাৎ, তার প্রভাব ও কুমন্ত্রণা) সবার মধ্যে এরূপ (অদৃশ্যভাবে) চলে, যেভাবে শিরাসমূহে রক্ত প্রবহমান থাকে। আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার মধ্যেও? তিনি উত্তর দিলেন, আমার মধ্যেও, তবে আল্লাহ্ তা'আলা আমাকে এ বিষয়ে বিশেষ সাহায্য করেছেন। এ জন্য আমি নিরাপদ থাকি।-তিরমিযী
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لاَ تَلِجُوا عَلَى الْمُغِيبَاتِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنْ أَحَدِكُمْ مَجْرَى الدَّمِ. قُلْنَا وَمِنْكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: وَمِنِّي وَلَكِنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَأَسْلَمُ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ে, দাম্পত্য জীবন এবং এতদস্পর্কিত হাদীস
বিয়ে শাদীর রীতি
রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নবুওয়ত প্রাপ্তির পূর্বে জাহিলী যুগে আরবদের মধ্যে নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সন্তান সম্বন্ধে কতক প্রথা ও রীতি চালু ছিল। সেগুলোর মধ্যে কোন কোনটি খুবই অপবিত্র ও লজ্জাকর ছিল। একটি প্রথা সঠিক ও ভদ্রজনোচিত ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে প্রথাটি সংশোধন করে সেটিকেই বহাল রাখেন। আর অন্যান্য সব প্রথা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে সেগুলোকে শক্ত গুনাহ ও অন্যায় বলে সাব্যস্ত করেন।
তিনি স্বীয় বর্ণনা ও কার্যপ্রণালী দ্বারা বিয়ের যে সাধারণ নিয়মনীতি নির্ধারণ করেছেন তা হল- পাত্রের পক্ষ থেকে পাত্রীর অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষকদের নিকট প্রস্তাব পাঠিয়ে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হবে। যদি তিনি সম্পর্ক স্থাপনকে সুবিবেচনা ও উত্তম মনে করেন তবে, কনে প্রাপ্ত বয়স্কা হওয়ার প্রেক্ষিতে তার ইচ্ছা অবগত হয়ে আর অপ্রাপ্ত বয়স্কা হওয়ার প্রেক্ষিতে অভিভাবক স্বীয় অপকট কল্যাণকামিতা অনুযায়ী সম্মতি প্রদানপূর্বক বিয়ে সম্পন্ন করবেন। আর বাহাত এ পন্থাই মৌল স্বভাব ও জ্ঞান-বুদ্ধির সম্পূর্ণ অনুকূল।
যেহেতু বিয়ের মূল দায়িত্ব বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ নারীর উপর বর্তাবে এবং এটাই হবে চিরজীবনের জন্য তার বন্ধন, এজন্য পাত্রীর মতামত গ্রহণ আবশ্যক বলে স্থির করা হয়েছে। আর তার নিজের প্রকৃত কর্তা তাকেই সাব্যস্ত করা হয়েছে। অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষকদের অধিকার নেই যে, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কারো সাথে তাকে বিয়ে দেয়। সাথে সাথে নারীর নারীত্ব মর্যাদার প্রেক্ষিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, বিষয়টি অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষকদের মাধ্যমে মীমাংসিত হবে। আর তারাই বিয়ে সম্পন্নকারী। একথা নারীর মর্যাদার পরিপন্থী যে, কারো স্ত্রী হওয়ার বিষয়ে সে নিজেই স্বয়ং সিদ্ধান্ত নেবে এবং নিজে উপস্থিত হয়ে নিজেকে কারো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করবে। এছাড়া যেহেতু কোন মেয়ের বিয়ের কতক প্রভাব তার বংশের ওপর বর্তায়, এজন্যও অভিভাবকগণ (গোত্রীয় মুরুব্বীগণ)-কে কতক ক্ষমতা দান করা হয়েছে। এটাও বাস্তব যে, সব বিষয় যদি পাত্রীর হাতে ছেড়ে দেওয়া হয় আর অভিভাবকবৃন্দ সম্পর্কহীন হয়ে পড়েন তবে এ কথার প্রবল আশংকা রয়েছে যে, মহিলাটি প্রতারিত হবে এবং কারো ফাঁদে পড়ে স্বয়ং নিজের ব্যাপারে ভুল সিদ্ধান্ত নেবে। এসব কারণের ভিত্তিতে আবশ্যক নির্ধারণ করা হয়েছে যে, (বিশেষ ব্যতিক্রমী অবস্থা ছাড়া) বিয়ে অভিভাবকগণের মাধ্যমেই অনুষ্ঠিত হবে।
বিয়ের ধারাবাহিকতায় এটাও পথনির্দেশ করা হয়েছে যে, বিয়ে করতে ইচ্ছুক এমন নারীর সাথে পূর্ব থেকেই যদি দেখা-সাক্ষাত না থেকে থাকে তবে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবার পূর্বে সম্ভব হলে এক নজর তাকে দেখে নেবে, যেন পরে কোন প্রকার কলহ সৃষ্টি না হয়। নির্ভরযোগ্য নারীদের দেখা দ্বারাই এক পর্যায়ে এ উদ্দেশ্য পূর্ণ হতে পারে।
এ নির্দেশও দেওয়া হয়েছে যে, যদি কোন নারীকে বিয়ের জন্য অন্য কোন পুরুষের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, তবে তার পক্ষ থেকে প্রস্তাব প্রত্যাহার না করা এবং আলোচনা ভেঙ্গে না দেওয়া পর্যন্ত সে নারীর জন্য প্রস্তাব দেওয়া হবে না। এর রহস্য সুস্পষ্ট।
বিয়ের ব্যাপারে এটাও জরুরী নির্ধারণ করা হয়েছে যে, তা গোপনে সম্পন্ন না হয়ে কতক লোকের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে সমাধান হবে। এটা হবে বিয়ের উপস্থিত সাক্ষী। বস্তুত বিবাহ মসজিদে সম্পন্ন করাই উত্তম বলা হয়েছে। এভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানে খুতবা পাঠ করা সুন্নাত। স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে মহর প্রদানও আবশ্যক সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এসব বিষয় ও বিয়ে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহ নিম্নে পাঠ করুন।
নারী-পুরুষের সম্পর্ক এবং এ থেকে জন্মানো সন্তান সম্পর্কে জাহিলী যুগের প্রথা ও রীতি
বিয়ে শাদীর রীতি
রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নবুওয়ত প্রাপ্তির পূর্বে জাহিলী যুগে আরবদের মধ্যে নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সন্তান সম্বন্ধে কতক প্রথা ও রীতি চালু ছিল। সেগুলোর মধ্যে কোন কোনটি খুবই অপবিত্র ও লজ্জাকর ছিল। একটি প্রথা সঠিক ও ভদ্রজনোচিত ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সে প্রথাটি সংশোধন করে সেটিকেই বহাল রাখেন। আর অন্যান্য সব প্রথা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে সেগুলোকে শক্ত গুনাহ ও অন্যায় বলে সাব্যস্ত করেন।
তিনি স্বীয় বর্ণনা ও কার্যপ্রণালী দ্বারা বিয়ের যে সাধারণ নিয়মনীতি নির্ধারণ করেছেন তা হল- পাত্রের পক্ষ থেকে পাত্রীর অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষকদের নিকট প্রস্তাব পাঠিয়ে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হবে। যদি তিনি সম্পর্ক স্থাপনকে সুবিবেচনা ও উত্তম মনে করেন তবে, কনে প্রাপ্ত বয়স্কা হওয়ার প্রেক্ষিতে তার ইচ্ছা অবগত হয়ে আর অপ্রাপ্ত বয়স্কা হওয়ার প্রেক্ষিতে অভিভাবক স্বীয় অপকট কল্যাণকামিতা অনুযায়ী সম্মতি প্রদানপূর্বক বিয়ে সম্পন্ন করবেন। আর বাহাত এ পন্থাই মৌল স্বভাব ও জ্ঞান-বুদ্ধির সম্পূর্ণ অনুকূল।
যেহেতু বিয়ের মূল দায়িত্ব বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ নারীর উপর বর্তাবে এবং এটাই হবে চিরজীবনের জন্য তার বন্ধন, এজন্য পাত্রীর মতামত গ্রহণ আবশ্যক বলে স্থির করা হয়েছে। আর তার নিজের প্রকৃত কর্তা তাকেই সাব্যস্ত করা হয়েছে। অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষকদের অধিকার নেই যে, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কারো সাথে তাকে বিয়ে দেয়। সাথে সাথে নারীর নারীত্ব মর্যাদার প্রেক্ষিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, বিষয়টি অভিভাবক ও পৃষ্ঠপোষকদের মাধ্যমে মীমাংসিত হবে। আর তারাই বিয়ে সম্পন্নকারী। একথা নারীর মর্যাদার পরিপন্থী যে, কারো স্ত্রী হওয়ার বিষয়ে সে নিজেই স্বয়ং সিদ্ধান্ত নেবে এবং নিজে উপস্থিত হয়ে নিজেকে কারো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করবে। এছাড়া যেহেতু কোন মেয়ের বিয়ের কতক প্রভাব তার বংশের ওপর বর্তায়, এজন্যও অভিভাবকগণ (গোত্রীয় মুরুব্বীগণ)-কে কতক ক্ষমতা দান করা হয়েছে। এটাও বাস্তব যে, সব বিষয় যদি পাত্রীর হাতে ছেড়ে দেওয়া হয় আর অভিভাবকবৃন্দ সম্পর্কহীন হয়ে পড়েন তবে এ কথার প্রবল আশংকা রয়েছে যে, মহিলাটি প্রতারিত হবে এবং কারো ফাঁদে পড়ে স্বয়ং নিজের ব্যাপারে ভুল সিদ্ধান্ত নেবে। এসব কারণের ভিত্তিতে আবশ্যক নির্ধারণ করা হয়েছে যে, (বিশেষ ব্যতিক্রমী অবস্থা ছাড়া) বিয়ে অভিভাবকগণের মাধ্যমেই অনুষ্ঠিত হবে।
বিয়ের ধারাবাহিকতায় এটাও পথনির্দেশ করা হয়েছে যে, বিয়ে করতে ইচ্ছুক এমন নারীর সাথে পূর্ব থেকেই যদি দেখা-সাক্ষাত না থেকে থাকে তবে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবার পূর্বে সম্ভব হলে এক নজর তাকে দেখে নেবে, যেন পরে কোন প্রকার কলহ সৃষ্টি না হয়। নির্ভরযোগ্য নারীদের দেখা দ্বারাই এক পর্যায়ে এ উদ্দেশ্য পূর্ণ হতে পারে।
এ নির্দেশও দেওয়া হয়েছে যে, যদি কোন নারীকে বিয়ের জন্য অন্য কোন পুরুষের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়, তবে তার পক্ষ থেকে প্রস্তাব প্রত্যাহার না করা এবং আলোচনা ভেঙ্গে না দেওয়া পর্যন্ত সে নারীর জন্য প্রস্তাব দেওয়া হবে না। এর রহস্য সুস্পষ্ট।
বিয়ের ব্যাপারে এটাও জরুরী নির্ধারণ করা হয়েছে যে, তা গোপনে সম্পন্ন না হয়ে কতক লোকের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে সমাধান হবে। এটা হবে বিয়ের উপস্থিত সাক্ষী। বস্তুত বিবাহ মসজিদে সম্পন্ন করাই উত্তম বলা হয়েছে। এভাবে বিয়ের অনুষ্ঠানে খুতবা পাঠ করা সুন্নাত। স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীকে মহর প্রদানও আবশ্যক সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এসব বিষয় ও বিয়ে সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট হাদীসসমূহ নিম্নে পাঠ করুন।
নারী-পুরুষের সম্পর্ক এবং এ থেকে জন্মানো সন্তান সম্পর্কে জাহিলী যুগের প্রথা ও রীতি
৩২৩. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন) যে, জাহিলী যুগে বিয়ের (অর্থাৎ নারী-পুরুষের মেলা-মেশা এবং এ থেকে জন্মানো সন্তান সম্পর্কে) চারটি প্রথা চালু ছিল। তন্যধ্যে একটি প্রথা ছিল যা (নীতিগতভাবে) বর্তমান যুগেও প্রচলিত। পুরুষের পক্ষ থেকে অন্য পুরুষের নিকট তার কন্যা কিংবা তার প্রতিপালনাধীন মেয়ের জন্য বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হত। এরপর সংগত মহর নির্ধারণপূর্বক সে ঐ মেয়ের বিয়ে সেই পুরুষের সাথে দিত।
আরেকটি প্রথা এরূপ ছিল যে, কোন লোকের স্ত্রী যখন ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হত (এ সময় মহিলাদের মধ্যে গর্ভধারণের যোগ্যতা বেশি থাকে) তখন সে (কোন সুউচ্চ মর্যাদাবান ব্যক্তি সম্বন্ধে) আপন স্ত্রীকে বলে দিত যে, তুমি তাকে ডেকে এনে নিয়োগ কর (অর্থাৎ তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন কর এবং তার দ্বারা গর্ভধারণের চেষ্টা কর) আর স্বামী আপন স্ত্রী থেকে বিরত থাকত যতদিন না নিয়োগী পুরুষ দ্বারা মহিলাটির গর্ভধারণ প্রকাশ পেত। এরপর যখন গর্ভ প্রকাশ পেত তখন তার স্বামী অভিরুচি অনুযায়ী তার সাথে সঙ্গম করত। উৎকর্ষশীল সন্তান লাভের অভিলাষেই এরূপ করত। সুতরাং এ জাতীয় বিয়েকে (نکاح استبضاع) ইসতিবদা১ বিয়ে বলা হত।
আর অন্য এক (তৃতীয়) প্রথা এরূপ ছিল যে, কতক লোকের একটি 'যুথ' (বর্ণনায় 'رهط' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দশ থেকে কম সংখ্যার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে) একজন মহিলার নিকট গমন করতো এবং তাদের প্রত্যেকেই তার সাথে সঙ্গম করত (আর এসব হত পারস্পরিক সম্মতিক্রমে) এরপর যদি সেই মহিলা গর্ভবতী হত এবং সন্তান ভূমিষ্ঠ হত তখন কয়েক দিন পর মহিলাটি সে সব লোকদের তলব করাত (রীতি অনুযায়ী)। কারো উপস্থিত না হওয়ার সুযোগ ছিল না। এ কারণে সবাই উপস্থিত হত। তখন মহিলাটি বলত, যা কিছু হয়েছিল তা তোমরা অবগত আছ। আর (তারই ফল স্বরূপ) আমার এ সন্তান পয়দা হয়েছে। যাকে পসন্দ হয় এমন কারো নাম ডেকে বলত, হে অমুক! এ ছেলে তোমার। এরপর সে ছেলে তারই মনে করা হত। আর সে ব্যক্তি অস্বীকার করতে পারত না।
আর চতুর্থ প্রথা এইরূপ ছিল যে, বহু লোক এক মহিলার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করত। তার নিকট গমন করতে বাধা ছিল না। তারা দেহপসারিণী ছিল। তারা নিজেদের গৃহদ্বারে নিশান গেঁড়ে রাখত। যে কেউ চাইত তাদের নিকট গমন করত। তাদের কেউ গর্ভধারণ এবং সন্তান প্রসব করলে তার নিকট সেই লোকগুলো সমবেত হত। আর চেহারা লক্ষণবিদদের ডাকা হত। এরপর সে (স্বীয় লক্ষণ বিদ্যা দ্বারা) যার বীর্য থেকে সন্তানকে মনে করত তার ছেলে বলে স্থির করে দিত। তারই মেনে নেয়া হত এবং তারই ছেলে বলা হত। আর মহিলাটি তা অস্বীকার করতে পারত না।
[উন্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রা) জাহিলী যুগের এসব প্রথা বর্ণনা করার পর বলেন] এরপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দীনে হকসহ প্রেরিত হলেন, তখন তিনি জাহিলী যুগের সেই সব (লজ্জাজনক) প্রথা একেবারে বিলুপ্ত করে দেন। আর বর্তমানে প্রচলিত বিয়েই বাকি থাকে। (বুখারী)
টিকা ১. জাহিলী যুগে আরবের কোন কোন নিম্ন গোত্রে এই লজ্জাজনক প্রথা চালু ছিল। প্রথাটি এরূপ ছিল যে, নিম্ন শ্রেণীর কোন লোক আকাঙ্ক্ষা করত যে, তার ছেলে অশ্বারোহী বীর হবে। অথবা গঠন সৌন্দর্য ও পরিমাণে ভিন্ন রকম হবে। তখন সে অনুরূপ গুণাবলী মন্ডিত ব্যক্তি সম্পর্কে আপন স্ত্রীকে বলত যে, তার সাথে তুমি সম্পর্ক স্থাপন কর, যেন তার ধারা গর্ভধারণ করতে পার, ফলে অনুরূপ গুণাবলী নিয়ে তার দ্বারা ছেলে পয়দা হবে। আর উক্ত নিয়োগী ব্যক্তি দ্বারা গর্ভসঞ্চার না হওয়া পর্যন্ত সে তার স্ত্রী থেকে পৃথক থাকত। আরবী পরিভাষায় এটাকে “استبضاع” বলা হয়। আমি এ শব্দের তরজমা করেছি 'নিয়োগ'। হিন্দু সম্প্রদায়ে নিয়োগ প্রথা চলে আসছে এবং এটাকে বৈধ ও সঠিক বলে মনে করা হয়। হাদীসে বর্ণিত প্রথাটি প্রায় অনুরূপই ছিল। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আর্য-সমাজের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী প্রণীত 'সত্যার্থ প্রকাশ' বইটি পাঠ করা যেতে পারে।
আরেকটি প্রথা এরূপ ছিল যে, কোন লোকের স্ত্রী যখন ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হত (এ সময় মহিলাদের মধ্যে গর্ভধারণের যোগ্যতা বেশি থাকে) তখন সে (কোন সুউচ্চ মর্যাদাবান ব্যক্তি সম্বন্ধে) আপন স্ত্রীকে বলে দিত যে, তুমি তাকে ডেকে এনে নিয়োগ কর (অর্থাৎ তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন কর এবং তার দ্বারা গর্ভধারণের চেষ্টা কর) আর স্বামী আপন স্ত্রী থেকে বিরত থাকত যতদিন না নিয়োগী পুরুষ দ্বারা মহিলাটির গর্ভধারণ প্রকাশ পেত। এরপর যখন গর্ভ প্রকাশ পেত তখন তার স্বামী অভিরুচি অনুযায়ী তার সাথে সঙ্গম করত। উৎকর্ষশীল সন্তান লাভের অভিলাষেই এরূপ করত। সুতরাং এ জাতীয় বিয়েকে (نکاح استبضاع) ইসতিবদা১ বিয়ে বলা হত।
আর অন্য এক (তৃতীয়) প্রথা এরূপ ছিল যে, কতক লোকের একটি 'যুথ' (বর্ণনায় 'رهط' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা দশ থেকে কম সংখ্যার জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে) একজন মহিলার নিকট গমন করতো এবং তাদের প্রত্যেকেই তার সাথে সঙ্গম করত (আর এসব হত পারস্পরিক সম্মতিক্রমে) এরপর যদি সেই মহিলা গর্ভবতী হত এবং সন্তান ভূমিষ্ঠ হত তখন কয়েক দিন পর মহিলাটি সে সব লোকদের তলব করাত (রীতি অনুযায়ী)। কারো উপস্থিত না হওয়ার সুযোগ ছিল না। এ কারণে সবাই উপস্থিত হত। তখন মহিলাটি বলত, যা কিছু হয়েছিল তা তোমরা অবগত আছ। আর (তারই ফল স্বরূপ) আমার এ সন্তান পয়দা হয়েছে। যাকে পসন্দ হয় এমন কারো নাম ডেকে বলত, হে অমুক! এ ছেলে তোমার। এরপর সে ছেলে তারই মনে করা হত। আর সে ব্যক্তি অস্বীকার করতে পারত না।
আর চতুর্থ প্রথা এইরূপ ছিল যে, বহু লোক এক মহিলার সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করত। তার নিকট গমন করতে বাধা ছিল না। তারা দেহপসারিণী ছিল। তারা নিজেদের গৃহদ্বারে নিশান গেঁড়ে রাখত। যে কেউ চাইত তাদের নিকট গমন করত। তাদের কেউ গর্ভধারণ এবং সন্তান প্রসব করলে তার নিকট সেই লোকগুলো সমবেত হত। আর চেহারা লক্ষণবিদদের ডাকা হত। এরপর সে (স্বীয় লক্ষণ বিদ্যা দ্বারা) যার বীর্য থেকে সন্তানকে মনে করত তার ছেলে বলে স্থির করে দিত। তারই মেনে নেয়া হত এবং তারই ছেলে বলা হত। আর মহিলাটি তা অস্বীকার করতে পারত না।
[উন্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রা) জাহিলী যুগের এসব প্রথা বর্ণনা করার পর বলেন] এরপর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দীনে হকসহ প্রেরিত হলেন, তখন তিনি জাহিলী যুগের সেই সব (লজ্জাজনক) প্রথা একেবারে বিলুপ্ত করে দেন। আর বর্তমানে প্রচলিত বিয়েই বাকি থাকে। (বুখারী)
টিকা ১. জাহিলী যুগে আরবের কোন কোন নিম্ন গোত্রে এই লজ্জাজনক প্রথা চালু ছিল। প্রথাটি এরূপ ছিল যে, নিম্ন শ্রেণীর কোন লোক আকাঙ্ক্ষা করত যে, তার ছেলে অশ্বারোহী বীর হবে। অথবা গঠন সৌন্দর্য ও পরিমাণে ভিন্ন রকম হবে। তখন সে অনুরূপ গুণাবলী মন্ডিত ব্যক্তি সম্পর্কে আপন স্ত্রীকে বলত যে, তার সাথে তুমি সম্পর্ক স্থাপন কর, যেন তার ধারা গর্ভধারণ করতে পার, ফলে অনুরূপ গুণাবলী নিয়ে তার দ্বারা ছেলে পয়দা হবে। আর উক্ত নিয়োগী ব্যক্তি দ্বারা গর্ভসঞ্চার না হওয়া পর্যন্ত সে তার স্ত্রী থেকে পৃথক থাকত। আরবী পরিভাষায় এটাকে “استبضاع” বলা হয়। আমি এ শব্দের তরজমা করেছি 'নিয়োগ'। হিন্দু সম্প্রদায়ে নিয়োগ প্রথা চলে আসছে এবং এটাকে বৈধ ও সঠিক বলে মনে করা হয়। হাদীসে বর্ণিত প্রথাটি প্রায় অনুরূপই ছিল। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য আর্য-সমাজের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী প্রণীত 'সত্যার্থ প্রকাশ' বইটি পাঠ করা যেতে পারে।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النِّكَاحَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ كَانَ عَلَى أَرْبَعَةِ أَنْحَاءٍ فَنِكَاحٌ مِنْهَا نِكَاحُ النَّاسِ الْيَوْمَ، يَخْطُبُ الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ وَلِيَّتَهُ أَوِ ابْنَتَهُ، فَيُصْدِقُهَا ثُمَّ يَنْكِحُهَا، وَنِكَاحٌ آخَرُ كَانَ الرَّجُلُ يَقُولُ لاِمْرَأَتِهِ إِذَا طَهُرَتْ مِنْ طَمْثِهَا أَرْسِلِي إِلَى فُلاَنٍ فَاسْتَبْضِعِي مِنْهُ. وَيَعْتَزِلُهَا زَوْجُهَا، وَلاَ يَمَسُّهَا أَبَدًا، حَتَّى يَتَبَيَّنَ حَمْلُهَا مِنْ ذَلِكَ الرَّجُلِ الَّذِي تَسْتَبْضِعُ مِنْهُ، فَإِذَا تَبَيَّنَ حَمْلُهَا أَصَابَهَا زَوْجُهَا إِذَا أَحَبَّ، وَإِنَّمَا يَفْعَلُ ذَلِكَ رَغْبَةً فِي نَجَابَةِ الْوَلَدِ، فَكَانَ هَذَا النِّكَاحُ نِكَاحَ الاِسْتِبْضَاعِ، وَنِكَاحٌ آخَرُ يَجْتَمِعُ الرَّهْطُ مَا دُونَ الْعَشَرَةِ فَيَدْخُلُونَ عَلَى الْمَرْأَةِ كُلُّهُمْ يُصِيبُهَا. فَإِذَا حَمَلَتْ وَوَضَعَتْ، وَمَرَّ عَلَيْهَا لَيَالِيَ بَعْدَ أَنْ تَضَعَ حَمْلَهَا، أَرْسَلَتْ إِلَيْهِمْ فَلَمْ يَسْتَطِعْ رَجُلٌ مِنْهُمْ أَنْ يَمْتَنِعَ حَتَّى يَجْتَمِعُوا عِنْدَهَا تَقُولُ لَهُمْ قَدْ عَرَفْتُمُ الَّذِي كَانَ مِنْ أَمْرِكُمْ، وَقَدْ وَلَدْتُ فَهُوَ ابْنُكَ يَا فُلاَنُ. تُسَمِّي مَنْ أَحَبَّتْ بِاسْمِهِ، فَيَلْحَقُ بِهِ وَلَدُهَا، وَلاَ يَسْتَطِيعُ أَنْ يَمْتَنِعَ مِنْهُ الرَّجُلُ. وَالنِّكَاحُ الرَّابِعِ يَجْتَمِعُ النَّاسُ الْكَثِيرُ فَيَدْخُلُونَ عَلَى الْمَرْأَةِ لاَ تَمْتَنِعُ مِمَّنْ جَاءَهَا وَهُنَّ الْبَغَايَا كُنَّ يَنْصِبْنَ عَلَى أَبْوَابِهِنَّ رَايَاتٍ تَكُونُ عَلَمًا فَمَنْ أَرَادَهُنَّ دَخَلَ عَلَيْهِنَّ، فَإِذَا حَمَلَتْ إِحْدَاهُنَّ وَوَضَعَتْ حَمْلَهَا جُمِعُوا لَهَا وَدَعَوْا لَهُمُ الْقَافَةَ ثُمَّ أَلْحَقُوا وَلَدَهَا بِالَّذِي يَرَوْنَ فَالْتَاطَ بِهِ، وَدُعِيَ ابْنَهُ لاَ يَمْتَنِعُ مِنْ ذَلِكَ ..... فَلَمَّا بُعِثَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْحَقِّ هَدَمَ نِكَاحَ الْجَاهِلِيَّةِ كُلَّهُ، إِلاَّ نِكَاحَ النَّاسِ الْيَوْمَ. (رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যে মহিলাকে বিয়ে করার ইচ্ছা জাগে, তাকে একবার দেখে নেওয়া গুনাহ নয় বরং উত্তম
৩২৪. হযরত মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা'আলা যখন কোন লোকের অন্তরে কোন মহিলাকে বিয়ে করার প্রস্তাব প্রেরণের বাসনা ঢেলে দেন তখন তার জন্য তাকে একবার দেখা গুনাহ নয়। (আহমাদ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ مَسْلَمَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِذَا أَلْقَى اللَّهُ فِي قَلْبِ امْرِئٍ خِطْبَةَ امْرَأَةٍ فَلاَ بَأْسَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَيْهَا. (رواه احمد وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যে মহিলাকে বিয়ে করার ইচ্ছা জাগে, তাকে একবার দেখে নেওয়া গুনাহ নয় বরং উত্তম
৩২৫. হযরত মুগীরা ইবনে শু'বা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি এক মহিলার জন্য বিয়ের প্রস্তাব দিলাম (অথবা প্রস্তাব দেওয়ার ইচ্ছা করলাম) তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে বললেন, তুমি কি তাকে দেখেছ? আমি বললাম, জি-না। তিনি বললেন, তাহলে তাকে এক নজর দেখে নাও। এটা তোমাদের উভয়ের মধ্যে ভালবাসা বিষয়ে অধিক সহায়ক হবে। (আহমদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ الْمُغِيرَةِ بْنَ شُعْبَةَ قَالَ خَطَبْتُ امْرَأَةً فَقَالَ لَيْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ نَظَرْتَ إِلَيْهَا؟ قُلْتُ لاَ. قَالَ: فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا. (رواه احمد والترمذى والنسائى وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাব না দেয়া
৩২৬. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, কোন পুরুষ যেন তার ভাই এর প্রস্তাবের ওপর প্রস্তাব না দেয়, যতক্ষণ না সে বিয়ে করে নেয় অথবা প্রস্তাব ছেড়ে দেয় (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ يَخْطُبُ الرَّجُلُ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ، حَتَّى يَنْكِحَ، أَوْ يَتْرُكَ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ের ব্যাপারে কনের সম্মতি ও ওলীর স্থান।
৩২৭. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, স্বামী দর্শনকারী নারীর স্বীয় সত্তা সম্বন্ধে তার ওলী থেকে অধিক অধিকার রয়েছে এবং কুমারী মেয়ের পিতা তার সত্তা সম্বন্ধে তার সম্মতি গ্রহণ করবে। আর তার মৌনতা হচ্ছে তার সম্মতি। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الثَّيِّبُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَالْبِكْرُ يَسْتَأْذِنُهَا أَبُوهَا فِي نَفْسِهَا وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا. (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ের ব্যাপারে কনের সম্মতি ও ওলীর স্থান।
৩২৮. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, স্বামী দর্শনকারী নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা হবে না। আর কুমারী মেয়েকে তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে করা যাবে না। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তার সম্মতি কিরূপ? তিনি বললেন, (জিজ্ঞাসা অন্তে) তার নিশ্চুপ হয়ে যাওয়া তার সম্মতি বুঝা যাবে। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ولاَ تُنْكَحُ الْاَيَّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ. وَلاَ تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ، قَالَوْا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ إِذْنُهَا قَالَ: أَنْ تَسْكُتَ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩২৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ের ব্যাপারে কনের সম্মতি ও ওলীর স্থান।
৩২৯. হযরত আবূ মূসা আশ'আরী (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করেন যে, ওলী ছাড়া বিয়ে হয় না। (আহমদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, দারিমী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَن أَبِي مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِيٍّ. (رواه احمد والترمذى وابو داؤد وابن ماجه والدارمى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৩০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ে গোপনে না হয়ে প্রকাশ্যে হওয়া আবশ্যক
৩৩০. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ঘোষণার মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন কর এবং তা মসজিদে অনুষ্ঠিত কর। আর তাতে দফ্ বাজাও। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَعْلِنُوا هَذَا النِّكَاحَ وَاجْعَلُوهُ فِي الْمَسَاجِدِ وَاضْرِبُوا عَلَيْهِ بِالدُّفُوفِ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৩১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ের জন্য সাক্ষী প্রয়োজন
৩৩১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে মহিলা নিজের বিয়ে সাক্ষী ছাড়া করল, সে ব্যভিচারিণী। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْبَغَايَا الَّتِي يُنْكِحْنَ أَنْفُسَهُنَّ بِغَيْرِ بَيِّنَةٍ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৩২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ের খুৎবা
৩৩২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে (বিয়ে ইত্যাদি) সব গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন-এ খুৎবা শিক্ষা দিয়েছেন:
إنَّ الحمدَ للهِ، نَستعينُه ونَستغفِرُه، ونَعوذُ باللهِ مِن شُرورِ أنفُسِنا، مَن يَهدِه اللهُ فلا مُضِلَّ له، ومَن يُضلِلْ فلا هاديَ له، وأشهَدُ أنْ لا إلهَ إلَّا اللهُ وأشْهَدُ أنَّ محمَّدًا عبْدُه ورَسولُه، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (آل عمران: 102)، {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (النساء: 1)، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا} (الأحزاب: 70).
সব প্রশংসা আল্লাহরই জন্য উপযুক্ত। আমরা (নিজেদের সব প্রয়োজন ও সব বাসনায়) তাঁরই সাহায্য প্রার্থনাকারী। আর তাঁরই কাছে (নিজেদের ত্রুটি ও গুনাহ সমূহের) ক্ষমা চাই। স্বীয় আত্মার অনিষ্ট সমূহ থেকে আল্লাহরই আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে কেউ গোমরাহ করতে পারে না। আর যার জন্য আল্লাহ হিদায়াত বঞ্চিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাকে কেউ হিদায়াত করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি-আল্লাহ ছাড়া কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নাই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ ﷺ তাঁর বান্দা ও সত্য রাসূল।
হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্চা কর এবং সতর্ক থাক জ্ঞাতি বন্ধন সম্পর্কে। আল্লাহ তোমাদের প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন (তোমাদের সব কাজ দেখেন)। হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর এবং তোমরা আত্মসমর্পণকারী না হয়ে কোন অবস্থায়ই মরবেনা। হে মু'মিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তা হলে তিনি তোমাদের কাজকে ত্রুটিমুক্ত করবেন এবং তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করবেন। যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে তারা অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে। (আবু দাউদ, আহমদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
إنَّ الحمدَ للهِ، نَستعينُه ونَستغفِرُه، ونَعوذُ باللهِ مِن شُرورِ أنفُسِنا، مَن يَهدِه اللهُ فلا مُضِلَّ له، ومَن يُضلِلْ فلا هاديَ له، وأشهَدُ أنْ لا إلهَ إلَّا اللهُ وأشْهَدُ أنَّ محمَّدًا عبْدُه ورَسولُه، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (آل عمران: 102)، {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (النساء: 1)، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا} (الأحزاب: 70).
সব প্রশংসা আল্লাহরই জন্য উপযুক্ত। আমরা (নিজেদের সব প্রয়োজন ও সব বাসনায়) তাঁরই সাহায্য প্রার্থনাকারী। আর তাঁরই কাছে (নিজেদের ত্রুটি ও গুনাহ সমূহের) ক্ষমা চাই। স্বীয় আত্মার অনিষ্ট সমূহ থেকে আল্লাহরই আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে কেউ গোমরাহ করতে পারে না। আর যার জন্য আল্লাহ হিদায়াত বঞ্চিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাকে কেউ হিদায়াত করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি-আল্লাহ ছাড়া কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নাই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ ﷺ তাঁর বান্দা ও সত্য রাসূল।
হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্চা কর এবং সতর্ক থাক জ্ঞাতি বন্ধন সম্পর্কে। আল্লাহ তোমাদের প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন (তোমাদের সব কাজ দেখেন)। হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর এবং তোমরা আত্মসমর্পণকারী না হয়ে কোন অবস্থায়ই মরবেনা। হে মু'মিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তা হলে তিনি তোমাদের কাজকে ত্রুটিমুক্ত করবেন এবং তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করবেন। যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে তারা অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে। (আবু দাউদ, আহমদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: عَلَّمَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُطْبَةَ الْحَاجَةِ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ» {يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}، {يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}. (فى شرح السنة عن ابن مسعود فى خطبة الحاجة من النكاح وغيره)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৩৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মহরের গুরুত্ব ও এর আবশ্যকতা
উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা)-এর সেই বর্ণনা যা সহীহ বুখারীর বরাতে বিয়ের ধারাবাহিকতায় সর্ব প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে, তা থেকে জানা গেল যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নবুওয়াতের পূর্বে জাহিনী যুগে বিয়ের যে সম্মানজনক প্রথা আরববাসীর মধ্যে ছিল, তাতেও মহর নির্ধারণ করা হত। অর্থাৎ বিবাহকারী পুরুষের জন্য প্রয়োজন হত যে, স্ত্রীকে এক নিদিষ্ট পরিমাণ অর্থ আদায় করে নিজের জিম্মায় গ্রহণ করবে। ইসলামে এ প্রথা বহাল রাখা হয়েছে। মহর এ কথার প্রতীক যে, কোন মহিলাকে বিয়েকারী পুরুষ মহিলাটির প্রার্থী ও আকাঙ্খী এবং সে স্বীয় অবস্থা ও ক্ষমতা অনুযায়ী তাকে মহরের উপঢৌকন পেশ করছে, অথবা ইহা পরিশোধের দায়িত্ব নিজের জিম্মায় নিয়ে নিচ্ছে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ মহরের কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করেননি। কেননা, বিয়েকারীদের অবস্থা, তাদের প্রাচুর্য ও সামর্থ্য ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। বস্তুত রাসূলুল্লাহ ﷺ আপন কন্যাগণের মহর পাঁচশ দিরহাম (অথবা এর কাছাকাছি) নির্ধারণ করেন। আর তাঁর অধিকাংশ পবিত্র স্ত্রীগণের মহরও এরূপই ছিল। তবে হুজুর ﷺ-এর কালে এবং তাঁর সাক্ষাতে এ থেকে বহু কম ও বহু বেশিও মহর নির্ধারণ করা হত। হজুর ﷺ-এর কন্যাগণের ও পবিত্র স্ত্রীগণের মহর অনুসরণ আবশ্যক বলে মনে করা হত না।
মহরের ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসের নির্দেশাবলী থেকে এটাও জানা যায় যে, এটা নিছক কাল্পনিক ও পদ্ধতিগত ব্যাপার নয় এবং মৌখিক জমাখরচ জাতীয় বিষয়ও নয়। বরং এটা পরিশোধ করা স্বামীর জন্য অপরিহার্য। তবে স্ত্রী স্বয়ং নিতে না চাইলে ভিন্ন কথা।
কুরআন পাকে স্পষ্ট বলা হয়েছে- وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً “তোমরা নারীদেরকে তাদের মহর স্বেচ্ছায় প্রদান কর।” (আল-কুরআন ৪:৪)
এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ যে তাকীদ ও কঠোর বাণী উচ্চারণ করেছেন তা সামনে লিপিবদ্ধ কোন কোন হাদীস থেকে জানা যাবে।
উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা)-এর সেই বর্ণনা যা সহীহ বুখারীর বরাতে বিয়ের ধারাবাহিকতায় সর্ব প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে, তা থেকে জানা গেল যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নবুওয়াতের পূর্বে জাহিনী যুগে বিয়ের যে সম্মানজনক প্রথা আরববাসীর মধ্যে ছিল, তাতেও মহর নির্ধারণ করা হত। অর্থাৎ বিবাহকারী পুরুষের জন্য প্রয়োজন হত যে, স্ত্রীকে এক নিদিষ্ট পরিমাণ অর্থ আদায় করে নিজের জিম্মায় গ্রহণ করবে। ইসলামে এ প্রথা বহাল রাখা হয়েছে। মহর এ কথার প্রতীক যে, কোন মহিলাকে বিয়েকারী পুরুষ মহিলাটির প্রার্থী ও আকাঙ্খী এবং সে স্বীয় অবস্থা ও ক্ষমতা অনুযায়ী তাকে মহরের উপঢৌকন পেশ করছে, অথবা ইহা পরিশোধের দায়িত্ব নিজের জিম্মায় নিয়ে নিচ্ছে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ মহরের কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করেননি। কেননা, বিয়েকারীদের অবস্থা, তাদের প্রাচুর্য ও সামর্থ্য ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। বস্তুত রাসূলুল্লাহ ﷺ আপন কন্যাগণের মহর পাঁচশ দিরহাম (অথবা এর কাছাকাছি) নির্ধারণ করেন। আর তাঁর অধিকাংশ পবিত্র স্ত্রীগণের মহরও এরূপই ছিল। তবে হুজুর ﷺ-এর কালে এবং তাঁর সাক্ষাতে এ থেকে বহু কম ও বহু বেশিও মহর নির্ধারণ করা হত। হজুর ﷺ-এর কন্যাগণের ও পবিত্র স্ত্রীগণের মহর অনুসরণ আবশ্যক বলে মনে করা হত না।
মহরের ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসের নির্দেশাবলী থেকে এটাও জানা যায় যে, এটা নিছক কাল্পনিক ও পদ্ধতিগত ব্যাপার নয় এবং মৌখিক জমাখরচ জাতীয় বিষয়ও নয়। বরং এটা পরিশোধ করা স্বামীর জন্য অপরিহার্য। তবে স্ত্রী স্বয়ং নিতে না চাইলে ভিন্ন কথা।
কুরআন পাকে স্পষ্ট বলা হয়েছে- وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً “তোমরা নারীদেরকে তাদের মহর স্বেচ্ছায় প্রদান কর।” (আল-কুরআন ৪:৪)
এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ যে তাকীদ ও কঠোর বাণী উচ্চারণ করেছেন তা সামনে লিপিবদ্ধ কোন কোন হাদীস থেকে জানা যাবে।
৩৩৩. মাইমুন আল কুরদী কর্তৃক স্বীয় পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন নারীকে কম অথবা দেশি মহরে বিয়ে করল আর তার অন্তরে তার (স্ত্রীর) মহরের হক আদায়ের ইচ্ছা নেই, কিয়ামতের দিন সে আল্লাহর সামনে ব্যভিচারীরূপে উপস্থিত হবে। (তাবরানীর আওসত সগীর)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مَيْمُونٍ الْكُرْدِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّمَا رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً عَلَى مَا قَلَّ مِنَ الْمَهْرِ أَوْ كَثُرَ لَيْسَ فِي نَفْسِهِ أَنْ يُؤَدِّيَ إِلَيْهَا حَقَّهَا لَقِيَ اللَّهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَهُوَ زَانٍ. (رواه الطبرانى فى الاوسط والصغير)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৩৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মহরের গুরুত্ব ও এর আবশ্যকতা
৩৩৪. আবু সালিমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রা) কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর মহর কত ছিল? তিনি বললেন, তাঁর স্ত্রীগণের জন্য তাঁর মহর ছিল সাড়েবার উকিয়া ও এক নিশি। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ كَمْ كَانَ صَدَاقُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَتْ كَانَ صَدَاقُهُ لأَزْوَاجِهِ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً وَنَشٌّ. (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৩৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মহরের গুরুত্ব ও এর আবশ্যকতা
৩৩৫. হযরত উম্মে হাবীবা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহশ এর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। (এবং স্বীয় স্বামীর সাথে তিনি মক্কা থেকে আবিসিনিয়া রাজ্যে হিজরত করেছিলেন। সেই আবিসিনিয়ায়) উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহশ মৃত্যুবরণ করেন। এরপর আবিসিনিয়ার বাদশাহ নাজ্জাশী রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে তার বিয়ে সংঘটিত করেন এবং হুজুর ﷺ-এর পক্ষ থেকে তাঁকে চার হাজার দিরহাম মহর আদায় করেন। আর শুরাহবীল বিন হাসানা-এর সাথে তাঁকে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট প্রেরণ করেন। (আবু দাউদ, নাসাঈ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ جَحْشٍ فَمَاتَ بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ فَزَوَّجَهَا النَّجَاشِيُّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَمْهَرَهَا عنه أَرْبَعَةَ آلاَفٍ وَبَعَثَ بِهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَ شُرَحْبِيلَ ابْنِ حَسَنَةَ. (رواه ابوداؤد والنسائى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৩৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ের পর মুবারকবাদ ও দু'আ
দুনিয়ার বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠির মধ্যে বিয়ে শাদী উপলক্ষে মুবারকবাদ প্রদানের বিভিন্ন প্রথা চালু আছে। এ উপলক্ষে রাসুলুল্লাহ ﷺ স্বীয় শিক্ষা ও কার্যপ্রণালী দ্বারা এ পদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন যে, উভয়ের জন্য আল্লাহর কাছে কল্যাণের দু'আ করা হবে। যার অর্থ আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে পরিপূর্ণ কল্যাণ ও উত্তম জিনিস দান করুন ও তাঁর অনুগ্রহের বৃষ্টি বর্ষণ করুন।
দুনিয়ার বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠির মধ্যে বিয়ে শাদী উপলক্ষে মুবারকবাদ প্রদানের বিভিন্ন প্রথা চালু আছে। এ উপলক্ষে রাসুলুল্লাহ ﷺ স্বীয় শিক্ষা ও কার্যপ্রণালী দ্বারা এ পদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন যে, উভয়ের জন্য আল্লাহর কাছে কল্যাণের দু'আ করা হবে। যার অর্থ আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে পরিপূর্ণ কল্যাণ ও উত্তম জিনিস দান করুন ও তাঁর অনুগ্রহের বৃষ্টি বর্ষণ করুন।
৩৩৬. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুল ﷺ যখন কোন বিবাহিত লোককে মুবারকবাদ জানাতেন- বলতেন, আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন এবং তোমাদের উভয়ের ওপর বরকত নাযিল করুন আর তোমাদের উভয়কে কল্যাণের মধ্যে একত্রিত রাখুন। (আহমদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا رَفَّأَ الإِنْسَانَ إِذَا تَزَوَّجَ قَالَ: بَارَكَ اللَّهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكَ وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ. (رواه احمد والترمذى وابوداؤد وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৩৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ের পর মুবারকবাদ ও দু'আ
৩৩৭. রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যখন তোমাদের কোন ব্যক্তি কোন নারীকে বিয়ে করে অথবা সেবাকারী কোন দাস-দাসীকে ক্রয় করে, তবে এ দু'আ করবে-হে আল্লাহ! এর মধ্যে যে কল্যাণ রয়েছে এবং আপনি তার প্রকৃতিতে যে কল্যাণ রেখেছেন আমি আপনার কাছে তা চাই, আর তার অনিষ্ট হতে এবং যে অনিষ্ট তার প্রকৃতিতে রেখেছেন তা থেকে পানাহ চাই। (আবু দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا تَزَوَّجَ أَحَدُكُمُ امْرَأَةً أَوِ اشْتَرَى خَادِمًا فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَمِنْ شَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ. (رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৩৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ে যত সহজ ও হালকা হবে ততই বরকতময়
৩৩৮. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন, সেই বিয়ে অধিক কল্যাণকর যে বিয়ের বোঝা হালকা। (বায়হাকীঃ শু'আবুল ঈমান)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَعْظَمُ النِّكَاحِ بَرَكَةً أَيْسَرُهُ مُؤُونَةً " (رواه البيهقى فى شعب الايمان)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৩৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ফাতিমী উপঢৌকন
৩৩৯. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺের উপঢৌকন হিসাবে স্বীয় কন্যা ফাতিমাকে এসব জিনিন দেন-একটি ডোরা চাদর, একটি মশক ও ইযখার যাস ভর্তি একটি বালিশ। (নাসাঈ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَلِيٍّ قَالَ جَهَّزَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاطِمَةَ فِي خَمِيلٍ وَقِرْبَةٍ وَوِسَادَةٍ حَشْوُهَا إِذْخِرٌ. (رواه النسائى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৩৪০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ে পরবর্তী ওলীমা
নিজের পছন্দ অনুযায়ী কোন নারীর সাথে বিয়ে সম্পন্ন হওয়া নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলার বিরাট অনুগ্রহ ও আত্মীক আনন্দের ব্যাপার। এ জন্য আল্লাহ তা'আলার কৃতজ্ঞতা এবং নিজের আন্তরিক আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটুক এটাই বিয়ের দাবি। ওলীমা তারই বাস্তব রূপ। এতে বিয়েকারী পুরুষ ও তার পরিবারস্থ লোকজনের পক্ষ থেকে শালীনতার সাথে একথা ঘোষিত হয়ে যায় যে, এ নয়া আত্মীয়তায় আমরা উৎকণ্ঠাহীন আনন্দিত। বস্তুত আমরা এটাকে আল্লাহ তা'আলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ যোগ্য অনুগ্রহ মনে করি। এতে বিবাহিতা নারী ও তার পরিবারস্থ লোকদের জন্য বিরাট আনন্দ ও আত্মতুষ্টির কারণ নিহিত রয়েছে। এর দ্বারা পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভালবাসা বৃদ্ধি পায়। রাসূলুল্লাহ ﷺ স্বীয় নির্দেশ ও কার্যাবলী দ্বারা এ বিষয়ে দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
নিজের পছন্দ অনুযায়ী কোন নারীর সাথে বিয়ে সম্পন্ন হওয়া নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলার বিরাট অনুগ্রহ ও আত্মীক আনন্দের ব্যাপার। এ জন্য আল্লাহ তা'আলার কৃতজ্ঞতা এবং নিজের আন্তরিক আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটুক এটাই বিয়ের দাবি। ওলীমা তারই বাস্তব রূপ। এতে বিয়েকারী পুরুষ ও তার পরিবারস্থ লোকজনের পক্ষ থেকে শালীনতার সাথে একথা ঘোষিত হয়ে যায় যে, এ নয়া আত্মীয়তায় আমরা উৎকণ্ঠাহীন আনন্দিত। বস্তুত আমরা এটাকে আল্লাহ তা'আলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ যোগ্য অনুগ্রহ মনে করি। এতে বিবাহিতা নারী ও তার পরিবারস্থ লোকদের জন্য বিরাট আনন্দ ও আত্মতুষ্টির কারণ নিহিত রয়েছে। এর দ্বারা পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভালবাসা বৃদ্ধি পায়। রাসূলুল্লাহ ﷺ স্বীয় নির্দেশ ও কার্যাবলী দ্বারা এ বিষয়ে দিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
৩৪০. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা)-এর (কাপড় বা শরীর এর) ওপর রাসূলুল্লাহ ﷺ হলুদ রং এর আলামত দেখতে পেয়ে তাঁকে বললেন, এটি কি? তিনি বললেন, খেজুরের বিচি পরিমাণ সোনা দিয়ে আমি এক মহিলাকে বিয়ে করেছি। রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন, আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন। ওলীমা কর, যদি একটি বকরী দ্বারাই হোক। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَثَرَ صُفْرَةٍ فَقَالَ: مَا هَذَا؟ قَالَ: إِنِّي تَزَوَّجْتُ امْرَأَةً عَلَى وَزْنِ نَوَاةٍ مِنْ ذَهَبٍ. قَالَ: بَارَكَ اللَّهُ لَكَ، أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক: