মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৫০৬ টি

হাদীস নং: ৫০০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অত্যাচারী শাসকের সামনে সত্য কথা বলা উত্তম জিহাদ
৫০০. আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, অত্যাচারী শাসকের সামনে সত্য কথা বলা উত্তম জিহাদ। (তিরমিযী, আবু দাউদ, ইব্‌ন মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي سَعِيْدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَفْضَلُ الْجِهَادِ: كَلِمَةُ حَقٍّ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ " (رواه الترمذى وابوداؤد وابن ماجه)
হাদীস নং: ৫০১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নারীকে রাষ্ট্রের নেত্রী বানানো ঠিক নয়
৫০১. হযরত আবূ বাকরা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট যখন সংবাদ পৌঁছল যে, ইরানীরা কিসরার কন্যাকে নিজেদের নেতৃত্বে বরণ করেছে তখন তিনি বললেন, সেই জাতি কখনো সফলকাম হবে না, যারা নিজেদের রাষ্ট্রীয় কাজ নারীর ওপর অর্পণ করেছে। (বুখারী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، قَالَ: لَمَّا بَلَغَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ أَهْلَ فَارِسَ، قَدْ مَلَّكُوا عَلَيْهِمْ بِنْتَ كِسْرَى، قَالَ: «لَنْ يُفْلِحَ قَوْمٌ وَلَّوْا أَمْرَهُمُ امْرَأَةً» (رواه البخارى)
হাদীস নং: ৫০২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ খলীফা স্বীয় স্থলবর্তী মনোনয়ন করতে পারেন আর নাগরিকদের নির্বাচনের ওপরও ছেড়ে দিতে পারেন

বর্তমান যুগে পাশ্চাত্য গণতন্ত্রের ধারা প্রভাবান্বিত হওয়ার ফলে কতক লোক বলতে শুরু করে দিয়েছে যে, 'ইসলামী পদ্ধতিতে' ইসতিখলাফ (অর্থাৎ রাষ্ট্র প্রধানের পক্ষ থেকে স্বীয় স্থলবর্তীর মনোনায়ন)-এর সুযোগ নেই। ঘটনা হচ্ছে-এ দৃষ্টিভঙ্গি কেবল প্রভাবান্বিতের ফসল। ইসতিখলাফ ও মনোনয়ন ঠিক ও অঠিক হওয়া, পরিস্থিতি ও ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল। যদি যামানার খলীফা (বর্তমান রাষ্ট্র প্রধান) কোন ব্যক্তির সম্বন্ধে পূর্ণ বিশ্বস্ততার সাথে একশত ভাগ আশ্বস্ত হন যে, এ পদের দায়িত্বসমূহ পালন করার যোগ্যতা তার মধ্যে অধিক রয়েছে এবং জনসাধারণ সন্তুষ্টচিত্তে তাঁর নেতৃত্ব গ্রহণ করবে এমতাবস্থায় রাষ্ট্রের জন্য তাঁকে মনোনয়ন দান কেবল বৈধই নয় বরং উত্তম হবে। সিদ্দীকে আকবর (রা) তাঁর পরবর্তী যুগের জন্য খলীফা হিসাবে হযরত উমর ফারুক (রা)-কে মনোনয়ন দান এরূপ অবস্থায়ই করেছিলেন এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ স্বীয় ইনতিকালের আগে সিদ্দীকে আকবার আবু বকর-এর নাম ঘোষণার ইচ্ছা করেছিলেন। পুনরায় তাঁর নিকট একথা প্রতিভাত ও একীন হয় যে, তাঁর পরে খলীফা সিদ্দীকে আকবরই হতেন। এটাই আল্লাহ তা'আলার ইচ্ছা এবং এটাই মুসলমানদের সিদ্ধান্ত হবে। তাই তিনি নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাঁকে মনোনয়ন করেননি। যদিও স্বীয় ইস্তিকালের রোগের সময় নিজের স্থলে তাঁকে নামাযের ইমাম বানিয়ে সে দিকে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। বস্তুত যদি বৈধ কোন খলীফা দীন ও উম্মার কল্যাণে কোন ব্যক্তিকে মনোনয়ন করতে ভাল মনে করেন তবে তাঁর এ অধিকার আছে এবং এভাবে সেই মনোনীত ব্যক্তি বৈধ খলীফা হবেন।

আর যদি স্বয়ং মনোনয়নের পরিবর্তে নির্বাচক মন্ডলীর এক দলকে নির্বাচনের অধিকার দেওয়া ভাল মনে করেন এবং তাই করেন তবে এটাও ঠিক হবে, যেমন হযরত উমর (রা) করেছিলেন। আর যদি কখনো নির্বাচনের গন্ডি জনসাধারণের ধার্মিক ও জ্ঞানী জনমন্ডলী পর্যন্ত বিস্তৃত করা উত্তম মনে করা হয় তবে এরূপ করাও বৈধ হবে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ এবং তাঁর খুলাফায়ে রাশিদীনের কর্ম পদ্ধতি থেকে এটাই জানা যায় যে, প্রকৃত লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে উদ্দেশ্য। খলীফা ও শাসক নির্বাচনের কোন বিশেষ পদ্ধতি ও পন্থা নির্দিষ্ট নেই। এবং বিষয়টি দীনী উদ্দেশ্যে শরী'আতের গন্ডি ও নির্দেশের প্রতি লক্ষ্য রেখে অবস্থার প্রেক্ষিতে স্থির করা যেতে পারে।
৫০২. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর ইন্তিকালের রোগের সময় আমাকে বলেছিলেন, (হে আয়েশা) তোমার পিতা-আবূ বকর ও তোমার ভাই (আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকর) কে আমার নিকট ডেকে আন যেন আমি (খিলাফত সম্পর্কে) লিখে দেই। আমার আশংকা হচ্ছে (খিলাফতের) কোন আকাঙ্খাকারী আকাঙ্খা করবে এবং কোন কথক বলবে, আমি এর উপযুক্ত, অথচ সে এর উপযুক্ত নয়। আর আল্লাহ ও মু'মিনদের নিকট আবু বকর ছাড়া কেউ মনঃপূত হবে না। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فِي مَرَضِهِ " ادْعِي لِي أَبَا بَكْرٍ، أَبَاكِ، وَأَخَاكِ، حَتَّى أَكْتُبَ كِتَابًا، فَإِنِّي أَخَافُ أَنْ يَتَمَنَّى مُتَمَنٍّ وَيَقُولُ قَائِلٌ: أَنَا أَوْلَى، وَيَأْبَى اللهُ وَالْمُؤْمِنُونَ إِلَّا أَبَا بَكْرٍ " (رواه مسلم)
হাদীস নং: ৫০৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নবুওয়তের রাজপথে খিলাফত কেবল ৩০ বছর
৫০৩. হযরত সাফীনা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, নবুওয়তী খিলাফত (অর্থাৎ নববী নিয়ম-নীতি ও কর্ম-পদ্ধতির অনুসরণে রাষ্ট্র পরিচালনা) কেবল ৩০ বছর। এরপর আল্লাহ যাকে চান বাদশাহী দান করবেন। (আবু দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ سَفِينَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خِلَافَةُ النُّبُوَّةِ ثَلَاثُونَ سَنَةً، ثُمَّ يُؤْتِي اللَّهُ الْمُلْكَ مَنْ يَشَاءُ» (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ৫০৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বাদশাহ্ ও শাসকদেরকে উপদেশ প্রদানের সঠিক পদ্ধতি
৫০৪. হযরত আয়ায ইবনে গুনম (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, যে বাড়ি কোন রাষ্ট্রীয় শাসককে কোন বিষয়ে উপদেশ প্রদান করতে চায় তবে সে প্রকাশ্যে (অন্যদের সামনে) উপদেশ দিবে না। বরং তার হাত নিজের হাতে নিয়ে নির্জনে নিজের কথা তাকে বলবে। এরপর যদি সে গ্রহণ করে তবে উত্তম (অর্থাৎ উদ্দেশ্য অর্জিত হয়ে গেল) আর যদি গ্রহণ না করে ভবে উপদেশদাতা তার দায়িত্ব পূর্ণ করলো। (আহমদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عِيَاضِ بْنُ غَنْمٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أَرَادَ أَنْ يَنْصَحَ لِذِىْ سُلْطَانٍ بِأَمْرٍ، فَلَا يُبْدِ لَهُ عَلَانِيَةً، وَلَكِنْ لِيَأْخُذْ بِيَدِهِ، فَيَخْلُوَ بِهِ، فَإِنْ قَبِلَ مِنْهُ فَذَالِكَ، وَإِلَّا كَانَ قَدْ أَدَّى الَّذِي عَلَيْهِ» (رواه احمد)
হাদীস নং: ৫০৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শাসকদের অত্যাচার ও কঠোরতা আমাদেরই মন্দ কর্মের পরিণাম। আল্লাহর শাস্তি স্বরূপ, তাই শাসকদেরকে অভিশাপ না দিয়ে আল্লাহর প্রতি ধাবিত হবে এবং তাঁর নিকট দু'আ করবে
৫০৫. হযরত আবু দারদা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, আল্লাহ বলেন, আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া কোন মাবুদ ও মালিক নেই। আমি শাসকদের মালিক এবং বাদশাহদের বাদশাহ। জগতের বাদশাহদের অন্তর আমার কুদরতী হাতে। (আমার কানুন হচ্ছে) যখন আমার বান্দাগণ আমার আনুগত্য করে তখন আমি তাদের শাসকদের অন্তর রহমত ও দয়ার সাথে সেই বান্দাদের প্রতি ধাবিত করে দেই। আর যখন বান্দাগণ আমার অবাধ্যতার পথ গ্রহণ করে তখন আমি তাদের শাসকদের অন্তরকে ক্রোধ ও শাস্তির সাথে সেই বান্দাদের প্রতি ফিরিয়ে দেই। এরপর তারা তাদেরকে ভীষণ কষ্ট দিয়ে থাকে। সুতরাং তোমরা নিজেদেরকে শাসকদের বিরুদ্ধে বদ দু'আয় লিপ্ত করো না; বরং আমার স্মরণে নিজেকে লিপ্ত কর, আমার নিকট কাকুতি-মিনতি কর, যেন শাসকদের শাস্তি হতে মুক্তি দিতে আমি যথেষ্ট হই। (হিলিয়া: আবু নু'আইম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ: أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا، مَالِكُ الْمُلُوكِ وَمَلِكُ الْمُلُوكِ، قُلُوبُ الْمُلُوكِ فِي يَدِي، وَإِنَّ الْعِبَادَ إِذَا أَطَاعُونِي حَوَّلْتُ قُلُوبَ مُلُوكِهِمْ عَلَيْهِمْ بِاالرَّحْمَةِ وَالرَّأْفَةِ، وَإِنَّ الْعِبَادَ إِذَا عَصَوْنِي حَوَّلْتُ قُلُوبَهُمْ عَلَيْهِمْ بِالسَّخْطَةِ وَالنِّقْمَةِ فَسَامُوهُمْ سُوءَ الْعَذَابِ، فَلَا تَشْغَلُوا أَنْفُسَكُمْ بِالدُّعَاءِ عَلَى الْمُلُوكِ، وَلَكِنِ اشْتَغِلُوا اَنْفُسَكُمْ بِالذِّكْرِ وَالتَّضَرُّعِ كَىْ أَكْفِيْكُمْ مُلُوكَكُمْ» (رواه ابو نعيم فى الحلية)