মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

সলাত অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৩৫১ টি

হাদীস নং: ২২১
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ চাশত অথবা ইশরাকের সালাত
২২১. হযরত মু'আযা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমি হযরত আয়েশা (রা.)-এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ ﷺ চাশতের সালাত কত রাক'আত আদায় করেন। তিনি বললেন: চার আক'আত, তবে কখনো আল্লাহ্ চাইলে বেশিও আদায় করতেন। (মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ مُعَاذَةَ ، أَنَّهَا سَأَلَتْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا ، كَمْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي صَلَاةَ الضُّحَى؟ قَالَتْ : « أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ وَيَزِيدُ مَا شَاءَ » . (رواه مسلم)
হাদীস নং: ২২২
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ চাশত অথবা ইশরাকের সালাত
২২২. হযরত উম্মু হানী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন নবী কারীম ﷺ তাঁর ঘরে যান এবং গোসল করেন। তারপর আট রাক'আত সালাত আদায় করেন। তিনি (উম্মু হানী) বলেন: আমি তাঁকে কখনো এরূপ সংক্ষিপ্ত সালাত আদায় করতে দেখিনি। তবে তিনি রুকু-সিজদা পুরোপুরি আদায় করেছিলেন। অন্য বর্ণনায় আছে, হযরত উম্মু হানী (রা) বলেন: এটি ছিল চাশতের সময়। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أُمِّ هَانِئٍ قَالَتْ : « إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ بَيْتَهَا يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ ، فَاغْتَسَلَ وَصَلَّى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ ، فَلَمْ أَرَ صَلاَةً قَطُّ أَخَفَّ مِنْهَا ، غَيْرَ أَنَّهُ يُتِمُّ الرُّكُوعَ وَالسُّجُودَ وَفِىْ رِوَايَةٍ اُخْرَى وَذَالِكَ ضُحًى » (رواه البخارى ومسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৩
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ চাশত অথবা ইশরাকের সালাত
২২৩. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি গুরুত্বের সাথে চাশতের দুই রাক'আত সালাত আদায় করবে, তার পাপরাশি ক্ষমা করা হবে যদিও তা সমুদ্রের ফেনা রাশির সমান হয়। (আহমাদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ حَافَظَ عَلَى شُفْعَةِ الضُّحَى ، غُفِرَتْ لَهُ ذُنُوبُهُ ، وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ " (رواه احمد والترمذى وابن ماجه)
হাদীস নং: ২২৪
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ চাশত অথবা ইশরাকের সালাত
২২৪. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার প্রিয় বন্ধু তিনটি বিষয়ে আমাকে সবিশেষ ওয়াসীয়াত করেছেন। তা হল, প্রতি মাসে তিনদিন সিয়াম পালন করা, চাশতের দুই রাক'আত সালাত আদায় করা এবং নিদ্রা যাবার পূর্বে যেন আমি বিতরের সালাত আদায় করি। (মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : أَوْصَانِي خَلِيلِي بِثَلَاثٍ : « بِصِيَامِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ، وَرَكْعَتَيِ الضُّحَى ، وَأَنْ أُوتِرَ قَبْلَ أَنْ أَرْقُدَ » . (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২২৫
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ চাশত অথবা ইশরাকের সালাত
২২৫. হযরত আবূ সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ চাশতের সালাত আদায় করতেন যাতে আমরা বলাবলি করতাম যে, তিনি তো আর কখনো ছেড়ে দিবেন না। আবার কখনো তা ছেড়ে দিতেন যাতে আমরা বলাবলি করতাম যে, তিনি তা আর কখনো আদায় করবেন না। (তিরমিযী)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ : " كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي الضُّحَى حَتَّى نَقُولَ : لَا يَدَعُهَا ، وَيَدَعُهَا حَتَّى نَقُولَ : لَا يُصَلِّيهَا " (رواه والترمذى)
হাদীস নং: ২২৬
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিশেষ সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নফল সালাতসমূহ
ফজরের আগে কিংবা পরে নফলসমূহ এবং এমনিভাবে তাহাজ্জুদ, ইশরাক ও চাশতের সালাত-এসবের জন্য সময় নির্দিষ্ট রয়েছে। কিন্তু কিছু নফল সালাত এমন রয়েছে যা নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় বরং বিশেষ অবস্থার সাথে সম্পৃক্ত। যেমন তাহিয়্যাতুল উযূ অথবা তাহিয়্যাতুল মসজিদ, এমনিভাবে হাজতের সালাত, তাওবার সালাত, ইস্তিখারার সালাত ইত্যাদি। স্পষ্টতই এসব সালাত কোন নির্দিষ্ট সময়ের সাথে সম্পৃক্ত নয়, বরং সময় ও অবস্থার দাবির প্রক্ষিতে এসকল সালাত আদায় করা হয়। এসবের মধ্যে তাহিয়্যাতুল উযূর সম্পর্কীয় হাদীস উযূর বর্ণনায় পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে। এমনিভাবে তাহিয়্যাতুল মাসজিদ এর সাথে সম্পৃক্ত হাদীসমূহ ও 'মসজিদের গুরুত্ব ও ফযীলত' শিরোনামের আওতায় বর্ণনা করা হয়েছে। অবশিষ্ট নফল সালাতসমূহের সাথে সম্পৃক্ত হাদীসমূহ পাঠ করা যেতে পারে।

সালাতুল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনার সালাত)
২২৬. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু বকর (রা) আমাকে বলেছেন এবং তিনি সত্য বলেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি কোন পাপ কাজ করবে, তারপর পবিত্রতা অর্জন করে কিছু সালাত আদায় করবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, তখন আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিবেন। তারপর তিনি এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন- وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ এবং তারা সেই সকল লোক, যারা কখনও কোন অশ্লীল কাজ করে ফেললে বা (অন্য কোনওভাবে) নিজেদের প্রতি জুলুম করলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার ফলশ্রুতিতে নিজেদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। (৩, সূরা আল ইমরান: ১৩৫)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عَلِيٍّ قَالَ : حَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ وَصَدَقَ أَبُو بَكْرٍ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : « مَا مِنْ رَجُلٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا ثُمَّ يَقُومُ فَيَتَطَهَّرُ ، ثُمَّ يُصَلِّي ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ إِلَّا غَفَرَ لَهُ » ، ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الآيَةَ {وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ } (رواه الترمذى)
হাদীস নং: ২২৭
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালাতুল হাজাত (প্রয়োজন পূরণের সালাত)
২২৭. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আবূ আওফা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে অথবা আদম সন্তানের কাছে কোন প্রয়োজন রয়েছে সে যেন প্রথমে উত্তমরূপে উযূ করে, তারপর দুই রাক'আত সালাত আদায় করে, এরপর আল্লাহর প্রশংসা করে এবং নবী কারীম ﷺ এর প্রতি দুরূদ ও সালাম পাঠ করে, তারপর এই দু'আ পাঠ করে:

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ‌الحَلِيمُ ‌الكَرِيمُ، سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ العَرْشِ العَظِيمِ، الحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ العَالَمِينَ، أَسْأَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ، وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ، وَالغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ، وَالسَّلَامَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ، لَا تَدَعْ لِي ذَنْبًا إِلَّا غَفَرْتَهُ، وَلَا هَمًّا إِلَّا فَرَّجْتَهُ، وَلَا حَاجَةً هِيَ لَكَ رِضًا إِلَّا قَضَيْتَهَا يَا أَرْحَمَ الرَّاحِمِينَ "

"আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি পরম সহিষ্ণু ও মহামহিম। মহান আরশের অধিপতি আল্লাহ্ অতি পবিত্র। সমস্ত প্রশংসা সারা জাহানের প্রতি পালক আল্লাহর জন্য। হে আল্লাহ্! আমি তোমার কাছে তোমার রহমত লাভের উপায়সমূহ, তোমার ক্ষমা লাভের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, প্রত্যেক কল্যাণকর কাজের ধনভাণ্ডার এবং অকল্যাণকর কাজ থেকে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। হে মহা অনুগ্রহকারী! আমার প্রতিটি অপরাধ ক্ষমা করে দাও, আমার প্রতিটি দুশ্চিন্তা দূর করে দাও এবং যে প্রয়োজন ও চাহিদা তোমার সন্তোষ লাভের কারণ হয় তা পরিপূর্ণ করে দাও'। (তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ كَانَتْ لَهُ حَاجَةٌ إِلَى اللَّهِ ، أَوْ إِلَى أَحَدٍ مِنْ بنى آدم ، فَلْيَتَوَضَّأْ فَلْيُحْسِنِ الْوُضُوْءَ ثُمَّ لِيُصَلِّ رَكْعَتَيْنِ ، ثُمَّ لِيُثْنِ عَلَى اللهِ عَزَّ تَعَالَى ، وَلِيُصَلِّ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، ثُمَّ لِيَقُلْ : لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ ، سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ، أَسْأَلُكَ مُوجِبَاتِ رَحْمَتِكَ ، وَعَزَائِمَ مَغْفِرَتِكَ ، وَالْغَنِيمَةَ مِنْ كُلِّ بِرٍّ ، وَالسَّلَامَةَ مِنْ كُلِّ إِثْمٍ ، لَا تَدَعَ لِي ذَنْبًا إِلَّا غَفَرْتَهُ ، وَلَا هَمًّا إِلَّا فَرَّجْتَهُ ، وَلَا حَاجَةً هِيَ لَكَ رِضًا إِلَّا قَضَيْتَهَا يَا اَرْحَمَ الرَّاحِمِيْنَ. (رواه الترمذى وابن ماجه)
হাদীস নং: ২২৮
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালাতুল হাজাত (প্রয়োজন পূরণের সালাত)
২২৮. হযরত হুযায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: নবী কারীম ﷺ কে যখন কোন বিষয় চিন্তাযুক্ত করত তখন তিনি সালাত আদায় করতেন। (আবূ দাউদ)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ حُذَيْفَةَ كَانَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا حَزَبَهُ أَمْرٌ فَصَلَّى. (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ২২৯
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইস্তিখারার সালাত

মানুষের জ্ঞানসীমিত। বেশির ভাগ সময় এমন মনে হয় যে, মানুষ কোন একটি কাজ করার সিদ্ধান্ত নিবে সম্পাদনও করে কিন্তু তা পরিণামে শুভ হয়না। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ লোকদেরকে ইস্তিখারার সালাত আদায়ের প্রতি অনুপ্রাণিত করেছেন এবং বলেছেন: কোন ব্যক্তি যখন কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয় তখন দিক নির্দেশা নেয়ার লক্ষ্যে সে যেন আল্লাহর কাছে কল্যাণের তাওফীক কামনা করে।
২২৯. হযরত জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে যেভাবে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন, ঠিক তেমনিভাবে প্রতিটি কাজে আমাদেরকে ইস্তিখারা (কল্যাণ প্রার্থনা) শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন: যখন তোমাদের কেউ কোন কাজের ইচ্ছা করে তখন সে যেন ফরয ব্যতীত দুই রাক'আত সালাত আদায় করে নেয়। তারপর বলে, হে আল্লাহ্! আমি তোমার জ্ঞানের সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তোমার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। তুমিই শক্তি ও ক্ষমতার আধার, আমার কোন ক্ষমতা নেই। তুমি অফুরন্ত জ্ঞানের অধিকারী, আমার কোন জ্ঞান নেই। তুমি অদৃশ্য বিষয়ে সম্পূর্ণরূপে ও সম্যকভাবে জ্ঞাত। হে আল্লাহ্! তুমি যদি এ কাজটি আমার জন্য, আমার দীনের দৃষ্টিকোণ থেকে, আমার জীবন যাপনের ব্যাপারে এবং আমার কাজের পরিণামের দিক থেকে, অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি বলেছেন; আমার দুনিয়া ও আখিরাতের ব্যাপারে কল্যাণকর মনে কর, তবে তা আমার জন্য নির্দিষ্ট করে দাও এবং আমার জন্য সহজ করে দাও। পক্ষান্তরে তুমি যদি এ কাজটি আমার জন্য আমার দীনের দৃষ্টিকোণ থেকে, আমার জীবন যাপনের ব্যাপারে এবং আমার কাজকর্মের পরিণামের দিক থেকে, অথবা (রাবীর সন্দেহ) তিনি বলেছেন, আমার দুনিয়া ও আখিরাতের ব্যাপারে ক্ষতিকর মনে কর, তবে তুমি সে কাজটি আমার থেকে দূরে সরিয়ে দাও এবং আমাকেও তা থেকে বিরত রাখ। যেখান থেকে হোক তুমি আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারণ করে দাও। বর্ণনাকারী বলেন: নবী কারীম ﷺ এও বলেছেন প্রার্থনাকারী যেন এ কাজটির স্থলে নিজের উদ্দিষ্ট কাজের নাম করে। (বুখারী)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ جَابِرِ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَلِّمُنَا الِاسْتِخَارَةَ فِي الأُمُورِ ، كَمَا يُعَلِّمُنَا السُّورَةَ مِنَ القُرْآنِ ، يَقُولُ : " إِذَا هَمَّ أَحَدُكُمْ بِالأَمْرِ ، فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ مِنْ غَيْرِ الفَرِيضَةِ ، ثُمَّ لِيَقُلْ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ العَظِيمِ ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلاَ أَقْدِرُ ، وَتَعْلَمُ وَلاَ أَعْلَمُ ، وَأَنْتَ عَلَّامُ الغُيُوبِ ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي (أَوْ قَالَ فِىْ عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ) فَاقْدُرْهُ لِي وَيَسِّرْهُ لِي ، ثُمَّ بَارِكْ لِي فِيهِ ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي وَمَعَاشِي وَعَاقِبَةِ أَمْرِي (أَوْ قَالَ فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ) فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ ، وَاقْدُرْ لِي الخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ، ثُمَّ أَرْضِنِي " قَالَ : « وَيُسَمِّي حَاجَتَهُ » (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ২৩০
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সালাতুত্ তাসবীহ
২৩০. হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, একদা নবী কারীম ﷺ হযরত আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবকে বলেন: হে আব্বাস! হে প্রিয়তম চাচা! আমি কি আপনাকে দান করব না। আমি কি আপনাকে উপহার দিব না, আমি কি আপনাকে অবহিত করব না, আমি কি আপনার জন্য দশটি কাজ করব না। আপনি যদি তা করেন আল্লাহ্ আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন, প্রথমের গুনাহ শেষের গুনাহ, পুরনো গুনাহ- নতুন গুনাহ, অনিচ্ছাকৃত গুনাহ, ইচ্ছাকৃত গুনাহ, সগীরাগুনাহ কবীরা গুনাহ, এবং গোপন গুনাহ ও প্রকাশ্য গুনাহ (সে আমল সালাতুস তাসবীহ্ এবং এর পদ্ধতি)। আপনি চার রাক'আত সালাত আদায় করবেন। এর প্রত্যেক রাক'আতে সূরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সূরা পাঠ করবেন। যখন আপনি প্রথম রাক'আতের কিরা'আত শেষে দাঁড়াবেন তখন পনের বার 'সুবাহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহি ওয়া লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার' পাঠ করবেন। এরপর রুকূ করবেন এবং রুকু অবস্থায় এ বাক্য দশবার বলবেন। এর পর রুকূ থেকে মাথা উঠাবেন এবং দাঁড়ান অবস্থায় তা দশবার পাঠ করবেন। তার পর সিজদায় যাবেন এবং সিজদা অবস্থায় তা দশবার পাঠ করবেন। এরপর সিজদা হতে মাথা উঠাবেন এবং দশবার তা পাঠ করবেন। তারপর সিজদায় যাবেন এবং তা দশবার বলবেন। এবং তারপর মাথা উঠাবেন এবং তা দশবার বলবেন। সুতরাং এভাবে প্রত্যেক রাক'আতে পঁচাত্তর বার পাঠ করবেন। এভাবে আপনি চার রাক'আত সালাত আদায় করবেন। যদি আপনি প্রত্যহ একবার এরূপ সালাত আদায় করতে পারেন, তাহলে করবেন। যদি তা করতে না পারেন, তাহলে প্রত্যেক সপ্তাহে একবার করবেন। যদি তাও না পারেন, তবে প্রত্যেক মাসে একবার করবেন। যদি তাও করতে না পারেন, তাহলে বছরে একবার আদায় করবেন। যদি তাও না পারেন, তবে অন্ততঃ জীবনে একবার আদায় করবেন। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, বায়হাকীর দাওয়াতুল কাবীর। তিরমিযী (র.) আবূ রাফি' (রা.) সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন)
کتاب الصلوٰۃ
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، أَنَّ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِلْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ : " يَا عَبَّاسُ ، يَا عَمَّاهُ ، أَلَا أُعْطِيكَ ، أَلَا أَمْنَحُكَ ، أَلَا أُخْبِرُكَ ، أَلَا أَفْعَلُ بِكَ عَشْرَ خِصَالٍ ، إِذَا أَنْتَ فَعَلْتَ ذَلِكَ غَفَرَ اللَّهُ لَكَ ذَنْبَكَ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ ، قَدِيمَهُ وَحَدِيثَهُ ، خَطَأَهُ وَعَمْدَهُ ، صَغِيرَهُ وَكَبِيرَهُ ، سِرَّهُ وَعَلَانِيَتَهُ : أَنْ تُصَلِّيَ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ تَقْرَأُ فِي كُلِّ رَكْعَةٍ فَاتِحَةَ الْكِتَابِ وَسُورَةً ، فَإِذَا فَرَغْتَ مِنَ الْقِرَاءَةِ فِي أَوَّلِ رَكْعَةٍ وَأَنْتَ قَائِمٌ ، قُلْتَ : سُبْحَانَ اللَّهِ ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ ، خَمْسَ عَشْرَةَ مَرَّةً ، ثُمَّ تَرْكَعُ ، فَتَقُولُهَا وَأَنْتَ رَاكِعٌ عَشْرًا ، ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ مِنَ الرُّكُوعِ ، فَتَقُولُهَا عَشْرًا ، ثُمَّ تَهْوِي سَاجِدًا ، فَتَقُولُهَا وَأَنْتَ سَاجِدٌ عَشْرًا ، ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ مِنَ السُّجُودِ فَتَقُولُهَا عَشْرًا ، ثُمَّ تَسْجُدُ ، فَتَقُولُهَا عَشْرًا ، ثُمَّ تَرْفَعُ رَأْسَكَ ، فَتَقُولُهَا عَشْرًا ، فَذَلِكَ خَمْسٌ وَسَبْعُونَ ، فِي كُلِّ رَكْعَةٍ تَفْعَلُ ذَلِكَ فِي أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ ، إِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تُصَلِّيَهَا فِي كُلِّ يَوْمٍ مَرَّةً فَافْعَلْ ، فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي كُلِّ جُمُعَةٍ مَرَّةً ، فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ فَفِي كُلِّ سَنَةٍ مَرَّةً ، فَإِنْ لَمْ تَفْعَلْ ، فَفِي عُمُرِكَ مَرَّةً " ، (رواه ابوداؤد وابن مانه والبيهقى فى الدعوات الكبير وروى الترمذى عن ابي رافع نحوه)
হাদীস নং: ২৩১
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নফলের এক বিশেষ উপকারিতা

'সালাতুত্ তাসবীহ্' পর্যন্ত আলোচনা করে সফল সালাতের বর্ণনা সমাপ্ত করা হয়েছে। এই সমাপনীর পরিশিষ্ট পর্যায়ে নিম্নোক্ত হাদীসখানা পাঠ করে নেয়া যাক।
২৩১. হযরত হুরাইস ইবনে কাবীসা (র.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মদীনায় আগমণ করলাম এবং বললাম "হে আল্লাহ্! আমাকে একজন সৎ সহযোগী দান কর" বর্ণনাকারী বলেন, আমি হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর নিকট অবস্থান করলাম। আমি তাঁকে বললাম, আমি আল্লাহর কাছে একজন উত্তম সৎসহযোগী চাইলাম এখন আমি আপনার খিদমতে হাযির হয়েছি। অতএব আপনি রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে শুনেছেন, এমন একটি হাদীস আমাকে বলুন। আশা করি আল্লাহ্ আমাকে এর মাধ্যমে কল্যাণ দান করবেন। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছিঃ কিয়ামতের দিন বান্দার কাজসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব নেয়া হবে। যদি ঠিকমত সালাত আদায় করা হয়ে যাকে তবে সে মুক্তি পাবে এবং সফলকাম হবে। যদি সালাত নষ্ট হয়ে থাকে, তবে মহান দয়াময় আল্লাহ্ বলবেন: দেখ, বান্দার কোন নফল সালাত আছে কি-না, থাকলে তা দিয়ে ফরযের এ ঘটিতি পূরণ করা হবে। তার সমস্ত কাজের বিচার এভাবে করা হবে। (তিরমিযী ও নাসায়ী)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ حُرَيْثِ بْنِ قَبِيصَةَ ، قَالَ : قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ ، فَقُلْتُ : اللَّهُمَّ يَسِّرْ لِي جَلِيسًا صَالِحًا ، قَالَ فَجَلَسْتُ إِلَى أَبِي هُرَيْرَةَ ، فَقُلْتُ : إِنِّي سَأَلْتُ اللَّهَ أَنْ يَرْزُقَنِي جَلِيسًا صَالِحًا ، فَحَدِّثْنِي بِحَدِيثٍ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَنْفَعَنِي بِهِ ، فَقَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ : إِنَّ أَوَّلَ مَا يُحَاسَبُ بِهِ العَبْدُ يَوْمَ القِيَامَةِ مِنْ عَمَلِهِ صَلاَتُهُ ، فَإِنْ صَلُحَتْ فَقَدْ أَفْلَحَ وَأَنْجَحَ ، وَإِنْ فَسَدَتْ فَقَدْ خَابَ وَخَسِرَ ، فَإِنْ انْتَقَصَ مِنْ فَرِيضَتِهِ شَيْئًا ، قَالَ الرَّبُّ تَعَالَى : انْظُرُوا هَلْ لِعَبْدِي مِنْ تَطَوُّعٍ لِيَكْمُلَ بِهِ مَا انْتَقَصَ مِنَ الفَرِيضَةِ ، ثُمَّ يَكُونُ سَائِرُ اَعْمَالِهِ عَلَى ذَلِكَ. (رواه الترمذى والنسائى)
হাদীস নং: ২৩২
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ উম্মাতে মুসলিমার বিশেষ প্রতীক ও সামষ্টিক সালাত জুমু'আ ও দুই ঈদের সালাত

দিন রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামা'আতের সাথে আদায় করার বিধান রয়েছে। এ ছাড়া যে সকল সুন্নাত ও নফল একাকী আদায় করা হয় সে সম্পর্কে রাসূলূল্লাহ্ ﷺ-এর বাণীও আমলসমূহ ইতোপূর্বে আলোচিত হয়েছে। এছাড়াও এমন কতিপয় সালাত রয়েছে যা সামষ্টিকভাবে আদায় করা হয় এবং তা উম্মাতের ঐক্যের বিশেষ প্রতীকরূপে স্বীকৃত। এসবের মধ্যে রয়েছে জুমু'আর সালাত যা সপ্তাহান্তে একবার আদায় করা হয় এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সালাত যা বছরে একবার করে আদায় করা হয়। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামা'আতের সাথে আদায় করায় যে উপকারিতা রয়েছে তার মধ্যে বিশাল স্থান জুড়ে রয়েছে জুমু'আর এবং দুই ঈদের সালাত। এ ছাড়া আরো কিছু রহস্য নিহিত রয়েছে যা সপ্তাহান্তে ও বছরান্তে সামষ্টিক সালাত আদায়ের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়। প্রথমতঃ জুমু'আর সালাতের ব্যাপারে কতিপয় হাদীস পাঠ করা যেতে পাবে। আল্লাহ্ চাহেত এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত হাদীসসমূহের উদ্দেশ্য বুঝে পাঠক এর থেকে সঠিক দিক নির্দেশনা লাভ করবেন। পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে কেবল এলাকাবাসী জামা'আতে অংশগ্রহণ করে। তাই সপ্তাহে একটি দিন রাখা হয়েছে যাতে পুরো শহরবাসী কিংবা মহল্লার সকল মুসলমান এক বিশেষ সালাতের জন্য এক বড় মসজিদে জমায়েত হন। আর ঐ জমায়েতের জন্য যুহরের দীর্ঘ সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং যুহরের চার রাক'আত সালাতের বিপরীতে জুমু'আর সালাত দুই রাক'আত রাখা হয়েছে। শরী'আতে জুমু'আর সালাতের বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে এবং নবীযুগ, তৎপরবর্তী সাহাবী ও তাবিঈ যুগ পেরিয়ে অধ্যাবধি কার্যকর। তা যে বিশেষ স্থান জুড়ে রয়েছে তা থেকে জানা যায় যে, শহর কিংবা বস্তিতে বিশাল আকারে এক স্থানে জুমু'আর সালাতের আয়োজন করা উচিত। হ্যাঁ তবে এরূপ বিশাল মসজিদ যদি না থাকে যাতে গোটা শহর ও বস্তি সব এলাকার লোক একত্রে সালাত আদায় করতে পারে তবে শহরে জুমু'আর জন্য আরো মসজিদ তৈরি করা যেতে পারে। তবে এদিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন যে, এক মহল্লায় যেন একটি জামে' মসজিদই থাকে। পক্ষান্তরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মসজিদে যদি পৃথকভাবে জুমু'আর সালাতের আয়োজন করা হয় তবে তা শরী'আত প্রবর্তিত জুমু'আর সালাতের উদ্দেশ্য পরিপন্থী কাজ হবে। বলা বাহুল্য এই জমায়েত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের দিক থেকে অফুরান উপকারিতা বয়ে আনায় দুই রাক'আত সালাতের পরিবর্তে 'খুতবা' অপরিহার্য করা হয়েছে। এসব কাজ সম্পাদনের জন্য জুমু'আর দিনকে নির্ধারণ করা হয়েছে। কারণ সপ্তাহের সাতদিনের মধ্যে এ দিনটি সর্বাধিক মাহাত্ম্যপূর্ণ ও বরকতময়। রাতের শেষ প্রহরে আল্লাহ্ যেমন তাঁর রহমত ও সাহায্য ধন্য করার লক্ষ্যে স্বীয় বান্দার প্রতি গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন এবং বছরের একটি বিশেষ রাতে (শবে কাদরে) নাযিল করেন, তেমনি সপ্তাহের সাতদিনের মধ্যে জুমু'আর দিনে বান্দার প্রতি বিশেষ রহমত ও অনুগ্রহ বর্ষণ করেন। আর তাই তো এ দিনের আল্লাহ্ তা'আলা বিরাট বিরাট গুরুত্বপূর্ণ কাজ সংঘটিত করেছেন। এই গরুত্বের দিক বিবেচনা করেই সামষ্টিকভাবে সালাত আদায়ের লক্ষ্য জুমু'আর দিনকে ধার্য করা হয়েছে। তাই এ সালাতে অংশগ্রহণের ব্যাপারেও জোর তাকিদ দেয়া হয়েছে এবং এ সালাত আদায়ের লক্ষ্যে গোসল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করে সুগন্ধি লাগিয়ে মসজিদে যাবার ব্যাপারে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। যাতে সাপ্তাহিক এই সালাতে মুসলমানরা দু'আ ও যিকর দ্বারা আল্লাহর প্রতি গভীরভাবে মনোনিবেশ করে আভ্যন্তরীণ ও আধ্যাত্মিক বরকত লাভের পাশাপাশি বাহ্যিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করতে পারে এবং এই জমায়েতকে যেন ফিরিশতাদের জমায়েতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করে তোলা যায়। এই ভূমিকার পর জুমু'আ বার এবং জুমু'আর সালাত সম্পর্কে নিম্নোক্ত হাদীসমূহ পাঠ করা যেতে পারে।
২৩২. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: সূর্য উদিত হয় এমন দিনগুলোর (সপ্তাহের সাত দিনের) মধ্যে জুমু'আর দিন হল সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। সেদিনে আদম (আ) কে সৃষ্টি করা হয়, তাঁকে ঐদিনই তাঁকে তা থেকে বের (করে দুনিয়ায় পাঠান হয় সেখানে তাঁর বংশধরের আবাদ) করা হয়। আর কিয়ামতও সংঘটিত হবে জুমু'আর দিন। (মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ ، وَفِيهِ أُدْخِلَ الْجَنَّةَ ، وَفِيهِ أُخْرِجَ مِنْهَا ، وَلَا تَقُومُ السَّاعَةُ إِلَّا فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ » (رواه مسلم)
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ২৩৩
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জুমু'আ বারের বিশেষ আমল হল দুরূদ শরীফ
২৩৩. হযরত আওস ইবনে আওস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমাদের দিনসমূহের মধ্যে জুমু'আর দিন সর্বশ্রেষ্ঠ, কারণ এ দিনই আদম (আ) কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনই তাঁর ওফাত হয়েছে। এদিনই শিঙগায় ফুৎকার ধ্বনিত হবে এবং পুন:জীবিত করার লক্ষ্যে শিঙগায় ফুৎকার দেওয়া হবে। কাজেই তোমরা এদিনে আমার প্রতি বেশি বেশি দুরূদ পাঠ করবে। তোমাদের দুরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়। সাহাবা কিরাম বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাছে আমাদের দুরূদ কিভাবে পেশ করা হবে অথচ আপনার পবিত্র দেহ মাটিতে মিশে যাবে? তিনি বললেন, নবীদের শরীর মাটির জন্য (ফলে কবরে তাঁদের পবিত্র দেহ অক্ষত থাকে, মাটি কোন প্রভাব ফেলতে পারেনা) আল্লাহ্ হারাম করে দিয়েছেন। (আবু দাউদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, দারিমী ও বায়হাকীর দাওয়াতুল কাবীর গ্রন্থ)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ ، وَفِيهِ قُبِضَ ، وَفِيهِ النَّفْخَةُ ، وَفِيهِ الصَّعْقَةُ ، فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلَاةِ فِيهِ ، فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ » قَالَ : قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلَاتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرِمْتَ؟ قَالَ يَقُولُونَ بَلِيتَ قَالَ : « إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ » (رواه ابوداؤد والنسائى وابن ماجه والدارمى والبيهقى فى الدعوات الكبير)
হাদীস নং: ২৩৪
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর দিনে রহমত প্রাপ্তি ও দু'আ কবুলের একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে
২৩৪. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: জুমু'আর দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, কোন মুসলিম বান্দা সে মুহূর্তটি পেলে এবং আল্লাহর নিকট কোন কল্যাণ প্রার্থনা করলে আল্লাহ্ অবশ্যই তাকে তা দিবেন। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " إِنَّ فِي الْجُمُعَةِ لَسَاعَةً لَا يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ يَسْأَلُ اللهَ فِيْهَا خَيْرًا ، إِلَّا أَعْطَاهُ اللهُ إِيَّاهُ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীস নং: ২৩৫
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর সালাত ফরয হওয়া এবং তা আদায়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ
২৩৫. হযরত তারিক ইবনে শিহাব (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: জুমু'আর সালাত প্রত্যেক মুসলমানের উপর জামা'আতের সাথে আদায় করা ওয়াজিব। কিন্তু তা চার প্রকার লোকের উপর ওয়াজিব নয়। ক্রীতদাস, মহিলা, শিশু ও রুগ্ন ব্যক্তি। (আবূ দাউদ)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " الْجُمُعَةُ حَقٌّ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فِي جَمَاعَةٍ إِلَّا أَرْبَعَةً : عَبْدٌ مَمْلُوكٌ ، أَوِ امْرَأَةٌ ، أَوْ صَبِيٌّ ، أَوْ مَرِيضٌ " (رواه ابوداؤد)
হাদীস নং: ২৩৬
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর সালাত ফরয হওয়া এবং তা আদায়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ
২৩৬. হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে উমর ও হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তাঁরা উভয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন, যারা জুমু'আর সালাত পরিত্যাগ করে, তাদেরকে এ কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে, নতুবা আল্লাহ্ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিবেন। এরপর তারা অবশ্যই গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। (মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنِ بْنَ عُمَرَ وَأَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّهُمَا قَالَ : سَمِعْنَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أَعْوَادِ مِنْبَرِهِ : « لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ وَدْعِهِمُ الْجُمُعَاتِ ، أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ ، ثُمَّ لَيَكُونُنَّ مِنَ الْغَافِلِينَ » (رواه مسلم)
হাদীস নং: ২৩৭
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর সালাত ফরয হওয়া এবং তা আদায়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ
২৩৭. আবুল জা'দ যামরী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি বিনা কারণে অলসতা হেতু তিনটি জুমু'আ ত্যাগ করে আল্লাহ্ তার অন্তরের উপর মোহর মেরে দেন। (ফলে সে নেক আমলের তাওফীক থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়)। (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ ও দারিমী, ইমাম মালিক সাফওয়ান ইবনে সুলায়ম সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي الْجَعْدِ الضَّمْرِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ تَرَكَ ثَلَاثَ جُمَعٍ تَهَاوُنًا بِهَا طَبَعَ اللهُ عَلَى قَلْبِهِ ". (رواه ابوداؤد والترمذى والنسائى وابن ماجه والدارمى ورواه مالك عن صفوان بن سليم واحمد عن ابى قتاده)
হাদীস নং: ২৩৮
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর সালাত ফরয হওয়া এবং তা আদায়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ
২৩৮. হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী কারীম ﷺ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অকারণে জুমু'আর সালাত বর্জন করে, সে মুনাফিক বলে আল্লাহর এ দফতরে লেখা হয় যার লেখা পরিবর্তন করা যায় না। অন্য বর্ণনায় আছে, তিনটি (জুমু'আ) বর্জন করেছে। (শাফিঈ)
کتاب الصلوٰۃ
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : « مَنْ تَرَكَ الْجُمُعَةَ مِنْ غَيْرِ ضَرُورَةٍ كُتِبَ مُنَافِقًا فِي كِتَابٍ لَا يُمْحَى وَلَا يُبَدَّلُ » وَفِي بَعْضِ الرِّوَايَاتِ : « ثَلَاثًا » (رواه الشافعى)
হাদীস নং: ২৩৯
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর সালাত আদায়ের গুরুত্ব এবং তা আদায়ের নিয়ম
২৩৯. হযরত সালমান (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি জুমু'আর দিন গোসল করে এবং যথাসাধ্য পবিত্র হয়ে স্বীয় তেল থেকে ব্যবহার করে কিংবা নিজ ঘরের সুগন্ধি ব্যবহার করে, এরপর (মসজিদের উদ্দেশ্যে) বের হয় এবং এক সাথে বসা দু'জন লোককে ফাঁক করে না বসে, তারপর তার জন্য নির্ধারিত সুন্নাত ও নফল সালাত আদায় করে এবং ইমামের খুতবা দানের সময় চুপ থাকে, তাহলে তার সেই জুমু'আ থেকে আরেক জুমু'আ পর্যন্ত যাবতীয় গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (বুখারী)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ سَلْمَانَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « لاَ يَغْتَسِلُ رَجُلٌ يَوْمَ الجُمُعَةِ ، وَيَتَطَهَّرُ مَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ ، وَيَدَّهِنُ مِنْ دُهْنِهِ ، أَوْ يَمَسُّ مِنْ طِيبِ بَيْتِهِ ، ثُمَّ يَخْرُجُ فَلاَ يُفَرِّقُ بَيْنَ اثْنَيْنِ ، ثُمَّ يُصَلِّي مَا كُتِبَ لَهُ ، ثُمَّ يُنْصِتُ إِذَا تَكَلَّمَ الإِمَامُ ، إِلَّا غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الجُمُعَةِ الأُخْرَى » (رواه البخارى)
হাদীস নং: ২৪০
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জুমু'আর সালাত আদায়ের গুরুত্ব এবং তা আদায়ের নিয়ম
২৪০. হযরত আবূ সাঈদ ও হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি জুমু'আর দিন গোসল করে এবং আপন উত্তম পোশাক পরিধান করে জুমু'আর সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে (মসজিদে) যায় এবং মানুষের ঘাড়ের উপর লাফ দিয়ে চলে না এবং তার পক্ষে যথা সম্ভব সুন্নাত ও নফল সালাত আদায় করে। তারপর যখন ইমাম (খুতবা দানের জন) বের হন, তখন নীরব থাকে যতক্ষণ না আপন সালাত থেকে অবসর হয়, তার এ জুমু'আ ও পূর্ব জুমু'আর মধ্যকার গুনাহ রাশির কাফফারা হয়ে যায়। (আবূ দাউদ)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ، وَأَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَا : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ « مَنْ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَلَبِسَ مِنْ أَحْسَنِ ثِيَابِهِ ، وَمَسَّ مِنْ طِيبٍ إِنْ كَانَ عِنْدَهُ ، ثُمَّ أَتَى الْجُمُعَةَ فَلَمْ يَتَخَطَّ أَعْنَاقَ النَّاسِ ، ثُمَّ صَلَّى مَا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ ، ثُمَّ أَنْصَتَ إِذَا خَرَجَ إِمَامُهُ حَتَّى يَفْرُغَ مِنْ صَلَاتِهِ كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا بَيْنَهَا وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الَّتِي قَبْلَهَا » (رواه ابوداؤد)